একটি ছোট সত্য ঘটনা

0

।। বিশ্বাস অবিশ্বাস আপনাদের কাছে ।।

এটা আমার চাচির মুখে শোনা আমার দাদাকে নিয়ে একটা ঘটনা।আজ থেকে প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগের ঘটনা।আমার দাদা একজন পরহেজগার মানুষ ছিলেন।প্রত্যেক ওয়াক্ত নামায সময়মত আদায় করতেন।এক রাতে তিনি ঠিক করলেন মসজিদে সারারাত থেকে আল্লাহর ইভাদাত বন্দেগী করবেন।এই জন্য তিনি সকাল সকাল মসজিদে চলে আসেন।তার ইচ্ছা ছিল পরেরদিন ফজরের নামাজ পরেই আবার বাড়ী ফিরে আসবেন।ঘটনা ঘটে সেখানে।মসজিদে যাওয়ার পথে একটা পুকুর পরে আত তার পাশে বেশ কিছু নারিকেল গাছ।রাতের বেলা গাছ গুলো দেখতে বেশ ভূতুরে দেখায়।দাদা যখন মসজিদে যাচ্ছিলেন তখন পুকুরের পানি বেশ ভালই ছিল।গাছগুলোও স্বাভাবিক ছিল।তিনি মসজিদে গেলেন এবং ভোরে ফজরের নামাজ পরে তিনি মসজিদ থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন।ওই পুকুরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তার টর্চ লাইটের আলো পুকুরে ফেলে দেখেন সেখানে পানি নেই,লাল লাল কি যেন।তিনি আলো ঘুরিয়ে কিনারার দিকে ফেলেই ভয়ে আতকে উঠেন.সেখানে পড়ে ছিল বেশ কিছু মানুষের লাশ,আধ খাওয়া লাশ,কারো মাথা অর্ধেক খাওয়া,কারো হাত নেই,কারও কোমরের নিচের অংশ নেই।দেখে বোঝা যাচ্ছিল সেগুলো খেয়ে ফেলে রাখা হয়েছে আর তাতেই পানি লাল হয়ে গেছে।তিনি ভাবছিলেন যে সকালে তো সব ঠিক ছিল,তাহলে এত মানুষের লাশ সবার চোখের আড়ালে এল কিভাবে।হঠাত পানিতে ধপাস করে একটা শব্দ হল।তিনি আলো সেখানে ফেলে দেখলেন পানিতে আরেকটা লাশ এসে পড়েছে।তিনি উপরের দিকে আলো ফেলে দেখেন তাল গাছের ডগায় মানুষের আকৃতির বেটে আকারের কি যেন একটা মৃতদেহ খাচ্ছে,তাদের পাশে ডালে আরও কিছু মৃতদেহ রাখা।দাদা যা বুঝার বুঝে গেলেন।এটা জ্বীনেরকারবার।পরহেজগার ছিলেন বলে জ্বীন তাড়াবার কিছু উপায় তিনি জানতেন।

তিনি পাশ থেকে একটা কাঠি নিলেন আর তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন,”এবার দেখবো তোদের কে বাচায়” এই বলে তিনি সূরা পরতে পরতে কাঠি দিয়ে মাটিতে একটা বৃত্ত আকতে শুরু করলেন।অর্ধেক আকা হয়েছে এমন সময় সেই জ্বীনদুইটা হঠাত একটা বিকট আর্তনাদ করে ওঠে।তারা নিচের দিকে তাকিতে দেখে দাদার বৃত্ত আকা প্রায় হয়ে গেছে।তারা ততক্ষনাত লাশটা ফেলে খুব জোড়ে একটা দৌড় দেয়।লাশটা সরাসরি দাদার কাধে এসে পড়ে।দৌড় দেওয়ার সময় গাছের ডাল ভাঙ্গার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল।দাদার উদ্দেশ্য ছিল ওই জ্বীন দুটোকে বৃত্তে বন্দী করে পরে বৃত্ত মুছে ফেলবেন।

লিখে মানুষকে ভয় পাওয়ানো কঠিন।তবে কার সাথে কখন কিভাবে কি ঘটতে পারে সেটাই হচ্ছে এই ঘটনাগুলো লেখার উদ্দেশ্য।

পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় ও গোপনীয় ১০টি জায়গা

2

মানুষ বরাবর ই কৌতুহলি।পৃথিবী সে চষে বেড়াতে চাই জানতে চাই সমস্ত অজানাকে।কিন্তু চাইলেই কি পৃথিবীর সব গোপনীয়তা ভেদ করা সম্ভব??
উত্তরটা অবশ্যই না।পৃথিবীতে এমন অনেক জায়গা আছে যেগুলোতে চাইলে

ও কখনই যাওয়া যায়না,জানা যায়না কি হচ্ছে সেখানে আর কেনইবা এতসব গোপনীয়তা???

আজকে এমনি কিছু রহস্যময় জায়গার কথা বলব যেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে সবসময় অধরাই থেকে গেছে।সাধারণ মানুষ পরতের পর পরত রহস্যের গল্প বুনে গেছে এগুলো নিয়ে,কিন্তু কূলকিনারা করা হয়নি কোন রহস্যের। এই রকম ১০টি জায়গা সর্ম্পকে আমরা এখন কিছু জানবো।

১)রাফ মেনওয়িদ হিল | RAF Menwith Hill:
সারা বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এক বিস্ময়ের নাম এই মেনওয়িদ হিল।এটি আমেরিকার ইয়র্কশায়ারে অবস্থিত। এটি একটি ব্রিটিশ সামরিক বেস যার সাথে সংযোগ রয়েছে ECHELON নামক আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সঙ্গে। এটি একটি মিলিটারি বেইজ যেটি ইখেলন গ্লোবাল স্পাই নেটওয়ার্কিং এর সাথে সংযুক্ত।আমেরিকা আর ইংল্যান্ড কে ইন্টিলিজেন্স সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই এটি তৈরি করা হয়।পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইলেকট্রনিক মনিটরিং স্টেশান এখানেই রয়েছে। এটি বাণিজ্যিক গুপ্তচরবৃত্তি কাজেও জড়িত রয়েছে বলে মনে করা হয়। এছাড়া ধারণা করা হয় এটি যেখানে অবস্থিত সেই দেশের সমস্ত টেলিফোন এবং বেতার যোগাযোগের ফিল্টার করা হয় এখান থেকে – যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ।
তবে পুরো জায়গার চারপাশে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা এতটাই জটিল সাধারণ মানুষের ওই পুরো এলাকায় ঢুকা এক্কেবারেই অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে। রোমান্সপ্রিয় কেউ যদি সে সপ্ন কখনো দেখেও থাকে তা স্রেফ আকাশকুসুম কল্পনাই হবে।
~~যে ছবিটি দেয়া আছে সেটি দুরথেকে তোলা রাফ মেনওয়িদ হিল এর ছবি ।

২) মস্কো মেট্রো ২ | Moscow Metro-2:
এটি রাশিয়ায় অবস্থিত।পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্ডারগ্রউন্ড সিটি এইটি।কিন্তু এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সরকারের তরফ থেকে কখনই এর অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া হয়নি।স্তালিনের আমলে এইটি তৈরি করা হয়েছিল।একটা বিশাল অংশের মানুষ মনে করে এটি ক্রেম্লিনের সাথে fsb headquarter এর সংযোগ স্থাপন করেছে।পুরো একটি শহর এটি অথচ মানুষ এই জায়গায় যাওয়া তো দূরে থাক,এখনো এই সম্পর্কে ভাল করে কিছু জানেই না।বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে যেখানে মহাকাশে মানুষের পদধূলি পডেছে সেখানে এই শহরে আসলে কি হয় তার বিন্ধু মাত্র মানুষের জানা নেই।

৩) কক্ষ ৩৯ | Room 39:
১৯৭০ সালে গঠিত এই অরগেনাইজেসানটি উত্তর কোরিয়ার একটি সিক্রেট অরগেনাইজেসান।ঠিক কি উদ্দেশ্য নিয়ে এটি গঠিত হয় তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।তবে এই অরগেনাইজেসানটিকে পৃথিবীর অনেক বড় বড় অপরাধের সাথে জড়িত বলে ধরা হয় এবং এই কাজগুলো সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানেই করা হয়।আপনারা কি সুপার ডলারের নাম শুনেছেন??
যাদের জন্য ব্যাপারটি নতুন তাদের জন্য বলছি এগুলো হচ্ছে আমেরিকান ডলারের নকল ভার্সন অথবা জাল ডলার যেটি পৃথিবীর সব গোয়েন্দা সংস্থা অথবা আমেরিকার মত দেশের নিরাপত্তা ব্যাবস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হল এগুলো ছিল মূল ডলারের মতই উন্নতমানের কটন- লিনেন বেন্ড দিয়ে তৈরি এবং আমেরিকার মুদ্রার অনেক সিকিউরিটি ফিচার এখানে রিক্রিয়েট করা হয়েছিল।এই পুরো ব্যাপারটার জন্য রুম ৩৯ এর দিকেই আঙ্গুল তোলা হয়েছিল সরাসরি।বিভিন্ন রকমের নিষিদ্ধ অস্ত্র কেনাবেচা এবং সুইস ব্যাংকের কিছু একাউন্টের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীতে ইন্সিওরেন্স ফ্রডের জন্য এই সংস্থাটি দায়ী।যেখানে পৃথিবীর সব বড় বড় গোয়েন্দা সংস্থা গুলো সবসময়ই এদের কাছে নাকানি চুবানি খায় হর হামেশাই আমাদের মত সাধারণ মানুষের তাদের আস্তানায় ঢুকার কল্পনা নেহাতই হাস্যকর।

৪) Area 51 :
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদাই অবস্থিত এই জায়গাটি নিয়ে সারা বিশ্বের মানুষ এখনো একটা ঘোরের মধ্যে আছে।এটি একটি মিলিটারি বেইজ এবং পৃথিবীর সবচেয়ে সিকিউর এলাকাগুলোর একটা।এর এরিয়ার বাইরেও একটা বিশাল এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।মূলত এটি একটি বৃহৎ গোপন সামরিক বিমানাঙ্গন বেস, এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ এবং অস্ত্রশস্ত্র সিস্টেমের উন্নয়ন এবং পরীক্ষার সহায়ক। তীব্র গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয় বেস ঘিরে, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে মার্কিন সরকার প্রায়ই অস্বীকার করে যার ফলশ্রুতিতে এটি আজ বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় স্থানে পরিণত হয়ে আছে। কি করা হয় ওখানে???পৃথিবীর একটা বিশাল অংশ মানুষের ধারনা ওখানে এলিয়েন নিয়ে গবেষণা করা হয়।অনেক মানুষ এলিয়েনদের সাথে যোগাযোগ করা গেছে বলেও বিশ্বাস করে।
৫) club 33 disneyland :
সারাবিশ্বের মানুষের জন্য ডিজনিল্যান্ড একটি বিনোদনের জায়গা।পুরো জায়গাটিই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত শুধুমাত্র ক্লাব ৩৩ ছাড়া।ডিজনিল্যান্ডের নিউ অরলিন্স স্কয়ারে অবস্থিত ক্লাব ৩৩ একটি ব্যাক্তিগত ক্লাব।খুব রেস্ট্রিক্তেড করে রাখা হয়েছে ওই জায়গাটি,যেখানে সব সময় মদবিক্রি করা হয়ে থাকে। দাপ্তরিক ভাবে একে একটি গোপন বৈশিষ্ট হিসেবে রাখা হয়েছে।খুব আশ্চর্যের ব্যাপার হল আপনি যদি আজকে আবেদন করেন এই ক্লাবটির সদস্য হতেই আপনার প্রায় ১৪ বছর সময় লাগবে। এই ক্লাবের সদস্য পদ পেতে আপনাকে ১০ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার খরচকরতে হবে, এবং বার্ষিক চাঁদা ৩২৭৫ থেকে ৬১০০ মার্কিন ডলার। যদি ও সাধারণ মানুষের এইখানে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৬)Mount Weather Emergency Operations Center :
এটি এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি প্রবেশ করবার চাইতে কোনদিন যাতে আপনাকে প্রবেশ করতে না হয় সে দোয়াই করবেন! কারণ ঐ যে “বিশ্বের সমাপ্তি” ঘটবে এরূপ ছায়াছবিতে আমরা দেখি এমন একটি গোপন এলাকা যেখানে মার্কিন সরকার তার নির্ধারিত এবং নির্বাচিত কিছু মানুষ নিয়ে প্রবেশ করেন এই আশা নিয়ে যে তারা আসন্ন ধ্বংশলীলা থেকে পালিয়ে আসতে পারবেন। মাউন্ট আবহাওয়া জরুরী অপারেশনস সেন্টার হল সত্যিকার সে জায়গাটি। ১৯৫০ সালে আমএরিকার ভার্জিনিয়াই এটি তৈরি হয়।মুলত তখনকার সমসাময়িক শীতলযুদ্ধের প্রেক্ষাপটেই এটি তৈরি করা হয়। এটি fema (federal emergency management agency) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।কেন এটিকে এতটা গোপন রাখা হয়েছে??আসলে এটি মুলত যেকোন জাতীয় বিপর্যয়ের সময় আমেরিকার (অতি) উচ্চপর্যায়ের নাগরিক আর মিলিটারি অফিশিয়ালদের জন্য এটি সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

৭)Vatican Secret Archives:
যুগযুগ ধরেই ভ্যাটিকান সিটি মানুষের রহস্যের খোরাক,সেই যীশুর আমলের আগ থেকেই পৃথিবীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সাক্ষী এই ভ্যাটিকান।এই জায়গাটিকে storehouse of secret o বলা হয়।খুব সংখ্যক স্কলার ই এই জায়গায় ঢুকতে পারেন তাও পোপের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে।এখানে প্রায় ৮৪০০০ বই আছে আর এই জায়গাটি প্রায় ৮৪ কিমি দীর্ঘ।ধারনা করা হয় খ্রিষ্টান,মেসনারি,প্যাগান আরও অনেক ধর্ম আর মতবাদের অনেক গোপন ডকুমেন্ট এখানে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের এই গ্রন্থগারে প্রবেশের অধিকার নেই।

৮) Ise Grand Shrine : Japan :
জাপানের সবচেয়ে গোপনীয়,পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান। যা আসলে ১০০টিরও বেশি মঠের সমষ্টি ।খ্রিস্টপূর্ব ৪ সালে এটি নির্মাণ করা হয় বলে ধারনা করা হয়।জাপানের রাজকীয় পরিবার আর প্রিস্ট ছাড়া এতটা কাল এখানে আজ পর্যন্ত কেউ প্রবেশ করতে পারেনি।এই শ্রিন টি প্রতি ২০ বছর পরে ভেঙ্গে আবার নতুন করে নির্মাণ করা হয়।এটি নির্মাণে ও রক্ষা করা হয় আতিব গোপনীয়তা । কেন এত গোপনীয়তা ???
ইতিহাসবিদদের মতে এককালের জাপানিজ সাম্রাজ্যের অনেক পুরনো মূল্যবান নথিপত্র ওখানে লুকায়িত আছে,যেগুলো বিশ্বের সামনে আগে কখনই আসেনি। এই পবিত্র জায়গাটিতে আপনার যাবার কোন প্রশ্নই উঠে না, কারণ একমাত্র ব্যক্তি যার এখানে প্রবেশাধীকার রয়েছে তারা হলেন পূজারী বা পূজারিণী এবং এছাড়া তাদেরকে জাপানি সম্রাট পরিবারের সদস্য হতে হবে। আর তাই আমাদের কপালে শুধু আইস গ্র্যান্ড শ্রাইনের ছাদ ছাড়া আর বেশি কিছু দেখবার নেই।
~~যে ছবিটি দেয়া আছে সেটি দুরথেকে তোলা Ise Grand Shrine এর ছবি ।

৯) White’s Gentlemen’s Club :
পৃথিবীর সবচেয়ে অভিজাত ক্লাব হিসেবে ধরা হয় এটিকে। লন্ডনে অবস্থিত ক্লাবটিতে শুধুমাত্র সমাজের অভিজাত শ্রেণীর মানুষের ই পদচিহ্ন পড়ে।অবশ্য ক্লাবটির শুরুর ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে।ফ্রাঞ্চিস বিয়াঙ্কো নামে এক লোক এটি তৈরি করে নতুন ধরনের চকলেট বিক্রির জন্য অথচ এটি এখন পৃথিবীর সেরা ক্লাব গুলোর একটি। ক্লাবটি এর “বাজি বই” (betting book) এর জন্য সর্বাধিক বিখ্যাত, যা সদস্যদের মাঝে নানা রকম উদ্ভট বাজি ধরবার অনুমোদন দেয়। এ ধরণের বাজির মধ্যে সর্বাধিক বিখ্যাত হল৩,০০০ পাউন্ডের একটি বাজি। কেন তালিকায় এই ক্লাব?নারীরা এ ক্লাবের সদস্যপদ লাভ করবার অধিকার রাখেনা। দ্বিতীয়ত,এই ক্লাবের সদস্য হওয়া রীতিমত একটি সম্মানের বিষয়।টাকা আছে কিন্তু চাইলেই আপনি এর সদস্য হতে পারবেন না, হাজারটা কাঠ খর পুড়িয়ে আপনাকে এই ক্লাবের সদস্য হতে হবে। যদি না আপনি রাজ পরিবারের একজন সদস্য, অথবা রাজনীতি বা শিল্পে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে থাকেন, আপনি কখনো স্বতন্ত্র হোয়াইট ক্লাবের আমন্ত্রণ পাবার সৌভাগ্য লাভ করবেন না।

১০) মেঝগোরিয়া : Mezhgorye :
রাশিয়ায় অবস্থিত এই শহড়টি প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং গোপনীয় একটি শহড়।ধারণা করা হয়ে থাকে এখানে যারা অবস্থান করছে তারা ইয়ামান্টা পর্বতে গোপনীয় কোন কাজে নিযুক্ত রয়েছে। শহড়টি ১৯৭৯সালে তৈরি করা হয়। ইয়ামান্টা নামক পর্বত টিউরাল পর্বত মালার অধিনত।বাস্কির ভাষা অনুযায়ি এই নামের অর্থ শয়তান। এই পর্বতের উচ্চতা ১৬৪০মিটার। এর সাথে রয়েছে কসভিন্সকি পর্বত। আমেরিকা ধারণা করে এখানে রাশিয়ার গোপন পারমানবিক কেন্দ্র রয়েছে। আমেরিকা ১৯৯০ সালের শেষার্ধে বরিস ইয়েতসিনের শাসন আমল কালে,সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার ঠিক পরে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে উত্তলিত কিছু চিত্রের মাধ্যমে ধারণা করছে এখানে বিশাল আকারের কোন খনন কার্যক্রম রাশিয়া চালাচ্ছে। বলেরেস্ক-১৫এবং বলেরেস্ক-১৬ নামক দুটি দূর্গ তৈরি করা হয়েছে শহড়ের উপরে, এছাড়া আলকিনো-২ নামে তৃতীয় আরেকটি দূর্গ রয়েছে বলে মনে করা হয়। এ অঞ্চলে ৩০,০০০ মত কর্মচারী কাজ করছে বলে ধারনা করা হয়।আমেরিকান সরকারের বারবার করা প্রশ্নের জবাবে রাশিয়ার সরকার নানা সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রকম উত্তর প্রদান করেছে। তাদের উত্তর অনুযায়ি এটি খনিজ পদার্থ আহরণের স্থান, রাশিয়ার সঞ্চিত ধন রাখার ভান্ডার, খাদ্য ভান্ডার এবং পারমাণবিক যুদ্ধের হাত থেকে তাদের নেতাদের রক্ষা করবার জায়গা। প্রবেশ নিষেধ বিজ্ঞপ্তি ইয়ামান্টা পর্বতটি রাশিয়ার চেলিয়াবিন্সক-৭০(chelyabinsk-70) নামক পারমাণবিক গবেষনা কেন্দ্রের নিকটে অবস্থান করবার কারণে অনেকে মনে করে এটি রাশিয়ার একটি পারমাণবিক অস্ত্রের গুদাম।এর এরিয়ার বাইরেও একটা বিশাল এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পৃথিবীতে কিছু কিছু জাইগা আজো সাধারণ মানুষের কাছে রহস্যময় হয়ে রয়েছে। মানুষের সমস্ত কৌতুহলি যেন রহস্যময় এই জায়গা গুলোকে ঘিরে। পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় ও গোপনীয় জায়গা গুলো হয়ত এইভাবে যুগ যুগ মানুষের অজানাই থেকে জাবে,আবার হয়ত ভবিষ্যৎতে কোন একদিন জানতে পারবে।

শায়লা (একটি হরর গল্প) (শেষ পর্ব)

0

(অন্য ব্লগ এ পর্বে প্রকাশিত)

আরিফকে কিছুই বললাম না। পরদিন সকালে চাচা কে ডাকলাম। ছবিটা দেখালাম। তিনি চিনতে পারলেন না। তিনি বললেন ওটা নাকি অনেকদিন ধরেই এখানে ঝোলানো। কেউ কখনো সরায় নি। আমি আকার ইঙ্গিতে জানার চেষ্টা করলাম এ নিয়ে কোনপ্রকার কিংবদন্তী আছে নাকি। কিন্তু তেমন কিছুই পেলাম না।

এরপর কিছুদিন শান্তিতে গেল। বড়জোড় এক সপ্তাহ। এখন কেন জানি ছবিটার উপর একটা কৌতুহল তৈরী হয়েছে…অবচেতন মনেই চোখ চলে যায় ছবিটার কোন পরিবর্তন এসেছে কিনা দেখার জন্য।

সবুরে মেওয়া ফলল। ছবির মেয়েটা হঠাৎ একদিন উধাও।

সবই আছে,ছবির ফ্রেম, জলরং। কিন্তু এখন ওটা শুধুই ফাঁকা এক জলরঙ্গের ছবি। Abstract মনে হতে পারে।

এবার কিন্তু আর পলক ফেললে মেয়েটা ফিরে এলনা। মেয়েটা উধাও হয়েই রইল। একদিন,দুদিন। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে মেয়েটা যে নেই এটা কেন যেন কেউ লক্ষ্যই করল না। দুদিন পরও যখন মেয়েটা ফিরে এলনা, কেউ খেয়ালো করল না মেয়েটা নেই,তখন আরিফকে বললাম ছবিটার কথা। আরিফ তো হেসেই উড়িয়ে দিল। ওকে নিয়ে নিচে গেলাম।

মেয়েটা ফিরে এসেছে।

কেন যেন একটা স্বস্তির পরশ বয়ে গেল শরীর দিয়ে।

এর পর ছবিটাকে প্রায়ই নড়াচড়া করতে দেখতাম। ঠিক নড়াচড়া নয়,নানা রকম অবস্থানে। ও মনে হয় আমার উপস্থিতিতে অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছিল। অন্য কাউকে দেখাতে গেলে আগের মত হয়ে যেত। আমার সামনেই অন্যরকম ।

কতটা সহজ হয়ে গিয়েছিল তা টের পেয়েছিলাম আর কিছুদিন পর।

সেদিন কি যেন কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ চোখের কোণে নড়াচড়া দেখে তাকালাম, দেখি মেয়েটা নড়ছে। নড়ছে মানে নড়ছে। নববধূ র গহনাগুলো খুলে খুলে রাখছে… আমি তাকিয়ে আছি খেয়াল করে হাসল।

মেয়েটার হাসি অনেক সুন্দর ছিল। দাঁত অসমান ছিল মেয়েটার, হাসির ঔজ্জ্বল্য আরো বেড়ে গিয়েছিল তাতে।

এরপর আমার যেন কী হয়েছিল। আমি যখনি সময় পেতাম ছবিটার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে  থাকতাম। মেয়েটা হাসত। ঠোট নাড়ত, কথা বলার চেষ্টা করত বোধহয়,কিছুই শোনা যেত না। মাঝে মাঝে বিয়ের শাড়ির বদলে আটপৌড়ে শাড়ি পরেও আসত। আমার অনেক প্রশ্ন ছিল। ও কে। কেন এখানে সে। কিভাবে সে নড়াচড়া করে ইত্যাদি । কিন্তু ও কিছু শুনতে পেত না। আমি যেমন কিছু পাই না।

ব্যাপারটার অস্বাভাবিকত্ব আমার চোখে তখন ধরা পড়ছিল না। আরিফ প্রথম খেয়াল করল যেদিন,সেদিন আমি নায়লাকে,মানে তোমাকে স্কুল থেকে আনতে ভুলে গিয়েছিলাম। আমি তোমাকে স্কুলে ঢুকিয়ে বাসায় এসে সেই যে দাড়িয়েছি ছবির সামনে, আমার হুশ ফিরল আরিফের ঝাঁকুনিতে। আমার মাথা তখনো কেমন যেন লাগছিল। আরিফের কথা মাথায় ঢুকছিল না। চাচামিয়া কয়েকদিন ধরেই ব্যাপারটা খেয়াল করেছিলেন, তিনি সুযোগমত লাগিয়ে দিলেন। আরিফ আরো ক্ষেপে গেল। আমি কিছুই শুনছিলাম না,শুধু হঠাৎ যখন শুনলাম “আমি ওটা পুড়িয়ে দেব”…তখন মাথায় যেন আগুন ধরে গেল। আমি নাকি “না না” করতে করতে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম।

এরপরের একদিনের ঘটনা আমার আবছা আবছা মনে আছে । আরিফ বাকিটুকু বলেছিল আমাকে। আমাকে বিছানায় শুইয়ে আরিফ চাচামিয়া কে পাঠিয়েছিল ডাক্তারের কাছে…তারপর ও গিয়ে ছবিটা পুড়িয়ে দিয়েছিল…

ঘটনা এখানেই শেষ হবার কথা ছিল।

পরদিন আরিফ অফিসে যাওয়ার আগে তোমাকে স্কুলে দিয়ে গেল। অফিসে গিয়ে সে খালা কে ফোন করেছিল। খালাকে সে পুরোপুরি কিছু না বলে শুধু জিজ্ঞাসা করেছিল ছবিটার কথা…

খালার বয়স হয়েছে। তিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করে আঞ্চলিক ভাষায় অনেক কথা বললেন  যার সারমর্ম এই,এই ছবিটা অনেকদিন ধরেই ও বাড়িতে ছিল। তার বাবারো জন্মের আগে। কিন্তু শায়লার বাবা তো ওটা পুড়িয়ে দিয়েছিল, ওটা ওখানে থাকার কথা না…

আরিফ দৌড়ে বাসায় আসে…আমার এ সময়টায় আবছা মনে আছে, আমার জ্ঞান ফেরার পর আমি কেন যেন আবার ওই ছবিটার সামনে গিয়ে দাঁড়াই,হ্যা,ছবিটা যথাস্থানেই ছিল…আমি ওকে দেখতে পাই…ও আমাকে দেখে নড়েচড়ে ওঠে,হেসে ওঠে,যেন বহুদিনের পুরনো সখী ফিরে এসেছে…এবার আমি ওর হাসির শব্দ শুনতে পাই…কি প্রাণোচ্ছল সে হাসি!!!…আমিও হেসে ওঠি…খিল খিল করে…ও আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়…এই প্রথমবার…এই প্রথমবার ওর হাত ফ্রেমের বাইরে আসে…আমিও হাত বাড়াই…এত আনন্দ…এত আনন্দ তখন আমার মনে…!!!…ওকে ছুঁয়ে দিলাম…কেমন যেন ভেজা ভেজা…পুরো হাতটা ধরলাম…ভেজা হাতটা ক্রমে ক্রমে শুকিয়ে আসছে…আমি হাত ধরে টান দিলাম…ও বেরিয়ে এল ফ্রেমের বাইরে, পুরোপুরি বাইরে…ওর পুরো শরীর জলরঙ্গের…আস্তে আস্তে ও শুকিয়ে রক্ত মাংসের মানুষে পরিণত হচ্ছে…ওকে দেখতে আমারই মতন লাগছে যেন…

এবার আমি জ্ঞান হারাই নি…আরিফের আসার শব্দ শুনে ও আমাকে চোখ টিপ দিয়ে আবার ফ্রেমের ভেতর ঢুকে যায়…আরিফ আসে…আরিফ একনজর ছবিটা দেখে আমাকে জড়িয়ে ধরে… আমাকে বলে…”এখানে আর এক মুহূর্তও না”…

আমার মনের ভেতর হাহাকার করে ওঠে…মন হাঁচড়ে পাঁচড়ে অজুহাত খুজতে থাকে… আমি যাব না…কিছুতেই না…”আজ রাতটা…শুধু আজ রাতটা…” মনের ভেতর কে যেন বলে ওঠে…

“আজ রাতটা থেকে যাই…খুব দুর্বল লাগছে…”

আরিফ আমার ক্লান্ত রোগতপ্ত চেহারা দেখে রাজী হয়ে যায়…

সেদিন রাত…নিচে কে যেন বিড়বিড় করে গান গাইছে…আর আমার নাম ধরে ডাকছে…”শায়য়য়য়লা…শায়য়য়লা…”

আমার মনটা আনন্দে ভরে ওঠে…আমি ঊঠে বসি বিছানায়…সারাদিনের টেনশনে আরিফ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন…নায়লাও ঘুমাচ্ছিল আমার পাশে…

পা টিপে টিপে বাইরে বেরোই…নিচে নামি…ছবির সামনে গিয়ে দেখি ছবি ফাঁকা…খুব আনন্দ লাগে…তাহলে ও এখন আমাকে ছাড়াই বেরুতে পারে…

রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে ও…আলো আঁধারিতে কেমন যেন পরিচিত লাগছে মুখটা…কিন্তু…

এ ত… আমার  মুখ…

আমার মনে এই প্রথম অশুভ ছায়া উঁকি দেয়…

হাত দুটো ওর পেছনে…ওর পায়ের প্রতিটি পদক্ষেপে নূপুরের শব্দ হচ্ছে…কেন যেন ওর হাসি…নুপুরের শব্দ আগের মত অত মধুর লাগছে না…

উপরে পায়ের শব্দ…আরিফের ঘুম ভেঙ্গেছে…আমাকে বিছানায় না পেয়ে আরিফ নিচে নেমে আসছে..

ও এখনো হাসছে…ওর হাত পেছন থেকে সামনে এল হঠাৎ…ওর হাতে কি ঠিকমত বোঝা যাচ্ছে না…একপাশের সিড়ি দিয়ে আরিফ নামছে,আমি ছবির ফ্রেমের সামনে আর ও আরেকপাশের সিড়ির সামনে…ও এগিয়ে আসতে থাকে…ওর হাতে ধরা জিনিসটা উপরে উঠতে থাকে আস্তে আস্তে… আমার চোখে পড়ে জিনিসটা…সাথে সাথে বিদ্যুৎ চমকের মত সব বুঝে যাই আমি…সবকিছু…অতিত,বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব একাকার হয়ে যায় চোখে্র সামনে…সব…

কিন্তু আমার কিছু করার নেই…আমি বর্তমানের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েছি…আমার মুক্তি নেই…২০ বছর আগে দেখা ঘটনাপ্রবাহ আবারো ঘটতে থাকে…আমি এগিয়ে যাই ওকে আটকাতে…আমি আরিফকে মরতে দিতে পারি না…আমি জানি বাঁচাতে পারবো না…কিন্তু চেষ্টা তো আমাকে করতেই হবে…আরিফ তাকিয়ে আছে…আমি চেপে ধরেছি “ও”র ছুরিটা …জানি আরিফ “ও”কে দেখতে পারছে না…ও দেখছে আমার হাতে ছুরিটা ধরা…কিন্তু আমি থামাতে চাইছি ওকে…ওর গায়ে অমানুষিক শক্তি…ওর ছুরি ধরা হাত এখন মাথার ওপর…আমার হাতও ওটার উপর…আরিফ বিষ্ফারিত চোখে আমার দিকে তাকিয়া আছে…ওকে আঘাত করার আগ মুহূর্তে ও আমাকে ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা করে…”কেন?”

আমার মুখ থেকে আর্তচিৎকার বেরিয়ে আসে আর ওর মুখ থেকে অট্টহাসি… অবশেষ তখন বুঝতে পারলাম ওইদিন আমার ঘুম ভেঙ্গেছিল কিসের শব্দে…

আমার আর ওর ছুরি ধরা হাত ছোবল মারে আরিফের বুকে…আরিফ পড়ে যায়…আমি পারলাম না প্রথম আঘাতটা ঠেকাতে…দ্বিতীয়টাও না…না তৃতীয়টা…

“আম্মু…”

বাকিটুকু তো তোমার মনেই আছে,তাইনা নায়লা?

নায়লা…আমি আর তোমার বাবা তোমাকে আমাদের জীবন থেকেও বেশী ভালবাসি, ভালবেসে যাব…আমি তোমার বাবাকে খুন করিনি…এটা তুমি জান…আমার মত আজীবন এই কষ্টটা তোমাকে বয়ে বেড়াতে হবে না আর…এটাই তোমার জন্য আমার বিদায়ী উপহার…

তোমার কাছে আমার একটাই অনুরোধ মা…তুমি ওই ছবির ধারে কাছেও যেও না …..পারলে বাড়িটা পুড়িয়ে ফেলো…

অতীত,আর বর্তমান তো ধ্বংস হয়েছে…ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ থাকে…এই কামনায়

ইতি

তোমার মা শায়লা

————————

নায়লার দাদীর রেখে যাওয়া চিঠি টা আজই জেলখানায় নায়লার হাতে পৌছেছে…

নায়লা দীর্ঘশ্বাস ফেলে…”বড় দেরী করে ফেললে মা…”

“অসুবিধা নেই মা…আমার কাছে সারাজীবন আছে…”…জেলখানার গার্ডের কাছে খাতা কলম নিয়ে চিঠি লিখতে বসে নায়লা…

এখন আর বাংলাদেশ সরকার ফাঁসির দন্ডাদেশ দেয় না…

(পালিয়ে বিয়ে করায় শায়লার প্রতি আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল আরিফের পরিবারের , শায়লা আরিফের খুনিও বটে…তাই শায়লার ফাঁসি হবার আগে লেখা এই চিঠি কখনোই নায়লার হাতে পৌছেনি…দাদী মারা যাবার পর সেটা ওর এক চাচা ওর কাছে পাঠায়)

Amin-Al-Maksud ( ভূতুড়ে গল্প )

শায়লা (একটি হরর গল্প)

1

(অন্য ব্লগে পর্বে প্রকাশিত)

প্রিয় সোনামণি আমার,

আমি জানি না মা এই চিঠিটা তোমার কাছে কবে পৌছাবে…তোমার বয়স তখন কত…কি করছ তুমি,কোথায় পড়ছ…কিছুই জানি না…আমি ওদের বলেছি এই চিঠিটা তোমার দাদুমণির কাছে পৌছে দিতে…যখন তুমি বড় হবে…তখন পড়বে…তাহলে হয়ত তোমার মা,এই অভাগিনী মাকে ঘিরে থাকা সব প্রশ্নের কয়েকটার জবাব অন্তত পাবে…

আজ তোমাকে একটা গল্প শোনাব মা…মনে আছে,তোমাকে ছোটবেলায় শোনাতাম? পার্থক্য এইযে এই গল্পটা সত্য…প্রতিটা বাক্য,প্রতিটা শব্দ সত্য…

গল্পটা একটা ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে,ঠিক তোমার মত|টুকটুকে লাল দু্টো গাল…দুটো বেণি করা পেছনে…নাম ছিল শায়লা। খুব মায়ের ভক্ত ছিল সে…সারাদিন মায়ের পেছন পেছন ঘুরতো,রাতে মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতো।

তেমনি এক রাতে কি কারণে যেন ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় মেয়েটা পাশ ফিরে শুয়ে দেখে ওর মা আর শুয়ে নেই পাশে। ওদের বাসাটা ছিল ঠাকুরগাঁও এর পুরনো এক জমিদার বাড়ী,শায়লার নানুর বাড়ি। নানু-নানী কেউ বেঁচে নেই,বাসায় থাকে কেবল শায়লা,শায়লার মা আর বাবা। দোতলা সেই বাড়ীর নিচতলা থেকে এক গোঙ্গানির শব্দ শুনে ঘুমজড়ানো চোখে মাকে ডাকতে ডাকতে নিচে নেমে আসে শায়লা।

সিঁড়ির গোড়ায় এসে দেখা দৃশ্যটা তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ওর মনে থাকবে।

রান্নাঘরের পাশে ওর বাবা কেমন করে যেন শুয়ে আছে,তার মায়ের হাতে একটা ধারাল ছুরি…সেই ছুরি ধরা হাত ক্রমাগত ওর আব্বুর বুকে ওঠানামা করছে…শায়লা তখনো বুঝতে পারছিল না আসলে কি হচ্ছে…আব্বু কেন এমন নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে,আব্বুর বুকে লাল লাল ওগুলো কি…আম্মু চিৎকার করে কাঁদছেই বা কেন।

“আম্মু…”

ডাক শুনে চমকে ফিরে তাকালো ওর আম্মু…আম্মুর চোখ দুটোতে উদভ্রান্ত ভাব থেকে বিস্ময়,তারপর বেদনা আর সবশেষে অসহায় একটা ভাব ভর করল।

“শায়লা,মা আমার,তুই যা,তুই ঘরে যা মা,নইলে…নইলে…ও…” আম্মুর গলাটা ভেঙ্গে আসছিল কষ্টে।

এই দিনটার কথা,এই শেষ কথাগুলো শায়লা পরবর্তি ২০ বছর হাজার হাজার বার নিজের মাথায় নেড়েচেড়ে দেখেছে। ওদিন ওর আম্মুর গলায় কি যেন ছিল , শায়লা ধরতে পারেনি,কিন্তু ওর মনে প্রচন্ড ভয় ঢুকে গিয়েছিল । সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে উপরে চলে আসে ও…খাটের তলায় গুঁটিশুটি মেরে শুয়ে ছিল সারারাত। সারারাত কেঁদেছে,ফিসফিস করে ওর মাকে ডেকেছে…জোরে ডাকার সাহস পায়নি…ও জানত ও ডাকলে আম্মু যেখানেই থাকুক ছুটে এসে ওকে বুকে জড়িয়ে ধরত…ওর সব ভয় দূর করে দিত…কিন্তু তাই কি? ওর ভয়ের কারণ যে এখন অনেকটা ওর আম্মুই…

ওই দিনের ওই ঘটনার ব্যাখ্যা অনেক সহজ ছিল সবার কাছে, দাম্পত্য কলহের জের ধরে ওর মা ওর বাবাকে খুন করেছে । ব্যাপারটা এতটাই সাধারণ। যা হবার তাই হয়েছিল। ওর মাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল। খুন করার ব্যাপারটা ওর মা অস্বীকার করেননি। আসলে কিছুই বলেন নি তিনি…স্তব্ধতা চেপে ধরেছিল তাকে,তিনি আর কোন কথা বলেন নি ফাঁসিতে ঝোলার আগ পর্যন্ত।

শায়লা আর কখনো দেখেনি তার মাকে ওই রাতের পর। ওর খালার বাসায় বড় হয়েছে,খালা চান নি স্বামীহন্তা কোন রমণীর “আছর” এই কোমলমতি শিশুর উপর পড়ুক।

শৈশব খুব অসাধারণ একটা সময় বুঝলে মামণি? প্রকৃতি খুব সুন্দর করে আপন হাতে সব দুষ্ট স্মৃতিকে ধামাচাপা দিয়ে রাখে মস্তিস্কের গোপন কোন কোঠরে। তাই স্বাভাবিক এক মেয়ের মতই বেড়ে উঠল শায়লা। খালা বুদ্ধিমতি রমণী ছিলেন।গ্রামে থাকতেন তিনি। গ্রামের অন্যান্যদের “আহা উহু ইশ” থেকে বাঁচার জন্য খালুকে তাগাদা দিয়ে ৩+১ মোট ৪ ছেলেমেয়ে সমেত শহরে চলে এলেন।

তারপর গল্পটা চলো এগিয়ে নিয়ে যাই বিশ বছর…এর মাঝে অনেক ঘটনা ঘটে গেছে,শায়লা বড় হয়েছে।পড়াশোনা শেষ করেছে। আরিফ নামে একটা অসাধারণ রাজপুত্রের মত এক ছেলের সাথে পরিচিত হয়েছে,লুকোচুরি করে প্রেম করেছে, পালিয়ে বিয়ে করেছে, খালার বাসায় কুরুক্ষেত্র বাঁধিয়েছে,খালা মেনেও নিয়েছেন। তারপর শায়লার ঘর আলো করে একটা ফুটফুটে মেয়ে এসেছে…ওর নাম শায়লার সাথে মিলিয়ে রাখা হল নায়লা। হ্যা, তোমার নামে নাম। অদ্ভুত না?

আরিফ ছিল সরকারী চাকরিজীবি । স্বল্প বেতনের চাকরি। ভালই চলে যাচ্ছিল। বিপত্তি বাঁধল প্রমোশন পাবার পর। প্রমোশন পেয়ে আরিফ বদলি হল ঠাকুরগাঁও …

খালা প্রচন্ড বিরক্ত। তিনি কিছুতেই শায়লাকে ওই “শকুইন্যা” যায়গায় যেতে দেবেন না। টাঙ্গাইল থেকে সরাসরি বাসে উঠে একাই তিনি চলে এলেন শায়লাদের বাসায় ওদের আটকানোর জন্য। বিষম বিপদ। বদলি আটকানো কি আর এত সোজা নাকি?হয় ঠাকুরগাঁও,নয়ত চাকরিই বাতিল। নয়ত আরিফের পুরো সপ্তাহ ঠাকুরগাওয়ে থাকা,সপ্তাহ শেষে ফিরে আসা। এটা তো আরো রিস্কি।তাছাড়া নায়লার স্কুলের বয়স হয়ে যাচ্ছে। ঠাকুরগায়ে তো অন্তত এই অজপাড়াগায়ের থেকে ভাল স্কুল কলেজ থাকবে। শায়লা খালাকে আস্বস্ত করল, কোন সমস্যা নেই,তারা ভাল থাকবে। খালা আর কিছু বললেন না। দোয়া দরুদ পড়ে ফুঁ দিয়ে দিলেন।

ঠাকুরগাঁয়ে কোয়ার্টারেই থাকার কথা শায়লাদের। কিন্তু বিপত্তি ওখানেও। জানুয়ারী মাস।আগের কর্মকর্তার ছেলের এস এস সি পরীক্ষা আর ৩-৪ মাস পর।তিনি আরিফকে ধরে বসলেন এই কয়দিন “একটু ব্যাবস্থা করে নিতে” এদিকে নায়লার স্কুল শুরু হয়ে যাবে এ মাসেই। অনেক ঘুরেও বাসা ভাড়া পাওয়া গেল না।যেন হঠাৎ করেই ঠাকুরগায়ের সব বাসা ভাড়া হয়ে গেছে।

হ্যা, যা ভাবছ তাই…অনিচ্ছা সত্তেও শায়লারা তাদের নানুবাড়িতে এসে উঠলো।

রাজবাড়ীটা শহর থেকে খুব বেশী দূরে না। কিন্তু মফস্বল তো,একটু বেশীই নির্জন। আশে পাশে ঘরবাড়ী বলতে কিছু নেই তা কিন্তু নয়। শায়লার কিন্তু বাড়িটা বেশ পছন্দ হয়ে গেল। যে চাঁপা আতংক নিয়ে সে এখানে এসেছিল তা বাড়ির ভেতর এক পা দিতেই রীতিমত উধাও। ছোটবেলার অসাধারণ সব স্মৃতি ঘিরে ধরতে থাকে শায়লাকে। উঠোনের লিচু গাছের সাথে ঝোলানো দোলনাটা এখনো আছে। এখনো আছে সেই শান বাঁধানো পুকুর ঘাট যেখানে ওইটুকু বয়সেই সাঁতার শিখে গিয়েছিল শায়লা…ওর আম্মু…হঠাৎ থামিয়ে দিল চিন্তাটাকে ও।

বাড়ি দেখাশোনা করার লোক ছিল আগে থেকেই।পুরোনো বিশ্বস্ত পরিবার । নানুদের পুরনো লোক। পুকুরের মাছ আর পেছনের ক্ষেত চাষ করে উঠোনের এক কোণে চালাঘরে থাকে পরিবারটি। তাই বাড়িটা পরিষ্কার পরিচ্ছনই ছিল। একটু আধটু মাকড়সার ঝুল আর ধুলো বালি এই যা। শাড়িটা কোমরে পেঁচিয়ে কাজে লেগে গেল ও।

নায়লার মজা আর দেখে কে। সরকারি কোয়ার্টার অনেক ঘুপচি হয়। শুধু নানুবাড়িতে (শায়লার খালার বাড়ি) গেলেই এত খোলা মাঠ পায় ও। আর রাজবাড়ি দেখে তো ওর মনে হয় নিজেকে প্রিন্সেস মনে হচ্ছে।

নিচতলায় অনেকটা জুড়েই বৈঠকখানা।দুপাশ দিয়ে দুটো সিড়ি উঠে গেছে দোতলায়। সিলিং এ টানা পাখা লাগানো আছে। যদিও পরবর্তীতে পাশে ইলেক্ট্রিক ফ্যান লাগানো হয়েছে, তবুও টানা পাখাটা আছে। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে এল শায়লা। ঊপরেই সবগুলো বেডরুম। বেশীরভাগই তালাবদ্ধ। চাচাকে ডেকে আগেই চাবি নিয়ে রেখেছিল ও।

মনের ভেতর ঝড় বয়ে যাচ্ছে যেন। এতগুলো বছর ধরে এতগুলো প্রশ্ন শায়লার মনের ভেতর, যেগুলোকে সে কখনও আমল দেয় নি,সেগুলো আজ বারবার মনে উঁকি দিচ্ছে। বাবা মায়ের আর ওর শোবার ঘরে ঢুকল শায়লা। সবকিছু আগের মতই মনে হচ্ছে…নাহ অনেক পরিবর্তন। দেয়ালে মায়ের হাতে কাজ করা চুমকি দিয়ে বানানো ওয়ালম্যাট টা নেই। আব্বু র আম্মুর স্টুডিওতে গিয়ে তোলা ছবিটাও বোধহয় ছিল এই দেয়ালে,নাকি ওইটায়?মনে নেই আর শায়লার।

আগেকার দিনের খাট। অনেক উচু। খাটের পাশে রেলিং দেয়া। সিঁড়ি পর্যন্ত আছে।

“আম্মু…খাবো…”

চমকে বাস্তবে ফিরে এল শায়লা। তাড়াতাড়ি নিচে গেল।কিছু একটা খাবার ব্যাবস্থা করতে হবে। একটা নতুন জিনিস দেখল শায়লা সিড়ি দিয়ে নামার সময় । দুইপাশে দুই সিড়ির মাঝখানে, নিচতলায়, বৈঠকখানার পেছনের দেয়ালে একটা জলরঙ্গে আঁকা ছবি। অসাধারণ হাতের কাজ। একটা মহিলার ছবি। নববধুর সাজে, মাথাটা নিচের দিকে কিঞ্চিত ঝুকানো,যেন লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। ছবিটা দেখে শায়লার মনটা ভাল হয়ে গেল।

দিন কাটতে লাগল।আরিফ সারাদিন বাইরেই থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠে নায়লার টিফিন বানিয়ে ওকে ঘুম থেকে জাগিয়ে (সারাদিনের এ কাজটা সবচেয়ে কঠিন!!), রেডি করে স্কুলে দিয়ে আসা,টুকটাক কাজ করে আবার ওকে নিয়ে আসা,তারপর আবার নায়লাকে গোছল করিয়ে খাইয়ে দাইয়ে আবার ঘুম পাড়ানো (ফাঁকে নিজেরো একটু ঘুমিয়ে নেয়া),বিকালে উঠে নায়লার সাথে বাইরে খেলা,সন্ধ্যায় ওকে নিয়ে পড়তে বসা, রাতে আরিফ আসতো,একসাথে খাওয়া…এইত,নায়লাকে নিয়েই পুরো দিনটা এভাবেই কেটে যায়…

ব্যাপারটা তখন শুরু হল। তারিখটা ঠিক মনে নেই। কোন এক পূর্ণিমা রাতের কথা। পূর্ণিমা,কারণ সেদিন ঠাকুরগাও শহরে বিদ্যুৎ ছিল না। অথচ ঘর ভর্তি আলো। শায়লা… আহ, আর লুকিয়ে লাভ কি। তুমি তো নিশ্চয়ই এতক্ষনে বুঝতেই পেরেছ আমিই শায়লা। আর তুমিই এই গপের নায়লা?তোমার মনে আছে আম্মু সেই বাসাটার কথা?…ওই যে সেই ছবিটার কথা?

যাই হোক কাহিনীতে ফিরে আসি। আমি সেদিন তোমাদের জন্য রান্নাবান্না শেষ করে রান্নাঘর থেকে মোমটা নিয়ে বের হয়ে ছবিটার সামনের টেবিলে মোমটা রাখতে গিয়ে প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম। ছবির মেয়েটা আমার দিকে হিংস্র চোখে তাকিয়ে আছে…মোম মাটিতে পড়ে নিভে গেল। আমি নড়তে পারছিলাম না। তুমি তখন উপরে, হোমওয়ার্ক করছিলে। ধীরে ধীরে মোমটা তুলে নিয়ে হাতড়ে হাতড়ে রান্নাঘরে গিয়ে মোমটা জ্বালালাম। সাহস পাচ্ছিলাম না। ব্যাপারটা চোখের ভুল ছিল কি না সেটা যাচাই করার মত সাহস তখন আমার ছিল না। চোখের ভুল না হলে? যাই হোক উপরে গেলাম। বিদ্যুৎ আসলো আরিফ আসারও অনেক পরে … যখন চাঁদের আলোটাই আমাদের জন্য ভাল ছিল।

সকালে উঠে ছবিটা দেখে হাসি পেল। সবই আগের মত…

সেদিনই রাতের কথা। এবার বিদ্যুৎ ছিল। ছবিটার লোকেশন এমন যায়গায় যে সিড়ি থেকে উপরে উঠতে গেলেই ওটা চোখে পড়ত। উপরে ওঠার সময়ই দেখলাম এবার। এবার ভয়ংকর কিছুনা। এবার নববধু সোজা সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। মাথায় ঘোমটা নেই। আমি এবার আর পালালাম না। সিড়িতেই দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম। হঠাৎ স্পষ্ট দেখলাম বধু মাথা ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকাল। মুখ দিয়ে একটা চাপা আর্তনাদ বেরিয়ে এল আমার। কিন্তু পলক ফেলতেই ঘোমটা নতমুখসমেত সেই আগের নববধূ।

(পরের খণ্ডে সমাপ্ত)

ভূতুড়ে গল্প

জ্বিন কন্যা

0

(অন্য ব্লগ এ পুর্বে প্রকাশিত)

কে কে ওখানে ।

আমি ।

আমি কে ?

বেশ কিছুক্ষন চুপচাপ । কোন উত্তর নেই । তারপর একটা র্দীঘ শ্বাস ফেলার শব্দ । আমি আবার ও জিজ্ঞেস করলাম । আমি কে ? কথা বলছেন না কেন ?

আমি !

আমি কে ? আমি আবারও ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করলাম ।

আমি কেউ না ।

তবে আমার ঘরে কি করছেন ? কি ভাবে এসেছেন ? দরজা খুললো কে ? এক সাথে এতোগুলো প্রশ্ন করে আমি প্রায় হাপিয়ে উঠলাম । এমনিতেই আমার হার্টের অবস্থা ভাল নয় । এখন তো মনে হচ্ছে ভয়ে হার্ট ফেল করবে । ঘুমিয়ে ছিলাম ; হঠাৎ খুট খুট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল । প্রথমে ভেবে ছিলাম ইদুর টিদুর হবে । কাজের মেয়েটার উপড়ে মেজাজ খারাপ হলো ,কতো দিন বলেছি রাতে শোয়ার আগে তেলাপোকা ,ইদুর এর ঔষুধ ছিটিয়ে ঘুমাতে । না তার কোন খবর নেই । মনে হয় এনে দেওয়া ঔষুধ গুলোর কথা মেয়েটা ভুলেই গেছে । কাল নিজেই ছিটিয়ে দিতে হবে । রাতে এমনিতেই আমার ঘুম হয়না ।তাও আজ লেট নাইটে শুয়েছি । ভোরে অফিস ধরতে হবে । একবার ঘুম ভাংলে আর ঘুম আসবে না । আমার স্ত্রী তিথি ছেলে মেয়েকে নিয়ে দু’দিনের জন্য বাবার বাড়ী গেছে । পুরো বাসায় আমি একা ।

অফিস থেকে ফিরে সামান্য লেখা লেখির চেষ্টা করা আর টিভি দেখা ছাড়া করার তেমন কিছু নেই । আজ ইস্পিলবার্গের একটা ছবি দেখে শুতে এমনিতেই দেরি করে ফেলেছি । মনে হয় আধা ঘন্টাও ঘুমাতে পারিনি এর মধ্যে খুট খুট শব্দ করে যন্ত্রনা শুরু হয়েছে । একবার মনে হলো ইদুর রান্না ঘরে শব্দ করছে । ঘুমের মধ্যেই হুস হুস শব্দ করে ইদুর তারাতে চেষ্টা করলাম ।

হুস , হুস করে আমি ঘুমিয়ে যাচ্ছি আবার শুরু হচ্ছে খুট খুট শব্দ করা । খেয়াল করে দেখলাম আমি হুস হুস করলে কিছু সময়ের জন্য থেমে যাচ্ছে খুট খুট শব্দ । চোখ লেগে আসতেই আবার সেই খুট খুট শব্দ । কখন যে হুস হুস করতে করতে ঘুমিয়ে পরে ছিলাম খেয়াল নেই । হঠাৎ অনুভব করলাম, কে যেন আমার বা পায়ের বুড়ো আঙুল ধরে আলতো করে টানছে । চোখ থেকে ঘুম পুরোপুরে সড়ে গেছে । আমি চোখ হালকা করে তাকালাম । পুরো ঘর অন্ধকার । বাতি জ্বালিয়ে ঘুমাতে ভুলে গেছি ? এখন দেখছি বাতি নিবানো । যতো দূর মনে মনে আছে -টিভি বন্ধ করে শন্করের একটা বই পড়ছিলাম । ঘরের বাতি জ্বলছিল । তা হলে বাতিটা নেভালো কে ?

পায়ের আঙুলে আবার কেউ র্স্পশ করলো । আমি ভয় পেতে শুরু করছি কেননা চোখ খুলে কাউকে দেখতে পাচ্ছি না । ইদুরের চিন্তাটা বাদ দিয়ে দিলাম । আমি মশারি টানিয়ে শুয়েছি । শোয়ার আগে বেশ ভাল মতো মশারী গুজে তারপর শুয়েছি । ভেতরে ইদুর থাকলে আগেই দেখতে পেতেম । হঠাৎ ভুতের কথা মনে হলো ? ভুত নয় তো ? ভুতের কথা মনে হতে ভয় বেড়ে গেলো । ভয়ে গলা শুকিয়ে আসছে । নড়তে পারছি না । মনে হলো নড়াচড়া করলে কেউ আমাকে মেরে ফেলবে । আবার ভয় পাচ্ছি দেখে নিজের উপড়ই রাগ লাগছে । কেউ শুনলে হাসবে । ছেলেটার কথা মনে হলো । ভাবলাম ও ,ও মনে হয় আমার চাইতে বেশী সাহসী ।

বা পাটা আমি একটু নাড়ালাম । এমন ভাবে নাড়ালাম যেনো ঘুমের মধ্যে নাড়াচ্ছি । সঙ্গে সঙ্গে স্পর্শটা বন্ধ হয়ে গেলো । মনে হলো কেউ পায়ের উপড় থেকে হাতটা সড়িয়ে নিল । এবার ভাবলাম , ইদুর হবার প্রশ্নই আসে না । আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে পরে আছি । ডাইনিং রুম থেকে ভেসে আসা ঘড়ির টিকটিক শব্দ শুনতে পাচ্ছি । এ ছাড়া অন্য কোন শব্দ নেই । চারিদিকে শুনশান নীরবতা , একটু আগে হয়ও খুট খুট শব্দটাও এখন আর হচ্ছে না ।

হঠাৎ মনে হলো কেউ আমার শরীরে থাকা চাদরটা ধরে টানছে । আমি মনে মনে দোয়া দুরুদ পড়তে লাগলাম । নিজের ঘরে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সন্মুক্ষিন হবো কল্পনাও ছিল না । ভয়ে হাত পা একেবারে জমে যাচ্ছে । শরীর থেকে চাদরটা একটু একটু করে নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে । যে করছে কাজটা , বুঝা যাচ্ছে সে খুব ধীরে সু্স্থেই কাজটা করছে ।

কি করবো বুঝতে পারছিনা । বিপদের সময় মাথা ঠান্ডা রাখাই হচ্ছে আসল ব্যাপার ।

শুধু মাত্র বিপদের সময় মাথা ঠান্ডা রাখার কারনে ৭০% লোক মৃত্যুর হাত থেকে বেচেঁ যায় । পরিসংখ্যানটা কোথায় যেন পড়েছিলাম । আমি মাথা ঠান্ডা রাখতে চেষ্টা করলাম ।

একবার ভাবলাম জোরে চিৎকার করে উঠি । তাতে চাদর টেনে যে আমাকে ভয় দেখাতে যাচ্ছে সে উল্টো ভয় পেয়ে যাবে ।

তার পরই মনে হলো চোর নয় তো ? বেশ কিছু দিন যাবত মহল্লায় চোরের আনাগোনা বেড়ে গেছে । সেদিও নাকি জ্বানালা দিয়ে বাড়ী ওয়ালির ব্যাগ থেকে মোবাইল ,টাকা নিয়ে গেছে চোর । কিন্তু আমার বিছানাটা তো জানালা থেকে বহু দূরে । জানালাও বন্ধ । তবে কি চোর আগেই ঘরের ভেতরে ডুকে ছিল ? এখন আফসোস হচ্ছে কেন শোয়ার পূর্বে চেক করে শুলাম না ।

অনেকক্ষন অন্ধকারে থাকার ফলে অন্ধকারটা চোখে সয়ে এসেছে । পায়ের দিকে কিছু একটা নড়ে উঠলো । আবচ্ছা আলোয় একটা অবয়ব দেখা যাচ্ছে । আমি চোখ কুচকে ভাল করে দেখতে চেষ্টা করলাম । মনে হলে কেউ একজন মেঝেতে হাটু ঘেরে খাঁটের উপর কুনি রেখে বসে আছে । ভয়ে আমার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো । শুয়ে থেকেও স্পষ্ট নারী অবয়বটা দেখতে পাচ্ছি । ঘারের উপরে উড়তে থাকা চুল পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি । আমার সমস্ত শরীর ঘেমে উঠেছে । কখন যে পুরোপুরি চোখ খুলে তাকিয়ে আছি বলতে পারবো না ।

হঠাতই অবয়বটা আমার পায়ের উপড় থেকে হাতটা সড়িয়ে নিয়ে আমার মুখের দিকে তাকালো । আমার মনে হলো , সে মনে হয় বুঝতে পেরেছে আমি তাকিয়ে আছি । আমি চোখ বন্ধ করার সাহস পেলাম না । দু’জন চোখাচোখি তাকিয়ে থাকলাম । আমি মুহুত কাল ভুলে গেছি । চুপ করে পরে আছি । হঠাৎ ঘরের ভেতর প্রচন্ড বেগে বাতাস বইতে শুরু করলো । মনে হলো সব কিছু উড়িয়ে নিয়ে যাবে । আমি দু’হাত দিয়ে খাটের কিনার আকড়ে ধরে থাকলাম । এক সময় বাতাস হঠাৎ ই থেমে গেল ।

অবয়বটা এক সময় উঠে দাঁড়ালো ।আমি কিছু একটা বলতে চাইলাম , কিন্তু পারলাম না । মনে হলো গলার ভেতরের সব রস কেউ নিংরে বেড় করে নিয়েছে । তবুও মাথা ঠান্ডা রেখে নিজেকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম । ভয় পেলে চলবে না । ভয় পেলে চলবে না । বাঁচতে হলে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে । এছাড়া অন্য কোন উপায় নেই । শুধু মাত্র মাথা ঠান্ডা রাখার কারণে ৭০% লোক বেঁচে যায় । সঙ্গে সঙ্গে একটা হিন্দি ছবির ডায়ালোগ মনে হলো -জো ডরগায়া ও মর গায়া ।

আমি শরীরের সকল শক্তি এক করতে চেষ্টা করলাম । তখনই আমার মুখ থেকে প্রশ্নটা ছুটে গেলো কে কে ওখানে ? নিজের গলার স্বর নিজেই চিনতে পারলাম না । মনে হলো আমার গলায় অন্য কেউ কথা বলছে । আমি আবার ও একই প্রশ্ন করলাম -কে কে ওখানে ?

এবার মৃর্দু একটা হাসির শব্দ ভেসে এলো ।

আমি আবার বললাম কে ?

-আমি । খুব আস্তে উত্তর এলো । কেউ খেয়াল না করলে শুনতে পেত না ।

-আমি কে ? ভয়ে আমার হাত পা অসার হয়ে আছে ।

-আমি কেউ না ,বলে আবয়বটা হেসে উঠলো । যেন নিক্কন হয়ে কানে বাজছে । আমি মুগ্ধ হলাম । তিথির ভাষায় অতি তারাতারি মুগ্ধ হয় গাধা মানবরা । নিজেকে আমার কাছে গাধা মানব মনে হলো ।

-আমি কিন্তু ভয় পাচ্ছি । দয়া করে বলুন আপনি কে ? নিজেকে কেমন শিশু শিশু মনে হলো ।

এবার কোন উত্তর এলো না । তবে আবয়বটা উঠে গিয় ঘরের মাঝখানে রাখা রকিং চেয়ারটাতে বসে পরলো । মশারির ভেতর থেকেও দেখতে পাচ্ছি চেয়ারটা দুলছে । কেউ একজন হেলান দিয়ে বসে আছে চেয়ারটাতে । আমি স্বপ্ন দেখছি নাতো ? হাত নাড়িয়ে চিমটি কাটার শক্তি বা সাহস কোনটাই পেলাম না । শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছি চেয়ারটার দিকে ।

 

(২)

 

পৃথিবীতে কোন কিছুই যেমন স্থায়ি নয় । তেমনি আমার ভয়টাও স্থায়ি হলো না । খুব ধীরে ধীরে ভয়টা কেটে যাচ্ছে । গুন গুন করে একটা শব্দ হচ্ছে । মনে হলো আমার ঘরে থাকা আবয়বটা গান গাচ্ছে । কিন্তু আমার পরিচিত কোন সুরে নয় , অচেনা কোন সুরে । তিথি যেমন ঘরের কাজ করতে করতে আমন মনে সুর ভাজে , তেমনি । আমি সুরটা ধরতে চেষ্টা করে পারলাম না । না । এমন সুর আগে কখন ও শুনিনি । তবে সুরের মাদকতায় ভেসে গেল পুরো ঘর । আমি চোখ বন্ধ করে গান শুনছি । আর ভাবছি কি করা যায় । একবার মনে হলো হাউমাউ করে কেঁদে কেটে যদি মাপ চাই তবে কেমন হয় । নিজেরই পছন্দ হলো না ব্যাপারটা । আমার মাথা কাজ করতে শুরু করছে । চিন্তা করতে পারছি দেখে ভাল লাগল । একবার ভাবলাম হেলুসিনেশন নয় তো ? নিজের মুখ দিয়েই বিরক্তি সূর্চক শব্দ “চুক”বেড় হয়ে এলো । সঙ্গে সঙ্গে আবয়বটির দোল খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে আমার দিকে তাকালো ।

আপনি কে ? দয়া করে বলবেন ?

মনে হলো একটা দীর্ঘস্বাস পরলো ।

এবাবে অর্যাচিত ভাবে কাউকে আমার ঘরে দেখে আমি ভয় পাচ্ছি এবং অসুস্থি বোধ করছি । দয়া করে বলুন আপনি কে ? কি চান ?

-আমাকে ভয় পাবার কিছু নেই । আমি তোমার কোন ক্ষতি করবো না । আপনি ঘুমান । আবাও সেই হাসির শব্দ ।

-কিন্তু এবাবে কেউ ঘরে বসে থাকলে তো আমার ঘুম আসবে না ।

-চলে যেতে বলছেন ?

আপনি কে ? কেনো এসেছেন তা যদি বলতেন । আমি কৌশলে প্রশ্নটা এড়িয়ে গেলাম ।

-আমি আফরোজা । এসেছি তাকাফুল শহর থেকে । আমি মানুষ সম্প্রদায়ের কেউ নই । আমি জ্বিন সম্প্রদায়ের মেয়ে বলে মেয়েটি হেসে উঠলো । জ্বিন ; শুনে আমি কেঁপে উঠলাম । কোথা থেকে হালকা চাপা ফুলেন মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে আসছে , পুরো ঘর মো মো করছে । হাসির শব্দে আমি আবার বিমহিত হলাম ।

আপনার হাসিটা অনেক সুন্দর । আমার মুখ ফসকে বের হয়ে গেল কথাটা । নিজেকে আবারাও কেমন হেবলা মনে হলো । তিথির কথা মনে হলো ও যদি জানে গভীর রাতে ঘরে বসে আমি কোন জ্বিন মেয়ের হাসির প্রশংসা করছি তা হলে ও কি করবে ?

আপনার স্ত্রীর কথা ভাবছেন ?

আমি মাথা নাড়ালাম ।

খুব ভালবাসেন বুঝি ? বলে মেয়েটি হাসতে লাগলো । রকিং চেয়ারটি আবার দুলছে । আমি কিছু বলার আগেই মেয়েটি বললো , এখন কি আপনার ভয় লামছে ?

আমি না, বললাম । আমি মিথ্যা বললাম ।

মানুষরা খুব সহজে মিথ্যা বলতে পারে । বলে মেয়েটি আবার হাসছে । মিথ্যা বলে ধরা খাবার জন্য কেমন লজ্জা লাগছে ।

আমার একবার মনে হলো বাতি জ্বালাবো কি না ?

দয়া করে বাতি জ্বালাবেন না । আমি বাতি সহ্য করতে পারিনা । আর একটু পরে আমি চলে যাবো ।

আমি চমকে উঠলাম এ যে দেখছি আমার থর্ট রিড করতে পারছে ।

আপনি কেন এসেছিলেন ………..আমি প্রশ্নটা শেষ করতে পারলাম না ।

-এমনিতেতো আসিনি । আছে একটা কারণ আছে ।

কি কারন ?আমি কারন যানার জন্য অস্থির হলাম । আমার ইচ্ছে হচ্ছে মেয়েটিকে দেখি ।

-আমাকে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে তাই না ? মেয়েটি হাসতে হাসতে বললো ।

জ্বি । আমি ছোট্র করে উত্তর দিলাম ।

আমাকে না দেখাই ভাল । আমরা দেখতে মানুষের মতো নই । আমরা হচ্ছি আগুনের তৈরি । আর মানুষ হচ্ছে মাটির । আমাদের কোন নিদিষ্ট কোন আকৃতি নেই । আমরা যে কোন আকার ধারন করতে পারি । যে কোন জায়গাতে যেতে পারি । শুধু মাত্র আসমানের নিদিষ্ট্য একটা সীমা পর্যন্ত ।

তা হলে এটা কি আপনার আসল আকৃতি নয় ?

না ।

আপনি কি তা হলে মেয়ে নন ?

আমি মেয়ে জ্বিন । আমাদের মধ্য ছেলে মেয়ে দুটো প্রজাতি আছে । মানুষের মধ্যে আছে তিনটি ।

মানুষের মধ্যে তিনটি ? একটি নারী এবং অন্যটি পুরুষ । আমি আরেকটি খুঁজে পেলাম না । মাথা কাজ করছে না ।

আমি এখন যাবো ।

কেন এসেছিলেন তা তো বললেন না ?

আরেক দিন বলবো ।

তার মানে এখনই চলে যাবেন ?

হ্যা , আযান এর সময় হয়ে এসেছে । আমি যাই ।

মনটা খারাপ হয়ে গেল । এমন সময় মসজিত থেকে ফজরের আযান ভেসে এলো । মেয়েটি হঠাৎই হাওয়ায় মিলিয়ে গেল ।

আমি তরিঘড়ি করে উঠে বাতি জ্বালালাম । না ! কেউ নেই । চেয়ারটা দুলছে । আমার মাথাটা কেমন করে উঠলো । অজানা কোন ভয়ে শরীর ছমছম করছে । কোন মতে বিছানায় বসে পরলাম ।

 

পরিশেষ : যখন জ্ঞান ফিরলো তখন আমি হাসপাতালে । সবাই মনে করলো আমি হঠাতই মাথা ঘুরে পরে গিয়েছিলাম । আমি ও কাউকে কিছু বললাম না । সব নিজের ভেতরে চেপে রাখলাম । বললে সবাই হয়তো হাসবে । তবে আশ্চযের বিষয় হলো এটা যে -মেডিকেল বোর্ড তন্ন ,তন্ন করে খুঁজেও আমার হার্টে কোন অসুখ খুঁজে পেলো না । যেনো রাতারাতি সব উবে গেছে । ডাক্টারা সবাই বললো মিরাকল ! মিরাকল ! কিন্তু আমি মনে মনে আফরোজাকে ধন্যবাদ দিলাম । সকল মিরাকলের পেছনেই কারো না কারো হাত থাকে । এখন আমার যখনই গভীর রাতে ঘুম ভাঙে তখনই আমি নিজের অজান্তে আফরোজা নামক জ্বিন কন্যাকে খুঁজি ।।

শেষ

মুহাম্ম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন (ভূত ও ভৌতিক -> ভয়ঙ্কর , রোমহর্ষক এবং শ্বাসরুদ্ধকর সব গল্প)

নামহীন ভৌতিক কাহিনী

0

(অন্য ব্লগ এ পুর্বে প্রকাশিত)

আজকে আপনাদের সাথে যেই ঘটনাটি শেয়ার করছি তা আমার মামার মুখ থেকে শোনা। ঘটনা যার সাথে ঘটেছিলো সে আমার মামার বন্ধু। ঘটনাটি ঘটে নওগাঁ শহরের একটি রাস্তায় । এই ঘটনাটির যার সাথে ঘটে তার নাম হাবিব। মামার বন্ধু সেই সুবাদে আমিও উনাকে হাবিব মামা বলেডাকতাম। হাবিব মামা নিজের বাসায় রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। কোন চাকরি না পেয়ে পরিচিত এক লোকের সি এন জি চালাতেন। ঘটনাটি ঘটে যখন হাবিব মামা এক রাতে সিএনজি নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। তখন রাত প্রায় ২ টা বাজে । তিনি হঠাৎ দেখলেন দুইজন মধ্যবয়সী হুজুর ধরনের ব্যক্তি তাকে সিএনজি থামানোর জন্য অনুরোধ করছে । তা দেখে সে থামল এবং একজন হুজুর তার সাথে কথা বললো ।

হুজুরঃ ভাই আমরা খুব বিপদে পড়েছি ।

হাবিবঃ আপনাদের কি হয়েছে জানতে পারি ?

হুজুরঃ সামনে আমাদের এক বন্ধু একটি লাশ নিয়ে দাড়িয়ে আছে । ওই লাশটাকে নিয়ে আমাদের সামনের গ্রামে যেতে হবে । তুমি কি আমাদের পৌঁছে দিতে পারবে?

হাবিব মামা কিছুক্ষণ ভাবলো ।তার মাঝে উনাদের জন্য দয়া হলো ।সে আবার কথা বললো ।

হাবিবঃ আমি আপনাদের পৌঁছে দিব ।

হুজুরঃ ধন্যবাদ তোমাকে ।

এটা বলে দুইজন সিএনজ়িতে উঠে পড়লো । কিছু দূরে যেতেই হাবিব মামা দেখলো আরেকজন হুজুর লাশ নিয়ে দাড়িয়ে আছে ।লাশটি কাপড় দিয়ে প্যাচানো । হাবিব মামা উনার সামনে এসে সিএনজ়ি থামালো ।এরপর দুই হুজুর নামলো এবং তিনহুজুর লাশটি নিয়ে উঠলো । তারপর তারা হাবিব মামাকে সিএনজ়ি চালাতে বললো । আর একজন হুজুর ওর সাথে কথা বলতে থাকলো ।

হুজ়ুরঃ সামনের গ্রামে যেতে কতক্ষন লাগবে ?

হাবিবঃ প্রায় ৪০ মিনিট ।

হুজুরঃ তুমি পেছনের দিকে চাইবে না । লাশের অবস্থা বেশি ভালো না । দেখলে ভয় পাবে ।

হাবিবঃ আচ্ছা হুজুর ।

তারপর হাবিব মামা সিএনজি চালাতে শুরু করলো । কিন্তু সে লাশ দেখার আকর্ষণ অনুভব করলো কিন্তু সে সাহস পেলো না । এর ৫ থেকে ৬ মিনিট পর সে এক অদ্ভুত বাজে শব্দ শুনতে পারলো ।এক অজানা ভয় তাকে গ্রাস করলো । সে তার মনের ভয় দূর করার জন্য সামনের লুকিং গ্লাস দিয়ে পেছনের দিকে চইলো । চেয়ে যা দেখতে পারলো যা সে কেনো, আমরা কেউ কোনোদিন ভাবতে পারি না । কল্পনাও করতে পারি না। সে দেখলো ওই তিন হুজুর লাশটিকে ছিড়ে ছিড়ে শকুনের মত খাচ্ছে। কেউ কলিজা, তো কেউ বুকের রক্ত পান করছে। তা দেখে সে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল।
যখন তার জ্ঞান ফিরলো তখনসে হাসপাতালে ভর্তি। তার সারা শরীরে ব্যান্ডেজ । তাকে সকালে রাস্তার পাশে একটি খাল থেকে উদ্ধার করা হয় । এখন সে সুস্থ আছে । কিন্তু ওইদিনের ঘটনার পর থেকে আজও সে সন্ধ্যারপর আর সিএনজি নিয়ে বের হয় নি । তিনি নওগাঁ থেকে ঢাকায় চলে এসে একটা ব্যবসা শুরু করেন। তাকে আজও ওইদিনের ঘটনা তাড়া দিয়ে বেড়ায় ।

জানিয়েছেনঃ সায়েদ তৌফিকুর নাইম (ভূতুড়ে গল্প)

দ্বিধা

4

দিনটি মঙ্গলবার।

শীতের রাত।

সময় রাত আটটা কি নয়টা।

আতাহার দোকান থেকে কলম কেনার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। বের হওয়ার সময় দেখে আসে যে তার বাবা বিছানায় শুয়ে আছেন। দোকান টা ছিল বাসা থেকে বেশ খানিক টা দূরে। রাস্তাঘাট ঘুটঘুটে অন্ধকার এবং জনমানবহীন। কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তাতে কিছুই ভালভাবে দেখা যায় না। হঠাৎ আতাহার খেয়াল করল একটি লোক দাড়িয়ে আছে যার অবয়ব ঠিক তার বাবার মত। চমকে গেলো সে। যে ব্যক্তিটিকে সে কিছুক্ষন আগেও বাসায় শুয়ে থাকতে দেখে এসেছে, তিনি কিভাবে এত তাড়াতাড়ি এখানে চলে আসলেন? কৌতুহল বসত সে লোকটির সামনে গেলো। সামনে গিয়ে সে আরো চমকে গেলো যখন সে দেখলো লোকটি তার বাবাই।
স্বভাবতই সে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করলো,
– আব্বু তুমি কখন বের হয়েছো?

কিন্তু, ও দিক থেকে কোনো সাড়াই সে পেলোনা।

একই প্রশ্ন বারবার জিজ্ঞেস করার পরও আতাহার যখন কোনো উত্তর পেলোনা তখন তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হল। নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে। সে মনে মনে খুব ভয় পেয়ে গেলো। সে দ্রুত স্থানটি ত্যাগ করে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল। বাসায় গিয়ে সে আরও আশ্চর্য হল। সে তার বাবাকে যে অবস্থায় দেখে গিয়েছিলো সেই অবস্থাতেই আছেন। আতাহার তার বাবাকে জিজ্ঞেস করলো,
– তুমি কি বাসা থেকে বের হয়েছিলে?

তার বাবা বলল,
– না, কিন্তু কেনো?

তখন আতাহার বিষয়টি খুলে বলল। সবাই এ ঘটনা শুনে অবাক হল। বাস্তবিক অর্থে বিশ্বাসযোগ্য নয় এমন একটা ঘটনার সম্মুখিন সে আর কখনো হয় নি। সে এর উত্তর এখনও খুঁজে বেড়ায়।