ভূতের বাড়ি

বার যে গল্পটি বলতে যাচ্ছি তা আমার বন্ধু প্রিন্সের মুখ থেকে শোনা । ও এই গল্পটি ওর মামার কাছ থাকে শুনেছিল ।এই গল্পটি যখনি মনে হয় তখনি আমার সারা শরীর ভয়ে কেঁপে উঠে ।এই ঘটনাটি ঘটে নওগাঁ শহরের একটি রাস্তায় । তখন রাত প্রায় ২ টা বাজে । এই ঘটনাটির স্বীকার একজন সিএনজি চালক । তার নাম হাবিব । হাবিব তখন তার সিএনজি নিয়ে বাসায় ফিরছিল । সে হঠাৎ দেখলো দুইজন মধ্যবয়সী হুজুর ধরনের ব্যক্তি তাকে সিএনজি থামানোর জন্য অনুরোধ করছে । তা দেখে সে থামল এবং একজন হুজুর তার সাথে কথা বললো । হুজুরঃ ভাই আমরা খুব বিপদে পড়েছি । হাবিবঃ আপনাদের কি হয়েছে জানতে পারি ? হুজুরঃ সামনে আমাদের এক বন্ধু একটি লাশ নিয়ে দাড়িয়ে আছে । ওই লাশটাকে নিয়ে আমাদের সামনের গ্রামে যেতে হবে । তুমি কি আমাদের পৌঁছে দিতে পারবে? হাবিব কিছুক্ষণ ভাবলো ।তার মাঝে উনাদের জন্য দয়া হলো ।সে আবার কথা বললো । হাবিবঃ আমি আপনাদের পৌঁছে দিব । হুজুরঃ ধন্যবাদ তোমাকে । এটা বলে দুইজন সিএনজ়িতে উঠে পড়লো । কিছু দূরে যেতেই হাবিব দেখলো আরেকজন হুজুর লাশ নিয়ে দাড়িয়ে আছে ।লাশটি কাপড় দিয়ে প্যাচানো । হাবিব উনার সামনে এসে সিএনজ়ি থামালো ।এরপর দুই হুজুর নামলো এবং তিন হুজুর লাশটি নিয়ে উঠলো । তারপর তারা হাবিবকে সিএনজ়ি চালাতে বললো । আর একজন হুজুর ওর সাথে কথা বলতে থাকলো । হুজ়ুরঃ সামনের গ্রামে যেতে কতক্ষন লাগবে ? হাবিবঃ প্রায় ৪০ মিনিট । হুজুরঃ তুমি পেছনের দিকে চাইবে না । লাশের অবস্থা বেশি ভালো না । দেখলে ভয় পাবে । হাবিবঃ আচ্ছা হুজুর । তারপর হাবিব সিএনজি

রো প্রায় ঘন্টা খানেক পর রাজীবের জ্ঞান ফিরল। আমাদের দিকে রাজীব কেমন যেন বোকাবোকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল। আমরা পাত্তা না দিয়ে জিজ্ঞেস কলাম – তুই ওই ভোরে একা একা পুকুর পাড়ে কি করছিলি? আমাদের চাপাচাপিতে সে শেষ পর্যন্ত বলল আমরা যখন গল্প করছিলাম আগের দিন সন্ধায় সে নাকি কি সব শব্দ শুনতে পেয়েছিল। আমরা বললাম – আমরা তো শুনতে পাইনি। সে বলল – তোরা খেয়াল করিসনি। আমরা আর কথা বাড়ালাম না। কিছুক্ষন পর সবাই খেয়ে দেয়ে বসে ছিলাম তখন খবর এলো মামা আমাদের ডাকছেন। সবাই মিলে মামার ঘরে গেলাম। মামা আমাদের দেখে বলতে লাগলেন – তোমরা আর কোনোদিন ওই পুকুর পাড়ে যাবেনা, বিশেষত সন্ধ্যায়। আমরা বললাম- কেন মামা? মামা বললেন – অনেক অনেক দিন আগে এই গ্রামেরই এক মেয়ে ভর সন্ধ্যায় ওই গাছে ফাঁসি নিয়ে আত্নহত্যা করে। কারণটা জানা যায়নি। তার লাশটাকেও কেউ দাফন করতে রাজী হয়নি। শেষ পর্যন্ত তার পরিবার লোকেরা জানাজা ছাড়াই লাশটাকে ওই বরই গাছের নিচে কবর দেয়। এ ঘটনার পরে ওই মেয়ের পরিবারে লোকজনদের একঘরে করা হয়। তার পর থেকেই সে গাছের আশে পাশে প্রায়ই অদ্ভূত কিছু দেখা যায়। কে যেন ওখানে বসে কাঁদে, কাউকে দেখতে পেলে কাছে ডাকে। রাজীব বলে – এটা তো কোন কথা হয়ে পারে না, ভূত বলে কিছু নেই। মামা তর্ক না করে বলে – তাহলে বলতো, তুমি আজ ভোরে ওখানে কেন গিয়েছিলে আর কেনইবা কাঁদছিলে? রাজীব আর কিছু বলে না। মামার ঘর থেকে বেড়িয়ে আমরা আবার ধরলাম রাজীবকে – সত্যি করে বলতো তুই আসলে কি করতে গিয়াছিলি ওখানে? রাজিব বলে – সে ভোরে যায়নি আসলে, সে গিয়েছিলো মাঝরাতে। আমরা সবাই তখন ঘুমিয়ে

মার এক বন্ধু রনি হঠাৎ করে আমাদের অফার দিল ওর মামার বাড়িতে যেতে। শুনে আমরা পাঁচ বন্ধু হই হই করে উঠলাম। পরীক্ষা শেষ, কোন কাজ নেই। শুধু বসে বসে আড্ডা দিতে আর ভাল লাগছিল না। তাই প্লান করার কিছুদিনের মাঝেই বেড়িয়ে পরলাম। আমরা পাঁচজন ছিলাম রনি, সূমিত, আনিস, রাজীব আর আমি। গ্রামে গিয়ে চমক লাগলো আমাদের। গ্রামাটি আসলেই বেশ সুন্দর ছিল আর গ্রামের মানুষ গুলোও ছিল বেশ সহজ সরল। কিন্তু গ্রামটাতে এই বিজ্ঞানের যুগেউ ছিল কেমন যেন এক অদ্ভুত গোঁড়ামী আর অজ্ঞতা। থাক আর গ্রামের কথার দিকে না গিয়ে আসল কথায় আসি।এবার মূল গল্পটি শুরু করি। একদিন আমরা সবাই মিলে একটা ফাঁকা ধান ক্ষেতের পাশে বসে গল্প করছিলাম।গল্প করতে করতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেল কেউই টের পাইনি। গল্প করতে করতে হঠাৎ আমাদের চোখে পড়লো একটি বড়ই (কূল) গাছ আর তার পাশেই একটা পুকুর। পুকুর পাড়ে কি যেন একটা উঁচু ঢিবির মত কিছু একটা। হালকা কুয়াশা থাকায় ভালোভাবে কিছু বোঝা যাচ্ছিল না। সূমিত আবার কবর খুব ভয় পেত। তাই আমরা সেটা নিয়ে বেশ কিছুক্ষন মজা করলাম। এমনিতেও সন্ধ্যা হয়ে আসছিল তাই আমরা কথা বেশি না বাড়িয়ে সেখান থেকে চলে এলাম বাড়িতে। সারাদিন ঘুরেফিরে খুব ক্লান্ত ছিলাম সবাই। তাই রাত্রে খেয়ে শুয়ে পরলাম তাড়াতাড়িই। পরদিন খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখি সবাই ঘুমে কিন্তু রাজীব বিছানায় নেই। ভাবলাম হয়ত আরো আগেই উঠে গেছে। বিছনায় গড়াগড়ি করতে করতে হঠাৎ শুনি বাইরে কিসের যেন খুব চেঁচামেচি হচ্ছে। তাড়াতাড়ি বাইরে গিয়ে দেখি রাজীব শুয়ে আছে জ্ঞানহীন ভাবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম – রাজীবের কি হয়েছে! আমার বন্ধুর মামা বললেন তিনি যখন ভোরে নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে

ভুতংগম (পর্ব ০১)

হরিপ্রসাদের বাড়ি যাব, বলতে পারেন কোথায় ?” লোকটাকে প্রশ্ন করা বোধ হয় আমার উচিত হয়নি । আমার চেহারার দিকে অপলক দৃস্টি তার, মনে হচ্ছে চোখের মনি দপদপ করে জ্বলছে । যেন আমার ভাষা কোন ভিনগ্রহের এলিয়েনের ভাষা, বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে । আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম সেই একই প্রশ্ন “হরিপ্রসাদের বাড়ি যাব, রাস্তাটি কি এই দিকে? নাকি ঐদিকে?” আমি অংগুলি নির্দেশ করলাম ।শেষ ট্রেনটি স্টেশন থেকে ছেড়ে চলে গেল । এখন চারদিকে শুনশান নীরবতা । গাছের পাতা পরার শব্দ বেশ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে, চারদিক অন্ধকার অমাবস্যায় ঢেকে গেছে । বিদ্যুৎ নেই, কিছুক্ষণ আগেও দুজন গার্ড ছিল, এখন আর দেখা যাচ্ছে না, তারাও চলে গেছে কোথাও । উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম কিছুই বোঝা যাচ্ছে না । মনে কিছুটা ভয় ও সংশয় দেখা দিল, লোকটা কি তাহলে বোবা, নাকি কানে খাটো, নাকি পাগল । হবে হয়ত কোন একটা, না হলে কথার উত্তর দিচ্ছে না কেন, ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে । কিছুক্ষণ পর আমাকে প্রায় অবাক করে দিয়ে লোকটা উত্তর দিল, “হরিপ্রসাদ কে আপনার কি দরকার?” : আছে, দরকার না হলে কি এখানে আসা । তা আপনি কি ওনার কাছে একটু নিয়ে যেতে পারবেন ? :পারব বৈকি, অবশ্যই পারবো, অবশ্যই পারবো । এই বলে লোকটা দাড়িয়ে বলল ঐ যে দেখছেন পাকুড় গাছটা, ঐখানের সবচাইতে বড় ডালটায় উনি থাকেন । তবে আমি কিন্তু কাছে যেতে পারব না । লোকটার শরীর থেকে গাঁজার উৎকট গন্ধ আসছিল । নেশার ঘোরে আবোল তাবোল বকছে বোধ হয় । নিরর্থক দাড়িয়ে থাকার কোনো মানে হয় না । আমাকে ভুলে গেলে চলবে না আমি একজন সাংবাদিক । অদ্ভুত ফিচারের জন্যই

অসংজ্ঞায়িত আজও……

ে ঘটনার বর্ননা আমি করতে যাচ্ছি তা নিঃসন্দেহে একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আমি ছিলাম সেই অভিজ্ঞতা বর্ননার একজন প্রত্যক্ষ শ্রোতা। ঘটনাটি নিম্নরূপঃ তালুকদার বাবু ময়মনসিংহ শহরের একটি নামী কলেজের গনিতের শিক্ষক। এখন অবসরপ্রাপ্ত। নিঃসন্দেহে বাস্তববাদী, যুক্তিবাদী এবং কুসংস্কার মুক্ত। কিন্তু তার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ব্যাখ্যা তিনি আজও খুঁজে বেড়ান। কোনো প্রকার যুক্তি দিয়ে তিনি এর সংজ্ঞা দিতে পারেন না। তাই হয়তো পাড়া-পড়শি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবার সাথে ঘটনাটা শেয়ার করেন। ঘটনা টা স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে-আগে। তালুকদার বাবুর ছোটো বোনের বিয়ে হয়েছে ময়মনসিংহ জেলা অন্তর্ভূক্ত এক গ্রামে। বোনের জামাই মাছের ব্যবসায়ী। নাম ছিল অরুন। বিশেষত, সাপ্তাহিক মঙ্গল বার রাতে ময়মনসিংহ শহরে যে হাট বসত তাতেই তিনিগ্রাম থেকে মাছ নিয়ে আসতেন আর সেইদিনই তার সর্বাধিক বিক্রি হত। আর তালুকদার বাবু ছিলেন তার সাপ্তাহিক বাঁধা খরিদ্দার।ঘনিষ্ট ছিলেন, টাকা পয়সা ঠিকমত দিতেন কি না তা আমি বলতে পারব না। তা যাই হোক- এমনই এক মঙ্গলবার তালুকদার বাবু গেলেন সেই হাঁটে। রাত্রি বেলা, সবাই ছোটো ছোটো কুপি জালিয়ে নিজ-নিজ পন্যের পসরা নিয়ে বসে গেছে। তালুকদার বাবু হাঁটে গেলে সবার আগে স্বভাবতই বোন জামাইয়ের কাছেই যেতেন। কিন্তু, এবার হাঁটে গিয়ে হন্যি হয়েও বোন জামাই কে খুঁজে পেলেন না। -“ব্যাপার কি? অরুন তো কোনো সমস্যায় না পড়লে হাঁট বাঁধা দেয় না! কোনো সমস্যা হয়েছে বোধয়” চিন্তিত হয়ে গেলেন তালুকদার বাবু। চিন্তা করতে করতে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। আরো ভাবতে লাগলেন, -” একবার ওদের বাসায় যাওয়া দরকার। কিন্তু, এই রাতে কিভাবে যাই, ঠিক আছে, কাল ভোরে না হয় রওনা হয়ে যাবো” হঠাৎ তালুকদার বাবু রাস্তার পাড় থেকে একটা ডাক শুনতে পেলেন। -“ও দাদাবাবু! ” তখন তালুকদার বাবু

গোলকধাঁধা

ুত জানি না কি? তবে পৃথিবীতে এমন কিছু জিনিস আছে যা আসলেই অলৌকিক । আমার জীবনে এমনই একটা রহস্য আছে যা আজ পর্যন্ত আমার কাছে অজানাই রয়ে গেছে । আজকে আপনাদের সেই ঘটনাটাই শোনাবো ।আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন আমার মামার বাড়ি গেলাম । আমার মামাদের গরুর বাতান (চারনভূমি) আছে ।ওই জায়গাটা গ্রাম থেকে বেশ খানিকটা দূ্রে ।হেটে যেতে প্রায় ৫০ মিনিট সময় লাগে । বাসা থেকে কিছু দূর গেলেই শুধু মাঠ আর মাঠ চোখে পড়ে কোনো বাড়িঘর দেখা যায় না ।একদিন আমি আর আমার মামাতো ভাই মিশুক দুজন মিলে মামাদের বাতানে গেলাম ।ওখানকার পরিবেশ দেখে ওখানেই সারাদিন থেকে গেলাম ।বিকালে পাশের নদীতে নৌকাতে ঘুরলাম ।প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসলো ।মিশুক আমাকে নিয়ে একা যাওয়ার সাহস পেল না । সে আমাদের এগিয়ে দেওয়ার জন্য ওদের রাখালকে বললো ।আমি বললাম কেন ? ও শুধু বললো কিছু না । আমি আর কিছু জিজ্ঞাস করলাম না ।এরপর আমরা তিনজন বাড়ির দিকে রওনা হলাম । প্রায় কুড়ি মিনিট পর আমরা একটা চৌরাস্তার মোড়ে এসে পৌছুলাম । চৌরাস্তার মোড়ে এসে যে রাস্তাটা সোজা চলে যায় সেটা আমার মামার বাড়ির দিকে গেছে ।তাই আমরা সোজা রাস্তা বরাবর হাটতে শুরু করলাম । কিন্তু, বেশ কিছুক্ষন হাটার পর আমাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো যখন দেখলাম আমাদের সামনে আবার ওই চৌরাস্তার মোড়ই । আমার গলা শুকিয়ে আসলো । আমি মিশুকের মুখের দিকে তাকালাম, ওর মুখেও স্পষ্ট আতংকের ছাপ দেখতে পেলাম । তারপর দুজনেই রাখাল মামার দিকে চাইলাম । উনি দেখলাম আবার সোজা হাঁটা শুরু করলেন ।আমরাও তার পেছনে হাটতে থাকলাম । আবার কিছুক্ষন হাটার পর আবার ঐ একই অবস্থা।