ডাকিণী (২৬তম পর্ব)

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
হাপাতে হাপাতে গীর্জার গেট গলে ভেতরে ঢুকলাম। এতো বড় একটা সাইড ব্যাগ নিয়ে দৌড়ানো সত্যিই কষ্টকর। আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেখে ছেলে দুটো গীর্জার গেটের সামনে বাইক থামিয়ে খানিকক্ষণ ইতস্তত করলো। এই সুযোগে আমিও গাড়ির কাছাকাছি পৌছে গেলাম। খানিক পরেই ওরা সব ধিদ্ধা ঝেড়ে ফেলে বাইক চালিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লো। ওরা হয়তো ভাবছে বৃহষ্পতিবার বলে গীর্জাটা ফাঁকাই থাকবে। ফাঁকা গীর্জায় আমাকে ইচ্ছামত ভোগ করতে পারবে। কিন্তু ওদের সে আশায় গুড়েবালি। আমি ইতিমধ্যেই গাড়িতে উঠে বসেছি। গাড়িটাকে এতটা আপন আর কখনো মনে হয় নি। আমার অপেল, আমার লক্ষি স্পিডস্টার। পকেট থেকে চাবি বের করেই ইগনিশনে ঢুকিয়ে মোচড় দিলাম। গাড়িটা একটু কেশেই আবার বন্ধ হয়ে গেলো। আবার মোচড় দিলাম। কিন্তু এবারো স্টার্ট নিলো না। এসব কি হচ্ছে! আমার গাড়িটা কখনোই আমার সাথে এমনটা করেনি। দু বছর ধরে ব্যবহার করছি। প্রতিদিনই এক কিক এ স্টার্ট হয়! কিন্তু আজকে! আজকে যখন সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন তখনই স্টার্ট ফেল করছে! ছেলে দুটো গাড়ি থেকে মাত্র দশ ফিট ব্যবধানে আছে। এদের একজনের হাতে একটা বড় ছোরা সূর্যালোকে ঝিকমিক করছে। আমি শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে আবারো চাবিটা মোচড় দিতে চাইলাম। অনেকটা পথ দৌড়ে আসায় আমার শরীরটা তখনো কাঁপছিল। তাই মোচড় দেয়ার সময় তাড়াহুড়োয় চাবিটা বেরিয়ে এসে হাত থেকে পড়ে গেলো। আমি মরিয়া হয়ে গাড়ির মেঝেতে চাবির খুজে হাতড়াচ্ছিলাম। তখনই কোন এক জাদু বলে গাড়িটা ইগনিশন ছাড়াই নিজে থেকেই স্টার্ট নিলো। ব্যাপারটা নিয়ে তখন এতো কিছু ভাবি নি। ভাবলে পরে হয়তোটা ঝামেলায় পড়তে হতো না। গাড়ি স্টার্ট নিতেই আমি খুশি মনে স্টিয়ারিং হুইল ধরলাম। প্রথম গিয়ার ফেলে আক্সেলারেটরে পা মেঝে পর্যন্ত দাবিয়ে দিলাম। গাড়িটা লাফিয়ে আগে বাড়লো। গাড়ির নাকের গোঁতো খেয়ে একটা মটরসাইকেল আরোহী ছিটকে দশ হাত দুরে গিয়ে পড়লো। অপরজন সংঘর্ষ এড়াতে হেচকা টানে বাইকের নাক ঘুরালো। কিন্তু এতেই ওর কাল হলো। বাইকটা তাল সামলাতে না পেরে শূন্যে ডিগবাজী খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়লো। নিজেকে তখন জেমস বন্ডের মা মনে হচ্ছিলো। খালি হাতেই একপাল ছেলে পেলে কে কেমন শায়েস্তা করলাম! বিড়বিড় করে নিজেই নিজেকে বললাম, “সাঞ্জে দ্য গ্রেট।”
গীর্জার গেটের কাছে এসে গাড়িটা একটু থামিয়ে, জানলা দিয়ে মুখ বের করে ছেলে দুটোকে দেখলাম। একজন চিৎ হয়ে শুয়ে আছে, সম্ভবত অজ্ঞান। অপরজন উঠে বসেছে, আর আমার দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি চিৎকার করে ওদের উদ্দেশ্যে বললাম, “ফাক ইয়ো বেবিজ।” ওরা পোলিশ হলেও আশাকরি এইটুকু ইংরেজির মানে ওরা ঠিকই বুঝতে পারবে। আপন মনে হাসতে হাসতে গাড়ি ছুটালাম। হঠাৎ চোখ গেলো ড্যাশবোর্ড মিররের দিকে। মিররে দেখলাম আমার পাশের সিটেই একজন মধ্য বয়ষ্কা মহিলা বসে আছে। তার কপালে একটা বিশাল গোলাকার পোড়া দাগ! তবে ওটা ঘাড় ঘুরাতেই আবার মিলিয়ে গেলো। এ ব্যাপারটা সম্পূর্ণটাই আমার কল্পনা হতে পারে। প্রিস্ট এখন প্রকৃতপক্ষেই মৃত। কপালে আংটির ছ্যাকা খাওয়া সকল মেয়েরাই এখন মুক্ত। কাল রাতের সেই অদ্ভুত বজ্রপাতের সাথে সাথে আমি ওদের চলে যেতে দেখেছি। তাই গাড়ির পাশের সিটে কোন মেয়ের আত্মা উপস্থিত থাকা একেবারেই অযৌক্তিক। আমার অতিশিঘ্রই কটেজে ফিরা দরকার। পরিশ্রান্ত মস্তিষ্কে এসব ঊল্টাপাল্টা দেখে দেখে গাড়ি চালালে আক্সিডেন্টের সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ। হঠাৎ অনুভব করলাম স্টিয়ারিং হুলটা নিজে থেকেই ঘুরতে শুরু করেছে। আমি জানি না ওটা কিসের প্রভাবে। তবে একজন নির্ভরযোগ্য কো-ড্রাইভার পেয়ে আমি গাড়ি চালানোর দ্বায়িত্বে গাফেলতি শুরু করলাম। সারারাতের পরিশ্রম শেষে কটেজে ফিরার তর সইছিলো না। তাই চলন্ত গাড়িতেই স্টিয়ারিং হুইলে মাথা ফেলে ঘুমিয়ে পড়লাম.
ঘুম থেকে জেগে দেখি আমার গাড়িটা কটেজের ফটকের সামনেই দাড়িয়ে আছে। এতকিছুর পর ঘরে ফিরতে পেরে মনটা খুশিতে নেচে উঠলো। মনে হচ্ছে যেন বিশ্ব জয় করে এসেছি। গেট খুলে ভেতরে ঢুকে, গ্যারেজে গাড়িটা পার্ক করলাম। তারপর হেটে হেটে কুয়োটার পাশে এসে দাড়ালাম। কুয়োর সামনে দাড়িয়ে, নীচের দিকে মুখ করে হাঁক ছাড়লাম, “আলেস, আমি ফিরে এসেছি আলেস। তুমি কি শুনতে পাচ্ছো? এখনো কি আছো এখানে?”
একই প্রশ্ন আমি লাইব্রেরী, বেডরুম, এমনকি বেসমেন্টে গিয়েও করলাম। কিন্তু কোন সাড়া পেলাম না। বাথরুমের আয়নাটা খালি। কটেজটা জুড়ে এক অনাকাঙ্খিত শূন্যতা। ও সম্ভবত চলে গেছে না ফেরার দেশে। মেয়েরা স্বার্থপর হয় জানতাম। কিন্তু তাই বলে এতটা হবে তা আশা করিনি। আমি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করলে কি এমন ক্ষতি হতো? আলেস আমাকে বিদায় জানানোর সুযোগটাও দিলো না। ভাবতেই চোখ বেয়ে দু ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো।
(চলবে)

ডাকিণী (২৪তম পর্ব)

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
আমি একদম হাল ছেড়ে দিয়ে মারা পড়তে বসেছিলাম। একে তো লোহার কফিনের ভেতর অক্সিজেনের সল্পতা তার উপর গলা চেপে ধরা প্রিস্টের পুরুষ্ট হাত। বাঁচার কোন আশাই দেখছিলাম না। তখনই হঠাৎ মনে পড়লো, আমি যে স্কার্টটা পরেছি তার বেল্টের পকেটে একটা সুইস পকেট নাইফ আছে। প্রিস্টের আঙুল ওটা দিয়ে এক পোঁচে কেটে দেয়া যাবে। এটা আঙুল টেনে ছেড়ার থেকে অনেক সহজ হবে। বুঝতে পারছিলাম আমার সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে। আর সর্বউচ্চ ত্রিশ সেকেন্ড এভাবে শ্বাস না নিয়ে টিকে থাকতে পারবো। তারপরই সব শেষ। সমস্ত মনযোগ একত্রিত করে নিজের কটিদেশ হাতড়ে ছুরিটা বের করে নিয়ে এলাম। ছুরির ফলাটার ফোল্ড খুলতেই যেন সমস্ত শক্তি নিঃশেষিত হল। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। হাত যেভাবে কাঁপছে তাতে প্রিস্টের আঙুল কাটতে যেয়ে হয়তো নিজের ঘাড়ের শিরাটাই কেটে দেবো, কিংবা ছুরির ফলাটা আমার শিরদাঁড়ায় গেঁথে যাবে। উহঃ। আমি এতো কিছু ভাবতে পারছিনা। শুধু একটা কথাই মনে আসছে। যে করেই হোক শয়তানটাকে শেষ করতে হবে। এতে যদি ওর সাথে আমাকেও মরতে হয় তাতেও আমার কোন আপত্তি নেই।
আমার ঘাড়ে আকড়ে থাকা সেই মধ্যমাটাকে ঠাওরে চোখ বন্ধ করে দিলাম এক টান। হঠাৎ আমার গলায় চাপ কমে গেল। চেপে ধরা হাত দুটো নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। এতক্ষণ পর শ্বাস নিতে পেরে মুখ হা করে পৃথিবীর সবটুকু বাতাস বুকে ভরে নিতে চাইলাম। ঠিক তখনই ধা করে কফিনের ডালা খুলে গেলো। আমার নীচে প্রিস্টের দেহে যেন খিচুনি শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিক শুদ্ধ বাতাস আমার বুকটা ভরিয়ে দিলো। আমার চারদিকে বাতাসে ঘুর্ণী অনুভব করলাম। সমগ্র কফিনটা ঘিরেই যেন একটা ঘুর্ণীঝড় জন্ম নিয়েছে! তারপরই একটা বিষ্ময়কর বজ্রপাত! কিন্তু প্রাকৃতিক বজ্রপাতের সাথে এর তফাৎ হলো, সাধারণ বজ্রপাত গুলি আকাশ থেকে মাটিতে আঘাত হানে। কিন্তু এ বজ্র কফিনে পড়ে থাকা আংটি থেকে উৎপন্ন হয়ে সোজা আকাশে হারিয়ে গেলো। সাথে সাথেই প্রিস্টের দেহটা একদম নিথর হয়ে গেলো। ও সম্ভবত এই মাত্র নরকে পাড়ি জমিয়েছে। ওর উচিৎ সাজার ভার আমি স্রষ্টার হাতেই ছেড়ে দিলাম। ওদিকে আমার ঘাড়ের একপাশে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছিলাম! হাত দিয়েই বুঝতে পারলাম ওখান থেকে গলগলিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে। তবে এটা নিশ্চিত আমার গলার শিরাটা কাটা পড়েনি। ওটা কাটলে গলগলিয়ে নয় বরং ফিংকি দিয়ে রক্ত পড়তো। তবুও নিজেকে খুব ক্লান্ত লাগছে। শ্বাসপ্রশ্বাস কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও মাথাটা এখনো ঘুরছে। বার দুয়েক কফিন থেকে উঠার চেষ্টা করতেই জ্ঞান হারিয়ে ওটার ভেতরেই পড়ে গেলাম।
ভোরের নতুন সূর্যালোক আমার চোখ ধাঁদিয়ে দিলো। জ্ঞান ফিরতেই কফিনের ভেতর থেকে উঠে বসলাম। ঘাড়ে এখনো ব্যাথা করছে। সেখানে হাত দিতেই জমাট বাধা রক্তপিণ্ডের উপস্থিতি টের পেলাম। প্রথমে কিছু বুঝতে না পারলেও ধিরে ধিরে গতরাতের সবকিছুই মনে পড়লো। আমার নিচেই সেই শয়তানের নিথর দেহটা পড়ে আছে। তার পাশেই আংটি পরা মধ্যমাটা সহ আরো দুটো বিচ্ছিন্ন আঙুল। মধ্যমাটা তুলে নিয়ে ভাল করে নেড়ে চেড়ে দেখলাম। তারপর আস্তে করে টান দিতেই আংটিটা সেখান থেকে বেরিয়ে এলো। এই ছোট্ট একটা আংটি কি অসাধারণ খেল দেখালো। আজরাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি হিসেবে ওটা চিরকাল আমার কাছেই থাকবে। ওটা আমার মধ্যমায় পড়লাম। বাহ! বেশ সুন্দর ফিট হয়েছে তো! আমার আর প্রিস্টের মধ্যমার আকার প্রায় সমানই তো দেখছি। আংটিটা তাই আমাদের দুজনের হাতেই সমানভাবে ফিট হয়েছে। আমার হাতে ওর মৃত্যু লেখা ছিলো বলেই হয়তো আমাদের দুজনের আঙুলের মাপ এক। কথাটা মনে আসতেই আবারো তাকালাম প্রিস্টের মুখের দিকে। শুধু নিশ্চিত হতে চাইছিলাম যে ও সত্যিই মারা গেছে। দেখলাম ওর মুখটা হা হয়ে আছে। সেই মুখ দিয়ে কালসেটে দাঁত গুলি ভয়ানক ভাবে বাহিরে বেরিয়ে আছে। চেহারায় মৃত্যু যন্ত্রনার সুস্পষ্ট ছাপ। অবশেষে ও নরকে পৌছলো তাহলে।
আমার মুখের দুষ্ট হাসিটা আরো চওড়া হলো। এবার সময় এসেছে ওকে ভেজানোর। বাহ। কি সুন্দর মুখটা হাঁ করে আছে। যেন আমারই প্রতীক্ষায়। প্রথমে চারপাশটা একবার ভাল করে দেখে নিলাম। কেউ নেই দেখে প্রিস্টের বুকের উপর পা ছড়িয়ে বসে স্কার্টটা কোমরের উপর টেনে তুললাম। তারপর শিশিশিশিশিশিশি,,,,,,,,,, একদম ওর হা করা মুখের মধ্যে। জীবনে আমি হাজার বার প্রস্রাব করেছি। কিন্তু কখনই এতটা তৃপ্তি পাই নি। আ আ আ আ আ আ আ আহহহহহহহহহহহহহ। কি প্রশান্তি,,,,,,,,,,
(চলবে)

ডাকিণী (২১তম পর্ব)

0

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
বিনা চিৎকারে গার্ডকে লুটিয়ে পড়তে দেখে নিজের আত্মবিশ্বাসটা এভারেস্ট ছাড়িয়ে গেলো। হাহ। একেই বলে মিসেস থর ওরফে সাঞ্জে। গার্ডটা পড়ে যেতেই ওর শক্তিশালী টর্চটাও নিভে গেল। ভালই হল।এখন অন্ধকারকেই আমার বেশী সাচ্ছন্দদায়ক মনে হচ্ছে। কিন্তু ও নড়ছে না কেনো? মরে টরে গেল না কি? উবু হয়ে বসে ওর মাথায় আমার পেন্সিল টর্চের আলো ফেললাম। নাহ। তেমন কিছুই তো হয়নি। এমনকি রক্তও বেরুয় নি। শুধু মাথার পেছনে একটা পেয়ারা গজিয়েছে। তবে আশা করছি খুব শীঘ্রই ওটা ছোটখাটো একটা ফুটবল আকৃতি ধারণ করবে। ও অজ্ঞান থাকতে থাকতেই এবার ওকে বেধে ফেলা যাক। ওর শার্টটা খুলে তার হাতা দিয়ে ওর পা দুটো শক্ত করে বাধলাম। ভেবেছিলাম ওর শার্ট দিয়ে পা বাঁধবো আর নীচের গেঞ্জি দিয়ে হাত। কিন্তু কি আশ্চর্য! লোকটা শার্টের নীচে গেঞ্জি পরেনি! এমন অগোছালো কেবল পুরুষ মানুষই হতে পারে। আমি বাজি ধরে বলতে পারি ডিউটিতে বেরুনোর সময় ব্রা ছাড়া বেরিয়েছে এমন কোন নারী এই পৃথিবীতে নেই। তবে গেঞ্জি ছাড়াই বেরিয়েছে এমন হাজারো পুরুষ আছে। এই মাত্র আমি এমন একজনের সম্মুখীন হয়েছি। কি স্টুপিড স্বভাব এদের!
অবশেষে বাধ্য হয়েই আমার শার্ট দিয়েই ওর হাত বাধলাম। জেগে উঠে যেন চেঁচামেচি করতে না পারে সেজন্যে আমার পেন্টিটা খুলে ওর মুখে ভরে দিলাম। ও এখনো অজ্ঞানই আছে। এবার ওকে জাগানো যাক। আমি নিশ্চিত হতে চাই ও সত্যি সত্যিই অনড় অক্ষম হয়ে বাধনে ঠিক মতোই আটকা পড়েছে। ও যদি কোনক্রমে ভোরের আগে ছাড়া পায় তবে আমার শশুরবাড়ি যাত্রাটা কারো নাক কেটেই আটকানো যাবে না। হঠাৎ আমার নজর ওর জ্বলন্ত সিগারেটের উপর আটকে গেলো। এতো বৃষ্টির মাঝেও এখনো জ্বলছে। একজন ধোমপায়ীর জ্ঞান ফিরাতে একটা জ্বলন্ত সিগারেটের চেয়ে কার্যকর কিছু এখনো আবিষ্কার হয় নি। সিগারেটটা কুড়িয়ে নিয়ে ওর নাকের ডগায় ঠেসে ধরলাম। নাকে ছ্যাকা খেতেই ও ধড়মড়িয়ে নড়ে উঠলো। আমার দিকে চোখ পড়তেই ও গো গো করতে শুরু করলো। কাঁদা মাখা আমাকে দেখে ও সম্ভবত শেওড়া গাছের পেত্নী ভেবেছে। আমি এগিয়ে গিয়ে ওর গালে ঠাস করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলাম। ঘটনার আকর্ষিকতায় ও একদম হতভম্ব হয়ে গেছে। এবার আমি স্পষ্ট পোলিশ ভাষায় ওর কানে ফিসফিসিয়ে বললাম, “এই থাপ্পড়টা হল কর্তব্যে ফাঁকি দিয়ে সিগারেট টানার জন্যে।” ও বুঝলো আমি ভুতপ্রেত কিছুই না। ওরই মতো মানুষ। এটা বুঝা মাত্র ও নিজেকে ছাড়ানোয় মন দিলো। দেহটাকে সংকোচিত করে একটা বান মাছের মতোই ঘুরাতে শুরু করলো। আমি হাতুড়িটা হাতের কাছেই রাখলাম। যদি ও ছুটিয়ে ফেলতে পারে তবে আবার এক ঘা বসিয়ে দেব। তবে এবার হাতুড়িকে মুড়ানোর জন্যে আমার শার্টটা থাকছে না। সেটা ইতিমধ্যেই ওর হাতে বাধন হিসেবে শোভা পাচ্ছে। এবার যদি মারি তো একদম আসল হাতুড়ির ঘা টাই পড়বে। এতে ওর অক্কা পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। কিন্তু ওর কপালের জোর অনেক বেশী। এতো টানা হেচড়ার পরেও ও বাধন খুলতে পারলো না। এক সময় ক্লান্ত হয়ে নেতিয়ে পড়লো। যাক। অনেক হয়েছে। এবার কাজে ফিরতে হবে। ঘড়িতে প্রায় আড়াইটা বেজে গেছে। আর ঘন্টা খানেকের মধ্যেই সূর্যদয় হবে। এই এক ঘন্টার মধ্যেই আমাকে সেই প্রিস্টের দফারফা করে দিতে হবে। গার্ডের নিতম্বে কষে দুটো লাথি বসিয়ে আবার ফিরে গেলাম প্রিস্টের কবরে। এবার আর কোদালের হাতলে ব্রা টা জড়িয়ে নিতে ভুললাম না। এমনিতেই গার্ডকে পিটিয়ে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে তার উপর হাতের ব্যাথাটাও কমে এসেছে। তাই কাজটা অনেকটাই সহজ হয়ে গেলো। পনেরো মিনিটের মধ্যেই কবর খুড়ে প্রিস্টের কফিনটা বের করে ফেললাম। কিন্তু এ কি! কফিনটার এ কি অবস্থা! এটা কোন সাধারণ কাঠের কফিন নয়। আগা গোড়া লোহায় তৈরি। আর সবচে আশ্চর্যজনক ব্যাপারটা হল কফিনের ডালাটায় একটা বিশাল তালা ঝুলছে! ব্যাপারটা অনুমান করতে কষ্ট হলো না যে কেন এতো আয়োজন। লোহার কফিনে তালা লাগিয়ে কোন লাশকে কখনোই দাফন করা হয় না। এ পদ্ধতিটা কেবল জীবন্ত দাফনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কি এই শয়তানটাকে জীবন্তই পুঁতে দেয়া হয়েছিলো? সত্যিই যদি এমনটা হয়ে থাকে তবে বড্ড অন্যায় করা হয়েছে। এই শয়তানটাকে কমপক্ষে তিনদিন তিনরাত গণধোলাই দিয়ে, পরদিন ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মেরে তারপরেই কফিনে ঢুকানো উচিৎ ছিলো। কিন্তু এ তালার চাবি কোথায় পাবো? হঠাৎ মনে পড়লো সাইডব্যাগে একটা হেক্সো ব্লেড থাকতে আমি চাবি খুজতে যাবো কেন? ব্লেডটা দিয়ে তালা কেটে ফেললেই তো হয়। অতপর ব্যাগ থেকে ব্লেডটা নিয়ে এসে তালায় ঘসতে শুরু করলাম। তীক্ষ্ণ একটা কীচ কীচ শব্দ গোরস্থানের নিরবতা ভঙ্গ করলো। একটা সময় ঘট করে তালাটা খুলে পড়লো। একরাশ ভয় এসে আমায় গ্রাস করে নিলো। কফিনের ভেতর জীবন্ত কবর দেয়া শয়তানটা কি এখনো বেঁচে আছে? যদি থাকে তো আমায় দেখে কি হবে ওর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া। প্রচন্ড ইচ্ছা করছে এসব ফেলে ছুটে পালিয়ে যাই। কফিনটা না খুললেই কি নয়? কফিনটা খুললে যদি ওটা মুক্ত হয়ে যায় তখন কি হবে? কিন্তু আমি এর শেষ না দেখে ছাড়ছি না। আজ এর একটা বিহিত করেই ছাড়বো।
বৃষ্টিটা হঠাৎ করেই এখন থেমে গেছে। চারিদিকে সুনসান নিরবতা। প্রকৃতিও যেন এক অজানা অঘটন ঘটার প্রতিক্ষায়। আমার কাঁপাকাঁপা হাত দুটো কফিনের ডালাটায় রাখলাম। তারপর একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে হঠাৎ ডালাটা হেচকা টানে খুলে ফেললাম।
হায় খোদা, আমি এ কি দেখছি!!! এটা কিভাবে সম্ভব!!! এই লাশটা তো দেখছি একদমই জ্যান্ত ,,
(চলবে)

তারকাদের ভুতের কাহিনী

3

অ্যামেরিকায় ২০০৯ সাল থেকে জন প্রিয় একটি টিভি অনুষ্ঠান  Celebrity Ghost Stories. অ্যামেরিকার The Biography Channel এবং  A & E Network Channel এ অনুষ্ঠানটি হয়। নামে শুনেই বোঝা যাচ্ছে এই অনুষ্ঠানে তারকাদের নিয়ে এসে তাদের জীবনের অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা শোনা হয়।

টিটো অরটিয (Toto Ortiz) পেশাদারী রেস্লার এবং অভিনেতা (Zombie Strippers) । তার এবং তার স্ত্রীর সাথে ঘটে যাওয়া একটি কাহিনী নিয়ে একটি পর্বের এক ঝলক শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে।

iOS এবং Android ব্যবহারকারিদের জন্য একটি ভৌতিক Application

0

Scary_prank_ios_application

যারা iPhone এবং Android মুঠোফোনে ব্যাবহার করেন তাদের জন্য এই পোস্টটি Dedicated!!!

Scary Prank নামক একটি Application এর link নিচে দিয়ে দিচ্ছি Download করে Try করে দেখবেন বন্ধুরা!! ভয় যদি না পেয়েথাকেন তাহলে Comments দিয়ে জানিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আপনাদের, তাহলে আর এত ফালতু Post আর দিবনা।

iPhone

http://itunes.apple.com/us/app/scary-prank/id384291546?mt=8

Adroid

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.freedomrecyle.scary&hl=en

ধন্যবাদ সবাইকে।