ডাকিণী ৪৯তম পর্ব (গ অংশ)

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
আলেসের ক্রুদ্ধ দৃষ্টি আমার অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছিলো! আমি ভেবেছিলাম ও আমায় আক্রমণ করে বসবে। কিন্তু না। তার বদলে ও পোলিশ ভাষায় খেঁকিয়ে উঠলো, “আমায় ফিরিয়ে আনলে কেনো। আমি তো ফিরতে চাই নি। আমি শুধু পরপারে চলে যেতে চেয়েছিলাম। এ দুনিয়ার প্রতি আমার ঘৃনা ধরে গেছে।”
আমি: “ওহ গড! দেখ আলেস, তোমার মৃত্যুর পর অনেকটা সময়ই পেরিয়ে গেছে। পৃথিবীটা আগের চেয়েও অনেক বেশী বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। মানুষজন বদলে গেছে, সেই সাথে সমাজও। আমার বিশ্বাস তুমি এই নতুন সময়ের সাথে সঠিকভাবেই মানিয়ে নিতে পারবে। এর জন্যে আমি তোমাকে সর্বউচ্চ সাহায্য করবো।”
আলেস: “কিন্তু আমার মার্টিনীর কি হবে? ও যে আমার জন্যে পথ চেয়ে বসে আছে।”
আমি: “ওতো হাজার বছর ধরে তোমার জন্যে অপেক্ষা করেছে। তারমানে আরো ৪০-৫০ বছর ও সহজেই অপেক্ষা করতে পারবে। এর মধ্যেই তোমার জীবনকালও শেষ হয়ে যাবে। তুমি স্বাভাবিক নিয়মে মৃত্যুবরণ করে ওর কাছে পৌছে যাবে।”
আলেস: “আরো ৪০-৫০ বছর! আমি যে আর একটা মুহুর্তও ওর জন্যে অপেক্ষা করতে পারছি না।”
আমি: “আমি সত্যিই দুঃখিত আলেস। এটা ছাড়া আমার কোন উপায় ছিলো না। তুমিই কটেজে থেকে যাওয়া একমাত্র আত্মা ছিলে। তুমি আমার বন্ধুপ্রতিম হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছো। প্লীজ। আমার অবস্থাটা বুঝার চেষ্টা কর। আমাকে ক্ষমা করে দাওওওও,,,,,,,”
কথাগুলি বলতে বলতে আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। সত্যিই তো। আমি আলেসকে অনিচ্ছাকৃতভাবে এক ফাঁদে আটকে দিয়েছি যখন ও মুক্ত হতে চাইছিলো। সব দোষ আমার।
আমার কান্না দেখে আলেস এগিয়ে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিলো। আমিও ওর ঊষ্ম বাহুডোরে নিজেকে এলিয়ে দিলাম। ও আমার পিঠ চাপড়ে সান্তনা দিলো। ওকে আমার খুব আপন মনে হলো। যেন শত বছরের পরিচিত বন্ধু। হঠাৎ অনুভব করলাম ও আমার ঘাড়ে চুমু খাচ্ছে! ওকে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বা ইচ্ছা দুটোই আমার ছিলো না। কেবল মুখে বললাম, “চলো আলেস। এবার উপরে যাওয়া যাক।”
ও আলিঙ্গন ভেঙ্গে ওর ডায়ারীটা কুড়িয়ে নিয়ে সেটা ছিড়ে কুটিকুটি করলো। বুঝলাম ও নিশ্চিত করতে চাইছে যে এবার মারা গেলে আর কোন কিছুই ওকে এই কটেজে আটকে রাখতে পারবে না। ওর কাজ হয়ে গেলে আমরা দুজনই বেসমেন্ট ছেড়ে উপরে উঠে এলাম। অভিশপ্ত বেসমেন্টটা এবার প্রকৃতপক্ষেই শূন্য হয়ে গেলো।
সেদিন আমরা এক জম্পেশ ডিনার করলাম। আমার ফ্রিজে যত ধরনের ফুড আইটেম ছিলো তার সবই আমি প্রস্তুত করেছিলাম। আলেস এতো বছর অভুক্ত থাকার পর ফের খেতে বসেছে। আজ ওর ক্ষুদাটা আমি ভালভাবেই মিটিয়ে দেবো। হিহিহিহিহিহি।
আলেস কাঁটা চামচ আর ছুরির ব্যবহার জানতো না। মধ্যযুগে পোল্যান্ডে তো আর ডায়ানিং ম্যানার বলে কিছু ছিলো না। ওরা খাওয়ার জন্যে বাঙালীদের মতোই হাত ব্যবহার করতো। তাই আজ মাংসের কাবাবটা খেতে ওর খুব সমস্যা হচ্ছে। তা দেখে আমি ওকে নিজ হাতে খাইয়ে দিলাম। ও খাবার টেবিলে পুরোটা সময় আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো। আবেদনময় সেই দৃষ্টিতে আমি ভালবাসার আর্তি দেখতে পেলাম।
খাওয়া শেষে আমরা ড্রয়িংরুমে গেলাম টিভি দেখতে। আলেস কখনোই টিভি দেখেনি। প্রথম টিভিটা চালু করতেই ও ভয়ে পেয়ে আমায় জড়িয়ে ধরলো। টিভি চ্যানেলে তখন একটা প্রাচীন যুদ্ধের ফিল্ম দেখাচ্ছিলো। ঘোড়ায় চড়ে দুদল আদিম অস্ত্র সজ্জিত সৈন্যদলের লড়াই। বুঝলাম আলেস যদ্ধ বিগ্রহকে ঘৃনা করে। আমিও করি। কিন্তু আমি কি করে ওকে বলবো যে সেই আদিম মৃত্যুলীলা এখনো সাঙ্গ হয় নি। এখনো আধুনিক বিশ্বে প্রভাবশালীরা কারণে ওকারণে দুর্বল রাষ্টের উপর আক্রমণ চালায়। ছিঃ ছিঃ, কি লজ্জা। আমি রিমোট টিপে চ্যানেল পাল্টে গানের চ্যানেল আনলাম। আর্থ ডে উপলক্ষে একটা গান প্লে হচ্ছিলো তখন। এবার আলেস ভয় কাটিয়ে দেয়ালে ফিট করা টিভির স্কিন ছুয়ে দেখে বলল, “কি অসাধারণ জাদুকরী জানালা লাগিয়েছো এ ঘরে! আচ্ছা সাঞ্জে, তুমি কি জাদু জানা কোন ডাইনী? ”
ওর এমন প্রশ্ন শুনে আমি তো হেসেই খুন।
আমি: “আরে বোকা এটা জানালা না। টেলিভিশন। এটা দিয়ে দুরের জিনিশ দেখা যায়। আর আমি কোন ডাইনী না। একজন ফার্মাসিস্ট। ঔষধ বিশেষজ্ঞ।”
ও যে কী বুঝলো তা সেই ভালো জানে। কেবল মুখে হাসি এনে মাথা নাড়লো। আমি আবার চ্যানেল পরিবর্তন করে আরেকটি চ্যানেল টিউন করলাম। ওই চ্যানেলে তখন পোলিশ ভাষায় ডাবিং করা “ফ্যন্সি নান্সি” মুভিটা দিচ্ছিলো। এই মুভিটা আমার ভালই লাগে। মুভিটা চলার এক পর্যায়ে একটা চুমু খাওয়ার রোমান্টিক দৃশ্য চলে আসে। আলেস শিহরিত হয়ে আমার হাতটা আকঁড়ে ধরে। ওর অবস্থা দেখে আমার ভিষণ হাসি পাচ্ছিলো। অনেক কষ্টে আমি সেটা ঠেকালাম। কিন্তু আলেস আর আমার হাতটা ছাড়লো না। বরং হাতটা ধরে আমায় ওর কাছে নিয়ে একটা চুমু খেয়ে বসলো। আমি এর জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু আমি কখনোই আলেসকে নিরাশ করতে চাইনি। আমিই ওকে ফিরিয়ে এনেছি, নইলে ও এতক্ষণে মার্টিনীকেই চুমুটা দিতো। যাহোক, ব্যাপারটা এড়িয়ে গেলেই সবচেয়ে ভালো হবে। অনেক্ষণ আমরা কেউ কারো সাথে কথা বললাম না। কেবম নিরবে মুভিটা দেখতে লাগলাম। মুভিটা শেষ হলে আলেস আবারো আমায় জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো। এবার আর চুমুটা ভাঙতেই চাইলো না। হয়তো এতো বছর পরে আমায় কাছে পেয়ে ওর বুকের জমানো সব ভালবাসা উথলে উঠেছে। ধিরে ধিরে আমিও ওর ভালবাসায় হারিয়ে যেতে লাগলাম।
সেরাতে আমার বেডরুমে আমরা দুজন একসাথেই ঘুমিয়েছিলাম। এই কটেজে আসার পর থেকে দু একটা রাতে বাদে প্রায় প্রতিটা রাতই আমি দুঃস্বপ্ন দেখে কাটিয়েছি। কিন্তু সেরাতটা ছিলো এক অসাধারণ স্বপ্নময় রাত। আমি কেবল চাইছিলাম এই সুখস্বপ্নের যেনো কোন শেষ না হয়। কি দরকার ভোর হবার। এই সুন্দর রাতটাই চিরস্থায়ী হোক না।
পরদিন সকালে আমাদের একসাথেই ঘুম ভাঙলো। আমরা বাথরুমে যেয়ে একে একে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। তারপর আমি ম্যাকডোনাল্ডে ফোন দিয়ে সকালের নাস্তার জন্যে কিছু খাবার ও জুস অর্ডার করলাম। আধাঘন্টার ভেতরেই হোম ডেলিভারি এসে পৌছালো। তবে নাস্তার টেবিলে এক থমথমে নিরবতা বিরাজ করছিলো। আমাদের কারো মাঝেই গতরাতের সেই উচ্ছাসটা আর নেই। আলেসকে দেখলাম মনমরা হয়ে নাস্তার টেবিলে কেবল খুটেই চলেছে। কিছুই খাচ্ছে না। গতরাতের মতো আমি ওকে খাইয়ে দিতে গেলাম। কিন্তু ও শুধু পানি খেয়েই টেবিল ছেড়ে উঠে বেডরুমে চলে গেলো। বুঝলাম, ওর মনটা আজ ভালো নেই। থাক। আজ আর অফিসে যাবো না। প্রধান নির্বাহীর বিশেষ ক্ষমতাবলে আমি বছরে তিনদিন কোন কারণদর্শানো ব্যাতিত অফিস ছুটি ঘোষণা করতে পারি। আজ সেই সুযোগটা কাজে লাগালাম। অফিসের সবাইকে টেক্সট করে জানিয়ে দিলাম আজ অফিস বন্ধ।
অফিস ছুটি দিয়ে আমি বেডরুমে ফিরে এলাম। বেডরুমে যেয়ে দেখি আলেস একাকী বসে বসে কাঁদছে। আমাকে দেখতেই চোখের পানি লুকানোর বৃথা চেষ্টা করলো। আমি এগিয়ে যেয়ে ওকে চুমু খেয়ে বললাম, “কি ব্যাপার আলেস? মন খারাপ? মার্টিনীকে খুব মনে পড়ছে বুঝি।”
ও কেবল মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।
আমি: “আলেস, প্লীজ, মন খারাপ করো না। আমি তো আছিই। চল না বাহিরে থেকে ঘুরে আসি। বাহিরে সব কিছুই নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। আজ তুমি হাজার বছর আগের পোল্যান্ডের সাথে আজকের আধুনিক পোল্যান্ডকে মিলিয়ে দেখবে। প্লীজ, চল চল, চল। “

ডাকিণী ৪৯তম পর্ব (খ অংশ)

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
লাইব্রেরীতে সবকিছুই তৈরি করে বইটা খুলে বসলাম। সমগ্র বইটাই দুর্বোধ্য হিব্রু ভাষায় লেখা। বইয়ের মাঝামাঝিতে একটা পৃষ্টা ভাঙা। সম্ভবত কেউ একজন একে চিহ্নিত করতে চেয়েছিলো। এই পৃষ্টায় হিব্রু লেখার সাথে গালিচায় শোয়ানো একটা লাশের স্কেচ আকাঁ। তারপাশেই হিজিবিজি টানা ইংলিশ হরফে একটা মন্ত্রের উচ্চারণ লেখা রয়েছে। সম্ভবত লেখাটা আদিনের। বুঝলাম এটাই সেই আত্মা ঢুকানোর মন্ত্র। আমি ওটা দেখে দেখে সঠিক উচ্চারণে মুখস্থ করে নিলাম। তারপর পৃষ্টা উল্টাতেই আদিনের হস্তাক্ষরে সহজ ইংরেজিতে লেখা কার্যপ্রণালী পেয়ে গেলাম। আদিনের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মনটা ভরে গেলো। ছেলেটা আমার জন্যে এতো কিছু করেছে। কিন্তু শেষমেষ ও নিজের জন্যে কিছুই করতে পারলো না।
কার্যপ্রণালী অনুসারে, প্রথমে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে দেহটা ধুইয়ে নিতে হবে। তারপর দেহের কপালে যে আত্মাটা প্রবেশ করানো হবে তার নাম পবিত্র কাঠ কয়লা দিয়ে লিখতে হবে। তারপর দেহটাকে চিৎ করে শুইয়ে মুখটা হাঁ করিয়ে রাখতে হবে। সবশেষে মন্ত্রটা পাঁচবার ঐ আত্মার নাম ধরে জপতে হবে।
বাস। এইটুকুই! মন্ত্রটা গুনগুন করে আওড়াতে আওড়াতে কিচেনে গেলাম জগ ভরে বিশুদ্ধ পানি আনতে। ততারপর স্টোররুম ঘেটে কতগুলি ভাঙা কাঠের টুকরো এনে স্টোভে পুড়িয়ে কাঠ কয়লা বানিয়ে নিলাম। তারপর ওগুলি নিয়ে লাইব্রেরীতে ফিরে আসলাম। লাইব্রেরীতে ফিরে মনিকার দেহটাকে ভালো করে পানি দিয়ে ধুইয়ে পবিত্র করে নিলাম। তারপর ওর কপালে লিখলাম কাঠ কয়লার কালিতে লিখলাম “ALACE” । তারপর আংটিটা ওর আরেকটি অক্ষত আঙুলে পরিয়ে দিয়ে মন্ত্র পড়া শুরু করলাম। প্রতিবার মন্ত্র পড়ার শুরুতে ও শেষে আলেস ভন্টেইজিয়ান নামটা উচ্চারণ করতে ভুললাম না। কেন জানি ভয় হচ্ছিলো আলেসকে ঢুকাতে যেয়ে যদি অন্য কাউকে ঢুকিয়ে বসি তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে। যদি মারগারেট আবার ঢুকে পড়ে ওতে! নাহ। তা কি করে সম্ভব। মারগারেট মনিকার দেহে তার দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, না ওই আংটিটা পড়ে ছিলো, না কপালে ওটার ছ্যাকা খেয়েছিলো। তারমানে ওর আত্মাটা মৃত্যুর সাথে সাথে চিরায়ত নিয়মেই পরপারে পারি জমায়। ফ্রিজে কেবল মনিকার দেহটা পড়ে থাকে। এখন এই দেহে ভালয় ভালয় আলেসকে ঢুকাতে পারলেই হলো।
মন্ত্র পড়া শেষ হলে তীর্থের কাকের মতো লাশটার দিকে চেয়ে রইলাম একটু প্রাণের স্পন্দন পাওয়ার আশায়। সময় টিকটিক করে বয়ে যেতে শুরু করলো। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এভাবে প্রায় আধা ঘন্টা পেরিয়ে গেলো। না আলেস চোখ খুলছে, না একটু শ্বাস নিচ্ছে। সম্ভবত আমার প্রথম প্রচেষ্টা ব্যার্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আদিন কি তবে একটা ফাও বই এনে আমায় ইম্প্রেসড করার চেষ্টা করছিলো? কিন্তু ও যদি ফ্রড হয়ে থাকে তবে কেনো মারগারেট ওকে খুন করবে? নিশ্চই ওর পরিকল্পনাটা কার্যকর ছিলো বলেই মারগারেটের আতেঁ ঘা পড়েছিলো। তাই সে ওকে রাস্তার কাঁটা ভেবে সরিয়ে দিয়েছে। সমস্যাটা সম্ভবত আমার কারণেই হয়েছে। আমার মন্ত্র উচ্চারণে ভুল থাকতে পারে। কিংবা আলেস এ দেহে ঢুকতে চায় নি, ও কেবল পরপারে মার্টিনীর কাছে ফিরে যেতে চাইছে। অথবা জমে থাকা দেহটা আত্মার অনুপ্রবেশের জন্যে মোটেও উপযুক্ত নয়। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। হতাশ হয়ে লাইব্রেরীর মেঝেতে বসে পড়লাম। হতাশা আর ক্লান্তি আমায় চারদিক থেকে ঘিরে ধরলো।
খানিক্ষণ জিরিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম পুরো প্রক্রিয়াটার পুনরাবৃত্তি করবো। তবে লাইব্রেরীতে নয়। বেসমেন্টে। ওখানে নিশ্চিতভাবে আলেসের উপস্থিতি ও প্রভাব সর্বউচ্চ পরিমাণে রয়েছে। তাই ওখানে কাজ করলে ও কিছুতেই এই প্রক্রিয়া থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারবে না। তবে তার আগে মনিকার দেহটা কিচেনে নিয়ে গিয়ে কুসুম গরম পানিতে স্নান করিয়ে আনবো। এতে ওর জমাটা বাধা দেহটা পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। আরেকটি জিনিস খেয়াল হলো। মনিকার কপালে কাঠ কয়লায় লেখা আলেসের নামটা আমি ইংরেজিতে লিখেছি। কিন্তু আলেস তো ইংরেজি জানে না। ঠিক করলাম ওটা মুছে দিয়ে পোলিশ ভাষায় ওর নামটা লেখবো। ঠিক যেমন ওর ডায়ারীতে লেখা আছে, “আলেস ভন্টেইজিয়ান”। এত কিছু করার পরেও যদি কাজ না হয় তবে আদিনের মায়ের বাপ। আমি ওর বইটা ছিড়ে কুটিকুটি করে ইঁদুর দিয়ে খাওয়াবো। হুহ। আমার সাথে ফাজলামো?
ভারি জমে থাকা দেহটা আবার কিচেনে বয়ে নিয়ে গেলাম। তারপর সিংকের গরম পানির কল ছেড়ে ওর দেহে ঈষদুষ্ণ গরম পানির ধারা বইয়ে দিলাম। এভাবে আরো আধাঘন্টা পানি দেওয়ার পর ওর দেহটা নমনীয় উষ্ম আর আদ্র হয়ে এলো। এবার ফের কাজ শুরু করা যেতে পারে। ওর দেহটা কাঁধে করে বেসমেন্টে বয়ে নিয়ে গেলাম। এবার বরফ জমে না থাকায় ওর দেহটা বেশ হালকা লাগছে। বেসমেন্টে এসে দেহটাকে ঠিক আলেসের সেলের ভেতরেই চিৎ করে শুইয়ে দিলাম। তারপর সংশোধিত কার্যপ্রণালীতে আবার রিচুয়ালটা সম্পন্ন করলাম। পাঁচবার স্পষ্ট উচ্চারণে মন্ত্র পড়ার পরেও মনিকার দেহে আলেসের কোন সাড়া শব্দ পেলাম না। আমি একাগ্রচিত্তে অপেক্ষা করতে লাগলাম, এক ঝাঁক আশায় বুক বেঁধে। এই বুঝি আলেস চোখ খুলে উঠে বসবে। কিন্তু প্রথম দশ মিনিট তেমন কিছুই হলো না। অপেক্ষা করতে করতে আমার মাথা বিগড়ে গেলো। সব রাগ গিয়ে পড়লো আদিনের ওই বইটার উপর। শালা অকাজের বই। তোকে আজ ছিড়েই ফেলবো। যখনই বইটা ছিঁড়ার জন্যে হাত বাড়ালাম তখনই নিস্তব্দ বেসমেন্টে একটা ক্ষীণ নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পেলাম। সাথে সাথেই আমি কান খাড়া করলাম। কয়েক মুহুর্ত পরে আবার শুনে বুঝতে পারলাম শব্দটা মনিকার দেহ থেকেই আসছে।
এগিয়ে গিয়ে আমি মনিকার ঝুকে মনিকার নাকের কাছে হাত রাখলাম। আরে! এই তো! শ্বাস নিচ্ছে! এবার আমি ওর মাথাটা আমার কোলে তুলে নিয়ে চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম। এই তো লক্ষী মেয়ে। জেগে উঠো। প্লীজ। এই তো হচ্ছে।
ওর শ্বাসপ্রশ্বাসের হার ক্রমাগত দ্রুত হল। ওর হাতটা ধরে আমি ওর পালসরেটটা চেক করলাম। একটু দ্রুত তবে স্বাভাবিকের প্রায় কাছা কাছি। এবার আমি ওর নাম ধরে ডাকতে লাগলাম।
আমি: “আলেস, আলেস ওঠো। আর কতকাল এভাবে ঘুমিয়ে থাকবে তুমি? এবার তো উঠো। আলেস!!!!”
দু তিনবার ডাকতেই ও চোখ মেলে তাকালো। কেমন ঘোলা আর শূন্য সেই দৃষ্টি। ওতে প্রত্যাবর্তণের আনন্দের চেয়ে বিষাদই যেনো বেশী ছিলো। খানিক্ষণ তাকিয়ে থেকেই ও হড়হড় করে আমার কোলেই বমি করে দিলো। আহারে বেচারি। নতুন দেহে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না। আমি ওর পিঠ চাপড়ে সান্তনা দিলাম। বমি করা শেষে ও অনেক্ষণ কাশলো। বুঝতে পারছি। ওর খুব কষ্ট হচ্ছে এ দেহে। তারপর কিছুটা ধাতস্থ হয়ে গেলেই আমায় ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে টলমলো পায়ে উঠে দাড়ালো। ওর কান্ড দেখে আমি ভিষণ অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।
আমি: “কি ব্যাপার? তুমি ঠিক আছো আলেলেলে,,,,,”
ওকে প্রশ্ন করতে যেয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়েছিলাম। চেয়ে দেখি ও কটমট চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে যেন জ্যান্ত খেয়ে নেবে!
আমার মনে খটকা লাগলো। আমার উপর এতটা রেগে আছে কেনো ও? ওর তো আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিৎ। আমার জন্যেই এত বছর পর একটা অক্ষত দেহে প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। এতে আমার উপর চটে যাওয়ার কি হলো? আচ্ছে, ও কি সত্যিই আলেস? না কি মারগারেট এই সুযোগে ফিরে এসেছে আমার উপর তার দ্বিতীয় মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে?
(চলবে)

ডাকিণী ৪৯তম পর্ব (ক অংশ)

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
আমি দৌড়ে গেলাম লাইব্রেরীতে। লাইব্রেরীতে যেয়ে দেখি, আলেসের ডায়ারীটা পড়ে আছে টেবিলে, আর এর পৃষ্টাগুলি দমকা বাতাসে একে একে উল্টাচ্ছে! আশ্চর্য! এটা তো আলেসই তাহলে! কিন্তু ও যায় নি কেনো? ডায়ারীর দিকে এক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতেই ব্যাপারটা বুঝে গেলাম। আলেস আংটিটা আনতে বলেছিলো তার নিজের মুক্তির জন্যে নয়। তার ভালবাসার মার্টিনীর মুক্তির জন্যে। ও মার্টিনীকে ছাড়া ওপারে যাবে না। প্রকৃতপক্ষে এদের ভালবাসার বাধন এতটা জোরালো যে ওরা একজন অপরজন কে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারে নি। তাই মার্টিনীর মুক্তিকেই প্রকারান্তরে আলেস তার নিজের মুক্তির মতোই দেখে আসছিলো। কিন্তু আংটিটা উদ্ধারের পর মার্টিনী সহ অন্য মেয়েদের মুক্তি হলেও আলেসের ইহলৌকিক বন্ধনটা এখনো রয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে ওর আটকে থাকার কারণ ওই আংটিটা নয়, নইলে ও অন্য মেদের সাথেই প্রিস্টের কবরে বন্দি থাকতো, এ কটেজে মুক্ত হয়ে ঘুরতো না। যে জিনিসটা আলেসকে এখাবে বেধেঁ রেখেছে সেটা হলো এই ডায়ারী।
নিজের জীবনের শেষ অধ্যায়গুলির স্মৃতিযুক্ত এ ডায়ারীটাই ওকে এই বদ্ধ কটেজে হাজার বছর ধরে বন্দি করে রেখেছে। কিন্তু এতোদিন আমি ওর উপস্থিতি টের পাইনি কেন? ওকে আমি এতোদিন খুঁজলাম কিন্তু ও ধরা দিলো না কিন্তু আজ নিজে থেকেই তার উপস্থিতি ঘোষনা দিচ্ছে! ব্যাপারটা কেমন জানি গোলমেলে! মারগারেটের আত্মার প্রভাবেই কি ও নিশ্চুপ হয়ে ছিলো! কিন্তু এতদিন তো জানতাম খারাপ আত্মাগুলি মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে! এখন দেখছি এরা একে ওপরের উপরেও প্রভাব বিস্তার করে! কিন্তু তা কি করে সম্ভব? মনিকা তো ওকে সেই প্রথম থেকেই অনুভব করে আসছে। সেদিন মনিকাকে একা রেখে আমি অফিস গেলে মারগারেট ও চলে আসে আমার সাথে। কারণ আমি নিজের অজান্তেই মারগারেটের বাহন হয়ে গিয়েছিলাম। আমি যেসব জায়গায় যেতাম মারগারেট ও চলে আসতো সাথে সাথে। আমার ও মারগারেটের অনুপস্থিতিতে মনিকা লাইব্রেরীতে আলেসকে অনুভব করে ও ভয় পেয়ে যায়। ভয়ে দিশেহারা হয়ে ও আমায় ফোন দেয়, তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরে আসার জন্য। কিন্তু কপাল খারাপ যে সেরাত আমায় স্টারদের সেইফ হাউসেই কাটাতে হয়। শেষরাতে আমি কটেজে ফিরতেই সাথে করে মারগারেটও ফিরে আসে এবং মনিকাকে লাইব্রেরীতে ওর বই পড়তে দেখে ফেলে। তারপর মেয়েটাকে ভয় দেখিয়ে অজ্ঞান করে দেয়। তার কয়েকদিন পরে মনিকা অভিযোগ করেছিলো যে, বেসমেন্ট থেকে কে যেনো ওর নাম ধরে ডাকছে। ওটাও আলেসই ছিলো। বেসমেন্ট থেকে কেবল আলেসই ডাকতে পারে। ওটা ওরই আস্তানা। ওখানে মারগারেটের কোন প্রভাব নেই। সবিশেষে বেসমেন্টে আদিনের মোমবাতিটা নিভে যাওয়ার কারণও এই আলেস। সে মোমবাতি নিভিয়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছিলো কিন্তু আমি ও আদিন ব্যাপারটাকে নিছক দমকা বাতাসের কারসাজি ভেবে ভুল করেছিলাম। আমাদের আগেই বুঝা উচিৎ ছিলো যে বদ্ধ বেসমেন্টে দমকা বাতাস কখনোই নিজে থেকে সৃষ্টি হয় না। যদি না অন্য কেউ সেই বদ্ধ বাতাসে ঢেউ না তুলে। আলেস আগেও ছিলো এখনো এই কটেজেই আছে। কেবল এতদিন ও আমায় এড়িয়ে চলছিলো মাত্র। আমার উপস্থিতিতে লাইব্রেরীতে ও নিজেকে নিরব রেখেছিলো, তাছাড়া বেসমেন্টে দুরাত ঘুমালেও ও আমায় কোন দুঃস্বপ্ন দেখায় নি। তবে কি এতোদিন আমার সাথে এমন কিছু ছিলো যা আলেসকে আমার থেকে দুরে সরিয়ে রেখেছিলো? হা, অবশ্যই। ওই আংটি! আলেসের চরম অনিহা থাকা সত্তেও তার কপালে আংটির ছ্যাকা দিয়েছিলো। এরপর থেকে ওই আংটিপরা যে কাউকেই ও প্রিস্ট ভেবে ভয় পায়, ও তাদের থেকে দুরে সরে থাকে। ওই আংটির ভয়েই ও আমায় এড়িয়ে যাচ্ছিলো। এখন আংটিটা আমার হাতে নেই বলেই ও আমায় এখানে টেনে এনেছে। পৃষ্টা উল্টাতে থাকা ডায়ারীটাই আলেসের মুক্তির পথ নির্দেশ করছে। ডায়ারীটাকে পুড়িয়ে দিলেই আলেস মুক্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমাবে। এগিয়ে গিয়ে আলেসের ডায়ারীটা হাতে তুলে নিলাম! এত সুন্দর ডায়ারীটা এভাবে পুড়িয়ে দিতে একটুও ইচ্ছা করছিলো না।
ডায়ারীটা নিয়ে লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে কিচেনে চলে এলাম। উদ্দেশ্য ছিলো ওটাকে পুড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু না। ঠিক তখনই আমার কটেজের কলিংবেলটা বেজে উঠে। আশ্চর্য! এই অসময়ে আবার কে এলো! ওদিকে কিচেনের কোণে মনিকার লাশটা পড়ে আছে। যদি আগুন্তুক এটাকে দেখে ফেলে তো আমার কেল্লাফতে। বাকিটা জীবন চোদ্দশিকের ভেতরে পঁচে মরতে হবে। আলেসের ডায়ারীটা স্টোভের পাশে রেখে দ্রুত মনিকার লাশটা টেনে এনে একটা কিচেন রেক এর পেছনে লুকিয়ে ফেললাম। তারপর দুরুদুরু বুকে এগিয়ে গিয়ে দরজাটা খুলে দিলাম। আমি এতক্ষণ ঠিক এদেরই ভয় পাচ্ছিলাম। পুলিশ!
একটা ছয় ফুট উঁচু বিশাল দেহী অফিসার আর রুক্ষ চেহারার তার মহিলা ডেপুটি। ওদের দেখে আমি এতটাই ভড়কে গিয়েছিলাম যে ওদের সাথে কথা বলতেও ভুলে যাই। ওরাই প্রথম কথা বলা শুরু করে,
পুলিশ: “সরি ম্যাম, আপনাকে অসময়ে বিরক্ত করার জন্যে। কিন্তু আমরা সত্যিই দুঃখিত। আমরা আপনার বেডরুমের সীলগালা খুলে দিতে ও আপনার বেডরুম থেকে জব্দ করা মালামাল গুলি ফেরত দিতে এসেছি।”
আমি: “ওহ, আচ্ছা আচ্ছা। ভেতরে আসুন। ”
ওরা প্রায় একঘন্টা সময় নিয়ে বেডরুমটা ভাল করে ফের পরীক্ষা করলো প্রথম দফায় ফেলে যাওয়া কোন সম্ভাব্য সুত্রের আশায়। তারপর বেডরুমে পড়ে থাকা সকল কাঁচের টুকরা সতর্ক হাতে সরালো। মেঝেতে জমাট বাধা আদিনের রক্ত ভাল করে ধুয়ে মুছে সেখানে ডিজইনফেক্টেন্ট ছড়িয়ে দিলো। তারপর একটা লাগেজে করে আমার বেডরুম থেকে জব্দ করা জিনিসপত্র গুলি ফেরত দিয়ে গেলো। ওরা চলে যেতে যেতে বিকাল ৯টা বেজে গেলো। ওরা চলে গেলে আমি যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। ভাগ্যিস ওরা মনিকার মৃতদেহটা দেখতে পায়নি। কৌতুহলবশত আমার ফেরৎ পাওয়া মাল গুলি পুলিশের দেওয়া লিস্টের সাথে মিলিয়ে দেখতে লাগলাম! আরে! ওগুলোর মধ্যে তো আদিনের সেই জাদুবিদ্যার বইটা রয়েছে। যেটা ও এনেছিলো মারগারেটের আত্মাকে আমার দেহে প্রবেশ করানোর জন্যে। হঠাৎ আমার চোখের সামনে একটা সরল সমীকরণ মিলে গেলো!
লাইব্রেরীতে আংটির ছ্যাকা খাওয়া আলেসের আত্মা, কিচেনে মনিকার মৃতদেহ, ড্রয়িংরুমের পেডাল ডাস্টবিনে সেই জাদুকরী আংটি, আর আমার বেডরুমে সদ্য ফেরৎ পাওয়া আদিনের জাদুবিদ্যার বই। এগুলি সব একত্রে মিলালেই পাওয়া যাবে মনিকাকে খুনের দায় থেকে মুক্তি।
আমি সিদ্ধান্ত নিলাম মনিকার দেহে আলেসের আত্মাটাকে ঢুকিয়ে দিবো। এতে আমি যেমন খুনের দায় থেকে মুক্তি পাবো, আলেসও নতুন জীবন ফিরে পাবে। খুনের দায় থেকে বাঁচার জন্যে এটাই একমাত্র উপায়। আত্মা প্রতিস্থাপনের জন্যে প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ আমার কটেজের ভেতরই বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বেডরুম থেকে বইটা নিয়ে এসে লাইব্রেরীতে রাখলাম। কিচেনে ঢুকে মনিকার দেহটাকেও সন্তর্পণে লাইব্রেরীতে বয়ে এনে টেবিলের উপর শুইয়ে দিলাম। ওর দেহটা তখনো জমাট বাধাই আছে! তবে ইতিমধ্যেই ওটা থেকে অনেকটা বরফ গলে কিচেনের ফ্লোর ভাসিয়ে দিয়েছে। ড্রয়িংরুমের ডাস্টবিনের সব ময়লা হাতড়ে মনিকার কাটা আঙুলটা বের করলাম। আংটিটা ওটার সাথেই লেগে ছিলো। আঙুল থেকে আংটিটা বের করে নিয়ে লাইব্রেরীতে ফিরে এলাম। এবার কাজ শুরু করা যাক।
(চলবে)

ডাকিণী ৪৮তম পর্ব

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
বেচারি মারগারেট। এত বছর পর প্রথমবারের মতো জীবন্ত জগতে ফিরে চোখ খুলতেই ও আমাকে ওর গলা চিপে ধরতে দেখেছিলো। যতই যাদুশক্তির অধিকারী হোক না কেন এমন দৃশ্য স্বভাবতই ওর হৃদপিণ্ডটা কাঁপয়ে দিয়েছিলো। ভয়ে দ্বিকজ্ঞিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ও ড্রয়িংরুম থেকে বেরিয়ে ছুটে সোজা কিচেনের ডিপ ফ্রিজে ঢুকে পড়ে। ভাগ্য ভালো যে মারগারেট ফ্রিজের ভেতরে ঠান্ডায় জমে যাওয়ার ব্যাপারটা সম্পর্কে অবগত ছিলো না। মধ্যযুগে ওর জীবদ্দশায় পোল্যান্ডে ফ্রিজ আসবে কোথা থেকে? ও ফ্রিজটাকে নিছক একটা লুকানোর জায়গা ভেবে ঢুকে পড়েছিলো। এখন ও টের পাবে কত ধানে কত চাল, আর ফ্রিজে ঢুকলেই জমে তাল।আমার ভয় ছিলো মারগারেট হয়তো জাদুবলে লকটা খুলে ফেলবে। তাই রান্নাঘরের ভারী ওভেন আর ডিশ ক্লিনারটা বয়ে এনে ফ্রিজের ডালার উপর রাখলাম। এবার আর কিছুতেই ফ্রিজটা খুলবে না।
ফ্রিজের দেয়ালে একটা আলতো লাথি বসিয়ে দিয়ে ওকে বুঝিয়ে দিলাম আমি ওর অবস্থান জেনে গেছি। ও ভয়ে সর্বশক্তিতে চেঁচালো আর ফ্রিজের ডালায় ধাক্কাতে শুরু করলো। আমি হো হো করে হেসে উঠলাম। ওর চিৎকার আমার কানে রক মিউজিকের মতোই সুরেলা শুনালো।
চেঁচাতে চেঁচাতে এক সময় ও ক্লান্ত হয়ে চুপ মেরে দিলো। তারপর শুরু করলো মিনতি। পোলিশ ভাষায় ও বলল, “সাঞ্জে আমি মনিকাই। কেন তুমি আমায় মারতে চাইছো? আমি তোমার কি ক্ষতি করেছি?তোমায় আমি ভালিবেসেছিলাম। এটাতো কোন অন্যায় নয়। তবে কেন আমায় এ শাস্তি দিচ্ছো? ”
হায় রে বোকা মারগারেট। আমাকে ধোকা দেয়া এতো সোজা না। মনিকার ভাব নিয়ে আমার মন গলাতে চাইছে। কিন্তু যত্ত সমস্যা হয়েছে ওই ভাষাতত্বে। মনিকা এতো ভালো পোলিশ জীবনেও বলতে পারবে না। কিন্তু মারগারেট অবলীলায় পোলিশ বলে যাচ্ছে। ওর এসব বৃথা প্রচেষ্টা দেখে আমার নিতান্তই হাসি পেলো।
আমি: “দেখো মারগারেট, আমি ভালো করেই জানি তুমি কে। এসব ভান ধরে কাজ হবে না। তুমি আমার বন্ধু আদিনকে মেরেছো। আমার সন্তানতুল্য মনিকাকে আমার হাত দিয়ে খুন করিয়েছো। ভেবেছিলে এসব করে তুমি পার পেয়ে যাবে। কিন্তু না। আজ তোমাকে মরতেই হবে। তুমি মরবেই।”
ওর ছদ্দবেশ কাজ করছে না দেখে ও এভার স্বরূপে আবির্ভূত হলো,
মারগারেট: “দেখো সাঞ্জে। পৃথিবীতে একজনকে বেঁচে থাকতে হলে অন্যজনকে মরতেই হয়। আমি শুধু বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওরা আমায় অন্যায়ভাবে হত্যা করে। এতগুলি বছর পর আমি আবার যখন আজ বেঁচে উঠেছি তখন তুমি আবার আমায় হত্যা করতে নেমেছো। এটাই কি তোমার বিবেক? ”
ভুতের মুখে রাম নাম। যে নিজেই একরাতের ব্যবধানে দুই দুইজন মানুষকে খুন করেছে সে আমার বিবেক নিয়ে প্রশ্ন তুলছে! গেলো মাথা বিগড়ে।
আমি: “হা আমি বিবেকহীন অমানুষ। আর তুমি খুব বিবেকসম্পন্ন মানবতা দরদী তাই না? তোমার বিবেক নিয়ে ফ্রিজেই জমে মরো। ঠিক যেমন করে তুমি আমার বন্ধুদের মেরেছিলে।”
ওর সাথে কথা বলার সকল ইচ্ছা আমার মন থেকে উবে গেলো। অনেক হয়েছে। এবার ওকে একা একা শান্তিতে মরতে দেওয়া উচিৎ। আমি কিচেন থেকে বেরিয়ে এসে ড্রয়িংরুমের রক্ত পরিষ্কার করলাম। মনিকার কাটা আঙ্গুলটা কুড়িয়ে নিলাম। তারপর আংটি সহই ওটাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিলাম। যাক বাবা। এখন আর আমায় অভিশপ্ত আংটিটা সার্বক্ষণিকভাবে পড়ে থাকতে হবে না। ওদিকে ফ্রিজের ভেতর মারগারেট চিৎকার করেই চলেছে। আশাকরি আর ঘন্টা খানেকের মধ্যেই ও জমে কাঠ হয় যাবে। আমার অফিসে যাবার সময় ও হয়ে এলো। কাপড় বদলে অফিসের পথ ধরলাম। আজ আর নাস্তা করা হলো না।
অফিসের কর্মচারীরা আজকে খুবই প্রফুল্ল। আজ যে আমি ইন্সপেক্টর মনিকাকে সাথে করে নিয়ে আসি নি
ওদের সবারই প্রায় একই প্রশ্ন ছিলো। মনিকা কি বাল্টিসে আছে না চলে গেছে। ও থাকলে তো সবাইকে আট্যেনশন থাকবে হবে। কখন হুট করে অফিসে ভিজিট দিতে চলে আসবে কে জানে। কিন্তু আমি ওদের সবার কাছে মিথ্যা বললাম। মনিকা কাল রাতেই চলে গেছে। ওরা সবাই খুশি মনে রিলাক্স মুডে যার যার কাজে চলে গেলো। এতগুলি লোকের সামনে মিথ্যা বলতে যেয়ে আমার কপাল বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝরলো। ক্ষানিকের জন্যে মনে হলো মিথ্যাচারই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন।
সারাদিন অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে কটেজে ফিরলাম। আজ থেকে আমার কটেজ অশরীরী মুক্ত। কিন্তু মনিকার জন্যে সত্যিই অনেক খারাপ লাগছে। আমার লক্ষি মেয়েটা। দু চোখ বেয়ে অজান্তেই জল ঝরতে লাগলো। শ্রাবণের অবাধ বৃষ্টি।
কটেজে ফিরে প্রথম কিচেনে গেলাম মারগারেটের কি হাল হয়েছে তা দেখতে। ফ্রিজটা তো বন্ধই মনে হচ্ছে। এবার ভালয় ভালয় মারগারেট ভেতরে থাকলেই হলো। ওভেন আর ডিশ ক্লিনার দুটো ফ্রিজের ডালার উপর থেকে সরিয়ে দিলাম। তারপরএকটা কিচেন নাইফ তুলে বাগিয়ে ধরলাম। এতক্ষণেও যদি মারগারেট মরে না গিয়ে থাকে তো এই চাকু দিয়ে ওকে গেঁথে দেব। তবুও বুকটা দুরুদুরু করছে। কি হবে যদি ফ্রিজটা খুলে দেখি মারগারেট ওখানে নেই? যদি ও তার যাদু বিদ্যা কাজে লাগিয়ে এখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে থাকে? কিংবা ফ্রিজ খুলতেই একটা মোক্ষম আক্রমণে আমায় শেষ করে দেয়? দুর! বদ্ধ ফ্রিজে কেউ সারাদিন ধরে বেঁচে থাকতে পারে না কি? হয়তো ও সত্যি সত্যিই জমে কাঠ হয়ে আছে। আমি মিছেমিছিই ভয় পাচ্ছি। যা হবার হবে ভেবে এক টানে ফ্রিজের ডালাটা খুলে ফেললাম।
নাহ। ও ঠিক ঠিকই মরে গেছে। জমে কাঠ না, একদম জমে পাথর। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাশটা কটেজ থেকে সরাতে হবে। আদিনের মৃত্যুর তদন্তকারী অফিসাররা যদি কোন কারণে ফেরৎ এসে মনিকার লাশটা দেখে ফেলে তো আমায় নির্ঘাত গারদে ঢুকাবে। ঠিক করলাম মনিকার লাশটা আজ রাতের আধারেই গুম করে দিবো। বিশাল কটেজের যেকোন এক কোনে সাড়ে তিন হাত নীচে পুতে দিলেই হলো। ওর ব্যাবহার্য কাপড় চোপড়, জিনিসপত্র আজ রাতেই পুড়িয়ে দেবো। কাল থেকে আমার জীবনে আরেকটি নতুন দিন শুরু হতে যাচ্ছে।
ওর লাশটা জমে অসম্ভব ভারী হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় আমি ওকে বাহিরে বয়ে নিয়ে যেতে পারবো না। তাই লাশটা গলার জন্যে ফ্রিজের বাহিরে রেখে দিলাম। কিচেনের কাজ আপাতত শেষ। এবার গেস্টরুমে যেয়ে মনিকার ব্যবহার্য জিনিসপত্র বের করে নিতে হবে।
কিচেন থেকে একটা বস্তা নিয়ে গেলাম গেস্টরুমে। ওতে একে একে মনিকার জিনিসপত্র ভরতে লাগলাম। প্রথমে শুরু করলাম বাথরুম থেকে। ওর শাম্পু, ফেইসওয়াশ, লোশন, ন্যাপকিন, স্যান্ডেল, ব্যাবহৃত অন্তর্বাস সবই একে একে বস্তায় ভরলাম।
তারপর বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে ওর ক্লজিটের কাপড় চোপড়, বিছানার কভার, জুতা, মুজা, চিরুনি, আয়না, হাতঘড়ি সবই ভেতরে পুরলাম। তখনই ওর আই ফোনটা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। ওটা বের করে মনিকার সাম্প্রতিক কার্যাবলী দেখতে লাগলাম। আজ সকালে গুগল প্লাসে লিখেছে, “সাঞ্জের সাথে অসাধারণ সময় কাটছে। ভাবছি আরো একটা সপ্তাহ বাল্টিসে কাটিয়ে দেবো।” ওই পোষ্টে ২০ লাইক ও ১১ কমেন্ট। তারপর ও গত শুক্রবার আমাদের বীচ ভ্রমণের ছবিও গুগলে আপলোড করেছে। আমাকে নিয়ে অন্য কয়েকটা সামাজিক যোগাযোগের মাধম্যে ওর আরো কয়েকটা পোষ্টও আছে। তারমানে ওর বন্ধুরা ইতিমধ্যেই জেনে গেছে যে সে আমার এখানে থাকছে! এখন যদি ও গুম হয়ে যায় তো এসব পোষ্টের বদৌলতে সন্দেহের সবগুলি আঙুল আমার দিকেই তাক হবে। তারপর পুলিশ এসে কটেজে কয়েকটা ডোবারম্যান ছেড়ে দিলেই হলো। যত গোপনেই, যতগভীরেই দাফন করি না কেনো, ওরা মনিকার লাশটা সহজেই খুড়ে বের করে ফেলবে। আমি ফেসে গেছি। ভয়াবহ ভাবে ফেঁসে গেছি। এর থেকে মুক্তির আর কোন পথ নেই। হতাশ হয়ে গেস্টরুমের বিছানায় ধপ করে বসে পড়লাম। যখন ভাবছিলাম সব শেষ তখনই লাইব্রেরী থেকে একটা করুণ কান্নার ধ্বনি শুনতে পেলাম! বিলাপের সুরটা আমার কাছে খুবই পরিচিত মনে হলো। আরে! এটা তো আলেসের কান্না! লাইব্রেরীতে ও কি করছে? ওকি তবে পরপারে ফিরে যায় নি? গেস্টরুম থেকে বেরিয়ে দৌড়ে গেলাম লাইব্রেরীতে।
(চলবে)

ডাকিণী ৪৭তম পর্ব

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
আমারই চোখের সামনে পরপর দুদিনে আমার দুজন বন্ধু প্রাণ হারালো মারগারেটের হাতে। এতোক্ষণ ছাড়ানো না গেলেও মনিকা মারা যাবার সাথে সাথে ডান হাতটা সুবোধ বালকের মতো ওর গলা ছেড়ে উঠে এলো। কিন্তু মনিকার নিষ্প্রাণ হাত দুটো তখনো আমার ডান হাতটাক্র আকড়ে ধরেছিলো। মৃত্যুর ঠিক আগ মুহুর্ত পর্যন্ত ও এই হাতটা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যে লড়ে গেছে। বিষ্ময়ের ঘোর কাটতেই আমি মনিকাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। “মনিকা, আমি সত্যি দুঃখিত মনিকা, আমি কখনোই তোকে মারতে চাইনি। তোকে যে আমি আমার মেয়ের মতো ভালবাসিরে।”
কিন্তু মনিকা আর ফিরলো না। ও ঠায় শুয়ে রইলো। ওর বিষ্ফোরিত চোখ দুটো অবাক বিষ্ময়ে আমারই দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ওকে জড়িয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম, “মনিকা রে রে রে রে,,,,,,”
আবেগআপ্লুত হয়ে আমি ডান হাতটা থেকে নজর সরিয়ে নিয়েছিলাম। আমি জানতাম মারগারেট আমার ক্রোধকেই কেবল ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এখন জানলাম ও আমার যেকোন উচ্চ আবেগকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সেটা রাগ হোক, বা দুঃখ। মনিকাকে হারানোর ব্যাথায় কাতর হয়ে আমি যখন ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলাম তখন আমার ডানহাতটা নিঃশব্দে হাত থেকে আংটিটা খুলে ওর হাতে পড়িয়ে দেয়।
আমি ওকে আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধিরেছিলাম। হঠাৎ ওর নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ শুনতে পেলাম! আশ্চর্য! ওকি তবে বেঁচে আছে? ডানহাতটা এনে পরীক্ষা করার জন্যে ওর নাকের কাছে ধরিলাম! আরে হা! ও তো নিঃশ্বাস নিচ্ছে! ওয়াও!
কিন্তু পরীক্ষা করার সময় আমার ডান হাতের দিকে নজর যেতেই মনটা আতঙ্কে ছেয়ে গেলো। হাতটা একদমই খালি। কোন আঙ্গুলেই আংটিটা পড়ানো নেই! কোথায় গেলো আংটিটা? হায় হায়! এটা মনিকার হাতে গেলো কি করে! বুঝলাম মারগারেট আমার দেহে নয়, এবার মনিকার দেহে ফিরে আসতে চাইছে। ওকে আমার থামাতেই হবে। দ্রুত ওর হাত থেকে আংটিটা খুলতে গেলাম, কিন্তু ততক্ষণে ওর আংটিপরা হাতটা মুঠো হয়ে গেছে। কিছুতেই আংটি খুলতে দেবে না। ওদিকে ওর শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হচ্ছে। যেকোন সময় ও চোখ মেলে জেগে উঠবে। অগত্যা ওর মুঠো করা হাতের আংটিপরা আঙ্গুলটাকে মোচড়ে ছিড়ে ফেলার চেষ্টা করলাম। মটমট করে হাঁড় ভাঙ্গার শব্দ হলো। কিন্তু ওর আঙ্গুলটা কিছুতেই বিচ্ছিন্ন করতে পারলাম না। ওটা বেকায়দায় ভেঙ্গে গিয়ে উল্টোদিকে ঝুলে আছে। ওদিকে ওর চোখ পিটপিট করা শুরি করে দিয়েছে! যেকোন সময় চোখ খুলে জেগে উঠবে! সাঞ্জে বেঁচে থাকতে তোকে কিছুতেই চোখ খুলতে দেবে না শয়তান।
ওর ঝুলে থাকা আঙুলটাকে আমি কামড়েই ছিড়ে ফেললাম। ফিংকি দিয়ে ওর হাত থেকে রক্ত বেরিয়ে আসতে লাগলো। ভেবেছিলাম দেহ থেকে আংটিটা বিচ্ছিন্ন করে দিলেই ও আবার নিথর হয়ে যাবে। কিন্তু আমার ধারণা ভুল ছিলো। আসলে আংটিটা প্রয়োজন মৃতদেহে আত্মাকে প্রবেশ করাতে। মনিকার দেহে মারগারেটের আত্মা ইতিমধ্যেই প্রবেশ করে ফেলেছে। তাইতো ওর শ্বাস প্রশ্বাস চালু হয়েছে। এখন কালক্ষেপণের মাধ্যমে ওর আত্মাটা নতুন দেহের নিয়ন্ত্রণ নিতে শিখছে। তাই শুধু আংটিটা বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে ওকে আর থামিয়ে দেওয়া যাবে না। ওকে থামাতে হলে আবারো খুন করতে হবে। ওর গলাটা আবার টিপে ধরতে গেলাম। হাতটা ওর গলা স্পর্ষ করা মাত্র ও চোখ খুলে তাকালো। আমি খুবই দ্বিধান্বিত ছিলাম, মনিকা কি সত্যিই মরে গিয়ে মারগারেটকে দেহে জায়গা করে দিয়েছে? নাকি এটা সত্যি সত্যিই মনিকা, কোন ভাবে আমার ভয়ঙ্কর ডান হাতটার কবল থেকে বেঁচে গেছে। কিন্তু পরক্ষণেই দ্বিধাটা কেটে গেলো। মনিকা না মরলে কি আমার হাতটা ওর গলা ছেড়ে দিতো? মোটেও না। তারমানে ওটা মারগারেটই।
সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে আবার মনিকার দেহে ঢুকা মারগারেটের গলা চিপে ধরতে গেলাম। কিন্তু তখনই মারগারেট ত্রাহি চিৎকার ছেড়ে উঠে বসলো। আমি সভয়ে পিছিয়ে গেলাম। হলিউডে অনেক মুভিতে দেখেছি মৃত মানুষ জেগে উঠলে জম্বি হয়ে যায়। তখন জ্যান্ত মানুষকে খেতে শুরু করে দেয়। মারগারেটও কি তাই করবে? আমি ঠিক বুঝতে পারছি না আমার কি করা উচিৎ।
ও আমাকে ভড়কে দিয়েছিলো ক্ষাণিকের জন্যে। আমি যখন আতঙ্কিত হয়ে পিছিয়ে গিয়েছিলাম ও সেই সুযোগে ড্রয়িংরুম থেকে ছুটে বেরিয়ে যায়। আমিও দ্রুত আতঙ্ক কাটিয়ে ওর পিছু ধাওয়া করি।
আমি: “তোকে আজ কিছুতেই ছাড়বো না মারগারেট। মেরেই ফেলবো।”
ও এক ছোটে কিচেনে ঢুকে পড়লো। কিচেনের পেছনে একটা জানালা আছে। ও সহজেই ওটা গলে বেরিয়ে যেতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব ছুটে যেয়ে কিচেনে ঢুকে পড়লাম। প্রথমেই চোখ গেলো জানালাটার দিকে। ওটা ভেতর থেকেই বন্ধ আছে। তারমানে ও এখনো কিচেনেই আছে! কিন্তু কোথায়! হয়তো কিচেনের কোন তাকের আড়ালে লুকিয়ে আছে। অসাবধানতা বশত ওর কাছে চলে গেলেই কিচেন নাইফটা বুকে সেঁধিয়ে দিবে। কিন্তু আমিও এর শেষ না দেখে ছাড়ছি না। হয় ওকে মেরে আমার বন্ধুদের মৃত্যুর বদলা নিবো, নইলে অন্যদের মতো ওর হাতে নিজের প্রাণটা বিসর্জন দিয়ে পরপারে পাড়ি জমাবো।
কিচেনের একটা একটা করে প্রতিটা রেকের পেছনটা আমি ভালো করে চেক করলাম। কিন্তু মারগারেটকে কোথাও পেলাম না। আশ্চর্য! হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো নাকি ডাইনীটা? ঠিক তখনি একটা মৃদু গোঙ্গানি আওয়াজ ভেসে এলো। বুঝলাম আঙুল হারানোর ব্যাথ্যা ওকে কষ্ট দিতে শুরু করেছে। ভালো করে কান পাতলাম। আরে! ওটাতো রান্নাঘরের কোনে রাখা ডিপ ফ্রিজটা থেকে আসছে। বুঝলাম ঘুঘু এবার নিজেই এসে ফাঁদে ধরা পড়েছে। গুটিগুটি পায়ে নিঃশব্দে ফ্রিজের কাছে চলে গেলাম। হা। এই তো গোঙ্গানিটা আবারো শোনা যাচ্ছে। মুখে একটা আকর্ণ বিস্তৃত হাসি ফুটলো। মনেমনে বললাম এবার তোমার পরপারে যাওয়ার পালা মারগারেট। তারপর ফ্রিজের লকটা বাহিরে থেকে শক্ত করে লাগিয়ে দিলাম।
(চলবে)

ডাকিণী ৪৬তম পর্ব

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
***** আপনাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, আপনার বয়স ১৮+ না হলে এই পর্বটি পড়বেন না। *****
মনিকাকে ফোন দিতে যেয়ে দেখি ও ফোন ধরছে না। অনেক চিন্তা হলো মেয়েটার জন্যে।! কিন্তু আমারও তো মানুষের শরীর। ক্লান্তি যে আমার উপরও ভর করে। বিশেষ করে এমন একটা বিদঘুটে দিনের পর। তাই মনিকাকে খোজা বাদ দিয়ে আমি কাউচের উপর দেহটা এলিয়ে দিলাম। মারগারেটের আবির্ভাবের পর কতদিন আমি ওই ঝাড়বাতিটার নিচ দিয়ে হেটে গেছি। বুঝলাম কেবল এই আংটিটার জন্যেই ঝাড়বাতিটা আমার মাথায় পড়ে নি। আভ্যন্তরিণ ক্ষত না থাকার শর্তটা বারবার আমার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে। স্থির করলাম নিশ্চিত মৃত্যুর ঠিক আগ মুহুর্ত ব্যাতিত কখনই আমি আংটিটা খুলবো না। কিন্তু আজকের এই ঘটনাটা আদিনের পরিবারের উপর কি দুর্বিষহ প্রভাব ফেলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তা খেয়াল নেই। কিন্তু দুঃস্বপ্ন আর আমার পিছু ছাড়লো না। স্বপ্নে দেখলাম আমি কাউচের উপর ঠায় ঘুমিয়ে আছি। পেছন থেকে মনিকা পা টিপেটিপে এসে আমার ছুরিটা ঠিক হৃদপিণ্ড বরাবর আমূলে বসিয়ে দিয়েছে। মাঝরাতে চিৎকার করে জেগে উঠলাম। কি অদ্ভুত। ঘুম থেকে জেগে মনিকার জন্যে খুবই দুশ্চিন্তা হলো। ওদিকে ফের ঘুমিয়ে পড়তেও ভয় করছে। আবার না জানি কোন দুঃস্বপ্ন দেখি।তারপরেই হঠাৎ মনে পড়লো বেসমেন্টের কথা। গতরাতে বেসমেন্টে ঘুমিয়েছিলাম। একটা দুঃস্বপ্নও দেখিনি। আজ আবারো ওখানে যেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেই হলো। আর কোন দুঃস্বপ্ন দেখতে হবে না। কাউচ থেকে একটা কোশন নিয়ে চলে গেলাম বেসমেন্টে। ঘুটঘুটে অন্ধকার ভয়াবহ বেসমেন্টটাই এখন আমার কাছে স্বর্গতুল্য মনে হচ্ছে। আলেসের স্মৃতি স্বরণে ওর সেলে ঢুকে, কুশনে মাথা রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। আমার ভাবনাটা সঠিকই ছিলো। বাকিটা রাত কোন দুঃস্বপ্ন ছাড়াই এক ঘুমে কাটিয়ে দিলাম। বেসমেন্টে চুইয়ে ঢুকা সকেলের স্নিগ্ধ আভায় ঘুম ভাঙলো। ঘুম ভাঙতেই আবারো সেই পুরাতন চিন্তাটা পেয়ে বসলো। মনিকা ঠিক আছে তো। দুড়ধাড় করে সিড়ি ভেঙে উপরে উঠে এলাম। কটেজে ফিরতেই দেখি মনিকা ড্রয়িংরুমে বসে গুনগুনিয়ে গান গাইছে। যাক বাবা, ও ঠিকই আছে তাহলে। আমি এগিয়ে যেয়ে ওকে সুপ্রভাত জানালাম। “গুডমর্নিং হানি। কখন আসলে? কাল সারাটা দিন কোথায় ছিলে? ফোনও ধরনি। আমি তো এদিকে দুশ্চিন্তায় মরি। ”
মনিকা: “ওহ সাঞ্জে ডার্লিং। গির্জা থেকে ফেরার পথে একটা হ্যান্ডসাম ছেলের সাথে দেখা হয়ে গেলো। ওর সাথে সারাদিন ঘুরার পর আমরা একসাথে ডিনার করি। তারপর রাতটা ওর ওখানেই কাটিয়ে দিয়েছি। হিহিহিহিহি! আজ সকালে ও আমায় কটেজের ফটকে গাড়িতে করে নামিয়ে দিয়ে গেছে। ”
আমি ওর নাক টিপে দিয়ে বললাম, “যাহ। ভালোই ডেটিং শিখেছো দেখছি। কিন্তু আমার ফোনটা ধরলে কি এমন দোষ হতো? সারাটি রাত আমায় কতটা টেনশন করিয়েছো তুমি জানো?”
মনিকা: “ওহ ডার্লিং, তুমি যখন অমন শক্তিশালী বলিষ্ঠ কোন ছেলের সাথে ঘুমুতে যাও তখন ফোন রিসিভ করার মতো সামান্য একটা কাজও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠে। কিন্তু একি! তোমার গলায় ব্যান্ডেজ কেনো? কি হয়ে হয়েছে ওখানে”
আমি: “ও কিছু না। সামান্য কেটে গিয়েছে আর কি।”
ভদকার গন্ধে ওর মুখ মৌ মৌ করছিলো। মদ ছাড়ার পর থেকে আমি আর এর গন্ধ সইতে পারি না। বেশীক্ষণ ওই গন্ধ শুকলে হয়তো পাগল হয়ে ঐ বাজে জিনিসটা আবার খেয়ে ফেলতে পারি। তাই আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, “আচ্ছা ডার্লিং, বুঝলাম। এখন লক্ষী মেয়ের মতো এখানে বসে অপেক্ষা করো। আমি ব্রেকফাস্ট বানিয়ে আনছি।” আমি ঘুরতেই ও আমার হাত ধরে টেনে কাউচে ওর পাশে বসিয়ে দিলো।
মনিকা: “না না ডার্লিং। ওসব ব্রেকফাস্টে আমার অরুচি ধরে গেছে। আজ তোমায় দিয়েই ব্রেকফাস্ট করবো। ”
আমি: “যাহ দুষ্টু। কি যে বলে না,,,,”
মনিকা ওর লাল টুকটুকে স্কার্টটা টেনে কোমড় অবধি উঠিয়ে দিলো। প্রথমেই চোখ গেলো ওর গুপ্ত ত্রিভুজে। আরে! ও স্কার্টের নিচে কোন প্যান্টি পড়েনি। সবটাই বেরিয়ে রয়েছে। এই মেয়েটার বুঝি লজ্জা শরম বলে কিছু নেই। তারপর চোখ পড়লো ওর মসৃণ উরুতে। সেখানে স্কচ টেপ দিয়ে দুই উরুতে দুটো বিয়ার কেন আটকানো। ও একটা ক্যান খুলে আমায় দিলো আরেকটি নিজে খেতে শুরু করলো। কিন্তু স্কার্ট আর টেনে নামালো না।
আমি: “দেখ ডার্লিং আমি তো মাস খানেক হলো আলকোহল ছেড়ে দিয়েছি। তাই এখন আর এটা খেতে পারছি না। আমি সত্যিই দুঃখিত। ”
মনিকা: ” গতরাতের অসাধারণ অভিজ্ঞতার জন্যে কৃতজ্ঞতা সরূপ ছেলেটা বিয়ার ক্যান দুটো আমায় উপহার দিয়েছে। তুমি যদি একটা না খাও তো খুব কষ্ট পাবো। আজকে অন্তত খেয়ে নাও তারপর থেকে ছেড়ে দিও। প্লীজ।”
আমি: “আচ্ছা বাবা, এই যে খাচ্ছি। ”
ছোট্ট এক ঢুক গিলে নিলাম। বহুদিন পর আলকোহল খেতে পেয়ে দেহটা যেন আরো খাবার জন্যে মোচড় দিয়ে উঠলো। এক নিঃশ্বাসে ক্যানটা সাবাড় করে দিলাম। কিন্তু ক্যান শেষ করতেই একটা অপরাধবোধ আমার মাথায় ঝেকে বসলো। আমি আম্মুর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আর কখনো মদ ছোয়েও দেখবো না। কিন্তু আজ সেটা ভেঙ্গে ফেলেছি।আর এই মেয়েটাই বা কি! ঠিক বিশ্বাস হতে চায় না এতো লক্ষী একটা মেয়ে শুধু এক জোড়া বিয়ার ক্যানের জন্যে নিজেকে বিলিয়ে দিলো। ও যা বেতন পায় তাতে প্রতিদিন অমন এক ডজন বিয়ার ক্যান ও নিমিষেই কিনতে পারে। একজন অচেনা পুরুষের কাছে ওর এতটা সহজলভ্য হওয়ার কি দরকার ছিলো তা আমার মাথায় ঢুকলো না। কেন জানি মনে হলো মনিকা নিছক একজোড়া বিয়ার ক্যানের জন্যে দেহ বিলায় নি। ও এই ভয়াবহ কটেজ থেকে একরাতের জন্যে নিষ্কৃতি চাইছিলো মাত্র।
মনিকা: “কি ভাবছো সাঞ্জে? এইটুকু খেয়েই মাথা ধরে আসছে বুঝি? হিহিহিহিহি। ”
মনিকার এহেন প্রশ্নে আমি আবারো বাস্তবে ফিরে এলাম। আবার চোখ পড়লো ওর অনাবৃত ত্রিভুজটার দিকে।
আমি: “কি যে বলো না মনিকা, সাঞ্জে অমন আরো একশোটা ক্যান খেয়েও ঠিকই সারাদিন অফিস করতে পারবে। হিহিহিহিহি।
মনিকা: “এই না হলে আমাদের সিইও ম্যাডাম। দ্য সুপার সেক্সি আনসিংকেবল সাঞ্জে। হিহিহিহিহি। ”
আমি: “হিহিহিহিহি। আচ্ছা মনিকা, তুমি আজ পেন্টি পড়লে না কেনো? ”
মনিকা: “পেন্টি পড়ে কি লাভ ডার্লিং? মেয়েদের যৌনিকে সবসময়ই পুরুষের জন্যে তৈরী রাখাই ভালো।”
আমি: “যাহ দুষ্টু। ”
তারপর মনিকা হঠাৎ ওর ক্যানটা আমার দিকে বাড়িয়ে ধরে বললো, “আমার ক্যান থেকে আরো কয়েক ঢুক গিলে নাও ডার্লিং। তোমায় খুব তৃষ্মার্ত দেখাচ্ছে।”
কিন্তুু ততক্ষণে মায়ের সাথে করা ওয়াদা ভঙ্গের অনুশোচনা আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলো। আমি দৃঢ় কন্ঠে তা প্রত্যাহার করলাম, “নাহ মনিকা, আমি আর খাবই না।”
মনিকা ক্যানের বাকিটা বিয়ার ওর অনাবৃত যৌনিতে ঢেলে দিয়ে বলল, ” এই নে রে যৌনি। তুই ই খা বাকিটা। আজ তোর জন্যেই কপালে ফ্রি বিয়ার জুটলো। ”
ওর হাস্যকর বাচনভঙ্গি দেখে আমি হুহুহুহুহু করে হেসে উঠলাম।
কিন্তু ও সেটাকে যৌনতার প্রতি গ্রীন সিগনাল ভেবে ভয়ানক ভুল করলো।
ও বলল, “সাঞ্জে ডার্লিং। আমার ওখানটা একটু চুষে দাও না প্লীজ। ”
আমি: “যাহ। কি বলছো এসব। মাথা খারাপ হলো না কি? ”
ও খপ করে আমার চুল মুঠো করে ধরে মাথাটা ওর তলপেটের কাছে টেনে নিয়ে গেলো। তারপর খেকিয়ে উঠে বলল, “চুষবি না কেন বীচ? চেয়ে দেখ কি সুন্দর যৌনি। তোর যৌনিটা আরো হাজারবার দুধ দিয়ে ধুলেও আমারটার মতো এতো সুন্দর হবে না। ”
আমার চুলের উপর প্রচন্ড টান পড়ছে। চরম অনিচ্ছা সত্বেও আমার মুখ ওর যৌনিদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমার মুখটা ওর যৌনির এতটা কাছে চলে গেছে যে ওর বিদঘুটে গন্ধটা স্পষ্ট টের পাচ্ছি। ওর পিউবিক হেয়ার গুলি সেই অচেনা পুরুষের বীর্যে মাখামাখি হয়ে লেপ্টে আছে। আমার পেট উল্টে বমি আসতে চাইলো। অনেক কষ্টে সেটা থামালাম। তারপর আমি চিৎকার করে প্রতিবাদ জানালাম, “দেখো মনিকা, আমি এঙ্গেইজড। আমি আমার বাগদত্তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে চাই। প্লীজ আমার সাথে এমনটা করো না। প্লীজ। ”
ও পাল্টা খেকিয়ে উঠলো, “এঙ্গেইজড তাই না? পুরুষের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে চাও। কিন্তু কেন? কোন পুরুষই বিশ্বস্ত নয়। ওরা সুযোগ পেলেই অন্য মেয়েকে চেখে নেয়। একটা মামুলি পুরুষের জন্যে তুমি আমায় হতাশ করতে পারো না সাঞ্জে। তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম সেদিন থেকেই আমি তোমায় মনে প্রাণে চেয়ে আসছি। আজ আমি সে চাওয়া পুরণ করবই।”
আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে ওর যৌনি থেকে মাথা সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ও কোমড় উঁচু করে ওর যৌনিটা আমার মুখে ঘসে দিলো। সাথে সাথে একগাদা দুর্গন্ধময় আঠালো তরল আমার সারা মুখে লেপ্টে গেলো। ওয়াক ওয়াক। ছিঃ, ,,,,
আমার মাথার ভেতর রাগটা চাড়া দিয়ে উঠলো। কিন্তু এবার আমি সতর্ক। আর মারগারেটকে আমার ক্রোধের সুযোগ নিতে দেবো না। মনিকাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে আমায় এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ওর উপর রাগ করে নয়। আমি এবার ওকে কাতর কন্ঠে বললাম, “মনিকা প্লীজ। আমার বাগদত্তা মোটেও বিশ্বাসঘাতক নয়। প্লীজ। আমাকে ওর সামনে নীচু করে দিও না। ”
কিন্তু তখনই মনিকার চোখ গেলো আমার ডান হাতে পড়ে থাকা মারগারেটের আংটির দিকে! “ওহ, এটা তোমার সেই বাগদত্তার দেওয়া আংটিটাই? খুল বলছি। ওটা এখন খুলে ফেলো। খুলে ফেলো বলছি। অন্যের এঙ্গেইজমেন্টের আংটি পড়ে আমার সাথে সেক্স করা যাবে না।”
ও সেই আংটিটা টেনে খুলতে লাগলো। আমি হাতটা প্রাণপণে মুঠো করে ধরলাম যেনো ও কিছুতেই আংটিটা খুলতে না পারে। অতপর আমি মরিয়া হয়ে বললাম, “মনিকা, প্লীজ, বিশ্বাস করো আমি সমকামী নই। সমকামী ভালবাসার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আমার ব্যাক্তিগত জীবনের জন্যে ওটাকে যথার্থ মনে করি না।”
মনিকা: “সমকামী নও তো কি হলো? আজ থেকে সমকামী হয়ে যাবে। নাও। এবার চোষা শুরু করো।”
আমি: “আমি এটা চুষতে পারবো না। আমার বমি হয়ে যাবে। প্লীজ আমাকে ক্ষমা করো। ”
মনিকা: ” বারে! সেদিন বীচে তুই ঘুমিয়ে পড়লে আমি তোর যৌনিটা চুষে দিয়েছিলাম। তবে আজ কেন তুই আমারটা চুষতে পারবি না? ”
সেদিন বীচ থেকে ফেরার সময় বিকিনি ঢিলা হয়ে যাওয়ার রহস্যটা এখন বুঝতে পারছি। মনিকা আমার ঘুমন্ত দেহের সাথেও যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিলো! ঠিক যেমন শয়তান প্রিস্টটা আলেসের মৃতদেহের সাথে সঙ্গম করেছিলো। এই ভাবনাটা আমার মাথায় আগুন ধরিয়ে দিলো। সুযোগসন্ধানী মারগারেটের পরোয়া না করেই আমি আবার ক্রোদ্ধ হয়ে উঠলাম।
রাগে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে আমি খাটি বাংলায় হুঙ্কার দিয়ে উঠলাম, “কি বললি রে মাগি, তুই আমার ঘুমন্ত দেহের সাথে সেক্স করেছিস। তোকে আজ আমি মেরেই ফেলবো।”
ধা করে একটা ঘুষি বসিয়ে দিলাম মনিকার চোয়ালে। প্রথমত ও আমার মুখে ভিনদেশী চিৎকার শুনে হৎচকিয়ে গিয়েছিলো। তার উপর সাঞ্জের দুনিয়া কাঁপানো ঘুষি। ও কাউচের উপর একদম চিৎ হয়ে পড়লো। রাগের মাথায় আমি লাফিয়ে ওর বুকের উপর উঠে বসলাম। আমার অজান্তেই আংটিপরা হাতটা মনিকার গলা চেপে ধরেছে। মনিকা বাধা দেওয়ার সুযোগই পেলো না। ওর গলা দিয়ে গড়গড় শব্দ বেরুতে শুরু করলো। অনুভব করলাম আমার নিচে পড়ে থাকা ওর দেহে কাঁপুনি শুরু হয়ে গেছে। আমি ডান হাতটা কিছুতেই ওর গলা থেকে সরাতে পারছি না। বা হাত দিয়ে ডান হাতটাকে ছাড়িয়ে আনতে চাইলাম। কিন্তু ওটা প্রচন্ড জোরে মনিকার গলা আকড়ে আছে। আমি কিছুই করতে পারলাম না। মনিকাও তার হাত দুটো দিয়ে আমার ডান হাতটা ছাড়ানোর সর্বউচ্চ চেষ্টা চালালো। কিন্তু আমাদের তিন তিনটে হাতকে উপেক্ষা করে ডান হাতটা তার কাজ চালিয়ে গেলো। আমি আর মনিকার দিকে তাকাতে পারছিলাম না। মৃত্যুযন্ত্রণায় ওর চোখ দুটো যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। মনিকা অনিচ্ছাকৃতভাবে ছড়ছড় শব্দে প্রস্রাব করে দিলো। অবশেষে একসময় ওর দেহটা কাঁপুনি থামিয়ে একদম স্থির হয়ে গেলো। বুঝলাম ও আর এই পৃথিবীতে নেই।
(চলবে)

ডাকিণী ৪৩তম পর্ব

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
আমি: “হ্যালো আদিন। তুমি কি এখন আমার কটেজে আসতে পারবা?”
আদিন: “তোমার যদি কোন আপত্তি না থাকে তো এক্ষুনি রওনা দিচ্ছি। ”
আমি: “ঠিক আছে। তুমি চলে আসো তাড়াতাড়ি। আমি অপেক্ষায় আছি।”
আধাঘন্টার মধ্যেই ওর ফোর্ডটা চলে এলো। কিন্তু এবার আর ও গাড়িটা সোজা গ্যারেজে রেখে এলো। কুয়োর পাশ দিয়ে গাড়ি চালানোর মতো দুঃস্বাহস দেখালো না।
তবে আমরা কুয়োর পাশ দিয়ে হেটেই কটেজে ঢুকলাম। ও একটা বিশাল লাগেজ বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। ভেতরে কি আছে তা দেখার জন্যে আমি প্রচন্ড কৌতুহল অনুভব করলাম।
ও কটেজের সদর দরজার সামনে দাড়িয়ে ল্যাগেজটা খুললো। ল্যাগেজটা যত্তসব উৎকট রিচুয়াল জিনিসপত্রে ঠাসা।
ল্যাগেজটা থেকে ও একটা পুরাতন চামড়ার বই, কতগুলি ছোট মাটির ঘটি, এক প্যাকেট মোমবাতি বের করলো। সদর দরজা খুলাই ছিলো। ও দরজা গলে ভেতরে ঢুকে পড়লো। আমিও ঢুকছিলাম পেছন পেছন। কিন্তু ও আমায় মানা করে দিলো। “সাঞ্জে। আমি একটু সময় তোমার কটেজে একা থাকপ্তে চাই। যদি তুমি কিছু মনে না করো। ”
আমি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললাম “ঠিক আছে।”
কিন্তু মনটা খচখচ করতে লাগলো। বুঝতে পারছি না আমার অনুপস্থিতিতে ও ঠিক কি করতে চাইছে আমার কটেজে। আমি বাহিরে একা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। অপেক্ষার প্রহর সত্যিই খুব বিরক্তিকর। হঠাৎ মনে হতে লাগলো আদিনকে আমার কটেজে এভাবে একা ঢুকতে দেওয়া উচিৎ হয় নি। মাত্র কদিন হলো আমি ওকে চিনি। ওর সম্পর্কে আমার তেমন ভালো ধারনাও নেই। মাস কয়েক আগেও ও একজন ভবঘুরে ছিলো। নানান উল্টোপাল্টা কাজে ওর জুড়ি মেলা ভার। আমার কটেজে ও যেকোন সময় লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে দিতে পারে।
এসব যখন ভাবছিলাম তখনই ভেতর থেকে আদিনের ডাক শুনতে পেলাম। “সাঞ্জে, দয়া করে কি একটু ভেতরে আসবে? ”
ইতস্তত পদক্ষেপে ভেতরে ঢুকলাম। কিন্তু আদিন কোথায় গেলো! ওকে তো দেখছি না! আমি হাক ছাড়লাম, “আদিন কোথায় তুমি?”
আদিন: “ড্রয়িং রুমে বসে আছি। তাড়াতাড়ি আসো তো।”
হঠাৎ কি মনে হতেই আমি আমার ফোনটা বের করে ভিডিও তুলতে লাগলাম। ভাল খারাপ যাই ঘটুক না কেন আমি এর ভিডিও ডুকুমেন্ট রাখতে আগ্রহী। আমি ড্রয়িংরুমে যেয়ে দেখি আদিন সোফায় বসে আছে। আমি ড্রয়িং রুমে ঢুকতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু দরজার সামনেই ও আমায় হাত তুলে ইশারা করে থামিয়ে দেয়। ড্রয়িংরুমের ভেতরটায় ভাল করে তাকাতে যেয়ে দেখি মেঝেতে, মাটির ঘটির মধ্যে সামান্য পানি রেখে তার উপর একটা মোমবাতি বসানো রয়েছে। ঘটির মধ্যে পানির লেভেল এমন ভাবে রয়েছে যেনো মোমবাতির তিন ভাগের দুভাগ পানিতে ঢুবে থাকে, কিন্তু বাকী একভাগ জ্বলন্ত অংশ সহ পানির উপরে থাকে। এবার আদিন আমার সামনে মোমবাতিটা জ্বালিয়ে দিলো। মোমবাতিটা ঠায় দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবেই জ্বলতে লাগলো। তারপর ও আমাকে ইশারায় ভেতরে ডাকলো। আমি ভেতরে ঢুকতেই মাটির ঘটিতে রাখা জলে বড় ঢেউ উঠে তা মোমবাতির জ্বলন্ত অংশের উপর দিয়ে বয়ে গেলো। তারপর ঘটিতে একটা ভেজা, নিভে যাওয়া মোমবাতি পড়ে থাকলো। তারপর ও আমায় নিয়ে অন্যকক্ষ গুলিতে ঢুকলো। সবগুলি কক্ষেই ড্রয়িংরুমের মতো মাটির ঘটিতে মোমবাতি জ্বলছিলো। সেগুলিও আমি ঢুকা মাত্র একই ভাবে নিভে গেলো। তারপর আদিন আমায় নিয়ে বেসমেন্টে ঢুকলো। কিন্তু আমরা সেখানে ঢুকে দেখলাম ওখানকার মোমবাতিটা ইতিমধ্যেই নিভে আছে।
তারপর সবশেষে আমরা গেলাম আমার বেডরুমে। সেখানেও বেসমেন্টের দশা। মোমবাতি আগে থেকেই নিভানো! বলা বাহুল্য আমার ভিডিও ক্যামেরা সবই রেকর্ড করছিলো। আমি কিছুই বুঝতে না পেরে দপ করে বিছানায় বসে পড়লাম। হতাশ কন্ঠে বললাম, “এসব কি হচ্ছে আদিন। আমি আর সইতে পারছিনা। আমি কটেজটা বিক্রি করে দেবো ভাবছি।”
আদিন বলল, “ভাবো তো, তুমি কটেজটা যার কাছে বিক্রি করবে তারও তো একই হাল হবে। তুমি নিজে যা সইতে পারছো না তা কেনো অন্যের ঘাড়ে চাপাবে? এটা মোটেও ঠিক হবে না।”
আমি: “কিন্তু আদিন, আমি এর চেয়ে বেশী আর কি ই বা করতে পারি? ”
আদিন: “নিরাশ হয়ো না সাঞ্জে। আমার কাছে এর সব কিছুরই ব্যাখ্যা আছে। তোমার সহায়তা পেলে আমরা এ সমস্যাটা সমাধান করে ফেলতে পারবো।”
আমি: “কি ব্যাখ্যা আছে? আর সমাধানটাই বা কি? ”
আদিন: “শোন তাহলে। প্রতিটা কক্ষে মোমবাতি জ্বলার মানে হলো এসব কক্ষে কোন প্রেতাত্মার প্রভাব নেই। কিন্তু তুমি প্রবেশ করা মাত্র মোমবাতিগুলি নিভে যেয়ে প্রেতাত্মার প্রভাবের কথা জানান দিয়েছে। ও তোমাকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে। তুমি মারগারেটের পোষকদেহ হিসেবে কাজ করছো।”
আমি: “কিন্তু বেসমেন্ট আর বেডরুমে তো মোমবাতি জ্বলছিলো না। তুমি কিভাবে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিবে? ”
আদিন: তোমার আন্দাজ মতো এই বেডরুমেই যেহেতু মারগারেটকে ফ্যাসিতে ঝুলানো হয়েছিলো তাই এখানে তার স্বভাবসুলভ প্রভাবই বিদ্যমান। তাই মোমবাতিটা নিভে গিয়েছিলো। কিন্তু বেসমেন্টের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। ওটা মারগারেট হতে পারে, কিংবা সেখানে নির্যাতিত অন্য কারো আত্মাও হতে পারে, আবার একটা মামুলি দমকা বাতাসের কারসাজিও হতে পারে। ”
আমি: “ঠিক আছে। বুঝলাম। কিন্তু আমি কিভাবে মারগারেটের বাহক হতে মুক্ত হতে পারি? একটা না একটা উপায় তো নিশ্চয় আছে?”
আদিন: “দেখো সাঞ্জে। রেস্টুরেন্টে তুমি যখন আমাকে মারতে গিয়েছিলে তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে তুমি একটা বাহিক মাত্র। আসলে মারগারেট দৃষ্টির অলখ্যে সকল কলকাঠি নাড়ছে। তাই আজ আসার সময় আমি একটা ব্যবস্থা ঠিক করেই এসেছি।”
আমি অধীর আগ্রহে জিজ্ঞাস করলাম, “তাই আদিন! কি ওটা? ”
আদিন: দেখো সাঞ্জে, আমাদের দেহটা অনেকটা কম্পিউটারের হার্ডওয়ারের মতো। উপযোক্ত পদ্ধতিতে যেমন কম্পিউটারের একটা অপারেটংসিস্টেম পাল্টে অন্য অপারেটিংসিস্টেম ইন্সটল দেওয়া যায় তেমনি উপযুক্ত পদ্ধতিতে আমাদের দেহ হতে একটা আত্মা বের করে অরেকটা আত্মা ভরে দেওয়া যায়। এগুলি উচ্চতর কালো জাদুবিদ্যার বিষয়।”
আমি: ” হা। মারগারেটও তাই চায়। আমার দেহটাকে দখল করে নিতে,,,,”
বলতে বলতে আমার গলাটা ধরে এলো। সত্যিই আমার দেহটাকে আমি অত্যন্ত ভালবাসি। এটাই আমার জীবন্তজগতের অস্তিত্ব। এটা অন্য একজন ব্যবহার করবে তা ভাবতেও আমার কষ্ট হচ্ছে।
আদিন আমায় সান্তনা দিয়ে বলল, “ভেবো না সাঞ্জে। তুমি যেমন আছো তেমনই থাকবে। তবে আমার একটা প্লান আছে। এটা কাজ করতেও পারে আবার নাও করতে পারে।”
আমি: “কি সেটা? ”
আদিন: “আংটি পড়া অবস্থায় তোমাকে অক্ষত দেহে মেরে ফেলবো। এতে তোমার আত্মা পরপারে যাওয়ার বদলে এখানেই আটকে পড়বে। অপরদিকে মারগারেটের জন্যে তো।আর দেহে প্রবেশ করা সহজতর হবে। তারপর ও তোমার দেহে প্রবেশ করা মাত্র আমি আংটিটা খুলে নেবো। তারপর ঠিক আগের মতোই অক্ষত রেখে ওকেও মেরে ফেলবো। এতে ওর আত্মাটা পরপারে চলে যেতে বাধ্য হবে। তারপর তোমার দেহতে তোমার আত্মাকে ফেরৎ আনবো! ”
আমি: “এই প্লানটা ভুলে যাও আদিন। তুমি কখনই আমায় মারতে পারবে না। এটা একটা পাগলের প্লান। তোমার আগের প্রচেষ্টার মতোই এটাও পন্ড হবে। মাঝখান থেকে আমার প্রাণটা গচ্চা যাবে।”
আদিন: “এর থেকে ভালো কোন প্লান কি তোমার মাথায় আছে? প্লীজ। তুমি বিশ্বাস করো আমার প্লানটা কাজ করবে। এই যে আমার হাতে চামড়ার বইটা দেখছো এতে মৃতদেহে আত্মা প্রবেশ করানোর মন্ত্র লেখা আছে। ওটা পড়লেই তুমি তোমার দেহে ফেরত আসবে। আর এই যে দেখ পকেটে করে সায়ানাইড ট্যাবলেট নিয়ে এসেছি। একটা খেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়। আমি খুব শীঘ্রই তোমায় জাগিয়ে তুলবো।”
আমি: “না না আদিন। আমি তোমার মতো একটা মাথা মোটা পাগল নই। আমি তোমার মত একটা পাগলের কথায় সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করছি না। আমি আমার দেহ, আমার পরিবার, আমার জীবনকে প্রচন্ড ভালবাসি। আমি তোমার মতো একটা ছন্নছাড়া ভবঘুরে নই। ”
আদিন একটা ট্যাবলেট সামনে বাগিয়ে ধরে এক পা আগে বাড়লো। আমি সভয়ে পিছিয়ে গেলাম। বুঝতে পারছি খেতে না চাইলে ও জোর করে ট্যাবলেটটা মুখে পুরে দেবে। ক্যামারাটা তখনো ওর দিকেই ফোকাস করা ছিলো। ও এগিয়ে আসতে আসতে ঘরের মাঝখানে ঠিক ঝাড়বাতিটার নিচে চলে আসলো। ঠিক যেখানে মারগারেটকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। অমনি ভারী ঝাড়বাতিটা সশব্দে ওর মাথায় আছড়ে পড়লো। আমি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম, না আ আ আ আ আ
(চলবে)

ডাকিণী ৪২তম পর্ব

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
মনে হচ্ছিলো যেন আমার হাতের নিজস্ব একটা প্রাণ আছে। ওটা নিজে থেকেই কাজ কছে। কপাল গুনে আদিন যথা সময় হাতটা খপ করে ধরে ফেললো নইলে একদম রক্তারক্তি কাণ্ড হয়ে যেতো।
ও আমার হাতটা ধরে খুটিয়ে খুটিয়ে পরীক্ষা করতে লাগলো। তারপর হাতটা এক ঝটকায় ছেড়ে দিয়ে সবিষ্ময়ে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাস করলো, “সাঞ্জে, হু আর ইউ? ”
আমি ওর আর কথা বাড়ানোর সুযোগ না দিয়ে বললাম, ” আমি অত্যন্ত দুঃখিত আদিন। আমার কটেজ খালি হওয়া মাত্র আমি তোমায় আসতে বলবো। শুধু মেহমানটা কে বিদেয় হতে দাও।”
ওর মুখে একটা তৃপ্তির হাসি ফুটলো। ও বলল, “এইতো ভালো মেয়ের মতো কথা বলছো।”
আমি: “আচ্ছা আদিন, এবার তবে উঠি। আমার অনেক কাজ পড়ে আছে। তুমি কিছু মনে করো না। কেমন? ”
আদিন আমার দিকে তাকিয়ে একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল, “এখনই উঠবে? তুমি তো কিছুই খেলে না। এতো তাড়া কিসের শুনি? ”
“দুঃখিত, কাজ আছে।” একথা বলেই আমি ঘুরে হাটতে শুরু করলাম। আদিনের দিকে ফিরেও তাকালাম না। রেস্টুরেন্ট থেকে বেরুতেই মনে পড়লো মনিকাকে কটেজে একা রেখে এসেছি। যতবারই ওকে একা ফেলে এসেছি ততবারই ও একটা না একটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে দ্রুত পা চালালাম। কটেজে ঢুকে প্রধান ফটকের সামনে থমকে দাঁড়ালাম। সামনেই সেই অভিশপ্ত কুয়ো। একটা লম্বা শ্বাস নিলাম। তারপর এক দৌড়ে কুয়োটাকে পাশ কাটিয়ে যেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। তারপর স্বাভাবিক ভাবেই হেটে গেলাম কটেজের সদর দরজা পর্যন্ত। দরজায় বেল টিপতেই মনিকা উদভ্রান্তের মতো দরজা খুলে বেরিয়ে এসেই আমায় জড়িয়ে ধরলো। ওর উষ্ম আলিঙ্গনে অনুভব করলাম ওর দেহটা কাঁপছে! “কি ব্যাপার মনিকা? কোন সমস্যা হয়েছে।”
ও তোতলাতে তোতলাতে বললো, “তোমার বেসমেন্ট থেকে কে যেন আমায় নাম ধরে ডাকছিলো। এখন আমার খুব ভয় করছে।”
বেসমেন্ট থেকে! বেসমেন্ট তো আলেসের আস্তানা! তবে কি আলেস এখনো যায় নি? তবে কি ও মারগারেটের সাথে জোট বেধেঁছে! আলেস যদি থেকেই থাকে তবে ও হয়তো আমায় সাহায্য করতে পারবে। কেন জানি মনে হলো আলেসই আমায় মারগারেটের হাত থেকে মুক্তির এক মাত্র উপায়। ঠিক করলাম আজ রাতে বেসমেন্টে ঘুমাবো। জীবনের শেষ দুঃস্বপ্নটা দেখার আশায়।
এসব ভাবতে ভাবতে ভয়ার্ত মনিকার পিঠ চাপড়ে সান্তনা দিয়ে বললাম, “অসব কিছু না ডার্লিং। একা থাকতে যেয়ে তোমার হ্যালুসিনেশন হচ্ছে। আমি এসে গেছি তো। এখন সব ঠিক হয়ে যাবে। ”
মনিকা আজ একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লো। আমি ফ্রীজ থেকে দু টুকরা পিজা খেয়ে বেডরুমে ফিরে আসলাম। প্রায় সারাটা দিন আমি বাথরুমে যাই নি। কিন্তু এবার যে যেতেই হবে। এটা আমার কটেজ, মারগারেটকে এখানে থাকতে হলে আমার ভয়ে তটস্থ হয়েই থাকতে হবে। আমি কেন ওকে উল্টো ভয় পাবো? এসব বলে মনকে প্রবোধ দিলাম।
বাথরুমে ঢুকতেই দেখলাম আয়নাটা জোড়া লেগে আছে। আমি এক নজর দেখেই ওটা থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলাম। তবে বাথরুমে আর কোন উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলো না। বাথরুম থেকে বেরুতেই নিজের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে এলো। বালিশ আর বিছানার চাদর নিয়ে চললাম বেসমেন্টের দিকে। আজ রাতটা ওখানেই ঘুমাবো।
বেসমেন্টের দরজা খুলতেই একটা মৃদু কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। কে যেনো বিলাপ করে কাঁদছে। কিন্তু আমি যেই সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে শুরু করলাম কান্নাটা থেমে গেলো। বেসমেন্টে আলেসের বন্দিশালায় ঢুকে আবারো বিছানা পেতে শুয়ে পড়লাম। মনে মনে শুধু আলেসকে ডাকছি। তারপর গলা চড়িয়ে পোলিশ ভাষায় বললাম “দেখো আলেস। আমি তোমার জন্যে অনেক কষ্ট করেছি। প্রতিদান হিসেবে তুমি আমায় মারগারেটকে তাড়াতে সাহায্য কর। প্লীজ। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। ”
অন্ধকারে শুয়ে থাকতে থাকতে একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম। কিন্তু বিষ্ময়কর হলে সত্য, আমি সেরাতে আমি কোন স্বপ্নই দেখি নি। সকালে অনেক দেরীতে ঘুম থেকে উঠলাম। প্রায় দশটা বাজে। এতো লম্বা ঘুম ঘুমিয়ে আমি নিজেই বিষ্মিত! মনিকা হয়তো ইতিমধ্যেই ঘুম থেকে উঠে আমায় খুজতে শুরু করে দিয়েছে। তাড়াহুড়া করে উঠে বেরিয়ে এলাম বেসমেন্ট ছেড়ে। মনিকার অলক্ষেই আমার বেডরুমে ফিরে গেলাম। তারপর বাথরুমে যেয়ে হাত মুখ ধোয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। কিন্তু ভুলেও আয়নার দিকে তাকালাম না। বাথরুম থেকে বেরিয়ে কিচেনে গিয়ে ব্রেকফাস্ট তৈরি করতে লাগলাম। তখনই মনিকা আমার পেছনে এসে দাড়ালো। “কি ব্যাপার সাঞ্জে ডার্লিং। আজ এতো দেরীতে ঘুম থেকে উঠলে যে।”
আমি: “আর বলো না ডার্লিং, উইকএন্ডে স্বভাব বিগড়ে যায়। আলস্য পেয়ে বসে। কিছুতেই ঘুমটা ভাঙতে চায় না। ”
কথা বলতে বলতেই খেয়াল হলো ও অসম্ভব সুন্দর করে সেজেছে। একটা উত্তেজক লাল রঙের খোলামেলা জামার সাথে ম্যাচিং লিপস্টিক, নেইলপলিশ আরো কত কি।
আমি: “ওয়াও। মনিকা। তোমায় আজ অসাধারণ লাগছে ডার্লিং।”
মনিকা: “অবশেষে তোমার চোখে পড়লাম তাহলে। হিহিহিহিহি। থ্যাংকস হানি।
আমি: “মোস্ট ওয়েলকাম। কোথাও বেরাতে যাচ্ছ না কি?”
মনিকা: “বারে! আজ রোববার না? আজ যীশুর কাছে প্রার্থনা করতে গীর্জায় যেতে হবে যে।”
প্রার্থনা করতে গেলে এতো সাজ গোজ লাগে! দেখে তো মনে হয় প্রার্থনা করতে নয়, বরং যীশুর সাথে ডেটিং করতে যাচ্ছে। কি আজব ধার্মিকতা!
আমাদের দেশেও এমন অনেক আজব ধার্মিক মেয়ে আছে। শরীরে রঙ বেরঙের ডিজাইন ওয়ালা টাইট বোরকা, মুখে কয়েক কেজি ময়দার মাখামাখি, ঠোটে রক্ত লাল লিপস্টিক। পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে গায়ে কড়া পারফিউম আর পায়ে ঝুনঝুন নুপুর। এদের ধার্মিকতা স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্যে না কি পুরুষের সন্তুষ্টির জন্যে তা আজো আমার কাছে এক অভেদ্য রহস্য।
খানিক ভেবে আমি বললাম, “ঠিক আছে মনিকা। তবে তুমি নাস্তাটা সেরে যাও। ”
মনিকা: “দুঃখিত ডার্লিং। আমি তোমায় ঘুমে রেখেই নাস্তা সেরে নিয়েছি। তোমার আরামের ঘুমটা হারাম করতে চাই নি। ”
আমি: “ওহ আচ্ছা। ভালো করেছো। চল তোমায় এগিয়ে দিয়ে আসি। ”
মনিকা: “এগিয়ে দিয়ে আসতে হবে কেনো? আমি কি কচি খুকি? ”
আমি: “না না। তা বলি নি। গাড়িটা নেই তো। তাই তোমাকে প্রধান ফটকটা পার করে একটা ট্যাক্সিতে উঠিয়ে দিয়ে আসবো। এখানকার ট্যাক্সিওয়ালারা তো আর ইংলিশ জানে না। পরে দেখা যাবে তুমি গির্জার কথা বলেছো আর ওরা তোমাকে নাইটক্লাবে নিয়ে গেছে।”
মনিকা: “হিহিহিহিহি। চলো তবে। ”
আসলে আমি চাইছিলাম মনিকাকে কুয়োটা পার করে দিয়ে আসতে। সেদিনের মতো যদি কোন সমস্যা হয় তবে ওকে যেনো আমি সাহায্য করতে পারি। মনিকাও রাজি হয়ে গেছে। ভালই হলো।
নাস্তা সেরে কোন সমস্যা ছাড়াই ওকে কটেজের বাহিরে নিয়ে গিয়ে একটা ট্যাক্সিতে তুলে দিয়ে আসলাম। কিন্তু কটেজের ভেতরে ফের একা একা ঢুকতে সাহস হলো না। মারগারেট তো এটাই চেয়েছিলো। কটেজে আমায় একা পেয়ে অক্ষত রেখে খুন করবে। মেরুদণ্ড বেয়ে ভয়ের একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেলো। ভয়ে আমার জমে যাওয়ার দশা। হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেলো! আরে! কটেজটা তো এখন ফাঁকাই আছে। এই সুযোগে আদিনকে নিয়ে আসলে কেমন হয়! হয়তো ও ভুত তাড়াতে আবারো ব্যার্থ হবে, কিন্তু ওর উপস্থিতিতে আমার ভয়টা কিছুটা হলেও কমবে।
খানিকক্ষণ ইতস্তত করে শেষমেশ আদিনকে ফোন দিলাম,,,,,,
(চলবে)

ডাকিণী ৪১তম পর্ব

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
প্রাণপণে কুয়োর কিনারা আকড়ে ধরে ঝুলে রইলাম। ঠিক নিচেই আমার জন্যে মারগারেট অপেক্ষা করছে। কোন ক্রমে যদি হাত ফসকে ভেতরে পড়ে যাই তো নিশ্চিত মৃত্যু। দু হাতের উপর ভর করে দেহকে উপরে টেনে তুলার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎ আকড়ে থাকা হাতের আঙুলের উপর প্রচন্ড চাপ অনুভব করলাম। মনে হলো কে যেনো পা দিয়ে মাড়িয়ে দিচ্ছে। আমি দাঁতে দাঁত চিপে ব্যাথাটা সহ্য করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু চাপের ফলে আঙুলগুলি অসার হয়ে আসতে লাগলো। বুঝলাম মারগারেট আমায় নিচে ফেলে দেবার চেষ্টা করছে। ঠিক টখনই ওর বই থেকে মুখস্থ করা অশুভ আত্মা তাড়ানোর মন্ত্রটা মনে পড়ে গেলো। বার কয়েক আওড়াতেই হাতের উপর জেকে বসা প্রচন্ড চাপটা সরে গেলো। এই সুযোগে আমি হাচড়ে পাচড়ে উঠে এলাম মৃত্যুর কিনারা থেকে। তারপর আর এক মুহুর্তও দাঁড়ালাম না ওখানে। সোজা হেটে প্রধান ফটক ধরে বেরিয়ে গেলাম। আমি এই মনস্তাত্ত্বিক খেলায় বারবার হেরে যাচ্ছি। মারগারেট বরাবর ই আমার ক্রোধের সুযোগ নিয়ে আমাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রচন্ড হতাশাজনক লাগছে ব্যাপারটা। কিন্তু ওই কটেজ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরে মনটা অনেকটাই ভালো হয়ে গেলো। মুক্ত বাতাসে রাস্তা ধরে হাঠতে হাঠতে এক সময় পৌছে গেলাম কাঙ্খিত ফাস্টফুড দোকানে। ভেতরে ঢুকে দেখি আদিন এক কোনের টেবিল বুক করে বসে আছে আমার অপেক্ষায়। হাসি মুখে এগিয়ে যেয়ে বললাম, “দুঃখিত। আমি অনেকি দেরী করে ফেলেছি।”
আদিনকে এতে মোটেও সন্তুষ্ট মনে হলো না। ও কোন ভুমিকা না করেই বলল, “সাঞ্জে, এবার সব কিছু খুলে বলো তো। ঠিক কি হচ্ছে ওখানে।”
আমি ওকে প্রথম থেকে শুরু করে সবকিছু একে একে বললাম। লাইব্রেরীতে আলেসের ডায়ারী খুজে পাওয়া, তার সুত্ধরে প্রিস্টের কাছে পৌঁছানো, তারপর প্রিস্টকে মেরে মেয়েগুলিকে মুক্ত করা, তারপর মারগারেটের প্রাদুর্ভাব। শুধু বললাম না যে আংটি পরে থাকার জন্যে মারগারেট সব সময় আমার সাথেই ঘুরে বেরায়। কেন জানি মনে হলো এটা বললে ও হয়তো আমার সাথে ফ্রি হয়ে কথা বলতে চাইবে না।
ও সব শুনে বলল “প্রিস্টকে মেরে তুমি এক দুঃসাহসিক কাজ করেছো সাঞ্জে। এমন অসাধারণ কাজের জন্যে আমি তোমাকে সাধুবাদ জানাই। তবে ঐ রাতে সেই মেয়েগুলির আত্মার সাথে প্রিস্টের চেয়েও ভয়াবহ এক পিশাচীকে তুমি মুক্ত করে দিয়েছো। এর জন্যে তোমাকে ভয়াবহ মূল্য দিতে হতে পারে। ও বারবার তোমায় হত্যা করার চেষ্টায় লিপ্ত আর তুমি প্রায় প্রতিবারই ভাগ্য ও বুদ্ধির জোরে বেঁচে যাচ্ছ। কি হবে যদি একবার ভাগ্য মুখ তুলে না তাকায়? কি হবে যদি আগামীকাল তুমি রাগে অন্ধ হয়ে তোমার বুদ্ধির মাথে খেয়ে বসো। আমি আশা করি তুমি ব্যাপারটা বুঝিতে পারছো। আমি বলতে চাইছি, যদি এভাবে চলতে থাকে তো একবার না একবার তুমি ওর শিকারে পরিণত হবেই।”
এক নিঃশ্বাসে এতগুলি কথা বলে এবার ও ঢকঢক করে পানি গিলতে লাগলো। ও আমার প্রকৃত অবস্থাটা বুঝতে পেরেছে।যতই উৎরে যাই না কেনো একবার না একবার মারগারেটের কাছে নতি শিকার করতেই হবে। আমি ব্যাগ্র কন্ঠে বললাম, “আদিন। এ থেকে মুক্তি পাওয়ার কি আর কোন উপায় নেই? ”
আদিন হতাশ কণ্ঠে বলল, “আমি ঠিক জানি না। তবে জানার চেষ্টা করবো। সেজন্যে আমাকে আবারো তোমার কটেজে বেরাতে নিয়ে যেতে হবে। ”
আমি চিৎকার করে বললাম, “কক্ষনো না। তুমি এমনিতেই একবার আমার কটেজে গিয়ে প্রাণ হারাতে বসেছিলে। আমি আবার তোমার প্রাণের ঝুকি নিতে চাই না। তাছাড়া তোমার ওসব ফাও লোক দেখানোর ট্রিক্স গুলি আলেসের উপরই কাজ করেনি। মারগারেট তো আলেস থেকেও বেশী ভয়ঙ্কর। ও তো তোমায় পরোয়াই করবে না । স্রেফ এক টিপে মেরে ফেলবে। ”
ও মৃদু হেসে বলল, “আমায় মেরে ফেললে ফেলবে। তাতে তোমার কি? আমার জন্যে কোন কালে তোমার হৃদয়ে কোন দরদ ছিলো না কি? ”
আমি: “দেখ আদিন। আমি ঠাট্টা করছি না । কটেজটা ভয়ানক। আমি কিছুতেই তোমাকে সেখানে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো না। ”
আদিন: ” তবে কি আমি ঠাট্টা করছি? তুমি না নিয়ে গেলে আমি চুরি করে হলেও ঐ কটেজে ঢুকবো। ”
আমি: “আমি তোকে পুলিশে দেবো শয়তান।”
আদিন: “ইউ ফাকিং বীচ, আই ডোন্ট কেয়ার।”
আমি: “ইউ মাদার ফাকার। কাম এন্ড ফাক ইউর মম্মা।”
এই সব বাজে কথা বলতে বলতে আমি প্রচন্ড উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলাম। ক্রোধে কাঁপতে কাঁপতে বুঝিতেও পারলাম না কখন আমার আংটি পরা ডান হাতটা টেবিল থেকে একটা কাঁটা চামচ তুলে নিয়েছে! তারপরই অদৃশ্য কোন একজনের নির্দেশে হাতটা আদিনের গলার দিকে সাঁ করে ছুটে গেলো, কাঁটা চামচটা গেঁথে দিতে।
(চলবে)

ডাকিণী ৪০তম পর্ব

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
লাইব্রেরীর হাসিটা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠলো। আমি কি মারগারেটকে কোন জোকস বলেছি না কি? এখানে এতো হাসার কি হলো? আমি ঝুকে বসে বইটা পড়ছিলাম। হঠাৎ বইটার পাতায় এক ফোটা তাজা রক্ত আবিষ্কার করলাম! ব্যাপার কি! বইয়ে রক্ত এলো কোত্থেকে! অনুভব করলাম নাকের পাশ দিয়ে যেনো একটা পিঁপড়া হেটে যাচ্ছে। নাকে হাত দিতেই কেমন ভেজা ভেজা লাগলো। হাতটা সরিয়ে চোখের সামনে ধরতেই হাতে রক্তের ছোপ লেগে থাকতে দেখলাম। আরে! আমার নাক দিয়ে রক্তের ধারা বইতে শুরু করেছে! হঠাৎ খুব অসুস্থবোধ হলো! মনে হলো চারপাশেসবকিছুই যেনো দুলছে! তারপরেই গলা থেকে একদলা রক্ত, বমি হয়ে বেরিয়ে আসলো। বুঝতে পারছিলাম লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। ভেবেছিলাম ডেস্ক থেকে উঠে হেটে বেরিয়ে যাবো। কিন্তু নিজের পায়ের উপর দাঁড়াতেই মাথা ঘোরে মেঝেতে পড়ে গেলাম! বুঝলাম একই পদ্ধতিতে ও খানিক আগে মনিকাকেও কাবু করেছিলো। এখন আমার পালা। হামাগুড়ি দিয়ে দরজার দিকে এগুতে লাগলাম। কিন্তু মনে হচ্ছে কেউ যেনো আমার শরীরের উপর কয়েক মন ওজনের পাথর চাঁপা দিয়েছে! আমার শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। কিছুতেই লাইব্রেরীর দরজার ধারে কাছেও যেতে পারছি না। হামাগুড়ি দিয়ে দু এক ফুট এগুতেই জ্ঞান হারালাম।
জ্ঞান ফিরলে নিজেকে ড্রয়িংরুমে কাউচের উপর শুয়ানো অবস্থায় আবিষ্কার করলাম। কি আশ্চর্য! আমায় এখানে কে আনলো! আমি তো লাইব্রেরীতে পড়ে ছিলাম। খুব সম্ভবত মনিকা। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে পড়া আংটিটার দিকে নজর গেলো। এর জন্যেই যতো সমস্যা। ইচ্ছা করলো ওটা খুলে ফেলে দেই। কিন্তু এই আংটি খুলে ফেললেই কি আমি মারগারেটের হাত থেকে মুক্তি পাবো? কই? মনিকা তো আংটি পড়েনি! তাই বলে মারগারেট কি ওকে ছেড়ে দিয়েছে? এই আংটি খুলে ফেললে বরং ওর সুবিধাই হবে। আংটি পরা থাকায় ও আমায় এমন ভাবে মারতে চাইছে যেনো কোন আভ্যন্তরীণ ক্ষত না থাকে। আংটি খুললে ম্যারগারেটের জন্যে আভ্যন্তরীণ ক্ষত থাকা বা না থাকা সমান হয়ে যাবে। ও যখন দেখবে যে কোন ভাবেই আমার দেহে প্রবেশ করতে পারছে না তখন ও খুব সম্ভব আমায় মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিবে। আর তখন যে কোন এক ভাবে আমায় মেরে ফেললেই হলো। এসব ভাবতে ভাবতে আমি উঠে বসলাম।
কাউচে উঠে বসতেই মনিকা দু কাপ কফি হাতে রুমে ঢুকে বলল, “এই নাও। কফিটা খেয়ে নাও। ”
আমি ব্যাস্ত কণ্ঠে বললাম, “মনিকা, আমি সত্যিই দুঃখিত। সকালে আমার ওভাবে কথা বলা উচিৎ হয় নি,,,,”
ও আমায় থাামিয়ে দিয়ে বলল, “ওসব কিছু না ডার্লিং। আগে কফিটা খেয়ে নাও। তারপর সব কথা শুনবো।”
আমি: “ধন্যবাদ ডার্লিং। ”
কফি খাওয়ার পর ও আমার সামনে চেয়ার টেনে বসে বলল, “হা। এবার সব কিছু খুলে বলো। ”
আমি তখনো ওকে সব কিছু খুলে বলতে তৈরি ছিলাম না। ও খুব সম্ভব এই সোমবারেই চলে যাবে। আজ ওকে এসব বলে বিব্রত না করলেই ভালো। আমি ব্যাপারটা চেপে যেয়ে বললাম, “দেখ মনিকা। সকালে আমার মা ফোন দিয়েছিলো। আমাকে পরিবার থেকে বিয়ে করার জন্যে প্রচন্ড চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর ফলে তখন আমার মেজাজটা বিগড়ে যায় ও আমি চিৎকার করে উঠি। তারপর তুমি ভুল সময়ে নক করে বস! আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে তোমার দিকে খেঁকিয়ে উঠি। সকালের এহেন ঘটনার জন্যে আমি সত্যিই দুঃখিত! ”
মনিকা: “ওহ আচ্ছা। কিন্তু তুমি লাইব্রেরীর ব্যাপারটা কিভাবে ব্যাখ্যা করবে? ”
আমি: আসলে লাইব্রেরীতে যে কি হচ্ছে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। আমি এ ব্যাপারে কিছু জানা মাত্রই তোমাকে জানাবো।”
ও একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, “তুমি কি সত্যিই কিছু জানো না? না কি আমার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছো? ”
আমি প্রসঙ্গ পাল্টাতে বললাম, “তোমার কাছ থেকে লুকানোর কি আছে ডার্লিং। তুমি তো ইতিমধ্যেই আমার সব কিছুই দেখে ফেলেছো।”
ও হেসে বলল, “দেখলে কি হবে? এখনো তো অধরাই রয়ে গেলো।”
ওর কথায় আমরা দুজনই হেসে উঠলাম। তখনই বেডরুম থেকে আমার ফোনটা বেজে উঠলো।
আদিন ফোন করেছে। ধরবো কি ধরবো না খানিক ইতস্তত করে অবশেষে ফোনটা রিসিভ করলাম।
আমি: “হ্যালো আদিন! কেমন আছো? ”
আদিন: “যেমন থাকার কথা। কিন্তু তুমি কেমন? ”
আমি: “ভালো না। সমস্যাগুলি দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে ।”
আদিন: “আজ তো উইকএন্ড। ডিনারে চলে আসো ম্যাকডোনাল্ডে। ”
আমি: “বাসায় মেহমান ছিলো যে! ওকে সাথে নিয়ে আসবো? ”
আদিন: “ওকে কি সমস্যার ব্যাপারে সব খুলে বলেছো? ”
আমি: “না। ও দুদিনের জন্যে এসেছে। কি দরকার ওকে এসবে জড়ানোর। ”
আদিন: “তাহলে ওকে সাথে আনার দরকার নেই। তুমি একাই চলে আসো। আমি অপেক্ষা করছি।”
ও আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ফোনটা কেটে দিলো। আমি ভেবেছিলাম মনিকার সাথে ডিনার করে সকালের মনোমালিন্যের ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলবো। কিন্তু আদিন বাধঁ সাধলো! মনিকা দুদিন পরেই চলে যাবে। আজ যদি ওর সাথে ডিনার না করি তো ব্যাপারটা খুবই অসৌজন্যমূলক দেখায়। কিন্তু পাগলা আদিনটা যে কি? কিচ্ছু বুঝতে চাইলো না। সৌজন্যতার খাতিরেই মনিকাকে আবারো মিথ্য বলতে হবে দেখছি।
আমি: “এই মনিকা। একটু আগে আমার একটা ফোন এসেছিলো। আমার এক ক্লোজ ফ্রেন্ড আক্সিডেন্ট করেছে। আমার ওকে দেখতে যেতে হবে। আমি সত্যিই দুঃখিত।”
মনিকা: “ওহ গড! ওকে আমার পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাতে ভুলবে না কিন্তু।”
আমি: “হা জানাবো। তবে আমার ফিরতে দেরী হবে। সম্ভবত তোমাকে আজ একাই ডিনার করতে হবে। আমি এর জন্যে ক্ষমা প্রার্থী। ফ্রিজে সব কিছু আছে। যা পছন্দ হয় খেয়ে নিও। আরেকটা কথা, আমি ফিরে আসার আগে পর্যন্ত দয়া করে ঐ লাইব্রেরীর ধারে কাছেও যেও না।”
মনিকা: “এসব নিয়ে তুমি ভেবো না। আমি ভালই থাকবো।”
আমি: “নিজের প্রতি খেয়াল রেখো।”
মনিকার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজের বেডরুমে এসে কাপড় বদলে বেরিয়ে পড়লাম। হেটেই যেতে হবে। গাড়িটাকে খুব মিস করছি। আমি আমার গাড়ির দুর্ঘটনা নিয়ে জুয়া খেলতে চাই নি। তাই আমার গাড়ির কোন বীমাপত্র করাই নি। এই গাড়িটা আমার গচ্চা গেলো।
এসব ভাবতে ভাবতে কুয়োর পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। গাড়িটা খুয়ানোর জন্যে মারগারেটের উপর প্রচন্ড রাগ হলো। রাগে আচ্ছন্ন হয়ে অবচেতন মনে ফের ভাবতে শুরু করলাম, কুয়োয় আরেকটি বার নামা উচিৎ। একটা শক্ত দেখে দড়ি নিয়ে গাড়ির বনেটে বেধে রেখে আসবো। তারপর একটা ক্রেন এনে ওটাকে টেনে তুলবো। মারগারেট। তোমাকে দেখিয়ে দেবো আমার গাড়িটাকে আমি কতটা ভালবাসি।
এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে কুয়োর কাছে চলে গেছি খেয়াল ছিলো না। যখন হুঁশ হলো তখন নিজেকে সেই মৃত্যুগুহার মুখের সামনে ঝুকে দাড়ানো অবস্থায় আবিষ্কার করলাম। আবারো মারগারেট আমার ক্রোধ কে ব্যবহার করে আমাকে তার শিকার ক্ষেত্রের খুব কাছে টেনে এনেছে। উপলব্ধি করলাম আমাকে দ্রুত এখান থেকে সরে আসতে হবে। কিন্তু কুয়ো থেকে পেছনে ফিরতেই পা পিছলে কুয়োর দিকে হেলে পড়লাম! কুয়োর নিচ থেকে আবারো সেই শয়তানী হাসিটা শোনা গেলো।
(চলবে)