তিনি (???!!!) দূর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচালেন যেভাবে. . . . . . .(ভৌতিক কাহীনি)১ম পর্ব

0

কয়েকদিন থেকে নানা ব্যস্ততার কারনে ঘটনাটি শেয়ার করতে পারিনি । তো যাই হোক, আমার বাড়ী থেকে দক্ষিনপূর্ব কোণে কালসারডাড়া নামক একটি স্থানে মাঝে মধ্যে যেতে হয় আমার ব্যবসায়িক কারনে । আমার বাড়ী থেকে ঐ যায়গার দূরত্ব মাত্র ১০ কিঃমিঃ । আমি অবশ্য বাইকটা নিয়েই চলাচল করি সেখানে । কয়েকদিন আগেও গিয়েছিলাম সেই যায়গায় । নানা কাজ সেরে সেদিন বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত শোয়া এগারোটা বেজে গেল । মনের মধ্যে খানিকটা ভয় কাজ করছিল । একঃ চোর ডাকাতের দুইঃ জ্বিন ভূতের । ঐ যায়গায় যাওয়ার পথে অনেক পুরাতন কবরস্থান সংলগ্ন একটি ঈদগাহ মাঠ পড়ে । অবশ্য এই ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থানের আশে পাশে কোন জনবসতি নেই । বিশাল বিস্তীর্ন পাথারের মাঝে এটি অবস্থিত । এ যায়গাটি নিয়ে নানা কল্প কাহীনিও ছড়িয়ে আছে মানুষের মাঝে । এখানে নাকি অনেকেই অনেক ভৌতিক ঘটনার সম্মুখিন হয়েছেন । সন্ধ্যার পর তাই এই রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচল কম । চলাচল করলেও দলবেধে বা সাথী ছাড়া কেউ করেনা । যদিও আমি এগুলোকে তেমন একটা গুরুত্ব দেইনা । হয়তঃ আপনারা মনে করছেন আমি খুব সাহসী, আসলে তা নয় একটু একটু ভয়ও কিন্তু করি । বাড়ী ফিরছিলাম একা একাই । ঘড়ির কাঁটা রাত ১১:১৫ যথারীতি ৫০-৬০ কিঃমিঃ বেগে ড্রাইভ করছি । জনমানবহীন রাস্তা, চলছি আমি একা, রাস্তার দু ধারে লাগানো মেহগনি গাছের সারি । রাতের বেলা এমন রাস্তা দিয়ে যেতে ধরলে কার না গাঁ ছমছম করে ।
যখন ভৌতিক যায়গা থেকে মাত্র ১ কিঃমি দূরে ঠিক তখনই আমার শরীরটা অজানা এক ভয়ে শিউরে উঠলো । যায়গাটি তাড়াতাড়ি পার হওয়ার জন্য বাইকের গতি বাড়ালাম । প্রায় ৮০ কিঃমিঃ বেগে চলছে , মিটারে লক্ষ্য করলাম । এখন আমি যায়গাটির ঠিক ১৫-২০ গজ দূরে । কলিজাটা আরেকবার মোচড় দিয়ে উঠলো । কবরস্থান ক্রস করছি ঠিক এমন সময় কোন কারন ছাড়াই গাড়ীর হেডলাইট অফ হয়ে গেল ।

মেছোভূত আমার গলা টিপে ধরেছিল ২

0

পর্বঃ ২
অন্ধকারের জন্য তখনও করিমের মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “এতো অন্ধকারে মাছ ধরতে নামাটা কি ঠিক হবে?” সে বলল, “আরে কিছু হবে না। দেরি করলে লোকজন চলে আসতে পারে।”
করিমের গলার আওয়াজ কেমন যেন অন্য রকম মনে হল। মনে হল অন্য কেউ কথা বলছে। আমি অবাক হলাম না। কারণ ঘুম থেকে উঠলে গলার স্বর একটু অন্য রকমই লাগে। করিম এতো তাড়াহুড়ো করতে লাগলো যে আমি আর আপত্তি করার সুযোগ পেলাম না। জামাকাপড় গুটিয়ে নেমে পড়লাম বিলে। করিমও গুটালো জামাকাপড়। তবে নামার আগে কিসের যেন একটা পুটলি লুকিয়ে রাখলো ঝোঁপের মধ্যে। আমি সে দিকে তাকাতেই ধমকে উঠল সে, “যে কাজ করতে এসেছিস, সে কাজ কর। এতো কথা বলিস না।”
এবার করিমের গলাটা শুধু অন্যরকমই না, একেবারে অদ্ভূতশোনা গেল। আমি তার দিকে ভাল করে তাকালাম। সঙ্গে সঙ্গে সে মুখ ঘুরিয়ে নিল। তারপর লম্বা লম্বা পায়ে এগিয়ে যেতে লাগল খাদের দিকে। এমনিতে বিলে তেমন পানি না থাকলেও খাদে তখন অনেক পানি। যে কেউ ডুবে যাবে। কিন্তু করিম এক লাফে নেমে পড়ল খাদে। নেমেই ডাকতে লাগল আমাকে,“ আয় আয়। বেশি পানি নেই, ডুববি না।” আমি জোর গলায় বললাম,“না,আসব না। খাদে অনেক পানি। ডুবে যাব।” করিম রেগেমেগে বলতে লাগল, “কে বলেছে অনেক পানি! দেখতে পাচ্ছিস না আমার মাত্র হাঁটু পানি?” যদিও অন্ধকারেরজন্য তেমন দেখা যাচ্ছে না, তবু আমি ভালভাবে তাকিয়ে দেখলাম সত্যি সত্যি হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে আছে করিম। দেখে আমি তো একেবারে থ। যে খাদে কম পক্ষে পাঁচ হাত পানি হবে, সেখানে কিনা তার হাঁটুপানি হচ্ছে!
হঠাৎ করিম আমার হাত ধরে টানতে লাগল। কিন্তু খাদ থেকে কীভাবে সে এতো তাড়াতাড়ি আমার কাছে এলো, হাত ধরলো- বুঝতে পারছিলাম না। আমি হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য যেই তার হাতের দিকে তাকালাম, দেখি সে দাঁড়িয়ে আছে খাদেই। তার হাত দুটি লম্বা হয়ে এসে আমার হাত ধরেছে। শুধু তাই নয়,তখনও আমাকে টানছে খাদে নামানোর জন্য। আর আমি প্রাণপণে চেষ্টা করছি হাত ছাড়িয়ে নিতে। একসময় টের পেলাম কে যেন আমার গলা চেপে ধরেছে। তারপর আর কিছু বলতে পারব না।
কে যেন আমার চোখেমুখে ঠাণ্ডা পানি ছিটিয়ে দিল। চোখ খুলে দেখি মা-বাবা ভাইয়াসহ গ্রামের শতশত মানুষ ঘিরে রেখেছে আমাকে। এতো মানুষ কেন? জিজ্ঞাসা করতেইজানতে পারলাম, রাতে আমি ভূতের খপ্পরে পড়েছিলাম। ওটা আসলে করিম ছিল না, ওটা আসলে করিম ছিল না, ছিল ভূত। আর তখনও রাত পোহাতে ঘণ্টা তিনেক বাকি ছিল। করিম এসেছিল সময় মতই। বারবার দরজায় নক করার পরও যখন সাড়া শব্দ পাচ্ছিল না, তখন সে ডাক দিয়েছিল আমাকে।এতে ঘুম ভেঙে যায় ভাইয়ার। আমাকে ঘরে না দেখে তারা খুঁজতে থাকে এদিক সেদিক। এক সময় আমাকে তারা উদ্ধার করে বিল থেকে। সবাই নিশ্চিত,আর কিছুক্ষন পরে গেলে আমাকে আর জীবিত পাওয়া যেত না।

মেছোভূত আমার গলা টিপে ধরেছিল ১

0

আমাদের গ্রামটা তখন বেশ ফাঁকা ছিল । পুরো গ্রামে বিশটা বাড়ি ছিল কিনা সন্দেহ। যেহেতুবাড়ি কম, অতএব মানুষও কম। কোন কোলাহল নেই, নিরব নিস্তব্ধ চারদিক। দিনে দুপুরে হাঁটাচলা করতেইকেমন যেন ভয় ভয় করত। বিশেষ করে আমাদের গ্রামে বড় বড় কয়েকটা গাছ ছিল- গাব গাছ আর বট গাছ। আমরা এসব গাছের ধারে-কাছে যেতাম না। কারণ মা বাবা সব সময় আমাদের সতর্ক করে দিতেন, এই সবগাছে নাকি ভুত থাকে। সুযোগ পেলেই ঘাড় মটকাবে।
মা বাবার কথা যে সত্য, সেটা বোঝা যেত গাছগুলোর ডাল পালার দিকে তাকালেই। কী বড় বড় ডাল! এক একটা ডালে রাজ্যের ঝোপ। প্রতি ডালে যদি দশটা করে ভূত বসে থাকে, গল্পগুজব করে তবু কেউ টের পাবে না।
আমাদের পাশের বাড়িতে একটা ছেলে বেড়াতে আসত প্রায়ই। ছেলেটার নাম ছিল করিম। বয়সে আমার চেয়ে দুতিন বছরের বড় ছিল। তবে সে আমার সাথে এমন ভাবে মিশত, আমার মনেই হতোনা আমি তার ছোট। আমরা নানা রকম পরিকল্পনা করতাম একসঙ্গে।কোথায় মাছ ধরতে যাবো, কখন পাখির বাসা খুঁজতে যাবো, কার গাছের ফল পেড়ে খাবো- সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে যেত করিম আসার সঙ্গে সঙ্গেই। তবে এসব পরিকল্পনা আমরাযেখানে সেখানে বসে করতাম না। কারণ মা বাবা শুনে ফেললে পিঠে যে শুধু লাঠি ভাঙবেন তা-ইনা, দুএক বেলা খাবারও বন্ধ রাখতে পারেন। এজন্য আমরা চুপচাপ চলে যেতাম বাড়ির বাইরে। মন খুলে বুদ্ধি পরামর্শ করে দুজন দুদিক দিয়ে ঢুকতাম বাড়িতে। কেউ যদি কিছু টের পেয়ে যায়, সেই ভয়ে।
একবার এক ছুটিতে বেড়াতে এলো করিম। এসেই দৌড়ে চলে এলো আমাদের বাড়িতে।আমি তখন ঘুমাচ্ছিলাম। করিমের ধাক্কায়ঘুম ভেঙে গেলো। সে কিছু না বলে ইশারা দিলো বাইরে যাওয়ার জন্য। আমি কোন কথা বাড়ালাম না। বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা গিয়ে দাঁড়ালাম গোয়াল ঘরের পেছনের চিকন পথটায়। তারপর দুজনে কুশল বিনিময় করতে করতে চলে গেলাম বিলপাড়। এরই মধ্যে করিম জানাল এবার সে পুরো এক সপ্তাহ থাকবে। পরীক্ষাশেষ, তাই স্কুল বন্ধ। শুনে আমি লাফিয়ে উঠলাম আনন্দে। এক সপ্তাহ দুজন এক সাথে থাকার সৌভাগ্য এর আগে কখনও হয়নি। করিম বলল, “সারা সপ্তাহের পরিকল্পনাটা এখনই করে ফেলতে চাই।”
কিন্তু বসবো কোথায়? বিলপাড়ে অনেক মানুষ। সবাই বিল পাহারা দিচ্ছে।প্রায় শুকিয়ে যাওয়া বিল থেকে পাশের পাড়ার ছেলেরা মাছ চুরি করতে আসে তো, তাই। কোন নির্জন জায়গা নেই। আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম একমাত্র বটতলাটাই ফাঁকাআছে। কিন্তু বটতলায় গিয়ে বসার মতো সাহস আমার নেই কে জানে কখন ঘাড়ের ওপর লাফিয়ে পড়ে ভূত। করিম খুব করে বোঝাল। বলল, “এতো ভয় পেলে জীবন চলে না। এছাড়া কেউ তো আমাদের বেঁধে রাখবে না। ভুতের আনাগোনা পেলে ঝেড়ে দৌড় দেব। দৌড় আমরা কম জানি না। বরাবরই ফার্স্টহই। সবচেয়ে বড় কথা হল আর কোথাও নির্জন জায়গা নেই।” অতএব আমরাগিয়ে বসলাম বটতলায়। ভয়ে আমার বুক কাঁপতে শুরু করলেও করিমকে সেটা বুঝতে দিলাম না লজ্জায়।
করিম নানা রকম পরিকল্পনা করতেশুরু করল। আমি তেমন কোন কথা না বলে শুধু হ্যাঁ হ্যাঁ করে যেতে লাগলাম। আর বারবার তাকাতে লাগলাম বটগাছেরডালের ঝোঁপগুলোর দিকে। করিমের অনেকগুলো পরিকল্পনার মধ্যে একটা পরিকল্পনা ছিল- পরের দিন খুব ভোরে আমরা বিলে মাছ ধরতে নামব। চুরি করব না, আমাদের জমি থেকেই ধরব। নিজ হাতে বড় মাছ ধরার মধ্যে একটা আনন্দ আছে। এছাড়া সকাল বেলা সবাইকে মাছ দিয়ে চমকে দেওয়ার ব্যাপারটা তো আছেই। আমি একমত প্রকাশ করলাম করিমের সাথে। সিদ্ধান্ত হলো- ফজরের আজান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে এসে আমাকে ডাক দেবে। আমি তখন বেরিয়ে যাবো আস্তে করে। কথাবার্তা শেষ করে আমরা উঠে দাঁড়ালাম বসা থেকে। বাড়ির দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে আরো বেশ ক’বার তাকালাম ডালের দিকে। করিমকে জিজ্ঞাসা করলাম,“আচ্ছা, আমাদের সব পরামর্শ ভুত শুনে ফেলেনি তো?” করিম হেসে বলল, “তুই কীযে বলিস না! ভূতের খেয়ে দেয়ে আর কাজ নেই,আমাদের কথা শুনতে আসবে। শোন, মাথা থেকে এসব আজগুবি চিন্তা দূর কর।”
বাড়ি আসলাম। রাতে একটু পড়াশোনা করে শুয়ে পড়লাম। কিন্তু কোনভাবেই ঘুম আসছিল না। শুধু মনে হচ্ছিল- কখনআজান দেবে, আর কখন বিলে যাব। এপাশ ওপাশ করছিলাম। শোয়া থেকে উঠে-বসেও ছিলাম তিন চার বার। তারপর হঠাৎ কখন ঘুমিয়ে পড়ি, টের পাইনি। ঠকঠক করে আওয়াজ হলো দরজায়। সঙ্গে সঙ্গে ঘুম ভেঙে গেল আমার। ঘাড় উঁচু করে তাকালাম পাশের খাটে। যদিও অন্ধকারের জন্যদেখা যাচ্ছে না, তবু নাক ডাকানো শুনে বুঝতে পারলাম ভাইয়া গভীর ঘুমে। অতএব নিশ্চিন্তে বেরিয়ে পড়লাম ঘর থেকে। বাইরে এসেই দেখি করিম দাঁড়িয়ে আছে মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে। অন্ধকারে তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু এতো অন্ধকার কেন ঠিক বুঝলাম না। আযানের সময় তো প্রায়ই উঠি। অন্যদিন তো এতো অন্ধকার থাকে না। মনে হয় আজ আকাশে অনেক মেঘ। আমি কয়েকবার বাবার ঘরের দরজার দিকে তাকিয়ে হাঁটতে লাগলাম করিমের পিছুপিছু। দেড় মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেলাম বিলপাড়

! ! ! অবশেষে ভূত দেখলাম ! ! !

6

ভূত দেখার শখ কার নেই ? এমন লোক খুজে পাওয়া দূস্কর । ভূত আছে কি নেই তা নিয়েও ৯৯% মানুষ দ্বিধাদ্বন্দে ভোগেন । কিন্তু চরম বাস্তবতা হলো ভূত বলে কিছু নেই । আছে শুধু মানুষের মত একটি জাতি আর তা হলো জ্বীন জাতি । মানুষের যেমন নারী পুরুষ দুটি জাত আছে, তেমনি জ্বীনদেরও আছে জ্বীন ও পরী দুটি জাত । আপনাকে এটি বিশ্বাস করতেই হবে যদি আপনি ঈমানদার হন । মানুষের মধ্যে যেমন ভাল মন্দ উভয় প্রকার লোক থাকে তেমনি জ্বীনদের মাঝেও ভাল মন্দ উভয় প্রকার জ্বীন থাকে ।
থাক সেসব কথাঃ আসল ঘটনাটা বলছি শুনুন ।
প্রতিবছর রমজান মাসে আমার একটা দায়িত্ব পড়ে যায় আর তা হলো- মসজিদের মাইকে শেষ রাতে অর্থাত্‍ সেহরীর সময় এলাকাবাসীকে শব্দ যন্ত্রের মাধ্যমে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা । আর তাই মসজিদের একটা চাবিও দেয়া হয়েছে আমাকে । আমি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় রাত ০২:৩০ মিনিটে মসজিদে গিয়ে এই কল্যানমূলক কাজটি করি । এতদিন কোন সমস্যা হয়নি । আর অসম্ভব ঘটনাটা ঘটলো গতকালই । গতকাল রাতে মসজিদের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে লাইট অন করে দিলাম । শব্দ যন্ত্রটা যেখানটায় আছে সেদিকে গেলাম । আমি যন্ত্রটার পাওয়ার সুইচ অন করে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে যথারীতি উঠুন জাগুন সেহরী পাক করুন সেহরী পাকের উত্তম সময় হয়ে গেছে এখন রাত ০২ টা ৩০ মিনিট ।
এরপর একটা ইসলামী সঙ্গীত শুরু করলাম- আমি কোরআনের সুর মাঝে শুনেছি যে নাম আযানের সুর মাঝেও শুনেছি ও নাম . . . . . . . .
হঠাত্‍ আমার নজর পড়লো মসজিদের মেহরাবের কাছে । দেখি সাদার চেয়েও অনেক বেশি সাদা রঙ্গের পাঞ্জাবী পরা লম্বা ফর্সা অনেক সুন্দর চেহারার এক অপরিচিত লোক নামাজ আদায় করছে । এই দেখে ভয়ে আমার গান গাওয়া কখন থেমে গেছে জানিনা । হার্ট এটাক হওয়ার উপক্রম । গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে । শরীরের সমস্ত লোম খাঁড়া হয়ে গেছে । ঘামে ভিজে গেলাম তবুক চাতক পাখির ন্যায় অপলক চেয়ে আছি লোকটার দিকে ।
কিছুক্ষন পর লোকটা সালাম ফিরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসি দিলেন । আমি কোন রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে মাইক্রোফোনটা রেখেই দিলাম দৌড় বাড়ী অভিমুখে । এত বেশি ভয় পেয়েছিলাম যে পায়ের জুতাজোড়াও আর নেইনি । বাড়ীতে ঢুকেই কযেক গ্লাস পানি খেলাম । আর ঘটনাটি বাড়ীতে সবার কাছে গোপন রাখলাম । আপনাদের কাছে শেয়ার করলাম । জানিনা ঠিক করলাম কিনা ?

সাঁপ

2

অনেক দিন আগের কথা ! প্রতিদিনের ন্যায় বিকেল বেলা তমাল বাড়ীর উঠোনে বের হয়েছে । উঠোনের পাশেই কবরস্থান । যেমন তেমন কবরস্থান নয় এটি । অনেক পুরাতন । বেশিরভাগ কবরের পরিচয় জানেনা কেউ । যে জাম গাছটার নিচে প্রতিদিন বসত আজও সেই জায়গায় দাড়িয়ে আছে তমাল । প্রকৃতির সবুজ ঘেরা অসম্ভব সুন্দর সৌন্দর্য উপভোগ করছে আর ভাবছে. . . . . .
কি বিচিত্র আল্লাহর সৃষ্টি ! কত সুন্দর করে নিপুন হাতে গড়েছেন এই পৃথিবী । কোথাও কোন বিন্দু মাত্র ভুল নেই । সৃষ্টির কারুকার্য দেখে সেচ্ছায় সৃষ্টিকর্তার কাছে মাথা নত হয় তমালের । একমনে শুধু ভাবছে আর ভাবছে । কবরস্থানের দিকে তাকিয়ে মৃত্যুর কথা মনে পড়ে যায় । কি সম্বল আছে ওপারে যাওয়ার ? আমার তো তেমন কোন পুণ্যই নেই । কিভাবে থাকবো ঐ অন্ধকার কবরে । যেখানে একদিন সবাইকেই যেতে হবে ।কি করেছি আমি এই ছোট্ট জীবনে ? যেদিকে তাকাই সেদিকেই শুধু পাপাচার আর অনাচার ।কেউ কি ভয় করেনা নাকি যে তাদের একদিন মরতে হবে । যেতে হবে সেই অন্ধকার কবরে । নাহ্ আর ভাবতে পারছিনা । আল্লাহর ভয়ে কেমন জানি অন্যরকম লাগছে । কেনজানি হঠাত্‍ বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো । ঠিক সেই সময় কোথা থেকে যেন সুললিত কন্ঠে কোরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ শুনতে পায় তমাল । কান পেতে থাকে কোন দিক থেকে আওয়াজটা আসে । এমন সুমধুর সুরে কোরআন তেলাওয়াত ইতি পূর্বে কখনও শোনেনি । কে তাহলে এত সুন্দর করে তেলাওয়াত করছে ?
এমন সময় চোখ পড়লো তার থেকে ৩-৪ হাত দূরেই একটি গোখরা সাঁপ ফনা তুলে তার দিকে চেয়ে আছে । আর ঐ তেলাওয়াতের সুরটাও সাঁপটার কাছ থেকে আসছে । সাঁপটি মাথা দুলাচ্ছে আর অসম্ভব সুন্দর করে তেলাওয়াত করছে । তমাল ভেবে পায়না এখন তার কি করা উচিত ? ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগলো তমাল । দৌড় দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করে তমাল । কিন্তু তা আর হয়না যেন । পাঁ টা যেন প্যারালাইজড হয়ে গেছে । কোন এক অদৃশ্য শক্তি যেন আটকে রেখেছে তাকে ।সাঁপটি অনবরত তেলাওয়াত করেই যাচ্ছে ।

কতক্ষন এভাবে কাটলো বুঝতে পারেনা তমাল ।ভয় অনেকটাই কেটে গেছে । ভয় পাওয়ার কি আছে? সাঁপটা তো আর তার কোন ক্ষতি করছেনা ।মনে মনে নিজেই নিজেকে সাহস দেয় তমাল । দেখিনা শেষ পর্যন্ত কি হয় । মনে হয় জ্বীন ভুত জাতিও কিছু একটা হবে এটা । শরীর থেকে টপটপ করে ঘাঁম পড়ছে যেন গোসল সেরে আসলো এখনি । কি আর করা , হাঁ করে সাঁপটার দিকে তাকিয়ে শুধু তেলাওয়াত শুনছে তমাল । তমালের মনে হলো সাঁপটা কোন একটা বড় সূরা ধরেছে এবং তা সম্পূর্নটা না শুনিয়ে ছাড়বে না । না শুনতে চেয়ে তো আর লাভ নেই । আর তাছাড়া শুনতে তো ভালোই লাগছে ।
ছদাকল্লাহূল আযীম. .. .. . .
যেন জ্ঞান ফিরে পায় তমাল । এখন বোধহয় ছাড় পাবো । নাহ্ পাঁ তো উঠছেনা । আরো কি . .. . . . ? মুখ ফসকে কথাটা বের হয় তমালের । চেয়ে দেখে সাঁপটার দিকে । হঠাত্‍ . . .
সাঁপটা তার চেহারা বদলালো । পরিনত হলো একটি মৌমাছি তে ।সাইজটাও অন্য সব মৌমাছি থেকে অনেকটা বড় । আরে এতো দেখছি আমার দিকেই উড়ে আসছে । পালাই যদি কামড় মারে । তমালের পাঁ দুটো এবার কিন্তু ফ্রি হলো । এক দৌড়ে আঙিনায় এসে উপস্থিত । আর ঐ মৌমাছিটাও পিছন পিছন উড়ে আসে । এসে বসে আঙিনায় থাকা ঠিক লাউয়ের মাঁচার উপর । আর অদ্ভুদ সব ঘটনা ঘটে যেতে লাগলো তখন । নিমিষেই লাউ গাছে ফুল আসলো । পরাগায়ন ঘটলো, লাউয়ের জালি গুলো অতি দ্রূত বড়ও হওয়া শুরু করলো । একি ! অবাক কান্ড । ব্যপারটাতো মাকে জানানো লাগে, বলেই মা মা মা বলে ডাকতে থাকে তমাল । মা আসতে এত দেরি করছে কেন ? জোরে জোরে ডাতে লাগলো মা ও মা ও মা . . .. . . . .
মাথায় কারও যেন পরশ অনুভব করে তমাল ।চেয়ে দেখে তার মা । কিরে ঘুমের মধ্যে আমাকে ডাকছিস কেন ? কোন স্বপ্ন দেখেছিস?

ভূতের কবলে একদিন !

2

এইতো কিছুদিন আগের কথা । আমি পড়ে ছিলাম ভুতের কবলে । কিন্তু কিভাবে? সেই ঘটনাই বলবো এখন । তার আগে কিছু কথা বলতে হবে ঘটনাটা বোঝার খাতিরে । আমাদের এলাকার এম পি একটি কবরস্থান বানিয়েছেন বেওয়ারিশ লাশের সত্‍কার করার জন্য ।সেটি আমাদের বাড়ী থেকে দঃক্ষিন দিকে আঙরার বিলের উপর অবস্থিত । আমাদের এমপি সাহেব প্রায় পাঁচ ছয় একর জমির উপর এটি নির্মান করেছেন । আমি তার এই মহান কাজকে স্বাধুবাদ ও মোবারকবাদ জানাই । আরে ধুর! আমি কি’না পল্টন ময়দানে ভাষন দিচ্ছি । তো সেই কবরস্থানের পাশেই আমাদের জমি । প্রতিবছর সেই জমিতে বোরোধান লাগাই । আমাদের এদিকে এই বোরো ধানকে ইরি বলে । আমাদের এলাকাটি কাঠালমাটি মানে লালমাটিই বেশী । আর তাই প্রতাদিনই জমিতে পানি সেঁচ দিতে হয় । আর এজন্য শ্যালো মেশিন সেচপাম্প কে পানি সেঁচের অন্যাতম মাধ্যম হিসেবে নেয়া হয় । কারন আমাদের জমির কাছাকাছি বিদ্যুতের লাইন নাই । তাই এ ব্যবস্থাকেই বেছে নেয়া হয়েছে । যাহোক, আমরা খড়ের একটি ছৈ বা তাবু তুলে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করি । অবশ্য কবরস্থানে থাকার ব্যাপারে আমার পরিবার ও এলাকা বাসী অনেক ভয়ভীতি দেখিয়েছিল । আমি একটু বেশি সাহসী কিনা ! তাই কারো ভয়ভীতি নিষেধ উপেক্ষা করে সেখানেই থাকার জন্য মন স্থির করি । আর এক যেখানে ঐ আলগা ঘরটি করা হয়েছে তার ঠিক ১ হাত পূর্ব পাশেই ৩০টির ও বেশী লাইন করা কবর । আমাদের ছৈ এর পাশেই যে কবরটি সেটি একটি ফাঁসিতে মরা এক মহীলার । যাহোক , আর ঐ ছৈ এর মধ্যে আমি শুধু একাই থাকি তা নয় আমার এক পড়শী (আমার বয়সী) মিলে দুজন থাকি । আমি বিবাহিত আর পড়শি অবিবাহিত ।
যাহোক , অনেকক্ষন বকবক করলাম আসল কথা বলাই হয়নি ।
প্রতিদিনের ন্যায় আমরা দুজনে মিলে রাত ৯ টায় শোয়ার জন্য গেলাম । আমার ঐদিন ঘুম আসছিল না । কেন জানি ছটফট লাগছিল । মোবাইলের ঘড়িতে দেখি ১২টা বাজে আর পাশের জন ঘুমে বিভোর । বাড়ীতে বউয়ের কাছে ফোন দিয়ে বললাম আমি আসছি । খারাপ লাগছে খুব । তাই চলে এলাম…… ঠান্ডা বেশী তাই সকালে মেশিন স্টার্ট দিয়ে গোসল করবো বলে লুঙ্গিটা নিয়ে ফিরে এলাম ঐ ছৈ ঘরে । একদম চাঁদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম । তবুও ঘুম আসে না । কি করি মোবাইল থেকে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা শুরু করলাম । রাত ২টা ৩০ মিঃ হঠাত্‍ হুড়মুড় করে ছৈ সহ আমাকে কে যেন ঠেসে ধরলো । যেন একটা আস্ত পাহাড় আমার গায়ের উপর ধ্বসে পড়লো । আমিতো চোখে মুখে লেপ গায়ে দিয়ে উপর হয়ে শুয়ে ছিলাম। উপর থেকে অসাভাবি চাপে দম বন্ধ হয়ে আসছে । আমি মরে যাচ্ছি নিশ্চিত! আমাকে ঠেসে ধরার মাত্রা যেন ক্রমেই আরও বেড়ে গেল । কতঃক্ষন এভাবে কাটলো জানিনা ।আমি অনেক চেষ্টা করছি নিঃশ্বাসটা ফ্রি করতে । কিন্তু যত চেষ্টা ততো বিফল । অবশেষে মনে হলো মরেই তো যাচ্ছি একটু দোয়া কালাম পড়ে নিই । আয়াতুল কুরছী পড়তে চাচ্ছি কিন্তু মনে করতে পারছি না । কি সাংঘাতিক বিপদ অবশেষে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা…….
পড়ার সাথেই নিশ্বাসটা পাতলা হলো, ছৈ উপরে উঠে গেল, আমিও মনে হয় বেঁচে গেলাম ।লক্ষ্য করলাম ছৈ যেমন ছিল তেমনি আছে । কোনরকম পাশের জনকে ডেকে তুললাম, সে কিছু টের পেয়েছে কিনা? তার ভাবগতি দেখে বুঝলাম সে কিছুই টের পায়নি । তাই রাতে ওকে আর কিছু বললাম না । শুধু বললাম, পেসাব করবো বাইরে চলো . . .

ভূতের গোসল !

2

প্রথমেই বলে রাখি আমি বড় মাপের কোন লেখক নই । তাই, আমার গল্পে সমষ্টিগত অনেক ভূল হতে পারে এজন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আগেই । যাহোক , কাহিনী টা শুরু করি । এটি আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি অলৌকিক ঘটনা । এর ব্যাখ্যা দাড় করাতে পারছিনা । আমি যে ঘরে থাকি সেই ঘর থেকে আমাদের মসজিদ এর দূরত্ব ২৫-৩০গজ । মসজিদ এর টিউবওয়েলের পাশেই অনেক পুরাতন একটি নারকেল ও পুরুষ তাল গাছ । এ গাছদুটিতে নাকি জ্বীনেদের আবাস । অবশ্য তা প্রথম জানতে পেরেছি আমার মায়ের মুখে এবং পরে এলাকার মুরুব্বীদের অনেকের কাছ থেকে । তবে এই জ্বীনগুলো নাকি ভাল জ্বীন । কারো কোন ক্ষতি করে নাই কোনদিন । আমার দাদার সাথে নাকি অনেকদিন তাহাজ্যুতের নামাজ পড়েছে এই জ্বীনটি । তো ঘরে শুয়ে থেকেই জানালা দিয়ে নারকেল ও তাল গাছ গুলো এবং টিউবওয়েল স্পষ্ট দেখা যায় । চৈত্র গরমের রাতঃ ০২:৩৫ মিঃ এ টিউবওয়েল ঠেঁলার চেঁচামেচি শব্দে ঘুম ভেঁঙ্গে যায় আমার । কিছুটা বিরক্ত মনে করলাম । এতরাতে কে গোসল করে তা দেখার জন্য জানালা দিয়ে উকি দিলাম । দিয়ে যা দেখলাম তাতে চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল । শরীরের ভীতর একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল । দেখলাম, মাটি থেকে এক হাত ভাসমান একটি কুঁচকুঁচে কালো লোক কাপড় পরিস্কার করছে । ভয়ে আমার শরীরের সমস্ত লোম গুলো খাঁড়া হলো । আমি স্পষ্টই দেখতে থাকলাম, মসজিদের বাইরের কারেন্টের বাল্ব এর আলোতে লোকটাকে মোটামুটি পরিস্কার দেখা যাচ্ছে । লোকটার দিকে নিঃশ্বব্দে অপলক চেয়ে যেন থমকে গেলাম কিছুক্ষনের জন্য ! দেখছি আর ভাবছি, আজ আমার রক্ষা নেই । প্রায় মিনিট ৫ এক পর লোকটির কাপড় ধোয়া শেষ হলে এদিক ওদিক তাকিয়ে নারকেল গাছটার কাছে গেল । গিয়ে লিফ্ট এর মত শূণ্যে ভাসতে ভাসতে নারকেল গাছ বেয়ে (হাত দিয়ে না ধরেই) তরতর করে উপরে উঠে গেল । এ দৃশ্য দেখে আমার শরীর ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলো । ঐ মূহুর্তে আমি এতটাই ভয় পেয়েছিলাম যে প্রাকতিক কাজটি বিছানাতেই. . . . . . . . . . . . . . . . . . , . . . . . . . । পরে বাকি রাত গায়ে মুখে কাঁথা দিয়েও ভয়ের চোটে আর ঘুমাতে পারিনি এবং জানালাও বন্ধ করতে পারি নি । ভাগ্যিস সেদিন অজ্ঞান হয়ে হইনি ।