অশুভ গলির তিন প্রেত­ [১ম অংশ]

5

 

নন্দীপাড়ার সরু রাস্তা ধরে হাঁটছিলাম। শুক্কুরবার সকাল। মেঘহীন উজ্জ্বল দিন। ঢাকা শহরের এ দিকটা বেশ ঘিঞ্জি। অনেকদিন এদিকটায় আমার আসা হয় নি। নন্দীপাড়ায় এসেছিলাম জমি দেখতে। আমার জমি পছন্দ হয়নি। তাছাড়া নিষ্কন্ঠক বলে মনে হল না। আমি ব্যাঙ্কে চাকরি করি। জাল কাগজপত্র সহজে ধরতে পারি। দালালের সঙ্গে কিছুক্ষণ চোটপাট করে এখন রাগের মাথায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

হঠাৎ আমার মনে পড়ে গেল- এদিকেই তো আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু ওয়াহেদরা থাকত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ওয়াহেদের সঙ্গেই দু-একবার ওদের নন্দীপাড়ার বাড়িতে এসেছিলাম ।যদিও ওয়াহেদ-এর সঙ্গে বহু বছর যোগাযোগ নেই। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ করি তখনও মোবাইল যুগ শুরু হয়নি। এটা এক কারণ। অন্য কারণ হল, আমি এম.এ পাস করেই অনেকটা তাড়াহুড়ো করে বিদেশ চলে গিয়েছিলাম। দীর্ঘকাল প্রবাস জীবন কাটিয়ে এই বছর দশেক হল দেশে ফিরে এসেছি।

আমি ওয়াহেদের খোঁজ নেব ঠিক করলাম। ও যখন এদিকেই থাকে হয়তো সেআমাকে দস্তুরমতো এক টুকরো জমির খোঁজ দিতে পারবে। তাছাড়া ওয়াহেদের সঙ্গে দেখা করার আরও একটা কারণ আছে। আমাদের সবারই বয়স এখন চল্লিশের কোঠায়। চুলে পাক ধরেছে। হার্টের অসুখ আর ডায়াবেটিস নিত্যসঙ্গী। এই সময়টায় পুরনো বন্ধুবান্ধবের জন্য মন হু হু করে।

সামান্য ঘোরাঘুরির পর ওয়াহেদরা যে গলিতে থাকত সেই গলিটা চিনতে পারলাম। গলির ভিতরে ঢুকলাম। ঢুকতেই আমার গা কেমন ছমছম করে উঠল। এর কোনও কারণ খুঁজে পেলাম না। অস্বস্তিকর অনুভূতি এড়াতে একটা সিগারেট ধরালাম। দু’পাশে আস্তর-ওঠা দেয়াল, নোংরা ড্রেন। দোতলা, তিনতলা সব বাড়ির লোহার গেট। ঝাঁপি-ফেলা মুদিদোকান। সিগারেট টানছি। আর হাঁটছি। বাঁ পাশে কচুরিপানা ভরতি একটা পুকুর।বাতাসে পানার গন্ধ ভাসছে। শুক্কুরবারে এমনিতেই ঢাকা শহরটা ঝিম মেরে থাকে। এই গলিতেও এই মুহূর্তে লোকজন তেমন চোখে পড়ল না। রোদটা কেমন মরাটে হয়ে এসেছে। তবে আকাশে মেঘ-টেঘ জমেনি।

ভাবছি ওয়াহেদরা কি এখনও এখানেই থাকে। ও খুব প্রাণবন্ত ছেলে ছিল। সারাক্ষণ বন্ধুদের মাতিয়ে রাখত। এম.এ পড়ার সময় হঠাৎই ওর বাবা মারা যান। তারপর ওয়াহেদ কেমন গুটিয়ে যায়। ভার্সিটি কম আসত। ওর মা বেঁচে ছিলেন না। শিউলি নামে ওয়াহেদের এক বোন ছিল। আমরা ওয়াহেদদের বাসায় গেলে শিউলি পরদার ওপাশ থেকে উঁকিঝুঁকি মারত।ট্রেতে চা আর পাপড় ভাজা নিয়ে খুব সেজেগুঁজে বসারঘরে আসত। শিউলি বেশ সুন্দরী ছিল দেখতে। ফরসা। ক্লাস নাইন কি টেনে পড়ত সম্ভবত। (ওয়াহেদ রক্ষণশীল ছিল, ও বোনকে চোখে চোখে রাখত) মনে আছে … ওয়াহেদদের বাড়িটা ছিল দোতলা। ওরাঅবশ্য একতলায় থাকত। দোতলা ছিল ভাড়া। আর একটা ফার্মেসি ছিল ওদের। ওর এক আত্মীয় বসত ফার্মেসিতে। তবে বাবা মারা যাওয়ার পর ওয়াহেদকেই ফার্মেসি দেখাশোনা করতে হত।তার আগে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সুরভী নামে একটি মেয়ের সঙ্গে ওয়াহেদের ভালোবাসার সর্ম্পক গড়ে উঠেছিল। তবে সুরভীর চরিত্রে অদ্ভূত এক দ্বৈততা ছিল। বেশ শান্ত, গম্ভীর, চশমা পরা সুরভী পড়ত সমাজকল্যাণ বিভাগে। শ্যামলা রঙের ছিপছিপে সুরভী কথাও বলত কম। সুরভী ছিল রাজশাহীর মেয়ে। ওর এক কাজিন (চাচাতো ভাই) পড়ত লোকপ্রশাসন বিভাগে। কালো স্বাস্থবান, গোলগালচেহারার শাহনেওয়াজ আর সুরভীকে প্রায়ই আমরা ক্যাম্পাসে, টিএসসিতে একসঙ্গে ঘুরে বেড়াতে দেখতাম। ওয়াহেদ, বরাবরই দেখেছি, শাওনেওয়াজকে একেবারেই সহ্য করতে পারত না। সুরভী নাকি বলত, তুমি অহেতুক শাহনেওয়াজ ভাইকে সন্দেহ কর ওয়াহেদ।

অবশ্য আমি সরাসরি এসব ঘটনায় যুক্ত ছিলাম না। দূর থেকে দেখতাম কেবল; আর পাত্রপাত্রীকে চিনতাম শুধু। আসলে এ রকম কত ঘটনার সাক্ষীছিলাম ইউনিভার্সিটি জীবনে। ওয়াহেদ-সুরভী আর শাহনেওয়াজ-এর ত্রিমূখী দ্বন্দটি ছিল সেরকমই একটি ঘটনা।

ওদের কি হয়েছিল শেষ পর্যন্ত?

কথাটা ভাবতে ভাবতে হাঁটছি। হঠাৎ দেখি- একটা শাটার-ফেলা একটা সেলুনের সামনে ওয়াহেদ। মাথায় ছোটছোট করে ছাঁটা লালচে শক্ত চুলে পাক ধরেছে মনে হল। লম্বাটে ফরসা মুখে খোচা খোচা পাকা দাড়ি। চোখে কালো ফ্রেমের পুরু লেন্সের চশমা। পরনে খয়েরি রঙের বার্মিজ লুঙ্গি আর কুঁকচে যাওয়া গোলাপি রঙের শার্ট। পায়ে রাবারের স্যান্ডেল। হাতে একটা বাজারের ব্যাগ গোটানো।

ওকে দেখে সিগারেট ফেলে দিলাম। ওয়াহেদ আমাকে দেখেছে। চিনতে চেষ্টা করছে বলে মনে হল। চিনতে পেরে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল, এনামুল না?

আমি হাসলাম। হ্যাঁ, দোস্ত। কেমন আছিস?

ওয়াহেদ ফ্যাকাশে হাসল। উত্তর দিলনা। পুরু লেন্সের ফাঁকে ওর চোখ দুটি কেমন ঘোলা দেখালো। ঘোলা খুব শীতল মনে হল। মনে হল চোখ দুটি মার্বেলের তৈরি।

হঠাৎ আমার কেমন শীত করতে থাকে। হঠাৎ বাতাসে আশটে গন্ধ পেলাম। মনে হল কাছেই কোথাও বেড়াল বা ইঁদুর মরে পড়ে থাকবে। এতক্ষণ খেয়াল করিনি।

বললাম, অনেক দিন পর। তাহলে তোরা এখানেই থাকিস?

ওয়াহেদ মাথা নাড়ল। বলল, বাপদাদার বাড়ি।

চারিদিকে তাকিয়ে বললাম, এ দিকটা এখনও আগের মতেই আছে। তা এখন কি করছিস তুই?

প্রশ্নটা এড়িয়ে গেল ওয়াহেদ। বলল, আমরা এখনও ওই দোতলা বাড়ির এক তলায় থাকি ।বলে হাত তুলে একটা হলুদ রঙের দোতলা বাড়ি দেখাল। বাড়ির সামনে প্রাচীর। খয়েরি গেইট। প্রাচীরের ওপাশে পেয়ারা গাছ চোখেপড়ে। বাড়িটা দেখেই চিনতে পারলাম।বেশ পুরনো দোতলা বাড়ি। মনে আছে ওয়াহেদ বলেছিল- ওরা ঢাকার স্থানীয় অধিবাসী। তবে কুট্টি নয়।

পাশ দিয়ে একটা খালি রিকশা চলে যায়। আতরের গন্ধ ভুরভুর পেলাম। অবাক হলাম। রিকশাওয়ালা কি আতর মাখে নাকি?

এনামুল । ওয়াহেদ খসখসে কন্ঠে বলে।

কি? বল।

দোস্ত। তুই এখন আমার বাড়ি গিয়ে বস। আমি একটু পরেই আসছি।

সে কী! তুই যাবি না? তুইও চল না।

না, না। তুই যা। আমি এখটু পরেই আসছি। বলে হনহন
করে হাঁটতে লাগল ওয়াহেদ।

ভাবলাম ওর হাতে বাজারের ব্যাগ। বাজার-টাজার করতে যাচ্ছে। আমার সামনে কেনাকাটা করতে লজ্জ্বা পাচ্ছে।

আমি হাঁটতে-হাঁটতে ভাবলাম- আশ্চর্য! আমি কি করি বা কোথায় থাকি- সেসব ওয়াহেদ জানতে চাইল না।আর ওর হাতে মোবাইলও নেই দেখলাম। তবে ওয়াহেদের সঙ্গে দেখা হয়ে ভালোই হলো।

(চলবে)

লেখক~ইমন জুবায়ের

পান খাওয়া সাদা বুড়ি

1

আব্বা WAPDA তে চাকুরী করতেন। সেই জন্য ওনার পোস্টিং হতো কয়েক বছর পর পর দেশের বিভিন্ন শহরে। আমি তখন ক্লাস ২ তে পরি। এবার আব্বা বগুড়া তে পোস্টিং পেয়েছেন। নতুন স্কুল, নতুন জায়গা, নতুন বন্ধু সব কিছুই এলো মেলো। গোছাতে সময় লাগবে। স্কুলটা কিন্তু WAPDA এর ভেতর ছিলনা,আমাদের যেতে হতো প্রায় ১ KM হেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর স্কুল এ। স্কুল এর বন্ধুরা বলতো তোমাদের কলোনিতে ভূত আছে। বিশ্বাস করতাম ছোটো ছিলাম বলে।

রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় তাই বড় ভাইকে ধরে ঘুমাতাম। সেদিন যে খাটে শুয়েছি পা বরাবর অনেক বড় জানালা। গরম বেশি থাকাতে জানালাটা খুলেই ঘুমিয়েছি দুভাই। আমার বড় ভাই সব সময় আমাকে ঘুমানোর আগে দোয়া পরিয়ে ঘুম পারাত, কিন্তু সেদিন আমি দোয়া না পরেই ঘুমিয়ে গেছি। মাঝ রাত্রে স্বপ্নে দেখলাম এক সাদা কাপড় পড়া বুড়ি পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে এসেছে আমাকে নিয়ে যেতে। তার হাসি দেখে পিলে চমকে যাওয়ার মত অবস্থা সেই ঘুমের মধ্যেই। স্বপ্নের মধ্যেই দেখলাম মা আমাকে তুলে ছুঁড়ে দিল ঐ বুড়ির দিকে আর বুড়িটা আমাকে নিয়ে চলে যাওয়া মুহূর্তে মা আমাকে আবার ছিনিয়ে নিচ্ছে ঐ বুড়ির কাছ থেকে। মা আমাকে শক্ত করে ধরে আছে আর বুড়িটা মায়ের কাছে থেকে আবার আমাকে নিয়ে নেয়ার জন্য হাত বাড়াচ্ছে। আমাকে অবাক করে দিয়ে মা আমাকে আবার তার কাছে ছুঁড়ে দিল এবং বুড়িটি আমাকে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে আবার মা আমাকে ছিনিয়ে নিল তার কাছ থেকে। এভাবে চলল কিসুক্ষন এবং আমি জোরে চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠে গেলাম। বাসার সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠলো আমাকে নিয়ে, আমি জানালা থেকে দূরে সরে আসার অনেক চেষ্টা করতে লাগলাম, মা যখন আসলো তখন তাকে এমন জোরে ধরেছি যে আমাকে ছুটানর জন্য আব্বা আর ভাই দুই জন শক্তিশালী মানুশ এর প্রয়োজন হয়েছিল। আর আমি বারবার বলছিলাম আমাকে দিয়ে দিওনা ঐ বুড়ির কাছে। মা আমাকে আয়াতুল কুরসি পরে বুকে ফুঁক দিলেন এবং ঐ রাত্রের জন্য আমরা সবাই এক ঘরে ঘুমালাম। কারন জানলাম যে বড় ভাইও ভয় পেয়েছেন আমার চিৎকারে।

পরের দিন মসজিদের হুজুর কয়েক আয়াত পরে বুকে ফুঁ দিলেন আমার জন্য। এর পর থেকে প্রায় রাত্রেই গোঙাতাম আর ঘুম ভেঙ্গে যেত ভাই এর ডাকে। এত গেল স্বপ্নে দেখা সাদা বুড়ি। এই বুড়িকে আমি বাস্তবে দেখেছি ৬ বছর পর। আসছি শেই ঘটনায়। আল্লাহ্‌ বলেছেন, “অয়ামা খালাক্তুল জিন্নাহ অয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন”—“আমি জিন ও মানব জাতিকে আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি”।

মানুষের মদ্ধে যেমন ভালো খারাপ আছে তেমনি ওদের মদ্ধে ও ভালো খারাপ আছে। মানুষ এক প্রজাতি হয়ে যেমন অন্য প্রজাতির ক্ষতি করে তেমনি জিনরাও অন্য প্রজাতির (মানুষ সহ) ক্ষতি করে। তাই খারাপ জীন আছে এটা বিশ্বাস করলে দোষের কিছু হবেনা। আর ভুতের কথা বলছেন? এরাও জীন, কেও ভালো আবার কেউবা খারাপ। ভুত শব্দটা আমরা আমাদের কথিত বাংলা ভাষায় ব্যাবহার করে থাকি।

আমি তখন ক্লাস এইট এ পড়ি। গ্রামে নতুন বাড়ি কেনা হয়েছে মুনশিগঞ্জের শ্রীনগর থানার হাঁসারা গ্রামে। ভাই চলে গেছেন বিদেশে চাকরির খাতিরে তাই বাড়ির বড় ছেলে বলতে আমি। জিবনে কখনো গ্রামে থাকিনি নানির বাড়ি বেড়াতে যাওয়া ছাড়া, তার উপর ইলেক্ট্রিসিটি অথবা ভাল রাস্তাঘাট ছিলনা ঐ সময়। ভুতের ভয়ের চাইতে বিষাক্ত শাপের ভয় বেশি ছিল ঐ বয়সে। বাড়ির পাশেই একটা মাঝারি ধরনের বট গাছ, তার পর বড় বড় কতগুলো দিঘি, এগুলর বা দিকে আছে একটা অনেক বড় খালি বাড়ি। বাড়িটাতে অনেক বড় বড় আম গাছ আর করই গাছ। সামনে আসে একটা ভয়ঙ্কর রকমের ভাঙ্গা জমিদার বাড়ি নাম সেনের বাড়ি, অনেক বড় এলাকা জুড়ে ছিল এই বাড়িটি। হাজার রকমের বড় বড় গাছ দিয়ে ঘেরা। ভেতরে ঢুকলে সূর্যের আলো চোখে পরেনা। তার ২০০ গজ দুরেই আমাদের স্কুল। মুনশিগঞ্জের সবচেয়ে পুরনো স্কুল। বাজারে যাওয়ার সময় আমি এই দিক দিয়ে না যাওয়ার চেষ্টা করতাম আর যদি জেতাম তবে মানুষ থাকত। অন্য দিক দিয়ে বাজারে গেলে সোজা রাস্তা। বর্ষার সময় এই রাস্তাটা দুবে যেত তাই বাধ্য হয়েই আমাকে এই রাস্তা দিয়ে প্রাইভেট পরতে যেতে হত বিকাল বেলায় সেই ভাঙ্গা বাড়ির সামনে দিয়ে আর ফিরতে হত সন্ধ্যার সময় কখনো কখনো রাত ১০ টার পর।

এখন বর্ষাকাল তাই আমাকে বিকাল বেলায় কাজের ছেলে করিম নৌকায় করে স্যারদের এলাকায় দিয়ে গেল। জায়গাটার নাম পালের বাড়ি। করিম বয়সে আমার চাইতে বছর ২ এর ছোট হবে, দুজনেই নৌকা বাইতে খুব পছন্দ করতাম, তাই আমাকে হেটে যেতে হলনা। ও বাড়িতে চলে গেল আর আমি গেলাম স্যার এর বাসায় পরতে। পরালেখায় মোটামুটি ছিলাম তাই ক্লাস ৮ এর বৃত্তির জন্য খুব প্রস্তুতি চলছিল। পরতে পরতে রাত সাড়ে ১০ টা বেজে গেল। স্যার বলল যেতে পারবি বাড়িতে না দিয়ে আসতে হবে? প্রেস্টিজে লেগে গেল যদি ও ভয় পাচ্ছিলাম, বললাম স্যার কি যে বলেন না। কাল দেখা হবে স্কুলে বলে আমায় যেতে বললেন। আমার হাতে একটা কলমের সাইজ এর মত একটা টর্চ ভাই পাঠিয়েছে বিদেশ থেকে। কিন্তু এটার একটা সমস্যা হল ৫ থেকে ৬ সেকেন্ড পর বন্ধ করতে হয় কিচুক্ষনের জন্য। যেহেতু করিম আসবেনা এত রাতে তাই আমাকে হেটে যেতে হবে সেই ভাঙ্গা বাড়ি দিয়ে।

আয়াতুল কুরসি পরে বুক এ ফুঁ দিয়ে হাটা শুরু করলাম। মহাসড়ক দিয়ে ১৫ মিনিট হাটার পর ডানদিকে বাক নিতে যাওয়ার সময় আল্লাহকে ধন্যবাদ জানালাম কারন সামনে দেখি একলোক যাচ্ছেন আমার রাস্তা বরাবর। তার পিছু নিলাম। ৩ মিনিট পর সেই ভাঙ্গা সেনের বাড়ি। আমি এটাকে এড়িয়ে অন্য দিক দিয়ে গেলে আমাদের স্কুল দিয়ে যেতে পারি কিন্তু গেলাম না কারন আমার সাথে ঐ ব্যাক্তি আছেন। মজার ব্যাপার হল এতক্ষনের জন্য আমি একবার ও তাকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি উনি কেমন আছেন বা কোথা থেকে এলেন। আর তাছাড়া এলাকায় নতুন বলে অনেকে আমাকে ঠিক মত চিনেও না, আমিও অনেক কম চিনি। চুপচাপ তাকে ফলো করে সেনের বাড়ি যেটা এখন শবাই বলে সেনের বাগে ঢুঁকে গেলাম। কিছুদুর যাওয়ার পর ঐ ব্যাক্তি আমার সামনে থেকে একটু দূরে কোথায় গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমার পেন্সিল টর্চ দিয়ে খোঁজার চেষ্টা বৃথা কারন উনি কথাও নেই। ডাকলাম কিন্তু অনেক বাদুড়ের শব্দ ফিরে এল। টর্চটা জালিয়ে আর বন্ধ করলাম না। দিলাম দৌড়। এক দৌড়ে বাড়ি পার হয়ে এলাম এবং সামনে গ্রাম্য পোষ্টঅফিস। সেখান থেকে একটা বাঁশের পুল প্রায় দেড়শ গজের মত লম্বা হবে ওপাড়ের এক বন্ধুর বাড়ি আলামিন দের বাড়িতে সংযুক্ত। আমাকে বাড়ি পৌছতে হলে এ পুল বা সাকো পার হতেই হবে। আয়াতুল কুরসি পরছি আর আল্লাহ, আল্লাহ্‌ করছি। সাঁকোর মাঝ খানে এসে হঠাত আমার চোখ যায় ডান দিকে সেই খালি বাড়িটার দিকে। আমার জান বের হয়ে যাওয়ার মত অবস্তা। দেখলাম একটা অনেক বড় আম গাছের নিচে সেই সাদা বুড়িটা পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে নাচানাচি করছে আর আমাকে ডাকছে হাত দিয়ে ওখানে যেতে। তার হাসি দেখেত আমার হার্টবিট আর বেড়ে গেল। আমি এখন না পারি আলামিনদের বাড়ি যেতে না পারি সেনের ভাঙ্গা বাড়ি পথ দিয়ে স্যার এর বাসায় ফিরে যেতে। অগত্যা আল্লাহ নাম করে সাঁকো শক্ত করে ধরে পাড়ি দিচ্ছি খুব সাবধানে। তারাতারি যেতে পারছিনা কারন একেত ভয় তার উপর গ্রামের সাঁকোতে নতুন নতুন চরার অভিজ্ঞতা। যতই আলামিন্দের বাড়ির কাছে যাচ্ছি বুড়ির গলার শব্দ শুন্তে পাচ্ছি। কি? আমায় চিনতে পারছিস? আমি এসেছিলাম তোকে নিতে, তোর মা দেয় নি। আজ কে আটকাবে? বন্ধুরা, তার চেহারা দেখতে আমাদের বুড়ো নানি দাদিদের মতই দেখতে। কিন্তু লম্বায় প্রায় ২০ ফুট এর মত হবে। বুড়ির তামশা মনে হয় আর বেড়ে গেল। এখন চাঁদের আলোয় তাকে আর পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। বুড়ি নাচছে আর আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আমাকে বলছে তোকে আজ এই গাছের নিচে পুঁতে রাখব। আমি চার কুল পরে বুকে ফুঁ দিয়ে ওর দিকেও তাক করে ফুঁ দিলাম। এখন আমি আলামিন্দের বাড়ির নামায় এসে পরেছি। আমি দৌড় দিলাম না। তাকিয়েই ছিলাম ঐ বুড়ির দিকে। হঠাত সেই বুড়িটা নিরুদ্দেশ হয়ে গেল। আর দেখতে পেলাম না। আমি আর দেরি না করে বাড়ির দিকে রউনা হলাম। দিঘি পার হয়ে বট গাছ আসল। আমি আগে থেকেই করিমকে ডাকলাম নৌকা নিয়ে আমাকে নিয়ে যেতে বট গাছের কাছ থেকে। করিম ঘুমিয়ে পরেছিল। গ্রামের সবাই ঘুমে। মা করিমকে ডাকছে উঠোন থেকে আমি শুনতে পাচ্ছি বট গাছের ওখানে দারিয়ে থেকে। বট গাছের ডাল পালা ভেঙ্গে যাওয়ার মত অবস্থা। আমি মাকে জোরে বললাম আমার ভয় লাগে করিম কে তারতারি পাঠাও। মা বলল, “ভয় পাবিনা আমি দারিয়ে আছি এই পারে”।

করিম ঘুম থেকে উঠলো ঠিকই কিন্তু ওর ও ভয় লাগে। ও আগে নিশ্চিত হয়ে নিল আমার নাম ধরে ডেকে যে এটা আমি কিনা। মা চলে গেল তার ঘরে আর করিম আশ্ছে নৌকা নিয়ে কচুরিপানা সরিয়ে আছতে আছতে। গাছ থেকে ফিশ ফিশ শব্দ করে কে জেন বলল তোর মা তোকে অনেক কিছু শিখিয়েছে বেচে গেলি আজ।

বাড়ি আসলাম মাকে কিছু বললাম না। পরদিন স্কুলে গিয়ে দেখব কি সেটা। কিন্তু পরদিন স্কুলে যাওয়ার সময় আমি ভুলে গেলাম সম্পূর্ণ রূপে। জানিনা এত বড় ঘটনাটা কিভাবে একটা মানুষ ভুলতে পারে। স্যার জিজ্ঞেস করলেন কিরে বাড়ি ফিরতে সমস্যা হয়নিত? আমার মনে পরে গেল সেই ঘটনা। আমি বললাম না স্যার কোনও সমস্যা হয়নি। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে ফেরার সময় সেই গাছটির দিকে তাকালাম। কিছুই দেখলাম না। দেখার কথাও না। কারন আমার সাথে স্কুল বন্ধুরাও ছিল। আমাকে প্রাইভেট পড়ার ছলে এই যন্ত্রণা আর দুর্ভগ আর ৩ দিন সইতে হয়েছিল, তারপর এই বুড়িকে আর দেখিনি। দরুদ, কোরানের আয়াত আর নতুন আয়ত্ত করা সাহস আমাকে শিখিয়েছিল ঐ রকম পরিবেশে কিভাবে চলতে হয়। এখন আমি ইউকে তে থাকি। আমার বাসার পাশের কবরস্থান। এখানে ও আমি অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিশ দেখি সেটা নাহয় আরেকদিন বলব? ভালো থাকবেন। যে যে ধর্মই পালন করেননা কেন। সৃষ্টিকর্তা কে সব সময় মনে রাখবেন। উনি আপনাকে, আমাকে সবসময় রক্ষা করবেন।

শেয়ার করেছেনঃ Aminul Islam

বীভৎস নারী

0

ঘটনাটি খুব ছোট। কিন্তু সেদিনের পর থেকে তা আমার জীবনের কয়েকটা কাজকর্ম আমূল পাল্টে দেয়।

আমি গ্রামের ছেলে। মফঃস্বল শহরে একটা কলেজে পড়ার জন্য গ্রাম ছেড়ে মফঃস্বলে চলে আসি। এখানে আমার এক কাকার বাসায় থাকতাম।

যাই হোক, ছুটি ফাটা বা বৃহস্পতিবার কলেজ শেষে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতাম। একদিন থেকে পরের দিন সকালে চলে আসতাম ক্লাস ধরার জন্য।

তেমনি করে এক বৃহস্পতিবার আমি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। কলেজে ব্যাবহারিক ক্লাসের কিছু কাজ থাকায় বের হতে একটু দেরি হয়ে যায়। ঠিক ৫ টার দিকে বাসে উঠি আমি। বাড়ি ১ ঘণ্টার রাস্তা। অর্থাৎ, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আমি ৬ টার দিকেই গ্রামের রাস্তায় পৌঁছে যাবো।

বলে রাখা দরকার, তখন শীতকাল ছিল। যারা গ্রামে থাকেন তারা জানেন যে, শীতকালে গ্রামে-হাটে যাত্রাপালা, নাটক ফাটক বেশি হয়। আমি যখন গিয়ে বাস থেকে নামি তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। রাতের আলোতে দেখলাম গ্রামের বাজারে শহর থেকে একদল নাট্যকর্মী গেছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রতি ছোট বেলা থেকেই আমার বেজায় ঝোঁক। অনুষ্ঠান দেখলাম প্রায় ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। রাত তখন সাড়ে ৮টা বাজে প্রায়। আর দেরি করলে মা চিন্তা করবে। এখানে বলে রাখা ভালো, তখনো আমার গ্রামে মোবাইল এতো একটা জনপ্রিয় ছিল না। তাই চাইলেও আমি মাকে ফোন করে জানাতে পারছিলাম না। অগত্যা বাড়ির দিকে রওনা হই।

বাজারের সব মানুষই তখন নাটক দেখতে ব্যাস্ত। পথে চলতে চলতে লক্ষ্য করলাম, প্রায় সব দোকানই বন্ধ করে দোকানিরা গেছে নাটক দেখতে। এমনকি হাঁটার পথে কারো সাথে যাবো এমন মানুষও দেখলাম না। মাথার উপর বিরাট থালা আকৃতির চাঁদ। বিসমিল্লাহ বলে হাঁটা দিলাম।

আমাদের বাজার থেকে বাড়ি প্রায় মাইলখানেক। হেঁটে যেতে ২০ মিনিটের মতো লাগে। আমি নিজের মনে গুনগুন করতে করতে হাঁটতে লাগলাম। মিনিট পাঁচেক হেঁটেছি, এমন সময় রাস্তার পাশের ঝোপ থেকে খসখস আওয়াজ পেলাম। প্রথমে ভাবলাম মনের ভুল। পাত্তা না দিয়ে হেঁটে এগুতে লাগলাম। মিনিটখানেক সব চুপচাপ। এরপর আবার রাস্তার পাশে কেমন যেনও খসখস শব্দ হলো। এবার খানিকটা ভয় পেলাম। রাতের বেলা গ্রামের পথে শেয়াল চলাচল করে। একা মানুষ পেলে নাকি মাঝে মাঝে আক্রমণ করে বসে। শেয়াল তাড়ানোর জন্য গ্রামের মানুষ লাইট, টর্চ লাইট, নিদেনপক্ষে আগুন নিয়ে ঘুরে। আমার কাছে তার কিছুই নেই। কি করা যায় ভাবছি। এই অবস্থায় যথা সম্ভব মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হয়। সাহস হারানো মানে ক্ষতি হবার সম্ভবনা। মনের সব জোর একত্রে করে বলাম, “হুর হুর হুস হুস”! একটা-দুটো হলে হয়তো গলা শুনেই চলে যাবে। এই ভেবে এমন করা। ঝোপের পাশের আওয়াজ থেমে গেলো একবারে। হটাত করে চারপাশে নেমে এলো সুনসান নীরবতা।

আমার স্পষ্ট মনে আছে সেই ক্ষণটা। ঝোপের পাশ থেকে সাদা কাপড় পড়া একটা মহিলা মতন কে যেনও বের হয়ে এলো। তার উচ্চতা সাধারন মানুষের দ্বিগুণ হবে কমপক্ষে। প্রথমে ভাবলাম চোখে ভুল দেখছি। কিন্তু চেহারার দিকে তাকাতেই মনের ভুল ভেঙ্গে গেলো।

চাঁদের আলোতে চারপাশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। সেই আলোয় দেখলাম, বীভৎস এক মুখ। চোখের জায়গাটা গর্ত, কিন্তু কোনও মণি নেই। কপালের মাঝখান বরাবর এক দগদগে ঘায়ের মতো। সেখান থেকে একটি চোখ জ্বলজ্বল করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। হাতগুলো শরীরের দিকে কেমন যেনও বাকা হয়ে আছে। অনেকটা পোলিও আক্রান্ত মানুষদের মতো। চিকন চিকন হাত। মুখ ঘুরে আমার চোখ আসলো সেই মহিলার পায়ের দিকে। দেখলাম পায়ের পাতা পিছন দিকে বাঁকানো। আমার আর বুঝতে অসুবিধা হল না যে আমি কিসের পাল্লায় পড়েছি। যেনও আমার মনের ভাব বুঝতে পেরেই আমার দিকে তাকিয়ে কুৎসিত একটা হাসি দিলো সেই মহিলা। এরপর মাথাটা নিচের দিকে দিয়ে পা শরীরটাকে হেঁচড়ে হেঁচড়ে আসতে লাগলো আমার দিকে। আমার এদিকে ভয়ে দম বন্ধ হয়ে যাবার দশা। প্রানপনে চেষ্টা করছি সুরা কালাম পড়ার। কারণ মা বলতো, এসব আসে পাশে আসলে বা উপস্থিতি টের পাওয়া গেলে সুরা পড়তে হয়। সুরা পড়লে এগুলো চলে যায়। কিন্তু বিশ্বাস করুন, অজানা এক ভয়ে আমার তখন বেহুশ হবার অবস্থা। কোনও সুরা তো মনে পড়ছেই না উল্টা চিৎকার করার শক্তিও যেনও হারিয়ে ফেলছি। নিজেকে বাঁচানোর কোনও আশা দেখছিলাম না।

মহিলাটা এগিয়ে এসে এক হাতে আমাকে ধরতে নিলো। কিন্তু আমাকে আশ্চর্য করে দিয়ে আমাকে ধরার সাথে সাথে “ঘুত” টাইপের একটা আওয়াজ করে ছিটকে পিছিয়ে গেলো। আমি কিছু বুঝে পেলাম না। দেখলাম, সেই মহিলা আতঙ্কিত হয়ে আমার গোলার কাছের আল্লাহু লেখা তাবিজটির দিকে তাকিয়ে আছে। ঘটনা বুঝতে আমার ২ সেকেন্ড সময় লাগলো। বুঝতে পারলাম, আল্লাহর নাম দেখে সে আমাকে ধরতে পারছে না। মনে মনে মাকে ধন্যবাদ দিলাম। মা বলতো ছোট বেলায় একবার আমাকে নাকি নিয়ে যাওয়ার জন্য জীন এসেছিলো। তার পর থেকে আমার গলায় এই তাবিজটা থাকতো। আমি কখনো খুলতাম না।

এই ফাঁকে হটাত দূরে কিছু মানুষের আসার আওয়াজ শোনা গেলো। তাকিয়ে দেখলাম হাতে টর্চ লাইট নিয়ে কারা যেনও আসছে। আমি লোকগুলোর দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সামনে মহিলাটির দিকে তাকালাম। আমার দিকে আগুন চোখে তাকিয়ে সেই মহিলা বলল, “আজকে বেঁচে গেলি। পরেরদিন দেখবো তোকে কে বাঁচায়!”

এই বলে আমার চোখের সামনে সেটি কুণ্ডলী পাকিয়ে একটি সাদা ধোঁয়ায় পরিণত হল। আমি আর সহ্য করতে পারছিলাম না। জ্ঞান হারালাম।

যতদূর শুনেছিলাম, বাজার থেকে নাটক দেখে ফেরার পথে কিছু লোক আমাকে পেয়ে সেই রাতে বাসায় পৌঁছে দেয়। আমি প্রায় ৪-৫ দিন অচেতন হয়ে বাসায় পরে ছিলাম। সেই সময় নাকি প্রতি রাতেই আমাদের বাসার চালে প্রচুর পরিমাণ ঢিলের আওয়াজ হতো। কে বা কারা একনাগাড়ে ঢিল দিতো, বাড়ির পাশের বাগানে গাছপালা ভাঙার শব্দ পাওয়া যেত। আমি এইসময়ে খুব দুর্বল হয়ে পড়ি। স্বাস্থ্য ফিরে পেতে আমার প্রায় ২ মাস সময় লাগে।

ঘটনাটি জানিয়েছেনঃ আহসান সেলিম অরণ্য (Ahsan Selim Oronno)

আহসান সেলিম অরণ্য বলেছেনঃ ঘটনাটি আমার কাকাতো ভাইয়ের সাথে ঘটেছিলো। এটা আমার নিজের জীবনের ঘটনা নয়। তবে উপরোক্ত ঘটনা সত্য এবং আমি নিজেও এর একজন সাক্ষী।

অসুরের শক্তি

0

ঘটনাটি আমার কাকার মুখ থেকে শোনা। আমার কাকার গ্রামের বাজারে একটা মুদি দোকান আছে। সেখানে হাটের দিন অনেক রাত পর্যন্ত বেচা কেনা হয়। কাকা মাঝে মাঝে আসতে আসতে নাকি রাত ১-২ টাও বেজে যেত। কাকার দোকানে সেলিম নামের এক কর্মচারী কাজ করতো। সে কথা বলতে পারতো না। মানে, বোবা ছিল। কাকা তাকে খুবই আদর যত্ন করতো। সেলিমের তিনকুলে কেউ নেই। সে তার দুঃসম্পর্কের এক মামার বাড়িতে থাকতো। সেই লোক মারা যাওয়ার পর না খেয়ে ছিল। কাকার দয়া হয়। নিজের দোকানে তাকে কাজ দেন।

সেলিম আমার দাদু বাড়িতেই থাকতো। কাকার সাথেই রাতে বাজার থেকে ফিরত। কাকা প্রায়ই বলতেন, সেলিম ছেলেটাকে দেখে উনার মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়। উনি নাকি অনেকদিনই শুনেছেন গভীর রাতে সেলিমের ঘর থেকে কথাবার্তার আওয়াজ পাওয়া যায়(এমনকি কাকিমা নিজেও শুনেছেন) কিন্তু সেলিম নিজে বোবা। তার কথা বলার প্রশ্নই আসে না।

একরাতে কাকা অনেক দেরি করে বাসায় ফিরছিলেন। সেদিন হাটবার ছিল তাই বাজারে লোকজনও ছিল বেশি। তাই দোকান বন্ধ করতে করতে সময়ও লাগে বেশি। কাকা বাড়ির পথ ধরেন রাত ১টার কিছু পরে। সাথে সেলিম। আগামীকাল বাসায় মেহমান আসার কথা তাই কাকা হাত থেকে বড়সড় ৪টা মুরগি কিনে রেখেছিলেন। সেলিমের হাতে মুরগিগুলো। কাকার হাতে পান-সুপারি।

চাঁদের আলোয় চারপাশ ভালোই ঝলমল করছিলো। কাকা আনমনেই সেলিমের সাথে কথা বলছিলেন। দোকানে আজ কেমন বেচাকেনা হল সে সব নিয়ে। সেলিম মাথা নিচু করে শুনছে আর পাশাপাশি হাঁটছে। বাজার থেকে প্রায় ২০০-৩০০ হাত আসার পর রাস্তাটা বামে মোড় নিয়েছে অনেকটুকু। কাকা কথা বলতে বলতে আনমনেই এগুচ্ছিলেন, হটাত দেখতে পেলেন সামনে গাছের আড়ালে কি যেনও নড়ে উঠলো।

এখানে বলে রাখা দরকার, আকাশে বিরাট চাঁদ ছিল, এবং এমনকি রাস্তার সাদাবালিগুলোতে চাঁদের আলো পরে চিকচিক করছিলো। পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল চারপাশ। কাকা পাত্তা না দিয়ে এগুতে লাগলেন। কিন্তু সেলিম থমকে দাঁড়ালো। চোখ মুখ কুঁচকে কি যেনও দেখার চেষ্টা করলো। নাক দিয়ে ছোক ছোক করে কিসের যেনও গন্ধ নেয়ার চেষ্টা করলো। কাকা সেলিমের মধ্যে এমন ভাব আগে দেখেননি কখনো। তিনি একটু বিরক্ত হলেন। তাড়া লাগালেন জলদি যাওয়ার জন্য। কাকা পা বাড়ালেও সেলিম দাঁড়িয়ে রইলো। কাকা আবার পিছনে ঘুরে তাড়া লাগালে সে দৌড়ে এসে কাকার হাত ধরে জোর করে টেনে পিছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। কাকা বিরক্ত হয়ে হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলেন। কিন্তু সেলিমের গায়ে যেনও অসুরের শক্তি। সে কাকাকে প্রায় টেনে নিয়ে চলতে লাগলো বাজারের দিকে। এইবার কাকা স্পষ্ট শুনলেন পেছন থেকে কে যেনও উনার এবং সেলিমের নাম ধরে জোরে চিৎকার করলো। আওয়াজটা তিনবার শোনা গেলো। অপার্থিব সেই আওয়াজ যেনও কাকার কানটা তালা লাগিয়ে দিলো। বিমুরের মতো চেয়ে রইলেন রাস্তার দিকে। কিভাবে যেনও উনার মনে এই শব্দগুলো আঘাত করলো। এ কোনও মানুষের আওয়াজ হতে পারে না। হতে পারে না কোনও পশুর আওয়াজ। তাহলে? তাহলে, যা তিনি জীবনে বিশ্বাস করেননি, তাই কি হতে যাচ্ছে? এ কি ভূত প্রেত কিছুর পাল্লায় পড়লেন তিনি।

এদিকে সেলিম প্রায় বগলদাবা করে উনাকে দৌড়ে নিয়ে যেতে লাগলো বাজারের দিকে। সেলিমের হাত থেকে মুরগিগুলো পড়ে গিয়েছিলো। কাকা শেষবার যখন একবার পিছনে ফিরলেন তখন দেখলেন সেই মুরগিগুলো যেনও অদৃশ্য কোনও হাতের ছোঁওয়ায় সেই মোড়ের দিকে যেতে লাগলো।

সেইরাত কাকারা বাজারেই কাটিয়ে দিলেন। সকালে ফেরার পথে আরো কিছু লোক নিয়ে উনারা দেখতে চললেন মোড়ের সেখানে আসলে কি হয়েছে। উনারা যেই মোড়টার কাছাকাছি পৌঁছলেন তখন দেখলেন সেখানে রাস্তার উপর একটা বর্গের মতো আকৃতি বানিয়ে ৪টা মুরগির মাথা সাজানো। আর কিছুটা দূরে সেই মাথা ছাড়া দেহগুলো পড়ে আছে।

এই ঘটনা কাকার সাথে উপস্থিত বাকি সবাইও দেখে। বাসায় ফেরার পর কাকা এবং সেলিম দুজনই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেলিমের প্রায় ১৫ দিন জ্বর থাকে।

যিনি পাঠিয়েছেনঃ Faysal

সানাইয়া

2

মধ্য প্রাচ্যের একটি দেশ কাতার । আমার ভাইয়া কাতার আর্ম-ফোর্স এ চাকরী করে । ভাইয়ার কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে বিশ্বাস করলাম, তার একটি কারন ভাইয়া মিথ্যা বলেনা, দ্বিতীয় কারন যে বিষয় নিয়ে ভাইয়া ঘটনাটি বলেছে তাতে মিথ্যা বলার প্রশ্নই আসে না । ঘটনাটি হচ্ছে…… ভাইয়ার খুব ভাল বন্ধু জমির ভাই । আমি ছোট বেলা থেকেই উনাকে চিনি । উনিও কাতারে থাকত ভাইয়ার সাথে একই কোয়াটারে । কাতারে ‘সানাইয়া’ নামের একটা এলাকা আছে ‘ইন্ড  রাস্ট্রীয়াল এরিয়া’, যেখানে কোনো প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেত না । সন্ধ্যার আগ থেকেই ওখানে আর মানুষের আনাগোনা দেখা যেত না । তাই ঐ এলাকাটা খুব নির্জন থাকত । ওখান থেকে গাড়িযোগে কাতারের মূল শহরে (যেখানে ভাইয়ার কোয়াটার ছিল) আসতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগে এবং ঐ পথের মাঝা-মাঝিতে একটি পেট্রোল ষ্টেশন ছাড়া আর কোনো রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া কিংবা কোনো দোকান-পাট ছিল না । এলাকাটা তেমন ডেভেলপ না থাকাতে রাস্তায় কোনো লেম্পপোস্ট ছিলনা । ওখানে গাড়ি ছাড়া যাতায়ত একেবারে অসম্ভব । জমির ভাই ঐ দিন একটা কাজে সানাইয়া গিয়েছিল । কাজটি সময় মতো শেষ না হওয়ায় জমির ভায়ের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে সন্ধ্যার পর হয়ে যাই । জমির ভাইয়ের সাথে গাড়ি ছিল । কিছু দূর আসতেই জমির ভাই খেয়াল করল সামনে একটি লোক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে । জমির ভাই মনে মনে ভাবল এই সময় এই স্থানে তো কেউ থাকার কথা না, গাড়ীর গতি বেশী থাকায় ঐ লোকটিকে ক্রস করে গাড়ির গতি কমালো আর গাড়ির লুকিং গ্লাসে যখন দেখল তখন ওখানে কেউ ছিল না । জমির ভাই একটু সাহসী টাইপের ছিল তাই সেটা চোখের ভুল মনে করে সামনের দিকে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল । কিছু দূর পার হতেই আবার সেই একই ঘটনা, সাদা রঙের একটি আলখেল্লা পড়া একটি লোক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে । কিন্তু এবার লোকটিকে ক্রস না করে লোকটির পাশে এসে গাড়ি থামাল । লোকটি কালো বর্নের, দেখতে সাদা-সিদে ছিল । জমির ভাই এরাভিয়ান ভাষা জানত । লোকটি তার ভাষাই জমির ভাইয়ের কাছে শহরের দিকে আসার জন্য সাহায্য চাইল, এবং লোকটি গাড়িতে উঠে বসল । গাড়িতে বসার পর লোকটি দেখতে যে উচ্চতার ছিল তার চেয়েও লম্বা লাগছে, বিশেষ করে হাটুর দিকটা দেখতে নাকি অন্য রকম ছিল । পেট্রোল ষ্টেশনের পাশে আসতেই তেল নেয়ার জন্য যখন গাড়ি পেট্রোল ষ্টেশনের ভেতর ডুকবে সে সময় গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় আর সাথে সাথে লোকটি গাড়ি থেকে নেমে জমির ভাইকে তার ভাষাই ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নেয় । হটাৎ জমির ভাই চিৎকার শুনে সামনের দিকে তাকাতেই দখলো পেট্রোল ষ্টেশনের একজন কর্মচারী জমির ভাইয়ের গাড়ির দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে পেট্রোল ষ্টেশনের অফিসের দিকে দোড় দিল । জমির ভাই তা দেখে হতভম্ভ হয়ে গেল আর যখন পাশ ফিরে লোকটির দিকে তাকাল তখন দেখলো, হাই হিলের সেন্ডেল পড়ে মেয়েরা যে ভাবে হাঁটে লোকটি ঠিক সে ভাবে হাঠছে । লোকটির পায়ের দিকে তাকাতেই জমির ভাই যেন জমে বরফ হয়ে গেল । লোকটির পা দু’টো ছিল ঠিক ঘোড়ার পায়ের মত । জমির ভাই সাহস করে গাড়ি থেকে নেমে পেট্রোল ষ্টেশনের অফিসের দিকে দোড় দিল । জমির ভাই নাকি প্রায় আধা মত বাক রুদ্ধ ছিল । এর পর জমির ভাই ভাইয়াকে ফোন করে ওখানে আসতে বলল , সাথে ভাইয়ার এক রুমমেট ছিল তাকে সহ আসতে বলল । ভাইয়া কি জন্য জানতে চাইলে ভাইয়াকে আসতে বলে ফোন লাইন কেটে দিল । তারপর ভাইয়া ও ভাইয়ার রুমমেট এসে জমির ভাইকে নিয়ে ভাষাই যাই । এর পরের দিন জমির ভাই ঘটনাটা সবাই কে খুলে বলে । জমির ভায়ের ভাষ্য মতে লোকটি গাড়িতে উঠার প্রায় আট/দশ মিনিট পর পেট্রোল ষ্টেশনটি আসে । তাহলে জমির ভাই ঐ আট/দশ মিনিট কার সাথে ছিল?

জানিয়েছেনঃ মানিক

মসজিদের রহস্য

0

“আমার মামার যখন ১৫/১৬ বছর বয়স তখন তিনি এক হুজুরের বাড়িতে থাকতেন । হুজুরের মসজিদে আজান দিতেন, আর হুজুরের কাছেই লেখাপড়া করতেন । ওই হুজুর গত ৪ বছর আগে মারা গেছেন । আমাদের এখানে উনি অনেক কামেল হুজুর ছিলেন । আমার মামা যখন উনার কাছে থাকতেন তখন উনি মামাকে মানা করে দিয়েছিলেন উনাকে না বলে মাগরিবের আজানের পরে মামা যাতে মসজিদের ভেতরে না ঢুকেন । কিন্তু মামার তখন বয়স কম, কৌতূহল অনেক বেশি ছিল । একদিন মামা মাগরিবের আজানের পরে একটা হারিকেন হাতে নিয়ে মসজিদের ভেতরে যায়, মামা দেখে হুজুর নামাজ পড়াচ্ছেন, আর উনার পিছনে অনেক জন লম্বা লম্বা মানুষ নামাজ পড়ছে । এত লম্বা সাদা পাঞ্জাবী পরা লোকগুলা দেখে মামা ভয়ে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পরে । পরে হুজুর এসে তাকে ঘরে নিয়ে যায় আর বলেন তোমাকে না আমি আমার কাছে না বলে যেতে মানা করেছিলাম, গেলা কেন ? মামা পরে তার ভুল স্বীকার করে মাফ চায়, কিন্তু এখনও মাঝে মাঝে মামা রাতে চিৎকার করে, “দোহাই আল্লাহ্‌র, দোহাই হুজুরের আমাকে কিছু বলবা না” কিন্তু আমরা কিছুই দেখি না । মামা নিয়মিত তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে, কিছু দেখেছে হয়ত অনেক ভয় পেত । একদিন নানিও মামার সাথে উঠেছে তাহাজ্জুতের নামাজ পড়তে । মামা নামাজ পড়ছে, অন্য রুমে নানি যখনই নামাজে সালাম ফিরাবে তখনই সাদা কাপড় পরা কাউকে তার পাশে দেখতে পায়, এর পর থেকে নানি আর তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে না । কিন্তু মামা এখন আর ভয় পায় না, আমাদের সাথেও এখন আর এগুলা শেয়ার করে না । আমি জানি প্যারানরমাল অনেক কিছু তার সাথে হয়, কিন্তু আমরা জানতে চাইলে বলেন এগুলা শেয়ার করতে হয় না ।

কাহিনী বর্ণনাকারী -> ইসরাত দোলন

অপ্রত্যাশিত

1

আমার নাম তানজি।। চট্রগ্রামে থাকি।। আপনাদের সাথে যেই ঘটনাটি শেয়ার করতে চাচ্ছি তা হয়তো তেমন ভয়ের না তবে একদম সত্যি ঘটনা।।

আজ থেকে ৭ বছর আগে ঘটনাটি ঘটেছিলো।। আমরা তখন আস্কার দীঘির পাড়ে থাকতাম।। আমাদের বাসাটা অনেক বড় আর পেছনে জঙ্গল।। আমি সবসময় একা থাকতে পছন্দ করি।। সেদিন রাতেও আমি একা ছিলাম।। কোনও এক কারনে মন ভালো ছিল না, তাই তাড়াতাড়ি ঘুমুতে চলে গিয়েছিলাম।। রাত ২টা বা ৩টার দিকে হটাত আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।। আমি উঠে এক গ্লাস পানি খেলাম এবং পুনরায় শুয়ে পড়লাম।। এর ঠিক ৫ মিনিট পর আমার কেমন যেনও অস্বস্তি লাগতে শুরু করলো।। বারবার মনে হতে লাগলো আমার রুমে কেউ আছে।। প্রথমে ভাবলাম মনের ভুল কিন্তু কিছু সময় পর আমার অনুভূতি আরো বেড়ে গেলে।। ঘরে কারো উপস্থিতি প্রবলভাবে টের পেলাম।। আমি সাবধানে চোখ খুলে দেখলাম আমার খাটের পায়ার কাছে কেউ একজন দাঁড়িয়ে।। ঠিক দাঁড়িয়ে নয়, সে আমার খাটের চারপাশে রাউন্ড দিয়ে ঘুরছে।। লোকটা হলুদ রঙের একটা শার্ট পড়া।। মুখে চাপা দাড়ি।। উচ্চতা ৫ ফুট ৫ থেকে ৬ এর মতো হবে।। আমি লোকটাকে স্পষ্ট দেখছিলাম কারন রুমের সাথে লাগোয়া বাথরুমের বাতি জ্বালানো ছিল।। আমি ভয়ে জমে গেছি ততক্ষণে।। একমনে আল্লাহকে ডাকছি।। ঠিক মনে নেই কতো সময় পর, লোকটা ঘুরে চলে যেতে লাগলো।। লোকটা রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগে আমার দিকে তাকিয়ে হাসল।। এতক্ষণ লোকটার গায়ের ধরন এবং মুখের অভয়ব বুঝা যাচ্ছিল, এবার চেহারাটাও পরিষ্কার দেখলাম।। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো লোকটাকে আমি চিনি।। উনি আমার এক ফ্রেন্ডের দূর সম্পর্কের ভাই হন।। যতদূর জানতাম, উনি কালো জাদু এবং ছোট খাটো তুকতাক পারেন।।

এই ঘটনার কিছুদিন পর আমি আমার ফ্রেন্ডকে খুলে বলি পুরো ঘটনা।। আমার কথা শুনে আমার ফ্রেন্ড ঐ লোককে পরে জিজ্ঞেস করে।। কিন্তু তিনি আমার ফ্রেন্ডের কথার কোনও উত্তর দেন নি।। শুধু খানিকটা হেসেছিলেন।।

আমি জানি না সত্য কি বা মিথ্যা কি।। তবে এই ঘটনাটা এবং বর্ণনাটা পুরোটাই সত্য।। এক বিন্দুও বানানো নয়।।

যিনি জানিয়েছেনঃ ধূসর সময় (Dhusor Somoy)

সিলেট

1

বাংলাদেশের এই পূণ্যভূমিতে চা বাগানের সংখ্যা প্রায় ১৫০ টিরও বেশী । এত এত ঘটনা রয়েছে এসব চা বাগানকে কেন্দ্র করে যে বলে শেষ করা যাবে না । যারা ঐসব চা বাগানে বাস করেন, তারা তো এসব ঘটনা জানেনই ,যারা বিভিন্ন জেলা হতে চা বাগানে চাকুরীর সুবাদে যান , তারাও এসব ঘটনা শুনে থাকেন , অনেক অভিজ্ঞতাও হয় তাদের সাথে । বলা হয়ে থাকে যে, চা বাগানে চাকুরী করলে এসব ঘটনার সাথে এডজাষ্ট করে নিতে না পারলে হয় আপনি পাগল হয়ে যাবেন , আর নয়তো আপনাকে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে চলে আসতে হবে । এক চা বাগানে প্রায়ই রাতের বেলা একটা মেয়েকে চা পাতা তুলতে দেখা যায় । মেয়েটা অল্প বয়সী, খুবই সুন্দরী এবং মায়াবী চেহারার । ঐ চা বাগানে যারা কাজ করে , তারা প্রায় সবাই মেয়েটাকে দেখে । কিন্তু মেয়েটার কাছে যাওয়ার সাহস কারোরই হয় না । চা বাগানে যারা পাহারা দেয় , তাদেরকে চৌকিদার বলে । এক নতুন চৌকিদারের দায়িত্ব পড়লো ঐ চা বাগানে এক রাতে পাহারা দেয়ার জন্য । গভীর রাতে টর্চের আলোয় চৌকিদার দেখলো ,মেয়েটা চা পাতা তুলছে । চৌকিদার এগিয়ে গেলো মেয়েটার কাছে । ধমক দিয়ে বললো , “এই,এত রাতে এইখানে কি ?” মেয়েটার চোখ মুখ শক্ত হয়ে গেল । হিস হিস কন্ঠে চৌকিদারকে বললো , ” এটা আমার চা বাগান । এখানে আমার যা খুশি , তাই করবো । কেউ আমাকে বাধা দিতে পারবেনা ।” মেয়েটার চেহারা বদলাতে লাগলো । কিশোরী মেয়ে থেকে সে একটা বিভত্‍স বৃদ্ধাতে পরিনত হলো । গালে বসন্তের দাগ । মুখ থেকে লালা পড়ছে । চৌকিদার এই রূপ দেখেই অজ্ঞান হয়ে পড়লো । কিছুদিন পর প্রচন্ড কষ্ট ভোগ করে চৌকিদারটা মারা যায় । এক ছেলে রাতের বেলা একা চা বাগানের ভিতর দিয়ে আসছিলো । হঠাৎ সে লহ্ম্য করে যে, একটা কালো কুকুর বাম পাশ থেকে তাকে পাশ কাটাতে চাইছে । ছেলেটা এই ব্যাপার টা জানতো যে , সে যদি এটাকে বাম পাশ থেকে যেতে দেয় , তাহলে তার ভয়াবহ বিপদ হতে পারে । সে এও বুঝতে পেরেছিলো যে এটা মোটেও কোন কুকুর নয় । তাই সে কিছুতেই ওটাকে যেতে দিলো না । বাড়ির কাছাকাছি আসার পর একটা ভয়ানক গোঙানির শব্দ পেয়ে ছেলেটা পিছনে তাকিয়ে দেখলো , কুকুরটা দুই পায়ে ভর দিয়ে দাড়িয়ে ঐ গোঙানির শব্দ করছে । যেন ব্যর্থ আক্রোশে ফুঁসছিলো । ছেলেটার চোখের সামনে ঐটা হঠাৎ মিলিয়ে যায় এবং ছেলেটাও এই ব্যাপার দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়ে । এরপর টানা ১৫দিন ছেলেটা কালাজ্বরে ভুগেছিলো ।১০৪ ডিগ্রি জ্বর । কুকুরটা কে পাশ কাটাতে না দেয়ার অপরাধে ! চা বাগানের আশেপাশে অনেক ছোট ছোট ঝর্ণা আছে । স্থানীয় ভাষায় ওগুলোকে ছরা বলে । অনেকেই নাকি রাতের বেলা দেখেছে যে, এক হিন্দু বউ, কপালে সিঁদুর, লাল পাড় দেয়া সাদা শাড়ী পড়ে ছরার একপাশ থেকে অন্যপাশে পার হয় এবং তারপর সাথে সাথে অদৃশ্য হয়ে যায় ! চা বাগানে রাতের বেলা কারো হেটে বেড়ানোর শব্দ পাওয়া যায় । অনেকেই কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই , এমন ধরনের ছায়া কে চা বাগানে ঘুরে বেড়াতে দেখেছে । অন্ধকারে তাদের দেখা যায় না । চাঁদের আলো থাকলে মাটিতে এসব ছায়া কে দেখা যায়। প্রায়ই গভীর রাতে চা বাগানথেকে চিত্‍কার ভেসে আসে, ” সাআআআবধান !!” কাকে সাবধান করে দেয়া হয় ? কি জন্য ? কেউ জানে না । ভৌতিকতার দিক থেকে সিলেট যে কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে , সে কথায় আসছি এখন । ভারতের বর্ডারের কাছে একটা ঘটনা ঘটেছিল । ঢাকার মিরপুরেও নাকি একই ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যায় । কি একটা অদ্ভূত জন্তু এসে নাকি ছোট বাচ্চাদের মাথা , গলা , পেট পর্যন্ত খেয়ে ফেলে !!! সিলেটে এটা নাকি নৈর্মিত্তিক ব্যাপার !!! সিলেটের চা বাগানের লোকেদের কাছে যদি এই ব্যাপারে জানতে চান,তো তারা আপনাকে একটা নামই বলবে । আর সেটা হলো”জুজু !” এই জুজু ওইজা বোর্ডের ডেভিল জোজো নয় । এটা সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস । ওইজা বোর্ডের জোজোর কথা না অনেক মানুষ চিনে অথবা জানে ।কিন্তু সিলেটের চা বাগান গুলোতে জুজুর জনপ্রিয়তা
দেখার মত !!! জুজু লোমশ একটা জীব । এর চোখ লাল টকটকে । ছোট বাচ্চাদের দিকেই এর নজর বেশী । এক মহিলা তার বাচ্চা কে ঘুম পাড়িয়ে আরেক রূমে টিভি দেখতে চলে গেল । কাজের মেয়েটা বাচ্চার রূমে এসেই গলা ফাটিয়ে একটা চিত্কার দিল । মহিলা দৌড়ে রূমে এসে দেখলেন কাজের মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে , আর লোমশ একটা জীব বাচ্চাটাকে জানালা দিয়েনিয়ে যেতে চাইছে । বাচ্চাটা হাত পা ছোড়াছুড়ি করছিল । মহিলাকে দেখেই জীবটা বাচ্চাটাকে ফেলে লাফ দিয়ে চা বাগানের ভিতর হারিয়ে যায় । এক বাচ্চা কোন কারণে খাবারখেতে চাইছিলনা । তার মা তাকেজোর করে খাওয়াতে চেষ্টা করছিলেন । এক পর্যায়ে মহিলা বললেন ,” তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও । না হলে জুজু আসবে ।” কাছেই একটা চা বাগান থেকে একটা শব্দ মহিলা শুনতে পেলেন ,”জুজু আসবে ।” মহিলা এটাকে পাত্তা দিলেন না । ভাবলেন যেমনের ভূল ।খানিক পর বাচ্চাটা আবার বাহানা শুরু করলে মহিলা বিরক্ত হয়ে বললেন ,” এই খাও বলছি । জুজু আসবে কিন্তু বলে দিলাম ।” এবার মহিলা আগের বারের মতই কিন্তু অনেক কাছে শব্দ শুনলেন যে ,” জুজু এসেছে !” মহিলা ভয় পেয়ে গেলেন । ব্যাপারটা তার স্বামীকে বলার জন্য বাচ্চাটাকে ডাইনিং রুমে বসিয়ে অন্য রুমে গেলেন । তিনি যখনই তার স্বামীকে এই শব্দের ব্যাপারটা বলছিলেন , হঠাৎ তারা দুজনই শেষ বারের মত শব্দটা শুনলেন । এইবার শব্দটা ছিল এরকম : “জুজু খাচ্ছে !” “জুজু খাচ্ছে !” তারা দৌড়ে ডাইনিং রুমে গেলেন । গিয়ে দেখলেন , কালো লোমশ একটা প্রাণী জানালা দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে । আর তাদের বাচ্চা ? বাচ্চাটাকে অর্ধেক খেয়ে ফেলা হয়েছে ! জুজু নিয়ে চা বাগানের এটাই সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা । চা বাগানে প্রায়ই কাজ করার সময় ছোট ছোট বাচ্চা নিখোঁজ হয় । পরে তাদের মাথা কাটা লাশ পাওয়া যায় । কার কাজ কেউই জানে না । আপনার ঘরেও হয়তো ছোট বাচ্চা আছে । তাদের আপনিজুজুর ভয় দেখান ভালো কথা , কিন্তু জুজু থেকে তারা নিরাপদে আছে তো ? চোখের সামনে কচর কচর করে একটা বাচ্চাকে খেয়ে ফেলতে দেখাটা কেমন লাগবে একবার ভাবুন তো???
তথ্যসূত্র: ডিওন টি গার্ডেন, লাক্ষাণপাড়া টি গার্ডেন , রঘুনন্দন টি গার্ডেন ,bhoot fm.

ডেনভার স্টেট হসপিটাল

0

আমেরিকার ম্যাসাচুচেস্ট অঙ্গরাজ্যের সালেম নগরীতে অবস্থিত ডেনভার স্টেট হসপিটালটি ভৌতিক কর্মকান্ডের জন্য কুখ্যাতি অর্জন করেছে ! এটি মূলত একটি মানসিক হাসপাতাল ছিল যা ১৮৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ॥ মানসিক রোগিদের চিকিত্‍সার জন্য স্যার উইলিয়াম হার্বার্ট এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন ॥ শুরুর দিকে হাসপাতালটির কর্মকান্ড ভালভাবে চললেও বছর পাঁচেক পর এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় স্যার উইলিয়াম হার্বার্টের মৃত্যু হলে হাসপাতালটির কর্মকান্ডে আসে আমূল পরিবর্তন ॥ স্যার উইলিয়াম হার্বার্টের মৃত্যুর পর এইখানকের রোগীদের উপর আহ্মরিক অর্থেই নরক নেমে আসে ॥ রোগীদের মারধর , ইলেকট্রিক শক থেকে শুরু করে হাইড্রোথেরাপি পর্যন্ত দেওয়া হত ॥ এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৫ সালে ব্রায়ান হ্যারিস নামক এক মানসিক রোগীর উচ্চ ইলেকট্রিক শকের দরুন মৃত্যু হয় ! পরে তার লাশ অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে হাসপাতালেরই এক নির্জন জায়গায় কবর দেওয়া হয় ! এই ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় হাসপাতাল কর্মী মাইক হ্যারিসের মৃত্যু হয় ॥ তার মুন্ডুহীন লাশ হাসপাতালের পিছনের উঠানে আবিষ্কৃত হয় ! এরও ঠিক এক সপ্তাহ পর হাসপাতালের ডাক্তার এফ . হেনরির ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায় তারই কহ্মে ! এই দুইজনই ছিলেন ব্রায়ান হ্যারিসের হত্যাকারি ! তারা তাদের পৌশাচিক আনন্দ লাভের জন্য রোগীদের উপর বিভিন্ন নির্যাতন চালাত ! হতভাগ্য ব্রায়ান হ্যারিস ছিলেন তাদের সেই পৌশাচিক আনন্দের শিকার ॥ এই ঘটনার পর হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয় ॥ তবে আজও গভীর রাতে হাসপাতাল থেকে ভেসে আসে যন্ত্রনাকাতর চিত্‍কার ! মাঝে আলোর ঝলকানিও চোখে পড়ে ! এখানকার নিরাপত্তাকর্মীরা মাঝে মাঝে ভারী পায়ে হেঁটে যাওয়ার আওয়াজও শুনতে পান ! কেউ যদি হাসপাতালটি দেখতে চান তবে তাদেরকে শুধু হাসপাতাল চত্বরেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয় কখনই হাসপাতালটির ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না !
অনুবাদকৃত

উত্‍স:গুগল

পথ

1

আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটি কাঁচা সড়ক সরাসরি যুক্ত ছিল ফরিদপুর থানার সাথে। সড়কটা ছিল ৩টি গ্রামের কৃষকদের কৃষি জমির মাঝ বরাবর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের কোন এক সময় পাকিস্তানী সৈনিকদের একটি ছোট বাহিনী সেই রাস্তা দিয়েগ্রামে প্রবেশ করার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু আমাদের গ্রামের সাথে রাস্তাটির সংযোগ সড়কের একটা অংশ কাটা থাকায় তারা গ্রামে প্রবেশ করতে ব্যার্থ হয়। তারা সড়কবরাবর থানার দিকে এগিয়ে যায় এবং স্বল্প সময়েও তাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যায়। মৃতের সঠিক সংখ্যা কেউবলতে পারে না। কারন পাকিস্তানী সৈন্যরা হত্যা শেষে লাশগুলো রাস্তার পাশে একটা গভীর কুয়ার মধ্যে ফেলেদিয়ে যায়। কুয়োটা ছিল একটা হিজল গাছের পাশে। সেই হিজল গাছের আশেপাশের ২/৩ মাইল শুধুই কৃষি জমি। কোন বাড়ি ঘর নেই। সেই কুয়োর কোন নিশানা আজ পাওয়া না গেলেও হিজল গাছটা ঠিকই সাক্ষী হয়ে আছে সেই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের। এই হিজল গাছ আরকুয়ো নিয়ে অনেক গল্প চালু রয়েছে গ্রামে। রাতের বেলা অনেকেই নাকি এই গাছের পাশ দিয়ে যাবার সময় ”পানি, পানি” বলে আর্তনাদ করতে শুনেছে। আজও নাকি হিজল গাছেরপাশদিয়ে আসার সময় মানুষ পথহাড়িয়ে ফেলে। হিজল গাছ থেকে গ্রামের দুরত্ব আধা মাইলের মত। ফরিদপুর থেকে রাতের বেলা বাড়ি ফেরার সময়আশরীর কণ্ঠ শুনেছে এমন অনেক মানুষের দেখা পাওয়া যায় গ্রামে। এমনকি রাতের বেলা গ্রামে ফিরতে গিয়ে আধা মাইলপথ সারা রাতেও পার হতে পারে নি, এমন মানুষও কম নেই গ্রামে।
বেতুয়ান গ্রামের পাশের গ্রাম রামনগর। রামনগর গ্রামের আক্কাস নামের এক লোকতার ছাগল হারিয়ে ফেলেছে। সারা দুপুর ছাগল খোঁজা খুঁজির পর বিকেলে সে জানতে পারল তার ছাগল বেতুয়ানের সীমান্তে ঢুকে একজন কৃষকের সবজির ক্ষেত নষ্ট করছিল, তাই বেতুয়ানের চকপহরি (গ্রামে জমি পাহারা দেওয়ার জন্য নিয়জিত প্রতিরক্ষা বাহিনী) তার ছাগল ধরে নিয় গেছে।ঘটনাশুনে রাগে ক্ষোভে কোন কিছু না ভেবেই বেচারা রওনা দিল বেতুয়ানের দিকে। তখন মাগরিবের আযান হয়ে গেছে।
রাগের মাথায় রওনা দিলেও একসময় আক্কাস মিয়ার হটাৎ করেই মনে পরে গেল হিজল গাছের কথা। আরে সামনেই তো হিজল গাছ!ঐ-তো দেখা যাচ্ছে। সাথে সাথে তার সমস্ত শরীরে কাঁটা দিয়েউঠল। আক্কাস মিয়া আর সামনেরদিকে অগ্রসর হল না। কারণ ছাগলের চাইতে জীবন অনেক বড়।ছাগল তো কালকেও আনা যাবে। কিন্তু জীবন…ভয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যাবার জন্য যেই পা বাড়াবেন ঠিক তখনি তার মনে হল কেউ একজন তাকে ডাকছে!
-ভাই কি বেতুয়ান যাবেন?
আক্কাস মিয়া চমকে উঠে জোর গলায় বলল,
-কেডা আপনে?
-ভাই আমি মোক্তার। আমার বাড়ি বেতুয়ানের শেষ মাতায়। ঐ ইজল গাছের থেনে মাইল খানিক ফাঁকে। আপ্নের বাড়ি কোনে?
-আর কয়েন্না বাই। আমার বাড়ি রামনগর। আপ্নেগরে গাওয়ের চকপোউরি আমার বরহি(ছাগল)খান দোইরা লিয়্যাগ্যাছে। সেই বরহি আইনব্যারি যাচ্ছিলাম তিন্তুক আজকা আর যাব লয়। রাইত ম্যালা হয়্যাগেছে।
-ঐ চিনত্যাতেই তো ভাই একা জাসসিন্যা। গেছিল্যাম আপ্নেগরে গাওয়ের হাঁটে। ফিরতি ফিরতি বেলা গরা আইলো। এহন একা যাতি ক্যাবা জানি লাগতেছে। তারচে চলেন ভাই আমার বাড়িত যাই। রাইত খান থাইকা কাইলকা বরহি(ছাগল) লিয়্যা বাড়ি জায়েন্নে।
আক্কাস মিয়া দেখল প্রস্তাবটা খারাপ না। তাছাড়া আকাশে মেঘও করেছে। এই অবস্থায় বাড়ি ফিরে যাওয়া ও ঝামেলা। তাই সে আর কথা না বাড়িয়ে লোকটার সাথেরওনা দিলো।
দুজনে গল্প করতে করতে একসময়হিজল গাছের প্রায় কাছে চলে এলো। এমন সময় হঠাৎ করেই মোক্তার নামের লোকটা কাঁদার মধ্যে পরে গেল। সাথে সাথে আক্কাস মোক্তার কে হাত ধরে তুলতে গিয়ে চমকে উঠল। একি এই লোকটার হাত এতো ঠাণ্ডা কেন? মানুষের শরীর কি এতো ঠাণ্ডা হয়?
মোক্তার আস্তে করে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
-দুরা। সারা গায় ক্যাদো লাইগা গেল। চলেন ভাই সামনের কুয়োত যাই। হাত মুক ধুইয়া আসি।
কথাটা বলেই মোক্তার আক্কাসের উত্তরের অপেক্ষা না করেই কুয়োর দিকে পা বাড়াল। আক্কাসের শরীরে ভয়ের শীতল স্রোত খেলে গেল। কুয়োটা অনেক দিন আগে থেকেই পরিত্যক্ত। সেখানে পানি আসবে কোথা থেকে? হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকে উঠল। বিদ্যুতের আলোতে আক্কাস স্পষ্ট দেখতে পেল, মোক্তারেরপা নাই।
সারা শরীর কেমন জানি একটা ঝাঁকি দিয়ে উঠল আক্কাসের। তাহলে মোক্তার মানুষ না! আবার এতো রাতে তাকে কুয়োর দিকে নিয়ে যাচ্ছে; তার মানে কি সে আইষ্ঠাখোঁর ভূত!
আক্কাস আর এক মুহূর্তও দেরি করলনা। সোজা মাটির উপর চোখ বুজে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল। (গ্রামে কথিত আছে, ভূত বা খারাপ আত্মা মাটি স্পর্শ করতে পারেনা। তাদের ক্ষমতা মাটির একহাত উপরে) কিছুক্ষণ পর আক্কাস শুনতে পেলো কেউ একজন ন্যাকা সুরে আক্কাসকে উদেশ্য করে বলছে, কুঁত্তার বাঁচ্চা বাঁইছা গেঁলু। মাঁটির উপঁর না শুঁলি আঁজক্যা তোঁক কুঁয়োর মঁদ্দি গাঁইরা থুঁল্যামনে।ঠিক এভাবেই পরের দিন সকাল পর্যন্ত মাটির উপর শুয়েছিল আক্কাস মিয়াঁ। হয়তো আজও রাতের বেলা কোনও মানুষ সেই আধা মাইল পথ পার হতে পারেনি।।

সমাপ্ত

আব্দুল্লাহ আল মামুন