আফসানা [শেষ অংশ]

0

মহিলাটি নেকাব সরিয়ে নিল। আমি চমকে উঠলাম। আফসানা! গায়ের রং দুধে আলতা গায়ের রং। কিছুটা বাদামী চুল। ঘন জোরা ভুঁরু। মায়াবী চোখ। নীলাভ মনি। ধবধবে গলায় মুক্তার মালা। কুড়ি বছর। অবিকল।

মিষ্টি রিনরিনে কন্ঠে আফসানা বলল, আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন?

আমি বললাম, হ্যাঁ।

আপনি ভালো আছেন কি?

হ্যাঁ। আমি মাথা নেড়ে বলাম। সারা শরীর কেমন অসাড় ঠেকছিল।

এই নিন। চা খান।

আমি কাঁপা- কাঁপা হাতে চায়ের কাপ নিলাম। আশ্চর্য! নীল রঙের বড় চিনেমাটির কাপ।

আফসানা মিটমিট করে হাসছিল। নীল রঙের চোখের মনি ঝিকঝিক করছিল। মিষ্টি রিনরিনে কন্ঠে বলল, ওই … সম্পূর্ন পোস্ট

আফসানা [৩য় অংশ]

0

আমি মাথা নাড়লাম। আমার হাতের তালু ঘামছিল। এত শীতের মধ্যেও কন্ঠনালী শুকিয়ে কাঠ। আমার জন্মপূর্ব বাংলার একটি মুসলিম পরিবারে। পারিবারিক ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে বড় হয়েছি। জিনের অস্তিত্ব যে অস্বীকার করিতাও না। কিন্তু, তাই বলে-… আমি আফসানাদের দিকে তাকালাম। ওরা তিনজনই এদিকে তাকিয়ে রয়েছে। ওরাআমাদের কথাবার্তা শুনতে পাচ্ছে বলে মনে হল। আশ্চর্য! আফসানা ওর মাকে নীচু স্বরে কী যেন বলছে ।

উবাইদ মালিক বললেন, পবিত্র কোরআন মজীদে প্রায় ১২৮ বার শয়তান এবং জিনদের আলোচনা করা হয়েছে। সূরা তুর- এর ৫৬ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করছেন: আমি জিন ও মানবসম্প্রদায়কে একমাত্র আমার … সম্পূর্ন পোস্ট

আফসানা [১ম অংশ]

0

ভালো করে গায়ে চাদর জড়িয়ে রাবুমামা বললেন,সে অনেক বছর আগেকথা বুঝলি।সে সময় আমার একবার সুপারন্যাচারাল এক্সপিরিয়েন্স হয়েছিল।আজ পর্যন্ত আমি যার কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারিনি।বলে রাবুমামা চুপ করে রইলেন।মুখ তুলে একবার আকাশের দিকে তাকালেন।আকাশে পরিপূর্ণ একখানি চাঁদ।উথাল-পাথাল জ্যোস্নায় ভেসে যাচ্ছে চরাচর।নভেম্বর মাস;গ্রামাঞ্চচলের দিকে এই সময়ই শীত বেশ জেঁকে বসে।রাত দশটার মতো বাজে।রাবুমামার সামনে রবিন,নীলু আর মুনিয়া চাদরমুড়ি দিয়ে বসে।ওরা আজই ঢাকা থেকে কুসুমপুরে এসেছে শীতের পিঠা,খেজুরের রস,ঝিলাই নদীর চরে পিকনিক আর রাবুমামার গল্পের টানে।কত যে জিন-পরির গল্প জানেন রাবুমামা।তা রাবুমামা আজও বেশ গল্প জমিয়ে তুলেছেন।আজ রাতের খাওয়টা বেশ জম্পেশ হয়েছে।হাঁসের মাংস … সম্পূর্ন পোস্ট

অশুভ গলির তিন প্রেত­ [শেষ অংশ]

0

cc1e7e9e5fc911df9a61000b2f3ed30f

আমি বললাম, আমি …আমি … আমার নাম সৈয়দ এনামুল হক। আমি … মানে আমি ওয়াহেদের বন্ধু। আমরা একসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম। বলতে বলতে উঠে দাঁড়ালাম।
সেই কালো বেড়ালটাকে কোথাও দেখলামনা। ওটা গেল কোথায় ? আশ্চর্য!
অ। বৃদ্ধ কিছুক্ষণ আমার মুখে দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন, হ। এইবার বুঝলাম। আমার নাম হইল মোশাররফ হোসেন। ওয়াহেদে হইল গিয়াআমার চাচতো ভাইয়ের একমাত্র পোলা।তয় সুবহান ভাইয়ে মইরা গেলে পর আমি তার ফার্মেসিতে বসতাম। পরে ওয়াহেদের বোইনে বিদেশ থন আইসা দুকান বিক্রি কইরা দিল। আমি বুড়া মানুষ। আমি কই যামু বাবা কও। তখন শিউলীর হাতেপায়ে … সম্পূর্ন পোস্ট

অশুভ গলির তিন প্রেত­ [২য় অংশ]

0

ওয়াহেদ যদি এ দিকেই কোথাও দেড়-দুই কাঠার ওপর নিষ্কন্ঠক জমির খোজ দিতে পারে তো ভালো হয়। হাউজ বিল্ডিংয়ের লোন নিয়ে একটা বাড়ির কাজে হাত দেব। ফ্ল্যাটের এখন যা চড়া দাম। এদিকে নিজের একটা বাড়ির জন্য আমার বউ সঞ্চিতা বড় উতলা হয়ে উঠেছে।

সেই খালি রিকশাটা ওয়াহেদদের বাড়ির সামনে থেমে আছে। রিকশায় একটা মাঝবয়েসি লোক উঠল। মনে হল লোকটা ওয়াহেদদের বাড়ি থেকেই বেড়িয়ে এসেছ । কালো রঙের বেশ থলথলে শরীর। পরনে কালো প্যান্ট আর হলদে রঙের হাফ হাতা শার্ট। ফোলা ফোলা গোলগাল মুখে দাড়ি। চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা। লোকটাকে কেমন চেনা … সম্পূর্ন পোস্ট

অশুভ গলির তিন প্রেত­ [১ম অংশ]

5

 

নন্দীপাড়ার সরু রাস্তা ধরে হাঁটছিলাম। শুক্কুরবার সকাল। মেঘহীন উজ্জ্বল দিন। ঢাকা শহরের এ দিকটা বেশ ঘিঞ্জি। অনেকদিন এদিকটায় আমার আসা হয় নি। নন্দীপাড়ায় এসেছিলাম জমি দেখতে। আমার জমি পছন্দ হয়নি। তাছাড়া নিষ্কন্ঠক বলে মনে হল না। আমি ব্যাঙ্কে চাকরি করি। জাল কাগজপত্র সহজে ধরতে পারি। দালালের সঙ্গে কিছুক্ষণ চোটপাট করে এখন রাগের মাথায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

হঠাৎ আমার মনে পড়ে গেল- এদিকেই তো আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু ওয়াহেদরা থাকত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ওয়াহেদের সঙ্গেই দু-একবার ওদের নন্দীপাড়ার বাড়িতে এসেছিলাম ।যদিও ওয়াহেদ-এর সঙ্গে বহু বছর যোগাযোগ নেই। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের … সম্পূর্ন পোস্ট