সানাইয়া

2

মধ্য প্রাচ্যের একটি দেশ কাতার । আমার ভাইয়া কাতার আর্ম-ফোর্স এ চাকরী করে । ভাইয়ার কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে বিশ্বাস করলাম, তার একটি কারন ভাইয়া মিথ্যা বলেনা, দ্বিতীয় কারন যে বিষয় নিয়ে ভাইয়া ঘটনাটি বলেছে তাতে মিথ্যা বলার প্রশ্নই আসে না । ঘটনাটি হচ্ছে…… ভাইয়ার খুব ভাল বন্ধু জমির ভাই । আমি ছোট বেলা থেকেই উনাকে চিনি । উনিও কাতারে থাকত ভাইয়ার সাথে একই কোয়াটারে । কাতারে ‘সানাইয়া’ নামের একটা এলাকা আছে ‘ইন্ড  রাস্ট্রীয়াল এরিয়া’, যেখানে কোনো প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেত না । সন্ধ্যার আগ থেকেই ওখানে আর মানুষের আনাগোনা দেখা যেত না । তাই ঐ এলাকাটা খুব নির্জন থাকত । ওখান থেকে গাড়িযোগে কাতারের মূল শহরে (যেখানে ভাইয়ার কোয়াটার ছিল) আসতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগে এবং ঐ পথের মাঝা-মাঝিতে একটি পেট্রোল ষ্টেশন ছাড়া আর কোনো রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া কিংবা কোনো দোকান-পাট ছিল না । এলাকাটা তেমন ডেভেলপ না থাকাতে রাস্তায় কোনো লেম্পপোস্ট ছিলনা । ওখানে গাড়ি ছাড়া যাতায়ত একেবারে অসম্ভব । জমির ভাই ঐ দিন একটা কাজে সানাইয়া গিয়েছিল । কাজটি সময় মতো শেষ না হওয়ায় জমির ভায়ের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে সন্ধ্যার পর হয়ে যাই । জমির ভাইয়ের সাথে গাড়ি ছিল । কিছু দূর আসতেই জমির ভাই খেয়াল করল সামনে একটি লোক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে । জমির ভাই মনে মনে ভাবল এই সময় এই স্থানে তো কেউ থাকার কথা না, গাড়ীর গতি বেশী থাকায় ঐ লোকটিকে ক্রস করে গাড়ির গতি কমালো আর গাড়ির লুকিং গ্লাসে যখন দেখল তখন ওখানে কেউ ছিল না । জমির ভাই একটু সাহসী টাইপের ছিল তাই সেটা চোখের ভুল মনে করে সামনের দিকে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল । কিছু দূর পার হতেই আবার সেই একই ঘটনা, সাদা রঙের একটি আলখেল্লা পড়া একটি লোক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে । কিন্তু এবার লোকটিকে ক্রস না করে লোকটির পাশে এসে গাড়ি থামাল । লোকটি কালো বর্নের, দেখতে সাদা-সিদে ছিল । জমির ভাই এরাভিয়ান ভাষা জানত । লোকটি তার ভাষাই জমির ভাইয়ের কাছে শহরের দিকে আসার জন্য সাহায্য চাইল, এবং লোকটি গাড়িতে উঠে বসল । গাড়িতে বসার পর লোকটি দেখতে যে উচ্চতার ছিল তার চেয়েও লম্বা লাগছে, বিশেষ করে হাটুর দিকটা দেখতে নাকি অন্য রকম ছিল । পেট্রোল ষ্টেশনের পাশে আসতেই তেল নেয়ার জন্য যখন গাড়ি পেট্রোল ষ্টেশনের ভেতর ডুকবে সে সময় গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় আর সাথে সাথে লোকটি গাড়ি থেকে নেমে জমির ভাইকে তার ভাষাই ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নেয় । হটাৎ জমির ভাই চিৎকার শুনে সামনের দিকে তাকাতেই দখলো পেট্রোল ষ্টেশনের একজন কর্মচারী জমির ভাইয়ের গাড়ির দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে পেট্রোল ষ্টেশনের অফিসের দিকে দোড় দিল । জমির ভাই তা দেখে হতভম্ভ হয়ে গেল আর যখন পাশ ফিরে লোকটির দিকে তাকাল তখন দেখলো, হাই হিলের সেন্ডেল পড়ে মেয়েরা যে ভাবে হাঁটে লোকটি ঠিক সে ভাবে হাঠছে । লোকটির পায়ের দিকে তাকাতেই জমির ভাই যেন জমে বরফ হয়ে গেল । লোকটির পা দু’টো ছিল ঠিক ঘোড়ার পায়ের মত । জমির ভাই সাহস করে গাড়ি থেকে নেমে পেট্রোল ষ্টেশনের অফিসের দিকে দোড় দিল । জমির ভাই নাকি প্রায় আধা মত বাক রুদ্ধ ছিল । এর পর জমির ভাই ভাইয়াকে ফোন করে ওখানে আসতে বলল , সাথে ভাইয়ার এক রুমমেট ছিল তাকে সহ আসতে বলল । ভাইয়া কি জন্য জানতে চাইলে ভাইয়াকে আসতে বলে ফোন লাইন কেটে দিল । তারপর ভাইয়া ও ভাইয়ার রুমমেট এসে জমির ভাইকে নিয়ে ভাষাই যাই । এর পরের দিন জমির ভাই ঘটনাটা সবাই কে খুলে বলে । জমির ভায়ের ভাষ্য মতে লোকটি গাড়িতে উঠার প্রায় আট/দশ মিনিট পর পেট্রোল ষ্টেশনটি আসে । তাহলে জমির ভাই ঐ আট/দশ মিনিট কার সাথে ছিল?

জানিয়েছেনঃ মানিক

মসজিদের রহস্য

0

“আমার মামার যখন ১৫/১৬ বছর বয়স তখন তিনি এক হুজুরের বাড়িতে থাকতেন । হুজুরের মসজিদে আজান দিতেন, আর হুজুরের কাছেই লেখাপড়া করতেন । ওই হুজুর গত ৪ বছর আগে মারা গেছেন । আমাদের এখানে উনি অনেক কামেল হুজুর ছিলেন । আমার মামা যখন উনার কাছে থাকতেন তখন উনি মামাকে মানা করে দিয়েছিলেন উনাকে না বলে মাগরিবের আজানের পরে মামা যাতে মসজিদের ভেতরে না ঢুকেন । কিন্তু মামার তখন বয়স কম, কৌতূহল অনেক বেশি ছিল । একদিন মামা মাগরিবের আজানের পরে একটা হারিকেন হাতে নিয়ে মসজিদের ভেতরে যায়, মামা দেখে হুজুর নামাজ পড়াচ্ছেন, আর উনার পিছনে অনেক জন লম্বা লম্বা মানুষ নামাজ পড়ছে । এত লম্বা সাদা পাঞ্জাবী পরা লোকগুলা দেখে মামা ভয়ে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পরে । পরে হুজুর এসে তাকে ঘরে নিয়ে যায় আর বলেন তোমাকে না আমি আমার কাছে না বলে যেতে মানা করেছিলাম, গেলা কেন ? মামা পরে তার ভুল স্বীকার করে মাফ চায়, কিন্তু এখনও মাঝে মাঝে মামা রাতে চিৎকার করে, “দোহাই আল্লাহ্‌র, দোহাই হুজুরের আমাকে কিছু বলবা না” কিন্তু আমরা কিছুই দেখি না । মামা নিয়মিত তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে, কিছু দেখেছে হয়ত অনেক ভয় পেত । একদিন নানিও মামার সাথে উঠেছে তাহাজ্জুতের নামাজ পড়তে । মামা নামাজ পড়ছে, অন্য রুমে নানি যখনই নামাজে সালাম ফিরাবে তখনই সাদা কাপড় পরা কাউকে তার পাশে দেখতে পায়, এর পর থেকে নানি আর তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে না । কিন্তু মামা এখন আর ভয় পায় না, আমাদের সাথেও এখন আর এগুলা শেয়ার করে না । আমি জানি প্যারানরমাল অনেক কিছু তার সাথে হয়, কিন্তু আমরা জানতে চাইলে বলেন এগুলা শেয়ার করতে হয় না ।

কাহিনী বর্ণনাকারী -> ইসরাত দোলন

অপ্রত্যাশিত

1

আমার নাম তানজি।। চট্রগ্রামে থাকি।। আপনাদের সাথে যেই ঘটনাটি শেয়ার করতে চাচ্ছি তা হয়তো তেমন ভয়ের না তবে একদম সত্যি ঘটনা।।

আজ থেকে ৭ বছর আগে ঘটনাটি ঘটেছিলো।। আমরা তখন আস্কার দীঘির পাড়ে থাকতাম।। আমাদের বাসাটা অনেক বড় আর পেছনে জঙ্গল।। আমি সবসময় একা থাকতে পছন্দ করি।। সেদিন রাতেও আমি একা ছিলাম।। কোনও এক কারনে মন ভালো ছিল না, তাই তাড়াতাড়ি ঘুমুতে চলে গিয়েছিলাম।। রাত ২টা বা ৩টার দিকে হটাত আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।। আমি উঠে এক গ্লাস পানি খেলাম এবং পুনরায় শুয়ে পড়লাম।। এর ঠিক ৫ মিনিট পর আমার কেমন যেনও অস্বস্তি লাগতে শুরু করলো।। বারবার মনে হতে লাগলো আমার রুমে কেউ আছে।। প্রথমে ভাবলাম মনের ভুল কিন্তু কিছু সময় পর আমার অনুভূতি আরো বেড়ে গেলে।। ঘরে কারো উপস্থিতি প্রবলভাবে টের পেলাম।। আমি সাবধানে চোখ খুলে দেখলাম আমার খাটের পায়ার কাছে কেউ একজন দাঁড়িয়ে।। ঠিক দাঁড়িয়ে নয়, সে আমার খাটের চারপাশে রাউন্ড দিয়ে ঘুরছে।। লোকটা হলুদ রঙের একটা শার্ট পড়া।। মুখে চাপা দাড়ি।। উচ্চতা ৫ ফুট ৫ থেকে ৬ এর মতো হবে।। আমি লোকটাকে স্পষ্ট দেখছিলাম কারন রুমের সাথে লাগোয়া বাথরুমের বাতি জ্বালানো ছিল।। আমি ভয়ে জমে গেছি ততক্ষণে।। একমনে আল্লাহকে ডাকছি।। ঠিক মনে নেই কতো সময় পর, লোকটা ঘুরে চলে যেতে লাগলো।। লোকটা রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগে আমার দিকে তাকিয়ে হাসল।। এতক্ষণ লোকটার গায়ের ধরন এবং মুখের অভয়ব বুঝা যাচ্ছিল, এবার চেহারাটাও পরিষ্কার দেখলাম।। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো লোকটাকে আমি চিনি।। উনি আমার এক ফ্রেন্ডের দূর সম্পর্কের ভাই হন।। যতদূর জানতাম, উনি কালো জাদু এবং ছোট খাটো তুকতাক পারেন।।

এই ঘটনার কিছুদিন পর আমি আমার ফ্রেন্ডকে খুলে বলি পুরো ঘটনা।। আমার কথা শুনে আমার ফ্রেন্ড ঐ লোককে পরে জিজ্ঞেস করে।। কিন্তু তিনি আমার ফ্রেন্ডের কথার কোনও উত্তর দেন নি।। শুধু খানিকটা হেসেছিলেন।।

আমি জানি না সত্য কি বা মিথ্যা কি।। তবে এই ঘটনাটা এবং বর্ণনাটা পুরোটাই সত্য।। এক বিন্দুও বানানো নয়।।

যিনি জানিয়েছেনঃ ধূসর সময় (Dhusor Somoy)

Mary Celeste

0

”Mary Celeste” ১৮৬০ সালে ”Nova Scotia”থেকে সমুদ্রে ভাসানো হয়। এর আসল নাম ছিল ”Amazon”। বিভিন্ন মালিকের হাতে এটি পরের দশ বছর অনেক দূর্ঘটনার জন্ম দেয়। অবশেষে আমেরিকান স্যালভেজ ইয়ার্ড নিলামে একে কিনে নেয় ৩০০০ ডলারে। ব্যাপক মেরামতের পর আমেরিকায় ”Mary Celeste” নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। এর নতুন ক্যাপ্টেন ছিল ৩৭ বছর বয়েসি Benjamin Briggs। ১৮৭২ সালের ৭ নভেম্বর এটি ক্যাপ্টেন Briggs, স্ত্রী, অল্…পবয়স্কা মেয়ে এবং আটজন ক্রু নিয়ে বন্দর ছেড়ে যায়। জাহাজটি ১৭০০ ব্যারেল কাঁচা মদ নিয়ে ইটালির জেনোয়ার
উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা করে। এর পর ক্যাপ্টেন তার পরিবার এমনকি ক্রুদের
কারো আর দেখা মেলেনি কখনই। জাহাজটিকে জিব্রাল্টার জল প্রণালীতে ভাসমান আবস্থায় পাওয়া যায়। ক্যাপ্টেনের লগটি ছারা অন্য সব ডকুমেন্ট
গায়েব হয়ে যায় কিন্তু সেখানে লড়াইয়ের কোন আলামত পাওয়া যায়নি।
রেকর্ডে পাওয়া যায় ১৮৭৩ সালে দুটি লাইফ বোট ভেসে আসে স্পেনের উপকূলে। যার একটিতে আমেরিকার পতাকা চিহ্ন দেয়া এক মৃত
লোক এবং অন্যটিতে পাঁচটি মৃতদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় যে এই মৃতদেহ গুলো ”Mary Celeste” এর ক্রুদের। কিন্তু সত্যিকারভাবে কখনোই মৃতদেহ গুলো শনাক্ত করা যায়নি।

তাই “Mary Celeste” এর ক্রুদের ভাগ্যে আসলে কি ঘটেছিল তা এখনো রহস্য হয়েই থেকে গেছে!

সিলেট

1

বাংলাদেশের এই পূণ্যভূমিতে চা বাগানের সংখ্যা প্রায় ১৫০ টিরও বেশী । এত এত ঘটনা রয়েছে এসব চা বাগানকে কেন্দ্র করে যে বলে শেষ করা যাবে না । যারা ঐসব চা বাগানে বাস করেন, তারা তো এসব ঘটনা জানেনই ,যারা বিভিন্ন জেলা হতে চা বাগানে চাকুরীর সুবাদে যান , তারাও এসব ঘটনা শুনে থাকেন , অনেক অভিজ্ঞতাও হয় তাদের সাথে । বলা হয়ে থাকে যে, চা বাগানে চাকুরী করলে এসব ঘটনার সাথে এডজাষ্ট করে নিতে না পারলে হয় আপনি পাগল হয়ে যাবেন , আর নয়তো আপনাকে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে চলে আসতে হবে । এক চা বাগানে প্রায়ই রাতের বেলা একটা মেয়েকে চা পাতা তুলতে দেখা যায় । মেয়েটা অল্প বয়সী, খুবই সুন্দরী এবং মায়াবী চেহারার । ঐ চা বাগানে যারা কাজ করে , তারা প্রায় সবাই মেয়েটাকে দেখে । কিন্তু মেয়েটার কাছে যাওয়ার সাহস কারোরই হয় না । চা বাগানে যারা পাহারা দেয় , তাদেরকে চৌকিদার বলে । এক নতুন চৌকিদারের দায়িত্ব পড়লো ঐ চা বাগানে এক রাতে পাহারা দেয়ার জন্য । গভীর রাতে টর্চের আলোয় চৌকিদার দেখলো ,মেয়েটা চা পাতা তুলছে । চৌকিদার এগিয়ে গেলো মেয়েটার কাছে । ধমক দিয়ে বললো , “এই,এত রাতে এইখানে কি ?” মেয়েটার চোখ মুখ শক্ত হয়ে গেল । হিস হিস কন্ঠে চৌকিদারকে বললো , ” এটা আমার চা বাগান । এখানে আমার যা খুশি , তাই করবো । কেউ আমাকে বাধা দিতে পারবেনা ।” মেয়েটার চেহারা বদলাতে লাগলো । কিশোরী মেয়ে থেকে সে একটা বিভত্‍স বৃদ্ধাতে পরিনত হলো । গালে বসন্তের দাগ । মুখ থেকে লালা পড়ছে । চৌকিদার এই রূপ দেখেই অজ্ঞান হয়ে পড়লো । কিছুদিন পর প্রচন্ড কষ্ট ভোগ করে চৌকিদারটা মারা যায় । এক ছেলে রাতের বেলা একা চা বাগানের ভিতর দিয়ে আসছিলো । হঠাৎ সে লহ্ম্য করে যে, একটা কালো কুকুর বাম পাশ থেকে তাকে পাশ কাটাতে চাইছে । ছেলেটা এই ব্যাপার টা জানতো যে , সে যদি এটাকে বাম পাশ থেকে যেতে দেয় , তাহলে তার ভয়াবহ বিপদ হতে পারে । সে এও বুঝতে পেরেছিলো যে এটা মোটেও কোন কুকুর নয় । তাই সে কিছুতেই ওটাকে যেতে দিলো না । বাড়ির কাছাকাছি আসার পর একটা ভয়ানক গোঙানির শব্দ পেয়ে ছেলেটা পিছনে তাকিয়ে দেখলো , কুকুরটা দুই পায়ে ভর দিয়ে দাড়িয়ে ঐ গোঙানির শব্দ করছে । যেন ব্যর্থ আক্রোশে ফুঁসছিলো । ছেলেটার চোখের সামনে ঐটা হঠাৎ মিলিয়ে যায় এবং ছেলেটাও এই ব্যাপার দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়ে । এরপর টানা ১৫দিন ছেলেটা কালাজ্বরে ভুগেছিলো ।১০৪ ডিগ্রি জ্বর । কুকুরটা কে পাশ কাটাতে না দেয়ার অপরাধে ! চা বাগানের আশেপাশে অনেক ছোট ছোট ঝর্ণা আছে । স্থানীয় ভাষায় ওগুলোকে ছরা বলে । অনেকেই নাকি রাতের বেলা দেখেছে যে, এক হিন্দু বউ, কপালে সিঁদুর, লাল পাড় দেয়া সাদা শাড়ী পড়ে ছরার একপাশ থেকে অন্যপাশে পার হয় এবং তারপর সাথে সাথে অদৃশ্য হয়ে যায় ! চা বাগানে রাতের বেলা কারো হেটে বেড়ানোর শব্দ পাওয়া যায় । অনেকেই কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই , এমন ধরনের ছায়া কে চা বাগানে ঘুরে বেড়াতে দেখেছে । অন্ধকারে তাদের দেখা যায় না । চাঁদের আলো থাকলে মাটিতে এসব ছায়া কে দেখা যায়। প্রায়ই গভীর রাতে চা বাগানথেকে চিত্‍কার ভেসে আসে, ” সাআআআবধান !!” কাকে সাবধান করে দেয়া হয় ? কি জন্য ? কেউ জানে না । ভৌতিকতার দিক থেকে সিলেট যে কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে , সে কথায় আসছি এখন । ভারতের বর্ডারের কাছে একটা ঘটনা ঘটেছিল । ঢাকার মিরপুরেও নাকি একই ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যায় । কি একটা অদ্ভূত জন্তু এসে নাকি ছোট বাচ্চাদের মাথা , গলা , পেট পর্যন্ত খেয়ে ফেলে !!! সিলেটে এটা নাকি নৈর্মিত্তিক ব্যাপার !!! সিলেটের চা বাগানের লোকেদের কাছে যদি এই ব্যাপারে জানতে চান,তো তারা আপনাকে একটা নামই বলবে । আর সেটা হলো”জুজু !” এই জুজু ওইজা বোর্ডের ডেভিল জোজো নয় । এটা সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস । ওইজা বোর্ডের জোজোর কথা না অনেক মানুষ চিনে অথবা জানে ।কিন্তু সিলেটের চা বাগান গুলোতে জুজুর জনপ্রিয়তা
দেখার মত !!! জুজু লোমশ একটা জীব । এর চোখ লাল টকটকে । ছোট বাচ্চাদের দিকেই এর নজর বেশী । এক মহিলা তার বাচ্চা কে ঘুম পাড়িয়ে আরেক রূমে টিভি দেখতে চলে গেল । কাজের মেয়েটা বাচ্চার রূমে এসেই গলা ফাটিয়ে একটা চিত্কার দিল । মহিলা দৌড়ে রূমে এসে দেখলেন কাজের মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে , আর লোমশ একটা জীব বাচ্চাটাকে জানালা দিয়েনিয়ে যেতে চাইছে । বাচ্চাটা হাত পা ছোড়াছুড়ি করছিল । মহিলাকে দেখেই জীবটা বাচ্চাটাকে ফেলে লাফ দিয়ে চা বাগানের ভিতর হারিয়ে যায় । এক বাচ্চা কোন কারণে খাবারখেতে চাইছিলনা । তার মা তাকেজোর করে খাওয়াতে চেষ্টা করছিলেন । এক পর্যায়ে মহিলা বললেন ,” তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও । না হলে জুজু আসবে ।” কাছেই একটা চা বাগান থেকে একটা শব্দ মহিলা শুনতে পেলেন ,”জুজু আসবে ।” মহিলা এটাকে পাত্তা দিলেন না । ভাবলেন যেমনের ভূল ।খানিক পর বাচ্চাটা আবার বাহানা শুরু করলে মহিলা বিরক্ত হয়ে বললেন ,” এই খাও বলছি । জুজু আসবে কিন্তু বলে দিলাম ।” এবার মহিলা আগের বারের মতই কিন্তু অনেক কাছে শব্দ শুনলেন যে ,” জুজু এসেছে !” মহিলা ভয় পেয়ে গেলেন । ব্যাপারটা তার স্বামীকে বলার জন্য বাচ্চাটাকে ডাইনিং রুমে বসিয়ে অন্য রুমে গেলেন । তিনি যখনই তার স্বামীকে এই শব্দের ব্যাপারটা বলছিলেন , হঠাৎ তারা দুজনই শেষ বারের মত শব্দটা শুনলেন । এইবার শব্দটা ছিল এরকম : “জুজু খাচ্ছে !” “জুজু খাচ্ছে !” তারা দৌড়ে ডাইনিং রুমে গেলেন । গিয়ে দেখলেন , কালো লোমশ একটা প্রাণী জানালা দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে । আর তাদের বাচ্চা ? বাচ্চাটাকে অর্ধেক খেয়ে ফেলা হয়েছে ! জুজু নিয়ে চা বাগানের এটাই সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা । চা বাগানে প্রায়ই কাজ করার সময় ছোট ছোট বাচ্চা নিখোঁজ হয় । পরে তাদের মাথা কাটা লাশ পাওয়া যায় । কার কাজ কেউই জানে না । আপনার ঘরেও হয়তো ছোট বাচ্চা আছে । তাদের আপনিজুজুর ভয় দেখান ভালো কথা , কিন্তু জুজু থেকে তারা নিরাপদে আছে তো ? চোখের সামনে কচর কচর করে একটা বাচ্চাকে খেয়ে ফেলতে দেখাটা কেমন লাগবে একবার ভাবুন তো???
তথ্যসূত্র: ডিওন টি গার্ডেন, লাক্ষাণপাড়া টি গার্ডেন , রঘুনন্দন টি গার্ডেন ,bhoot fm.

ডেনভার স্টেট হসপিটাল

0

আমেরিকার ম্যাসাচুচেস্ট অঙ্গরাজ্যের সালেম নগরীতে অবস্থিত ডেনভার স্টেট হসপিটালটি ভৌতিক কর্মকান্ডের জন্য কুখ্যাতি অর্জন করেছে ! এটি মূলত একটি মানসিক হাসপাতাল ছিল যা ১৮৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ॥ মানসিক রোগিদের চিকিত্‍সার জন্য স্যার উইলিয়াম হার্বার্ট এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন ॥ শুরুর দিকে হাসপাতালটির কর্মকান্ড ভালভাবে চললেও বছর পাঁচেক পর এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় স্যার উইলিয়াম হার্বার্টের মৃত্যু হলে হাসপাতালটির কর্মকান্ডে আসে আমূল পরিবর্তন ॥ স্যার উইলিয়াম হার্বার্টের মৃত্যুর পর এইখানকের রোগীদের উপর আহ্মরিক অর্থেই নরক নেমে আসে ॥ রোগীদের মারধর , ইলেকট্রিক শক থেকে শুরু করে হাইড্রোথেরাপি পর্যন্ত দেওয়া হত ॥ এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৫ সালে ব্রায়ান হ্যারিস নামক এক মানসিক রোগীর উচ্চ ইলেকট্রিক শকের দরুন মৃত্যু হয় ! পরে তার লাশ অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে হাসপাতালেরই এক নির্জন জায়গায় কবর দেওয়া হয় ! এই ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় হাসপাতাল কর্মী মাইক হ্যারিসের মৃত্যু হয় ॥ তার মুন্ডুহীন লাশ হাসপাতালের পিছনের উঠানে আবিষ্কৃত হয় ! এরও ঠিক এক সপ্তাহ পর হাসপাতালের ডাক্তার এফ . হেনরির ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায় তারই কহ্মে ! এই দুইজনই ছিলেন ব্রায়ান হ্যারিসের হত্যাকারি ! তারা তাদের পৌশাচিক আনন্দ লাভের জন্য রোগীদের উপর বিভিন্ন নির্যাতন চালাত ! হতভাগ্য ব্রায়ান হ্যারিস ছিলেন তাদের সেই পৌশাচিক আনন্দের শিকার ॥ এই ঘটনার পর হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয় ॥ তবে আজও গভীর রাতে হাসপাতাল থেকে ভেসে আসে যন্ত্রনাকাতর চিত্‍কার ! মাঝে আলোর ঝলকানিও চোখে পড়ে ! এখানকার নিরাপত্তাকর্মীরা মাঝে মাঝে ভারী পায়ে হেঁটে যাওয়ার আওয়াজও শুনতে পান ! কেউ যদি হাসপাতালটি দেখতে চান তবে তাদেরকে শুধু হাসপাতাল চত্বরেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয় কখনই হাসপাতালটির ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না !
অনুবাদকৃত

উত্‍স:গুগল

পথ

1

আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটি কাঁচা সড়ক সরাসরি যুক্ত ছিল ফরিদপুর থানার সাথে। সড়কটা ছিল ৩টি গ্রামের কৃষকদের কৃষি জমির মাঝ বরাবর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের কোন এক সময় পাকিস্তানী সৈনিকদের একটি ছোট বাহিনী সেই রাস্তা দিয়েগ্রামে প্রবেশ করার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু আমাদের গ্রামের সাথে রাস্তাটির সংযোগ সড়কের একটা অংশ কাটা থাকায় তারা গ্রামে প্রবেশ করতে ব্যার্থ হয়। তারা সড়কবরাবর থানার দিকে এগিয়ে যায় এবং স্বল্প সময়েও তাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যায়। মৃতের সঠিক সংখ্যা কেউবলতে পারে না। কারন পাকিস্তানী সৈন্যরা হত্যা শেষে লাশগুলো রাস্তার পাশে একটা গভীর কুয়ার মধ্যে ফেলেদিয়ে যায়। কুয়োটা ছিল একটা হিজল গাছের পাশে। সেই হিজল গাছের আশেপাশের ২/৩ মাইল শুধুই কৃষি জমি। কোন বাড়ি ঘর নেই। সেই কুয়োর কোন নিশানা আজ পাওয়া না গেলেও হিজল গাছটা ঠিকই সাক্ষী হয়ে আছে সেই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের। এই হিজল গাছ আরকুয়ো নিয়ে অনেক গল্প চালু রয়েছে গ্রামে। রাতের বেলা অনেকেই নাকি এই গাছের পাশ দিয়ে যাবার সময় ”পানি, পানি” বলে আর্তনাদ করতে শুনেছে। আজও নাকি হিজল গাছেরপাশদিয়ে আসার সময় মানুষ পথহাড়িয়ে ফেলে। হিজল গাছ থেকে গ্রামের দুরত্ব আধা মাইলের মত। ফরিদপুর থেকে রাতের বেলা বাড়ি ফেরার সময়আশরীর কণ্ঠ শুনেছে এমন অনেক মানুষের দেখা পাওয়া যায় গ্রামে। এমনকি রাতের বেলা গ্রামে ফিরতে গিয়ে আধা মাইলপথ সারা রাতেও পার হতে পারে নি, এমন মানুষও কম নেই গ্রামে।
বেতুয়ান গ্রামের পাশের গ্রাম রামনগর। রামনগর গ্রামের আক্কাস নামের এক লোকতার ছাগল হারিয়ে ফেলেছে। সারা দুপুর ছাগল খোঁজা খুঁজির পর বিকেলে সে জানতে পারল তার ছাগল বেতুয়ানের সীমান্তে ঢুকে একজন কৃষকের সবজির ক্ষেত নষ্ট করছিল, তাই বেতুয়ানের চকপহরি (গ্রামে জমি পাহারা দেওয়ার জন্য নিয়জিত প্রতিরক্ষা বাহিনী) তার ছাগল ধরে নিয় গেছে।ঘটনাশুনে রাগে ক্ষোভে কোন কিছু না ভেবেই বেচারা রওনা দিল বেতুয়ানের দিকে। তখন মাগরিবের আযান হয়ে গেছে।
রাগের মাথায় রওনা দিলেও একসময় আক্কাস মিয়ার হটাৎ করেই মনে পরে গেল হিজল গাছের কথা। আরে সামনেই তো হিজল গাছ!ঐ-তো দেখা যাচ্ছে। সাথে সাথে তার সমস্ত শরীরে কাঁটা দিয়েউঠল। আক্কাস মিয়া আর সামনেরদিকে অগ্রসর হল না। কারণ ছাগলের চাইতে জীবন অনেক বড়।ছাগল তো কালকেও আনা যাবে। কিন্তু জীবন…ভয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যাবার জন্য যেই পা বাড়াবেন ঠিক তখনি তার মনে হল কেউ একজন তাকে ডাকছে!
-ভাই কি বেতুয়ান যাবেন?
আক্কাস মিয়া চমকে উঠে জোর গলায় বলল,
-কেডা আপনে?
-ভাই আমি মোক্তার। আমার বাড়ি বেতুয়ানের শেষ মাতায়। ঐ ইজল গাছের থেনে মাইল খানিক ফাঁকে। আপ্নের বাড়ি কোনে?
-আর কয়েন্না বাই। আমার বাড়ি রামনগর। আপ্নেগরে গাওয়ের চকপোউরি আমার বরহি(ছাগল)খান দোইরা লিয়্যাগ্যাছে। সেই বরহি আইনব্যারি যাচ্ছিলাম তিন্তুক আজকা আর যাব লয়। রাইত ম্যালা হয়্যাগেছে।
-ঐ চিনত্যাতেই তো ভাই একা জাসসিন্যা। গেছিল্যাম আপ্নেগরে গাওয়ের হাঁটে। ফিরতি ফিরতি বেলা গরা আইলো। এহন একা যাতি ক্যাবা জানি লাগতেছে। তারচে চলেন ভাই আমার বাড়িত যাই। রাইত খান থাইকা কাইলকা বরহি(ছাগল) লিয়্যা বাড়ি জায়েন্নে।
আক্কাস মিয়া দেখল প্রস্তাবটা খারাপ না। তাছাড়া আকাশে মেঘও করেছে। এই অবস্থায় বাড়ি ফিরে যাওয়া ও ঝামেলা। তাই সে আর কথা না বাড়িয়ে লোকটার সাথেরওনা দিলো।
দুজনে গল্প করতে করতে একসময়হিজল গাছের প্রায় কাছে চলে এলো। এমন সময় হঠাৎ করেই মোক্তার নামের লোকটা কাঁদার মধ্যে পরে গেল। সাথে সাথে আক্কাস মোক্তার কে হাত ধরে তুলতে গিয়ে চমকে উঠল। একি এই লোকটার হাত এতো ঠাণ্ডা কেন? মানুষের শরীর কি এতো ঠাণ্ডা হয়?
মোক্তার আস্তে করে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
-দুরা। সারা গায় ক্যাদো লাইগা গেল। চলেন ভাই সামনের কুয়োত যাই। হাত মুক ধুইয়া আসি।
কথাটা বলেই মোক্তার আক্কাসের উত্তরের অপেক্ষা না করেই কুয়োর দিকে পা বাড়াল। আক্কাসের শরীরে ভয়ের শীতল স্রোত খেলে গেল। কুয়োটা অনেক দিন আগে থেকেই পরিত্যক্ত। সেখানে পানি আসবে কোথা থেকে? হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকে উঠল। বিদ্যুতের আলোতে আক্কাস স্পষ্ট দেখতে পেল, মোক্তারেরপা নাই।
সারা শরীর কেমন জানি একটা ঝাঁকি দিয়ে উঠল আক্কাসের। তাহলে মোক্তার মানুষ না! আবার এতো রাতে তাকে কুয়োর দিকে নিয়ে যাচ্ছে; তার মানে কি সে আইষ্ঠাখোঁর ভূত!
আক্কাস আর এক মুহূর্তও দেরি করলনা। সোজা মাটির উপর চোখ বুজে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল। (গ্রামে কথিত আছে, ভূত বা খারাপ আত্মা মাটি স্পর্শ করতে পারেনা। তাদের ক্ষমতা মাটির একহাত উপরে) কিছুক্ষণ পর আক্কাস শুনতে পেলো কেউ একজন ন্যাকা সুরে আক্কাসকে উদেশ্য করে বলছে, কুঁত্তার বাঁচ্চা বাঁইছা গেঁলু। মাঁটির উপঁর না শুঁলি আঁজক্যা তোঁক কুঁয়োর মঁদ্দি গাঁইরা থুঁল্যামনে।ঠিক এভাবেই পরের দিন সকাল পর্যন্ত মাটির উপর শুয়েছিল আক্কাস মিয়াঁ। হয়তো আজও রাতের বেলা কোনও মানুষ সেই আধা মাইল পথ পার হতে পারেনি।।

সমাপ্ত

আব্দুল্লাহ আল মামুন

The M6

2

সারা ইংল্যান্ড জুড়ে যতগুলো রাস্তা তার মধ্য ভুতুড়ে রাস্তা হিসেবে সবচেয়ে কুখ্যাতি অর্জন করেছে এই The M6 নামক রাস্তাটি ! এই রাস্তাটি নির্মিত হয় প্রায় ২,০০০ বছর আগে যখন সারা ইংল্যান্ড জুড়ে রোমানদের আধিপত্য বিস্তৃত ছিল ॥ রোমান সৈন্যরা এই রাস্তাটি হরহামেশাই ব্যবহার করত ॥ বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে , আজ প্রায় ২,০০০ বছর পরও সেই সব রোমান সৈন্যদের দেখা পাওয়া যায় এই রাস্তার ধারে !! যে সকল ট্রাক ড্রাইভার রাতে বিশেষ করে মধ্যরাতের পর এই রাস্তা ব্যবহার করেছেন তারা অনেকেই ২,০০০ বছর আগেকার সেই সকল রোমান সৈন্যদের দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন ! অনেকে আবার ঘোড়ার ডাকের শব্দও পেয়েছেন ! অনেক সময় সাদা কাপড় পরিহিত , উস্কখুস্ক চুলওয়ালা মহিলাকে রাস্তার ধার দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা গিয়েছে ! এটি বাস্তবিকই ভয়ের ব্যাপার বিশেষ করে যারা রাতে ঐ রাস্তাটি ব্যবহার করেন ! বিল হ্যারল্ড নামক এক ট্রাক ড্রাইভারের ভাষ্য মতে , ” আমি আনুমানিক রাত ১:১৫ নাগাদ ঐ রাস্তা ধরে আমার ট্রাক নিয়ে যাচ্ছিলাম ॥ ঐ রাস্তা স্বম্নধে আমার জানা থাকলেও আমি তাতে পাত্তা দিই নি ॥ যাই হোক আমি যখন ঐ রাস্তায় প্রবেশ করি তখন আমার মধ্যে এক ধরণের পরিবর্তন অনুভব করি ! আমার মাথার ভিতরটা অসম্ভব রকমের ফাঁকা মনে হতে থাকে ! ঐ রাস্তা ধরে মিনিট ১৫ চলার পর আমি রাস্তার ধারে এক বৃদ্ধা মহিলাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি ! আমি তাকে ( ! )অতিক্রম করে কিছুদূর চলে আসার পর আমার মনে হলো সে কোন বিপদে পড়েনি তো ? হতে পারে তার কোন সাহায্য দরকার ! রাস্তাটি ওয়ান ওয়ে ছিল বিধায় আমি ট্রাকটি রাস্তার ধারে থামিয়ে সেই বৃদ্ধা যেখানটায় দাঁড়িয়ে ছিল সেইখানে হেঁটে গেলাম ॥ সেখানে পৌছে আমার সারা শরীর বেয়ে আতঙ্কের এক ঠান্ডা শ্রোত বয়ে গিয়েছিল ! কারণ সেখানে গিয়ে আমি কাউকেই দেখতে পেলাম না ! এত তাড়াতাড়ি কোন মানুষের পহ্মে গায়েব হয়ে যাওয়া এক কথায় প্রায় অসম্ভব ব্যাপার ছিল ॥ আমার মাথায় তখন একটাই চিন্তা আসল যে এই রাস্তা সম্পর্কে সব যা কিছু শুনেছি তার সব কিছুই কি তাহলে সত্যি ! আমি যখন এইসব কথা ভাবছি তখনই কাছেই কোথাও ঘোড়ার নাক ঝাড়ার আওয়াজ পেলাম ! কিছু মানুষের সম্মিলিত আওয়াজও শুনতে পেয়েছিলাম ! আমি আর এক মূহূর্ত দেরি না করে ট্রাকের কাছে ফিরে আসি এবং চলতে থাকি ॥ ট্রাক চলাকালীন অবস্থায়ই আমি একবার পিছন ফিরে তাকাই ॥ আবার যখন সামনে ফিরে তাকাই তখন রাস্তার ঠিক মাঝখানে আমি সেই বৃদ্ধাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি ! আমি প্রাণপণে ব্রেক চেপে ধরি এবং স্টিয়ারিং হুইল ঘোরাতে থাকি ॥ এরপর আমার আর কিছু মনে নেই ॥ পরেরদিন আমি নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করি ! ” এই সম্পর্কে হাইওয়ে পুলিশ চীফ জ্যাক হ্যরিসন বলেন , ” আমরা বিলের দূর্ঘটনার খবর পাই রাত ২:৩০ নাগাদ ঐ রাস্তা ধরে যাওয়া অপর আরেকজন ট্রাক চালকের নিকট হতে ॥ যেহেতু মধ্যরাতের পর থেকে ঐ রাস্তায় যান চলাচল অনেকটাই কমে আসে তাই আমাদের খবর পেতে দেরি হয়েছিল ॥ “ঐ দূর্ঘটনায় ( ! ) বিলের ডান হাতের কব্জি এবং বাম পায়ের গোড়ালি ভেঙ্গে যায় ॥ তাছাড়া কপালেও সে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছিল ! এই ঘটনার পর পারতপহ্মে বিশেষ করে রাতের বেলা কেউ ঐ রাস্তা ব্যবহার করেন না ॥ সবাই বিকল্প পথই ব্যবহার করেন !
অনুবাদকৃত

সূত্র : গুগল

Borley Rectory

2

“Borley Rectory” কে ইংল্যান্ড এর সবচেয়ে ভূতুড়েস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয় । London থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে যেতে। অনেকের মতে এটা পৃথিবীর জানা ভৌতিক স্থান গুলোর মধ্যে একেবারে শীর্ষে । এখানের ভৌতিক কার্যকলাপ খুব স্পষ্টই বুঝাযায় । রোমাঞ্চ প্রিয় দর্শনার্থীরা কিছু না কিছু অশরীরী অস্তিত্ব খুব ভালোই আঁচ করেন এখানে ।বিশ্ব বিখ্যাত সাইকিক মিডিয়াম ও বিশেষজ্ঞ Lorraine Warren স্থানটি পরিদর্শন করেন। তিনি বলেছেন “একমাত্র জায়গা যেখানে ভৌতিক কার্যকলাপ সব সময় চলে । ওই জায়গায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু না কিছু অনুভব করবেন ।” তিনি প্রথম যখন Borley Rectory তে যান তখন অন্যদের সাথে একজন সংবাদকর্মীও ছিলেন সঙ্গে। দরজা দিয়ে প্রবেশের পরই ওই সংবাদকর্মী চিৎকার করে বলতেশুরু করেন “আমাকে কেউ আঘাত করছে! আমাকে কেউ আঘাত করছে! আমাকে কেউ আঘাত করছে!, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিনা”  সেই সময় টেপ রেকর্ডার অন করাছিল ( ভৌতিক স্থান ঘটনার তদন্তে টেপ রেকর্ডার, ক্যামেরাসহ আরও অনেক ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম ব্যাবহার করা হয়, ভৌতিক অস্তিত্ব প্রমান ও পরিমাপেরজন্য )  পরে রেকর্ডারে শুনা গিয়েছিল, যখন লোকটি বলছিল”আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিনা” তখন এক মহিলা কণ্ঠ বলছে “ওকে আঘাত করো,ওকে আঘাতকরো,ওকে আঘাত করো”  তারপরে ওই সংবাদ কর্মী Borley Rectory নিয়ে তার অভিজ্ঞতা লিখতে অস্বীকার করেন । ওই স্থানে এক খ্রিস্টান ধর্মযাজিকাকে দেয়ালের ভিতর জীবন্ত কবর দেয়া হয়েছিল । পরে তার কংকাল উদ্ধার করা হয় এবং কাছেই সমাহিত করা হয়।

প্যারানরমাল

2

ভুলতে পারবেন না আপনারা কেউই! আজ থেকে এগারো বছর আগের কথা … আমাদের গ্রামের বাড়ী ফেনীতে। ওখানে আমার সেজো মামার বিয়ে উপলক্ষে আমাদের সব রিলেটিভ … দেশ ও বিদেশ থেকে সবাই উপস্থিত হয়েছিলো। সেটা ছিল ফেনীর পরশুরামের চন্দনা গ্রামে। আমার ছোটো খালার বাসায়। আমাদের গ্রামের ভিতর খালার বাড়ীটা সবচাইতে বড়; কেননা বেশ কিছুদিন আগেই সেটার মেরামত কাজ হয়েছিলো; কিন্তু সবগুলো ঘর হয়নি। একটা ঘর ছিল যেটাতে কেউই যেত না। তার একটা বিশেষ কারনও ছিল। সব আত্মীয়স্বজনরা একসাথে অনেকদিন পর মিলিত হওয়াতে বাড়ীতে থাকার যায়গার অভাব পড়লো, যে কারনে সেই ঘরটাতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। এখন বলছি ঘরটার বিশেষত্বের কথা। আমার ছোটো খালার স্বামী অর্থাৎ আমার ছোটো খালুর আব্বু ছিলেন মওলানা। তিনি জীন হাজির করতে পারতেন এবং তিনি জীন ডেকে মানুষের অনেক সমস্যারও সমাধান দিতেন। তাছাড়া জীন যদি মানুষকে আছর করত, তবে সেই ঘরটিতে বসেই তিনি শরীর থেকে জীন নামাতেন। তো আমাদের ছোটো খালা এই বিষয়ে আমাদের আগে থেকেই সতর্ক করে দিলেন। কিন্তু আমার বড় মামা আর আমার এক কাজিন যার নাম কামরুল, ঠিক করলেন ওই রাতে সেই ঘরের বিছানায় শোবেন। কিন্তু খালা আগেই অনেক করে সাবধান করে দিয়েছিলেন সমস্যা সম্পর্কে; কেননা ওই ঘরটা অনেকদিন ধরেই বন্ধ ছিল। আর এর আগে যারাই ওই ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তারাই কোনোনা কোনও ভয়ঙ্কর কিছু দেখতে পেয়েছে। কিন্তু আমার মামা আর কাজিনের বেলায় কে শোনে কার কথা ! এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে কে এই সব বিশ্বাস করে ! কিন্তু বিশ্বাস করাই যে তাদের জন্য শ্রেয় ছিল তা আমরা সকলেই পরে উপলব্ধি করেছিলাম। আমার কাজিন আর মামা যখন রুমে ঘুমিয়ে পড়ল তার কিছুক্ষণ পই আমার কাজিনের চিৎকারে বাসার সবার একসাথে ঘুম ভেঙে গেলো। আমরা সবাই দ্রুত ঐ ঘরে ছুটে গিয়ে আমার কাজিনকে খাটের নিচে আর মামাকে সম্পূর্ণ অচৈতন্য অবস্থায় আবিষ্কার করি। এরপর যখন ওদের মাথায়, মুখে পানি ঢেলে অবস্থার কিছুটা উন্নতি করা হল তখন জানতে পারলাম আসলে ওদের সাথে কি ঘটেছিল। যেটা শোনার প আমার গায়ের রক্ত পানি হয়ে গিয়েছিলো ! আমার কাজিন বলল, সে ঘুমের ভেতর দেখতে পেয়েছিল, কে যেন অনেক জোরে তার গলা টিপে ধরেছে আর তাতে বাধা দেবার চেষ্টা করায় তাকে খাট থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। এমনকি ওর গলায় আঙুলের ছাপও স্পষ্ট পাওয়া গিয়েছিলো ! আরা আমার মামা বললেন যে, খুব ভারী কিছু একটা যেন ওনার বুকের ওপড় বসে জোরে চাপ দিচ্ছিল যাতে বাধা দেয়াতে তাঁকে কষে চড় দিয়ে অজ্ঞান করে দেয়া হয় !

এই ঘটনার ছয় বছর পর, আমার কাজিনের বিয়েতে আবার ছোটো খালার বাসায় আমি যাই। ঘটনাক্রমে আমাকে থাকতে হয় ওই রুমে। সেদিনকার সে ঘটনার কথা আমার মনে ছিল না তখন। কিন্তু রাতে সে ঘরে শুয়ে আমি ভয়ানক সব স্বপ্ন দেখতে লাগলাম। একসময় দেখতে পেলাম কে যেন ভারী কিছু একটা দিয়ে অনেক জোরে আমার পায়ে আঘাত করছে। ঘুম ভেঙে গেলো সাথে সাথেই। উঠে দেখি আমার পাটা এতো ব্যাথা করছে যা বলার মতো নয়। মনে হচ্ছিলো কে যেন আমার পায়ে ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে জোরে আঘাত করছে। আম্মুকে এই ঘটনা বলার পর আম্মু আমার সাথে থাকতে ওই ঘরে আসলো। যে আম্মু একটু ঘুমিয়েছে অম্নি তিনি ঘুমের মধ্যে দেখতে পেলেন অসম্ভব ভয়ঙ্কর চেহারার একটি মহিলা…সারা শরীরে তার লোম এবং সেগুলো অনেক বড় বড়। হঠাত করে সেটা আম্মুকে একটা খামচি দিয়ে দিল। সাথে সাথেই আম্মুর ঘুম ভেঙে গেলো। আর ঘুম থেকে উঠেই আম্মু শরীরে খামচি দিলে যেমন ব্যাথা লাগে তেমন একটা ব্যাথা অনুভব করতে লাগলো। তাঁর মনে হচ্ছিলো কেউ যেন সদ্য তাঁকে খামচি দিয়ে চলে গেলো।
এই ঘটনার পর সেইদিনই ওই ঘরে মসজিদের ইমাম আর হাফেজদের ডেকে কুরআন খতম দেবার ব্যবস্থা করা হল। এরকম কিছু আর যেন না ঘটে তার জন্য সব কিছুই করা হল।
আজ এতটা বছর পার হয়ে গেলেও এই ঘটনা আমি আজও ভুলতে পারি না। ভুলতে পারবও না কখনো। সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, আপনারা আমার যায়গায় থাকলে কি করতেন? ভুলতে পারতেন কি? মতামত জানাতে ভুলে যাবেন না কিন্তু !

জানিয়েছেনঃ Sabbir Chowdhury