“অসম প্রেম” পর্ব১ -আয়েশা সুলতানা

0

 

“অসম প্রেম” পর্ব-১
——–আয়েশা সুলতানা

জেবা বিলের পাড়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে তার বান্ধবী প্রীতির জন্য। প্রায় আধঘণ্টার উপরে হয়ে গেসে। জেবার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে, মনে মনে ভাবছে “প্রীতিটার কোন কমনসেন্স নাই” কেউ এত দেরি করে? একা একা কতক্ষণ দাঁড়ানো যায়,, এই ভেবে জেবা বিলের উত্তরদিকে হাটতে শুরু করে, আর ভাবে ওদিকটায় মা কখনো যেতে দেয় না, সবসময় নিষেধ করে, কি আছে ওদিকে?
জেবার মা জোবায়দা খুবই সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে আর যথেষ্ট গুনীও বটে.. আর বাবা ও বা কম কিসে? ছোট একটা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করলেও বাবা খুবই ব্যক্তিত্ত্বসম্পন্ন মানুষ।
জেবার বাবা আশিকুর রহমান পেশায় মাদ্রাসা শিক্ষক হলেও তিনি এলাকায় খুবই সম্মানিত,, এলাকার যেকোন বিপদে আপদে সকলে তার কাছ থেকেই পরামর্শ নেয়,, জেবার বাবার সামান্য আয়ের ছোট সংসারে তার আরো ছোট দুই বোন জুই ও মনি, আর বড়ভাই রাশেদ, ছোট সুখী পরিবার… ভাবতে ভাবতে জেবা অনেক দূর চলে আসে, হঠাৎ কারো ডাক শুনতে পায় জেবা,,, থমকে দাঁড়ায়,, চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখে সন্ধ্যা নেমে এসেছে,, জেবা ভয় পায়…. গাঁ ছমছম করে উঠে,,,,, অন্যরকম শিহরণ বেয়ে যায় জেবার সারা শরীরে…. আর এর মধ্যেই জেবা বুঝতে পারে বাম কাঁধে কারো শীতল স্পর্শ.

জেবা শিউরে উঠে………..
মনে মনে নিজেকে প্রচন্ড বিদ্রুপ করে এই ভেবে যে মায়ের নিষেধ শর্তেও কেন এলো এদিকটায়…

জেবা এই জেবা এখানে কেন এসেছিস, বারবার বলি এদিকে আসবি না, এত বড় হয়েছিস বোধবুদ্ধি কবে হবে তোর?? আরেকটু হলেই তো বাঁশের কোনাটা চোখে ঢুকতো, কি হতো তখন?? কড়া সুরের কথা গুলো শুনেই জেবা পিছনে ফিরে মাকে সজোড়ে জড়িয়ে ধরে ফোফাতে থাকে,,,,
জোবায়দা বুঝতে পারে যে জেবা খুব ভয় পেয়েছে, মৃদু কণ্ঠে এবার তিনি জেবাকে বললো চল..
জেবা দেখলো মায়ের সাথে প্রীতিও আছে।। তখন ও বুঝলো প্রীতি ওকে না পেয়ে বাড়িতে যায়, আর মা সহ ওকে খুজতে বের হয়…
জেবা বুঝতেই পারে না কেন এ জায়গার প্রতি ও এত টান অনুভব করে……
আর আজ তো আরেকটু হলে বাঁশঝাড়ের ভিতরই চলে যেতো…

জেবা যেখানটায় দাঁড়িয়ে ছিল তার থেকে আর মাত্র দু’কদম এগুলেই বিশাল বাঁশঝাড়,, ওটার পিছনে আবার ঘন জঙল,, গ্রামের এপাশে লোকালয় নেই বললেই চলে, শুনশান জায়গা, একটা পাতা পড়ার শব্দ ও খুব ভয়ঙ্কর হয়,,, এ যেন এক অন্য জগৎ….

গ্রামে অবশ্য বিভিন্ন কাহিনি ও প্রচলিত আছে এ বাঁশঝাড় নিয়ে,, যারাই জানতে চাইতো বাঁশঝাড়ের ওপাশে কি আছে তাদের সবার নাকি লাশ পাওয়া যেতো বাঁশে ঝুলন্ত অবস্থায়,,,,,,

তবে জেবার ১৮ বছর বয়সের মধ্যে ও কখনো দেখে নি এদিকে কাউকে আসতে…

আসার পথে জেবা মাকে জিজ্ঞাস করলো মা কেন নিষেধ করো??? কেন এদিকে আসা যাবে না??? প্লিজ মা বলো…..সবসময় এড়িয়ে যাও কেন এপ্রশ্নটা??? মা এ জায়গাটা কেন আমার এত ভাল লাগে? কেন আমি ওখান থেকে মনমুগ্ধ করা ফুলের সুগন্ধ পাই?? না জানি সে ফুল দেখতে কত সুন্দর……
মা বলো না প্লিজজজ…
এতক্ষন জোবায়দা চুপ করে হেটে চলেছে, এবার বললো কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি পা চালা… জেবা দেখলো ওরা বাড়ির পথ পেরিয়ে আরো সামনে চলে এসেছে, জানতে চাইলো ওরা কোথায় যাচ্ছে?? জোবায়দা কিছু বলল না, প্রায় ১কিলো হেটে ওরা এলো জেবার বাবার মাদ্রাসার কাছে।।।

আশিকুর রহমান স্ত্রী ও কন্যাকে দেখে বিচলিত হয়ে পড়েন,,, তারপর স্ত্রীর কাছে বিস্তারিত শুনে তাড়াহুড়ো করে চলে যান মাদ্রাসার বড় হুজুরের কাছে….হুজুরকে বিস্তারিত খুলে বলেন…
তিনি সব শুনে একটু পানি ও কিছু খেজুর দিয়ে বলেন এগুলা শিখানো পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে,,,,,
এরপর তারা বাড়ি ফিরে এলো…

রাস্তায় থাকা অবস্থায়ই জেবার খুব শারিরিক অস্বস্তি লাগছিলো… কেমন যেন হাত পা ভেঙে আসছিলো…হাটতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো….

বাড়ি পৌছে আর স্থির থাকতে পারলো না…উঠোনেই ধাম করে পড়ে গেলো…. জোবায়দা ওকে ধরে দেখলো যে ওর গায়ে প্রচন্ড জ্বর…..

জেবাকে ঘরে নিয়ে আসলো বাবা মা দুজন মিলে,আর জোবায়দা দেরি না করে তাড়াতাড়ি চুলায় পানি দিল, পানি গরম হলে বড় হুজুরের দেয়া পানি গরম পানিতে মিশিয়ে জেবাকে গোসল করিয়ে দিল।।

কিছুক্ষন পর জেবার হুশ ফিরলো,, মায়ের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো “মা কি হয়েছে? ”
জোবায়দা কিছু না বলে জেবাকে একটা খেজুর দিয়ে বললো এটা খেয়ে নে,, জেবা বুঝতে পারলো মায়ের মেজাজ ভাল না,, তাই কিছু না বলে চুপচাপ খেয়ে শুয়ে পড়লো……

সকালে অনেক বেলায় জেবার ঘুম ভাঙলো.. বিছানা থেকে উঠতে যাবে তখনই জেবা টের পেল তার সারা শরীর প্রচন্ড ব্যাথা…
ওর মনে হচ্ছিল যেন কেউ ওকে বেধড়ক মেরেছে।।খুব কষ্ট হচ্ছিল ওর উঠতে..জোবায়দা এসে ওকে ধরে বসালো,সাথে বাবা ও এসে বসলো….

বাবাকে দেখে জেবা বিস্মিত হলো,এসময় বাবা বাড়ি থাকেন না।।মাদ্রাসায় চলে যান,আর ফিরেন আবার সেই রাত ১০টা নাগাদ।
আশিকুর রহমান জেবাকে উদ্দেশ্য করে বললো “দেখ মা তুই বড় হয়েছিস, এখন তোকে সবকিছু বলে বুঝানো সম্ভব না, নিজ থেকে কিছু বিষয় বুঝে নিতে চেষ্টা কর, আর কখনো ঐদিকটায় যাবি না…. মনে রাখবি আর যেন বলতে না হয় ” বাবার গাম্ভীর্য দেখে জেবা ভয় পায়, আর আরো বেশি কৌতুহলী হয়ে উঠে….

কি আছে ওখানে? কেন যাবে না? জায়গাটা দেখতে কত সুন্দর আর নিরব, ছোটবেলা থেকেই নিরবতা জেবার খুব পছন্দের।।
বাবা চলে গেলে জেবা মাকে আবার প্রশ্নবিদ্ধ করে, “মা বলো না কেন??? কেন আমার প্রশ্নের উত্তর দাও না???

এবার জোবায়দার চোখে পানি চলে আসলো, জেবার কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে রান্না ঘরে চলে গেল।
জেবা প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে শুয়ে শুয়ে ভাবে কেন এমন হচ্ছে?? মায়ের মুখের দিকে তাকালে জেবার খুব মায়া হয়, মা কখনো কিছু বলে না কিন্তু কষ্ট পেলে মুখ লুকিয়ে কান্না করে , ভাবতে ভাবতে জেবা আবার ঘুমিয়ে পড়ে।

জেবা চোখ খুলে দেখতে পেল অপুর্ব দুটি চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে, জেবা নেশাগ্রস্থের মত সে চোখের দিকে তাকিয়ে আছে,, কারো চোখ এত সুন্দর হতে পারে, এত মোহনীয় হতে পারে জেবা চিন্তাও করতে পারছে না।।।মনে হচ্ছে এ চোখে পৃথিবীর সমস্ত ভালবাসা লুকিয়ে আছে… আর জেবা সে চোখের মায়ায় বন্দি.

হঠাৎ জেবা বুঝলো কেউ একজন তাকে খুব জোরে জোরে ডাকছে…. (চলবে..)

করিডোর- পর্ব১-নুরুন নাহার লিলিয়ান।

0

হরর গল্প পর্ব১ – করিডোর:

মাস কয়েক হবে আমরা সরকারী বাসায় উঠেছি।ছিমছিম পাচঁ তলা বিল্ডিংয়ের তিন তলায় আমাদের ফ্লাট। আমার আবার সব জায়গাই ভাল লাগে। বিয়ের পর দেশে বিদেশে স্বামীর সাথে কতো বিচিত্র রকম জায়গায় বসবাস করেছি। চেষ্টা করেছি আশে পাশের মানুষ আর সব কিছুর সাথে মানিয়ে চলতে। তাই প্রথমে চেষ্টা থাকে বসবাসের জায়গাটাকে ভালোবাসা। সেটা যে রকমই হোক।বর ভদ্র লোক বাসায় কম থাকে। বেশির ভাগ সময় ল্যাবেই কাটিয়ে দেয়। বিয়ের আগে মজা করে বলেছিলেন আমার সাথে বিয়ে হলে আমি কিছু দিতে না পারলেও লেখার জন্য অনেক অভিজ্ঞতা আর উপকরন পাবেন।একজন লেখকের জন্য যা সবচেয়ে বড় সম্পদ।
সত্যিই টের পেলাম বিয়ের দিন থেকেই। অনেক বৈচিত্র্যময় উন্থান পতনের ইতিহাস থাকে গবেষকদের জীবনে। শুনেছি এই বাসার আগের লোকের অফিশিয়াল কারনে অন্য কোথাও বদলি হয়েছে। এরপর দশ মাস কেউ ছিল না।
বাসাটায় আসার পর থেকে কিছু এলোমেলো বিষয় মস্তিষ্ক কে একবার হলেও নাড়া দিয়ে যায়। প্রায়ই বাসার অনেক জিনিস হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পর ও পাওয়া যায় না। তারপর অনেক দিন পর দেখা যায় ঠিক আগের জায়গায় আছে। সেদিনও হাত ঘড়িটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সতের দিন পর সেই একই জাগায় পেলাম। মনেহয় অদৃশ্য ভাবে কেউ আমার সাথে খেলা করে। লুকোচুরি খেলা। আমাদের সবার মধ্যে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ভীষন ভাবে কিছু সময়ে সচেতন থাকে। আমার ড্রয়িংরুম আর বেড রুম থেকে ভিতরের বেড রুমে যেতে একটা ছোট করিডোর আছে। মাঝে মাঝেই লাইট টা জ্বলে না। আবার নিজ থেকেই জ্বলে।ভাবি বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা। আসলে সমস্যা হয়তো অন্য কোথাও। ভর দুপুর কিংবা মধ্যরাতে নিস্তব্ধ বাসায় বুঝা যায় ভারী পর্দা গুলো যখন নড়তে থাকে। আমি গভীর ভাবে অনুভব করি কেউ হেটে যায়।ধীর পায়ে হেটে যায়।যে সব কিছু দেখছে। আমার স্বামী প্রায়ই বিরক্ত হয়ে বলে ছন্দা তোমার মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে.

আমাকে নিয়ে মশিউলের এমন খামখেয়ালি ভাবনা চরম বিরক্ত করে।আমি বিরক্ত হলেও আমার নিজস্ব সব ভাবনা তার কাছে প্রকাশ ও করিনা । সব কিছু বুঝার ক্ষমতা সবার নেই। প্রকৃতির রহস্যময়তা কিংবা ভয়ংকর ব্যাখ্যাহীন বিষয় গুলো বুঝতে হলে খুব স্পর্শকাতর হৃদয় থাকতে হয়।চিন্তা গুলো খুব সচেতন রাখতে হয়। বিজ্ঞান এবং ধর্ম সব সময়ই তাদের সমান্তরাল নীতিতে এক। কিন্ত তা অনুভব কি সবাই সমান্তরাল ভাবে করতে পারে? এই তো সেদিন সন্ধ্যে রাত। আমি ছোট খাটো শপিং করে দরজার লক খুলে ভেতরে ঢুকলাম। হঠাৎই ব্যাখ্যাহীন ভাবে আমার পুরো শরীর হীমশীতল হয়ে উঠলো। একটু ভয় ভয় আতংক আমার সমস্ত অস্তিত্বতে ছড়িয়ে গেল। মনে হচ্ছিল বরফ জমাট শরীরটা আমি নাড়াচাড়া করতে পারছিলাম না।

সপ্তাহে দুই তিন দিন নিয়ম করে আমরা বাইরে ডিনার করি। আর সেই সাথে বাসার প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা করা। খুব সচেতনতা নিয়ে আমি সামনের ড্রয়িংরুম এবং বেড রুমটাকে কেয়ারফুলি দেখে নিলাম।হঠাৎ আমার ঢেকুর নামল।বুকের ভিতর আটকে থাকা খাবার গুলো পাকস্থলীতে পৌছালো। নিজের ভিতরের এমন বৈজ্ঞানিক ব্যাখাযোগ্য শব্দেও আমি আঁতকে উঠি। তারপর বুঝার জন্য কিছুটা সময় নিলাম। বাইরে বের হওয়ার সময় সব রুমের লাইট বন্ধ করলেও মাঝখানের করিডোরের লাইট শুধু অন করে বের হই।

সব সময় যে এমনটা হয় তা নয়।এই যান্ত্রিক ইট পাথরের ঢাকা শহরে আমাদের ক্যাম্পাসটা সবুজের সমারোহে নান্দনিক আবহাওয়া রাখে। তারপরও দরজা জানালা গ্রীলের ফাঁক ফোকর দিয়ে প্রবেশ করে ফ্লোরে ধুলার কার্পেট বিছায়। বেশ কিছুটা সময় আমি নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলাম। তবুও নিজের ভিতরের ধুক ধুক শব্দটা কে সুইচ অফ করতে চেষ্টা করলাম। এক গ্লাস পানি খেয়ে সোফায় শান্ত হয়ে বসলাম। তারপর অনুভব করলাম সবই হয়তো মনের ভুল। এই তথ্য প্রযুক্তি আর আলোঝলকানি যুগে সেই অন্ধকার ইতিহাস ভূত প্রেতের কথা ভাবা সত্যি হাস্যকর। তারপরও কেন এমন হয়। লোক লোকালয়ের এই নাগরিক জীবনে ভূত প্রেত বা অদৃশ্য অশরীরীর অস্তিত্ব টিকে থাকাও কঠিন।

আমি সব ভাবনা বাদ দিয়ে ফ্রেস হওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। ড্রয়িংরুমের সাথে আমার বাসায় একটা কমন বেসিন আছে। টিভিটা অন করে আমি চোখে মুখে পানি দিতে গেলাম। কয়েক ঝাপটা মুখে পানি দেওয়ার পর বিষয়টা চোখে পড়ল। বেড রুম আর ড্রয়িংরুমের মাঝখানের পথ দিয়ে করিডোরের যে পথটা টয়লেটের দিকে গেছে সেখানে।হালকা ধুলাময় ফ্লোরে তিনটা বড় বড় অস্পষ্ট পায়ের ছাপ। আমার বুকের ভিতরটা কেমন মুচরে উঠলো……(চলবে)

ঘড়া পর্ব ৫-মারিয়েন ফয়সাল।

0

ফৌজির অন্য মহিলার রূপের প্রশংসায়, বুকের ভিতর তীক্ষ্ণ একটা অনুভূতি হল, তবে টাকার চিন্তায় অভিমানকে দূরে সরিয়ে রাখলাম।
আলমারি দুই তিন বার ঘাটা ঘাটি করে সর্ব সাকুল্যে মাত্র তিন লক্ষ জোগাড় করতে পেরেছি । নাহ, ফৌজির কাছে চাইতেই হবে মনে হচ্ছে । গোল গোল চোখ গুলোকে বাঘের মত আরও গোল করে তাকিয়ে থাকবে প্রথমে, তারপর দিয়ে দেবে। আমি না হয় আমার বাবার বাড়ি থেকে শাহজাদী বিলকিস বেগমের পেইন্টিংটা এনে ডাইনিংহলে ঝুলিয়ে দেব। ফৌজি আর দোউখানুর চক্ষু তুষ্টিও হবে আর আমার টাকার জোগাড়। সাময়িক ভাবে সমস্যার সমাধান হলেও, একটু ভয় ভয় লাগছে আমার । যদি না দেয়!
ছেলের ঘর থেকে কথা বার্তার আওয়াজ ভেসে আসছে । দরজাটা খুলে একটু গলা বাড়িয়ে দিলাম। আমারই তো ছেলে! পেতিয়ে বসে দোউখানুর সাথে গল্প করছে ।
-‘Mom,Doukhanu is very smart!’
-‘কেমন স্মার্ট? ‘
-‘আমি ওকে ইন্টার্নেট চালাতে শিখিয়ে ফেলেছি । একটা ফেসবুক এ্যাকাউন্টও খুলে দিয়েছি, ও তোমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছে । তারপর আমার এ্যাকাউন্ট থেকে তোমার ফ্রেন্ড লিস্টে গিয়েছে । জেসিনা ফারহান, ফারিয়া শামিমকে খুব পছন্দ হয়েছে, ওনাদের চুল নাকি খুব সুন্দর । আমি অবশ্য ওনাদের ভালো করে দেখিনি । ‘
চোখগুলোর সামনে হাত দু’টো পেতে রেখেছি ।
-‘কেন দেখনি? ‘
-‘মম, তোমার বন্ধু, ওরা আমার ‘মাতৃতুল্য ‘ । ফিক করে হেসে ফেলল ।
নাহ, চোখ গুলোকে আর বোধ হয় ধরে রাখতে পারব না। কোটর ছেড়ে টুপ টুপ করে বেরিয়ে পড়ে যদি মাটিতে পড়ে যায় তাহলেই গেল সব!
এদিকে দোউখানু যেন কিছু বলার জন্য আকু পাকু করছে ।
চোখ দু’টোর জলান্জলি যাতে না হয় , তার জন্য চোখের সামনে হাত দু’টো শক্ত করে পেতে রেখেই দোউখানুকে প্রশ্ন করলাম, ‘ কিছু বলবে দোউখানু? ‘
– ‘ মম আম্মা, আমি জেসিনা ফারহানের বাসায় গিয়ে ওনাকে আড়াল থেকে দেখে এসেছি । আহা! কি তার চুলের রূপ! আড়াল থেকে দেখলাম, উনি ফ্রিজ খুঁজে বেড়াচ্ছেন ইন্টার্নেটে । তারপর আমি গেলাম ফারিয়া. এস.শামিমের বাসায় । ওনার মনে হয় অনেক জ্বর, চুল গুলো উঁচু করে বাঁধা; জ্বরে উনি রক্ত চক্ষু মা চণ্ডীর রূপ ধরে বসে রয়েছেন । তাও খুব সুন্দর! জ্বর বেশী কিনা জানার জন্য ভুলে ওনার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছি মাত্র, অমনি মার মুখী হয়ে এমন কড়া কথা বললেন … আমি দৌঁড়ে পালিয়ে এসেছি! ‘
– ‘ বল,গালি দিয়েছেন।তা কি বললেন?’
-‘না,না , আমি ওসব বলতে পারব না মম ম্যাডাম।
ফারজানা রহমানকে দেখে আসলাম, বড়ই নেক রমনী! কণ্ঠস্বর প্রায় শোনাই যায় না । রেশমী সাবেরের কাছেও গিয়েছিলাম, একটু সময় লেগেছে এই যা । সারা দিন ওনাকে অনেক কাজ করতে হয়! গৃহিনী হিসেবে উনি অতুলনীয়! ভেবেছিলাম একটু সাহায্য করে আসব, কিন্তু আগামিকাল তো আবার বিশ্ব ভ্রমণে বের হব, তাই চলে এলাম! ‘
যাক! তাহলে, এই কয়েকজনকেই রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছে। নিশ্চিন্ত হলাম।
-‘ব্যাস,এই কয়েক জন তো? নাকি.…’
-‘না মম আম্মু, আবিদ ভাই আরও কয়েকজনকে সাজেস্ট করেছেন, ওনার পছন্দ অনুযায়ী!
‘ -‘মম , তোমার এত ছোট ছোট বন্ধু, চোখ ফেরাতে একটু কষ্ট হয় । তারপরও বেশি তাকাইনি। সবই তোমার শিক্ষার গুণ! ‘
বলা বাহুল্য আমার পুত্র সন্তান আবিদের বয়স খুব বেশি না, মাত্র চব্বিশ।
-‘ হ্যাঁ বাবা, আমার শিক্ষার গুণ, আর তুমি তোমার বাবার জেরক্স, বার্থ সার্টিফিকেট লাগবে না! ‘
আবিদের ঘর থেকে বেরিয়ে, সোজা শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে আছি এখন আমি! আধা ঘন্টা পর বের হব ভাবছি ।

Comment

শেষ রাত- নুরুন নাহার লিলিয়ান।

1

দুই একদিনের ট্যুর। কিছু ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট করতে হবে। নিজের মতো থাকার জন্য সে সব সময় গেস্ট হাউজ অথবা ভাল কোন হোটেল। বিচিত্র রকমের মানুষ। আত্মিয় স্বজন কিংবা বন্ধুদের বাসা। কোথাও রাত্রি যাপন তার পছন্দ নয়।নিজের বাসা তো ভাড়া দেওয়া। বছরের বেশীর ভাগ সময় তাকে এদেশ ওদেশ ঘুরতে হয় গবেষনার প্রয়োজনে।

দিঠি তার বর নাগিবের অদ্ভুত সব একরোখা আচরনে ক্লান্ত হয়ে উঠে। বন্ধু আত্মিয় সবার কাছে তার এই অদ্ভুত আচরনের ব্যাখ্যা দিতে পারে না। এবার ও বরের সাথে ঝগড়া করতে করতে চিটাগাং থেকে ঢাকা এলো।
বরাবরের মতো ঢাকা বিসিএসআইআর গবেষনাগারের গেস্ট হাউজ। এই গেস্ট হাউজের কেয়ার টেকারের নাম নবাব। এই ছেলেটির আপ্যায়নে নবাবি সটাইল আছে। একবার কোন খাবার যদি বলা হয় ভাল লেগেছে সে সেটারই বারবার আয়োজন করবে। যখন দিঠি প্রথম বার এই গেস্ট হাউজে এলো তখন পাশের রুমে থাকা সাদা চুল ওয়ালী অবসর প্রাপ্ত মহিলা বিজ্ঞানীর সাথে ভাব হল।

ঠিক এবারও সে মহিলা এসেছে গাজী পুর থেকে। দিঠি মনে মনে ভাবলো সে থাকাতে গল্প করা যাবে। তিন তলা গেস্ট হাউজের ডান দিকে খুব সুন্দর কৃষ্ণচূড়া গাছের সাথে অদ্ভুত একটা সুপারি গাছ। এই জায়গাটায় বসলে মনটা বাতাসে হাল্কা হয়ে যায়। জীবন থেকে জীবনের হারিয়ে যাওয়া অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। লং জার্নির ক্লান্তিতে আর তার সাথে এ রাতে কথা হলো না। তারাতারি ঘুমিয়ে পড়াতে শেষ রাতে ফজরের আযানে ঘুম ভেঙে গেল।

দিঠির কিছু ভাল লাগছিল না। দরজা খুলে বারান্দায় গেল। সেই সুপারি গাছের সামনে চেয়ার নিয়ে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে সাদা চুলের বৃদ্ধা। দিঠি ঘুম চোখে এগিয়ে যাওয়াতে সে মনে হলো রেগে দাড়িয়ে গেল। তার শরীর থর থর করে কাপছে। ডেঙ্গু জ্বরের কারনে যেমন চোখ হয় রক্তিম।

ঠিক তেমন নয় বরাবর দাড়ানো অবস্থায় দেখলো ঘন রক্ত দু চোখ দিয়ে গড়িয়ে নামছে। দিঠির হাত পা অবশ হয়ে গেল। কি করবে বুঝতে পারলো না। শেষ রাতের গল্প টা ভিষন ভয়ংকর হয়ে উঠলো। সে কঠিন কণ্ঠে বলল, “আপনি ভিতরে যান।”
দিঠি হাপাতে হাপাতে রুমে ফিরে এলো। দেখলো বরের পিঠ জুরে শুধু আচরের লাল দাগ। দিঠি ভয়ার্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করাতে ঘুমের মধ্যেই বর বলল,ঘুমের মধ্যে হয়তো আমি নিজের পিঠ নিজেই আচরেছি। কাল নখ কাটতে হবে। দিঠির ভিতর থেকে ভয় যেন নামছে না। ফজরের নামাজ পড়ে আয়তুল কুরসী পড়ে নিজেকে এবং ঘুমন্ত নাগিব কে ফু দিল। সকালে নবাবকে সে মহিলার কথা জিজ্ঞেস করাতে জানালো সে গাজীপুর চলে গেছে।
দিঠির আর জিজ্ঞেস করা হলো না শেষ রাতের গল্প করতে সেই এসেছিল নাকি।

দিঠি জানে সায়েন্টিস্ট বরের কাছে আধি ভৌতিক যন্ত্রনার গল্প শেষ রাতের গল্পের মতোই। ভোরের আলোর সাথে সব ফুরিয়ে যায়।
তখন থেকেই দিঠির গায়ে প্রচণ্ড জর। চোখের সামনে থেকে সাদার চুলের বৃদ্ধার রক্তিম চোখ দুটো স্থির হয়ে রইলো। ট্রেন চলছে চিটাগাংয়ের পথে। দিঠি টের পেল এসি থাকার পরও জামার ভিতর দিয়ে ঘাম টপ টপ করে পড়ছে।

নিশিডাক – রুমানা আখতার

0

রুমী !
কেযেন ফিসফিস করে ডাকলো কানের কাছে মুখ এনে ।কি গভীর প্রেমের ডাক !! আলতো করে ঘাড়ে একটা চুমু এঁকে দিল । চমকে ঘুম ভাঙ্গলো রুমীর । শোয়ার আগে ঘরের সব বাতি বন্ধ করেই শুয়েছিল । তখন ঘর ছিল অন্ধকার । কিন্তু এখন ঘরটা যেন ভেসে যাচ্ছে আলোর বন্যায় !! মস্ত এক চাঁদ রুপালী আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে মিটিমিটি হাসছে যেন ওর দিকেই চেয়ে ।অভিভূত রুমী জানালার দিকে এগিয়ে গেল ধীরে ধীরে ।

কিন্তু ডাকটা !! কে ডাকলো ওকে অমন করে ? ঘাড়ের পাশে আঁকা আদরের স্পর্শটা যেন এখনো অনুভব করা যাচ্ছে ।

রুমী । ওই আবার !! চমকে এদিক ওদিক তাকালো ।নাহ্ কেউ তো নেই ঘরে !! জানালার ফাঁক দিয়ে তাকালো নিচের দিকে ।ওই তো , ওখানে কাকে দেখা যায় ? হঠাৎ ঘুরে চাইলো ।ওর চোখে চোখ পড়তেই মুচকি একটু হাসলো ।হাতের ইশারায় কাছে ডাকলো ।

ঘোর ঘোর , কি এক আশ্চর্য ঘোরে পেয়েছে রুমিকে !! পরনে যে শুধু পাতলা রাতের পোষাক সেই হুঁশও নেই ওর । দরজাটা খুলে বের হয়ে এল ।ওইতো সে, ডাকছে ওকে !! পিছু পিছু হেঁটে যাচ্ছে রুমী , কোথায় সে জানে না । জানতে চায়ও না ।শুধু যেতে হবে এটুকুই জানে ।

হাঁটছে তো হাঁটছেই । জলা জঙ্গল পাথর কিছুই মানছে না ।কাঁটা গাছে লেগে ছিড়ে যাচ্ছে পরনের পোষাক । পাথরে চোট খেয়ে রক্ত ঝরছে পা থেকে ।তবু হুঁশ নেই ।যেতেই হবে ওকে ।

ওই তো আবার ঘুরে তাকালো ওর দিকে , হাসলো মায়াভরা হাসি !! শুধু ওই হাসি আর মাত্র একবার দেখার জন্য বুঝিবা অনন্তকাল হাঁটা যায় !!

হঠাৎই থামলো , হাতের ইশারায় কাছে ডাকলো। সেই ডাকে সাড়া দেবে না সাধ্য কি রুমির !!পাশে যেয়ে দাঁড়াতেই হাত ইশারায় দেখাল -” দেখো কি সুন্দর ” ।রুমী দেখলোএক অতলান্ত খাদের কিনারায় দাড়িয়ে ওরা । মাথার ওপর চাঁদের আলোর বন্যা কিন্তু তার স্পর্শ পায়নি খাদের বেশিরভাগ অংশ । তলায় শুধু নিরেট আঁধার !!

দুহাতে জড়িয়ে ধরলো সে ।কানের কাছে মুখ রেখে বল্ল -“ওখানে , ওই অন্ধকারে লুকিয়ে আছে সুখ । যেতে চাও ওখানে ? আমার সাথে ? “বিবশ রুমী শুধু মাথাই নাড়তে পারলো – চায় ।নিজের দিকে ঘুড়ালো রুমীকে । ঠোঁটে চুমু খেল গভীরভাবে ।”চলো ” বলে ওর হাত ধরে টান দিলো।

তারপর কি সুন্দর পাখির মত ভেসে ভেসে নেমে চল্ল ওরা দুজনে !! কোথায় কতদুরে জানা নেই ।কি সুখ !! কি সুখ !!

পরেরদিন অনেক খোঁজাখুঁজির পর রুমীর মরদেহ পাওয়া গেল খাদের তলায় । অত উপর থেকে পরে মাথার পেছনটা থেঁতলে গেছে একেবারে ।শরীরের হাড়গোড়ও সব ভাঙ্গা । কিন্তু কি আশ্চর্য , ওর মুখে গভীর তৃপ্তির হাসি !!

সাদা নীলের ভালোবাসা-নুরুন নাহার লিলিয়ান

0

সময়টা তখন মার্চের শেষ সপ্তাহ। জাপান সাগর তার উচ্ছল তরঙ্গ ধীরে ধীরে ভাঁজ করে নিচেছ আকাশ থেকে নেমে আসা সাদা বরফ কন্যার জন্যে। তুলোর মতো নরম তুষাড়ে ছেয়ে গেছে হোক্কাইডো দ্বীপ। সারাক্ষন তুষারশুভ্রতায় সিক্ত হয়ে থাকে মানুষের মন। সকাল থেকে রাত সিটি সাপ্পোরো থেকে চলে শহর পরিষ্কারের কাজ। প্রায় দুই সপ্তাহ হলো লিরিক সাপ্পেরো শহরে এসেছে। প্রথম কয়েকটা দিন জীবন যুদ্ধের জটিলতা আর মনের গভীরের একাকিত্ত টা ভীষন ভাবে ঝেঁকে বসেছিল। কিন্তু হোক্কাইডো দ্বীপের সৌন্দর্যময় প্রকৃতির বিশালতা লিরিকের চোখকে প্রসারিত করে। এই নিরাপদ শহরে লিরিক যেন স্বর্গ খুজেঁ পেল। বরফ ঢাকা পথে হাঁটে আর ভাবে যদি যদি এই পথে কেউ হঠাৎ এসে হাতটা ধরে। কি করবে তখন। আবার মনে মনে লজ্জায় লাল হয়ে উঠে।

এমন করে কখনও বাস সেটশন কখনও পার্কে বসে জীবনের সৌন্দর্য খুজেঁ। এমন কোন এক তুষাড়পাতের সময় বাস সেটশন একাকি নিভৃতে বসে মানুষ দেখছিল। খুব অদ্ভুতভাবে সাদা তুষাড়ের ছোয়াঁ যেন লিরিক কে অন্যরকম করে দেয়। মেইন রোডে দুই একটা গাড়ি ছাড়া সারা শহরে মানুষের সংখ্যা একেবারেই কম। কিছুটা সময় খুব থমথমে কাটে। মনে হল পেছনে কোন সাইকেলে করে কেউ এলো। লিরিক ঘাড় ঘুরালো না। বেশ কিছু সময় যাওয়ার পর মনে হল কোন গানের সুর পেছন থেকে ভেসে আসছে। এবার সে ঘাড় ঘুরালো আচমকা বুকের ভিতরটা কেপে উঠলো। দুজন জাপানি টিনেজার ছেলে মেয়ে খুব কাছাকাছি বসে আছে। আবার কিছুক্ষণ পর দেখে মেয়েটি জাপানি গান গাইছে। আর ছেলেটি বরফ দিয়ে স্নো ম্যান বানাচ্ছে।

তাদের পরস্পরের সম্বোধন থেকে বুঝা গেল ছেলেটির নাম আওই মানে নীল রং আর মেয়েটির নাম শিরোই মানে সাদা রং। তাদের দুজনের রংয়ের নামে নাম। তাদের খেলা দেখে লিরিকের ভীষন ভাল লাগলো। ছেলেটির তৈরী করা স্নো ম্যানের সামনে মেয়েটি ছবি তুলতে চাইলো। কিন্তু স্নো ম্যানের সামনে দুজন ছবি তুলবে। তাই লিরিক কে বাংলায় অনুরোধ করলো। সে হতভম্ব হয়ে গেল। তারপর শিরোই নামের মেয়েটি বলল,”তুষাড়পাতের এই সময়টায় আকাশের নীল আর সাদা তুষাড়ের ভাব বিনিময় হয়।

পৃথিবীর সকল প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য শুভক্ষন। আমরা সারাদিন তুষাড়পাতের সাথে খেলবো। বিকাল তিনটায় তুষাড়পাত কমে যাবে। তখন আমরা আত্মহত্যা করবো। ”
লিরিক ভয়ে পেয়ে গেল। আচমকা ভৌতিক আতংকে গায়ের রক্ত হীম হয়ে এলো। বাইরের পুরো চেনা শহর যেন অচেনা অন্ধকারে ঢাকা। তবুও আতংকিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো, “তোমরা আত্মহত্যা করবে কেন? ”
আওই নামের ছেলেটি বলল,” আমরা দুজন দেরশ বছর আগে এইখানে আত্মহত্যা করেছিলাম।বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীতে আসি। আবার আত্মহনন করে ফিরে যাই। ”
লিরিক বলল, এমনি ফিরে যাও আত্মহত্যা করতে হবে কেন?
শিরোই বলল,আমরা যে ভাবে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে ছিলাম ঠিক সেভাবেই ফিরতে হবে স্বর্গে। ”
লিরিকের হাত পা কাপছিল।ধর ধর ভঙ্গিতেই জানতে চাইলো, “আত্মহত্যা কেন করেছিল”
শিরোই বলল, ” আমাদের পরিবার দুই জায়গায় বসতি গড়তে যাচিছল। আমরা আমাদের মধ্যের দূরত্ব মেনে নিতে পারছিলাম না। আমাদের ভালবাসাটা মৃত্যুর মধ্য দিয়ে টিকে থাকুক।কোন বাস্তবতায় যেন না হারায়।”
এরপর কথা বলতে বলতে দুজন দুজনের পেটে ছুড়ি ঢুকিয়ে দিল। মানব দেহের রক্তক্ষরনে সাদা বরফে ঢাকা রাস্তা ভেসে রক্তাক্ত হয়ে উঠলো। তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো। লিরিক কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল। তাদের জীবন আছে কিনা বুঝতে যেতেই তারা একসাথে রক্তাক্ত শরীরে দাড়িয়ে গেল। কেমন অদ্ভুতভাবে দুজনে হাত ধরে গান গাইতে গাইতে আর সাইকেল চালাতে চালাতে সামনের ঘন তুষাড়পাতের হাওয়ায় হারিয়ে গেল।

কয়েক মুহুর্তে যেন কতো কিছুই ঘটে গেল। লিরিক দেখলো তার মোবাইলে যে ছবি তুলেছিল তা নেই। সে বুঝতে পারলো তার শরীর অবশ হতে শুরু করেছে। সে মূর্ছা গেল।

“নাগেশ্বরী “-নুরুন নাহার লিলিয়ান

0

নাগেশ্বরী গাছটায় হঠাৎ করেই ফুল নেই। গবেষনাগারের সবাই খুব অবাক। মালী মতিন প্রায় প্রতিদিন গাছটার যত্ন নেয়। দুই মাস হলো চিটাগাং ক্যামিক্যাল গবেষনাগারের নতুন ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দিয়েছেন ড.নির্মল কুমার সেন। তার পরিবার ছেলে মেয়ে আর বউ কেউ সাথে নেই। তারা সবাই ঢাকা থাকে। ডিরেক্টরের বিশেষ বাংলোতে তিনি থাকেন।বিশাল চিটাগাং গবেষনাগারে অনেক অনিয়ম। সরকারের এতো সময় কোথায় ঢাকার বাইরে কি হয় না হয় জেনে।

খুব নিরব আর রহস্যময়।প্রথম রাতেই ড.নির্মল বাংলোতে ঘুমাতে পারলেন না। কেমন অস্থিরতা কাজ করছিল। বাংলোর পিছনেই বার্বুচি মানিকের বাসা।প্রতিদিন মালী মতিন নাগলিজ্ঞম, জবা,আর গোলাপ দিয়ে তোরা বানিয়ে বাংলোতে রেখে আসে। এখানে আসার পর ড. নির্মল ক্ষমতা আর লোভের মোহে পড়ে গেল। বিশাল বিরানভূমিতে লোকজন নেই বললেই চলে।এটাতে একটা সুবিধা হলো বেশী আয় রোজগারের অনেক ধরনের পথ আছে। চিটাগাং অসৎ ব্যবসায়ীদের সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরী হল। সরকারি অনেক মূল্যবান ক্যামিক্যাল তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে পাচার করে দেয়। এই কাজে ব্যবহার করে মালী মতিনকে।

এভাবে আরো কয়েক মাস গেল। দুই তিন দিন হয় রাতে কেমন ভয় ভয় লাগে। কারনটা হয়তো অন্য কিছু হতে পারে। বিশ্বস্ত মালী মতিন কি বিশ্বাস ঘাতকতা করবে নাকি তাকে আরো সাবধান হতে হবে। এই দিকে মালী মতিনের বউ অন্তঃসত্তা। মতিনের ছুটি দরকার। কিন্তু এই সময়টায় ড.নির্মল তাকে ছুটি দিলে গোপন ব্যবসার ক্ষতি হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালীকে ছুটি দিল না। অনেক অনুনয় বিনয় অনুরোধ করার পর ও ছুটি পেল না মতিন। ওদিকে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে বউটা মরে গেল।

মালী মতিন বউটাকে খুব ভালবাসতো। প্রচনড আঘাতে মতিন প্রতিবাদী হয়ে উঠলো। যার কারনে সন্ত্রাসীদের সহযোগীতায় দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। সবাই জানলো বউয়ের মৃত্যু যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁসি দিয়েছে। ওই যে নাগেশ্বরী গাছটা সেটা কিন্তু সব দেখেছে।ডিরেক্টর তার পরিবারের সবাইকে চিটাগাং নিয়ে এলেন। বেশ সুন্দর জীবন চলছিল।হঠাৎ একদিন খাগড়াছড়ি ঘুরতে গিয়ে ভয়ংকর দূর্ঘটনায় একমাত্র ছেলের চোখ দুটো হারায়, স্ত্রী চিরদিনের জন্য পরপারে চলে যায়,মেয়েটি মাথায় আঘাত পেয়ে বোবা হয়ে যায়।

সেদিন থেকে শুধু ড.নির্মল নাগেশ্বরী গাছটার নিচে মতিন কে দেখতে পায়। আর কেউ দেখতে না পেলেও ড.নির্মল দেখে দাঁ হাতে মতিন কি কঠিন দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে।

ঘড়া পর্ব ৪-মারিয়েন ফয়সাল।

0

সবাইকে পরিষ্কারের কাজে লাগিয়ে দিয়েছি।অনেকদিন পর এত বড় দু’টা দাওয়াত, চাল থেকে ক্ষুদ বাছার মত করে ঘর পরিষ্কার করতে হবে।
একটু পরেই আমার ছেলের দেখা পেলাম, কিন্তু ওর তো এখন বাসায় থাকার কথা নয়!
-‘তুমি বাসায় কেন?’
-‘আজ আর বের হব না।’
বুঝ্লাম আরও একবার প্রশ্ন উত্তরের মুখোমুখী হতে হবে।
ও শুধু হাতে নাতে প্রমানের অপেক্ষায় রয়ে গিয়েছে, আর ও জানলেই’ বন্দুকধারী’জেনে যাবে । অবশ্য ওদেরকে তো এক সময় না এক সময় জানাতেই হবে!
‘ঝন ঝন’ শব্দে চারিদিক খান খান হয়ে গেল, তার সাথে মতিবিবির খনখনে গলা, ‘গেল গেল, সব খান খান হয়ে গেল!’ লবি থেকে আওয়াজটা এসেছে। সবার আগে ছেলে দৌঁড়ে গিয়েছে আর মতিবিবিও ভাঙ্গা কোমরে দৌঁড়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে। আমি তৃতীয়।দেখলাম দোউখানু একটু হতভম্ব হয়ে একটা কাচের জার হাতে বসে রয়েছে।
‘আসতে না আসতেই সর্বনাশে লেইগে পড়েছো!’
‘কই! কিছু হয়নি তো মতি আম্মা!’
বুড়ো দামড়া, আমি তোর আম্মা হব কেন! ও তুই মিডামোকে ডাক! কিন্তু ভাঙ্গলি কেন!’
-‘কই কিছু ভাঙ্গে নাই তো!’ দোউখানুর নির্লিপ্ত উত্তর । দোউখানুর হাতে আস্ত একটা জার।
মতিবিবি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে।
-‘কিন্তু, ওটা তো ভেইঙ্গে টুকরা হয়ে পড়েছিল মাটিতে!’
আমার ছেলে একদম চুপ।
-‘মতিবিবি, তোমার চোখে মনে হয় ছানি পড়েছে, বয়েস তো কম হল না!’
দোউখানুও সায় দিল।
-‘মিডাম যে কি বুইললেন! এত কম বয়সে ছানি পড়ে নাকি!’
-‘দোউখানু তুমি কাজ কর।’
আমার সাথে সাথে আমার ছেলেও আমার ঘরে চলে এসেছে।
-‘আমি যে দেখলাম,ভাঙ্গা জারটা নিমেশে জোড়া লেগে গেল! ‘ ও আমার দিকে খুব সতর্ক ভাবে তাকিয়ে আছে। আমি নিশ্চুপ!
-‘ওই লোকটা কে আম্মু? মানুষ নয় তাই না?’
-‘ হ্যাঁ ‘
বেশ খুশী হয়েছে মনে হল।
-‘বাবা জানেন? আর হুজুর মামার কি করবে? বাবাকে জানানোর সময় আমাকে ডেকো।’
বুঝ্লাম মজা দেখতে চায়’
-‘আচ্ছা’
রাত দশটায় বন্দুকধারীকে সরাসরি জানালাম যে আমি একজন জ্বীন বাবুর্চি নিয়োগ করেছি যে কিনা আমার পূর্ব পুরুষ বিলকিস বেগমের প্রতি আসক্ত ছিল, এবংশাহজাদী বেগমও তার প্রতি আসক্ত হন।
-‘যার ছবি তোমাদের বাড়ির সিড়িঘরে ঝুলানো আছে?’
বন্দুকধারী যেন কল্পনায় বিলকিস বেগমকে দেখতে চেষ্টা করলেন, এবং তন্ময় হয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে রইলেন।মনে হল উনি জ্যান্ত বিলকিস বেগমকেই দেখছেন।
-‘কিন্তু ও তো তোমার প্রতিও আসক্ত হতে পারে, অবশ্য বিলকিস বেগমকে দেখার পর তোমার প্রতি আসক্তির কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’
গম্ভীর ভাবে জানালাম যে দোউখানু আমাকে মাতৃতুল্য ভাবে।
উত্তর এলো, ‘আসলে শাহজাদী বিলকিস বেগমকে দেখার পর অন্যদেরকে মাতৃতুল্য ভাবাটাই স্বাভাবিক। আহা! কি রূপ!’
আমি বললাম, ‘রূপের কথা এখন থাক!’

শ্বেত পাথরের বাড়ি -সালেহা বড়লস্কর

1

সাত সকালে টেলিফোনটা বেজে উঠলো ।। মেজাজ খারাপ হয়ে গেল । টেলিফোন ধরতেই ফরহাদের গলা ভেসে উঠলো ।

কিরে এখনো ঘুমাচ্ছিস ?
তুই আর ঘুমাতে দিলি কই ?
আরে শোন জব্বর খবর আছে । তাইতো এই সাত সকালে টেলিফোন করেছি । তোকে এক জায়গায় নিয়ে যেতে চাই ।
তুই যেখানে খুশি যা আমাকে একটু ঘুমাতে দে ।
ঠিক আছে আরো এক ঘন্টা সময় দিলাম । তারপর এসে আমার সংগে নাস্তা খাবি । তোর প্রিয় নাস্তা পরোটা মাংস থাকবে । তোর সখের রস মালাই ও থাকবে । আসিস কিন্তু ।
আর নাস্তার লোভ দেখাতে হবে না
তাহলে অবশ্যই আসবি সুমন । দেড় ঘন্টার ভিতরে আসবি ।
নাস্তা খাওয়ার পর ফরহাদ বললো চল এবার ।
কোন চুলায় যেতে হবে ?
তুই চোখ বুঁজে হুন্ডায় আমার পেছনে বসবি । তারপর দেখবি কোথায় যাই ।
হুন্ডা এসে থমলো শহর থেকে কিছু দূরে গাছ গাছালিতে পরিপূর্ণ একটা ধপধপে সাদা বাড়ির সামনে । বাড়িটা দেখেই কেন জানি আমার মনে হল বাড়িটা শ্বেত পাথর দিয়ে তৈরী ।সূর্যের অলোয় অপূর্ব রঙের সমাহারে ঝক ঝকে তক তকে বাড়ি । বাড়ির গেটে এক দারোয়ান বসে ঝিমুচ্ছে ।দারোয়ানের চোখগুলো মনে হচ্ছে রক্তের মত লাল । পরনের কাপড় দেখলে মনে হয় যেন শত বর্ষ আগের কেনা । এ সমস্ত দেখে
আমি ফরহাদকে জিজ্ঞেস করলাম ,এখানে কি করতে এসেছিস ?
আরে ঐ বাড়িটা আমি কিনবো । তোকে দেখাতে নিয়ে এলাম ।
তুই কিনবি ? সেলিনাকে বলেছিস ?
এখন ও বলি নাই ।বিয়ের পর তাকে সারপ্রাইজ দেব । বাড়িটা তাকেই দিয়ে দেব ।
চল ভিতরটা দেখে আসি । দারোয়ানকে গেট খুলতে বল ।
দারোয়ান কিছুক্ষণ আমাদের মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে গেট খুলে দিল কিন্তু কোন কথা বললো না ।
ভিতরে ঢুকেই প্রথমে চোখে পড়লো গেটের এক পাশে শিউলি ফুলের গাছ । অন্য পাশে বকুল ফুলের গাছ । মাঝখানে ঝক ঝকে পাকা সিমেন্টের রাস্তা তাও ধপ ধপে সাদা । রাস্তা পার হয়েই বিরাট বারান্দা । তারপর বসবার ঘর । সাজানো ঘোচানো । উপরে তিনটি বেডরুম । সবগুলোই সাজানো ঘুচানো । প্রতিটি বেডে ঝক ঝকে সাদা বেড কভার বিছানো । সুন্দর করে সাজানো প্রতিটি বেডরুম । দেখে মুগ্ধ হলাম । দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে গেল । আকাশে রূপালি চাঁদের হাসি বিচ্ছুরিত হল । ধপ ধপে সাদা বাড়িটা স্বর্গীয় শোভায় আলোক বিচ্ছুরিত করতে লাগলো । আমরা দেখে মুগ্ধ হলাম ।
বাড়িটা কিনলো ফরহাদ ।আমার সঙ্গে শর্ত হল ফরহাদের বিয়ের আগ পর্যন্ত আমি তার সঙ্গে এ বাড়িতে থাকবো । কারণ একা সে নিঃসঙ্গ বোধ করবে ।
বাড়িতে পার হওয়ার পর থেকে বাড়ির ভিতরের ফুলে ফুলে সুশোভিত বাগানে হঠাৎ হঠাৎ মেয়েলি কন্ঠে গান ভেসে আসতো । কখনো কখনো এক দীর্ঘ ঘন কালো কেশী সুন্দরি মহিলার দেখা মিলতো আবার মুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে যেত । তারপর এলো পূর্ণিমার রাত । সারা রাত ধরে মারামারি আর হট্টগোলের আর কান্নার শব্দ ভেসে আসলো । কারা যেন ফরহাদের আর আমার টুটি টিপে ধরলো । সকালে আমরা দুজনই ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত । আসার আগে দারোয়ানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে একটা কথা সে বললো , বাবু হাম তো দুশ বছর আগ মে মর গিয়া ।পূর্ণিমা রাত মে ডাকাত হাম সব কো কতল কর দিয়া বলেই সে অদৃশ্য হয়ে গেল

আত্মা -রওনক নূর।

0
প্র‌তি র‌বিবার ছু‌টির দি‌নে সি‌নেমা দেখ‌তে যাওয়া তন্ময়ের অভ্যা‌সে প‌রিনত হ‌য়ে‌ছে। র‌বিবার সকা‌লে বের হ‌য়ে দুপুর পর্যন্ত সি‌নেমা দে‌খে অব‌ন্তির সা‌থে লান্স ক‌রে তারপর বাসায় ফে‌রে। কিন্তু অাজ সে বের হ‌তে পা‌রে‌নি এখনও। বাসায় কোথা থে‌কে একজন মেহমান অাস‌ছে, একজন মে‌য়ে। বোবা মে‌য়েটা, তাই কে সে বোঝা যায়‌নি। বেশ সুন্দরী মে‌য়েটা, রাজকন্যা টাই‌পের চেহারা। অব‌ন্তি‌কে এটা বলা‌তে খুব ক্ষেপ‌ছে। ও হয়ত নি‌জে‌কে পৃ‌থিবীর সব‌থে‌কে সুন্দরী ভা‌বে। তন্ম‌য়েরও খুব রাগ হল অবন্তির উপর। তাই একাই রওনা হল সি‌নেমা দেখ‌তে। অাজ হরর মু‌ভি দেখ‌বে তন্ময়। সি‌নেমা হ‌লে ঢুক‌তেই কেমন জা‌নি গা ছমছম কর‌ছিল তন্ম‌য়ের। একা একা কখনও সে হরর মু‌ভি দে‌খেনি। মু‌ভি দে‌খে তন্ময় খুব অবাক হল। মু‌ভি‌তে যে অাত্মাটা কে দেখাচ্ছে ওই মে‌য়েটাই অাজ সকা‌লে ও‌দের বাসায় অাস‌ছে। তন্ময়ের খুব ভয় হ‌চ্ছিল কারন ওর পা‌শেও কেউ ছিলনা। হঠাৎ সে অনুভব করল পাশ থে‌কে কেউ একজন তার কা‌ধে হাত রাখ‌লো । তাকা‌তেই সে দেখ‌লো সেই মে‌য়ে‌টি তার পা‌শে ব‌সে অা‌ছে। তন্ম‌য়ের গলা শু‌কি‌য়ে অাস‌ছি‌লো। বা‌হি‌রে বের হবার চেষ্টা কর‌তেই মে‌য়েটা তার হাত চে‌পে ধরল। টানাটা‌নি‌তে তন্ম‌য়ের ঘ‌ড়িটা খু‌লে থে‌কে গে‌লো। কোন ম‌তে ছা‌ড়ি‌য়ে মু‌ভি শেষ না ক‌রেই বে‌রি‌য়ে পড়‌লো। কিন্তু বা‌হি‌রে সে কোন রিক্সা দেখ‌তে পে‌লোনা। হাট‌তে শুরু করল। অাজ রাস্তাটাও তার কা‌ছে অ‌চেনা লাগ‌ছে। হাট‌তে হাট‌তে অ‌নেক দুর যাবার পর একটা রিক্সা পে‌লো। রিক্সায় উ‌ঠে রিক্সা চালক‌কে তাড়াতা‌ড়ি চালা‌তে ব‌লে। তন্ম‌য়ের ঘুমঘুম পা‌চ্ছিল, হঠাৎ সে অনুভব করল তার পা‌শে কেউ ব‌সে অা‌ছে। পা‌শে তাকা‌তেই দে‌খে সেই মে‌য়ে‌টি। মে‌য়ে‌টি ব‌লে” ঘ‌ড়িটা নি‌বেনা তন্ময়।” কোনম‌তে রিক্সা থে‌কে নে‌মে দৌড় দেয় তন্ময়। দৌড়া‌তে দৌড়া‌তে একটা বাড়ী‌তে যে‌য়ে নক ক‌রে সে। ‌ ভেতর থে‌কে একজন ম‌হিলা বের হ‌য়ে অা‌সে ঘোমটা দি‌য়ে। ভ‌য়ে তন্ম‌য়ের বুক তখন তৃষ্নায় শু‌খি‌য়ে গে‌ছে। ম‌হিলার কা‌ছে পা‌নি চাওয়ার অা‌গেই ম‌হিলা‌টি তন্ময়‌কে পা‌নি এ‌গি‌য়ে দিল। কোন কিছু না ভে‌বে ঢকঢক ক‌রে পা‌নি খে‌য়ে নিলো সে। ম‌হিলা‌কে গ্লাসটা দি‌তেই ঘোমটা উ‌ঠি‌য়ে ম‌হিলা‌টি ব‌লে “ঘ‌ড়িটা নি‌বে না” । তন্ময় তাকা‌তেই অবাক হল এটা তো সেই মে‌য়ে। কোনম‌তে দৌড় দি‌য়ে পালানোর চেষ্টা করল। কিন্তু মে‌য়েটাও ওর পিছ পিছ দৌড়া‌নো শুরু করল। দৌড়া‌তে গি‌য়ে ট্রেন রাস্তার সাম‌নে গে‌লো সে। মে‌য়ে‌টি ধাক্কা দি‌য়ে স‌রি‌য়ে দিল তন্ময়‌কে অার ট্রেন এ‌সে চাপা দিল মে‌য়ে‌টি‌কে। তন্ময় অঙ্গান হ‌য়ে গেল। ‌ চোখ খুল‌তেই তন্ময় অনুভব কর‌লো সে তার বে‌ডে। এখা‌নে কিভা‌বে অাস‌লো কিছুই বুঝ‌তে পার‌লোনা সে। শরী‌রে খুব ব্যাথা ওর। মা চা দি‌তে অাস‌লো। কাল কি হ‌য়ে‌ছি‌লো জান‌তে চাই‌লো তন্ম‌য়ের কা‌ছে। তন্ম‌য়ের বাবা নামায পড়‌তে মস‌জি‌দে যাবার সময় ও‌কে অঙ্গান অবস্হায় পে‌য়ে‌ছে বাসার গে‌টের সাম‌নে। কিছুই বুঝ‌তে পার‌লো না তন্ময়। তা‌কি‌য়ে রই‌লো মা‌য়ের দি‌কে। খুব মাথা ঘুরা‌চ্ছিল অার অ‌স্হির লাগ‌ছি‌লো তন্ম‌য়ের। অব‌ন্তি‌কে খবর দি‌য়ে‌ছে তন্ম‌য়ের মা। হয়ত এখনই এ‌সে যা‌বে। তন্ময় মা‌য়ের কা‌ছে গতকাল যে মে‌য়েটা এ‌সেছিল তার সম্প‌র্কে জান‌তে চাই‌লে মা জানা‌লো সকা‌লেই মে‌য়ে‌টি চ‌লে গে‌ছি‌লো। ভা‌লো লাগ‌ছি‌লোনা তন্ম‌য়ের। অবাক হল সেই ঘ‌ড়িটা নি‌জের হা‌তে দে‌খে। অব‌ন্তি এ‌সে বকবক করতেই অা‌ছে। কেন, কিভা‌বে, কি হল হাজারটা প্রশ্ন। এর ম‌ধ্যে শুরু ক‌রে‌ছে অার এক গল্প। তার গ্রা‌মের এক অা‌ত্মিয় না‌কি ট্রে‌নে চাপা প‌ড়ে‌ছে, হয়ত অাত্মহত্যা ক‌রে‌ছে। ফেসবু‌কে কোন ছে‌লে তার সা‌থে প্রতারনা ক‌রে‌ছে । এত সুন্দর মে‌য়েটা‌কে কেমন বিভৎস লাগ‌ছে। ৫ দিন অা‌গে এ ঘটনা ঘট‌ছে। কিন্তু অব‌ন্তিরা খবর পে‌য়ে‌ছে অাজ। প‌ত্রিকা সা‌থে এ‌নে‌ছে অব‌ন্তি। প‌ত্রিকা‌তে দু‌টি ছ‌বি, এক‌টি ট্রে‌নে কাটা অার এক‌টি অা‌গের। জোর ক‌রে তন্ময়‌কে দেখা‌লো অব‌ন্তি। তন্ময় চম‌কে উঠ‌লো ম‌নে হল হৃদ-স্পন্দন থে‌মে অাস‌ছে। এটাই‌তো সেই মে‌য়ে যে কাল রা‌ত্রে ওর সা‌থে এত কান্ড ঘ‌টি‌য়ে‌ছে। মে‌য়ে‌টির নাম জান‌তে চাই‌লে অব‌ন্তি জানা‌লো নীলা। তন্ময় ল্যাপটব নি‌য়ে ওর ফেসবুব এক্টিভ করল যা সে এক সপ্তাহ অা‌গে ডিএ‌ক্টিভ ক‌রে‌ছি‌লো। “নীল পরী নীলা” ছিল মে‌য়ে‌টির ফেসবুকের নাম। প্র‌তি‌দিন চ্যাট হত মে‌য়ে‌টির সা‌থে। ত‌বে তন্ম‌য়ের স‌ন্দেহ ছি‌লো যে এ‌টি ফেক অাই‌ডি।মে‌য়ে‌টি নি‌জের ছ‌বি ফেসবু‌কে দিতনা। তন্ম‌য়ের জীব‌নে অব‌ন্তি থাকার স্ব‌ত্ত্বেও নীলার সা‌থে ওর প্রেম হয়। গত জন্ম‌দি‌নে নীলা এই ঘ‌ড়ি‌টি দি‌য়ে‌ছিল তন্ময়‌কে। গত সপ্তা‌হে ছ‌বি দেওয়া নি‌য়ে ঝগড়া হওয়ায় ফেসকুক ডিএ‌ক্টিভ ক‌রে তন্ময়। মে‌য়ে‌টি ব‌লে তু‌মি তো অামা‌কে ভা‌লোবা‌সো ত‌বে ছ‌বি দি‌য়ে কি কর‌বে। তন্ম‌য়ের কা‌ছে সম্পর্কটার গুরুত্ব না থাক‌লেও মে‌য়ে‌টির কা‌ছে অ‌নেক বে‌শি ছিল। শত মে‌সেজ জমা হ‌য়ে অা‌ছে ইনব‌ক্সে অার কিছু ছ‌বি। তন্ময় অবাক হ‌য়ে দেখ‌লো সেই মে‌য়ে‌টিই নীলা যে গত কাল তার কা‌ছে এ‌সে‌ছিলো। ত‌বে এটা ছিল নীলার অশরীরী অাত্মা।