আমার প্রিয় সব ভৌতিক মুভি(পর্ব-১)

3

শিরোনাম দেখেই বুঝতে পারছেন আমার এইবারের পোস্ট সেই সকল ভৌতিক মুভি নিয়ে যেগুলো আমার ব্যক্তিগত পছন্দ। এই পোস্টটি একটি ধারাবাহিক পোস্ট যেখানে প্রতি পর্বে আমি একটি করে হরর মুভি নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বর্ননা, তার রিভিউ, আই এম ডি বি রেটিং নিয়ে আলোচনা করব।

দ্যা এক্সরসিস্ট

আমার ব্যক্তিগত হরর মুভির তালিকায় যে মুভিটি সর্ব প্রথম স্থানটি দখল করে আছে তা হচ্ছে উইলিয়াম ফ্রায়েড কিং পরিচালিত বিখ্যাত মুভি দ্যা এক্সরসিস্ট। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি শুধু দর্শক হৃদয় ই জয় করেনি, জয় করেছিল গোটা চলচ্চিত্র সমালোচকের হৃদয়। মুভিটিইর আই এম ডি বি রেটিং ৮.১; মোট দু-টি ক্যাটাগরিতে অস্কার সহ ছবিটি জিতে নিয়েছিলো মোট ২৯ টি পুরস্কার।

এই মুভিটি উইলিয়াম পিটার ব্ল্যাটি রচিত দ্যা এক্সরসিস্ট

    নামেরই একটি উপন্যাস অবলম্বনে তৈরী করা হয়েছিল যেটি ১৯৪৯ সালে একজন আমেরিকান রোনাল্ড ডো এর সাথে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রানিত ছিলো।

ছবির প্লট শুরু হয় উত্তর ইরাকে যেখানে প্রিস্ট এবং প্রত্নতত্ত্ববিদ ফাদার মেরিন পূরাকীর্তি খনন করতে গিয়ে চিহ্ন সম্বলিতি একটি পাথর খন্ড পান যেই চিহ্নটি ছিলো পাযুযু নামের এক অপশক্তির যেটিকে তিনি বহু আগে পরাজিত করেছিলেন। পরে ফাদার মেরিন বুঝতে পারেন যে সেই শক্তি টি
প্রতিশোধ নিতে পুনরায় আবির্ভূত হয়েছে।

অন্যদিকে আমেরিকায় ওয়াশিংটন ডি সি তে আর একজন প্রিস্ট ফাদার ডেমিয়েন যিনি অনেক চেষ্টার পরও তার অসুস্থ মা’কে বাচাতে ব্যার্থ হয়ে ঈশ্বরে বিশ্বাস হারাণ।
এদিকে ক্রিস্টিন ম্যাকনিল নামক একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রি তার মেয়ে রিগান এর আকস্মিক অসুস্থতা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরেন যখন সকল ডাক্তার তার রোগ ধরতে ব্যর্থ হন। কিন্তু ম্যাকলিন বুঝতে পারেন যে তার মেয়ে কোনো অশুভ সত্ত্বা দ্বারা আক্রান্ত। তাই তিনি ফাদার ডেমিয়েন এর স্মরণাপন্ন হন। ফাদার ডেমিয়েন ফাদার মেরিনকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করলে ফাদার মেরিন বুঝতে পারেন যে এটি সেই পাযুযু যা প্রতিশোধ নিতে রিগানের দেহে আশ্রয় নিয়েছে। অবশেষে ফাদার মেরিন এবং ফাদার ডেমিয়েন একত্রিত হয়ে সেই ভয়ংকর অশুভ শক্তিকে দূর করার নিয়ম রীতি শুরু করেন যাকে এক্সরসিসম বলে এবং শেষ পর্যন্ত কি ঘটে তা দেখার জন্য সবাইকে অসাধারণ এই মুভি টি দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

ছবিটিতে অভিনয় করেছেন জ্যাসন মিলনার, লি জে কব, এলেন বার্স্টিন, লিন্ডা ব্লেয়ার এর মত অসাধারণ অভিনেতা অভিনেত্রী।

 

ভূতেরা যখন ভালবাসে…(আনন্দবাজার পত্রিকা'য় প্রকাশিত )

1

ভূত ভয় দেখানো ছাড়া আর কী কী করতে পারে? আমরা বাংলা সাহিত্যে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গল্পে পড়েছি, ভূত অঙ্ক কষে দেয়, ভূত বন্ধুর মতো নির্জন রাস্তা পার করে দেয়, এমনকী ভূত হেলমেট পড়ে মোটরবাইকও চালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভূত একেবারে ‘লাভ মেকিং’-এর ভূমিকায়!

কোনও গল্প উপন্যাসের প্লট নয়, একেবারে বাস্তবেই প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করলেন আমেরিকার ওয়াশিংটনের উত্তর ওয়াহিওর একটি পরিবার। ওই পরিবারের এক সদস্য ডায়ানে কার্লিসেলের দাবি, তাঁর বসার ঘরে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন ভূতের এই কাণ্ড। শুধু প্রত্যক্ষ করাই নয়, এমনকী তাঁর চার বছরের নাতনি কিমোরা সেই ভূতের উদ্দাম ভালবাসার ছবিও তুলে রেখেছে।

কার্লিসেল জানাচ্ছেন, সে এক অদ্ভুত গা ছমছমে অভিজ্ঞতা। বাড়িতে কেউ নেই। লিভিং রুমে তিনি আর তার চার বছরের নাতনি। হঠাৎ তারা হাই হিল পরা এক মহিলার ছায়ামূর্তি দেখতে পান। ওই হাই হিল পড়া মহিলা তাঁর পুরুষ শয্যাসঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে আলিঙ্গনবদ্ধ। তাদের উদ্দাম ভালবাসার বিভিন্ন ভঙ্গির দৃশ্যে চমকে ওঠেন তিনি। ঘটনাটির বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যে তাঁর নাতনির মোবাইলে কয়েকটা ছবিও তারা তুলে রেখেছেন। এই হাই-টেক যুগে, ভূত বিপন্ন এই কথাটা তো তাহলে আর বলা যায় না।

দিব্য পান্ত ভূতের জ্যান্ত ছানাপোনারা জোছনায় গা এলিয়ে নেচে বেড়াচ্ছেন। এমনকী তারা বংশবৃদ্ধিতেও মন দিয়েছে। ভূতের এই কাণ্ডকে আমরা স্বাগত জানাতেই পারি।

তথ্যসূত্র: এ এন আই

সেইরাত প্রতিরাত

7

সন্ধ্যার পর এই নদীর ঘাটে কেউ আর আসে না। লোকে বলে এখানে এমন সময় ভূত আসে। কিন্তু, সেই বাঁধানো ঘাটে সন্ধ্যের পর রঞ্জন আসে। অফিসের দরজায় ধর্না দিতে দিতে যে এখন ক্লান্ত, বিষন্নতার তীব্র আঘাতে প্রায় অনুভূতি শূন্য। এমন লোকের কাছে আবার কিসের ভূতের ভয়! প্রতিদিন সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলে তাকে একবার আসতেই হত এখানে।
হঠাৎ একদিন লোকশূন্য সেই ঘাটে সে লোকের সন্ধ্যান পেয়েছিলো। নিস্তব্ধ নদীর ওপার থেকে একটা নৌকাকে ওপার থেকে এপারে চলে আসতে দেখেছিলো সে। নৌকার যাত্রী বলতে একটি আট-নয় বছরের ছোট্টো ছেলে আর এক আধ-বুড়ো মাঝি। নৌকা থেকে ঘাটে নেমে রঞ্জনের দিকে তর-তর করে হেটে আসতে লাগলো ছেলেটা। ডান হাতে একটা চায়ের ফ্লাক্স আর বাম হাতে ফ্যাঁকাসে লাল রঙের ছোট্ট একটা বালতি। বালতির ভেতর থেকে অদ্ভূত একটা শব্দ ভেসে আসছিলো। কয়েকটা কাঁচের গ্লাস আর পানি একসাথে যখন প্লাস্টিকের বালতির গায়ে আঘাত করে তখন যেমন শব্দ হয় ঠিক সেই রকম।
রঞ্জনের কাছে এসে ছেলেটি বললোঃ
-চা লাগবো স্যার?
রঞ্জন হঠাৎ-ই কৌতুকের সুরে বলে উঠলোঃ দেখি তোর পা উল্টা নাকি?
ছেলেটি কথাটায় তেমন একটা আমল না দিয়ে আবার জিজ্ঞেস করলোঃ গরম চা দেই স্যার? ভালো চা। কাপ গরম পানিতে ধুইয়া দিমু।
রঞ্জন বললোঃ নাম কি রে তোর?
– মোতালেব।
-বাহ! অনেক ভারী একটা নাম! শুনলে মনে হয় চল্লিশ-পঞ্চাশ বছরের কেউ হবে। তা তুই এই রাতের বেলায় চা বিক্রি করতে আসলি! তাও আবার লোক নাই, জন নাই এমন এক ঘাটে?
– এই ঘাটে আইজ ই প্রথম। দেখি বিক্রি না হইলে অন্য জায়গায় যামু।
-তা, তোর বাড়ীতে কে কে আছে ?
-শুধু বুড়া নানী আসে। আম্মা মইরা গেসে, আর আব্বা আরেক বিয়া করসে। নতুন মা’য় খেদায়া দিসে।

কথাটা শুনে স্বভাবতই ছেলেটার প্রতি একটা মায়া জন্মে গেলো রঞ্জনের।

– তা ভাই মোতালেব, বানাউ দেখি এক কাপ চা।

মোতালেব একরকম গদবাধাঁ পদ্ধতিতেই ছোট্টো একটা কাপে ফ্লাক্স থেকে গাঢ় রঙের এক কাপ চা ভরে রঞ্জনের হাতে তুলে দিলো।

রঞ্জন চায়ের কাপে জোড়ালো একটা চুমুক দিয়ে বললো।

– মোতালেব, তোমার পড়ালেখা করতে ইচ্ছা করেনা?

-করে। অনেক ইচ্ছা করে।

-লাভ নাই। লেখাপড়া করে কোনো লাভ নাই।

-সবাইতো উলটা কয়।

-ভূল বলে, সবাই ভূল বলে। যাক বাদ দাও। একটা গল্প শুনবা?

-আইচ্ছা কন।

-বেশ কিছুদিন আগে এই জায়গাটায় রাতের বেলাতেও মানুষ আসতো। প্রচন্ড গরমে একটু ঠান্ডা বাতাস খাওয়ার জন্য আসতো।

কিন্তু, এখন দিনের বেলায় আসলেও রাতে আর কেঊ এইখানে আসে না। বলে এখানে নাকি সন্ধ্যের পর ভূত দেখা যায়। এইতো গত সপ্তাহে আমাদের পাশের বাসার লিয়াকত খান এসেছিলো। লোকটা খুব লোভী। নিজের একটা কারখানা আছে। নিজ কারখানায় চাকরী দেবার নাম করে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়; তারপর চাকরীও দেয়না আর টাকাও ফেরত দেয়না। এই খানে ভূতে নাকি তাকে এক ধাক্কায় নদীতে ফেলে দিয়ে ছিলো।

কথাটা বলে রঞ্জন অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ল। তারপরই বললঃ
-ঠিকই আছে, ব্যাটার আচ্ছা শাস্তি হয়েছে।
-তার পরে কি হইলো স্যার।
-ও! আসলে এইখানে একটা যুবক ছেলে নদীতে ডুবে আত্মহত্যা করেছিলো। বেকার ছেলে। ভালো রেজাল্ট, অনেক ডিগ্রী। তারপরও চাকরি পায়নি। সংসারে অভাব। তার ওপর দেনা। সবার কাছে খারাপ ছেলে হয়ে গিয়েছিলো সে। এখনো মনে আছে ছেলেটা যেদিন ম্যাট্রিক পরীক্ষায় , ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় ফার্স্ট ডিভিশনে পাস করলো তখন বাসার মানুষ, প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন কত না আদর করেছিলো তাকে। কত প্রশংসাই না করেছিলো। অথচ ছেলেটা যখন চাকরী পাচ্ছিলো না, বেকার বসেছিলো দিনের পর দিন; তখন ওই মানুষ গুলোর কাছে সে খারাপ হয়ে গেলো, অপদার্থ হয়ে গেলো। সমাজের কটাক্ষ আর সহ্য করতে না পেরে ছেলেটা মারাই গেলো। বেচারা!! ঠিকই তো করেছে সে। কি বল মোতালেব?

– হ স্যার তাইলে লেখা পড়া কইরা কি লাভ!! এমনেই তো তাইলে ভালা আসি। কিন্তু, স্যার। পোলাডা কি আপনার বন্ধু আসিলো? ওরে নিয়া এতো কথা আপনি জানেন কেমনে?
প্রচন্ড হাসিতে ফেটে পড়লো রঞ্জন। সে এমন ভাবে হাসছে যেনো মোতালেব তাকে মহা নির্বোধের মত কোনো একটা প্রশ্ন করে বসেছে।
– আমি কিভাবে জানি! এখানে আসার সময় আমি তোমাকে প্রথম যে প্রশ্নটা করেছিলাম মনে আছে? তোমাকে যে জিজ্ঞেস করলাম তোমার পা উল্টা নাকি মনে আছে?

-হ আসে ক্যান?
-দ্যাখোতো আমার পা দুটো।

মূহুর্তেই মোতালেব ভূত দর্শন করলো। সামনে জলজ্যান্ত উল্টা পায়ের একটা মানুষ, না না ভূত। হ্যা, ভূত।
– চা এর ফ্লাক্স আর আনুষঙ্গিক জিনিস পত্র হাতে নিয়ে গলা ফাটিয়ে ভূত! ভূত! চিৎকার করতে করতে উর্ব্ধশ্বাসে দৌড়ে পালিয়ে গেলো মোতালেব। আর যেতে যেতে মনে মনে বলতে লাগলো শালায় মাগ্নাও চা খাইলো আবার ভয়ও দেখাইলো। ভূত ও এমন ফাজিল হয়………

ভূতের ভয়ে ভিটে ছাড়া ৫ পরিবার (দৈনিক সংবাদ -১৪ ই এপ্রিল ২০১২ এ প্রকাশিত)

1

ডিজিটাল এই যুগেও কথিত ভূতের ভয়ে ভিটে ছেড়েছে ৫ পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে উত্তরে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে সালন্দর ইউনিয়নের ইয়াকুরপুর গ্রামের প-িত পাড়ায়। সেখানে রোগব্যাধি, গরু-ছাগল মারা যাওয়া এবং কথিত গণকের ভবিষ্যৎবাণীর কারণে দেড়শ বছরের পৈতৃক ২০টি ঘরবাড়ি ভেঙে এই ৫ পরিবার অন্যত্র সড়ে গেছে।
খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, প-িত গ্রামে সনাতন ধর্মীয় সমপ্রদায়ের শতাধিক পরিবার বসবাস করে। দারকানাথ প-িত নামে এক স্কুল শিক্ষকের উত্তরসূরি কালিপদ বর্মণ, নারায়ণ রায়, শনিরাম বর্মণ, খগেশ্বর, ধনেশ্বর, শিবুরামসহ ১০টি পরিবারও এখানে থাকছিলেন। দেড় বিঘা জমির এক অংশে ৫টি, অন্য অংশেও ৫ পরিবারের ছিল ঘরবাড়ি। নারায়ণ রায়সহ ৫টি পরিবার যে অংশে থাকেন সেই পাশে গত দুই বছর ধরে চলছে ভূত আতঙ্ক। নারায়ণ রায় জানান, দুই বছর ধরে তিনি ও তার স্ত্রী সুরবালা তাদের উঠানে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা রাতে কালো বর্ণের বামন আকৃতির ছায়া ভূত-পেত্নী দেখতে পান। এমনকি তারা ওই ভূতের কান্নাও শুনতে পান। এরপর থেকে নারায়ণের পরিবারে নেমে আসে দুর্যোগ। প্রথমে সুরবালা চোখের সমস্যায় পড়েন। রোগ সাড়াতে তাকে দিনাজপুরে চিকিৎসা করানো হয়। এ রোগ ভালো না হতেই পেটের পীড়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। নারায়ণ তার স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করান। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শনাক্ত হয় সুরবালা অ্যাপেন্ডিসাইড রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অস্ত্রোপচারের পর তিনি সুস্থ হন। এই বিপদ কাটিয়ে উঠতেই একজোড়া হালের বলদ মারা যায়। এর কয়েকদিনের মাথায় মারা যায় দুই জোড়া ছাগল। কোন কিনারা না পেয়ে গ্রামের চৌকিদার কোকিল চন্দ্র রায়কে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের আনন্দ রায় নামে এক গণকের কাছে ছুটে যান নারায়ণ। এভাবে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামের ৯ জন গণকের স্মরণাপন্ন হন তিনি। সব গণকের একই সুর ‘নারায়ণের বাড়িতে ভূত-পেত্নী বাসা বেঁধেছে। বসতবাড়ির হিসেবে ওই জায়গাটির মেয়াদ শেষ। তাই সেখানে বসবাস নিরাপদ নয়। পশু-প্রাণীর পর মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।’
এসব শুনে একসঙ্গে বাস করা কালিপদ বর্মণ, নারায়ণ রায়, শনিরাম বর্মণ, খগেশ্বর ও ধনেশ্বর গত ১ মার্চ তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলেন। এরপর পৈতৃক ভিটা থেকে ৭০০ গজ দূরে নতুন করে ঘরবাড়ি তৈরি করছেন তারা।
নারায়ণের চাচাতো ভাই কালিপদ জানান, ‘সব রাখার জায়গা আছে বাবু, ভয় রাখার জায়গা নাই। জীবন বাঁচলে ধন পাওয়া যাবে। তাই প্রাণের ভয়েই ৫টি পাকাঘর ভেঙে সড়ে এসেছি। এখানে আমরা ভালো আছি।’ ‘ছেড়ে দেয়া ওই জায়গাটি এখন কি বিরান পড়ে থাকবে’_ এমন প্রশ্নের জবাবে কালিপদ বলেন, ওই জমিতে শষ্যের আবাদ করা হবে।
নারায়ণের জেঠাতো ভাই অন্য অংশে থাকা শিবুরাম বলেন, ‘ঘরবাড়ি ভেঙে চলে যাওয়ায় প্রথমে ভয়ের মধ্যে ছিলাম। তবে আমার বসতভিটায় ভূতের আছর নেই_ গণকের এমন গণনায় আস্বস্ত হয়েছি। তাই এখানেই থাকছি।’
এলাকার স্কুল শিক্ষক ভবেশ চন্দ্র সেন বলেন, ‘ওই পরিবারগুলোকে বুঝিয়েও ভয় ভাঙানো যায়নি। আকস্মিকভাবে একদিনেই তারা ঘরগুলো ভেঙে ফেলেছে।’ তবে ওই জমির প্রতি অন্য কারও লোভ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আমেন-রার অভিশাপ ও টাইটানিক (প্রথম আলো ১৩/০৪/২০১২ তে প্রকাশিত)

0

১০ এপ্রিল ১৯১২ সাউদাম্পটন বন্দরে পৃথিবীর বিস্ময়কর জাহাজ টাইটানিক ছেড়ে দেওয়ার সিটি বাজাল। বিদায় জানাতে আসা আত্মীয়, শুভানুধ্যায়ী এবং উৎসুক দর্শনার্থীর আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে বন্দর গমগম করছে।
এই জাহাজটি ‘আনসিঙ্কেবল’—কখনো ডোবার নয়। দুদিন পেরিয়ে যাচ্ছে। টাইটানিক তখন আটলান্টিকে। সবই ঠিকঠাক। আনন্দ ও হুল্লোড়ের কমতি নেই। আটজনের একটি দল ঢুকল প্রথম শ্রেণীর ধূমপানকক্ষে। সিগারেট ফুঁকছেন আর জীবনের কী মানে, তা নিয়ে বেশ জ্ঞানগর্ভ আলোচনা জুড়ে দিয়েছেন। তাঁদেরই একজন উইলিয়াম টি স্টেড ইংরেজ সাংবাদিক ও সুপরিচিত অধ্যাত্মবাদী। ভৌতিক গল্পটা তিনিই বললেন। তাঁর এই গল্পের মিথের সঙ্গে টাইটানিকের ডুবে যাওয়া কেমন করে যেন এক হয়ে গেল।
স্টেড গল্পটা শুরু করেন ১২ এপ্রিল রাত ১২টার একটু আগে, গল্পটা শেষ হয় রাত ১২টার পরে। টাইটানিকডুবির সূত্রপাত হয় ১৪ এপ্রিল রাত ১২টার একটু আগে, জাহাজটি আটলান্টিকের গর্ভে তলিয়ে যায় রাত দুইটার দিকে। তখন ১৫ এপ্রিল ১৯১২।
এই আটজনের দলের সাতজনই আটলান্টিকে তলিয়ে যান, উইলিয়াম স্টেডও। কেবল একজন ফ্রেড সিওয়ার্ড বেঁচে যান। সাক্ষ্য তাঁরই।

মমির অভিশাপ
যিশুর জন্মের ১৫০০ বছর আগে গ্রিক প্রিন্সেস আমেন-রা কথা জানা যায়। মৃত্যুর পর প্রিন্সেসকে সূক্ষ্ম কারুকাজ করা চমৎকার একটি কাঠের কফিনে ভরে নীল নদের তীরে একটি সুরক্ষিত প্রকোষ্ঠে রেখে দেওয়া হয়।
১৮৯০ দশকের শেষ দিকে খননকাজের সময় মমির এই চমৎকার কফিন কিংবা আধারটি পাওয়া গেলে চারজন ধনী ইংরেজকে তা কিনে নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। কফিনে রয়েছেন প্রিন্সেস আমেন-রা।
বহু মূল্য দিয়ে তাঁদের একজন কিনে নিলেন। তিনি কয়েক হাজার পাউন্ড স্টার্লিং দিয়ে কেনা কফিনটি হোটেলে নিজ কক্ষে নিয়ে এলেন।
কয়েক ঘণ্টা পর দেখা গেল তিনি হোটেল থেকে বেরিয়ে হেঁটে হেঁটে মরুভূমির দিকে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর কখনো ফিরে আসেননি।
অবশিষ্ট তিনজনের একজন তাঁর মিসরীয় ভৃত্যের বন্দুক থেকে দুর্ঘটনাক্রমে আকস্মিকভাবে বেরিয়ে আসা গুলিতে জখম হলেন। জখমটা এতই গুরুতর ছিল তার গুলিবিদ্ধ হাতটি কেটে ফেলতে হলো।
তৃতীয়জন দেশে ফেরার পর দেখলেন তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয় যে ব্যাংকে রেখেছিলেন, সেই ব্যাংকটি সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে।
চতুর্থজনও টাকাপয়সা খোয়ালেন, অসুস্থ হয়ে পড়লেন, চাকরি হারালেন এবং বেঁচে থাকার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাঁকে দেশলাই বিক্রি শুরু করতে হয়।
এত কিছুর পরও পথের অনেক দৈব-দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রিন্সেস আমেন-রার কফিন লন্ডনে পৌঁছে এবং একজন ধনী ব্যবসায়ী তা কিনে নেন।
এর পরপরই ব্যবসায়ীর পরিবারের তিনজন সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়, আগুন লেগে তাঁর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগত্যা ব্যবসায়ী কফিনটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামকে দান করে দেন।
ট্রাক থেকে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের আঙিনায় যখন কফিন নামানো হচ্ছিল, ট্রাকটি উল্টোদিকে চলতে শুরু করে। একজন পথচারীকে বিপদাপন্ন করে তোলে। যে দুজন শ্রমিক এই কাসকেটটি নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছিল, হঠাৎ পড়ে গিয়ে পা ভেঙে ফেলে। অন্যজন বাহ্যত সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হলেও দুদিন পর অজ্ঞাত কারণে মারা যায়।
ব্রিটিশ মিউজিয়ামের ‘ইজিপশিয়ান রুম’-এ এটি স্থাপন করার পর একটার পর একটা বিপত্তি ঘটতে শুরু করল।
জাদুঘরের নৈশপ্রহরী কফিনের ভেতর হাতুড়ি পেটানোর এবং ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ শুনতে লাগল। অন্যান্য প্রদর্শিত দ্রব্য রাতের বেলা কেউ ছুড়তে শুরু করল। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজনের মৃত্যু হলো। অন্য প্রহরীরা চাকরি ছেড়ে দিতে চাইল। ক্লিনাররা প্রিন্সেসের কাছে যেতে অস্বীকৃতি জানাল।
শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এটাকে বেজমেন্টে রেখে আসে এই চিন্তা করে যে এখন থেকে আর কারও ক্ষতি করতে পারবে না। এক সপ্তাহের মধ্যে যা ঘটার ঘটে গেল। বেজমেন্টে পাঠানোর কাজটা যিনি তত্ত্বাবধান করছিলেন তাঁকে তাঁর ডেস্কেই মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল আর বহনে সহায়তাকারীদের একজন ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে পড়ল।
এত দিনে মমির এই ভয়াবহ আচরণের খবর সংবাদপত্রগুলো পেয়ে গেল। একজন ফটোগ্রাফার ব্রিটিশ মিউজিয়ামে এসে কাসকেটের ছবি তুললেন। ছবিটা যখন হয়ে এল তিনি অবাক হয়ে দেখলেন কফিনের ওপর আঁকা ছবিটা আসলে মানুষের বীভৎস মুখাবয়ব। তিনি বাড়ি ফিরে গেলেন। বেডরুমে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন এবং নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করলেন।
কিছুদিন পর জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এই মমি একজন ব্যক্তিগত সংগ্রহকারীর কাছে বেচে দেয়। সেখানেও একের পর এক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু ঘটতে থাকলে মমির ক্রেতা এটাকে চিলেকোঠায় আটকে রাখেন।
পরে তিনি এটা বিক্রির চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্রিটেনের কোনো মিউজিয়াম এই মমি নিতে আগ্রহী নয়। মমি নাড়াচাড়ায় নিয়োজিত কুড়িজন মানুষের দুর্ভাগ্যের কথা—বিপন্নতা, দুর্যোগ এবং এমনকি মৃত্যুর খবর এখন সবারই জানা।
শেষ পর্যন্ত গোঁয়াড় প্রকৃতির একজন আমেরিকান প্রত্নতত্ত্ববিদ এসব দুর্ভাগ্যের কথা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন এবং বেশ দাম দিয়ে এটাকে কিনে নিউইয়র্ক নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করলেন।
১৯১২-এর এপ্রিলে কফিনটা জাহাজে তোলা হলো, আমেরিকান মালিকও সঙ্গে আছেন। তিনি জানেন আমেরিকানরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন নয়।
হোয়াইট স্টার লাইনের নতুন জাহাজ, এটাই জাহাজের উদ্বোধনী যাত্রা—সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্ক। বিলাসবহুল এই জাহাজের নাম টাইটানিক।
আমেরিকান মালিক এবং জাহাজের দেড় হাজার যাত্রী ও টাইটানিক জাহাজটিসহ আমেন-রা সমাহিত হলেন আটলান্টিকের গভীর তলদেশে।
কেউ কেউ বলেন উদ্ধারকারী জাহাজ কার্পাথিয়া যখন মানুষ উদ্ধার করছিল, তখনই জাহাজের ক্রুরা কফিনটা জাহাজে তুলে নেয়। আমেন-রা যথারীতি নিউইয়র্ক পৌঁছে।
আমেরিকায় এই কফিন একটার পর একটা ট্র্যাজিক ঘটনা ঘটিয়ে চলে। একসময় সিদ্ধান্ত হয় কফিন আবার ইউরোপে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। দেড় মাস তখনো পুরো হয়নি। ইউরোপের পথে এমপ্রেস অব আয়ারল্যান্ড জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। ১৯১২ সালের ২৯ মে ৮৪০ জন যাত্রী নিয়ে জাহাজটি ডুবে যায়।
মমিটি সে যাত্রায়ও রক্ষা পায়। এর মালিক ঠিক করলেন, তৃতীয় কোনো জাহাজে মমিটি মিসরে পাঠিয়ে দেবেন। সেই তৃতীয় জাহাজের নাম লুসিতানিয়া। জার্মান সাবমেরিনের আক্রমণে জাহাজটি ডুবে যায়। এরপর কী হলো আর জানা নেই।

প্রিন্সেস আমেন-রা টাইটানিকে ছিলেন?
না, ছিলেন না। পুরোটাই কল্পকাহিনি। আর এ কাহিনি তৈরির কৃতিত্ব দুজনের—উইলিয়াম স্টেড এবং ডগলাস মারে।
ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রুম নম্বর ৬২-তে সংরক্ষিত এই মমি ১৮৮৯ সালে মিসেস ওয়ারউইক হান্ট তাঁর ভাই আর্থার এফ হুইলারের পক্ষে ব্রিটিশ মিউজিয়ামকে উপহার দেন। ১৮৯০ সালের দিকে এই কাসকেট মিউজিয়ামের প্রথম ইজিপশিয়ান রুমে প্রদর্শিত হতো। স্টেড ও মারের অতিপ্রাকৃতিক কাহিনি সম্পূর্ণ বানোয়াট। ১৯৮৫ সালে টাইটানিক হিস্ট্রিক্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট চার্লস হ্যাম টাইটানিকে পরিবহন করা মালামালের তালিকা দেখার সুযোগ পান। তাতে মমি কিংবা কফিনের কোনো উল্লেখও দেখতে পাননি।
অনুসৃতি: ইবনে মুতালিব

অনভি-প্রেত!!!!

3

রাস্তায় শুনশান নিরবতা। তখন ১২টা কি সাড়ে বারটা। আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। প্রাইভেট টিউটর একটু আগেই আমাকে পড়িয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলেন। স্যার যাওয়ার পর দরজাটা বন্ধ করে আমি জানালা দিয়ে একা রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছি। রাস্তায় একটা মাত্র লাইট।

আমি যে বরাবর তাকিয়ে ছিলাম সেই রাস্তায় দুই তিনটা বাসা পরই আর একটি বাসা ছিলো । বাসাটির সামনের অংশটা ছিলো কিছুটা খালি যায়গা যেই জায়গায় দু-একটি খুব ছোটো আকারের নারকেল গাছ ছিলো। কি মনে করে আমি সেই নারিকেল গাছের দিকে চেয়ে রইলাম। দেখতে দেখতে হঠাৎ আমি চমকে উঠলাম। দেখতে পেলাম সাদা কাপড় মোড়ানো একটি মহিলা যার আকৃতি সাধারন মানুষের চেয়ে অনেক বড়। তার দেহের অর্ধেকটুকু দেখা যাচ্ছে । আর দেহের বাকি অংশটা মনে হচ্ছে হয়তো মাটির নিচে হবে। আর কিছু বুঝার চেষ্টা করার আগেই আমি ভয়ে দৌড়ে ভেতরের ঘরে মা’র কাছে চলে গেলাম। মা আমার মুখে স্পষ্ট ভয়ের চিহ্ন দেখে কারণ জিজ্ঞাস করলেন। আমি তাকে সব খুলে বললাম। মা কথাটা বাবাকে জানানোর পর বাবা আমার ভয় কাটানোর জন্য তৎক্ষনাৎ টর্চ হাতে ঐ জায়গায় নিয়ে গেলেন। তখন ওখানে আর  কিছু দেখা গেলনা।তবুও বুঝতেই পারেন। ভয় কি আর অত সহজে কাটে? জিনিসটা বার বার আমার মনে ভাসতে লাগলো। দু-তিন দিন যাবার পর ভয় কিছুটা কাটলো। কিন্তু, তখনো ঐ রাস্তা দিয়ে আমি রাতের বেলায় যাতায়াত বন্ধ করে দিলাম। কি জানি কখন আবার কি চলে আসে চোখের সামনে!!

তারও কয়েকদিন পর লোক মুখে শুনতে পেলাম যে, ঐ বাসাতেই মাস খানিক আগে এক সদ্য বিবাহিতা বউ এর অপমৃত্যু হয়েছে। মাস খানিক আগে একজনের মৃত্যুর খবর আমি শুনেছিলাম কিন্তু তখন কে মারা গেলো কিভাবে মারা গেলো তা নিয়ে এতটা মাথা ঘামাইনি যতটা এই অভিজ্ঞতার পর ঘামিয়েছি…… আজও বেশি রাত্রি হলে আমি ঐ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত থেকে বিরত থাকি……

ডায়ানার ভূত(ভিডিও ফুটেজ সহ)

0

যুক্তরাজ্যের প্যারানরমাল গবেষকরা এখন রীতিমত ব্যাস্ত এক ভিডিও ফুটেজ নিয়ে। হ্যা, চীনের কয়েকজন পর্যটক যুক্তরাজ্যের গ্ল্যাসগোতে এক গীর্জা ভ্রমন কালে সেখানকার ছবি নিজের ক্যামেরায় ধারণ করে। পরে তারা সে ফুটেজ দেখে রীতিমত অবাক হয় যখন তারা ফুটেজটিতে প্রিন্সেস ডায়ানার মত এক অবয়ব উদ্ধার করে যা ক্যামেরায় চিত্র ধারণ কালে তারা দেখতে পায়নি এবং সেই গীর্যায় এমন কোনো প্রতিকৃতি বা অবয়বই নেই।

অপ-শক্তি(পর্ব ১)

3

অর্থ উপার্জনের সাথে মানুষের সাধারন কিছু আকাঙ্খা জড়িয়ে থাকে। সুন্দর, আলিশান একটা বাড়ি বানানো তার মাঝে একটি। আলাল মিয়া তেমনি একজন ব্যাক্তি। দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবন কাটিয়ে ভালোই অর্থ জমিয়েছেন। সারাটা জীবন অন্যের বাসায় ভাড়া থেকে কাটিয়েছেন।তাই ঠিক করলেন এবার নিজের একটা বাড়ী করবেন। বাড়ী কেনার জন্য জায়গার সন্ধান করা শুরু করলেন। কষ্টসাধ্য সন্ধানের একপর্যায়ে এমন এক জায়গার সন্ধান পেলেন যেখানে কেবল জায়গাই ছিলনা, ছিল সেই জায়গার উপর একটা পুরোনো বাড়িও। বাড়ী সহ সেই জায়গার বেশ সস্তা দাম শুনে দারুন আগ্রহী হলেন তিনি। পেছনে আবার চিন্তা করতে লাগলেন যে, জায়গা আর বাড়ি দুটো একসাথে এত সস্তায় দেয়ার কারণ টা কি? কোনো ঝামেলা নেই তো? তাই জোড়ালো খোঁজ করা শুরু করলেন আলাল মিয়া। খোঁজ করার পর জানতে পারলেন বাড়িতে যে একমাত্র ব্যাক্তি থাকেন যিনি নিজেকে বাড়ির মালিক বলে দাবি করেন তার নাম রমেশ এবং তিনি মূলত এই বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন। বাড়িটি প্রায় ষাট বছর আগে নির্মিত। আর পনেরো বছর আগেই এই বাড়ির একমাত্র বেচে থাকা উত্তরাধিকারি ব্যাক্তিটিও মারা গেছেন। তখন থেকে এই তথাকথিত মালিকিই বাড়ির রক্ষক। যদিও এই ব্যাক্তিটি দাবি করেন যে মৃত্যুর পূর্বে বাড়ির মালিক তাকে এই বাড়ি এবং জমি দুটোই দান করে দিয়ে গেছেন। বাড়ির কাগজ পত্র সবই আছে তার কাছে। আশেপাশের মানুষের কাছে আলাল মিয়া খবর নিয়ে জানতে পারলেন যে এই ব্যাক্তিটি খুবই অসামাজিক। বাড়ির বাইরে বের টের হন না। কারো সাথে কথাও বলেন না। তবে বাড়িটির পরিবেশ ভূতূরে হলেও এ পর্যন্ত কোনো প্রকার ঝুট-ঝামেলা হয়নি এই বাড়িটিতে। আলাল মিয়া তাই সিদ্ধান্ত নিলেন বাড়িটি তিনি কিনবেন। পূরোনো বাড়ি হলেও বাড়িটি বেশ মজবুত।কিছু মেরামত করলেই পূরো আলিশান নতুন এক বাড়ি হয়ে যাবে। তাই মনে মনে বেশ আনন্দিত হলেন আলাল মিয়া।
কাগজ পত্র ঠিক ঠাক করতে করতে কিছুদিন পেরিয়ে গেলো। কিন্তু এর মাঝে কিছু ছোটো ছোটো ঘটনা আলাল মিয়া লক্ষ করলেন। যেদিনই রমেশের সাথে দেখা করতে যেতেন সেদিনই দেখতেন রমেশের শরীরে অদ্ভুত সব আচরের দাগ। কি হয়েছে জিজ্ঞাস করলে সে বিভিন্ন কথা বলে এড়িয়ে যেত। আলাল মিয়াও এসব নিয়ে মাথা ঘামাতেন না।

বাড়ি বুঝিয়ে রমেশ অজানার উদ্দেশ্যে চলে গেলো। আলাল মিয়া মহানন্দে জায়গা আর বাড়ি বুঝে নিলেন। এবার বাড়ির ভেতরটা আরো গভীর ভাবে দেখার পালা। ভেতরটা আসলেই আলিশান। দেয়ালে দেয়ালে কারুকাজ। কিন্তু সাংঘাতিক রকমের শ্যাতশ্যাতে। সকালে ঢুকলেও মনে হবে যেনো সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। দেয়ালের সাথে সংযুক্ত কাঠের পাটাতন। তার ওপর কয়েকটা হাতের চুরি, একটা নুপুর একটা আয়না আর একটা সিঁদুরের কৌটা। কে বা এই গুলো ব্যবহার করত? এই ভেবে তিনি নুপুরটা দেখার জন্য হাতে তুলে নিলেন। সাথে সাথে অন্য এক ঘর থেকে এমন একটা শব্দ তিনি শুনতে পেলেন যেনো কোনো মেয়ে নুপুর পায়ে দৌড়ে গেলো। কৌতুহল বসত শব্দের আগমনের দিকটা আন্তাজ করে তিনি তাড়াতাড়ি এগিয়ে পাশের ঘরের দিকে গেলেন। আর দেখলেন, ঘরের মেঝেতে গুটি আট খানা নেভানো  মোম যেগুলো গত রাতেও হয়ত জ্বালানো হয়ে থাকবে আর বিস্তৃত জায়গা জুড়ে সিঁদুর যাতে অসংখ্য আংগুলের আচঁরের হ্যাচকা দাঁগ। ওই ঘরেই একটা ছোট্টো চকি ছিল। হঠাৎ তিনি খেয়াল করলেন যে চকির নিচে থেকে নুপূরের শব্দটা শোনা যাচ্ছে। নিচে কেউ আছে ভেবে আলাল মিয়া উঁকি দিলেন……….(চলবে)