কে ওখানে

1

যারা ভুত বিশ্বাস করেন না এ লেখাটি তাদের জন্য নয় । কেননা এটা একটি ভুত সংক্রান্ত লেখা বা ঘটনা । যা কিনা আজো আমার কাছে জীবন্ত । এখন ও আমি মাঝ রাত্রিরে জেগে বসে থাকি ভুতের ভয়ে । ঘটনাটি ঘটেছিল আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে । কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এইতো সেদিন ঘটলো ঘটনাটি । ঘটনাটির কথা মনে হলে হাত পা আমার এখনও ঠান্ডা হয়ে যায় ।

আমারা তখন পুরানো ঢাকাতে থাকি । বাবা সরকারি চাকুরি করেন । বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ করেই আমরা বড় লোক হয়ে গেলাম । তা ও বাবার এক ফুপুর কল্যাণে । বাবার বড়লোক ফুপুর মৃত্যুর পর তার বিষয় সম্পতির ছোট একটি অংশ আমাদের বড়লোক করে দিল রাতারাতি ।

আমারা ভাড়া বাসা থেকে আমরা নিজেদের বাড়ীতে উঠলাম । তাও আবার তিন তলা বাড়ী । ৬টা ভাড়াটিয়াসহ বিশাল বাড়ী । আমরা উঠেছি দোতালায় । সারা দিন ভাই বোনদের সঙ্গে আনন্দ করে সময় কাটে । বাড়ীর সামনে দু’টো বড় বড় মেহগনি গাছ । তার একটিতে ছোটকাকু দোলনা টানিয়ে দেয়াতে আমাদের আনন্দের মাত্রা বেড়ে গেছে কয়েক গুন । সারা দিন হৈই চৈই । বিকেল বেলা সবাই মিলে ছাদে খেলা করতাম । এতো বিশাল ছাদ আমি আগে কখনও কল্পনাও করতে পারতাম না তা আবার নিজেদের । ছাদ সাধারনত মা তালা দিয়ে রাখতেন । শুধু বকেল বেলায় খুলে দিতেন । সন্ধ্যার পর শুধু পড়তে বসতাম । রাতে খাওয়া দাওয়ার পর কাকুর কাছে গল্প শুনতে বসা । কাকু নিত্য নতুন ভূতের গল্প বলে আমাদের ভয় পাইয়ে দিতেন । মাঝে মাঝে মাও আমাদের সঙ্গে এসে যোগ দিতেন । গল্প শেষে মা প্রায়ই হেসে বলতেন । ভুত বলে কিছু নেই ।

দেখতে দেখতে আমার এস এস সি পরীক্ষা চলে এলো । ভাল রেজাল্ট করতে পারলে বাবা রেসিং সাইকেল কিনে দেবো । তাই রাত জেগে পড়া শুনা করছি । ভাল রেজাল্ট করার চাইতে আমার সাইকেলটার দিকেই বেশি মনোযোগ । বাসার সবাই ঘুমিয়ে গেলেও আমি সারা রাত জেগে পড়ি । মাঝে মাঝে ঘরের ভেতর হাটা হাটি করি । বেশি খারাপ লাগলে ছাদে চলে যাই । কাকুর ভাষ্য মতে রাতের একটি ভাষা আছে । তাছাড়া রাতের আকাশ ও আমার দেখতে খুব ভাল লাগে । বিশাল রহস্যময় আকাশের শৈল্পিক কারুকার্য আমাকে সব সময় মুগ্ধ করে ।

সেদিন ছিল পূণিমার রাত । রাত প্রায় তিনটা বাজে । আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম । বাসার সবাই ঘুম । হঠাৎ ছাদ থেকে ধুপ ধুপ শব্দ ভেসে এলো । বিকেল বেলায় আমরা ছাদে খেললে যেমনটি শব্দ হয় ঠিক তেমনটি । আমি বেশ অবাক হলাম , এতো রাতে ছাদে আবার কে খেলছে !

কাকু আর আমি একই রুমে থাকি । বেশ কয়েকবার শব্দ হওয়ায় কাকুকে ডাক দিলাম । কাকুর উঠার নামটি নেই । নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে । অনেকক্ষন ডাকা ডাকি করার পরে কোন রকম মাথা তুলে বললেন তুই গিয়ে দেখনা কে ?
ইদুর টিদুর হবে হয়তো । বলে কাকু আবার নাক ডাকতে শুরু করলেন । এদিকে ছাদের শব্দ দৌড়া দৌড়ি পর্যায় পৌছে গেছে । আমি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম আমার তেমন ভয় করছেন । বরং দেখতে ইচ্ছে করছে এতো রাতে ছাদে কে দৌড়া দৌড়ি করছে ।

আমাদের রান্না ঘরের দেয়ালে মা ছাদের চাবি ঝুলিয়ে রাখেন । আমি ঘর থেকে বেড় হয়ে ছাদের চাবি নিলাম । আমাদের ফ্লাট থেকে বেড় হতেই ডান দিক দিয়ে উঠে গেছে ছাদের সিঁড়ি । প্রতিটি বারান্দায় বাতি জ্বলছে । তিন তলার বারান্দা গুরে ছাদের সিঁড়ি । আমি ছাদের সিঁড়িতে উঠার পরও আমার কোন ভয় লাগছিল না । তিন তলা থেকে ছাদের ছাদের দরজা দেখা যায় । বন্ধ দরজা । তালা দেখা যাচ্ছে । তবে ছাদে শব্দ করছে কে ?

আমি ছাদের তালা খুলে ফেললাম । চাঁদের আলোয় ছাদ ভেসে যাচ্ছে । ছাদে বেড় হলেই সামনে রবিন চাচ্চুদের ৪ তলা বাড়ী । রবিন চাচ্চুদের বাসা থেকে আমাদের পুরো ছাদটা দেখা যায় ।

ছাদের এ মাথা ; ও মাথা বেশ ভাল করে দেখলাম কেউ নেই । আমি বেশ অবাক হলাম । তা হলে শব্দ করলো কে ? পানির ট্যেন্কির উপড় দেখলাম । না । কেউ নেই । এবার কিন্তু আমার গা বেশ কেমন ছমছম করছে । আশে পাশের বাড়িগুলোর দিকে বেশ কয়েকবার তাকিয়ে আমি নীচে নেমে এলাম ।

ঘরে এসে ডকডক করে দু গ্লাস পানি খেলাম । এমনিতেই আমি বারবার হিশু পায় বলে রাতেরবেলা পানি কম খাই । কিন্তু সেদিন তেস্টা যেনো আর মিটছিলো না । ২য় গ্লাস পানি শেষ করার মুর্হুতে আবার ধুপ ধুপ শব্দ ভেসে এলো । আমি গ্লেলাসটি রেখে উঠে পড়লাম । ছাদের সিঁড়িতে এসে দেখি ছাদ তালা মারই আছে । দরজা বন্ধ । কিন্তু দরজার ওপাশেই কে যেনো দৌড়াচ্ছে । আমি ভয়ে ভয়ে তালা খুলে ছাদে এলাম । আবারও চাঁদের আলোয় চোখ ভেসে গেলো । আমি পুরো ছাদ বেশ ভাল করে দেখলাম । না । কেই নেই । নিজেকে কেমন বোকাবোকা মনে হলো । নিজেকে শান্তনা দিলাম হয়তো রাত জেগে পড়ার ফলে উল্টা পাল্টা শব্দ শুনছি ।

ছাদ তালা দিয়ে নামার জন্য পেছন গুড়তেই চমকে উঠলাম । হাতের ডান পাশে সিঁড়ির শেষ মাথার ছাদের দেয়াল ঘেষে কে যেনো বসে আছে । ভয়ে আমার বুক তখন হাপারের মতো উঠা নামা করছে । আমি কোন রকম জিজ্ঞষ করলাম । কে ! কে ওখানে ? হালকা আলো স্পষ্ট দেখা যাচ্চে দু’হাটুর মাঝ খানে মাথা রেখে কে যেনো বসে আছে ।
ছোট্র শরীরটা দেখে আট দশ বছরের বাচ্চা বলে মনে হলো । আমি কানে তখন কিচ্ছু শুনছি না ।
চোখেও ভাল করে দেখছি বলে মনে হলো না ।
শুধু তাকিয়ে আছি । আর জোড়ে জোড়ে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করছি কে ! কে ওখানে ?

বেশ কয়েক বার চিৎকার করতেই সামনে বসে থাকা কায়াটা হাটু থেকে মাথা তুলে আমার দিকে তাকালো । ভয়ে আমি চমকে উঠলাম । জাপানি ভুতের সিনামায় দেখা আট নয় বছরের একটি ছেলে আমার দিকে হাটু থেকে মুখ তুলে তাকালো । বড় বড় দুটো চোখ । সমস্ত মুখ কেমন ফেকাসে হয়ে আছে ।
অনেকক্ষন পানিতে ভিজলে চামড়া যেরকম ফেকাসে হয় তেমনটি ।
আমি আরো জোড়ে চিৎকার করলাম কে কে ?
ছেলেটি কোন উত্তর দিলো না শুধু একটি হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো ।
আমি ভয়ে তখন কি ভাবে যে নীচে নেমে এলাম বলতে পারবো না ।
যখন চোখ খুললাম তখন দেখি আমি বিছানায় শুয়ে আছি মা ;বাবা,কাকু আর একজন ডাক্টার আমায় ঘিরে আছেন ।

বাবা কাকুকে বকছেন আমদের কেন ভুতের গল্প শুনায় তার জন্য । মা’র হাতের ফাঁক দিয়ে আমার চোখ যখন দরজার কাছে গেলো তখন আবার চমকে উঠলাম । ছাদে দেখা ছেলেটি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে । আমার চোখা চোখি হতেই । ডান হাতটি আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো । আমি আবার জ্ঞান হারালাম ।

সে বার আমাকে অনেকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিলো । কিন্তু আশ্চযের বিষয় সে রাতের পর ঐ ছেলেটিকে আর কোনদিন দেখা যায়নি আমাদের ছাদে দেখা যায়নি। সে রাতে অবশ্য আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল সেটি হলো আমাদের পাশের বাসার রবিন চাচ্চু মারা গিয়েছিলো । ভাল মানুষ হঠাৎ নাকি কি দেখে খুব ভয় পেয়েছিলেন । প্রিয় পাঠক এ দুটো ঘটনার মাঝে কোন মিল আছে কিনা আমি বলতে পারবনা ।আপনারা ভেবে দেখুন ।।

শেয়ার করেছেনঃ Mirza Jubayer Mamun

রাত জাগা পাখি

0

রাত জাগা পাখি নামে আমাদের একটা গ্রুপ আছে। আমরা চার বন্ধু মিলে এই গ্রুপ বানিয়েছি।গভীর রাতে ফুল কানন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আমাদের আড্ডা বসে। গ্রুপে মাঝে মাঝে অতিথী মেম্বাররা আসে। এক রাত আড্ডাদিতেই তাদের কাপড়ে চোপড়ে হয়ে যায় বলে তারা আর দ্বিতীয় বার আড্ডায় আসেনা। তাতে অবশ্য আমাদের সমস্যা নেই। শেয়ালের ডাক শুনেই যারা ভয় পায় তাদের না আসাই ভালো।রাত জাগা পাখিরমেম্বারদের মধ্যে আমি আর পুলক সবচাইতে এক্টিভ। রাহাত আর জনি ইদানিং বিদ্যা দেবীর আরাধনা করেই রাত কাটায়।আজো তারা বিদ্যা দেবীর পায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে অগ্যতা আমি আর পুলকই ঘর থেকে হলাম। পুলকের বাড়ি আমার বাড়ির পাশেই। বের হয়েই পুলক কে পেয়ে গেলাম। দুইজন মিলে গল্প করতে করতে এগোতে লাগলাম।গন্তব্য স্কুলের মাঠ। পারার কে কবে কি করলো এরকম হালকা চালের গল্প হচ্ছিলো। এর মাঝে খানিকটা অপ্রাসঙ্গিক ভাবেই পুলক বলে উঠলো “ রাতুল তুই রুমুর চিন্তা বাদ দে,লাভ নাই”
আকাশ থেকে পড়লাম!রুমুর কথা ও কিভাবে জানলো!আমি তো কাউকেই বলিনি আমার ওকে ভালো লাগে।পুলকের দিকে অবাক চোখে তাকালাম।ও যেনো আমার মনের কথা বুঝেই কৈফিয়ত দিলো “ দোস্ত তুই না বললেও আমি বুঝি” হঠাৎ করে পুলককে কেমন অচেনা ঠেকলো। নিজের অজান্তে শিড়দাড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেলো। সামান্য রুমুর কথায় নাকি অমাবস্যার ভুতুড়ে পরিবেশে এমন হলো তা বুঝতে পারলাম না। পুলক কে বললাম “আজ ভালো লাগছেনা।চল ফিরে যাই।“ পুলক আমার কথা শুনে আকাশ বাতাস কাপিয়ে হাসতে লাগলো “ দোস্ত আজকের ওয়েদারের সাথে তোর ভয়টা খুব মানাইছে।“
“ফালতু কথা রাখ তো। ভয় পাওয়ার কথা কখন বললাম! ঠিক আছে চল” কথা বললেই লস্‌! একরাশ বিরক্তি আর অজানা ভয় নিয়ে হাটতে হাটতে মাঠে পৌছালাম। মাঠের এক পাশে আম গাছটার সাথে অস্পষ্ট কি যেনোএকটা চোখে পড়লো।পুলক কে দেখাতেই পুলক এগিয়ে গেলো গাছের দিকে।আমিও পিছু নিলাম।গাছের কাছে পৌছেই বরফের মতো জমে গেলাম।পায়ে যেনো শিকড় গজিয়ে গেছে।গাছের সাথে পুলককে বেধে রাখা হয়েছে! তাঁহলে আমার পাশে কে?পুলক কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো “ দোস্ত সন্ধ্যা থেকে বাইন্ধ্যা রাখছে,তারাতারি দড়ি খুলে দে”
পুলকের কথা আমার কানে গেলো,দুরে শেয়ালের ডাক ও শুনতে পেলাম। কিন্তু এক বিন্দু নড়তে পারলাম না।আমার সামনে এক পুলক, পাশে আরেক পুলক!এতোটুকু নড়ার ক্ষমতা নেই। আর মধ্যে পুলক বলেই চলেছে “ দোস্ত প্লিজ খুলে দে” আমি প্রানপণে আল্লাহ্‌কে ডাকতে লাগলাম।সমস্ত শক্তি এক করে দুই পুলক কে রেখেই ঝেরে দৌড় দিলাম। আমার পেছনে পায়ের শব্দ পাচ্ছি।পায়ের শব্দ দ্রুত এগিয়ে আসছে।এক সময় পেছনের মুর্তি আমার কাধ খামচে ধরলো “ রাতুল দাড়া ঐ বান্ধা লোক টা আমি না, তুই আমারে ফেলে যাইস না”
আমি এক ঝটকায় হাত সড়িয়ে নিয়ে উলটো ঘুরে আবার মাঠের দিকে দৌড়াতে লাগলাম।পেছনে আর পায়ের আওয়াজ আসছেনা।বন্ধুকে ফেলে গিয়ে একবার বেঈমানী করেছি দ্বিতীয়বার আর করলামনা।গাছের কাছে গিয়ে পুলকের বাধন খুলে দিলাম।পুলক আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো। এক ফোটা সাহসও বাকি ছিলো না। পুলকের ওপর ভরসা করে শরীর ছেড়ে দিলাম।পুলক যেদিকে ছুটছে আমিও চোখ বন্ধ করে সেদিকেই ছুটছি।হঠাৎ পুলক থেমে গেলো।
“ দোস্ত বাড়ি আসছি?” কাঁপা গলায় আমি বললাম।
“ হ তোর শ্বশুড় বাড়ি আইছোস”অচেনা একটা কণ্ঠ অট্টহাসি দিয়ে বলে উঠলো।
চমকে গিয়ে পুলকের দিকে ভালোকরে তাকাতেই যা দেখলাম তা জ্ঞান হারানোর জন্যে যথেষ্ঠ!জ্ঞান ফেরার পর বিছানায় নিজেকে আবিস্কার করলাম। সবার মুখে যা শুনলাম তার সারমর্ম হলো আমাকে পরেরদিন সকালে মোসলেম ডাকাতের কবরের পাশে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া গেছে।সেই মোসলেম ডাকাত যাকে কিনা গতবছর স্কুলের ঐ গাছের সাথে বেধে পেটানো হয়েছিলো।এলাকাব াসির মার খেয়েই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর পুলক বেশ অসুস্থ্য হয়ে পড়ে…দশদিন পর পুলক মারা যায়…আর আমি? আমি প্রতি রাতে স্বপ্নে দেখি পুলক আমার কাধ খামছে বলছে “দোস্ত ঐ বান্ধা লোকটা আমি না!আমারে ফেলে যাইস না!”

লেখক : আনিসুল হক

রাজসাক্ষী

0

(অন্য ব্লগ এ পুর্বে প্রকাশিত)

অতনুর পুরো নাম শিহাব শাহিন অতনু, ওর নানার রাখা নাম। ওদের বাড়ি উত্তর বঙ্গে, বর্ডারের কাছে। জায়গাটা ভয়াবহ রকমের দুর্গম। ইলেক্ট্রিসিটি তো দূরের কথা, একটা খাম্বাও নেই। যাতায়াতের মাধ্যম পায়ে হাঁটা পথ। প্রায় ১০মাইল হাঁটলে পাকা রাস্তা পাওয়া যায়। অতনুর এই অজপাড়াগাঁয়ে জন্ম হলেও ওর আধুনিক নামই বলে দেয় ওদের পরিবার গ্রামের আর ১০টা পরিবার থেকে আলাদা। ছোটবেলা বাবা মারা যাওয়ার পর নানা বাড়িতেই বেড়ে ওঠে। ওর নানারা ওপারের লোক, যুদ্ধের পর এপারে চলে আসে। পরিবারের নামটাই যা ছিল, এছাড়া একেবারে নিঃস্ব হয়ে এপারে আসতে হয়। ও আবছা ভাবে জানে যে নানারা নাকি শুদ্ধ ব্রাহ্মণ ছিলেন, পরে ধর্মান্তরিত হয়েছেন।

ওর পরিবারে ৩টা আজব ঘটনা ঘটেছে। ওর বড় মামা, মেজ খালু আর মেজ নানা তিনজনই খুন হন। বর্ডার এলাকায় এসব স্বাভাবিক ঘটনা, তাই কোন থানা পুলিশ হয়নি। লাশ পাওয়ার পর ২-৪ দিন চোখের পানি ফেলে আবার কাজে মন দিয়েছে সবাই। এইসব ঘটনা যখন ঘটে তখন ওর বয়স ১১, আজ থেকে ১৭ বছর আগের কথা। তারপর ও বড় হয়ে এখন ঢাকায় থাকে। তিন দিন হল গ্রামে এসেছে শেষ যেটুকু ভিটামাটি ছিল তা বেঁচে দিতে।

শনিবার রাত। গ্রামে এখন এক ছোট মামা ছাড়া আর কেউ থাকে না। বিশ রুমের একটা টিনশেড দোতলা বাড়ি পুরো ফাঁকা পড়ে থাকে। ও উপরের ঘরটা নিলো। রাতে বেশ চাঁদ দেখতে দেখতে ঘুমানো যাবে। গ্রামে কতদিন রাত কাটানো হয়না।

রাত তিনটায় একটু টয়লেট পেলো ওর। এখানের একটা সমস্যা হচ্ছে টয়লেট করতে নিচে নামতে হয়। কি আর করা, নেমে টয়লেট সারলো। কলপাড়ে এসে হাত ধুতে যাবে, দেখল দুজন লোক বসে আছে নিচতলার বারান্দায়। কিছু নিয়ে তর্কাতর্কি হচ্ছে ওদের মধ্যে বোঝা গেল। খেয়াল করলো টর্চ আনতে ভুলে গেছে ও। কিন্তু এত রাতে এখানে বসে ঝগড়া করছে কারা? ভালমত তাকালো, দেখলো একটা লোক উঠে দাঁড়িয়েছে। তীব্র রেগে গেছে সে, আচমকা একটা ছুরি বের করে আমুল বসিয়ে দিল সে অপর লোকটার বুকে। পিচ করে একটা শব্দ হল। আঁতকে উঠল ও, খুন!! দ্রুত লুকানোর জায়গা খুঁজল ও, পেলোনা। ওদিকে লোকটা এদিকেই এগিয়ে আসছে। মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল ও। কিন্তু লোকটা ওর চোখের সামনে দিয়ে চলে গেল, ওর দিকে তাকালও না। লোকটা একটু দূরে ডোবার ধারে গেলে চাঁদের আলো পড়লো লাশটার মুখে। চাঁদের আলোয় চিনতে কোন সমস্যা হলনা। বড় মামা!! লাশটা আর কারো না, বড় মামার!!

সারা গা ঝিমঝিম করে উঠল ওর। দ্রুত ছুটল বাম পাশের ঝোপের দিকে, ওখানে বড় মামার কবর আছে। গিয়ে যা দেখল তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।

কবরটা খোঁড়া, চারিদিকে মাটি ছড়িয়ে আছে, একটা রক্ত মাখা ইট পড়ে আছে পাশে!!

গ্রামের লোকদের ডাকে জ্ঞান ফেরে অতনুর। কবরের পাশে পড়ে আছে ও। চারিদিকে অনেক লোকজন, এক এক জনের এক এক জিজ্ঞাসা। তার মাঝেই কবরের দিকে তাকাল ও, সব সুস্থ, স্বাভাবিক, শান্ত। কবরের মাটি দেখে সহজেই বোঝা যায় গত ১৭ বছরে কেউ তা খোঁড়েনি। তবে কি দুঃস্বপ্ন দেখছিল ও? তাই হবে হয়ত। ধীরে ধীরে লোকের কাঁধে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াল ও, তখুনি চোখ আটকাল একটা ইটের দিকে। গোল, একপাশে রক্ত মাখা। বুকটা ছাঁৎ করে উঠল ওর! ঠিক তখুনি, একটু গড়িয়ে পাশের ডোবাটায় পড়ে গেলো সেটা।

এই ঘটনার ২ ঘণ্টা পরেই বাসে করে ঢাকায় চলে আসে ও। কাউকে কিছু জানায় না। সবকিছু একটা দুঃস্বপ্ন বলে ভেবে নেয়।

দুই দিন পর। বাসায় কেউ নেই। একা ড্রয়িংরুমে বসে টিভি দেখছিল ও, এমন সময় কারেন্ট চলে গেলো। মোম জ্বালাতে রান্নাঘরে যায় ও, আইপিএস টাও আবার নষ্ট।

ফিরে এসে দেখে ড্রয়িংরুম ভর্তি ৬-৭ জন লোক। সবার মুখে লাল কাপড় বাঁধা। একটা লোককে বেঁধে রেখেছে তারা। মোমের আলোয় চিনতে কষ্ট হয়না, ওটা মেজ খালু!!!

হটাৎ লোকগুলো ঝাঁপিয়ে পড়ে খালুর উপর। মুহূর্তে টুকরো টুকরো করে ফেলে ছুরি দিয়ে। শুধু ধড় আর মাথাটা রেখে বাকি হাত,পা আলাদা হয়ে যায়। এক ফোঁটা রক্ত ছিটে এসে লাগে ওর শার্টে। ওখানেই জ্ঞান হারায় ও।

জ্ঞান ফেরে পরদিন হসপিটালে। ঘরে ফেরার পর দেখে সব ঠিক আছে, তবে তার শার্টে রক্তের দাগ লাগলো কিভাবে, স্ত্রীর এই প্রশ্নের জবাব সে দিতে পারলনা।

চাকরি ছেড়ে দিয়ে এখন একটা মানুষিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও। তীব্র কঠিন ওষুধ খেয়ে স্রেফ বেঁচে আছে। দুটি মৃত্যু ঘটনার রাজসাক্ষী হয়ে, তৃতীয় ঘটনাটি ঘটার অপেক্ষায়।

শেয়ার করেছেনঃ Kallîum Cyanîde Pîxel

(ভূতুড়ে গল্প)

অর্গ্যানের সুর

0

(অন্য ব্লগ এ পুর্বে প্রকাশিত)

সকাল থেকে রাত অব্দি একটানা বৃষ্টি হচ্ছে । সেই সাথে মাঝে মাঝে বজ্রপাত । বিদ্যুৎ নেই তাই মোম জ্বালিয়ে শেলী উপন্যাস লিখছে । খুব শীঘ্রই তার এ উপন্যাসটা প্রকাশিত হবে । ঔপন্যাসিক হিসেবে শেলী রোজালীন বেশ নাম করা । নির্জনতা শেলীর ভাল লাগে । তাই হেনরিভিলে একটা বাড়ি কিনেছে কয়েক মাস আগে । বাড়িটা অর্ধ পুরোনো । বাড়ির মালিক ছিলেন হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক জেন কারমাইকেল । বাড়িটার একটা ভুতুড়ে গুজব রয়েছে বলে কেউ কিনতে চায়নি । এ বাড়িতে রাতের বেলায় নাকি অর্গ্যানের সুর ভেসে আসে মাঝে মাঝে ।

অনেকদিন বাড়িটা খালি পড়ে ছিল । পত্রিকায় বাড়ি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে শেলী একটা বিজ্ঞাপন দিয়েছিল । তখনই হেনরিভিলে এই বাড়িটার খোঁজ পেয়ে অতি অল্প দামে শেলী বাড়িটি কিনে নেয় । তার মনের মত জায়গায় বাড়িটা পেয়ে শেলী এ জন্য আনন্দিত , উৎফুল্ল । এ বাড়িতে বেশ কিছু পুরোনা আসবাবপত্রের সাথে একটা পুরোনো অর্গ্যান ছিল । জিনিসগুলো একটা আলাদা ঘরে রেখে শেলী নিজের জিনিসপত্র দিয়ে ঘর সাজিয়ে নিয়েছে ।

অবিবাহিত শেলীর রান্নাবান্নার কাজ করে হাউজকিপার জুন মারিয়া । বেশ হাসি খুশি মহিলা । শেলী তাকে খুব পছন্দ করে । বৃষ্টির কারণে আজ আসতে পারেনি । তাই শেলীকে আজ খাবার কিনে খেতে হয়েছে । তার উপন্যাসটা প্রায় শেষের পথে । কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশককে দিয়ে দেবে ।

শেলী এক মনে লিখে চলেছে । ওদিকে টেবিলে রাখা মোমটা গলে গলে প্রায় শেষ । কিন্তু সেদিকে শেলীর খেয়াল নেই । বসার ঘরে ফায়ার প্লেসে আগুন জ্বলছে । দপ করে মোমটা নিভে গেলে শেলী চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে আর একটা মোম জ্বালিয়ে আনল । হঠাৎই সে খেয়াল করল তার প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে । মোম হাতে নিয়ে রান্না ঘরের ফ্রিজ খুলে স্যান্ডউইচের প্যাকেট আর মিল্কশেক বের করল । টেলিফোনের শব্দ পেয়ে খাবারগুলো রান্না ঘরের টেবিলে রেখে নিজের ঘরে ফিরে এলো । হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে জুনের কণ্ঠ ভেসে এলো । জুন বলল, ‘মিস শেলী আপনার কোন অসুবিধা হয়নিতো ? আসলে আমি বৃষ্টির কারণে আসতে পারিনি । লাইন খারাপ থাকায় ফোনও করতে পারিনি ।` শেলী হেসে বলল , ‘না না আমার কোন অসুবিধা হয়নি । তুমি কোন চিন্তা কর না । কাল বৃষ্টি কমলে চলে এসো ।` ‘আচ্ছা ঠিক আছে রাখি ।` শেলী ফোন রেখে রান্না ঘরে এসে দেখল খাবারগুলো নেই । হঠাৎই পাশের ঘর থেকে দুপদাপ শব্দ ভেসে এল শেলীর কানে । শেলী রান্না ঘর থেকে ছুটে বের হল । শব্দ শেষ হতে না হতেই পুরোনো অর্গ্যানটা বেজে উঠল মৃদুভাবে । ভীষণ ভয় পেল সে । পুরোনো অর্গ্যান কে বাজাতে পারে ভাবতে ভাবতে রুমের দিকে এগিয়ে গেল । আলতো করে দরজাটা খুলে উঁকি দিয়ে কাউকে দেখতে পেল না সে । পুরোনা অর্গ্যানটা পড়ে রয়েছে অনড় হয়ে । দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে দরজাটা বন্ধ করে দিল । ভাবল সবই তার মনের কল্পনা । ফিরে আসার জন্য পা বাড়াতে যাবে অমনি আবার অর্গ্যানটা বাজতে লাগল আগের চেয়ে কিছুটা জোরে । শেলী আবার দরজা খুলে উঁকি দিয়েই স্থির হয়ে গেল । ভয়ের ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল তার শরীরে । দেখল বেশ মনোযোগ দিয়ে অর্গ্যান বাজাচ্ছে কালো আলখেল্লা পড়া কেউ একজন । শেলী কম্পিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, ‘কে আপনি ? এখানে কেন ?` শেলীর কথায় আগন্তুক অর্গ্যান বাজানো বন্ধ করে দিয়ে ধীরে ধীরে শেলীর দিকে আসতে লাগল । শেলী স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । আগন্তুকের চেহারা দেখেই তার গলা চিরে বেরোলো চিৎকার । হাত থেকে মোমটা পড়ে গিয়ে নিভে গেল । প্রচন্ড শব্দে বজ্রপাত হল কাছাকাছি কোথাও । সেই সাথে বিদ্যুৎ চমকলো । সেই আলোয় দেখল তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রোমশ শরীরের এক ভয়ঙ্কর জীব । মানুষের মত দুটি করে হাত পা থাকলেও মুখটা দেখতে একেবারে নেকড়ের মত । চোখ দুটো টকটকে লাল। দুটি বড় বড় দাঁত বেরিয়ে আছে ঠাঁটের বাইরে । অজ্ঞান হয়ে গেল শেলী । অনেক পরে জ্ঞান ফিরে পেয়ে শেলী প্রাণপণে দৌড় দিল নিজের ঘরের দিকে । বসার ঘর দিয়ে যাওয়ার সময় সোফার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেল সে । কোন রকমে উঠে আবার দৌড় দিয়ে ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিল । কাঁপা হাতে টর্চ জ্বেলে টেলিফোনের দিকে এগিয়ে গেল শেলী কিন্তু টেলিফোনের রিসিভার তুলতেই তার মুখ শুকিয়ে গেল । টেলিফোন ডেড । কিছুক্ষণ আগেই সে জুনের সাথে কথা বলেছে । বাইরে বৃষ্টির বদলে এখন ঝড় শুরু হয়েছে । ঝড়ের কারণে কোথাও হয়ত তার ছিড়ে গেছে । নেকড়েরূপী জীবটা দরজায় আঘাত করছে । শেলী দৌড়ে গিয়ে ড্রয়ার খুলে তার লাইসেন্স করা রিভলভারটা হাতে তুলে নিল । অদ্ভুত প্রাণীটা দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকার সাথে সাথে শেলী গুলি চালাল । প্রাণীটা লুটিয়ে পড়ল মেঝেতে । শেলী প্রাণপণে ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরের দরজার কাছে চলে গেল । কিন্তু দরজাটা খুলতে পারল না । ওদিকে অদ্ভুত প্রাণী উঠে দাঁড়িয়ে শেলীকে আবার ধরার জন্য ছুটে এলো । শেলী চিৎকার করলেও তার কান্না বৃষ্টির শব্দে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে । প্রাণীটি বিকট শব্দ করতে করতে তার দিকে ধেয়ে আসছে দেখে ক্লান্ত বিধ্বস্ত শেলী দৌড়ে জানালা খুলতে চেষ্টা করল । কিন্তু খুলতে পারল না । পাশে রাখা একটা চেয়ার নিয়ে জানালার কাঁচে আঘাত করল । কাঁচ ভাঙার পর কোন রকমে বেরিয়ে এলো ঘর থেকে । জ্ঞানশূণ্য হয়ে এই নির্জন জায়গায় শেলী ছুটতে লাগল প্রাণপণে । কাদায় হোচট খেয়ে পড়ে গেল বার
কয়েক । প্রাণীটাও ছুটে চলেছে তার দিকে । শেলীও প্রচন্ড বেগে দৌড়াতে লাগল । হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেল রাস্তার পাশের ছোট্ট একটা খাদে । কোন রকমে উঠে দেখল প্রাণীটা নেই । বৃষ্টির মধ্যে যতদূর চোখ যায় তাকিয়ে দেখল প্রাণীর কোন চিহ্নই নেই । স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ধপ করে বসে পড়ল রাস্তার পাশে । শহরটাতে বাড়িঘরের ঘনত্ব কম । দূরে একটা খামার বাড়ি চোখে পড়ল তার । ক্ষণিকের জন্য সে বাড়িটা দেখলো বজ্রপাতের আলোয় । শেলী বাড়িটার দিকে দৌড়াতে লাগল । হঠাৎ রাস্তায় দেখতে পেল হেড লাইট জ্বেলে দ্রুতবেগে ছুটে আসছে একটা গাড়ি । রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে শেলী বাঁচার আনন্দে গাড়িটা কাছে আসতেই সে চিৎকার করে থামতে বলল । সাহায্য প্রার্থনা শুনে গাড়ির ড্রাইভারের সহানুভুতি হল । তাড়াতাড়ি শেলী বলল, ‘আমাকে বাঁচান একটা ভুত আমাকে তাড়া করেছে । যে কোন সময় সে চলে আসতে পারে ।` ড্রাইভার কোন কথা বলল না । শেলী তার চেহারা দেখতে পেল না। কারণ লম্বা একটা হ্যাটের কোণা দিয়ে সে মুখ ঢেকে রেখেছে । তুমুল বৃষ্টি শুরু হতে লাগল । সেই সাথে ঘন ঘন হতে লাগল বজ্রপাত । শেলী আবার করজোরে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, `প্লিজ আমাকে বাঁচান ।` লোকটা হ্যাট খুলে ফেলল । শেলী অন্ধকারে লোকটার মুখ দেখতে পেল না । লোকটা বলল, `এত তাড়া কিসের ?` শেলী আবার কেঁদে বলল, `আমাকে একটা ভুত তাড়া করেছে ।` লোকটা খনখনে হাসি দিয়ে বলল, `তাই নাকি !’ শেলী চমকে উঠল । লোকটার মুখের দিকে ভাল করে তাকিয়ে দেখল গাড়ির ড্রাইভার আর কেউ নয় স্বয়ং সেই অদ্ভুত প্রাণী । কিছুক্ষণ বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে শেলী উল্টো দিকে দৌড়াতে লাগল । ভুতটাও গাড়ি নিয়ে তার পেছনে ধাওয়া করল । এক সময় গাড়ির ধাক্কায় শেলী উল্টে পড়ে গেল রাস্তার উপর । ভুতটা বাইরে বেরিয়ে শেলীর দূরবস্থা দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল । শেলী ভয়ার্ত গলায় চিৎকার করে বলল, `তুমি কেন আমাকে মারতে এসেছ ?` বিকট কণ্ঠে ভুতটা বলল, `আমি এই বাড়িতে কাউকে থাকতে দেব না ।` কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে গাড়িতে উঠে ভুতটা শেলীর গায়ের উপর দিয়ে চালিয়ে দিল । তারপর হাসতে হাসতে অদৃশ্য হয়ে গেল বাতাসের মধ্যে । পড়ে রইল শেলী রোজালীনের রক্তাক্ত বিকৃত লাশ ।

ঊর্মি খান   (ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প)

কিছু অস্বাভাবিক তথ্য পর্ব ১৪

0

মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলায় পুখুরিয়া এলাকায় একবার অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই লাশটির কোনও নাম পরিচয় পাওয়া না যাওয়ায় তকে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয় কয়েকজন কবরটির উপরের মাটি সরে থাকতে দেখে এলাকার পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে তাদের লোক নিয়ে কবর খুঁড়ে দেখে কবরটি ফাঁকা, এবং সেখানে শুধু কাফনের কাপড় পড়ে আছে।

এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় মানুষের অনেক গরু ছাগল খুব দ্রুত কোনও কারণ ছাড়াই মারা যেতে লাগলো। এমন অদ্ভুত রোগ কেউ কখনো দেখে নি। তাদের গরু বা ছাগলগুলো খোওয়ারে মরে থাকতো এবং গাঁয়ে কোনও রক্ত থাকতো না।

কেউ যেনও রক্ত চুষে নিয়েছে সেগুলোর গা থেকে। ভয়ে অনেক গৃহস্থ সেই এলাকায় গরু ছাগলগুলো বিক্রি করে দেয়। এলাকার স্থানীয় কৃষক, বাচ্চু মিয়াঁ একবার নিজের খোওয়াড়ে অদ্ভুত শব্দ পেয়ে উঁকি দেন। তখন সন্ধ্যা মাত্র হয়েছে। তাই ফাঁকফোকর দিয়ে খোওয়াড়ে আলো পড়ছে খানিকটা। সেই আলোতে তিনি দেখলেন তার একটা গরু মরে পড়ে আছে এবং তার উপর এক অদ্ভুত মানুষসদৃশ প্রাণী চেপে বসে আছে।

সেই প্রাণীটি ঐ গরুর গলায় কামড় দিয়ে ধরে যেনও রক্ত খাচ্ছে। ভয়ে বাচ্চু মিয়াঁর গলা দিয়ে আঁতকে উঠার শব্দ বের হয়। সাথে সাথে ঐ বস্তুটি বাচ্চু মিয়াঁর দিকে চোখ তুলে তাকায়। খানিকটা অন্ধকারেও সেই বস্তুর চোখ থেকে নীল আলোর মতো বের হচ্ছিল। এরপর তা খুব দ্রুত খোওয়াড়ের পাশে জানালা দিয়ে বের হয়ে পাশের ক্ষেতের মধ্যে ঢুকে পড়ে। বাচ্চু মিয়াঁর ভাষ্যমতে, ঐ বস্তু মানুষের মতই দৌড়চ্ছিল। তবে খুব দ্রুত। প্রায় চোখের পলকে হারিয়ে যায় বস্তুটি। ঐদিনের পর থেকে ঐ গ্রামে আর কোনও গৃহপালিত পশু মরার কথা শোনা যায় নি।

কিছু অস্বাভাবিক তথ্য পর্ব ৬

0

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে খ্রিস্টানদের একটা পুরনো কবর স্থান আছে।। সেটার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কেউ বেখেয়ালে ভিতরে তাকালে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কবর ফলক দেখতে পায়।। সেই কবরটা হলো এমা ফ্লরেন্স নামক এক মহিলার।। আজব ব্যাপার হলো, দ্বিতীয়বার কেউ যখন ভালো করে সেই কবরস্থানের ভিতরে তাকায় তখন সে হাজার খুঁজেও সেই এমা ফ্লরেন্সের কবরটি দেখতে পায় না।। এই ব্যাপারটি মেলবোর্নের বহু লোকের সাথে ঘটেছে।।

কিছু অস্বাভাবিক তথ্য পর্ব ৪

0

পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার দোহসোহ গ্রামে ভালোবাসা নিয়ে বিরোধের সুত্র ধরে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যায়।। ঘটনাটি পৃথক পৃথকভাবে ঘটেছিলো।। আগে মারা যায় মেয়েটি, এরপর ছেলেটি ফাঁস নেয়।।

ঘটনাটির ২ মাস পরে স্থানীয় এক কৃষক সুলতান কবির টিপু তার বাড়ির বাগানে একটি মেয়ে এবং ছেলেকে বসে থাকতে দেখেন।। তাদের দুইজনের পড়নেই ছিল সাদা কাপড়।। এই সময় চোর মনে করে নিজের স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে তিনি তাদের ধরতে গেলে দেখেন, ছেলে মেয়ে দুটোর চেহারা হুবুহু ঐ দুটো ছেলে মেয়ের মতো।। তারচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, উনাদের দুইজনের উপস্থিতিতে সেই ছেলে-মেয়ে দুটো চোখের সামনে গায়েব হয়ে যায়।।

এরপরের ঘটনা আরো ভয়াবহ।।

রাতে গ্রামের বাজার থেকে দলবল মিলে ফিরছিলেন একদল দোকানি।। পথিমধ্যে একটি পুরানো বট গাছ পড়ে।। লোকসংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা কোনো ভয় ডর ছাড়াই পথ চলছিলেন।। হটাত তাদের মাঝে একজন লক্ষ্য করেন গাছে দুটো ফাঁস দেয় লাশ ঝুলছে।। দুটোর পড়নেই সাদা কাপড়।। দেহের গঠন দেখে বুঝা যাচ্ছিল, একজন ছেলে এবং একজন মেয়ে।। তারা সবাই সেই গাছের নিচেই অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন দিনের আলো ফোটার জন্য।। কিন্তু, মিনিট বিশেক পর সেই ঝুলন্ত দেহগুলোর একটাও চোখে পড়ে না।। গায়েব হয়ে যায় প্রায় ১০-১২ জন লোকের চোখের সামনেই।।

কবরের আযাব সম্পর্কে একটি ভয়ানক ঘটনা!!!! {সংগৃহীত}

1

বিশ্ব যুদ্ধের সময় পরাশক্তিধরদের হিন্দুস্থানে আক্রমন করার সময় ইংরেজ বাহিনীকে সিঙ্গাপুর ও বার্মায় অস্ত্র রাখতে হয়ছিল। অস্ত্র রাখার সময় ইংরেজ জেনারেল সৈন্যদেরকে অনুমতি দিল, যে সৈন্য পলায়ন করে প্রান বাঁচাতে পারবে সে যেন তার প্রান বাঁচায়। সৈন্যদের এক মেজর তোফায়েল তার এক সাথী মেজর নেহাল সিং এর সাথে পালিয়ে গেল।

মেজর তোফায়েল বর্ণনা করেন: আমরা উভয়ে অন্ধকার রাতে ঘোড়ায় চড়ে বের হলাম এবং বার্মার রণাঙ্গন ধরে ঘোড়া হাঁকালাম। বার্মার ঘন জন-মানব হীন অন্ধকার ভয়ানক জঙ্গল বিশিষ্ট এলাকা, যা অতিক্রম করা অত্যন্ত দূরহ কাজ ছিল। যাই হোক আমরা অনুমানের ভিত্তিতে হিন্দুস্থানের জেলা আসাম মূখি হলাম। যেখানে জাপানীদের আক্রমন থাকা সত্বেও ইংরেজদের প্রাধান্য বিস্তার করছিল। পরামর্শের ভিত্তিতে রাস্তা অতিক্রম করতে থাকলাম। এর মধ্যে কত রাত অতিক্রম হয়েছে তার কোন হিসাব আমাদের কাছে ছিল না। পানাহার সামগ্রী শেষ হয়ে আসছিল। জঙ্গল ও নদ-নদীর উপর দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। কোন কোন সময় ভয়ঙ্কর সাপ-বিচ্ছুর মুখো মুখিও হতে হয়েছে। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পথ চলেছি। একদিন সামনে এক খালী জায়গায় একটি কবরস্থান চোখে পরল।

সেখানে প্রায় ২৫-৩০টি কবর হবে । এক কবরে মৃতের প্রায় অর্ধেক দেহ পঁচা গলা অবস্থায় কবরের বাইরে পরেছিল। লাশের উপর ছোট একটি বিচ্ছু বারবার দংশন করছিল। আর লাশ খুব ভয়ঙ্করভাবে চিল্লাছিল। কোন জীবিত মানুষকে যেমন কোন বিচ্ছু দংশন করলে তার বিষাক্ততার ফলে সে কাঁদত তা এমন মনে হচ্ছিল। যা জীবিত অন্যান্য মানুষকে ও প্রাণীকে বেঁহুশ করে দিতে যথেষ্ট ছিল। সত্যিই এ এক ভয়ানক দৃশ্য ছিল। মেজর নেহাল সিং আমার বাধা সত্বেও বিচ্ছুটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ল, এতে একটি অগ্নিশিখা বিচ্ছুরিত হল বটে কিন্তু বিচ্ছুর কিছু হয় নাই। নেহাল সিং আবারো গুলি করার প্রস্তুতি নিল, আমি তাকে কঠোর ভাবে বাধা দিলাম এবং তার পথে তাকে চলতে বললাম, কিন্তু সে আমার কথায় কর্ণপাত না করে কবর স্থানের এক মৃতকে বাঁচাতে গিয়ে বিচ্ছুকে আবার গুলি করল। আবারো একটি অগ্নিশিখা বিচ্ছুরিত হল বটে কিন্তু বিচ্ছুর কিছুই হলোনা। বরং বিচ্ছুটি তখন লাশকে ছেড়ে আমাদের দিকে ছুটে আসতে লাগল। আমি তখন নিহাল সিংকে বললাম: “বিচ্ছু ও লাশ ছেড়ে এখান থেকে ভাগ, বিচ্ছু্ আমাদের দিকে এগিয়ে আসা আশংকা মুক্ত নয়”। আমরা ঘোড়া চালাতে শুরু করলাম, কিছুদূর যাওয়ার পর পিছনে তাকিয়ে দেখি, বিচ্ছুটি পিছনে পিছনে খুব দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। আমরা ঘোড়াকে আরো দ্রুত চালাতে শুরু করলাম। কয়েক মাইল চলার পর এক নদী সামনে পরল, যা খুবই গভীর মনে হচ্ছিল। একটু থেমে চিন্তা করতে লাগলাম, নদীতে ঘোড়া নিক্ষেপ করব না নদীর তীর ধরে চলে কোন রাস্তা খোঁজব। কিন্তু কোন সিদ্ধান্তের পূর্বে ঐ বিচ্ছুটি আমাদের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। আমরা লক্ষ্য করলাম যে আমরা সশস্ত্র হওয়া সত্বেও এ বিচ্ছুটি আমাদেরকে আতংকিত করে তুলেছিল। এমনকি আমাদের ঘোড়াও লাফাচ্ছিল যেন সেও ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত। বিচ্ছু নিহাল সিং এর দিকে এগোচ্ছিল। নিহাল সিং ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ঘোড়া নিয়ে নদীতে ঝাপিয়ে পড়ল। আর তার পিছে পিছে বিচ্ছুও নদীতে ঝাপিয়ে পরল। আল্লাহ জানেন বিচ্ছু ঘোড়ার শরীরের কোন অংশে কেটেছিল যার ফলে সেটিও এ অস্বাভাবিক আঘাতের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল। ঘোড়াটি কাঁপতে শুরু করল। নেহাল সিং ভয়ানক ভাবে চিৎকার করে আমাকে বলতে লাগল: “তোফায়েল আমি ডুবে যাচ্ছি, জ্বলে যাচ্ছি, আমাকে বিচ্ছু থেকে বাঁচাও”। আমিও তখন ঘোড়া নিয়ে

ঝাপিয়ে পড়লাম এবং বাম হাত তার দিকে বাড়ালাম। সে তখন আমাকে খুব শক্ত করে ধরে নিল। আমার মনে হচ্ছিল এটা নদীর স্বভাবিক পানি নয়, বরং কোন বিষাক্ত পানি, যা শুধু আমার হাত নয় সমস্ত শরীরই জালিয়ে দিবে। আমি তখন আমার অস্ত্র বের করে আমার বাম হাত কেটে ফেলে নিজেকে রক্ষা করে দ্রুত নদীর তীর ধরে চলতে শুরু করলাম। মেজর নেহাল সিং আমাকে চিৎকার করে ডাকতে থাকল আর পানিতে ডুবতে লাগল। নদীর বড় বড় ঢেউ তাকে গ্রাস করতে লাগল। এ হল আল্লাহর শাস্তি…. বিচ্ছু নিজের কাজ করে চলে যাচ্ছিল, আমার সামনে আসে নাই। আল্লাহর সৈন্যদের মধ্যে সে একাই এক গায়েবী সৈন্যের মত। সে আমার কোন ক্ষতি করে নাই যেদিক থেকে এসেছিল সেদিকেই চলে গেল।