ভূত, প্রেত, অশরীরী, আত্মা, নিয়ে কিছু কথা

4

ভূত, ইংরেজীতে Ghost, যার উৎপত্তি পুরাতন জার্মান ভাষায় gaistaz শব্দ থেকে। এর অর্থ রাগ,ভয়।

সুদুর অতীত থেকে ঈশ্বরের প্রতিপক্ষ হিসেবে জ্বীন-ভুত-শয়তান পরিচিত। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে লোকগল্প সবকিছুতেই ভুত শব্দটা একটা ভয়ের শিহরণ জাগানো আমেজ নিয়ে আসে।

এই উপমহাদেশে ভুত বলতে অতৃপ্ত আত্মাকে বুঝি। কোন কারনে কোন ব্যাক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে সে ভুত হয়ে যায়,এই আমাদের বিশ্বাস।

বিভিন্নক্ষেত্রে ভুতের বিশ্বাসগুলি –

মেসোপটমিয়া– মৃত্যুর পর মানুষের স্মৃতি আর ব্যাক্তিত্ব যখন দেবতার কাছে চলে যায়,তখন সে ভুত হয়ে যায়। তাদের খাদ্য-পানীয় দিয়ে খুশী করতে হত,নয়তবা জাতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে।

মিশর– প্রাচীন মিশরীয়রা একেবারে মৃত্যুকে মানত না। প্রথমবার মৃত্যুকে তারা আফটার লাইফ বলত। পূনর্বার মৃত্যু যদি তারা কামনা করে তবেই সম্পূর্ন মৃত্যু হত। আফটার লাইফে মৃতের আত্মাকে ভুতের সাথে কল্পনা করা যায়। ফারাও Akhenaten পূর্ণমৃত্যু কামনা করে নাই,তাই সে ভুত। আধুনিক মিশরিয়রাও তার ভুতের দেখা পেয়েছে বলে দাবী করে।

গ্রীস– হোমারের অডেসি আর ইলিয়ডে ভুতকে বাষ্পের মত মিলিয়ে যাওয়া অপার্থিব বস্তু হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।
মেডিভেল ইংল্যান্ড– মধ্যযুগে ইংল্যান্ডে এই ভুত আর ভুতের আছর নিয়ে অনেক রোমহর্ষক হত্যাকান্ডের ঘটনা রয়েছে। ডাইনী হত্যা নামক আনুষ্ঠানিক ভাবে অসংখ্যক নারী-পুরুষকে হত্যার প্রমান পাওয়া যায়।

আমরা এইবার ভারতীয় উপমহাদেশের ভুত নিয়ে কথা বলি

ভুত-প্রেত এক স্বতন্ত্র জাতি বিশেষ। বলা হয় যে মরার পর মানুষ তার কর্মফল অনুযায়ী ভুত বা অশরীরী আত্মা হয়ে দেখা দেয়। এদের নিজেদের কোন চেহারা থাকেনা আর তাই যেকোন আকারে দেখা দিতে পারে। এমনিতে চোখে দেখা না গেলেও ভুতেরা যেকোন জায়গায় দেখা দিতে পারে আবার অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। প্রচলিত বিশ্বাস হল যে ভুত-পেত্নীরা সবাই বাস করে ভাঙ্গা বাড়িতে, স্মশান-গোরস্থান,পুরাতন পুকুর , নিঝুম জায়গায়, বট-তেতুল-শ্যাওড়া গাছে । আমাদের মধ্যে এই বিশ্বাসও প্রচলন যে,স্মশানে না পূড়লে বা জানাজা না করা হলে মৃত ভুত হয়ে বিচরণ করে।আমাদের দেশে আমাবশ্যার রাতে ভুতদের ঈদের দিন মনে করা হয়।এর জন্যই আমাবশ্যা নিয়ে এত ভয় আমাদের মনে।

ভূত-পেত্নী পরিচিতি [লোকগাঁথা, লোকজ বিশ্বাস অনুযায়ী]

2

ভূত হলো অশরীরি পুরুষ আত্মা, আর পেত্নী অশরীরি মেয়ে আত্মা। অপঘাত, আত্মহত্যা প্রভৃতি কারণে মৃত্যুর পর মানুষের অতৃপ্ত আত্মা ভূত-পেত্নী হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করতে পারে।

শাকচুন্নি:

এটি একটি পেত্নী। অল্পবয়সী, বিবাহিত মেয়ে অপঘাতে মারা গেলে শাকচুন্নিতে পরিণত হতে পারে। শুভ্র কাপড় পরিহিত শাকচুন্নি মূলত জলাভূমির ধারে গাছে বাস করে এবং সুন্দর তরুণ দেখলে তাকে আকৃষ্ট করে ফাঁদে ফেলে। কখনো কখনো সে তরুণকে জলাভূমি থেকে মাছ ধরে দিতে বলে। কিন্তু সাবধান, শাকচুন্নিকে মাছ দেয়া মানে নিজের আত্মা তার হাতে সমর্পণ করা!

চোরাচুন্নি:

দুষ্ট ভূত, কোনো চোর মারা গেলে চোরাচুন্নি হতে পারে। পূর্ণিমা রাতে এরা বের হয় এবং মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে অনিষ্ট সাধন করে। বাড়িতে এদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য গঙ্গাজলের ব্যবস্থা আছে।

মেছোভূত:

মাছলোভী ভূত। বাজার থেকে কেউ মাছ কিনে গাঁয়ের রাস্তা দিয়ে ফিরলে এটি তার পিছু নেয় এবং নির্জন বাঁশঝাঁড়ে বা বিলের ধারে ভয় দেখিয়ে আক্রমণ করে মাছ ছিনিয়ে নেয়।

পেঁচাপেঁচি:

দেখতে পেঁচার মত এবং জোড়া ভূত—একটি ছেলে, অন্যটি মেয়ে। গভীর জঙ্গলে মানুষ প্রবেশ করলে এরা পিছু নেয় এবং সুযোগ বুঝে তাকে মেরে ফেলে।

মামদো ভূত:

হিন্দু বিশ্বাস মতে, এটি মুসলমান আত্মা।

ব্রহ্মদৈত্য:

ব্রাহ্মণের আত্মা, সাদা ধুতি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। এরা সাধারণত পবিত্র ভূত হিসেবে বিবেচিত। বলা হয়ে থাকে, কোনো ব্রাহ্মণ অপঘাতে মারা গেলে সে ব্রহ্মদৈত্য হয়। এছাড়া পৈতাবিহীন অবস্থায় কোনো ব্রাহ্মণ মারা গেলেও ব্রহ্মদৈত্য হতে পারে। এরা কারো প্রতি খুশি হয়ে আশির্বাদ করলে তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হয়, কিন্তু কারো প্রতি নাখোশ হলে তার সমূহ বিপদ। দেবদারু গাছ কিংবা বাড়ির খোলা চত্বরে বাস করে।

স্কন্ধকাটা বা কন্ধকাটা:

মাথাবিহীন ভূত। অত্যন্ত ভয়ংকর এই ভূত মানুষের উপস্থিতি টের পেলে তাকে মেরে ফেলে। কোনো দুর্ঘটনায়, যেমন রেলে কারো মাথা কাটা গেলে, সে স্কন্ধকাটা হতে পারে। ভয়ংকর হলেও, মাথা না থাকার কারণে স্কন্ধকাটাকে সহজেই বিভ্রান্ত করা যায়।

আলেয়া:

জলাভূমির গ্যাসীয় ভূত। এরা জেলেদেরকে বিভ্রান্ত করে, জাল চুরি করে তাদের ডুবিয়ে মারে। কখনো কখনো অবশ্য এরা জেলেদেরকে সমূহ বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করে থাকে।

নিশি:

খুব ভয়ংকর ভূত। অন্যান্য ভূত সাধারণত নির্জন এলাকায় মানুষকে একা পেলে আক্রমণ করে, কিন্তু নিশি গভীর রাতে মানুষের নাম ধরে ডাকে। নিশির ডাকে সারা দিয়ে মানুষ সম্মোহিত হয়ে ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে, আর কখনো ফিরে না। কিছু কিছু তান্ত্রিক অন্যের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নিশি পুষে থাকে।

কানাখোলা:

গভীর নির্জন চরাচরে মানুষকে পেলে তার গন্তব্য ভুলিয়ে দিয়ে ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয় এই ভূত। মানুষটি তখন পথ হারিয়ে বার বার একই জায়গায় ফিরে আসে, এবং এক সময় ক্লান্ত হয়ে মারা যেতে পারে।

কাঁদরা-মা:

অনেকটা নিশির মত এই ভূত গ্রামের পাশে জঙ্গলে বসে করুণ সুরে বিলাপ করতে থাকে। কান্নার সুর শুনে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে গেলে তাকে ইনিয়ে বিনিয়ে গল্প বানিয়ে জঙ্গলের আরো গভীরে নিয়ে মেরে ফেলে। ছোট বাচ্চারা এর কান্নায় বেশি আকৃষ্ট হয়।

ভূত কোথায় থাকে: শেওড়া, তাল, দেবদারু, বেল, অশ্বত্থ প্রভৃতি গাছে একটি দুটি ভূতের দেখা পেতে পারেন। কিন্তু বেশি সংখ্যায় ভূত দর্শনের অভিলাষ থাকলে, আপনাকে যেতে হবে বিজন বনে, তেপান্তরে, কিংবা ভূষণ্ডির মাঠে।

ভূতের গল্প বলার উপযুক্ত সময়: কেউ অনুরোধ করলেই সাথে সাথে ভূতের গল্প বলতে বসে যাবেন না যেন। সব কিছুরই একটা তরিকা আছে। ভূতের গল্প বলতে হয় মজলিসে, আর গল্পের উপযুক্ত সময় হচ্ছে রাতের বেলা, বিশেষ করে বাদল ধারার রাতে। ঝমঝম বৃষ্টির ফোঁটা পড়বে টিনের চালে বা ছাদে, জানালা থাকবে হাট করে খোলা, হালকা বৃষ্টির ছাঁট আসবে ঘরে। তীব্র কোনো আলো রাখা চলবে না, কেবল একটু দূরে হারিকেন, কুপি বা মোমের মৃদু আলো মিটমিট করে জ্বলতে পারে।

ভূতের গল্পের বর্ণনা মাধ্যম:

ভূতের গল্প উত্তম পুরুষে, অর্থাৎ নিজের জবানিতে বলাই ভালো, তাতে গল্পে অনুভূতির ব্যঞ্জনা তীব্র হয় এবং গা ছমছম ভাবটা প্রকট করা যায়। ভূতের গল্পে স্বভাবতই কাউকে না কাউকে ভূতের পাল্লায় পড়তে হবে, সেটি বর্ণনাকারী নিজেই হতে পারেন।

ভূতের গল্প একটানে বলতে নেই, কিছুটা ভয়ের জায়গায় এসে গল্প থামিয়ে দিয়ে সময় ক্ষেপণ করতে হবে, যাতে অন্যরা অনুরোধ করে গল্প চালিয়ে যেতে। যেমন বলা যায়, “বিজন জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ এক জায়গায় দেখলাম কী..! আচ্ছা, আজ থাক, ঘুম পাচ্ছে, বাকিটা আরেক দিন বলব।”

কিন্তু গল্পের যে অংশগুলি বেশি ভয়ের, বিশেষ করে চূড়ান্ত অংশ, সেখানে না থেমে খুব দ্রুত, জোরে জোরে হঠাৎ বলে ফেলতে হবে। যেমন: “…একথা শুনে লোকটা বলল, আচ্ছা, দেখেন তো এরকম কিনা [নরম স্বরে বলতে হবে] ঘুরতেই দেখি, লোকটার পায়ের কাপড় একটু উপরে, পায়ের পাতা উল্টানো [একটু জোরে], পায়ের আঙ্গুলে কোনো ফাঁক নেই [আরো জোরে], একদম হাঁসের পায়ের মত দেখতে [আরো জোরে বলতে হবে এবং এই দেখো, বলে হঠাৎ গল্পকার নিজের পা দেখিয়ে দেবেন]।

ভূত-পেত্নী ও রাজাকার:

ভূত-পেত্নীর সাথে রাজাকারের কোনো তুলনা হয় না। এদের জন্মভূমির প্রতি প্রবল টান থাকে। এক দেশের সাথে অন্য দেশের ঝগড়া বেঁধে গেলে ভূতরাও নিজ নিজ দেশের অধিকারের জন্য অন্যদেশের ভূতের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ভূতরা মাতৃভূমির প্রতি বিশ্বাসঘাতক হয় না।

প্রেম-ভালবাসায় ভূত-পেত্নী:

ভূত-পেত্নীর শারীরিক সৌন্দর্যের ব্যাপারে নানা মত চালু থাকলেও, প্রেম-ভালবাসায় তাদের নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততা বেশ সুবিদিত। তাই যুগ যুগ ধরে মানব প্রেমিক প্রেমিকা গভীর ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে পরস্পরকে পেত্নী, ভূত নামে আখ্যায়িত করে থাকে।

ভূত-পেত্নী দশার অবসান:
[ভূত-পেত্নী অতৃপ্ত আত্মা, পৃথিবীর মায়ায় ইত:স্তত ছুটে বেড়ায়। তাদের জীবন ক্লান্তিকর ভারবহ উদ্দেশ্যহীন, তাই কেউ ভূত-পেত্নীর আত্মা মুক্ত করলে তারা খুশি হয়। আত্মা মুক্ত করার একটি কার্যকর উপায় হলো গয়ায় গিয়ে ভূতের নামে পিণ্ডি দেয়া।

ভয় নিয়ে কিছু তথ্য

0

ভয় আমাদের আদিম সঙ্গী । সৃষ্টির শুরু থেকেই ভয় কে সাথে নিয়ে আমরা পৃথিবীতে বেঁচে আছি । অতি সাহসী ব্যক্তিও কোনদিন বলতে পারবেনা যে সে ভয় পায়নি । পৃথিবীর নিয়মের বাইরে আমরা যা দেখি , তাইই আমাদের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । তবে অতিরিক্ত ভয় অনেক সময় আপনার বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে । আপনি যদি বেশী ভয় পেয়ে নিজেকে বিপদে ফেলতে না চান , তো নিচের বিষয় গুলো জেনে নিতে পারেন :

¤ মাগরিবের সময় পুকুর পাড় , বাঁশঝাড় , তালগাছ , বটগাছ , সুপাড়ি গাছের আশেপাশে , বাসার ছাদ অথবা অন্ধকার রুমে থাকবেন না । আপনি এমন কিছু দেখে ফেলতে পারেন এই সময়ে, যা আপনি কখনো আর দেখতে চাইবেন না ।

¤ গভীর রাতে একা রাস্তায় হাঁটার সময় যদি দেখেন কালো কোন কুকুর অথবা বিড়াল আপনার বাম পাশ থেকে আপনাকে ক্রস করার চেষ্টা করছে , তবে এটাকে কোনমতেই বাম পাশ দিয়ে ক্রস করতে দিবেন না । আপনার ক্ষতি হতে পারে ।

¤ চার রাস্তার মোড়ে একা একা দাঁড়িয়ে থাকবেন না । আপনি ভূল পথে যাবেন তাহলে । অর্থাত্‍ আপনাকে ভূল পথে নিয়ে যাওয়া হবে ।

¤ যদি দেখেন বাঁশঝাড়ের কোন একটা বাঁশ কোন কারণ ছাড়াই নীচু হয়ে আছে , তো ঐ বাঁশের উপর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না ।

¤ রাতের বেলায় কোন লোকের পিছনে যদি অনেক গুলো কুকুর লাইন বেঁধে যেতে দেখেন ,তো ঐ পথে ভূলেও যাবেন না । লোকের পিছে কুকুর ঘোরা ব্যাপারটা অনেক খারাপ কিছু নির্দেশ করে ।

¤ ঘুম ভাঙার পর যদি মনে হয় আপনার রুমে অদৃশ্য কেউ একজন আছে, তো সাহসিকতার সাথে ব্যাপারটা অবহেলা করার চেষ্টা করুন অথরা চোখ বন্ধ করে রুমের দরজা আন্দাজ করে বের হয়ে যান ।

¤ ঘরে প্রয়োজনের বাইরে বেশী আয়না রাখবেন না । রাতের বেলা আয়নাতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে নিজেই ভয় পেয়ে যেতে পারেন ।

¤ বাথরুমে গিয়ে যদি আপনার ভয় লাগা শুরু করে এবং আয়নার দিকে তাকাতে সাহস না হয় , তো বাথরুমের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকুন । আপনার ভয় কমে যাবে ।

¤ গ্রামে গভীর রাতে যদি আপনার নাম ধরে কেউ ডাকে , তো ভূলেও ঐ ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের বাইরে যাবেন না । যদি বাইরে যান তো আর ফিরে নাও আসতে পারেন । এই ডাক কে “নিশির ডাক” বলে । আপনার পরিচিত মানুষের গলা নকল করে এইটা ডাকা হবে । কখনো কখনো এই ডাক তিন চারজন লোকের ঝগড়ার মতো করেও হয় যাতে ঝগড়া শুনে আপনার বাইরে যাওয়ার আগ্রহ জন্মায় ।

¤ রাতের বেলা একা হাটার সময় যদি বুঝতে পারেন কিছু একটা আপনার পিছে পিছে আসছে , অথচ আপনি দেখতে পাচ্ছেন না , তো সাহস সঞ্চয় করে কাছাকাছি কোন মুসলিম কবরস্থানে ঢুকে পড়েন । কবরস্থান খুবই পবিত্র জায়গা কারণ অনেক আল্লাহ ওয়ালাদের কবর এখানে থাকে । তাদের কবরের অছিলায় খারাপ কিছু থেকে থাকলে তা আপনার ক্ষতি করতে পারবেনা।

¤ পুরোনো খালি বাড়ি এবং শ্মশান ঘাট যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন । এগুলোতে খারাপ কিছুর উপস্থিতি বেশীর ভাগ সময়ই থাকে ।

¤ ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন না । আপনি কি করছেন তা বোঝার আগেই আপনার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে ।

¤ রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় অস্বাভাবিক কিছু দেখলে গাড়ি থামাবেন না । আপনার কৌতুহলই হয়তো আপনার বিপদ ডেকে আনতে পারে । মাজারের পাশ দিয়ে রাতের বেলা ফুল ভলিউমে গান বাজিয়ে গাড়ি নিয়ে যাবেন না । আপনার আনন্দ আর মাস্তির মাঝে কোন একটা গাড়ি দুর্ঘটনা আসতে পারে ।

¤ আর সবচেয়ে বড় কথা হলো , যে কোন ধরনের এবনরমাল অবস্থায় নিজের সৃষ্টিকর্তা কে ডাকুন । যতো খারাপ কিছুরই মুখোমুখি আপনি হন না কেন , সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার কাছে তা কিছুই নয় । আমরা যারা মুসলিম , তারা বিপদে চারটা “কুল” দিয়ে সূরা অথবা “আয়াতুল কুরসী” পড়তে পারি । এতে বিপদ কমে যাবে ইনশাআল্লাহ ।