ডাকিণী (শেষ পর্ব)

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
আগুনটা দ্রুত সারাটা কটেজে ছড়িয়ে পড়লো। সাঞ্জে, আর মনিকার দেহ অধিকারিণী আলেস তখন সুখ নিদ্রায় ব্যাস্ত। গতরাতটা অসাধারণ কেটেছে তাদের। হয়তো ১২০০ বছর আগে মার্টিনীর সাথে এমনি কোন এক রাতের কথা আলেস তার ডায়ারীতে লিখেছিলো। ক্রমশ ধোয়া ঘনিয়ে আসছে। কাশতে কাশতে হঠাৎ সাঞ্জের ঘুম ভেঙ্গে গেল। ততক্ষণে আগুন বেডরুমের সামনের দরজাকে গ্রাস করে নিয়েছিলো। সে দ্রুত ঘুমকাতুরে আলেসকে জাগালো। জ্বলন্ত মৃত্যুর সামনে হতভম্ব ওরা দুজন স্থির দাড়িয়ে রইলো।
বিশাল কটেজটার চারপাশে জনবসতি খুবই কম। তার উপর কটেজটা ২০ ফুট উঁচু দেয়ালে ঘেরা। যতক্ষণে প্রতিবেশীরা দেয়ালের উপর দিয়ে ধোয়ার কুণ্ডলী দেখে দমকলে ফোন দিলো, ততক্ষণেই কটেজটার পুরোটাই জ্বলে শেষ। তাই দমকল বাহিনীকে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে খুব একটা বেগ পেতে হলো না। ওরা যখন বেডরুমে ঢুকলো তখন দরজার সামনেই মনিকার পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া দেহটা পেয়ে গেল। আলেস ততক্ষণে দ্বিতীয় মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে দেহটা ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে। সাঞ্জেকে পাওয়া গেল সেই আবদ্ধ বাথরুমে। ২৫ ভাগ পুড়ে যাওয়া দেহ নিয়ে সে তখনো বেঁচে ছিলো। ওকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। কটেজটার ইন্সুরেন্স করা ছিলো ভিগাতিয়ার কম্পানিতে। সাঞ্জেই করিয়েছিলো। সে কম্পানির দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ রবার্তো ট্রাভেজ পরদিন এলেন কটেজটা পরিদর্শন করতে। তিনি দমকল বাহিনীর বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে জানতে পারলেন আগুনটা লেগেছিলো রান্নাঘরের স্টোভ থেকে। উনি নিজেও পরিক্ষা করে দেখলেন। দেখে মনে হল কেউ একজন স্টোভের গ্যাস ছেড়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তাতেই কটেজটা পুড়ে ছাই। উনি মনে মনে খুশিই হলেন। উনার কম্পানিকে এই দুর্ঘটনার জন্যে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। ট্রাভেজ দ্বিগুন উৎসাহে কটেজের সবগুলি কক্ষে তল্লাসি চালালেন। উনি যখন বেডরুমে ঢুকলেন তখন ছাই হয়ে যাওয়া বিছানার উপর পুড়ে দুমড়ে যাওয়া একটা নেক্সাস ৭ পেলেন। ফোনটা একেবারেই ডেড হয়ে গেছে। তবে মেমরি স্টোরেজটা হয়তো এখনো ঠিক আছে। উনি ফোনটা উপস্থিত দমকল কর্মী ও পুলিশের অগোচরে আস্তে করে পকেটে ঢুকিয়ে নিলেন। সবাই যার যার মতো ব্যাস্ত থাকায় ব্যাপারটা কেউ খেয়াল করলো না। বাড়ি ফিরার পথে উনি সুপারমার্কেট থেকে আরেকটি নেক্সাস ফোন কিনলেন। বাড়ি ফিরে পুড়ে যাওয়া সাঞ্জের ফোনটা ভেঙ্গে তার ভেতর থেকে মেমরি স্টোরেজটা বের করে নিয়ে নতুন ফোনের মাদারবোর্ডে লাগিয়ে দিলেন। সুইচ টিপতেই নতুন ফোনটা চালু হয়ে গেল! তখন নিজেকে একজন ডাক্তারের চেয়ে কোন অংশে কম মনে হলো না তার। বিখ্যাত মোবাইল সার্জন ডাক্তার রবার্তো ট্রাভেজ। আপন মনেই খানিক ক্ষণ হাসলেন তিনি। অতপর তিনি যখন সাঞ্জের স্টোরেজ ঘাটছিলেন তখন একটা ফোল্ডারে তার চোখ আটকে যায়। ওটার নাম ছিলো “Virtual Diary”। ওতে একটা ওয়ার্ড ফাইল ছিলো। ওটা খুলতেই কতগুলি আজব লেখা বেরিয়ে পড়লো। ট্রাভেজ বাংলা জানেনা। কিন্তু প্রবাসী সাঞ্জে তার ডায়ারীর সম্পূর্ণটাই বাংলায় লিখেছে। উনি ফাইলটা ইমেইল করে ওয়ারশোতে একজন পরিচিত ভাষাতত্বের প্রফেসরের নিকট পাঠালেন। সাঞ্জের ভার্চুয়াল ডায়ারীর ইংরেজি অনুবাদটা সাত দিনের মাথায় ট্রাভেজের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে ফেরত আসে। ট্রাভেজ এক নিঃশ্বাসে সবটাই পড়ে নিলেন! অবিশ্বাস্য! এও কি সত্যি হতে পারে? কিন্তু সত্যি না হলে কেন একজন নিজের ডায়ারীতে এসব লিখবে? তবুও ট্রাভেজের মনে হলো এসব কিছুর প্রকৃত ব্যাখ্যা এ ডায়ারীর মালিক সাঞ্জেই ভালো দিতে পারবে। উনি গাড়িটা নিয়ে তখনই রওনা দিলেন হসপিট্যালে সাঞ্জের সাথে দেখা করতে। কিন্তু সাঞ্জের শারিরিক অবস্থা ভালো না থাকায় ডাক্তার তাকে দেখা করতে দিলেন না। পরের সপ্তাহে তিনি আবার গেলেন। এবার উনি দেখা করার অনুমতি পেলেন। সাঞ্জের রুমে ঢুকে তিনি দেখলেন সে বিছানায় শুয়ে আছে। তার মা বাবা উৎকণ্ঠিত হয়ে তার পাশেই বসে আছেন। ট্রাভেজ তাদের কাছে সাঞ্জের সাথে একান্তে কথা বলার অনুমতি চাইলেন। উনারা ট্রাভেজকে সাঞ্জের রুমে রেখে বাহিরে চলে গেলেন।
এবার সে একটা চেয়ার টেনে সাঞ্জের মুখামুখি বসলো। সাঞ্জের চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞাস করলো “আপনি কি বলতে পারেন ওখানে কিভাবে আগুন লেগেছিলো।”
সাঞ্জে ভাবলেশহীন চেহারায় উত্তর দিলো “স্টোভ থেকে আমিই লাগিয়েছি।”
ট্রাভেজ প্রথমে বিষ্ময়ে হা হয়ে গেলেও পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে নীচু স্বরে বলল, “সাঞ্জে, আমি তোমার ভার্চুয়াল ডায়ারীটা পড়েছি। ওসব যা লিখেছো তার সবই কি সত্যি?”
প্রশ্ন শুনে সাঞ্জে অগ্নিমূর্তি ধারণ করল। হঠাৎ সে ট্রাভেজের গলা টিপে ধরে চিৎকার করে বললো “আমি সাঞ্জে নই, মনিকা। সাঞ্জে আর আলেস পরপারে চলে গেছে। বেঁচে আছি আমি, শুধুই আমি।”
সাঞ্জের চিৎকার শুনে ডাক্তার নার্স এসে ট্রাভেজকে ছাড়িয়ে নিলেন। কিন্তু হুড়োহুড়িতে সবার অলক্ষে ট্রাভেজের নেক্সাসটা সাঞ্জের বিছানায় পড়ে গেলো। সবাই ওকে একা রেখে কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলো। এই সুযোগে সাঞ্জে নেক্সাসটা হাতে নিলো। ওর ভার্চুয়াল ডায়ারী ফোল্ডারটা বের করাই ছিলো। সাঞ্জে ওটাকে চিরতরে ফোন থেকে ডিলিট করে দিলো। পরক্ষণেই ঘুমের ইঞ্জেকশন নিয়ে রুমে এক সুঠামদেহী নার্স প্রবেশ করলো। সাঞ্জে লক্ষি মেয়ের মতো ইনজেকশনটা নিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লো।
ওদিকে ডাক্তার অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে ট্রাভেজকে সাঞ্জের মানসিক অবস্থা খুলে বললেন। ডাক্তারের মতে দুর্ঘটনার পরে সাঞ্জের মাল্টিপল আইডেন্টিটি ডিজঅর্ডার হয়েছে। এই মানসিক রোগের কারণে সাঞ্জে নিজেকে তার মৃত বন্ধু মনিকা ভেবে ভুল করছে।
কিন্তু সাঞ্জের ডায়ারীটা পড়া থাকায় সমস্ত ব্যাপারটা ট্রাভেজের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। মারগারেটের প্রেতাত্মার বশবর্তী হয়ে সাঞ্জে সেদিন মনিকা কে খুন করে। তারপর মনিকার লাশে মারগারেট প্রবেশ করলে সাঞ্জে তাকেও খুন করে। অতঃপর মারগারেটের কবল থেকে মুক্ত হয়ে সে দিশেহারা হয়ে পড়ে। খুনের দায় এড়াতে সে তখন আদিনের কালোজাদুর বইয়ের সহায়তায় আলেসের আত্মাকে মনিকার দেহে ঢুকিয়ে দেয়। কিন্তু মনিকার লাশটা বেশীক্ষণ রান্নাঘরে রেখে দেয়ার ফলে তার আত্মাটা সেখানেই আটকা পড়ে। ঠিক যেমন আলেসের আত্মাটা বেসমেন্ট, লাইব্রেরী বেডরুম আর কুয়োর ভেতর আটকে পড়েছিলো। আলেসের আত্মাটা যেমন মোমবাতি থেকে আদিনের ধর্মীয় বইয়ে আগুন লাগিয়েছিলো ঠিক তেমনি মনিকাও স্টোভ থেকে পুরো কটেজে আগুন লাগিয়ে দেয়। মনিকার দেহ জুড়ে থাকা আলেস সেই আগুনে পুড়ে মারা যায়। কিন্তু তোখড় উপস্থিত বুদ্ধি সম্পন্ন সাঞ্জে বাথরুমে ঢুকে নিজেকে আড়াল করে নেই। তবুও সে বাঁচতে পারে না। ধোয়ায় দম আটকে বাথরুমেই মারা যায়। খানিক পরে ধোয়া কমে এলে মনিকার আত্মা সাঞ্জের দেহে প্রবেশ করে। ডাক্তার এটাকে মাল্টিপল আইডেন্টিটি ডিজঅর্ডার ভেবে এখনো চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।
ট্রাভেজ ভাবে সত্যিই কি আলেস আর সাঞ্জে পরপারে চলে গেছে না কি এখনো কটেজে আটকে আছে? এটা জানার একটাই পথ আছে। ট্রাভেজকে সেই অভিশপ্ত কটেজে ফিরে যেতে হবে।
ট্রাভেজ হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গাড়ি ছুটায় ফুল আক্সেলারেশনে। গন্তব্য সেই অভিশপ্ত কটেজ। কিন্তু পথিমধ্যে এক মধ্যপ ড্রাইভার উল্টো লেনে এসে ঠিক ওর গাড়িটাতেই ধাক্কা মারে। ট্রাভেজের গাড়িটা উল্টে খাদে পড়ে যায়। খুব দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলেও, দুদিনের মাথায় সেও মারা যায়। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আলেস, মার্টিনী, সাঞ্জে আর প্রিস্টের সেই না জানা কাহিনীটা লোকচক্ষুর অগোচরে চলে যায়।
৮ বছর পর,,,,,,,
সাঞ্জের দেহে মনিকা খুব ভালভাবেই নিজেকে মানিয়ে নেয়। এরই মধ্যে সাঞ্জের বাগদত্তা অভির সাথে তার বিয়ে হয়েছে। তাদের দুটো বাচ্চাও বেড়ে উঠছে। মনিকা বহুগামিতা আর মদের নেশা ছেড়ে এক সুখি সংসার জীবন উপভোগ করতে থাকে। তবে দুর্ঘটনার পর সে কটেজটা বিক্রি করে দিয়েছিলো। এখন সেখানে একটা সুউচ্চ শপিংমল গড়ে উঠেছে। এক গৃষ্মে সাঞ্জের মা বাল্টিসে তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। দুদিন থাকার পর উনি দুই সামান্য কেনাকাটা করতে সেই শপিংমলে যান। দুই নাতির জন্যে কিছু খেলনা কেনার পর তিনি একটা জুয়েলারি দোকানে ঢুকেন। দোকানের শোকেসে একটা লাল পাথর বসানো আংটি দেখে তার পছন্দ হয়ে যায়। সামনেই তার মেয়ের জন্মদিন। জন্মদিনে এই সুন্দর রিংটা তার মেয়েকে উপহার দিবেন বলে ঠিক করেন। তিনি রিংটা নেড়ে চেড়ে হাতে পরে নিলেন। বাহ! সুন্দর ফিট হয়েছে তো। উনার মেয়ের আঙুলও ঠিক তারই মাপের। মেয়েটাকে দারুন মানাবে এতে। খুশি মনে আংটির মূল্য পরিশোধ করে উনি মলের তৃতীয় তলায় গেলেন নিজের জন্যে কিছু কাপড় কিনতে । আংটিটা তখনো তার হাতেই পড়া ছিলো। সেই দোকানে কয়েকটা গাউন পছন্দ করে সাইজ চেক করতে তিনি ট্রায়েলরুমে ঢুকেন। ট্রায়েলরুমের আয়নার দিকে চোখ পড়তেই তিনি চমকে উঠলেন। তার মেয়েটা নিষ্পলক চোখে আয়নার ভেতর থেকে তার দিকেই তাকিয়ে আছে!
(সমাপ্ত)

ডাকিণী ৪৯তম পর্ব (ঘ অংশ)

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
আমার পীড়াপীড়িতে ও অবশেষে রাজি হলো। প্রথমে ওকে নিয়ে গেলাম, মন্টগোমেরী সিনেমা হলে। বিশাল থ্রিডি
স্কিনের সামনে একটা রোমান্টিক মুভি দেখলাম আমরা। তারপর গেলাম শপিংমলে। ওর জন্যে নতুন কাঁপড় চোপর কিনে আনলাম। ও সারাটাক্ষণ আমায় একের পর এক প্রশ্ন করে ব্যাতিব্যাস্ত করে রাখলো।
আলেস: “ওই দেখো দেখো, একটা উড়ন্ত দানব, ওটা কি মানুষ খায়? ”
আমি: “আরে দুর। ওটা তো পুলিশের টহল হেলিকপ্টার। ওটা মানুষ খেতে যাবে কেন? বরং মানুষই ওটার ভেতরে করে উড়ে বেড়ায়।”
আলেস: “ওহ আচ্ছা, কিন্তু এই লোকটা এভাবে বেকায়দায় দাড়িয়ে আছে কেনো? ওকে কি কেউ জাদুবলে আটকে দিয়েছে? ”
আমি: “আরে নাহ। ওটা দোকানের ডামি। ওটার পড়নের কাপড়টা তুমি পড়লে কেমন লাগবে তা বুঝাতেই ওটা ওখানে রেখেছে।
আলেস: “কে এতো সুন্দর করে পুতুল বানায়? প্লীজ ওকে পেলে বলবে যেনো আমার চেহারার এরকম একটা পুতুল বানিয়ে দেয়।”
সেরেছে। একে নিয়ে শপিংমলে বেশীক্ষণ ঘুরাঘুরি করা যাবে না। প্রশ্ন করতে করতেই প্রাণবায়ূ বের করে ফেলবে।
আমি: “আচ্ছা আলেস। এখন এই কাপড়ের প্যাকেটগুলি নাও। আজ সম্ভবত পুতুল বানানোর লোকটা আসে নি। কাল ও এলে তোমার চেহারার একটা পুতুল বানিয়ে দিতে বলব। কেমন? এবার চল, এখান থেকে যাওয়া যাক।”
ও আর আপত্তি না করেই শপিংমল থেকে আমার সাথে বেরিয়ে এলো। যাক বাবা। উফ। মলের ভেতর মানুষ গিজগিজ করছিলো। এসব প্রশ্ন ওরা শুনলে নিশ্চিত টিটকারি মারতো।
মল থেকে বেরুতে বেরুতে প্রায় দুপুর হয়ে এসেছিলো। আমরা ভালো দেখে একটা রেস্তোরাঁয় ঢুকে লাঞ্চ করলাম। লাঞ্চ শেষে আমরা স্থানীয় একটা স্টেডিয়ামে গেলাম রাগবি খেলা দেখতে। খেলা শুরু হতেই আলেসের উচ্ছাসটা আর দেখে কে! ও চিৎকার করে গলা ফাটিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিচ্ছে।
আলেস: “মারো, মারো, আরো জোরে মারো। মেরে ফেলো ওদের। এইতো ভালই কুস্তি লড়ছো! ”
আরে! কি আশ্চর্য! ও রাগবিকে কুস্তি ভেবে বসে আছে। হিহিহিহিহি।
আমি: “আরে আলেস! ওরা কুস্তি লড়ছে না তো। ওরা রাগবি খেলছে। দেখো। ঐ যে একটা ছোট্ট বল দেখছো, ওটা ওরা একে অপরের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বারের ভেতর ঢুকিয়ে গোল দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
আলেস: “তুমি বলতে চাইছো যে ওরা মারামারি করছে না? ”
আমি: “অবশ্যই না। ওরা খেলছে।”
আলেস: “তাই? এযুগে কি কেউ মারামারি করে না? ”
আমি: “একদম যে করে না তা কিন্তু নয়। করে। কিন্তু খুব কম। অন্যায়ভাবে মারামারি করলে শাস্তি পেতে হয় যে।”
আলেস: “কে শাস্তি দেয়? প্রিস্ট? ”
আমি: “কি যে বলো, এ যুগে প্রিস্টের টাইম আছে না কি? এখনকার যুগে প্রিস্টদের আমরা থোড়াই কেয়ার করি। এযুগে বিচার আচার সব বিচারালয় থেকে বিচারকেরা নিয়ন্ত্রণ করেন। ওরা সেই শয়তান প্রিস্টের মতো নয়। ওরা অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও উচ্চশিক্ষিত।”
আলেস: “ওহ তাই? ভালোই তো। আচ্ছা, এ যুগে প্রিস্টের মতো কোন শয়তান নেই? ”
আমি ঠিক এই প্রশ্নেরই ভয় করছিলাম। আমি ওকে কোন মুখে বলবো এই আধুনিক সমাজে এখনো প্রিস্টের মতো নরকের কীটরা ভাল মানুষের মুখোশ পড়ে সমাজের উঁচু তলায় বসে সমস্ত কলকাঠি নাড়ছে।
আমি কথা কাটিয়ে বললাম, “আলেস, এসব খেলা দেখতে আমার ভালো লাগছে না। চল না বীচ থেকে ঘুরে আসি। আজ দুজনে মুক্ত সাগরে অনেক্ষণ সাঁতার কাটবো। চল না প্লীজ।”
আলেস: “ঠিক আছে। চল যাই।”
গাড়ি নেই বলে অনেকটা পথ হেটেই বীচে যেতে হলো। পথিমধ্যে একটা বীমা কম্পানিতে ঢুকে আমার কটেজটার বীমা করিয়ে নিলাম। বীমা না থাকায় গাড়িটা গেছে। এখন কটেজটাই শুধু বাকী আছে। ওটার নিশ্চয়তার জন্যে বীমাটা করিয়ে নিলাম। আলেসকে নিয়ে বীচে পৌছতে পৌছতেই বিকাল চারটা বেজে গেলো। আজ আমরা কেউই বিকিনি আনি নি। আসলে সকালে বেরুনোর সময় বীচে আসার প্ল্যানই ছিলো না। তাই বলে কি সাগরতীরে এসে সাঁতার না কেটেই চলে যাবো? কক্ষনো নয়। পরনের ধোপাদুরস্তর পোশাক নিয়েই আমরা দুজন জলে নেমে পড়লাম। জলে নেমে সাতরে আমরা দুজন তীর থেকে কিছুটা দুরে নির্জনে চলে এলাম। এবার আলেস আমায় জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো। আমরা দুজন জড়াজড়ি করে কিছুক্ষণ একসাথে সাঁতার কাটলাম। তারপর একসময় ক্লান্ত হয়ে রণে ভঙ্গ দিলাম। আবার সাঁতরে তীরে ফিরে এলাম। এবার যাওয়ার পালা। যাওয়ার সময় আলেস আংটিটা খুলে সাগরে ছুড়ে ফেলতে চাইছিলো। আমি খপ করে ওর হাতটা ধরে ফেললাম।
আমি: “এটা কি করছো আলেস? ”
আলেস: “আংটিটা ফেলে দিচ্ছি। ওটা আমায় আবার আটকে ফেলবে।”
আমি: “ওটা ফেলে দেওয়ার কি দরকার? বরং আমায় দিয়ে দাও। তোমার ওটার প্রয়োজন না থাকলেও আমার তো থাকতে পারে। ”
আলেস: “ঠিক আছে। এই নাও।”
আলেসের কাছ থেকে আংটিটা নিয়ে আবার আমার মধ্যমায় পড়ে নিলাম। কটেজে আর কোন অশরীরী নেই। তাই এটা পড়া অনেকটাই নিরাপদ।? তাছাড়া কে জানে, হাজার বছর পরে হয়তো কোন একদিন ওটা ব্যবহার করে আমিও আলেসের মতোই আবার ফিরে আসবো।
সারাটা দিন বাহিরে ঘুরেঘুরি করার পর ক্লান্ত হয়ে বিকাল ৭টার দিকে আমরা আবার কটেজে ফিরে আসলাম। কটেজে ফিরেই আলেস বলল, “কাল তুমি কষ্ট করে ডিনার রেঁধেছ। আজ আর তোমায় কষ্ট করতে দিচ্ছি না। আজ আমিই ডিনার রাঁধব। আমাদের সময়কার কিছু জনপ্রিয় ডিশ খেতে নিশ্চই তোমার তেমন খারাপ লাগবে না? ”
আমি: “অবশ্যই খারাপ লাগবে না প্রিয়া। তুমি যা রাঁধবে তাই সই।” চল, তোমায় রান্নার জিনিসপত্র সব দেখিয়ে দিচ্ছি।”
আলেসকে স্টোভের ব্যবহার, ফ্রিজ খুলে কাঁচামাল বের করা ইত্যাদি কসরত দ্রুত শিখিয়ে দিয়ে আমি বেডরুমে ফিরে এলাম। ও একা একাই রান্না করুক, আমি থাকলে বরং অস্বস্তিবোধ করতে পারে। বেডরুমে ফিরে একটা তোয়ালে পেঁচিয়ে বাথরুমে গেলাম গোছল করতে। বাথরুমে গোসল করার এক পর্যায়ে আয়নার দিকে চোখ যেতেই চমকে উঠলাম! আরে! মনিকা যে! ও এখানে আসলো কি করে! কিন্তু পরক্ষণেই ওর প্রতিচ্ছবিটা আয়না থেকে মুছে গেলো। আমি স্তম্ভিত হয়ে আয়নার সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম। ঠিক তখনই কিচেন থেকে আলেসের চিৎকার ভেসে এলো। আমি বাথরুম থেকে হতদন্ত হয়ে বেরিয়েই কিচেনের দিকে ছুটলাম।
দৌড়ে সেখানে যেয়ে দেখি আলেস অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। মাথার কোনটা কেটে রক্ত বেরুচ্ছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপারটা হলো ডীপ ফ্রিজের ডালাটা খুলে হাঁ হয়ে আছে। ঠিক যে ফ্রিজটায় আমি মনিকার লাশটা ঢুকিয়ে রেখেছিলাম। আমি ফ্রিজের ডালাটা নামিয়ে দিয়ে অজ্ঞান আলেসকে কিচেন থেকে আমার বেডরুমে বয়ে আনলাম। তারপর ওকে বিছানায় শুইয়ে বাথরুম থেকে পানি এনে ওর চোখে মুখে ছিটিয়ে দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই ও জ্ঞান ফিরে পেলো। তারপর কাঁপাকাঁপা দুর্বল কন্ঠে বলল, “ও পরপারে যায় নি। ও এখানে আটকে পড়েছে। এখন ও তার দেহটা ফেরৎ চায়।”
আমি: “কি! এসব তুমি কি বলছো? কে আটকে পড়েছে? মারগারেট?”
আলেস: “নাহ। মনিকা।”
আরে! তাইতো! আমি এটা তো ভেবে দেখিইনি! আমার আংটিপরা ডান হাতটা যখন মনিকার গলায় চেপে বসেছিলো তখন সে ওই হাতটা থেকে নিষ্কৃতি পেতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছিলো। জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত ওর হাত দুটো তার গলা থেকে আমার ডান হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করেছিলো। বেঁচে থাকার জন্যে ওর এতবেশী একাগ্রতা ছিলো যে মৃত্যুর পরেও ওর হাত দুটো আমার ডান হাতটা ধরে ছিলো। ওদিকে আমার ডান হাতটায় তখন সেই মৃত্যুঞ্জয়ী আংটিটা পরা ছিলো। তারমানে মৃত্যুর সময় মনিকার হাতে সেই আংটিটার স্পর্ষ লেগে গিয়েছিলো! তাই ওর আত্মাটা আর পরপারে যায় নি। তার বদলে ওই কিচেনেই আটকে পড়েছে! ইশ! বড্ড ভুল হয়ে গেছে। আমি ব্যাপারটা আগে আঁচ করতে পারি নি। তাই মনিকাকে উপেক্ষা করে আলেসকেই তার দেহে ভরে দিয়েছি। ধ্যাত। সাংঘাতিক অন্যায় হয়ে গেছে মনিকার সাথে।
আমি: “আচ্ছা, আলেস, ব্যাপারটা ঠিক কি ঘটেছিলো আমায় একটু বিস্তারিত বলতে পারবে? প্লীজ।”
আলেস: ” ও কিচেনে আটকে আছে। ওই সাদা বক্সটার (ডিপ ফ্রিজ) ভেতর, প্রত্যাবর্তণের অপেক্ষায়। তুমি চলে যাওয়ার পর ও আমায় মেরে ফেলার চেষ্টা করে। আমি তখন চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।”
বুঝতে পারলাম মনিকার আত্মাটা মরিয়া হয়ে এখন মারগারেটের মতোই আচরণ করতে শুরু করে দিয়েছে। প্রত্যাবর্তণের জন্যে ও যে কাউকে মেরে ফেলতে পিছ পা হবে না। আর আমিও নিজের অজান্তেই তাকে প্রত্যাবর্তণের চাবিটা দিয়ে দিয়েছি। গতরাতে মনিকার লাশটা ধোয়ানোর জন্যে বিশুদ্ধ পানি আনতে যখন কিচেনে ঢুকেছিলাম তখন আমি তোতাপাখির মতো আদিনের বইয়ের সেই মন্ত্রটা আওড়াচ্ছিলাম, ওটা দ্রুত মুখস্থ করার জন্যে। তখন মন্ত্রটা শুনে মনিকা সম্ভবত ওটা শিখে নিয়েছে। এখন ও কেবল একটা অক্ষত লাশ চায় প্রত্যাবর্তনের জন্যে। কেবল একটা লাশ। সেটা আমারই হোক বা আলেসের। ধ্যাত। কটেজটায় একটা না একটা সমস্যা লেগেই রয়েছে। আমি অনেক সহ্য করেছি, কিন্তু আর নয়। যত দ্রুত সম্ভব আমি এটাকে বেঁচে দেবো।
এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ চোখ গেলো আলেসের দিকে। ও ভয়ার্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আচ্ছা ওকে আবার মেরে ফেললে কেমন হয়? ও তো এমনিতেই পরপারে ফিরে যেতে চেয়েছিলো। আমিই ওকে জোর করে ফিরিয়ে এনেছি। ওকে মেরে লাশটা কিচেনে নিয়ে গিয়ে, মনিকাকে তার দেহটা বুঝিয়ে দেবো। কিন্তু পরক্ষণেই উপলব্ধি করলাম আমি কখনোই আলেসকে খুন করতে পারবো না। গতরাতের অনাবিল সুখস্বপ্নের পর আমি নিজের অজান্তেই ওকে ভালবেসে ফেলেছি। আমি ওর ভয়ার্ত ঠোটে চুমু খেয়ে বললাম, “চিন্তা করো না আলেস। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা আর ওই কিচেনে না গেলেই তো হলো। আজ থেকে খাবার দাবার সব বাহিরে থেকে কিনে খাবো তবুও কিছুতেই ওই কিচেনে ঢুকবো না। কেমন?”
আলেস মাথা নেড়ে সায় জানালো। তারপর আমি আবার ম্যাকডোনাল্ডে ফোন দিয়ে ডিনারের অর্ডার করলাম। দুজনে একসাথে ডিনার করে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। আজ এত্ত বেশী ঘুরাঘুরি করেছি যে দুজনই খুব ক্লান্ত। কিন্তু তাই বলে আলেস মোটেও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। ঘুমানোর আগে ও ঠিকই আমায় সুখ সাগরে ভাসিয়ে দিলো।
সেরাতে দুর্ঘটনার আগে সাঞ্জে তার ট্যাবলেটের “Virtual Diary” তে এইটুকুই লিখেছিলো। তারপর সাঞ্জে আর আলেস ভালবেসে একে ওপরের বাহুডোরে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু সেরাতে সাঞ্জে আলেসকে কিচেন থেকে বেডরুমে বয়ে আনার সময় রান্নাঘরের স্টোভটা বন্ধ করতে বেমালুম ভুলে যায়। পরবর্তীতে মনিকার ভয়ে ওদের কেউই আর রান্নাঘরে ফিরে যায়নি। স্টোভটা সারারাতই জলতে থাকে। ভোররাতের দিকে কিচেনের ডিপ ফ্রিজের ডালাটা আবার খুলে যায়। তারপরেই জ্বলন্ত স্টোভ থেকে একটা অগ্নি শিখা এসে রান্নাঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওদের দুজনের অজান্তেই আগুনটা ধীরে ধীরে পুরো কটেজে ছড়িয়ে পড়ে।
(চলবে)

ডাকিণী ৪৯তম পর্ব (গ অংশ)

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
আলেসের ক্রুদ্ধ দৃষ্টি আমার অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছিলো! আমি ভেবেছিলাম ও আমায় আক্রমণ করে বসবে। কিন্তু না। তার বদলে ও পোলিশ ভাষায় খেঁকিয়ে উঠলো, “আমায় ফিরিয়ে আনলে কেনো। আমি তো ফিরতে চাই নি। আমি শুধু পরপারে চলে যেতে চেয়েছিলাম। এ দুনিয়ার প্রতি আমার ঘৃনা ধরে গেছে।”
আমি: “ওহ গড! দেখ আলেস, তোমার মৃত্যুর পর অনেকটা সময়ই পেরিয়ে গেছে। পৃথিবীটা আগের চেয়েও অনেক বেশী বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। মানুষজন বদলে গেছে, সেই সাথে সমাজও। আমার বিশ্বাস তুমি এই নতুন সময়ের সাথে সঠিকভাবেই মানিয়ে নিতে পারবে। এর জন্যে আমি তোমাকে সর্বউচ্চ সাহায্য করবো।”
আলেস: “কিন্তু আমার মার্টিনীর কি হবে? ও যে আমার জন্যে পথ চেয়ে বসে আছে।”
আমি: “ওতো হাজার বছর ধরে তোমার জন্যে অপেক্ষা করেছে। তারমানে আরো ৪০-৫০ বছর ও সহজেই অপেক্ষা করতে পারবে। এর মধ্যেই তোমার জীবনকালও শেষ হয়ে যাবে। তুমি স্বাভাবিক নিয়মে মৃত্যুবরণ করে ওর কাছে পৌছে যাবে।”
আলেস: “আরো ৪০-৫০ বছর! আমি যে আর একটা মুহুর্তও ওর জন্যে অপেক্ষা করতে পারছি না।”
আমি: “আমি সত্যিই দুঃখিত আলেস। এটা ছাড়া আমার কোন উপায় ছিলো না। তুমিই কটেজে থেকে যাওয়া একমাত্র আত্মা ছিলে। তুমি আমার বন্ধুপ্রতিম হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছো। প্লীজ। আমার অবস্থাটা বুঝার চেষ্টা কর। আমাকে ক্ষমা করে দাওওওও,,,,,,,”
কথাগুলি বলতে বলতে আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। সত্যিই তো। আমি আলেসকে অনিচ্ছাকৃতভাবে এক ফাঁদে আটকে দিয়েছি যখন ও মুক্ত হতে চাইছিলো। সব দোষ আমার।
আমার কান্না দেখে আলেস এগিয়ে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিলো। আমিও ওর ঊষ্ম বাহুডোরে নিজেকে এলিয়ে দিলাম। ও আমার পিঠ চাপড়ে সান্তনা দিলো। ওকে আমার খুব আপন মনে হলো। যেন শত বছরের পরিচিত বন্ধু। হঠাৎ অনুভব করলাম ও আমার ঘাড়ে চুমু খাচ্ছে! ওকে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বা ইচ্ছা দুটোই আমার ছিলো না। কেবল মুখে বললাম, “চলো আলেস। এবার উপরে যাওয়া যাক।”
ও আলিঙ্গন ভেঙ্গে ওর ডায়ারীটা কুড়িয়ে নিয়ে সেটা ছিড়ে কুটিকুটি করলো। বুঝলাম ও নিশ্চিত করতে চাইছে যে এবার মারা গেলে আর কোন কিছুই ওকে এই কটেজে আটকে রাখতে পারবে না। ওর কাজ হয়ে গেলে আমরা দুজনই বেসমেন্ট ছেড়ে উপরে উঠে এলাম। অভিশপ্ত বেসমেন্টটা এবার প্রকৃতপক্ষেই শূন্য হয়ে গেলো।
সেদিন আমরা এক জম্পেশ ডিনার করলাম। আমার ফ্রিজে যত ধরনের ফুড আইটেম ছিলো তার সবই আমি প্রস্তুত করেছিলাম। আলেস এতো বছর অভুক্ত থাকার পর ফের খেতে বসেছে। আজ ওর ক্ষুদাটা আমি ভালভাবেই মিটিয়ে দেবো। হিহিহিহিহিহি।
আলেস কাঁটা চামচ আর ছুরির ব্যবহার জানতো না। মধ্যযুগে পোল্যান্ডে তো আর ডায়ানিং ম্যানার বলে কিছু ছিলো না। ওরা খাওয়ার জন্যে বাঙালীদের মতোই হাত ব্যবহার করতো। তাই আজ মাংসের কাবাবটা খেতে ওর খুব সমস্যা হচ্ছে। তা দেখে আমি ওকে নিজ হাতে খাইয়ে দিলাম। ও খাবার টেবিলে পুরোটা সময় আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো। আবেদনময় সেই দৃষ্টিতে আমি ভালবাসার আর্তি দেখতে পেলাম।
খাওয়া শেষে আমরা ড্রয়িংরুমে গেলাম টিভি দেখতে। আলেস কখনোই টিভি দেখেনি। প্রথম টিভিটা চালু করতেই ও ভয়ে পেয়ে আমায় জড়িয়ে ধরলো। টিভি চ্যানেলে তখন একটা প্রাচীন যুদ্ধের ফিল্ম দেখাচ্ছিলো। ঘোড়ায় চড়ে দুদল আদিম অস্ত্র সজ্জিত সৈন্যদলের লড়াই। বুঝলাম আলেস যদ্ধ বিগ্রহকে ঘৃনা করে। আমিও করি। কিন্তু আমি কি করে ওকে বলবো যে সেই আদিম মৃত্যুলীলা এখনো সাঙ্গ হয় নি। এখনো আধুনিক বিশ্বে প্রভাবশালীরা কারণে ওকারণে দুর্বল রাষ্টের উপর আক্রমণ চালায়। ছিঃ ছিঃ, কি লজ্জা। আমি রিমোট টিপে চ্যানেল পাল্টে গানের চ্যানেল আনলাম। আর্থ ডে উপলক্ষে একটা গান প্লে হচ্ছিলো তখন। এবার আলেস ভয় কাটিয়ে দেয়ালে ফিট করা টিভির স্কিন ছুয়ে দেখে বলল, “কি অসাধারণ জাদুকরী জানালা লাগিয়েছো এ ঘরে! আচ্ছা সাঞ্জে, তুমি কি জাদু জানা কোন ডাইনী? ”
ওর এমন প্রশ্ন শুনে আমি তো হেসেই খুন।
আমি: “আরে বোকা এটা জানালা না। টেলিভিশন। এটা দিয়ে দুরের জিনিশ দেখা যায়। আর আমি কোন ডাইনী না। একজন ফার্মাসিস্ট। ঔষধ বিশেষজ্ঞ।”
ও যে কী বুঝলো তা সেই ভালো জানে। কেবল মুখে হাসি এনে মাথা নাড়লো। আমি আবার চ্যানেল পরিবর্তন করে আরেকটি চ্যানেল টিউন করলাম। ওই চ্যানেলে তখন পোলিশ ভাষায় ডাবিং করা “ফ্যন্সি নান্সি” মুভিটা দিচ্ছিলো। এই মুভিটা আমার ভালই লাগে। মুভিটা চলার এক পর্যায়ে একটা চুমু খাওয়ার রোমান্টিক দৃশ্য চলে আসে। আলেস শিহরিত হয়ে আমার হাতটা আকঁড়ে ধরে। ওর অবস্থা দেখে আমার ভিষণ হাসি পাচ্ছিলো। অনেক কষ্টে আমি সেটা ঠেকালাম। কিন্তু আলেস আর আমার হাতটা ছাড়লো না। বরং হাতটা ধরে আমায় ওর কাছে নিয়ে একটা চুমু খেয়ে বসলো। আমি এর জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু আমি কখনোই আলেসকে নিরাশ করতে চাইনি। আমিই ওকে ফিরিয়ে এনেছি, নইলে ও এতক্ষণে মার্টিনীকেই চুমুটা দিতো। যাহোক, ব্যাপারটা এড়িয়ে গেলেই সবচেয়ে ভালো হবে। অনেক্ষণ আমরা কেউ কারো সাথে কথা বললাম না। কেবম নিরবে মুভিটা দেখতে লাগলাম। মুভিটা শেষ হলে আলেস আবারো আমায় জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো। এবার আর চুমুটা ভাঙতেই চাইলো না। হয়তো এতো বছর পরে আমায় কাছে পেয়ে ওর বুকের জমানো সব ভালবাসা উথলে উঠেছে। ধিরে ধিরে আমিও ওর ভালবাসায় হারিয়ে যেতে লাগলাম।
সেরাতে আমার বেডরুমে আমরা দুজন একসাথেই ঘুমিয়েছিলাম। এই কটেজে আসার পর থেকে দু একটা রাতে বাদে প্রায় প্রতিটা রাতই আমি দুঃস্বপ্ন দেখে কাটিয়েছি। কিন্তু সেরাতটা ছিলো এক অসাধারণ স্বপ্নময় রাত। আমি কেবল চাইছিলাম এই সুখস্বপ্নের যেনো কোন শেষ না হয়। কি দরকার ভোর হবার। এই সুন্দর রাতটাই চিরস্থায়ী হোক না।
পরদিন সকালে আমাদের একসাথেই ঘুম ভাঙলো। আমরা বাথরুমে যেয়ে একে একে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। তারপর আমি ম্যাকডোনাল্ডে ফোন দিয়ে সকালের নাস্তার জন্যে কিছু খাবার ও জুস অর্ডার করলাম। আধাঘন্টার ভেতরেই হোম ডেলিভারি এসে পৌছালো। তবে নাস্তার টেবিলে এক থমথমে নিরবতা বিরাজ করছিলো। আমাদের কারো মাঝেই গতরাতের সেই উচ্ছাসটা আর নেই। আলেসকে দেখলাম মনমরা হয়ে নাস্তার টেবিলে কেবল খুটেই চলেছে। কিছুই খাচ্ছে না। গতরাতের মতো আমি ওকে খাইয়ে দিতে গেলাম। কিন্তু ও শুধু পানি খেয়েই টেবিল ছেড়ে উঠে বেডরুমে চলে গেলো। বুঝলাম, ওর মনটা আজ ভালো নেই। থাক। আজ আর অফিসে যাবো না। প্রধান নির্বাহীর বিশেষ ক্ষমতাবলে আমি বছরে তিনদিন কোন কারণদর্শানো ব্যাতিত অফিস ছুটি ঘোষণা করতে পারি। আজ সেই সুযোগটা কাজে লাগালাম। অফিসের সবাইকে টেক্সট করে জানিয়ে দিলাম আজ অফিস বন্ধ।
অফিস ছুটি দিয়ে আমি বেডরুমে ফিরে এলাম। বেডরুমে যেয়ে দেখি আলেস একাকী বসে বসে কাঁদছে। আমাকে দেখতেই চোখের পানি লুকানোর বৃথা চেষ্টা করলো। আমি এগিয়ে যেয়ে ওকে চুমু খেয়ে বললাম, “কি ব্যাপার আলেস? মন খারাপ? মার্টিনীকে খুব মনে পড়ছে বুঝি।”
ও কেবল মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।
আমি: “আলেস, প্লীজ, মন খারাপ করো না। আমি তো আছিই। চল না বাহিরে থেকে ঘুরে আসি। বাহিরে সব কিছুই নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। আজ তুমি হাজার বছর আগের পোল্যান্ডের সাথে আজকের আধুনিক পোল্যান্ডকে মিলিয়ে দেখবে। প্লীজ, চল চল, চল। “

ডাকিণী ৪৯তম পর্ব (খ অংশ)

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
লাইব্রেরীতে সবকিছুই তৈরি করে বইটা খুলে বসলাম। সমগ্র বইটাই দুর্বোধ্য হিব্রু ভাষায় লেখা। বইয়ের মাঝামাঝিতে একটা পৃষ্টা ভাঙা। সম্ভবত কেউ একজন একে চিহ্নিত করতে চেয়েছিলো। এই পৃষ্টায় হিব্রু লেখার সাথে গালিচায় শোয়ানো একটা লাশের স্কেচ আকাঁ। তারপাশেই হিজিবিজি টানা ইংলিশ হরফে একটা মন্ত্রের উচ্চারণ লেখা রয়েছে। সম্ভবত লেখাটা আদিনের। বুঝলাম এটাই সেই আত্মা ঢুকানোর মন্ত্র। আমি ওটা দেখে দেখে সঠিক উচ্চারণে মুখস্থ করে নিলাম। তারপর পৃষ্টা উল্টাতেই আদিনের হস্তাক্ষরে সহজ ইংরেজিতে লেখা কার্যপ্রণালী পেয়ে গেলাম। আদিনের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মনটা ভরে গেলো। ছেলেটা আমার জন্যে এতো কিছু করেছে। কিন্তু শেষমেষ ও নিজের জন্যে কিছুই করতে পারলো না।
কার্যপ্রণালী অনুসারে, প্রথমে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে দেহটা ধুইয়ে নিতে হবে। তারপর দেহের কপালে যে আত্মাটা প্রবেশ করানো হবে তার নাম পবিত্র কাঠ কয়লা দিয়ে লিখতে হবে। তারপর দেহটাকে চিৎ করে শুইয়ে মুখটা হাঁ করিয়ে রাখতে হবে। সবশেষে মন্ত্রটা পাঁচবার ঐ আত্মার নাম ধরে জপতে হবে।
বাস। এইটুকুই! মন্ত্রটা গুনগুন করে আওড়াতে আওড়াতে কিচেনে গেলাম জগ ভরে বিশুদ্ধ পানি আনতে। ততারপর স্টোররুম ঘেটে কতগুলি ভাঙা কাঠের টুকরো এনে স্টোভে পুড়িয়ে কাঠ কয়লা বানিয়ে নিলাম। তারপর ওগুলি নিয়ে লাইব্রেরীতে ফিরে আসলাম। লাইব্রেরীতে ফিরে মনিকার দেহটাকে ভালো করে পানি দিয়ে ধুইয়ে পবিত্র করে নিলাম। তারপর ওর কপালে লিখলাম কাঠ কয়লার কালিতে লিখলাম “ALACE” । তারপর আংটিটা ওর আরেকটি অক্ষত আঙুলে পরিয়ে দিয়ে মন্ত্র পড়া শুরু করলাম। প্রতিবার মন্ত্র পড়ার শুরুতে ও শেষে আলেস ভন্টেইজিয়ান নামটা উচ্চারণ করতে ভুললাম না। কেন জানি ভয় হচ্ছিলো আলেসকে ঢুকাতে যেয়ে যদি অন্য কাউকে ঢুকিয়ে বসি তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে। যদি মারগারেট আবার ঢুকে পড়ে ওতে! নাহ। তা কি করে সম্ভব। মারগারেট মনিকার দেহে তার দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, না ওই আংটিটা পড়ে ছিলো, না কপালে ওটার ছ্যাকা খেয়েছিলো। তারমানে ওর আত্মাটা মৃত্যুর সাথে সাথে চিরায়ত নিয়মেই পরপারে পারি জমায়। ফ্রিজে কেবল মনিকার দেহটা পড়ে থাকে। এখন এই দেহে ভালয় ভালয় আলেসকে ঢুকাতে পারলেই হলো।
মন্ত্র পড়া শেষ হলে তীর্থের কাকের মতো লাশটার দিকে চেয়ে রইলাম একটু প্রাণের স্পন্দন পাওয়ার আশায়। সময় টিকটিক করে বয়ে যেতে শুরু করলো। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এভাবে প্রায় আধা ঘন্টা পেরিয়ে গেলো। না আলেস চোখ খুলছে, না একটু শ্বাস নিচ্ছে। সম্ভবত আমার প্রথম প্রচেষ্টা ব্যার্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আদিন কি তবে একটা ফাও বই এনে আমায় ইম্প্রেসড করার চেষ্টা করছিলো? কিন্তু ও যদি ফ্রড হয়ে থাকে তবে কেনো মারগারেট ওকে খুন করবে? নিশ্চই ওর পরিকল্পনাটা কার্যকর ছিলো বলেই মারগারেটের আতেঁ ঘা পড়েছিলো। তাই সে ওকে রাস্তার কাঁটা ভেবে সরিয়ে দিয়েছে। সমস্যাটা সম্ভবত আমার কারণেই হয়েছে। আমার মন্ত্র উচ্চারণে ভুল থাকতে পারে। কিংবা আলেস এ দেহে ঢুকতে চায় নি, ও কেবল পরপারে মার্টিনীর কাছে ফিরে যেতে চাইছে। অথবা জমে থাকা দেহটা আত্মার অনুপ্রবেশের জন্যে মোটেও উপযুক্ত নয়। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। হতাশ হয়ে লাইব্রেরীর মেঝেতে বসে পড়লাম। হতাশা আর ক্লান্তি আমায় চারদিক থেকে ঘিরে ধরলো।
খানিক্ষণ জিরিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম পুরো প্রক্রিয়াটার পুনরাবৃত্তি করবো। তবে লাইব্রেরীতে নয়। বেসমেন্টে। ওখানে নিশ্চিতভাবে আলেসের উপস্থিতি ও প্রভাব সর্বউচ্চ পরিমাণে রয়েছে। তাই ওখানে কাজ করলে ও কিছুতেই এই প্রক্রিয়া থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারবে না। তবে তার আগে মনিকার দেহটা কিচেনে নিয়ে গিয়ে কুসুম গরম পানিতে স্নান করিয়ে আনবো। এতে ওর জমাটা বাধা দেহটা পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। আরেকটি জিনিস খেয়াল হলো। মনিকার কপালে কাঠ কয়লায় লেখা আলেসের নামটা আমি ইংরেজিতে লিখেছি। কিন্তু আলেস তো ইংরেজি জানে না। ঠিক করলাম ওটা মুছে দিয়ে পোলিশ ভাষায় ওর নামটা লেখবো। ঠিক যেমন ওর ডায়ারীতে লেখা আছে, “আলেস ভন্টেইজিয়ান”। এত কিছু করার পরেও যদি কাজ না হয় তবে আদিনের মায়ের বাপ। আমি ওর বইটা ছিড়ে কুটিকুটি করে ইঁদুর দিয়ে খাওয়াবো। হুহ। আমার সাথে ফাজলামো?
ভারি জমে থাকা দেহটা আবার কিচেনে বয়ে নিয়ে গেলাম। তারপর সিংকের গরম পানির কল ছেড়ে ওর দেহে ঈষদুষ্ণ গরম পানির ধারা বইয়ে দিলাম। এভাবে আরো আধাঘন্টা পানি দেওয়ার পর ওর দেহটা নমনীয় উষ্ম আর আদ্র হয়ে এলো। এবার ফের কাজ শুরু করা যেতে পারে। ওর দেহটা কাঁধে করে বেসমেন্টে বয়ে নিয়ে গেলাম। এবার বরফ জমে না থাকায় ওর দেহটা বেশ হালকা লাগছে। বেসমেন্টে এসে দেহটাকে ঠিক আলেসের সেলের ভেতরেই চিৎ করে শুইয়ে দিলাম। তারপর সংশোধিত কার্যপ্রণালীতে আবার রিচুয়ালটা সম্পন্ন করলাম। পাঁচবার স্পষ্ট উচ্চারণে মন্ত্র পড়ার পরেও মনিকার দেহে আলেসের কোন সাড়া শব্দ পেলাম না। আমি একাগ্রচিত্তে অপেক্ষা করতে লাগলাম, এক ঝাঁক আশায় বুক বেঁধে। এই বুঝি আলেস চোখ খুলে উঠে বসবে। কিন্তু প্রথম দশ মিনিট তেমন কিছুই হলো না। অপেক্ষা করতে করতে আমার মাথা বিগড়ে গেলো। সব রাগ গিয়ে পড়লো আদিনের ওই বইটার উপর। শালা অকাজের বই। তোকে আজ ছিড়েই ফেলবো। যখনই বইটা ছিঁড়ার জন্যে হাত বাড়ালাম তখনই নিস্তব্দ বেসমেন্টে একটা ক্ষীণ নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পেলাম। সাথে সাথেই আমি কান খাড়া করলাম। কয়েক মুহুর্ত পরে আবার শুনে বুঝতে পারলাম শব্দটা মনিকার দেহ থেকেই আসছে।
এগিয়ে গিয়ে আমি মনিকার ঝুকে মনিকার নাকের কাছে হাত রাখলাম। আরে! এই তো! শ্বাস নিচ্ছে! এবার আমি ওর মাথাটা আমার কোলে তুলে নিয়ে চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম। এই তো লক্ষী মেয়ে। জেগে উঠো। প্লীজ। এই তো হচ্ছে।
ওর শ্বাসপ্রশ্বাসের হার ক্রমাগত দ্রুত হল। ওর হাতটা ধরে আমি ওর পালসরেটটা চেক করলাম। একটু দ্রুত তবে স্বাভাবিকের প্রায় কাছা কাছি। এবার আমি ওর নাম ধরে ডাকতে লাগলাম।
আমি: “আলেস, আলেস ওঠো। আর কতকাল এভাবে ঘুমিয়ে থাকবে তুমি? এবার তো উঠো। আলেস!!!!”
দু তিনবার ডাকতেই ও চোখ মেলে তাকালো। কেমন ঘোলা আর শূন্য সেই দৃষ্টি। ওতে প্রত্যাবর্তণের আনন্দের চেয়ে বিষাদই যেনো বেশী ছিলো। খানিক্ষণ তাকিয়ে থেকেই ও হড়হড় করে আমার কোলেই বমি করে দিলো। আহারে বেচারি। নতুন দেহে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না। আমি ওর পিঠ চাপড়ে সান্তনা দিলাম। বমি করা শেষে ও অনেক্ষণ কাশলো। বুঝতে পারছি। ওর খুব কষ্ট হচ্ছে এ দেহে। তারপর কিছুটা ধাতস্থ হয়ে গেলেই আমায় ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে টলমলো পায়ে উঠে দাড়ালো। ওর কান্ড দেখে আমি ভিষণ অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।
আমি: “কি ব্যাপার? তুমি ঠিক আছো আলেলেলে,,,,,”
ওকে প্রশ্ন করতে যেয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়েছিলাম। চেয়ে দেখি ও কটমট চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে যেন জ্যান্ত খেয়ে নেবে!
আমার মনে খটকা লাগলো। আমার উপর এতটা রেগে আছে কেনো ও? ওর তো আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিৎ। আমার জন্যেই এত বছর পর একটা অক্ষত দেহে প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। এতে আমার উপর চটে যাওয়ার কি হলো? আচ্ছে, ও কি সত্যিই আলেস? না কি মারগারেট এই সুযোগে ফিরে এসেছে আমার উপর তার দ্বিতীয় মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে?
(চলবে)

ডাকিণী ৪৯তম পর্ব (ক অংশ)

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
আমি দৌড়ে গেলাম লাইব্রেরীতে। লাইব্রেরীতে যেয়ে দেখি, আলেসের ডায়ারীটা পড়ে আছে টেবিলে, আর এর পৃষ্টাগুলি দমকা বাতাসে একে একে উল্টাচ্ছে! আশ্চর্য! এটা তো আলেসই তাহলে! কিন্তু ও যায় নি কেনো? ডায়ারীর দিকে এক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতেই ব্যাপারটা বুঝে গেলাম। আলেস আংটিটা আনতে বলেছিলো তার নিজের মুক্তির জন্যে নয়। তার ভালবাসার মার্টিনীর মুক্তির জন্যে। ও মার্টিনীকে ছাড়া ওপারে যাবে না। প্রকৃতপক্ষে এদের ভালবাসার বাধন এতটা জোরালো যে ওরা একজন অপরজন কে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারে নি। তাই মার্টিনীর মুক্তিকেই প্রকারান্তরে আলেস তার নিজের মুক্তির মতোই দেখে আসছিলো। কিন্তু আংটিটা উদ্ধারের পর মার্টিনী সহ অন্য মেয়েদের মুক্তি হলেও আলেসের ইহলৌকিক বন্ধনটা এখনো রয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে ওর আটকে থাকার কারণ ওই আংটিটা নয়, নইলে ও অন্য মেদের সাথেই প্রিস্টের কবরে বন্দি থাকতো, এ কটেজে মুক্ত হয়ে ঘুরতো না। যে জিনিসটা আলেসকে এখাবে বেধেঁ রেখেছে সেটা হলো এই ডায়ারী।
নিজের জীবনের শেষ অধ্যায়গুলির স্মৃতিযুক্ত এ ডায়ারীটাই ওকে এই বদ্ধ কটেজে হাজার বছর ধরে বন্দি করে রেখেছে। কিন্তু এতোদিন আমি ওর উপস্থিতি টের পাইনি কেন? ওকে আমি এতোদিন খুঁজলাম কিন্তু ও ধরা দিলো না কিন্তু আজ নিজে থেকেই তার উপস্থিতি ঘোষনা দিচ্ছে! ব্যাপারটা কেমন জানি গোলমেলে! মারগারেটের আত্মার প্রভাবেই কি ও নিশ্চুপ হয়ে ছিলো! কিন্তু এতদিন তো জানতাম খারাপ আত্মাগুলি মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে! এখন দেখছি এরা একে ওপরের উপরেও প্রভাব বিস্তার করে! কিন্তু তা কি করে সম্ভব? মনিকা তো ওকে সেই প্রথম থেকেই অনুভব করে আসছে। সেদিন মনিকাকে একা রেখে আমি অফিস গেলে মারগারেট ও চলে আসে আমার সাথে। কারণ আমি নিজের অজান্তেই মারগারেটের বাহন হয়ে গিয়েছিলাম। আমি যেসব জায়গায় যেতাম মারগারেট ও চলে আসতো সাথে সাথে। আমার ও মারগারেটের অনুপস্থিতিতে মনিকা লাইব্রেরীতে আলেসকে অনুভব করে ও ভয় পেয়ে যায়। ভয়ে দিশেহারা হয়ে ও আমায় ফোন দেয়, তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরে আসার জন্য। কিন্তু কপাল খারাপ যে সেরাত আমায় স্টারদের সেইফ হাউসেই কাটাতে হয়। শেষরাতে আমি কটেজে ফিরতেই সাথে করে মারগারেটও ফিরে আসে এবং মনিকাকে লাইব্রেরীতে ওর বই পড়তে দেখে ফেলে। তারপর মেয়েটাকে ভয় দেখিয়ে অজ্ঞান করে দেয়। তার কয়েকদিন পরে মনিকা অভিযোগ করেছিলো যে, বেসমেন্ট থেকে কে যেনো ওর নাম ধরে ডাকছে। ওটাও আলেসই ছিলো। বেসমেন্ট থেকে কেবল আলেসই ডাকতে পারে। ওটা ওরই আস্তানা। ওখানে মারগারেটের কোন প্রভাব নেই। সবিশেষে বেসমেন্টে আদিনের মোমবাতিটা নিভে যাওয়ার কারণও এই আলেস। সে মোমবাতি নিভিয়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছিলো কিন্তু আমি ও আদিন ব্যাপারটাকে নিছক দমকা বাতাসের কারসাজি ভেবে ভুল করেছিলাম। আমাদের আগেই বুঝা উচিৎ ছিলো যে বদ্ধ বেসমেন্টে দমকা বাতাস কখনোই নিজে থেকে সৃষ্টি হয় না। যদি না অন্য কেউ সেই বদ্ধ বাতাসে ঢেউ না তুলে। আলেস আগেও ছিলো এখনো এই কটেজেই আছে। কেবল এতদিন ও আমায় এড়িয়ে চলছিলো মাত্র। আমার উপস্থিতিতে লাইব্রেরীতে ও নিজেকে নিরব রেখেছিলো, তাছাড়া বেসমেন্টে দুরাত ঘুমালেও ও আমায় কোন দুঃস্বপ্ন দেখায় নি। তবে কি এতোদিন আমার সাথে এমন কিছু ছিলো যা আলেসকে আমার থেকে দুরে সরিয়ে রেখেছিলো? হা, অবশ্যই। ওই আংটি! আলেসের চরম অনিহা থাকা সত্তেও তার কপালে আংটির ছ্যাকা দিয়েছিলো। এরপর থেকে ওই আংটিপরা যে কাউকেই ও প্রিস্ট ভেবে ভয় পায়, ও তাদের থেকে দুরে সরে থাকে। ওই আংটির ভয়েই ও আমায় এড়িয়ে যাচ্ছিলো। এখন আংটিটা আমার হাতে নেই বলেই ও আমায় এখানে টেনে এনেছে। পৃষ্টা উল্টাতে থাকা ডায়ারীটাই আলেসের মুক্তির পথ নির্দেশ করছে। ডায়ারীটাকে পুড়িয়ে দিলেই আলেস মুক্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমাবে। এগিয়ে গিয়ে আলেসের ডায়ারীটা হাতে তুলে নিলাম! এত সুন্দর ডায়ারীটা এভাবে পুড়িয়ে দিতে একটুও ইচ্ছা করছিলো না।
ডায়ারীটা নিয়ে লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে কিচেনে চলে এলাম। উদ্দেশ্য ছিলো ওটাকে পুড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু না। ঠিক তখনই আমার কটেজের কলিংবেলটা বেজে উঠে। আশ্চর্য! এই অসময়ে আবার কে এলো! ওদিকে কিচেনের কোণে মনিকার লাশটা পড়ে আছে। যদি আগুন্তুক এটাকে দেখে ফেলে তো আমার কেল্লাফতে। বাকিটা জীবন চোদ্দশিকের ভেতরে পঁচে মরতে হবে। আলেসের ডায়ারীটা স্টোভের পাশে রেখে দ্রুত মনিকার লাশটা টেনে এনে একটা কিচেন রেক এর পেছনে লুকিয়ে ফেললাম। তারপর দুরুদুরু বুকে এগিয়ে গিয়ে দরজাটা খুলে দিলাম। আমি এতক্ষণ ঠিক এদেরই ভয় পাচ্ছিলাম। পুলিশ!
একটা ছয় ফুট উঁচু বিশাল দেহী অফিসার আর রুক্ষ চেহারার তার মহিলা ডেপুটি। ওদের দেখে আমি এতটাই ভড়কে গিয়েছিলাম যে ওদের সাথে কথা বলতেও ভুলে যাই। ওরাই প্রথম কথা বলা শুরু করে,
পুলিশ: “সরি ম্যাম, আপনাকে অসময়ে বিরক্ত করার জন্যে। কিন্তু আমরা সত্যিই দুঃখিত। আমরা আপনার বেডরুমের সীলগালা খুলে দিতে ও আপনার বেডরুম থেকে জব্দ করা মালামাল গুলি ফেরত দিতে এসেছি।”
আমি: “ওহ, আচ্ছা আচ্ছা। ভেতরে আসুন। ”
ওরা প্রায় একঘন্টা সময় নিয়ে বেডরুমটা ভাল করে ফের পরীক্ষা করলো প্রথম দফায় ফেলে যাওয়া কোন সম্ভাব্য সুত্রের আশায়। তারপর বেডরুমে পড়ে থাকা সকল কাঁচের টুকরা সতর্ক হাতে সরালো। মেঝেতে জমাট বাধা আদিনের রক্ত ভাল করে ধুয়ে মুছে সেখানে ডিজইনফেক্টেন্ট ছড়িয়ে দিলো। তারপর একটা লাগেজে করে আমার বেডরুম থেকে জব্দ করা জিনিসপত্র গুলি ফেরত দিয়ে গেলো। ওরা চলে যেতে যেতে বিকাল ৯টা বেজে গেলো। ওরা চলে গেলে আমি যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। ভাগ্যিস ওরা মনিকার মৃতদেহটা দেখতে পায়নি। কৌতুহলবশত আমার ফেরৎ পাওয়া মাল গুলি পুলিশের দেওয়া লিস্টের সাথে মিলিয়ে দেখতে লাগলাম! আরে! ওগুলোর মধ্যে তো আদিনের সেই জাদুবিদ্যার বইটা রয়েছে। যেটা ও এনেছিলো মারগারেটের আত্মাকে আমার দেহে প্রবেশ করানোর জন্যে। হঠাৎ আমার চোখের সামনে একটা সরল সমীকরণ মিলে গেলো!
লাইব্রেরীতে আংটির ছ্যাকা খাওয়া আলেসের আত্মা, কিচেনে মনিকার মৃতদেহ, ড্রয়িংরুমের পেডাল ডাস্টবিনে সেই জাদুকরী আংটি, আর আমার বেডরুমে সদ্য ফেরৎ পাওয়া আদিনের জাদুবিদ্যার বই। এগুলি সব একত্রে মিলালেই পাওয়া যাবে মনিকাকে খুনের দায় থেকে মুক্তি।
আমি সিদ্ধান্ত নিলাম মনিকার দেহে আলেসের আত্মাটাকে ঢুকিয়ে দিবো। এতে আমি যেমন খুনের দায় থেকে মুক্তি পাবো, আলেসও নতুন জীবন ফিরে পাবে। খুনের দায় থেকে বাঁচার জন্যে এটাই একমাত্র উপায়। আত্মা প্রতিস্থাপনের জন্যে প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ আমার কটেজের ভেতরই বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বেডরুম থেকে বইটা নিয়ে এসে লাইব্রেরীতে রাখলাম। কিচেনে ঢুকে মনিকার দেহটাকেও সন্তর্পণে লাইব্রেরীতে বয়ে এনে টেবিলের উপর শুইয়ে দিলাম। ওর দেহটা তখনো জমাট বাধাই আছে! তবে ইতিমধ্যেই ওটা থেকে অনেকটা বরফ গলে কিচেনের ফ্লোর ভাসিয়ে দিয়েছে। ড্রয়িংরুমের ডাস্টবিনের সব ময়লা হাতড়ে মনিকার কাটা আঙুলটা বের করলাম। আংটিটা ওটার সাথেই লেগে ছিলো। আঙুল থেকে আংটিটা বের করে নিয়ে লাইব্রেরীতে ফিরে এলাম। এবার কাজ শুরু করা যাক।
(চলবে)

ডাকিণী ৪৮তম পর্ব

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
বেচারি মারগারেট। এত বছর পর প্রথমবারের মতো জীবন্ত জগতে ফিরে চোখ খুলতেই ও আমাকে ওর গলা চিপে ধরতে দেখেছিলো। যতই যাদুশক্তির অধিকারী হোক না কেন এমন দৃশ্য স্বভাবতই ওর হৃদপিণ্ডটা কাঁপয়ে দিয়েছিলো। ভয়ে দ্বিকজ্ঞিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ও ড্রয়িংরুম থেকে বেরিয়ে ছুটে সোজা কিচেনের ডিপ ফ্রিজে ঢুকে পড়ে। ভাগ্য ভালো যে মারগারেট ফ্রিজের ভেতরে ঠান্ডায় জমে যাওয়ার ব্যাপারটা সম্পর্কে অবগত ছিলো না। মধ্যযুগে ওর জীবদ্দশায় পোল্যান্ডে ফ্রিজ আসবে কোথা থেকে? ও ফ্রিজটাকে নিছক একটা লুকানোর জায়গা ভেবে ঢুকে পড়েছিলো। এখন ও টের পাবে কত ধানে কত চাল, আর ফ্রিজে ঢুকলেই জমে তাল।আমার ভয় ছিলো মারগারেট হয়তো জাদুবলে লকটা খুলে ফেলবে। তাই রান্নাঘরের ভারী ওভেন আর ডিশ ক্লিনারটা বয়ে এনে ফ্রিজের ডালার উপর রাখলাম। এবার আর কিছুতেই ফ্রিজটা খুলবে না।
ফ্রিজের দেয়ালে একটা আলতো লাথি বসিয়ে দিয়ে ওকে বুঝিয়ে দিলাম আমি ওর অবস্থান জেনে গেছি। ও ভয়ে সর্বশক্তিতে চেঁচালো আর ফ্রিজের ডালায় ধাক্কাতে শুরু করলো। আমি হো হো করে হেসে উঠলাম। ওর চিৎকার আমার কানে রক মিউজিকের মতোই সুরেলা শুনালো।
চেঁচাতে চেঁচাতে এক সময় ও ক্লান্ত হয়ে চুপ মেরে দিলো। তারপর শুরু করলো মিনতি। পোলিশ ভাষায় ও বলল, “সাঞ্জে আমি মনিকাই। কেন তুমি আমায় মারতে চাইছো? আমি তোমার কি ক্ষতি করেছি?তোমায় আমি ভালিবেসেছিলাম। এটাতো কোন অন্যায় নয়। তবে কেন আমায় এ শাস্তি দিচ্ছো? ”
হায় রে বোকা মারগারেট। আমাকে ধোকা দেয়া এতো সোজা না। মনিকার ভাব নিয়ে আমার মন গলাতে চাইছে। কিন্তু যত্ত সমস্যা হয়েছে ওই ভাষাতত্বে। মনিকা এতো ভালো পোলিশ জীবনেও বলতে পারবে না। কিন্তু মারগারেট অবলীলায় পোলিশ বলে যাচ্ছে। ওর এসব বৃথা প্রচেষ্টা দেখে আমার নিতান্তই হাসি পেলো।
আমি: “দেখো মারগারেট, আমি ভালো করেই জানি তুমি কে। এসব ভান ধরে কাজ হবে না। তুমি আমার বন্ধু আদিনকে মেরেছো। আমার সন্তানতুল্য মনিকাকে আমার হাত দিয়ে খুন করিয়েছো। ভেবেছিলে এসব করে তুমি পার পেয়ে যাবে। কিন্তু না। আজ তোমাকে মরতেই হবে। তুমি মরবেই।”
ওর ছদ্দবেশ কাজ করছে না দেখে ও এভার স্বরূপে আবির্ভূত হলো,
মারগারেট: “দেখো সাঞ্জে। পৃথিবীতে একজনকে বেঁচে থাকতে হলে অন্যজনকে মরতেই হয়। আমি শুধু বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওরা আমায় অন্যায়ভাবে হত্যা করে। এতগুলি বছর পর আমি আবার যখন আজ বেঁচে উঠেছি তখন তুমি আবার আমায় হত্যা করতে নেমেছো। এটাই কি তোমার বিবেক? ”
ভুতের মুখে রাম নাম। যে নিজেই একরাতের ব্যবধানে দুই দুইজন মানুষকে খুন করেছে সে আমার বিবেক নিয়ে প্রশ্ন তুলছে! গেলো মাথা বিগড়ে।
আমি: “হা আমি বিবেকহীন অমানুষ। আর তুমি খুব বিবেকসম্পন্ন মানবতা দরদী তাই না? তোমার বিবেক নিয়ে ফ্রিজেই জমে মরো। ঠিক যেমন করে তুমি আমার বন্ধুদের মেরেছিলে।”
ওর সাথে কথা বলার সকল ইচ্ছা আমার মন থেকে উবে গেলো। অনেক হয়েছে। এবার ওকে একা একা শান্তিতে মরতে দেওয়া উচিৎ। আমি কিচেন থেকে বেরিয়ে এসে ড্রয়িংরুমের রক্ত পরিষ্কার করলাম। মনিকার কাটা আঙ্গুলটা কুড়িয়ে নিলাম। তারপর আংটি সহই ওটাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিলাম। যাক বাবা। এখন আর আমায় অভিশপ্ত আংটিটা সার্বক্ষণিকভাবে পড়ে থাকতে হবে না। ওদিকে ফ্রিজের ভেতর মারগারেট চিৎকার করেই চলেছে। আশাকরি আর ঘন্টা খানেকের মধ্যেই ও জমে কাঠ হয় যাবে। আমার অফিসে যাবার সময় ও হয়ে এলো। কাপড় বদলে অফিসের পথ ধরলাম। আজ আর নাস্তা করা হলো না।
অফিসের কর্মচারীরা আজকে খুবই প্রফুল্ল। আজ যে আমি ইন্সপেক্টর মনিকাকে সাথে করে নিয়ে আসি নি
ওদের সবারই প্রায় একই প্রশ্ন ছিলো। মনিকা কি বাল্টিসে আছে না চলে গেছে। ও থাকলে তো সবাইকে আট্যেনশন থাকবে হবে। কখন হুট করে অফিসে ভিজিট দিতে চলে আসবে কে জানে। কিন্তু আমি ওদের সবার কাছে মিথ্যা বললাম। মনিকা কাল রাতেই চলে গেছে। ওরা সবাই খুশি মনে রিলাক্স মুডে যার যার কাজে চলে গেলো। এতগুলি লোকের সামনে মিথ্যা বলতে যেয়ে আমার কপাল বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝরলো। ক্ষানিকের জন্যে মনে হলো মিথ্যাচারই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন।
সারাদিন অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে কটেজে ফিরলাম। আজ থেকে আমার কটেজ অশরীরী মুক্ত। কিন্তু মনিকার জন্যে সত্যিই অনেক খারাপ লাগছে। আমার লক্ষি মেয়েটা। দু চোখ বেয়ে অজান্তেই জল ঝরতে লাগলো। শ্রাবণের অবাধ বৃষ্টি।
কটেজে ফিরে প্রথম কিচেনে গেলাম মারগারেটের কি হাল হয়েছে তা দেখতে। ফ্রিজটা তো বন্ধই মনে হচ্ছে। এবার ভালয় ভালয় মারগারেট ভেতরে থাকলেই হলো। ওভেন আর ডিশ ক্লিনার দুটো ফ্রিজের ডালার উপর থেকে সরিয়ে দিলাম। তারপরএকটা কিচেন নাইফ তুলে বাগিয়ে ধরলাম। এতক্ষণেও যদি মারগারেট মরে না গিয়ে থাকে তো এই চাকু দিয়ে ওকে গেঁথে দেব। তবুও বুকটা দুরুদুরু করছে। কি হবে যদি ফ্রিজটা খুলে দেখি মারগারেট ওখানে নেই? যদি ও তার যাদু বিদ্যা কাজে লাগিয়ে এখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে থাকে? কিংবা ফ্রিজ খুলতেই একটা মোক্ষম আক্রমণে আমায় শেষ করে দেয়? দুর! বদ্ধ ফ্রিজে কেউ সারাদিন ধরে বেঁচে থাকতে পারে না কি? হয়তো ও সত্যি সত্যিই জমে কাঠ হয়ে আছে। আমি মিছেমিছিই ভয় পাচ্ছি। যা হবার হবে ভেবে এক টানে ফ্রিজের ডালাটা খুলে ফেললাম।
নাহ। ও ঠিক ঠিকই মরে গেছে। জমে কাঠ না, একদম জমে পাথর। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাশটা কটেজ থেকে সরাতে হবে। আদিনের মৃত্যুর তদন্তকারী অফিসাররা যদি কোন কারণে ফেরৎ এসে মনিকার লাশটা দেখে ফেলে তো আমায় নির্ঘাত গারদে ঢুকাবে। ঠিক করলাম মনিকার লাশটা আজ রাতের আধারেই গুম করে দিবো। বিশাল কটেজের যেকোন এক কোনে সাড়ে তিন হাত নীচে পুতে দিলেই হলো। ওর ব্যাবহার্য কাপড় চোপড়, জিনিসপত্র আজ রাতেই পুড়িয়ে দেবো। কাল থেকে আমার জীবনে আরেকটি নতুন দিন শুরু হতে যাচ্ছে।
ওর লাশটা জমে অসম্ভব ভারী হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় আমি ওকে বাহিরে বয়ে নিয়ে যেতে পারবো না। তাই লাশটা গলার জন্যে ফ্রিজের বাহিরে রেখে দিলাম। কিচেনের কাজ আপাতত শেষ। এবার গেস্টরুমে যেয়ে মনিকার ব্যবহার্য জিনিসপত্র বের করে নিতে হবে।
কিচেন থেকে একটা বস্তা নিয়ে গেলাম গেস্টরুমে। ওতে একে একে মনিকার জিনিসপত্র ভরতে লাগলাম। প্রথমে শুরু করলাম বাথরুম থেকে। ওর শাম্পু, ফেইসওয়াশ, লোশন, ন্যাপকিন, স্যান্ডেল, ব্যাবহৃত অন্তর্বাস সবই একে একে বস্তায় ভরলাম।
তারপর বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে ওর ক্লজিটের কাপড় চোপড়, বিছানার কভার, জুতা, মুজা, চিরুনি, আয়না, হাতঘড়ি সবই ভেতরে পুরলাম। তখনই ওর আই ফোনটা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। ওটা বের করে মনিকার সাম্প্রতিক কার্যাবলী দেখতে লাগলাম। আজ সকালে গুগল প্লাসে লিখেছে, “সাঞ্জের সাথে অসাধারণ সময় কাটছে। ভাবছি আরো একটা সপ্তাহ বাল্টিসে কাটিয়ে দেবো।” ওই পোষ্টে ২০ লাইক ও ১১ কমেন্ট। তারপর ও গত শুক্রবার আমাদের বীচ ভ্রমণের ছবিও গুগলে আপলোড করেছে। আমাকে নিয়ে অন্য কয়েকটা সামাজিক যোগাযোগের মাধম্যে ওর আরো কয়েকটা পোষ্টও আছে। তারমানে ওর বন্ধুরা ইতিমধ্যেই জেনে গেছে যে সে আমার এখানে থাকছে! এখন যদি ও গুম হয়ে যায় তো এসব পোষ্টের বদৌলতে সন্দেহের সবগুলি আঙুল আমার দিকেই তাক হবে। তারপর পুলিশ এসে কটেজে কয়েকটা ডোবারম্যান ছেড়ে দিলেই হলো। যত গোপনেই, যতগভীরেই দাফন করি না কেনো, ওরা মনিকার লাশটা সহজেই খুড়ে বের করে ফেলবে। আমি ফেসে গেছি। ভয়াবহ ভাবে ফেঁসে গেছি। এর থেকে মুক্তির আর কোন পথ নেই। হতাশ হয়ে গেস্টরুমের বিছানায় ধপ করে বসে পড়লাম। যখন ভাবছিলাম সব শেষ তখনই লাইব্রেরী থেকে একটা করুণ কান্নার ধ্বনি শুনতে পেলাম! বিলাপের সুরটা আমার কাছে খুবই পরিচিত মনে হলো। আরে! এটা তো আলেসের কান্না! লাইব্রেরীতে ও কি করছে? ওকি তবে পরপারে ফিরে যায় নি? গেস্টরুম থেকে বেরিয়ে দৌড়ে গেলাম লাইব্রেরীতে।
(চলবে)

ডাকিণী ৪৭তম পর্ব

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
আমারই চোখের সামনে পরপর দুদিনে আমার দুজন বন্ধু প্রাণ হারালো মারগারেটের হাতে। এতোক্ষণ ছাড়ানো না গেলেও মনিকা মারা যাবার সাথে সাথে ডান হাতটা সুবোধ বালকের মতো ওর গলা ছেড়ে উঠে এলো। কিন্তু মনিকার নিষ্প্রাণ হাত দুটো তখনো আমার ডান হাতটাক্র আকড়ে ধরেছিলো। মৃত্যুর ঠিক আগ মুহুর্ত পর্যন্ত ও এই হাতটা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যে লড়ে গেছে। বিষ্ময়ের ঘোর কাটতেই আমি মনিকাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। “মনিকা, আমি সত্যি দুঃখিত মনিকা, আমি কখনোই তোকে মারতে চাইনি। তোকে যে আমি আমার মেয়ের মতো ভালবাসিরে।”
কিন্তু মনিকা আর ফিরলো না। ও ঠায় শুয়ে রইলো। ওর বিষ্ফোরিত চোখ দুটো অবাক বিষ্ময়ে আমারই দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ওকে জড়িয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম, “মনিকা রে রে রে রে,,,,,,”
আবেগআপ্লুত হয়ে আমি ডান হাতটা থেকে নজর সরিয়ে নিয়েছিলাম। আমি জানতাম মারগারেট আমার ক্রোধকেই কেবল ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এখন জানলাম ও আমার যেকোন উচ্চ আবেগকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সেটা রাগ হোক, বা দুঃখ। মনিকাকে হারানোর ব্যাথায় কাতর হয়ে আমি যখন ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলাম তখন আমার ডানহাতটা নিঃশব্দে হাত থেকে আংটিটা খুলে ওর হাতে পড়িয়ে দেয়।
আমি ওকে আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধিরেছিলাম। হঠাৎ ওর নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ শুনতে পেলাম! আশ্চর্য! ওকি তবে বেঁচে আছে? ডানহাতটা এনে পরীক্ষা করার জন্যে ওর নাকের কাছে ধরিলাম! আরে হা! ও তো নিঃশ্বাস নিচ্ছে! ওয়াও!
কিন্তু পরীক্ষা করার সময় আমার ডান হাতের দিকে নজর যেতেই মনটা আতঙ্কে ছেয়ে গেলো। হাতটা একদমই খালি। কোন আঙ্গুলেই আংটিটা পড়ানো নেই! কোথায় গেলো আংটিটা? হায় হায়! এটা মনিকার হাতে গেলো কি করে! বুঝলাম মারগারেট আমার দেহে নয়, এবার মনিকার দেহে ফিরে আসতে চাইছে। ওকে আমার থামাতেই হবে। দ্রুত ওর হাত থেকে আংটিটা খুলতে গেলাম, কিন্তু ততক্ষণে ওর আংটিপরা হাতটা মুঠো হয়ে গেছে। কিছুতেই আংটি খুলতে দেবে না। ওদিকে ওর শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হচ্ছে। যেকোন সময় ও চোখ মেলে জেগে উঠবে। অগত্যা ওর মুঠো করা হাতের আংটিপরা আঙ্গুলটাকে মোচড়ে ছিড়ে ফেলার চেষ্টা করলাম। মটমট করে হাঁড় ভাঙ্গার শব্দ হলো। কিন্তু ওর আঙ্গুলটা কিছুতেই বিচ্ছিন্ন করতে পারলাম না। ওটা বেকায়দায় ভেঙ্গে গিয়ে উল্টোদিকে ঝুলে আছে। ওদিকে ওর চোখ পিটপিট করা শুরি করে দিয়েছে! যেকোন সময় চোখ খুলে জেগে উঠবে! সাঞ্জে বেঁচে থাকতে তোকে কিছুতেই চোখ খুলতে দেবে না শয়তান।
ওর ঝুলে থাকা আঙুলটাকে আমি কামড়েই ছিড়ে ফেললাম। ফিংকি দিয়ে ওর হাত থেকে রক্ত বেরিয়ে আসতে লাগলো। ভেবেছিলাম দেহ থেকে আংটিটা বিচ্ছিন্ন করে দিলেই ও আবার নিথর হয়ে যাবে। কিন্তু আমার ধারণা ভুল ছিলো। আসলে আংটিটা প্রয়োজন মৃতদেহে আত্মাকে প্রবেশ করাতে। মনিকার দেহে মারগারেটের আত্মা ইতিমধ্যেই প্রবেশ করে ফেলেছে। তাইতো ওর শ্বাস প্রশ্বাস চালু হয়েছে। এখন কালক্ষেপণের মাধ্যমে ওর আত্মাটা নতুন দেহের নিয়ন্ত্রণ নিতে শিখছে। তাই শুধু আংটিটা বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে ওকে আর থামিয়ে দেওয়া যাবে না। ওকে থামাতে হলে আবারো খুন করতে হবে। ওর গলাটা আবার টিপে ধরতে গেলাম। হাতটা ওর গলা স্পর্ষ করা মাত্র ও চোখ খুলে তাকালো। আমি খুবই দ্বিধান্বিত ছিলাম, মনিকা কি সত্যিই মরে গিয়ে মারগারেটকে দেহে জায়গা করে দিয়েছে? নাকি এটা সত্যি সত্যিই মনিকা, কোন ভাবে আমার ভয়ঙ্কর ডান হাতটার কবল থেকে বেঁচে গেছে। কিন্তু পরক্ষণেই দ্বিধাটা কেটে গেলো। মনিকা না মরলে কি আমার হাতটা ওর গলা ছেড়ে দিতো? মোটেও না। তারমানে ওটা মারগারেটই।
সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে আবার মনিকার দেহে ঢুকা মারগারেটের গলা চিপে ধরতে গেলাম। কিন্তু তখনই মারগারেট ত্রাহি চিৎকার ছেড়ে উঠে বসলো। আমি সভয়ে পিছিয়ে গেলাম। হলিউডে অনেক মুভিতে দেখেছি মৃত মানুষ জেগে উঠলে জম্বি হয়ে যায়। তখন জ্যান্ত মানুষকে খেতে শুরু করে দেয়। মারগারেটও কি তাই করবে? আমি ঠিক বুঝতে পারছি না আমার কি করা উচিৎ।
ও আমাকে ভড়কে দিয়েছিলো ক্ষাণিকের জন্যে। আমি যখন আতঙ্কিত হয়ে পিছিয়ে গিয়েছিলাম ও সেই সুযোগে ড্রয়িংরুম থেকে ছুটে বেরিয়ে যায়। আমিও দ্রুত আতঙ্ক কাটিয়ে ওর পিছু ধাওয়া করি।
আমি: “তোকে আজ কিছুতেই ছাড়বো না মারগারেট। মেরেই ফেলবো।”
ও এক ছোটে কিচেনে ঢুকে পড়লো। কিচেনের পেছনে একটা জানালা আছে। ও সহজেই ওটা গলে বেরিয়ে যেতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব ছুটে যেয়ে কিচেনে ঢুকে পড়লাম। প্রথমেই চোখ গেলো জানালাটার দিকে। ওটা ভেতর থেকেই বন্ধ আছে। তারমানে ও এখনো কিচেনেই আছে! কিন্তু কোথায়! হয়তো কিচেনের কোন তাকের আড়ালে লুকিয়ে আছে। অসাবধানতা বশত ওর কাছে চলে গেলেই কিচেন নাইফটা বুকে সেঁধিয়ে দিবে। কিন্তু আমিও এর শেষ না দেখে ছাড়ছি না। হয় ওকে মেরে আমার বন্ধুদের মৃত্যুর বদলা নিবো, নইলে অন্যদের মতো ওর হাতে নিজের প্রাণটা বিসর্জন দিয়ে পরপারে পাড়ি জমাবো।
কিচেনের একটা একটা করে প্রতিটা রেকের পেছনটা আমি ভালো করে চেক করলাম। কিন্তু মারগারেটকে কোথাও পেলাম না। আশ্চর্য! হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো নাকি ডাইনীটা? ঠিক তখনি একটা মৃদু গোঙ্গানি আওয়াজ ভেসে এলো। বুঝলাম আঙুল হারানোর ব্যাথ্যা ওকে কষ্ট দিতে শুরু করেছে। ভালো করে কান পাতলাম। আরে! ওটাতো রান্নাঘরের কোনে রাখা ডিপ ফ্রিজটা থেকে আসছে। বুঝলাম ঘুঘু এবার নিজেই এসে ফাঁদে ধরা পড়েছে। গুটিগুটি পায়ে নিঃশব্দে ফ্রিজের কাছে চলে গেলাম। হা। এই তো গোঙ্গানিটা আবারো শোনা যাচ্ছে। মুখে একটা আকর্ণ বিস্তৃত হাসি ফুটলো। মনেমনে বললাম এবার তোমার পরপারে যাওয়ার পালা মারগারেট। তারপর ফ্রিজের লকটা বাহিরে থেকে শক্ত করে লাগিয়ে দিলাম।
(চলবে)

ডাকিণী ৪৬তম পর্ব

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
***** আপনাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, আপনার বয়স ১৮+ না হলে এই পর্বটি পড়বেন না। *****
মনিকাকে ফোন দিতে যেয়ে দেখি ও ফোন ধরছে না। অনেক চিন্তা হলো মেয়েটার জন্যে।! কিন্তু আমারও তো মানুষের শরীর। ক্লান্তি যে আমার উপরও ভর করে। বিশেষ করে এমন একটা বিদঘুটে দিনের পর। তাই মনিকাকে খোজা বাদ দিয়ে আমি কাউচের উপর দেহটা এলিয়ে দিলাম। মারগারেটের আবির্ভাবের পর কতদিন আমি ওই ঝাড়বাতিটার নিচ দিয়ে হেটে গেছি। বুঝলাম কেবল এই আংটিটার জন্যেই ঝাড়বাতিটা আমার মাথায় পড়ে নি। আভ্যন্তরিণ ক্ষত না থাকার শর্তটা বারবার আমার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে। স্থির করলাম নিশ্চিত মৃত্যুর ঠিক আগ মুহুর্ত ব্যাতিত কখনই আমি আংটিটা খুলবো না। কিন্তু আজকের এই ঘটনাটা আদিনের পরিবারের উপর কি দুর্বিষহ প্রভাব ফেলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তা খেয়াল নেই। কিন্তু দুঃস্বপ্ন আর আমার পিছু ছাড়লো না। স্বপ্নে দেখলাম আমি কাউচের উপর ঠায় ঘুমিয়ে আছি। পেছন থেকে মনিকা পা টিপেটিপে এসে আমার ছুরিটা ঠিক হৃদপিণ্ড বরাবর আমূলে বসিয়ে দিয়েছে। মাঝরাতে চিৎকার করে জেগে উঠলাম। কি অদ্ভুত। ঘুম থেকে জেগে মনিকার জন্যে খুবই দুশ্চিন্তা হলো। ওদিকে ফের ঘুমিয়ে পড়তেও ভয় করছে। আবার না জানি কোন দুঃস্বপ্ন দেখি।তারপরেই হঠাৎ মনে পড়লো বেসমেন্টের কথা। গতরাতে বেসমেন্টে ঘুমিয়েছিলাম। একটা দুঃস্বপ্নও দেখিনি। আজ আবারো ওখানে যেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেই হলো। আর কোন দুঃস্বপ্ন দেখতে হবে না। কাউচ থেকে একটা কোশন নিয়ে চলে গেলাম বেসমেন্টে। ঘুটঘুটে অন্ধকার ভয়াবহ বেসমেন্টটাই এখন আমার কাছে স্বর্গতুল্য মনে হচ্ছে। আলেসের স্মৃতি স্বরণে ওর সেলে ঢুকে, কুশনে মাথা রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। আমার ভাবনাটা সঠিকই ছিলো। বাকিটা রাত কোন দুঃস্বপ্ন ছাড়াই এক ঘুমে কাটিয়ে দিলাম। বেসমেন্টে চুইয়ে ঢুকা সকেলের স্নিগ্ধ আভায় ঘুম ভাঙলো। ঘুম ভাঙতেই আবারো সেই পুরাতন চিন্তাটা পেয়ে বসলো। মনিকা ঠিক আছে তো। দুড়ধাড় করে সিড়ি ভেঙে উপরে উঠে এলাম। কটেজে ফিরতেই দেখি মনিকা ড্রয়িংরুমে বসে গুনগুনিয়ে গান গাইছে। যাক বাবা, ও ঠিকই আছে তাহলে। আমি এগিয়ে যেয়ে ওকে সুপ্রভাত জানালাম। “গুডমর্নিং হানি। কখন আসলে? কাল সারাটা দিন কোথায় ছিলে? ফোনও ধরনি। আমি তো এদিকে দুশ্চিন্তায় মরি। ”
মনিকা: “ওহ সাঞ্জে ডার্লিং। গির্জা থেকে ফেরার পথে একটা হ্যান্ডসাম ছেলের সাথে দেখা হয়ে গেলো। ওর সাথে সারাদিন ঘুরার পর আমরা একসাথে ডিনার করি। তারপর রাতটা ওর ওখানেই কাটিয়ে দিয়েছি। হিহিহিহিহি! আজ সকালে ও আমায় কটেজের ফটকে গাড়িতে করে নামিয়ে দিয়ে গেছে। ”
আমি ওর নাক টিপে দিয়ে বললাম, “যাহ। ভালোই ডেটিং শিখেছো দেখছি। কিন্তু আমার ফোনটা ধরলে কি এমন দোষ হতো? সারাটি রাত আমায় কতটা টেনশন করিয়েছো তুমি জানো?”
মনিকা: “ওহ ডার্লিং, তুমি যখন অমন শক্তিশালী বলিষ্ঠ কোন ছেলের সাথে ঘুমুতে যাও তখন ফোন রিসিভ করার মতো সামান্য একটা কাজও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠে। কিন্তু একি! তোমার গলায় ব্যান্ডেজ কেনো? কি হয়ে হয়েছে ওখানে”
আমি: “ও কিছু না। সামান্য কেটে গিয়েছে আর কি।”
ভদকার গন্ধে ওর মুখ মৌ মৌ করছিলো। মদ ছাড়ার পর থেকে আমি আর এর গন্ধ সইতে পারি না। বেশীক্ষণ ওই গন্ধ শুকলে হয়তো পাগল হয়ে ঐ বাজে জিনিসটা আবার খেয়ে ফেলতে পারি। তাই আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, “আচ্ছা ডার্লিং, বুঝলাম। এখন লক্ষী মেয়ের মতো এখানে বসে অপেক্ষা করো। আমি ব্রেকফাস্ট বানিয়ে আনছি।” আমি ঘুরতেই ও আমার হাত ধরে টেনে কাউচে ওর পাশে বসিয়ে দিলো।
মনিকা: “না না ডার্লিং। ওসব ব্রেকফাস্টে আমার অরুচি ধরে গেছে। আজ তোমায় দিয়েই ব্রেকফাস্ট করবো। ”
আমি: “যাহ দুষ্টু। কি যে বলে না,,,,”
মনিকা ওর লাল টুকটুকে স্কার্টটা টেনে কোমড় অবধি উঠিয়ে দিলো। প্রথমেই চোখ গেলো ওর গুপ্ত ত্রিভুজে। আরে! ও স্কার্টের নিচে কোন প্যান্টি পড়েনি। সবটাই বেরিয়ে রয়েছে। এই মেয়েটার বুঝি লজ্জা শরম বলে কিছু নেই। তারপর চোখ পড়লো ওর মসৃণ উরুতে। সেখানে স্কচ টেপ দিয়ে দুই উরুতে দুটো বিয়ার কেন আটকানো। ও একটা ক্যান খুলে আমায় দিলো আরেকটি নিজে খেতে শুরু করলো। কিন্তু স্কার্ট আর টেনে নামালো না।
আমি: “দেখ ডার্লিং আমি তো মাস খানেক হলো আলকোহল ছেড়ে দিয়েছি। তাই এখন আর এটা খেতে পারছি না। আমি সত্যিই দুঃখিত। ”
মনিকা: ” গতরাতের অসাধারণ অভিজ্ঞতার জন্যে কৃতজ্ঞতা সরূপ ছেলেটা বিয়ার ক্যান দুটো আমায় উপহার দিয়েছে। তুমি যদি একটা না খাও তো খুব কষ্ট পাবো। আজকে অন্তত খেয়ে নাও তারপর থেকে ছেড়ে দিও। প্লীজ।”
আমি: “আচ্ছা বাবা, এই যে খাচ্ছি। ”
ছোট্ট এক ঢুক গিলে নিলাম। বহুদিন পর আলকোহল খেতে পেয়ে দেহটা যেন আরো খাবার জন্যে মোচড় দিয়ে উঠলো। এক নিঃশ্বাসে ক্যানটা সাবাড় করে দিলাম। কিন্তু ক্যান শেষ করতেই একটা অপরাধবোধ আমার মাথায় ঝেকে বসলো। আমি আম্মুর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আর কখনো মদ ছোয়েও দেখবো না। কিন্তু আজ সেটা ভেঙ্গে ফেলেছি।আর এই মেয়েটাই বা কি! ঠিক বিশ্বাস হতে চায় না এতো লক্ষী একটা মেয়ে শুধু এক জোড়া বিয়ার ক্যানের জন্যে নিজেকে বিলিয়ে দিলো। ও যা বেতন পায় তাতে প্রতিদিন অমন এক ডজন বিয়ার ক্যান ও নিমিষেই কিনতে পারে। একজন অচেনা পুরুষের কাছে ওর এতটা সহজলভ্য হওয়ার কি দরকার ছিলো তা আমার মাথায় ঢুকলো না। কেন জানি মনে হলো মনিকা নিছক একজোড়া বিয়ার ক্যানের জন্যে দেহ বিলায় নি। ও এই ভয়াবহ কটেজ থেকে একরাতের জন্যে নিষ্কৃতি চাইছিলো মাত্র।
মনিকা: “কি ভাবছো সাঞ্জে? এইটুকু খেয়েই মাথা ধরে আসছে বুঝি? হিহিহিহিহি। ”
মনিকার এহেন প্রশ্নে আমি আবারো বাস্তবে ফিরে এলাম। আবার চোখ পড়লো ওর অনাবৃত ত্রিভুজটার দিকে।
আমি: “কি যে বলো না মনিকা, সাঞ্জে অমন আরো একশোটা ক্যান খেয়েও ঠিকই সারাদিন অফিস করতে পারবে। হিহিহিহিহি।
মনিকা: “এই না হলে আমাদের সিইও ম্যাডাম। দ্য সুপার সেক্সি আনসিংকেবল সাঞ্জে। হিহিহিহিহি। ”
আমি: “হিহিহিহিহি। আচ্ছা মনিকা, তুমি আজ পেন্টি পড়লে না কেনো? ”
মনিকা: “পেন্টি পড়ে কি লাভ ডার্লিং? মেয়েদের যৌনিকে সবসময়ই পুরুষের জন্যে তৈরী রাখাই ভালো।”
আমি: “যাহ দুষ্টু। ”
তারপর মনিকা হঠাৎ ওর ক্যানটা আমার দিকে বাড়িয়ে ধরে বললো, “আমার ক্যান থেকে আরো কয়েক ঢুক গিলে নাও ডার্লিং। তোমায় খুব তৃষ্মার্ত দেখাচ্ছে।”
কিন্তুু ততক্ষণে মায়ের সাথে করা ওয়াদা ভঙ্গের অনুশোচনা আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলো। আমি দৃঢ় কন্ঠে তা প্রত্যাহার করলাম, “নাহ মনিকা, আমি আর খাবই না।”
মনিকা ক্যানের বাকিটা বিয়ার ওর অনাবৃত যৌনিতে ঢেলে দিয়ে বলল, ” এই নে রে যৌনি। তুই ই খা বাকিটা। আজ তোর জন্যেই কপালে ফ্রি বিয়ার জুটলো। ”
ওর হাস্যকর বাচনভঙ্গি দেখে আমি হুহুহুহুহু করে হেসে উঠলাম।
কিন্তু ও সেটাকে যৌনতার প্রতি গ্রীন সিগনাল ভেবে ভয়ানক ভুল করলো।
ও বলল, “সাঞ্জে ডার্লিং। আমার ওখানটা একটু চুষে দাও না প্লীজ। ”
আমি: “যাহ। কি বলছো এসব। মাথা খারাপ হলো না কি? ”
ও খপ করে আমার চুল মুঠো করে ধরে মাথাটা ওর তলপেটের কাছে টেনে নিয়ে গেলো। তারপর খেকিয়ে উঠে বলল, “চুষবি না কেন বীচ? চেয়ে দেখ কি সুন্দর যৌনি। তোর যৌনিটা আরো হাজারবার দুধ দিয়ে ধুলেও আমারটার মতো এতো সুন্দর হবে না। ”
আমার চুলের উপর প্রচন্ড টান পড়ছে। চরম অনিচ্ছা সত্বেও আমার মুখ ওর যৌনিদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমার মুখটা ওর যৌনির এতটা কাছে চলে গেছে যে ওর বিদঘুটে গন্ধটা স্পষ্ট টের পাচ্ছি। ওর পিউবিক হেয়ার গুলি সেই অচেনা পুরুষের বীর্যে মাখামাখি হয়ে লেপ্টে আছে। আমার পেট উল্টে বমি আসতে চাইলো। অনেক কষ্টে সেটা থামালাম। তারপর আমি চিৎকার করে প্রতিবাদ জানালাম, “দেখো মনিকা, আমি এঙ্গেইজড। আমি আমার বাগদত্তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে চাই। প্লীজ আমার সাথে এমনটা করো না। প্লীজ। ”
ও পাল্টা খেকিয়ে উঠলো, “এঙ্গেইজড তাই না? পুরুষের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে চাও। কিন্তু কেন? কোন পুরুষই বিশ্বস্ত নয়। ওরা সুযোগ পেলেই অন্য মেয়েকে চেখে নেয়। একটা মামুলি পুরুষের জন্যে তুমি আমায় হতাশ করতে পারো না সাঞ্জে। তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম সেদিন থেকেই আমি তোমায় মনে প্রাণে চেয়ে আসছি। আজ আমি সে চাওয়া পুরণ করবই।”
আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে ওর যৌনি থেকে মাথা সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ও কোমড় উঁচু করে ওর যৌনিটা আমার মুখে ঘসে দিলো। সাথে সাথে একগাদা দুর্গন্ধময় আঠালো তরল আমার সারা মুখে লেপ্টে গেলো। ওয়াক ওয়াক। ছিঃ, ,,,,
আমার মাথার ভেতর রাগটা চাড়া দিয়ে উঠলো। কিন্তু এবার আমি সতর্ক। আর মারগারেটকে আমার ক্রোধের সুযোগ নিতে দেবো না। মনিকাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে আমায় এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ওর উপর রাগ করে নয়। আমি এবার ওকে কাতর কন্ঠে বললাম, “মনিকা প্লীজ। আমার বাগদত্তা মোটেও বিশ্বাসঘাতক নয়। প্লীজ। আমাকে ওর সামনে নীচু করে দিও না। ”
কিন্তু তখনই মনিকার চোখ গেলো আমার ডান হাতে পড়ে থাকা মারগারেটের আংটির দিকে! “ওহ, এটা তোমার সেই বাগদত্তার দেওয়া আংটিটাই? খুল বলছি। ওটা এখন খুলে ফেলো। খুলে ফেলো বলছি। অন্যের এঙ্গেইজমেন্টের আংটি পড়ে আমার সাথে সেক্স করা যাবে না।”
ও সেই আংটিটা টেনে খুলতে লাগলো। আমি হাতটা প্রাণপণে মুঠো করে ধরলাম যেনো ও কিছুতেই আংটিটা খুলতে না পারে। অতপর আমি মরিয়া হয়ে বললাম, “মনিকা, প্লীজ, বিশ্বাস করো আমি সমকামী নই। সমকামী ভালবাসার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আমার ব্যাক্তিগত জীবনের জন্যে ওটাকে যথার্থ মনে করি না।”
মনিকা: “সমকামী নও তো কি হলো? আজ থেকে সমকামী হয়ে যাবে। নাও। এবার চোষা শুরু করো।”
আমি: “আমি এটা চুষতে পারবো না। আমার বমি হয়ে যাবে। প্লীজ আমাকে ক্ষমা করো। ”
মনিকা: ” বারে! সেদিন বীচে তুই ঘুমিয়ে পড়লে আমি তোর যৌনিটা চুষে দিয়েছিলাম। তবে আজ কেন তুই আমারটা চুষতে পারবি না? ”
সেদিন বীচ থেকে ফেরার সময় বিকিনি ঢিলা হয়ে যাওয়ার রহস্যটা এখন বুঝতে পারছি। মনিকা আমার ঘুমন্ত দেহের সাথেও যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিলো! ঠিক যেমন শয়তান প্রিস্টটা আলেসের মৃতদেহের সাথে সঙ্গম করেছিলো। এই ভাবনাটা আমার মাথায় আগুন ধরিয়ে দিলো। সুযোগসন্ধানী মারগারেটের পরোয়া না করেই আমি আবার ক্রোদ্ধ হয়ে উঠলাম।
রাগে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে আমি খাটি বাংলায় হুঙ্কার দিয়ে উঠলাম, “কি বললি রে মাগি, তুই আমার ঘুমন্ত দেহের সাথে সেক্স করেছিস। তোকে আজ আমি মেরেই ফেলবো।”
ধা করে একটা ঘুষি বসিয়ে দিলাম মনিকার চোয়ালে। প্রথমত ও আমার মুখে ভিনদেশী চিৎকার শুনে হৎচকিয়ে গিয়েছিলো। তার উপর সাঞ্জের দুনিয়া কাঁপানো ঘুষি। ও কাউচের উপর একদম চিৎ হয়ে পড়লো। রাগের মাথায় আমি লাফিয়ে ওর বুকের উপর উঠে বসলাম। আমার অজান্তেই আংটিপরা হাতটা মনিকার গলা চেপে ধরেছে। মনিকা বাধা দেওয়ার সুযোগই পেলো না। ওর গলা দিয়ে গড়গড় শব্দ বেরুতে শুরু করলো। অনুভব করলাম আমার নিচে পড়ে থাকা ওর দেহে কাঁপুনি শুরু হয়ে গেছে। আমি ডান হাতটা কিছুতেই ওর গলা থেকে সরাতে পারছি না। বা হাত দিয়ে ডান হাতটাকে ছাড়িয়ে আনতে চাইলাম। কিন্তু ওটা প্রচন্ড জোরে মনিকার গলা আকড়ে আছে। আমি কিছুই করতে পারলাম না। মনিকাও তার হাত দুটো দিয়ে আমার ডান হাতটা ছাড়ানোর সর্বউচ্চ চেষ্টা চালালো। কিন্তু আমাদের তিন তিনটে হাতকে উপেক্ষা করে ডান হাতটা তার কাজ চালিয়ে গেলো। আমি আর মনিকার দিকে তাকাতে পারছিলাম না। মৃত্যুযন্ত্রণায় ওর চোখ দুটো যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। মনিকা অনিচ্ছাকৃতভাবে ছড়ছড় শব্দে প্রস্রাব করে দিলো। অবশেষে একসময় ওর দেহটা কাঁপুনি থামিয়ে একদম স্থির হয়ে গেলো। বুঝলাম ও আর এই পৃথিবীতে নেই।
(চলবে)

ডাকিণী ৪৫তম পর্ব

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
আমি মারগারেটের প্রবেশ ঠেকাতে নিজেকেই শেষ করে দিতে বসেছিলাম। কিন্তু কাঁচটা গলার চামড়া কেটে যখনই শ্বাসনালীর উপর চাপ দিতে শুরু করেছিলো তখনই আংটিপরা ডান হাতটা সক্রিয় হয়ে উঠে। ওটা হঠাৎ করেই আমার কাঁচ ধরা বাম হাতে প্রচন্ড জোরে একটা থাবা বসিয়ে দিলো। আমি কখনোই এর জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না। হাত থেকে কাঁচের টুকরাটা ফসকে গিয়ে দুরে ছিটকে পড়লো। সেই সাথে উৎকট হাসিটাও পাল্লা দিয়ে চলল। আমার শরীরে ইতিমধ্যেই কাঁপুনি ধরে গেছে। কাঁপুনির সাথে সাথে মুখে ফেনা জমেছে। আর কোন পথ নেই। অবশেষে আমি মারগারেটের কাছে হেরে গিয়েছি। আমার ক্রোধই আমায় হারিয়ে দিয়েছে। আর কিছুই করার নেই দেখে চোখ বন্ধ করে নিঃশব্দে ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করলাম। চিরনিদ্রার অপেক্ষায়। কিন্তু তখনি বিষ্ময়কর ভাবে আমার মস্তিষ্ক ঘুরে দাঁড়ালো। দুমাস আগের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। আমার রজঃস্রাব নিয়মিত ঘটানোর জন্যে আমি একবার কেমিস্টের দোকান থেকে এনাফাইলো-টক্সিন কিনেছিলাম। দোকানি জোর করে এক ডোজ আন্টি-হিস্টামিন ও সাথে দিয়েছিলো। পোল্যান্ডের আইন অনুযায়ী কেউ যদি কেমিস্টের দোকান থেকে কোন টক্সিন কেনে থাকে তবে তাকে অবশ্যই সেই টক্সিনের একটা নির্দিষ্ট পরিমান আন্টিডট কিনতেই হবে। অনাকাঙ্খিত বীষক্রিয়া প্রতিরোধেই এই আইন করা হয়। আদিন যদি বৈধ কোন কেমিস্টের দোকান থেকে সায়ানাইড ট্যাবলেটটা কিনে থাকে তবে ওর সাথে অবশ্যই এক ডোজ আন্টিডট ও কিনেছে। আন্টিডটটাও খুব সম্ভব ওর পকেটেই আছে। দ্রুত ওর পকেট হাতড়াতে লাগলাম। প্রথম পকেটে শুধুই মানিব্যাগ। পরের পকেটে আরেকটি সায়ানাইড ট্যাবলেট। তৃতীয় পকেটেই সেই কাঙ্খিত আন্টিডট, সোডিয়াম থায়োসালফেট আমাইনো নাইট্রেটের একটা ভায়াল ও দুটো সিরিঞ্জ। ভায়াল থেকে আন্টিডট সিরিঞ্জটায় ভরতে লাগলাম। অক্সিজেনের অভাবে মাংসপেশিতে ইতিমধ্যেই ল্যাকটিক আস্যিড জমে শক্ত হতে শুরু করেছে। সেই সাথে বুকের বা পাশে একটা চিনচিনে ব্যাথা ঈঙ্গিত দিচ্ছে যেকোন সময় আমার মায়োকার্ডিয়াল ফেইলোর হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একটা ইঞ্জেকশন লোড করা যে কি দুর্ধর্ষ কাজ তা কেবল আমিই জানি। ইঞ্জেকশনটা লোড শেষে নিজের গলা হাতড়ে জুগুলার শিরার অবস্থানটা নিশ্চিত করে নিয়ে , সুইটা গেঁথে দিলাম। ইঞ্জেকশনটা পুশ করার পরেও আমার অবস্থার বিশেষ কোন পরিবর্তন হলো না। বুঝতে পারছি ইঞ্জেকশনটা কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় নিবে। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত আমার কোষ কলায় বেঁচে থাকার মতো অক্সিজেন থাকবে তো?
অনেক দেরী হয়ে গেছে। হয়তো ওটা আর পুষিয়ে নেওয়া যাবে না। আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। চোখ দুটো মুদে আমি আবারো ঘুমিয়ে পড়লাম। আমি নিশ্চিত ভাবে জানতাম না এ ঘুমটা আর ভাঙবে কি না।
প্রায় দু ঘন্টা পর আমার ঘুম ভাঙলো। প্রথমে কিছুই মনে করতে পারছিলাম না। কিন্তু আদিনের লাশের দিকে চোখ যেতেই সব মনে পড়তে শুরু করলো। হৃদয়টা হাহাকার করে উঠলো। আমিই আদিনকে এই মৃত্যুর মুখে ডেকে এনেছি। আমিই ওর মৃত্যুর জন্যে দায়ী। ছেলেটার সংসার জীবন শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেলো। ব্যার্থ মনোরথে আমি পুলিশের কাছে ফোন দিলাম। আদিনের লাশটার একটা ব্যাবস্থা করতে হবে যে।
দশ মিনিটের মধ্যেই দুটো পুলিশ কার ও একটা আম্বুল্যান্স আমার কটেজে এসে হাজির হলো। প্যারামেডিকরা আমার গলাটা ব্যান্ডেজ করে দিলো আর আদিনের লাশটা তুলে আম্বুল্যান্সে করে নিয়ে গেলো। আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। হুহু করে কেঁদে উঠলাম। ছেলেটা একটু পাগলাটে হলেও মানুষ হিসেবে সত্যিই অনেক ভালো ছিলো। একজন মহিলা পুলিশ অফিসার এসে আমায় জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিলো। কিন্তু আমার হৃদয়টা কিছুতেই বাধ মানলো না। আমার স্তম্ভিত ফিরে পেতে অনেকটা সময় লেগে গেলো। কিছুটা শান্ত হয়ে গেলে আমি ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে পড়লাম। কয়েকজন পুলিশ অফিসার তখনো আমার বেডরুমে দুর্ঘটনার সুত্র অনুসন্ধান করছে। কিছুক্ষণ পর একজন অফিসার এসে আমায় রূঢ় কণ্ঠে বলল, “মিস সাঞ্জে। দুর্ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আপনাকে এখন আমাদের সাথে হবে। আপনি দ্রুত তৈরি হয়ে নিন।”
আমার অবস্থা তখন অবর্ণনীয়! এই ক্লান্ত শরীর নিয়ে আমি কোথাও যেতে চাই না। তাছাড়া গত সপ্তাহে স্টারদের সাথে আমার একটু ও ভালো সময় কাটেনি। এবার পুলিশের সাথে যে কি হবে তা এক ঈশ্বরই ভালো জানেন। আমি এসব ভেবে আমি প্রতিবাদ করে উঠলাম। “দেখুন মিঃ অফিসার। আমি এখন কোথাও যেতে পারবো না। আমি ক্লান্ত ও আহত। আপনাদের উচিৎ মানবিক দিক বিবেচনায় আমাকে এখানে ছেড়ে যাওয়া।”
অফিসার: “দেখুন মিস সাঞ্জে। দুর্ঘটনাটা আপনার কটেজেই ঘটেছে। আপনি ঝাড়বাতি টাঙাতে দুর্বল তার ব্যবহার করেছেন বলেই আজ এই দুর্ঘটনাটা ঘটেছে। আপনি কিছুতেই এর দায় এড়াতে পারেন না।
আমি: “মিঃ অফিসার। কটেজটা আমি পোলিশ সরকারের কাছ থেকে কিনেছি। ঝাড়বাতিটা আমি এই কটেজে আসার আগে থেকেই লাগানো ছিলো। সরকারি রক্ষণাবেক্ষণকারীরাই ওটা লাগিয়েছিলো। এর জন্যে আপনারা কিছুতেই আমাকে দোষারোপ করতে পারেন না।”
অফিসার: “তবুও দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে আপনাকে একবার আমাদের ওখানে যেতেই হবে। আপনিই এর একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী। ”
হঠাৎ মনে পড়লো, সমগ্র ঘটনাই তো আমি ভিডিও করেছিলাম। ওই ভিডিওটা দিয়ে এই নাছোড়বান্দা পুলিশদের হয়তো হঠানো যেতে পারে। আমি দৃঢ় কন্ঠে বললাম, “দেখুন মিঃ অফিসার। আমি কিছিতেই আদিনের মৃত্যুর সাথে জড়িত নই। আর এই দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ দিতেও আমার ঘোর আপত্তি। সাক্ষ দেওয়ার জন্যে আমি দুর্ঘটনাটা ফের মনে করতে চাই না। আমি ওটা যত দ্রুত সম্ভব ভুলে যেতে চাই।”
এবার অফিসার গলা চড়ালো, “আপনি কিছুতেই এটা করতে পারেন না মিস সাঞ্জে। আপনাকে অবশ্যই পুলিশকে সাহায্য করতে হবে। যত কষ্টই হোক। আপনি যতই ব্যাপারটা ভুলে যেতে চান না কেন সাক্ষ্য আপনাকে দিতেই হবে।”
আমি: “সাক্ষ্য দেওয়ার বদলে আমি যদি আপনাদের দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ ভিডিও ফোটেজ দিয়ে দেই তবে কি কাজ চলবে? ”
অফিসারের চেহারাটা লকলকিয়ে উঠলো, “কোথায় ওটা, আমাদের দেখান তো মিস সাঞ্জে।”
আরো ঘন্টা খানেক পরে অফিসারগণ তদন্ত কার্য সমাপ্ত করে ভিডিওটার একটা কপি নিয়ে চলে গেলো। সারাটা দিন এসব ঝামেলায় জড়িয়ে থাকায় আর লাঞ্চ করতে পারিনি। তাই আজ বিকাল ৭টার মধ্যেই তাড়াতাড়ি ডিনার সারলাম। অফিসাররা আমার বেডরুম সীলগালা করে দিয়ে গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওখানে ঢুকা নিষেধ। তাই খাওয়া শেষে আমি ড্রয়িংরুমে কাউচের উপর শুয়ে পড়লাম। কিন্তু মনিকার জন্যে মনটা খচখচ করতে লাগলো। মেয়েটা সেই যে সকালে বেরিয়েছে, এখনো ফিরে নি। কোন ঝামেলায় পড়লো না তো? ফোনটা হাতে নিয়ে ওকে কল দিলাম,,,,,,
(চলবে)

ডাকিণী ৪৪তম পর্ব

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
হঠাৎ ঝনঝনিয়ে ভারী ঝাড়বাতিটা আদিনের মাথায় ভেঙে পড়লো। আমি এর জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। কিন্তু পরক্ষণেই স্তম্ভিত ফিরে পেয়ে ওর কাছে দৌড়ে গেলাম। “আদিন! আদিন তুমি ঠিক আছো? ” কিন্তু বলা বাহুল্য ও ঠিক ছিলো না। ঝাড়বাতির কাঁচটা ভেঙে ওর পুরো মাথায় গিথেঁ আছে, একটা চোখ বেরিয়ে এসেছে, পুর মুখ রক্তে লাল হয়ে গেছে। কি ভয়ানক দৃশ্য। রাগটা আমার মধ্যে আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করলো! রাগে চিৎকার করে উঠলাম, “মারগারেট, তোকে আমি নরকে পাঠাবো বীচ।” পরক্ষণেই আবার সেই খিলখিল হাসি। মাথায় যেন আগুন ধরে গেছে। আমার রাগটা বাড়াতেই যেন হাসিটা আরো উচ্চতর হলো। রাগের যাই মুখে আসলো তাই বলে আমি মারগারেটকে গালি দিতে লাগলাম। ডান হাতটা সেই সুযোগে নিজের মতো করে কাজ করা শুরু করে দিয়েছে।ওটা আদিনের হাত থেকে পড়ে যাওয়া সায়ানাইড ট্যাবলেটটা কুড়িয়ে নিলো। তারপর আমি আবার চিৎকার করার জন্যে মুখ খুলতেই হাতটা এক ঝটকায় ট্যাবলেটটা মুখে পুরে দিলো। বিষ্ময়ের প্রথম ধাক্কা সামলাতে প্রায় সব মানুষই ঢোক গিলে নিজেকে প্রস্তুত করে নেয়। আমিও তাই করলাম। কিন্তু আত্মঘাতী ভুল হয়ে গেলো। ঢোক গিলতে যেয়ে ট্যাবলেটটাকেও পেটে চালান করে দিলাম। ঘটনার আকর্ষিকতায় আমি সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে গেলাম। আবারো মারগারেট আমার ক্রোধকে ব্যবহার করলো। আমি দ্রুত রাগকে নিয়ন্ত্রণে আনলাম। কিন্তু ততক্ষণে সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমি সায়ানাইড ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিশ্চিত মৃত্যু। তারপরেই মারগারেট দেহটা দখল করে নিবে। প্রচন্ড কান্না আসছিলো আমার। না পারলাম আদিনকে বাঁচাতে না পারলাম নিজেকে। হতাশায় মুষড়ে পড়ার মতো অবস্থা। এইটুকু সময়ের মধ্যেই হাত পা অবশ হয়ে আসতে শুরু করেছে। বিশ্বাসঘাতক ডান হাতটার দিকে তাকালাম। মৃত্যুর আগেই ওটা থেকে আংটিটা খুলে ফেলতে হবে। কিন্তু দুষ্ট হাতটা আমার নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। ওটা শক্ত করে মোঠ ধরে আছে। মোঠ করা হাত থেকে আমি কিছুতেই আংটিটা খুলে আনতে পারবো না। বা হাত দিয়ে ডান হাতের মুঠো খুলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুতেই খুলছে না। ধস্তাধস্তিতে বরং আরো দ্রুত দুর্বল হয়ে যেতে লাগলাম। তারপর একসময় হাল ছেড়ে দিলাম। নাহ। ওটা খুলা সম্ভব না। তার বদলে ঝাড়বাতির একটা বড় ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো কুড়িয়ে নিলাম। ভেবেছিলাম ওটা দিয়ে হাতের কব্জি পর্যন্ত কেটে বাদ দিয়ে দেবো। এমন বিশ্বাসঘাতক হাত রেখে লাভ কি? চোখ বন্ধ করে কব্জিতে দিলাম এক ঘা। কিন্ত কাঁচটা ঝনঝনিয়ে ভেঙে পড়লো। ভাঙা কাঁচ আমার হাতের কব্জিতে একটা গভীর ক্ষত সৃষ্টি করলো। বুঝলাম হাতের কাছে থাকা এসব কাচ দিয়ে হাড় কাটা যাবে না। মোল্লার দৌড় যেমন ঐ মসজিদ পর্যন্ত, তেমনি এসব কাচের কাটার ক্ষমতাও চামড়া আর মাংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। হাত কাটতে হলে আমাকে স্টোররুমে যেয়ে চাকুটা নিয়ে আসতে হবে। উঠে দাড়িয়ে স্টোররুমে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ততক্ষণে সায়ানাইডের প্রতিক্রিয়ায় আমার পায়ে পেরেসিস হয়ে গেছে। দাড়াতেই আবার ধপাস করে পড়ে গেলাম। পড়বি তো পড়, একদম ঝাড়বাতির ভাঙা কাঁচগুলির উপর। অনেকগুলি সুচালো ভাঙ্গা কাচের টুকরা আমার পিঠের মাংস ভেদ করে এক সাথে গেঁথে গেলো। আর ব্যাথা সহ্য করতে পারলাম না। আমি আর্তনাদ করে উঠলাম। কিন্তু মারগারেটের হাসি আমার আর্তনাদকে ছাপিয়ে গেল। একটানা বাজতেই থাকলো, “হিহিহিহিহিহি।”
আমার তো একদম কানে তালা পড়ার জোগাড়। আমি মারা যাচ্ছি আর ও হাসিতে ফেটে পড়ছে। যেনো শিওরে দাড়ানো কোন এক শকুনী মৃতপ্রায় মানুষের মৃত্যু প্রতিক্ষায় ক্ষণ গুনছে। আমি জীবনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তটা নিয়ে নিলাম। ভাঙ্গা কাঁচগুলি হাড় কাটিতে না পারলেও মাংস ভালই কাটতে পারে। এগুলি দিয়ে হাত কাটা অসম্ভব হলেও গলা কাটা খুবই সহজ। বিড়বিড় করে বললাম, “আমার নিজের গলা কেটে হলেও তোমার প্রত্যাবর্তণ প্রতিহত করবো মারগারেট। আমার দেহটা তুমি কখনোই পাবে না।”
বা হাতে বড় দেখে আরেকটি কাঁচের টুকরো তুললাম। বাহ। ভালই ধারালো দেখছি। শেষবারের মতো ডান হাতের দিকে তাকালাম। হাতটা তখনো মুঠো ধরে আছে। কিছুতেই আংটিটা খুলতে দিবে না। জীবনের শেষ দৃশ্যটা দেখে নিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেললাম। নিজের গলা কাটার সময় আমি কখনোই সেটা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে পারবো। আমার সে সাহস নেই। মনের গহীনে মায়ের হাসি মাখা সেই মুখটা ভেসে উঠলো। সবকিছুকেই পাশ কাটিয়ে আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল রইলাম। এমনিও মরছি ওমনিও মরছি। আমার কাছে এখন দুটোই সমান।
বা হাত দিয়ে ভাঙ্গা কাঁচটা গলা মাঝ বরাবর স্থাপন করলাম। তারপর ওটা সজোরে গলায় ঠেসে ধরে ঘসতে শুরু করলাম। ঘাড় বেয়ে বয়ে যাওয়া গরম রক্তের ধারাই বলে দিচ্ছে যে কাঁচটা কাজ করছে,
(চলবে)