ভূতের বাড়ি

witch-blue-magic-jungle

ডাকিণী ৪৫তম পর্ব

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) আমি মারগারেটের প্রবেশ ঠেকাতে নিজেকেই শেষ করে দিতে বসেছিলাম। কিন্তু কাঁচটা গলার চামড়া কেটে যখনই শ্বাসনালীর উপর চাপ দিতে শুরু করেছিলো তখনই আংটিপরা ডান হাতটা সক্রিয় হয়ে উঠে। ওটা হঠাৎ করেই আমার কাঁচ ধরা বাম হাতে প্রচন্ড জোরে একটা থাবা বসিয়ে দিলো। আমি কখনোই এর জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না। হাত থেকে কাঁচের টুকরাটা ফসকে গিয়ে দুরে ছিটকে পড়লো। সেই সাথে উৎকট হাসিটাও পাল্লা দিয়ে চলল। আমার শরীরে ইতিমধ্যেই কাঁপুনি ধরে গেছে। কাঁপুনির সাথে সাথে মুখে ফেনা জমেছে। আর কোন পথ নেই। অবশেষে আমি মারগারেটের কাছে হেরে গিয়েছি। আমার ক্রোধই আমায় হারিয়ে দিয়েছে। আর কিছুই করার নেই দেখে চোখ বন্ধ করে নিঃশব্দে ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করলাম। চিরনিদ্রার অপেক্ষায়। কিন্তু তখনি বিষ্ময়কর ভাবে আমার মস্তিষ্ক ঘুরে দাঁড়ালো। দুমাস আগের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। আমার রজঃস্রাব নিয়মিত ঘটানোর জন্যে আমি একবার কেমিস্টের দোকান থেকে এনাফাইলো-টক্সিন কিনেছিলাম। দোকানি জোর করে এক ডোজ আন্টি-হিস্টামিন ও সাথে দিয়েছিলো। পোল্যান্ডের আইন অনুযায়ী কেউ যদি কেমিস্টের দোকান থেকে কোন টক্সিন কেনে থাকে তবে তাকে অবশ্যই সেই টক্সিনের একটা নির্দিষ্ট পরিমান আন্টিডট কিনতেই হবে। অনাকাঙ্খিত বীষক্রিয়া প্রতিরোধেই এই আইন করা হয়। আদিন যদি বৈধ কোন কেমিস্টের দোকান থেকে সায়ানাইড ট্যাবলেটটা কিনে থাকে তবে ওর সাথে অবশ্যই এক ডোজ আন্টিডট ও কিনেছে। আন্টিডটটাও খুব সম্ভব ওর পকেটেই আছে। দ্রুত ওর পকেট হাতড়াতে লাগলাম। প্রথম পকেটে শুধুই মানিব্যাগ। পরের পকেটে আরেকটি সায়ানাইড ট্যাবলেট। তৃতীয় পকেটেই সেই কাঙ্খিত আন্টিডট, সোডিয়াম থায়োসালফেট আমাইনো নাইট্রেটের একটা ভায়াল ও দুটো সিরিঞ্জ। ভায়াল থেকে আন্টিডট সিরিঞ্জটায় ভরতে লাগলাম। অক্সিজেনের

ডাকিণী ৪৪তম পর্ব

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) হঠাৎ ঝনঝনিয়ে ভারী ঝাড়বাতিটা আদিনের মাথায় ভেঙে পড়লো। আমি এর জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। কিন্তু পরক্ষণেই স্তম্ভিত ফিরে পেয়ে ওর কাছে দৌড়ে গেলাম। “আদিন! আদিন তুমি ঠিক আছো? ” কিন্তু বলা বাহুল্য ও ঠিক ছিলো না। ঝাড়বাতির কাঁচটা ভেঙে ওর পুরো মাথায় গিথেঁ আছে, একটা চোখ বেরিয়ে এসেছে, পুর মুখ রক্তে লাল হয়ে গেছে। কি ভয়ানক দৃশ্য। রাগটা আমার মধ্যে আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করলো! রাগে চিৎকার করে উঠলাম, “মারগারেট, তোকে আমি নরকে পাঠাবো বীচ।” পরক্ষণেই আবার সেই খিলখিল হাসি। মাথায় যেন আগুন ধরে গেছে। আমার রাগটা বাড়াতেই যেন হাসিটা আরো উচ্চতর হলো। রাগের যাই মুখে আসলো তাই বলে আমি মারগারেটকে গালি দিতে লাগলাম। ডান হাতটা সেই সুযোগে নিজের মতো করে কাজ করা শুরু করে দিয়েছে।ওটা আদিনের হাত থেকে পড়ে যাওয়া সায়ানাইড ট্যাবলেটটা কুড়িয়ে নিলো। তারপর আমি আবার চিৎকার করার জন্যে মুখ খুলতেই হাতটা এক ঝটকায় ট্যাবলেটটা মুখে পুরে দিলো। বিষ্ময়ের প্রথম ধাক্কা সামলাতে প্রায় সব মানুষই ঢোক গিলে নিজেকে প্রস্তুত করে নেয়। আমিও তাই করলাম। কিন্তু আত্মঘাতী ভুল হয়ে গেলো। ঢোক গিলতে যেয়ে ট্যাবলেটটাকেও পেটে চালান করে দিলাম। ঘটনার আকর্ষিকতায় আমি সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে গেলাম। আবারো মারগারেট আমার ক্রোধকে ব্যবহার করলো। আমি দ্রুত রাগকে নিয়ন্ত্রণে আনলাম। কিন্তু ততক্ষণে সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমি সায়ানাইড ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিশ্চিত মৃত্যু। তারপরেই মারগারেট দেহটা দখল করে নিবে। প্রচন্ড কান্না আসছিলো আমার। না পারলাম আদিনকে বাঁচাতে না পারলাম নিজেকে। হতাশায় মুষড়ে পড়ার মতো অবস্থা। এইটুকু সময়ের মধ্যেই হাত

priest-ghost-women-praying

ডাকিণী ৪৩তম পর্ব

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) আমি: “হ্যালো আদিন। তুমি কি এখন আমার কটেজে আসতে পারবা?” আদিন: “তোমার যদি কোন আপত্তি না থাকে তো এক্ষুনি রওনা দিচ্ছি। ” আমি: “ঠিক আছে। তুমি চলে আসো তাড়াতাড়ি। আমি অপেক্ষায় আছি।” আধাঘন্টার মধ্যেই ওর ফোর্ডটা চলে এলো। কিন্তু এবার আর ও গাড়িটা সোজা গ্যারেজে রেখে এলো। কুয়োর পাশ দিয়ে গাড়ি চালানোর মতো দুঃস্বাহস দেখালো না। তবে আমরা কুয়োর পাশ দিয়ে হেটেই কটেজে ঢুকলাম। ও একটা বিশাল লাগেজ বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। ভেতরে কি আছে তা দেখার জন্যে আমি প্রচন্ড কৌতুহল অনুভব করলাম। ও কটেজের সদর দরজার সামনে দাড়িয়ে ল্যাগেজটা খুললো। ল্যাগেজটা যত্তসব উৎকট রিচুয়াল জিনিসপত্রে ঠাসা। ল্যাগেজটা থেকে ও একটা পুরাতন চামড়ার বই, কতগুলি ছোট মাটির ঘটি, এক প্যাকেট মোমবাতি বের করলো। সদর দরজা খুলাই ছিলো। ও দরজা গলে ভেতরে ঢুকে পড়লো। আমিও ঢুকছিলাম পেছন পেছন। কিন্তু ও আমায় মানা করে দিলো। “সাঞ্জে। আমি একটু সময় তোমার কটেজে একা থাকপ্তে চাই। যদি তুমি কিছু মনে না করো। ” আমি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললাম “ঠিক আছে।” কিন্তু মনটা খচখচ করতে লাগলো। বুঝতে পারছি না আমার অনুপস্থিতিতে ও ঠিক কি করতে চাইছে আমার কটেজে। আমি বাহিরে একা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। অপেক্ষার প্রহর সত্যিই খুব বিরক্তিকর। হঠাৎ মনে হতে লাগলো আদিনকে আমার কটেজে এভাবে একা ঢুকতে দেওয়া উচিৎ হয় নি। মাত্র কদিন হলো আমি ওকে চিনি। ওর সম্পর্কে আমার তেমন ভালো ধারনাও নেই। মাস কয়েক আগেও ও একজন ভবঘুরে ছিলো। নানান উল্টোপাল্টা কাজে ওর জুড়ি মেলা ভার। আমার কটেজে ও যেকোন সময় লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে দিতে পারে। এসব

ডাকিণী ৪২তম পর্ব

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) মনে হচ্ছিলো যেন আমার হাতের নিজস্ব একটা প্রাণ আছে। ওটা নিজে থেকেই কাজ কছে। কপাল গুনে আদিন যথা সময় হাতটা খপ করে ধরে ফেললো নইলে একদম রক্তারক্তি কাণ্ড হয়ে যেতো। ও আমার হাতটা ধরে খুটিয়ে খুটিয়ে পরীক্ষা করতে লাগলো। তারপর হাতটা এক ঝটকায় ছেড়ে দিয়ে সবিষ্ময়ে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাস করলো, “সাঞ্জে, হু আর ইউ? ” আমি ওর আর কথা বাড়ানোর সুযোগ না দিয়ে বললাম, ” আমি অত্যন্ত দুঃখিত আদিন। আমার কটেজ খালি হওয়া মাত্র আমি তোমায় আসতে বলবো। শুধু মেহমানটা কে বিদেয় হতে দাও।” ওর মুখে একটা তৃপ্তির হাসি ফুটলো। ও বলল, “এইতো ভালো মেয়ের মতো কথা বলছো।” আমি: “আচ্ছা আদিন, এবার তবে উঠি। আমার অনেক কাজ পড়ে আছে। তুমি কিছু মনে করো না। কেমন? ” আদিন আমার দিকে তাকিয়ে একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল, “এখনই উঠবে? তুমি তো কিছুই খেলে না। এতো তাড়া কিসের শুনি? ” “দুঃখিত, কাজ আছে।” একথা বলেই আমি ঘুরে হাটতে শুরু করলাম। আদিনের দিকে ফিরেও তাকালাম না। রেস্টুরেন্ট থেকে বেরুতেই মনে পড়লো মনিকাকে কটেজে একা রেখে এসেছি। যতবারই ওকে একা ফেলে এসেছি ততবারই ও একটা না একটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে দ্রুত পা চালালাম। কটেজে ঢুকে প্রধান ফটকের সামনে থমকে দাঁড়ালাম। সামনেই সেই অভিশপ্ত কুয়ো। একটা লম্বা শ্বাস নিলাম। তারপর এক দৌড়ে কুয়োটাকে পাশ কাটিয়ে যেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। তারপর স্বাভাবিক ভাবেই হেটে গেলাম কটেজের সদর দরজা পর্যন্ত। দরজায় বেল টিপতেই মনিকা উদভ্রান্তের মতো দরজা খুলে বেরিয়ে এসেই আমায় জড়িয়ে ধরলো। ওর উষ্ম আলিঙ্গনে অনুভব করলাম

ডাকিণী ৪১তম পর্ব

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) প্রাণপণে কুয়োর কিনারা আকড়ে ধরে ঝুলে রইলাম। ঠিক নিচেই আমার জন্যে মারগারেট অপেক্ষা করছে। কোন ক্রমে যদি হাত ফসকে ভেতরে পড়ে যাই তো নিশ্চিত মৃত্যু। দু হাতের উপর ভর করে দেহকে উপরে টেনে তুলার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎ আকড়ে থাকা হাতের আঙুলের উপর প্রচন্ড চাপ অনুভব করলাম। মনে হলো কে যেনো পা দিয়ে মাড়িয়ে দিচ্ছে। আমি দাঁতে দাঁত চিপে ব্যাথাটা সহ্য করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু চাপের ফলে আঙুলগুলি অসার হয়ে আসতে লাগলো। বুঝলাম মারগারেট আমায় নিচে ফেলে দেবার চেষ্টা করছে। ঠিক টখনই ওর বই থেকে মুখস্থ করা অশুভ আত্মা তাড়ানোর মন্ত্রটা মনে পড়ে গেলো। বার কয়েক আওড়াতেই হাতের উপর জেকে বসা প্রচন্ড চাপটা সরে গেলো। এই সুযোগে আমি হাচড়ে পাচড়ে উঠে এলাম মৃত্যুর কিনারা থেকে। তারপর আর এক মুহুর্তও দাঁড়ালাম না ওখানে। সোজা হেটে প্রধান ফটক ধরে বেরিয়ে গেলাম। আমি এই মনস্তাত্ত্বিক খেলায় বারবার হেরে যাচ্ছি। মারগারেট বরাবর ই আমার ক্রোধের সুযোগ নিয়ে আমাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রচন্ড হতাশাজনক লাগছে ব্যাপারটা। কিন্তু ওই কটেজ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরে মনটা অনেকটাই ভালো হয়ে গেলো। মুক্ত বাতাসে রাস্তা ধরে হাঠতে হাঠতে এক সময় পৌছে গেলাম কাঙ্খিত ফাস্টফুড দোকানে। ভেতরে ঢুকে দেখি আদিন এক কোনের টেবিল বুক করে বসে আছে আমার অপেক্ষায়। হাসি মুখে এগিয়ে যেয়ে বললাম, “দুঃখিত। আমি অনেকি দেরী করে ফেলেছি।” আদিনকে এতে মোটেও সন্তুষ্ট মনে হলো না। ও কোন ভুমিকা না করেই বলল, “সাঞ্জে, এবার সব কিছু খুলে বলো তো। ঠিক কি হচ্ছে ওখানে।” আমি ওকে প্রথম থেকে শুরু করে সবকিছু একে একে বললাম। লাইব্রেরীতে

ডাকিণী ৪০তম পর্ব

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) লাইব্রেরীর হাসিটা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠলো। আমি কি মারগারেটকে কোন জোকস বলেছি না কি? এখানে এতো হাসার কি হলো? আমি ঝুকে বসে বইটা পড়ছিলাম। হঠাৎ বইটার পাতায় এক ফোটা তাজা রক্ত আবিষ্কার করলাম! ব্যাপার কি! বইয়ে রক্ত এলো কোত্থেকে! অনুভব করলাম নাকের পাশ দিয়ে যেনো একটা পিঁপড়া হেটে যাচ্ছে। নাকে হাত দিতেই কেমন ভেজা ভেজা লাগলো। হাতটা সরিয়ে চোখের সামনে ধরতেই হাতে রক্তের ছোপ লেগে থাকতে দেখলাম। আরে! আমার নাক দিয়ে রক্তের ধারা বইতে শুরু করেছে! হঠাৎ খুব অসুস্থবোধ হলো! মনে হলো চারপাশেসবকিছুই যেনো দুলছে! তারপরেই গলা থেকে একদলা রক্ত, বমি হয়ে বেরিয়ে আসলো। বুঝতে পারছিলাম লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। ভেবেছিলাম ডেস্ক থেকে উঠে হেটে বেরিয়ে যাবো। কিন্তু নিজের পায়ের উপর দাঁড়াতেই মাথা ঘোরে মেঝেতে পড়ে গেলাম! বুঝলাম একই পদ্ধতিতে ও খানিক আগে মনিকাকেও কাবু করেছিলো। এখন আমার পালা। হামাগুড়ি দিয়ে দরজার দিকে এগুতে লাগলাম। কিন্তু মনে হচ্ছে কেউ যেনো আমার শরীরের উপর কয়েক মন ওজনের পাথর চাঁপা দিয়েছে! আমার শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। কিছুতেই লাইব্রেরীর দরজার ধারে কাছেও যেতে পারছি না। হামাগুড়ি দিয়ে দু এক ফুট এগুতেই জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফিরলে নিজেকে ড্রয়িংরুমে কাউচের উপর শুয়ানো অবস্থায় আবিষ্কার করলাম। কি আশ্চর্য! আমায় এখানে কে আনলো! আমি তো লাইব্রেরীতে পড়ে ছিলাম। খুব সম্ভবত মনিকা। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে পড়া আংটিটার দিকে নজর গেলো। এর জন্যেই যতো সমস্যা। ইচ্ছা করলো ওটা খুলে ফেলে দেই। কিন্তু এই আংটি খুলে ফেললেই কি আমি মারগারেটের হাত থেকে মুক্তি পাবো? কই? মনিকা তো আংটি পড়েনি! তাই বলে

ডাকিণী ৩৯তম পর্ব

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) আলেসের অশরীরীর যেমন সর্বউচ্চ প্রভাবযুক্ত স্থান ছিলো বেসমেন্টের বন্দিশালা, তেমনি মারগারেটের অশরীরীর উচ্চ প্রভাবযুক্ত স্থান হলো কুয়োর ভেতর আর তার চারপাশে। শুক্রবার সকালে আমি আর মনিকা অফিসে যাওয়ার পথে কুয়োর কাছাকাছি হতেই মারগারেট মনিকার উপর বান মারে। ও হয়তো চাইছিলো মনিকাকে চিরতরে শেষ করে দিতে। কিন্তু আমি মনিকাকে নিয়ে ওর প্রভাবযুক্ত অঞ্চল থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসায় ও সেদিন বেঁচে যায়। তবে ওর সামান্য রক্তবমি হয়। এ ঘটনার পর মারগারেট আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। ও মনিকার উপস্থিতিতেই আমাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার অফিস থেকে ফিরে আবার যখন বিদ্যুতের কার্ড আনতে যাচ্ছিলাম, মার্গারেট তার প্রথম পদক্ষেপ উঠায়। ও গাড়িটাকে কুয়োয় ফেলে আমাকে ডুবিয়ে মারতে চেয়েছিলো। বুদ্ধিটা ভালই ছিলো। সীটবেল্ট বাধা থাকায় কুয়োর দেয়ালে গাড়ির ধাক্কায় আমার আভ্যন্তরীণ আঘাতের সম্ভাবনা সর্বনিম্ন ছিলো। আর ডুবে মরলে আমার আভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অক্ষতই থাকতো। তারপর সকালে যে যাদুর সাহায্যে ও মনিকাকে বমি করিয়েছিলো সেই একই পদ্ধতিতে আমায় বমি করিয়ে নিলেই দেহটা ওর ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠতো। কিন্তু আমি পড়ন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে লাফিয়ে বেরিয়ে আসলে ওর এত সুন্দর পরিকল্পনাটা ভেস্তে যায়। তারপর আমি টাবে গোসল করতে ঢুকলে ও আবারো আমাকে খুন করার চেষ্টা করে। ও প্রথমে আয়না ভাঙ্গার শব্দ শুনিয়ে আমার মনযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেয়। তারপর টাবে ফেলে খুন করতে সচেষ্ট হয়। কিন্তু আমি উপস্থিত বুদ্ধি আর দৈহিক শক্তি বলে ট্যাব ফাটিয়ে সেখান থেকে জান্ত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই। কটেজের ভেতর খুব একটা সুবিধা করতে না পেরে মারগারেট আমায় ওর সর্বউচ্চ প্রভাব যুক্ত অঞ্চল তথা কুয়োয় নিয়ে চুবিয়ে মারতে

ডাকিণী ৩৮তম পর্ব

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) আংটির বাধন থেকে মুক্ত হয়ে অন্য মেয়েগুলির আত্মা যখন পরপারে পাড়ি দেয় তখন মারগারেট সবার পেছনে পড়ে থাকে। উদ্দেশ্য একটাই। পুনরায় জীবন্ত জগতে ফিরে আসা। তবে ও প্রিস্টের মতো পুনরুত্থানের জন্য নিজ দেহকে মমি করে রাখে নি। রাখার সুযোগটাও ছিলো। ওর দেহটা তার অজান্তেই কুয়োর নীচে পচে গিয়েছিলো। কুয়োর সেই পঁচা দুর্গন্ধের কথা মনে পড়তেই গা গুলিয়ে উঠলো। নিজের দেহে ফেরার সুযোগটা হারিয়েও ভেঙ্গে পড়েনি। জীবদ্দশায় ও একজন উচ্চমানের ডাইনী ছিলো। মরে গিয়েও ওর সে ক্ষমতা বিন্দুমাত্র কমেনি। ও সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্য কারো দেহে ফিরে আসতে চাইছিলো। আমার দেহে। ওর আংটিটা পড়ে থাকার কারণে ও আমার পিছু পিছু চলতে থাকে, একটা অদৃশ্য ছায়ার মতো। বইটাতে আংটির সাহায্যে আটকে পড়া আত্মার পুনরুত্থানের জন্য কতগুলি শর্ত দেওয়া আছে। মারগারেট শুরু থেকেই এসব শর্ত মেনে আসছিলো। প্রথম শর্ত হলো একটা মৃতদেহ যাতে কোন বাহ্যিক বা আভ্যন্তরিণ ক্ষত থাকবে না। ২য় শর্ত, যে আংটি পরিহিত অবস্থায় আত্মাটা মারা গিয়েছিলো সেই আংটিটা মৃতদেহের হাতে পরানো থাকবে। এতোক্ষণ আমি শুধু মারগারেটের পরিচয় জানতে পেরেছিলাম। কিন্তু ওর উদ্ভট আচরণের কারণ আমার কাছে অজানাই থেকে গিয়েছিলো। কিন্তু এই শর্ত দুটো ওর আচরণের রহস্য আমার কাছে উন্মুক্ত করে দিলো। ঊভয় শর্তানুযায়ী আমিই হলাম ওর উপযুক্ত টার্গেট। আমার একটা নিরোগ দেহ আছে, একই সাথে আংটিটাও মধ্যমায় পরানো রয়েছে। তাই ও আমাকেই বাছাই করেছিলো। ও আমার দেহে ফিরে আসতে চাইছে। সেই কবরস্থান থেকেই মারগারেট আমাকে অনুসরণ করছিলো। প্রথম দিকে ও আমায় সাহায্য করেছিলো কেবল প্রথম শর্ত পুরণের জন্যেই। সেদিন গির্জা থেকে ফিরার পথে

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) আমি সম্ভবত জেনে ফেলেছি কিভাবে ওকে কিভাবে হত্যা করা হয়। আমি গতরাতে আমার বেডরুমের ঝাড়বাতিটার সাথে ওকে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলতে দেখেছি। বেসমেন্টে সেরাতে আলেস আমাকে স্বপ্নে পুরো ব্যাপারটা দেখিয়েছিলো। আমার বেডরুমের ঠিক মাঝখানে আজকের ঝাড়বাতিটার স্থলে সেদিন একটা লোহার আংটা টানানো ছিলো। ছাদে ফাঁসিতে ঝুলানোর পর কুয়ো আর লাইব্রেরীতে শুদ্ধিকরণ শেষে আলেসের দেহটা সেই আংটা উল্টো খানিকক্ষণ ঝুলিয়ে রাখা হয়। কিন্তু মারগারেটের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। আলেসের মতো ম্যারগারেটের বিচার জনসম্মুখে করা হয়নি। খুব সম্ভবত মারগারেট গীর্জার একজন সেবিকা ছিলো। গীর্জার সেবিকাকে যদি জনসম্মুখে ডাকিনীবিদ্যা চর্চার জন্যে জনসম্মুখে বিচার করা হতো তবে তা গির্জার মান সম্মানকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতো। তাই বিচারের বদলে প্রিস্ট ওকে চার দেয়ালের ভেতরে সেই আংটার সাথেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়। কিন্তু বুদ্ধিমতী মারগারেট ব্যাপারটা অনুমান করতে পেরে তার আগেই কপালে আংটির ছ্যাকা দিয়ে রাখে। ওর বিশ্বাস ছিলো আটকে থাকা আত্মাটাকে হয়তো কোন একদিন অন্য কারো দেহে ঢুকাতে পারবে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। ওর প্রিস্ট ওর আংটিটা ছিনিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয় নি, সে ওটাকে তার পারলৌকিক যৌনদাসী সংগ্রহের হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার শুরু করে। আর ওর লাশটা কুয়োতে ফেলে দেয়। তাইতো বদ্ধ কুয়োর জলের উপর ওর এত নিয়ন্ত্রণ। প্রিস্ট প্রথমে অসহায় মেয়েগুলির জীবদ্দশায় কপালে সেই আংটি দিয়ে ছ্যাকা দিতো। তারপর তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মেরে ফেলতো। অবশেষে কতগুলি বশীকরণ মন্ত্র পড়তে পড়তে তাদের মৃতদেহের সাথে মিলিত হতো। এভাবেই সে সারাটি জীবন ধরে অশরীরী যৌনদাসী সংগ্রহ করে গেছে। বার্ধক্যে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে এসে প্রিস্ট নিজ দেহটাকে মমি করে রাখার জন্যে তার অনুসারীদের অসিয়ত করে যায়। কারণ

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) প্রথম অধ্যায় নরবলিদান ও আত্মহনন এ ঈশ্বরের জন্যে আত্ম উৎসর্গ, ও বলিদান প্রথার বিশদ বর্ণনা দেওয়া আছে। অধ্যায়ের এক জায়গায় নিজ শিশু বলিদানকে সবচেয়ে মহিমান্বিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘৃণায় মুখ বাঁকালাম। এই নরবলি প্রায় সব ধর্মেই রয়েছে। মায়া সভ্যতায় সনাতন ধর্মে সূর্যগ্রহণের দিন সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নরবলি দেওয়া হতো। প্রাচীন রেড ইন্ডিয়ানরা আমেরিকায় বহিরাগত নাবিকদের বলি দিয়ে তাদের মাংস খেত এই ঈশ্বরের সন্তুষ্টির জন্যেই। এখনো আধুনিক ভারতে প্রায় প্রতি বছরই কতিপয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী তাদের কন্যা সন্তানকে ঈশ্বরের নামে বলিদান করেন আরেকটা পুত্র সন্তানের আশায়। খৃষ্ট ধর্মের কথা আর নাই বললাম। খৃষ্ট ধর্মের জন্মই হয়েছে ক্রুশে ঝুলিয়ে বলিদানের মাধ্যমে। তাই এ ধর্মের বলিদানের কথা কখনোই বলে শেষ করা যাবে না। প্রাচীন রোমে বড়দিনে যীশুর ক্রুশ বিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে মহিমান্বিত করতে হাজার হাজার হাবশী দাসকে ক্রুশে ঝুলিয়ে বলি দেওয়া হতো। উপলব্ধি করলাম ঈশ্বরের এই একনিষ্ঠ পূজারীরাই ঈশ্বরকে নরখাদক ও শিশুঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর চেয়ে তো নাস্তিকতাই ভালো। নাস্তিকরা ঈশ্বরকে বিশ্বাসই করে না তাই তাদের দ্বারা ঈশ্বরের অপমানিত হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। তাদের মতে যার অস্তিত্বই নেই তাকে কিভাবে অপমান করবে? ঈশ্বরের অপমান করে অতি ধার্মিকেরাই, নানাবিধ উৎকট ধর্মীয় আচার ব্যবস্থার মাধ্যমে। দ্বিতীয় অধ্যায় আত্মাবাদ আত্মাবশীকরণ এ পৃথিবীর প্রাণী, মানুষ গাছপালার আত্মার একটা জামিতিক হিসাব দেওয়া আছে। এখানে বলা হয়েছে যদি জীব জন্তু ও মানুষের মোট জীবন্ত আত্মার পরিমান, গাছপালার মোট জীবন্ত আত্মার পরিমানের চেয়ে বেশী হয়ে যায় তবে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এই উক্তিটি অত্যন্ত বিজ্ঞানভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্য মনে হলো। যদিও আত্মিক দিক