একটি হত্যা এবং অন্যান্য

0

হয়তো বা গল্পটি খুব ভয়ের নয়। তবে এখানের প্রতিটি বর্ণনা নিখুঁত এবং সত্য। যারা খুব বেশি ভয়ের গল্প পড়তে চান, তাদের বলছি। গল্পটি পড়ে হতাশ হতে পারেন। তাই নিজ দায়িত্বে পড়ুন।

এই ঘটনাটি আমি আমার কাকার মুখে শুনি। আমার কাকা একজন সরকারি চাকুরীজিবি। চাকুরীর খাতিরে উনাকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়েছে। একদিন আমাদের বাসায় আসার পর আমরা ৩ ভাইবোন মিলে উনাকে ধরি উনার এইসব ঘুরাঘুরির কাহিনীগুলো শোনার জন্য। কাকা আমাদের নানা ধরনের কাহিনী শোনান। কিছু কাহিনী শুনে তো আমরা হাসতে হাসতে শেষ। অবশেষে আমার ছোট ভাই নিলয় কাকাকে জিজ্ঞেস করল, ভূত প্রেত জাতীয় কোনও কাহিনী কাকা জানেন বা দেখেছেন কিনা। কাকা একটু খানি কি যেনও ভাবলেন, তারপর বললেন, একবার চোখের সামনেই দেখেছিলাম। কিন্তু তোমরা ছোট মানুষ, ভয় পাবে, এই বলে তিনি কাটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু নিলয় নাছোড়বান্দার মত লেগে রইলো। আসলে, আমি এই ব্যাপারগুলো একটু ভয় পাই, তাই খুব একটা ইচ্ছে ছিল না জানার জন্য। কিন্তু কৌতূহলের কাছে পরাজিত হলাম। তাই কাকা যখন ঘটনাটি বলছিলেন, তখন আমিও কান খাড়া করে শুনতে লাগলাম।

কাকা সেবার অফিসিয়াল কাজে কুমিল্লার লাকসামে গিয়েছিলেন। একদিন উনার অফিসের বস তাকে নিজের বাড়িতে দাওয়াত করেন। কাকার খাওয়া দাওয়ার প্রতি তেমন আগ্রহ কোনও কালেই ছিল না। শুধুমাত্র নাম রক্ষার্থে উনি রাজি হন। যাই হোক, রাতের খাওয়ার পর খানিকক্ষণ বস এবং উনার ওয়াইফের সাথে গল্প করে তিনি যখন বের হন তখন ঘড়ির কাঁটা ১১ টা পেরিয়ে গেছে। উনার বস বলছিলেন লোক দিয়ে দেয়ার জন্য কিন্তু কাকা রাজি হলেন না। বাসা সেখান থেকে খুব একটা দূরে ছিল না। হেঁটে যেতে ২০-২৫ মিনিট লাগে আর রিকশা পেলে তো কথাই নেই। কাকা বিদায় নিয়ে হেঁটে এগুতে লাগলেন। চাঁদের আলোতে পথ ঘাঁট পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। দূরে মাথের উপর আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে কৃষকরা। ধান কাটার পর যেইসব শুখনো খড় কুটা পড়ে থাকে তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। পরিষ্কারের ঝামেলা নেই। কাকা কিছুদূর এগিয়ে ডানে মোড় নিলেন। এই পথ দিয়ে কিছুদূর গেলেই রিকশা স্ট্যান্ড পাওয়া যাবে। সেখানে রিকশা পাওয়া গেলে ভালো, না পাওয়া গেলে হাঁটা ছাড়া উপায় নেই। কাকা সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কিছুই পেলেন না। হটাত রাস্তা দিয়ে হনহন করে কাউকে হেঁটে আসতে দেখলেন তিনি। সেই লোক এসে কাকার পাশেই দাঁড়ালেন। অনেক রাত্রি। এমনিতে কাকা খুব মিশুক প্রকৃতির। কিন্তু ঐ লোকের মধ্যে কথা বলার কোনও গরজ দেখা গেলো না। একমনে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। কাকা কয়েকবার গলা খাঁকারি দিলেন। কিন্তু আগুন্তক লোকটি শুনল কিনা বোঝা গেলো না। এবার কাকা নিজে থেকেই জিজ্ঞেস করলেন, যাবেন কোথায়? উত্তর নেই। কাকা আরেকটু উঁচা গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ভাইজান, যাবেন কোনদিকে? লোকটি চমকে কাকার দিকে তাকাল। আমতা আমতা করে বলল, আমাকে বললেন?

কাকা একটু অবাক হলেন, এখানে আর কেউ নেই যে জিজ্ঞেস করতে হবে “আমাকে বললেন”। কিছুটা রাগ হল উনার। তারপরও চেপে গিয়ে বললেন, জি আপনাকে বলছি। যাবেন কতদুর?

লোকটি উত্তর দিলো, এইতো সামনের স্কুলের ধাঁরে।

কাকা বললেন, ওহ। এতো রাত, রিকশা তো মনে হয় পাওয়া যাবে না। চলেন গল্প করতে করতে হেঁটে চলে যাই।

লোকটিকে দেখে বোঝা গেলো না, সে ইচ্ছুক না অনিচ্ছুক। তবে কিছুক্ষণ ভাবার পর রাজি হয়ে গেলো।

কোনও রকম কথা ছাড়াই পথ চলতে লাগলেন দুজন। কাকা নিজ থেকেই জিজ্ঞেস করলেন, কোন বাড়িতে থাকেন আপনি? আমি করিম সাহেবের বাড়িতে থাকি। ১ মাসের মত হল এসেছি। চলে যাবো কয়েকদিন পর।

লোকটি খুব নিছু গলায় বলল, আমি আগে মোল্লা সাহেবের বাড়িতে থাকতাম।

ওহ, এখন কোথায় থাকেন?

এই থাকি আরকি। আশেপাশেই।

কাকা কিছুটা অবাক হলেন। গ্রামের লোকেরা বাড়ির ঠিকানা দিয়ে সচারচর একে অন্যকে চিনে। এই লোকের মধ্যে পরিচিত হবার তেমন একটা ইচ্ছে দেখা গেলো না।

তো, ভাইজান, আপনি করেন কি? আমি একজন সরকারি চাকুরীজীবী। একটা কাজে এসেছিলাম আপনাদের গ্রামে।

লোকটি আনমনে উত্তর দিলো, আগে শিক্ষক ছিলাম। মোল্লার বাড়িতে উনার মেয়েকে পড়াতাম। তারপর কিসে কি হল। আমাকে নিয়ে নানান কথা উঠলো। আমি নাকি উনার মেয়ের সাথে প্রেম করি। এরপর চাকরিটা চলে গেলো। আমাকে বের করে দিলো বাসা থেকে।

কাকা অবাক হয়ে শুনছিলেন। এবার জিজ্ঞেস করলেন, এরপর? আপনি কিছু বললেন না?

লোকটি অদ্ভুত ভাবে হেসে উঠলো। না ভাই, আমি কিছুই বলি নি। এমনকি মোল্লা বাড়ির বড় ছেলে যখন আমাকে তার ভাড়া করা গুন্ডা দিয়ে পিটালো তখনো কিছু বলিনি। বলার শক্তি ছিল না। মার খেয়ে সারারাত পড়ে ছিলাম রাস্তার পাশের বনে। কেউ দেখেনি। আপনি নতুন, তাই হয়তো জানেন না। এলাকার সবাই জানে।

কাকার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। বলল, আপনার কথা শুনে কষ্ট পেলাম ভাই। কেউ প্রতিবাদ করল না। একটা নির্দোষ লোক মার খেলো। কেউ কিছু বলল না।

লোকটি আবারো হেসে বলল, বাদ দেন ভাই। স্কুল তো চলে এলো। আমি ডানে মোড় নেব। আপনি কোন পথে যাবেন?

কাকা বললেন, স্কুলের পিছনেই আমার বাড়ি।

আচ্ছা ভাই, গেলাম তাহলে। আপনার সাথে কথা বলে ভালো লাগলো।

কাকা লোকটাকে বিদায় দিয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন। হটাত মনে পড়লো লোকটার নাম জিজ্ঞেস করা হয়নি। সাথে সাথে ঘুরে লোকটিকে ডাক দিতে গেলেন।

সেখানে কেউ ছিল না। লোকটি কাকাকে বিদায় দিয়েছেন ২০ সেকেন্ডও হয়নি। এতো অল্প সময়ের মাঝে কোনোদিকে যাওয়া সম্ভব না। কাকা তবুও আঁতিপাঁতি করে খুজলেন। কিছুই মাথায় আসলো না। অবশেষে, কিছু বুঝে না পেয়ে বাড়ির দিকে চলে গেলেন।

পরের দিন সকালে দাঁত ব্রাশ করার সময় কাকার দেখা হয় করিম সাহেবের সাথে। কোশল বিনিময়ের পর কাকা উনাকে প্রশ্ন করলেন, মোল্লা বাড়ির শিক্ষক সম্পর্কে কিছু জানেন কিনা।

করিম সাহেব প্রথমে একটু অবাক হলেন। বললেন, আপনাকে উনার সম্পর্কে কে বলল?

কাকা বললেন, উনার সাথে দেখা হয়েছিলো আমার। বেচারার মনে অনেক কষ্ট দেখলাম। উনার সাথে অবিচার হয়েছে। বারবার আমাকে সে কথা বলছিল।

করিম সাহেব কথাটি শুনে চমকে উঠলেন। এতটাই চমকালেন যে উনার হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে গেলো।

কাকা লক্ষ্য করলেন ব্যাপারটা। বললেন, কোনও সমস্যা?

করিম সাহেব ভয়ার্ত গলায় বললেন, উনার সাথে আপনার কথা হয় কিভাবে? উনাকে তো বছর চারেক আগে পুরানো রিক্সা স্ট্যান্ডের পাশের জঙ্গল থেকে মৃত উদ্ধার করা হয়। লোকজন বলাবলি করছিলো, মোল্লা সাহেবের ছেলের কাজ। পুলিশ এসেছিলো। কিন্তু কোনও সুরাহা করতে পারেনি সুত্রের অভাবে।

কাকা যেনও নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। আস্তে আস্তে বললেন, উনার সাথে কি মোল্লা সাহেবের মেয়ের কোনও সম্পর্ক ছিল?

করিম সাহেব বললেন, জি। মোল্লা সাহেব মেয়েকে বিয়ে দেয়ার অনেক চেষ্টা করছিলো। কিন্তু মেয়ে ঐ শিক্ষককে পছন্দ করতো। তাই রাজি হচ্ছিল না। শেষে যখন শিক্ষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, সেদিনই মেয়ে ঘরে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। কিন্তু আপনাকে এতো সব বলল কে বলুন তো?

কাকা আপনমনে মাথা নাড়লেন। আর বললেন, আচ্ছা, ঐ শিক্ষক দেখতে কেমন ছিলেন?

দেখতে শুনতে ভালোই ছিলেন। কথাবার্তা খুব একটা বলতেন না। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতেন শুধু। আর হ্যাঁ, কপালে একটা কাঁটা দাগ ছিল।

কাকা এবার চমকে উঠলেন। শেষবার যখন লোকটার মুখের দিকে ভালোভাবে তাকিয়েছিলেন তখন উনি ঐ কাঁটা দাগটা স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলেন!

যিনি পাঠিয়েছেনঃ নুসরাত মেহজাবিন স্বর্ণা

বোবায় ধরা

2

আপনি হয়তো ঘুমাচ্ছেন । ঘুমানোর একটা সময় হঠাত্ আপনি অনুভব করলেন আপনার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । শ্বাস নিতে পারছেন না । মনে হচ্ছে যেন ভারী কিছু একটা আপনার বুকের উপর বসে আছে । গলায় হাতের স্পর্শ পেলেন । আপনি সবই বুঝতে পারছেন , কিন্তু আপনা সারা শরীর অবশ হয়ে আছে। ঘাম দিয়ে আপনার ঘুম ভাঙলো । আর তখনই আবিষ্কার করলেন অদ্ভূত দর্শন কিছু একটা আপনার বুকের উপর বসে আপনার গলা চেপে ধরে আছে । কেমন লাগবে তখন আপনার ??

এই ধরনের অবস্থাকে আমরা সাধারণত ” বোবায় ধরা ” বলে থাকি । অনেকে এটা ” বোবা জ্বীন ” ধরাও বলে থাকে । মেডিকেল সাইন্সের দিক থেকে বিচার করতে গেলে বোবায় ধরা অবস্থার ১০১ টা কারণ দেখানো যাবে । কিন্তু আমরা সাইন্স দিয়ে এই বোবায় ধরা বিষয় কে ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছিনা । চলুন বোবায় ধরার অজানা বিষয় এবং ঘটনা গুলো জানা যাক ভৌতিক এবং অবৈজ্ঞানিক বিচারে ।

এক লোককে প্রায়ই বোবায় ধরতো । বোবায় ধরা অবস্থায় তিনি একটা স্বপ্নই দেখতেন । তিনি দেখতেন যে , একটা বিদঘুটে বৃদ্ধা মহিলা , যার সাদা চুল , সারা মুখ আগুনে ঝলসানো , তার বিছানার পাশে বসে রয়েছে । এক পর্যায়ে বৃদ্ধা চলে যেত এবং যাওয়ার আগে লোকটার মুখে একদলা থুতু ছিটিয়ে দিত । লোকটার ঘুম সাথে সাথেই ভেঙে যেত এবং তিনি তার মুখে থুতু আবিষ্কার করতেন !!

আরেক লোক কে একবার বোবায় ধরেছিলো । তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন যে , তিনি খোলা মাঠে শুয়ে আছেন। আকাশ দিকে মুখ করে । হঠাত্ তিনি আকাশের দিকে উঠতে শুরু করলেন। একটু উঠার পর তার ঘুম ভেঙে যায় । আর তখনি তিনি বিছানা থেকে নিজেকে প্রায় ছয় ফুট উপরে দেখতে পান । তারপর সশব্দে তিনি তার বিছানায় আছড়ে পড়লেন !!

এক মহিলার স্বামীকে প্রতিদিনই বোবায় ধরে । বোবায় ধরার পর স্বামী ছটফট করা শুরু করলে মহিলা তাকে হাত ধাক্কা দেন । এরপর স্বামী স্বাভাবিক ভাবে ঘুমাতে পারেন । এক রাতে মহিলা তার স্বামীর গোঙানির শব্দ শুনতে পেলেন । মহিলা না তাকিয়েই স্বামীকে হাত দিয়ে ধাক্কা দিলেন । তারপরেও স্বামীর গোঙানি থামছিল না । মহিলা উঠে বসলেন । স্বামীর দিকে তাকালেন । তাকিয়েই মহিলার ভয়ে একটা হার্টবিট মিস হলো ! তিনি দেথলেন , তার স্বামী গভীর ঘুমে অচেতন । গলা দিয়ে গোঙানি বের হচ্ছে । আর তার বুকের উপরে আনুমানিক ৪ বছরের কালো কুচকুচে রঙের একটা বাচ্চা বসে গলা টিপে ধরে রেখেছে ! মহিলার সাথে বাচ্চাটার কয়েক সেকেন্ডের চোখাচোখি হল । কি ভয়ংকর সে চাহনি ! তারপর পরই বাচ্চাটা লাফ দিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে চলে গেল ।

অনেকেই বোবায় ধরা অবস্থায় এমন কিছু দেখে থাকেন অথবা আভাস পান , যার সাথে ভবিষ্যত্ এর কিছু কিছু ঘটনা মিলে যায় । বোবায় ধরা যেহেতু ঘুমের সাথে সর্ম্পকিত , তাই এই ঘুম জগতে এমন সব বিষয় ঘটে থাকে যা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়না । মানুষ ঘুমের মাধ্যমেই ভবিষ্যতের আভাস পেয়ে থাকে , জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে , এমনকি মৃত্যুর কাছাকাছি পর্যায়ে যেতে পারে যেটাকে ” নেয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স ” অথবা ” আফটার লাইফ ” বলে । এ বিষয়ে অন্য কোন সময় আলোচনা করা যাবে।

আল্লাহ মানুষকে সমস্যা যেমন দিয়েছেন , তেমনি সমাধানের ব্যবস্থা করেও দিয়েছেন ।

ঘুমাতে যাবার আগে ৩বার সূরা ফাতিহা , ৩ বার সূরা ইখলাছ এবং ৩ বার দরুদ শরীফ অথবা আয়াতুল কুরসী পড়লে বোবায় ধরার সম্ভাবনা থাকবেনা , দুঃস্বপ্ন দেখার মাত্রা কমে যাবে । অনেকেই বুকে আরবীতে “উমার” ( আঈন , মিম , রা ) লিখে ঘুমান । সেটা করলেও হয়তো ঘুমের ভিতর উল্টাপাল্টা কিছু হয়না । তবে সূরা পড়াই সবচেয়ে ভালো । বোবায় ধরার ব্যাপারটা যদি অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায় তো কোন বিজ্ঞ হুজুরের পরামর্শ মোতাবেক তাবিজ ব্যবহার করা যেতে পারে ।

 

একটু পর হয়তো আপনি ঘুমাতে যাবেন । আপনি কি চান ঘুমের মধ্যে কালো কিছু একটা আপনার বুকের উপর বসে গলা চেপে ধরুক ?? ঘুমের মধ্যে আমাদের ইচ্ছার প্রাধান্যই বা কতটুকু থাকে ??

HOLLYWOOD ROOSEVELT HOTEL (LOS ANGELES, USA)

0

এই হোটেলটির যাত্রা শুরু হয় ১৯২৭ সালে । রুসভেল্ট হোটেল নামে পরিচিত এই হোটেলটি লস অ্যাঞ্জেলসের যত হোটেল আছে তাদের মধ্যে অন্যতম একটি জনপ্রিয় ও বিলাসবহুল হোটেল । হলিউডের দুনিয়া কাঁপানো সব বড় বড় তারকারা আসতেন এখানে থাকার জন্য । এই হোটেলের জাঁকজমকপূর্ণ TEDDY’S NIGHTCLUB এখনও তরুণদের আকৃষ্ট করে চুম্বকের মতো ।

এতক্ষণ তো হল পরিচিতি এবার আসি এই হোটেলের ভূতুড়ে ব্যাপারে । এই হোটেলটি খুব আশ্চর্যজনক ভাবে পরিচিত তার সব বড় বড় তারকাদের আত্মাদের জন্য । যারা এক সময় পৃথিবী মাতিয়েছে । এদের মধ্যে MERILYN MONROE এবং MONTGOMERY CLIFT এর আত্মাদের উপস্থিতি খুব চোখে পড়ার মতো । এখানে যে সব ভূতুড়ে ঘটনা আলোড়ন তুলেছিল …

# মেরিলিন মনরো এর আত্মা একবার দেখা গিয়েছিলো ২২৯ নং রুমের আয়নায় এছাড়াও হোটেলের বল রুমেও তাকে নাচতে দেখা গিয়েছিলো ।

# ধারণা করা হয় ক্লীফট এর আত্মা ৯২৮ নং রুমকে ভূতুড়ে করে রেখেছে যেখানে ক্লীফট তার From Here to Eternity মুভিটি করেছিলেন এবং রহস্যজনক ভাবে এখনও ঐ রুমে তার ট্রামপ্ট খেলার আওয়াজ পাওয়া যায় ।

# একবার ৯২৮ নং রুমে থাকাকালীন অবস্থায় এক লোক অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি যখন রুমে বিছানায় শুয়ে বই পড়ছিলেন তখন হঠাৎ কে যেন তার কাঁধে হাত রাখে যদিও ওই রুমে তিনি একাই থাকতেন ।

# এই হোটেলের একটি বল রুম আছে যার নাম ব্লসম বল রুম এই রুমটির তাপমাত্রা অত্যন্ত রহস্যজনক ভাবে অন্যান্য যেকোনো রুম থেকে ১০ ডিগ্রী কম ।

# একবার একজন সাদা পোশাক পরিহিত লোককে দেখা গিয়েছিল বল রুমের পিয়ানোর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তখন সেখানে অনেকে ছিলেন এবং সবাই ওই লোকটাকে দেখেছিলেন তারা যখন ওই লোকটার সামনে যান তখন ওই লোকটা সবার চোখের সামনে হাওয়ায় মিলিয়ে যায় ।

# খুবই স্বনামধন্য একজন তারকা ক্যারল লমবার্ড এর আত্মা বহুবার দেখা গেছে এই হোটেলের ১২ তলার বিভিন্ন জায়গায় যেখানে তিনি ও তার স্বামী মাঝে মাঝে থাকতেন ।

# Saturday night live cast এর সদস্য এনা গাস্টিভার একবার এই হোটেলে থাকতে আসেন । তিনি যাওয়ার সময় কিছু অভিযোগ করে যান যেমন , তিনি একদিন রাতে উঠে দেখেন যে বল রুমের পিয়ানোটা নিজে নিজে বাজছে এছাড়াও তিনি একজন পরিচারিকাকে দেখতে পান হল রুমে কিন্তু সেই পরিচারিকা বহু আগেই মারা গেছেন ।

# একবার হোটেলের পুলে প্রহরীরা তাদের সি সি ক্যামেরাতে এক অশরীরীর উপস্থিতি দেখতে পায় তারা দৌড়ে পুলে যায় কিন্তু সেখানে কাউকে দেখতে পায় না কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল সি সি ক্যামেরাতে তখন ওই অশরীরীকে দেখা যাচ্ছিল

# এছাড়াও হোটেলের লবির সামনে একটি ঝর্ণা আছে যার সামনে প্রায়ই ক্যারোলিন নামক এক ছোট বালিকাকে গান গাইতে ও দড়ি লাফাতে দেখা যায়

# মাঝে মাঝে হোটেলের অতিথিরা তাদের রুম ছেড়ে বাহিরে বের হলে এসে দেখতে পান তাদের রুম ভেতর থেকে কে যেন লক করে দিয়েছে ।

"জাদি লাম" বা "জ্ঞানী বৃদ্ধ"

0

বান্দরবানের বাইশারী নামক এলাকায় নাকি মাসে একদিন এক বৃদ্ধের দেখা পাওয়া যায়।। মারমারা সেই বৃদ্ধের নাম দিয়েছে “জাদি লাম” বা “জ্ঞানী বৃদ্ধ” ,  এই বৃদ্ধ নাকি মারমাদের  “তাইফুন তালেক” নামের এক দেবতাকে পূজা করার ব্যাপারে উৎসাহ দেন।। “তাইফুন তালেক” মৃত্যুর দেবতা।। বলা হয়ে থাকে, মৃত্যুর দেবতা কাউকে পছন্দ করলে সে নাকি শতবর্ষজীবী হয়।। অপরদিকে এই দেবতা কারো সর্বনাশ করতে চাইলে কারো নাকি সাধ্য নেই তাকে বাঁচানোর।। তবে দেবতা সরাসরি ঐ মানুষকে শাস্তি না দিয়ে তার পরিবারের কেউ (বিশেষ করে ছোট বাচ্চা থাকলে তাকে) শাস্তি দিয়ে থাকেন।। শাস্তির ধরনটাও অনেক অদ্ভুত।। যেই ব্যক্তিকে দেবতা শাস্তি দিবেন তাকে যত সতর্ক অবস্থায় রাখা হোক না কেন সে ঘর থেকে উধাও হয়ে যায়।। তারপর তাকে “প্রান্তিক পাহাড়” নামক এক পাহাড়ের কাছে পাওয়া যায়।। অবশ্য মানুষটি মৃত থাকে তখন।। বীভৎস ভাবে মাথা থেঁতলে দেয়া হয় কোন পাথরের আঘাতে।। এতকিছুর পরেও “জাদি লাম”কে কেউ কখনো কিছু বলতে পারে নি।। একবার এক লোকের বাচ্চা তথাকথিত মৃত্যুর দেবতার আক্রমণে মারা গেলে সে রাগে জিদে “জাদি লাম”কে জনসম্মুখে প্রচুর মারধোর করে।। এমনকি তার গায়ের কাপড় খুলে নেয় মারতে মারতে।। “জাদি লাম” সে মাসে খুড়িয়ে খুড়িয়ে ফিরে যায় তার বাসস্থান জঙ্গলের দিকে।। সেই রাতেই ঐ লোকটির (যে “জাদি লাম”কে মারধোর করেছিলো) ঘর থেকে আর্তচিৎকারের শব্দ পায় এলাকার মানুষরা।। তাড়াতাড়ি করে যে যেভাবে পারে আগুন, কুপি নিয়ে ঐ লোকের বাসায় পৌঁছালে দেখা যায় লোকটি ঘরের মেঝেতে মৃত পড়ে আছে।। তার সারা গায়ের চামড়া তুলে নেয়া হয়েছে।। মাটিতে পড়ে আছে একদলা মাংসপিণ্ড।। লোকটির বউ বিস্ময়ে বোবা হয়ে গেছে।। ঘটনার অনেক পরে একদিন তার বউকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে সে জানায়, বরাবরের মতোই সে এবং তার স্বামী রাতের খাওয়া খেয়ে ঘুমাতে যাচ্ছিলো।। তার স্বামী হুক্কায় আগুন দিয়ে হুক্কা টানছিল।। এমন সময় হটাত ঘটাং করে তাদের ঘরের দরজা খুলে যায়।। প্রচণ্ড বাতাস বইতে থাকে ঘরের মাঝে।। বাতাসের তোরে ঘরের বাতি নিবে যায়।। এরপর লোকটির বউ শুধু শুনতে পায় তার স্বামী চিৎকার করছে।। প্রচণ্ড ব্যথায় জন্তু জানোয়ারের মতো খাবি খাওয়ার মতো শব্দ করছে।। বাতাসটা ১মিনিটের মতো ছিল।। তা চলে যাওয়ার পর কুপিতে নিজে নিজেই আগুন ধরে উঠে।। দরজা জানালা সব স্বাভাবিক হয়ে যায়।। বিস্ময়ের সাথে সেই মহিলা দেখে চোখের সামনে স্বামীর চামড়া ছাড়ানো লাশ পরে আছে।।

 

ঘটনাটি আমার এক মারমা বন্ধুর কাছ থেকে শোনা।। সেদিন কথার ছলে সে বলছিলো মারমাদের অঞ্ছলে নাকি এমন অনেক ঘটনাই আছে যার কোন ব্যখ্যা নেই।। সে আমাকে নিজ থেকে অনুরোধ করেছিলো যেন ঘটনাটি ভূতুড়ে গল্পতে শেয়ার করি।।

 

আপনারা কেউ এইসব ব্যপারে জানলে জানাতে পারেন।। এই ব্যপারে যেকোনো বিস্তারিত বা ধারণা থাকলে কমেন্টে জানালে খুশি হবো।।

 

– ইরফান।।

একটি ছোট সত্য ঘটনা

0

।। বিশ্বাস অবিশ্বাস আপনাদের কাছে ।।

এটা আমার চাচির মুখে শোনা আমার দাদাকে নিয়ে একটা ঘটনা।আজ থেকে প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগের ঘটনা।আমার দাদা একজন পরহেজগার মানুষ ছিলেন।প্রত্যেক ওয়াক্ত নামায সময়মত আদায় করতেন।এক রাতে তিনি ঠিক করলেন মসজিদে সারারাত থেকে আল্লাহর ইভাদাত বন্দেগী করবেন।এই জন্য তিনি সকাল সকাল মসজিদে চলে আসেন।তার ইচ্ছা ছিল পরেরদিন ফজরের নামাজ পরেই আবার বাড়ী ফিরে আসবেন।ঘটনা ঘটে সেখানে।মসজিদে যাওয়ার পথে একটা পুকুর পরে আত তার পাশে বেশ কিছু নারিকেল গাছ।রাতের বেলা গাছ গুলো দেখতে বেশ ভূতুরে দেখায়।দাদা যখন মসজিদে যাচ্ছিলেন তখন পুকুরের পানি বেশ ভালই ছিল।গাছগুলোও স্বাভাবিক ছিল।তিনি মসজিদে গেলেন এবং ভোরে ফজরের নামাজ পরে তিনি মসজিদ থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন।ওই পুকুরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তার টর্চ লাইটের আলো পুকুরে ফেলে দেখেন সেখানে পানি নেই,লাল লাল কি যেন।তিনি আলো ঘুরিয়ে কিনারার দিকে ফেলেই ভয়ে আতকে উঠেন.সেখানে পড়ে ছিল বেশ কিছু মানুষের লাশ,আধ খাওয়া লাশ,কারো মাথা অর্ধেক খাওয়া,কারো হাত নেই,কারও কোমরের নিচের অংশ নেই।দেখে বোঝা যাচ্ছিল সেগুলো খেয়ে ফেলে রাখা হয়েছে আর তাতেই পানি লাল হয়ে গেছে।তিনি ভাবছিলেন যে সকালে তো সব ঠিক ছিল,তাহলে এত মানুষের লাশ সবার চোখের আড়ালে এল কিভাবে।হঠাত পানিতে ধপাস করে একটা শব্দ হল।তিনি আলো সেখানে ফেলে দেখলেন পানিতে আরেকটা লাশ এসে পড়েছে।তিনি উপরের দিকে আলো ফেলে দেখেন তাল গাছের ডগায় মানুষের আকৃতির বেটে আকারের কি যেন একটা মৃতদেহ খাচ্ছে,তাদের পাশে ডালে আরও কিছু মৃতদেহ রাখা।দাদা যা বুঝার বুঝে গেলেন।এটা জ্বীনেরকারবার।পরহেজগার ছিলেন বলে জ্বীন তাড়াবার কিছু উপায় তিনি জানতেন।

তিনি পাশ থেকে একটা কাঠি নিলেন আর তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন,”এবার দেখবো তোদের কে বাচায়” এই বলে তিনি সূরা পরতে পরতে কাঠি দিয়ে মাটিতে একটা বৃত্ত আকতে শুরু করলেন।অর্ধেক আকা হয়েছে এমন সময় সেই জ্বীনদুইটা হঠাত একটা বিকট আর্তনাদ করে ওঠে।তারা নিচের দিকে তাকিতে দেখে দাদার বৃত্ত আকা প্রায় হয়ে গেছে।তারা ততক্ষনাত লাশটা ফেলে খুব জোড়ে একটা দৌড় দেয়।লাশটা সরাসরি দাদার কাধে এসে পড়ে।দৌড় দেওয়ার সময় গাছের ডাল ভাঙ্গার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল।দাদার উদ্দেশ্য ছিল ওই জ্বীন দুটোকে বৃত্তে বন্দী করে পরে বৃত্ত মুছে ফেলবেন।

লিখে মানুষকে ভয় পাওয়ানো কঠিন।তবে কার সাথে কখন কিভাবে কি ঘটতে পারে সেটাই হচ্ছে এই ঘটনাগুলো লেখার উদ্দেশ্য।

পিশাচ কাহিনী (কালো যাদু)

0

‘সব কাজ সবার দ্বারা সম্ভব না।’, তীব্র আপত্তির সুরে বললেন আহসান সাহেব।

আহসান সাহেব তপুর বড় চাচা। রাজশাহী শহরের একজন শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। রাজশাহী কলেজের ইংরেজি বিভাগের

অধ্যাপক। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি পড়াশুনা করেছেন কিন্তু একটা বিষয় নিয়ে রীতিমত গবেষণা করেছেন আর

সে বিষয়টা হল ব্লাক ম্যাজিক বা কালো যাদু। ব্লাক ম্যাজিকের উপর তিনি প্রচুর পড়াশুনা করেছেন, রাতের পর রাত

কাটিয়েছেন শ্মশানঘাট আর কবরস্থানে। এমনকি হাতে কলমে ব্লাক ম্যাজিক শেখার জন্য তিনি বেশ কিছুদিন

কাটিয়ে এসেছেন আফ্রিকায়, শিখেছেন সেখানকার ভয়ংকর সব কালো বিদ্যা, যার আফ্রিকান স্থানীয় নাম হল ভূডু। তপু আহসান সাহেবের ছোট ভাইয়ের ছেলে। রাজশাহী কলেজের ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। প্রচণ্ড ভালবাসেন

তিনি তপুকে। তপুর প্রত্যেকটা আব্দার তিনি পূরণ করেন, কোন কিছুতেই না করেন না। কিন্তু যখন তপু বলল, সে ব্লাক ম্যাজিক

শিখতে চায়, তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, তপুর পক্ষে এটা সম্ভব নয়।

‘কেন সম্ভব না, তুমি পারলে আমি কেন পারব না?’, বলল তপু।

‘দেখ তপু, ব্লাক ম্যাজিক ছেলেখেলা না, পদে পদে এখানে বিপদের আশঙ্কা থাকে।’

থাকুক, তবুও আমি শিখব।’ একগুঁয়ের মত জবাব দিল তপু।

‘আমি তোকে শিখাবো না’ বড় চাচাও কম যাননা।

‘চাচা প্লিজ, আমি ঠিক পারব। দেখো কোন বিপদ হবে না।’

‘তপু, তোকে আমি খুব ভালোভাবে চিনি, তোর দ্বারা এসব সম্ভব না। প্রচণ্ড সাহস লাগে এতে। সাহস না থাকলে ব্লাক ম্যাজিকের প্রথম স্তরটাই পার হওয়া যায় না।’

‘কিন্তু আমি পারব। সাহস আমিও কম রাখিনা।’ তীব্র জেদের সাথে উত্তর দিল তপু। ‘হ্যা, জানি তোর সাহস কতদূর। কদিন আগেও তো নিজের ছায়া দেখে ভয় পাতিস।’

‘সে তো বহুদিন আগের কথা, তখন তো আমি এক্কেবারে ছোট ছিলাম। ওসব কথা বাদ দাওতো, তুমি শিখাবে কিনা বলো।’

‘ না’ এক কথায় উত্তর দেন আহসান সাহেব।

‘চাচা প্লিজ, খালি একটা সুযোগ দাও। দেখো, আমি ঠিক পারব। যদি না পারি, তাহলে আর কখনও তোমাকে জ্বালাবো না। শুধু

একটা সুযোগ দাও।’ অনুনয় ঝরে পরল তপুর কন্ঠ থেকে।

‘ কিন্তু …….’

‘প্লিজ চাচা, প্লিজ’

কিছুক্ষণ চুপ করে কি যেন ভাবলেন আহসান সাহেব।

‘ঠিক আছে, কিন্তু মনে রাখিস একটাই মাত্র সুযোগ পাবি তুই। একটা ছোট পরীক্ষা হবে, যদি উত্তীর্ণ না হতে পারিস তাহলে আর কখনও ব্লাক ম্যাজিকের নাম মুখেও আনতে পারবিনা, ঠিক আছে?’ বললেন আহসান সাহেব।

‘রাজি,’ আনন্দে সব কটা দাঁত বের করে হাসল তপু।

 

‘আজ পঁচিশ তারিখ। পরশুদিন অর্থাৎ সাতাশ তারিখ অমাবস্যার রাত। পরশুদিন ঠিক রাত বারটার সময় একটা মাটির হাড়ি,এক সের আতপ চাল আর বিশটা দাঁতন নিয়ে কাদেরগঞ্জ কবরস্থানের ভিতরে ঢুকে যাবি। সোজা কিছুক্ষণ চলার পর অনেক

পুরনো একটা বটগাছ দেখতে পাবি। বটগাছটার ডান পাশ দিয়ে একটা ছোট রাস্তা চলে গেছে। সেই

রাস্তা দিয়ে একেবারে সোজা চলে যাবি। সেই রাস্তার একেবারে শেষ মাথায় দেখবি অনেক পুরনো একটা ভাঙ্গা কবর

আছে। কবরটার পাশে একখণ্ড ফাঁকা মাঠ আছে। ঐ মাঠের মাঝখানে ছোট একটা চুলা খুঁড়বি, তারপর দাঁতন দিয়ে চুলাটায় আগুন

ধরিয়ে হাঁড়িতে চাল আর পানি দিয়ে ভাত চড়িয়ে দিবি। চাল ফুটে ভাত না হওয়া পর্যন্ত একটা করে দাঁতন দিয়ে চুলায় জ্বাল দিতে থাকবি। ভাত হয়ে গেলে হাঁড়িশুদ্ধ ভাত নিয়ে সোজা আমার কাছে চলে আসবি। যদি এই কাজটা করতে পারিস

তাহলে আমি আর কোন বাঁধা দেবনা, পরশু থেকেই তোর ব্লাক ম্যাজিকের দীক্ষা শুরু হবে।’ বললেন আহসান সাহেব।

‘ব্যাস এইটুকুই?’, একটু অবাকই হল তপু, ‘আমি তো ভেবেছিলাম খুব কঠিন কোন পরীক্ষা হবে। ঠিক আছে চাচা, ভেবে নাও

আমি পরীক্ষায় পাশ করে গেছি।’

‘একটা ব্যাপারে তোকে সাবধান করে দেই তপু, ভাত রান্না করার সময় হয়তো আশেপাশে অনেক রকম শব্দ শুনতে পাবি, হয়তো শুনবি কেউ তোর নাম ধরে ডাকছে কিংবা কেউ হয়তো সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে, খবরদার সেই

ডাকে সাড়া দিবিনা, খবরদার। আসলে আমি নিজেও জানিনা ওখানে কি ঘটবে, শুধু বলে রাখছি, সবসময় সাবধান থাকবি’

সাবধান করলেন আহসান সাহেব। চাচার দিকে তাকিয়ে থাকল তপু। ঠিক বুঝতে পারল না, চাচা তাকে ভয় দেখাচ্ছে না সত্যিই সাবধান করছে তবে যাই হোক

না কেন সে ভয় পাবে না, এই পরীক্ষায় তাকে পাশ করতেই হবে।

 

সাতাশ তারিখ রাত পৌনে এগারটা বাজতে না বাজতেই তপু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে কাদেরগঞ্জ কবরস্থানের

উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেল। তপুদের বাসা থেকে কাদেরগঞ্জ কবরস্থানে রিকশায় যেতে সময় লাগে প্রায় এক ঘন্টা। ঠিক

পৌনে বারোটায় তপু কবরস্থানের গেটে পৌঁছে গেল। এতক্ষণ প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস থাকলেও, কবরস্থানের ভয়াবহ

নিস্তব্ধতা তপুর আত্মবিশ্বাসকে অনেকটা দমিয়ে দিল। দুরুদুরু বুকে কবরস্থানের গেটে আস্তে ধাক্কা দিল তপু। প্রায় নিঃশব্দেই খুলে গেল গেটটা। কোনদিকে না তাকিয়ে সোজা সামনের দিকে হাটা দিল তপু। চাচার নির্দেশমতো কিছুক্ষণ চলার পরে অবশেষে ভাঙা কবরটার পাশের ফাঁকা মাঠটা খুঁজে পেল। মাঠটার মাঝখানে ছোট্ট একটা চুলা খুঁড়ল। এরপর চারটা দাঁতন একসঙ্গে ধরিয়ে চুলায় আগুন জ্বালাল। হাঁড়িতে চাল আর পানি দিয়ে চুলার উপর চড়িয়ে দিল। এরপর

একটা একটা করে চুলায় দাঁতন দিতে থাকল তপু। সময় যেন খুব ধীরে কাটতে লাগল। তেরটা দাঁতন শেষ, ভাত ফুটতে আর খুব

বেশি দেরি নাই। কোথায় যেন একটা কুকুর ডেকে উঠল। অকারণেই শরীরটা একটু ছমছম করে উঠল তপুর।

হঠাৎ খেয়াল করল, ওর থেকে বড়জোর সাত-আট হাত দূরে একজন মহিলা বসে একটা চুলা খুঁড়ছে। কোলে একটা বাচচা। ঘোমটা দিয়ে ঢেকে রাখার কারণে মহিলার চেহারা দেখতে পারলনা তপু। অবাক হয়ে তপু দেখল, ওই মহিলাটাও ঠিক তারই মত করে দাঁতন দিয়ে চুলা জ্বালিয়ে ভাত রাঁধতে লাগল। আশ্চর্য, পাশে যে একজন লোক বসে আছে তা যেন মহিলাটা দেখেইনি। আপন মনে একটা একটা দাঁতন দিয়ে চুলায় জ্বাল দিতে থাকল। তপু ঠিক বুঝতে পারেনা, ওই মহিলাও

কি তপুর মত কালো যাদু শিখতে চায়? কেন? নিজের কাজ ফেলে সম্মোহনী দৃষ্টিতে মহিলার কাজ দেখতে থাকে তপু।

 

মহিলাটা তপুর দিকে তাকাতেই ভয়ের একটা শীতল শিহরন বয়ে গেল তপুর শরীর বেয়ে। কোথায় মহিলা,

একটা পিশাচীনি ভয়ংকর চোখে তাকিয়ে আছে তপুর দিকে। মুখ থেকে মাংস পচে গলে পড়ছে, চোখের জায়গায় দুটো শুন্য কোটর ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে তপুর দিকে। আবার খ্যাঁনখ্যাঁনে কন্ঠে বলে উঠল পিশাচীটা, “ আয়, আমার কাছে আয়। আয় মিনসে,

আজ তোকে দিয়েই আমার সাধনা শেষ করব।” বলে শাড়ির ভিতর থেকে একটা লোমশ কুৎসিত হাত বের করে তপুর

দিকে বাড়িয়ে দিল পিশাচীটা।

পরদিন। কাদেরগঞ্জ কবরস্থানের গেটের ঠিক সামনে এসে একটা গাড়ি থামল। গাড়ির দরজা খুলে আহসান সাহেব বের হয়ে আসলেন। কবরস্থানের গেট খুলে সোজা পথ ধরে হেঁটে গেলেন। বটগাছটার সামনে যেতেই দেখতে পেলেন অচেতন তপুকে।

একটু হাসলেন তিনি। তপুকে ঘাড়ে করে তুলে নিয়ে গাড়ির পিছনের সিটে শুইয়ে দিলেন তারপর গাড়ি ছুটালেন সোজা বাড়ির

দিকে। ‘সব কাজ সবার দ্বারা সম্ভব না।’, বিড়বিড় করে বলে উঠলেন তিনি।

Collected from রহস্য পত্রিকা

চিত্রকুটুম

3

লোডিং…লোডিং…লোডিং….

 

নিজের পিসি টাকে মাঝে মাঝে ভেঙ্গে ফলতে ইচ্ছে করে রানার।সারাদিনে তেমন সময় পায় না,রাতে একটু ফেসবুকটা খুলে বসে।আজকে বাসা পুরো খালি ভেবেছে অনেক রাত পর্যন্ত চ্যাট করবে।কিন্তু তাতেও ব্যাগড়া দিচ্ছে শ্লথ মার্কা নেট কানেকশন।

বিভিন্ন পেইজের পোষ্ট দেখতে দেখতে রানার প্রিয় হরর পেইজের পোষ্টটা সামনে পড়ল।

রাত ১১:৩৭,অবশেষে তাহলে আজকের পোষ্টটা দিল পেইজের এডমিন।একটা দিন যদি ঠিক সময়ে পোষ্ট করতো।তাও নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল,কোন কোন দিন তো পোষ্টই দেয় না।নিজের উপমার কথা নিজেই ভাবতে লাগল রানা,কানা মামা আবার ভাল ক্যামনে হয়?একখান মাএ মামা তাও আবার কানা,এরচেয়ে মামা না থাকাই তো ভাল।পুরা ফালতু উপমা!

আজকে দেখি কোন গল্পই দেয়নি বরং এক গাঁজাখুরি ভৌতিক ছবি দিয়া রাখছে।

ছবির নিচে কোটেশনে লেখা,

।।”এই ছবিতে যে ঘরটি দেখা যাচ্ছে এইঘরে ১৯৬৭ সালে একটি পরিবার আগুনে পুড়ে মারা যায়।পরে বিধস্ত ঘরটির ছবি তোলার সময় এক অজ্ঞাত সাংবাদিকের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এই ছবিটি।ছবিটিতে কালো কাপড় পড়া একটি ছোট মেয়েকে দেখা যাচ্ছে।আজ পর্যন্ত যারাই এই ছবিটি দীর্ঘক্ষন দেখেছে তাদের কোন না কোন সমস্যা হয়েছে”।।

 

কোন মানে আছে এইগুলির।যত্তসব ফটোশপের কারবার।

যারা এইসব বের করে তাদের কানের লতির নিচে কইস্সা একটা চড় মারতে পারলে ভাল লাগত রানার।

ছবিটার দিকে খানিকক্ষন তাকিয়ে থাকল রানা।আজব ছবি,একটা ১০-১২ বছরের মেয়ে।সুতির কালো জামা পড়া,চোখ দুটো মনিহীন সাদা।চামড়া ফ্যাকাসে,দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকলে যেমনটা হয়।

এরপর স্ক্রলিং করে নিচে নেমে কমেন্টগুলো পড়তে লাগল।

ভয়ানক,উফফ্ ভয় পেলাম,ঘুম আসছে না ইত্যাদি ইত্যাদি।

আরেকবার ছবিটা দেখার জন্য কারসরটা উপরে তুলে আনতেই খানিকটা অবাক হল রানা।ছবির মেয়েটি কই গেল?একটু আগেও তো ছিল এখন বিধ্বস্ত ঘরের সেই জায়গাটা ফাঁকা।তাজ্জব ঘটনা!নেটে আজকাল এইসবও হয় নাকি!

কিছুক্ষন চিন্তা করেও কোন কূল পেল না সে।

এরপর সবচিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আবার লাইক কমেন্টসে ব্যাস্ত হয়ে গেল।

কিছুক্ষন পর রানার মনে হল কেউ তার পিছনে রুম জুড়ে হাঁটছে।সে ব্যাপারটা প্রথমে পাত্তা দিল না।কিন্তু ধীরে ধীরে কেমন যেন অস্বস্তি হতে লাগল।

ঘড়ির দিকে তাকাল রানা,১:০২বাজে।কম্পিউটারটা সাটডাউন করে ঘুমিয়ে পড়ার স্বিদ্ধান্ত নিল সে।বাথরুম থেকে হাঁতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে এল।প্রতিদিন ঘুমুতে যাওয়ার আগেই এটা করে।এতে ঘুমটা ভাল হয়।বিছানায় শুয়ে সারাদিনের কাজকর্মের কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল নিজেও জানে না।

হঠাত্‍ একটা শব্দে ঘুমটা চটকে গেল।

ফোঁস্ ….!

আবার হল আওয়াজটা।কে যেন খাটের তলায় নিঃশ্বাস ফেলছে।চোর-টোর নয় তো?

ধীরে ধীরে বা দিকে ঘুড়লো রানা।ওইতো কোনায় পর্দা টানানোর স্টান্ড লাঠিটা দেখা যাচ্ছে।এক ঝটকায় ওটা নিয়ে লাফিয়ে খাট থেকে নেমে এল সে।

 

কে?কে ওখানে?বেড়িয়ে আয় বলছি হারামি।প্রানে বাঁচতে চাইলে বেড়িয়ে আয় এক্ষুনি।দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে উঠল রানা।

 

কোন আওয়াজ নেই।রুমের বাতিটা জ্বালিয়ে খাটের নিচে তাকাতেই কিছুই দেখতে পেলনা।তাহলে শব্দটা করল কে?

সে স্পষ্ট শুনতে পেয়েছে শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজ।মনে হয় দুঃস্বপ্ন ছিল।

এক গ্লাস পানি খেয়ে,বাতিটা নিভিয়ে আবার বিছানায় ফিরে গেল রানা।

ঘরটা কেমন হিমশীতল মনে হচ্ছে।কিন্তু জুন মাসে তো এমন ঠান্ডা লাগার কথাই না।বাড়তি যন্ত্রনা হিসেবে কেমন জানি পোড়া গন্ধ পাচ্ছে।সাথে যোগ দিল হতভাগা লোডশেডিং।

ধ্যাঁত…!এভাবে ঘুমানো যায়?

ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দায় এসে দাঁড়ালো রানা।আকাশে বিশাল থালার মত পূর্নিমার চাঁদ।ঘরে যদিও ঠান্ডা লাগছিল,তবু কেমন অস্থির লাগছিল।সামনের রাস্তায় কেউ নেই,একটা কুকুর কোথা থেকে হেঁটে আসছিল।রানার দিকে মুখ তুলে তাকাল ওটা।হঠাত্‍ কি যেন দেখে ভয়ে কুঁকড়ে গেল ওটা।চিত্‍কার করে লেজ তুলে উল্টো পথ ধরল।রানা কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।কুকুরটা এমন করল কেন?

রাস্তা থেকে চোখ ফেরাতেই ধক্ করে উঠল তার বুকটা।বারান্দার কোনায় কেমন একটা গুমোট অন্ধকার।কালো একটা পিন্ড যেন কেমন গুলিয়ে গুলিয়ে আকার পরিবর্তন করছে।ওপাশের কিছুই দেখা যাচ্ছে না এমনকি বারান্দার পাশের ফুলের টবগুলোও।ভয়ের একটা শীতল স্রোত তার শিরদাড়া বেঁয়ে নেমে এল।এইসব কি হচ্ছে!

হ্যালুসিনেশান…!মারাত্মক হ্যালুসিনেশানের পাল্লায় পড়েছে তার মস্তিস্ক।বেশিক্ষন দাড়িয়ে থাকতে পারলনা সে।বারান্দার দড়জাটা লক করে রুমে এসে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল।

কিছুক্ষন পর যথারীতি আবার সেই ফোঁস ফোঁস নিঃশ্বাসের আওয়াজ।

সাহসে কুলোচ্ছিল না এরপরেও কাঁথার নিচ থেকে মুখটা বের করলো রানা।ঘর জুড়ে কালো ছায়ামত কি যেন একটা শ্লথ গতিতে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।ধীরে ধীরে একটা মেয়ের আকৃতি ধারন করছে ছায়াটা।কালো জামা পড়া সেই মেয়েটা।

কাঁথার নিচে দরদর করে ঘামছে রানা।হার্টবিট বেড়ে গেছে।

ধোঁয়ার কুন্ডলিটা এসে দাঁড়াল ঠিক তার পায়ের কাছে।সাদা মনিহীন একজোড়া চোখ ভেসে উঠল সেই ধোঁয়ার কুন্ডলী জুড়ে।

ভয়ংকর এক সত্যের মুখোমুখি রানা।

এইসব কি দেখছে সে !

এটা কি স্বপ্ন।শীতল একটা স্পর্শ টের পেল সে তার পায়ে।হীমশীতল একটি হাত শক্ত করে চেপে ধরেছে তার পা।চিত্‍কার করেও তো লাভ নেই।এমন কেউ নেই তাকে বাঁচাবে,একমাএ উপরওয়ালা ছাড়া ।

 

রানা নিজের পা টা ছাড়ানোর প্রানপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু ছাড়াতে পারছেনা।এদিকে মেয়েটির মুখে ক্রুর হাসি ফুটে উঠেছে।

মনে মনে দোয়াদুরুদ পড়ার চেষ্টা করতে লাগল। শরীরটা অসাঢ় হয়ে আসছে তার,চোখের সামনে সব কিছু কেমন ঝাপসা হয়ে আসছে।বোধহয় জ্ঞান হারচ্ছে সে।

 

হাতের কাছে নরম কিছু একটা ঠেকতেই চোখ খুললো রানা।সকালের মিঠে রোদ জানালার ফাঁক গলে এসে পড়েছে তার মুখে।নিজেকে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় আবিষ্কার করলো সে,হাতের মুঠোয় বিছানার চাদর আর বালিশটা কাছেই পড়ে আছে।

রাতে কি ঘটেছিল তার সাথে?

ধীরে ধীরে মনে করার চেষ্টা করতে লাগলো রানা।একটু পরেই সব মনে পড়ে গেল তার।

এটি কি কোন দুঃস্বপ্ন ছিল নাকি সত্যিই অযাচিত কেউ ঢুকে পড়েছিল তার ঘরে।

সবই হয়তো তার মনের ভুল।একেই বোধ করি হ্যালুসিনেশান বলে।

নিজের পায়ের দিকে চোখ পড়তেই আরেক দফা আতংকে শিউরে উঠল সে।

রক্ত জমাট বেঁধে পাঁচটি আঙ্গুলের দাগ এখনো স্পষ্ট হয়ে আছে।

 

(সমাপ্ত)

লিখেছেনঃ Diptto binhonggo pinak.

আমার বড় মা এবং তার তিন মেয়ে

2

আমার দাদার বাড়ি মুনশিগঞ্জ জেলায়। দাদারা চার ভাই। কোন বোন নেই। যদিও দাদার মা তিন মেয়ে সন্তান জন্ম দেন, কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তার কোন মেয়েই

জন্মের পর বেশিদিন বাঁচত না। তারা মারা যেতো বিভিন্ন দুর্ঘটনায়। এবং সেই সব দুর্ঘটনার কথা শুনলে আসলেই মনে হয় এদের মৃত্যুর পিছনে অন্য কোন অশুভ শক্তির হাত আছে। আমি বড় হয়ে দাদা ভাইয়ের কাছে এই ঘটনাগুলো শুনেছিলাম। যেভাবে শুনেছি ঠিক সেভাবেই বলছি।

প্রথমে দাদা ভাইয়ের যে বোন হয় অর্থাৎ বড় মায়ের প্রথম সন্তান তার জন্মের ঠিক ৩ মাস পরের ঘটনা। ঘরে শুধু দাদা ভাইয়ের আম্মু আর উনাদের এক কাজের মেয়ে। কাজের মেয়ে বড় মা(দাদা ভাইয়ের আম্মু) কে সাহায্য করছিল রান্নার কাজে। বড় মা রান্না শেষে ঘরে গিয়ে দেখেন তার মেয়েটা নেই। তিনি চিৎকার করে উঠেন এবং দরজা খুলে বের হন। বের হয়ে বাড়ির বাকি সবাইকে ডেকে একত্রে করেন। সবাই ঘরের আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও কোথাও মেয়েটিকে পায় না। অবশেষে পুকুরপাড় থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পানিতে ডুবে মৃত্যু এমনটাই ছিল কারণ। কিন্তু ৩ মাসের একটি বাচ্চা কিভাবে এতদুর গেলো? ঘরের দরজা লাগানো ছিল এবং ঘরে শুধু দুজন মানুষ ছিল। মাত্র ১০ মিনিট রান্নাঘরে ছিলেন তারা। তাতেই এতকিছু ঘটে গেলো।

বড় মার দ্বিতীয় মেয়েটি হয় তিন নম্বরে। অর্থাৎ এর মাঝে দাদা ভাই এবং উনার এক ভাই হয়েছেন। সেই মেয়েটি কিছুদিন বেঁচে ছিলো। বয়স যখন ১ বছর তখন বড় মা মেয়েকে নিয়ে উঠোনে বসে ছিলেন। উনি সুপারি কাটছেন আর পাশে বসে তার মেয়ে একটি পুতুল দিয়ে খেলছে। বড় মা সুপারি কাটতে কাটতে হটাত খেয়াল করলেন তার মেয়ে তার পাশে নেই। তিনি যেখানে বসে ছিলেন সেখান থেকে পুরো উঠোন দেখা যায়। এভাবে গায়েব হয়ে যাবার প্রশ্নই উঠে না। সেই মেয়ের কোন ঠিকানাই পাওয়া গেলো না। বড় মা প্রায় মৃত্যুর দশায় চলে গেলেন। কিছুদিন পর খড়ের গাদা (যেখানে গরুর খড় জমা করে টালি দিয়ে রাখা হয়) থেকে কেমন বিচ্ছ্রি গন্ধ বের হতে লাগলো। মানুষজন কৌতূহলী হয়ে খড়ের গাদা সরালে সেখান থেকে বড় মার দ্বিতীয় মেয়ের লাশ পাওয়া যায়।

বড় মার তৃতীয় মেয়েটি ছিল সবার ছোট। এই মেয়েটি বেঁচে ছিলো অনেকদিন। তাকে সারাদিন অনেক চোখে চোখে রাখা হত। একা কোথাও যেতে দেয়া হতো না। কেউ না কেউ আঠার মতো লেগে থাকতো। সেই মেয়ে একদিন ঘরের মধ্যে আত্মহত্যা করে মারা যায়। ফ্যানের সাথে ফাঁস লটকে। ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। রাতে খাবারের সময় ডাক দিলে পাওয়া না গেলে সবাই মিলে দরজা ভেঙে ফেলে এবং সেখান থেকে বের করে ঝুলন্ত লাশ।

আমি জানি না আমার বড় মা কিভাবে এসব সহ্য করেছিলেন। উনাকে এই ব্যপারে কখনো কথা বলতে দেখি নি কেউ। উনি নাকি খুব স্থির হয়ে গিয়েছিলেন। কারো সাথেই কথা বলতেন না একদম। আমি নিজেও একজন মেয়ে। মনে হয় না আমার সাথে এমনটা ঘটলে কখনো মেনে নিতে পারতাম। আল্লাহ আমার বড় মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছেন। জানি না কি তার কারণ।

দাদা ভাইয়ের কাছ থেকে এসব শোনার পর অনেক ভেবেছি। কিন্তু কিছু বুঝে পাই নি। একই পরিবারে এতো মানুষ কিভাবে এমন ভাবে মারা যেতে পারে?

যিনি পাঠিয়েছেনঃ আফরোজা সুলতানা নিধি

একটি রহস্যময় মৃত্যু

0

আমি দীপক। আগে ঢাকায় থাকতাম। বর্তমানে সিলেটে একটি ব্যাংকে কর্মরত আছি। আজকে আপনাদের সাথে যেই ঘটনা শেয়ার করবো তা আমার নিজের চোখে দেখা। আমি তখন ক্লাস ৪ এ পড়ি। থাকতাম তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনিতে। স্কুল থেকে বাসায় এসেই খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। যেদিনের ঘটনা সেদিন বিকেলেও স্কুল থেকে এসে খেলতে গেলাম।

 

আমাদের বাসার ঠিক সামনের বাসায় রাকিব নামে একটি ছেলে থাকতো। আমার সমবয়সী। দারুন খ্যাপাটে মেজাজের এবং ডানপিটে। আমরা সবাই তাকে একটু ভয় করতাম। যাই হোক, সেদিন আমরা ক্রিকেট খেলছিলাম। রাকিবদের বাড়ির সামনে একটা মাঠের মতো জায়গা আছে। বেশি বড় না, কিন্তু আমাদের মতো বাচ্চাদের জন্য যথেষ্ট। তার ঠিক ডান বাম পাশেই একটি বিরাট বড় বেল গাছ। সেই গাছে অনেক বড় বড় বেল ধরত। তবে কেন জানি না, কেউ সেই গাছের বেল খেত না। এমনকি আমরা ছোটরাও এড়িয়ে চলতাম গাছটিকে। আম্মু আব্বুরাও নিষেধ করতেন ঐ গাছের আসে পাশে যেতে। যাই হোক, আমাদের মাঝে একটা ছেলে ছিল একটু বড় শরীরের। বড় শরীরের মানে আমাদের সাথে একই ক্লাসে পড়ে কিন্তু দেখতে আমাদের চেয়ে বড়। সে হটাত করে একটি শট করে বল ঐ বেল গাছের দিকে মারল। আমরা সবাই চেয়ে দেখলাম বলটা সোজা গিয়ে বেল গাছের একটু ঘন জায়গায় পড়লো এবং নিচে পড়ার আর কোন আওয়াজ হল না। অর্থাৎ বলটা আটকে গেলো।

 

আমাদের মধ্যে হুলুস্থুল পড়ে গেলো। এবার বল পাড়বে কে? কেউ রাজি হলো না গাছের আশেপাশে যাবার। হটাত রাকিব এগিয়ে এলো এবং বলল সে উঠবে গাছে। আমরা না করলাম সবাই। কিন্তু সে কথা শুনল না এবং এক পর্যায়ে গাছে উঠে বসলো। বেল গাছে সাধারণত একটু উপর থেকে ডাল ছাড়ে (বড় হয়ে তাই দেখেছি), কিন্তু এই গাছে তুলনামূলক নিচ থেকেই ডাল ছিল। রাকিব গাছে উঠে পড়লো দ্রুত। ও একটু লম্বা ছিল আমাদের চেয়ে। বেশি দেরি হল না উপরে উঠে পড়তে। আমরা পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলাম সেই গাছের দিকে। বেল গাছটা খুবই ঘন ছিল। এটা না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবেন না যে কতোটা ঘন। হটাত উপরে উঠার পর আমরা আর রাকিবকে দেখতে পেলাম না। সে উপর থেকে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করতে লাগলো বলটা কতো উপরে পড়েছে। আমরা তাকে দেখতে না পেয়ে বারবার বলতে লাগলাম মাঝ বরাবর পড়েছে মনে হয়। সে প্রায় ৪-৫ মিনিট খুঁজাখুঁজি করেও বল পেল না। উপর থেকে বলল নেমে যাই, বল দেখতে পাচ্ছি না। আমরা বললাম ঠিক আছে। ও নামার সময় হটাত আও করে চেঁচিয়ে উঠলো এবং বলতে লাগলো ওরে ব্যথা পাচ্ছি। আমাকে ছাড়ো, আমাকে ছাড়ো। বাঁচাও বাঁচাও। সে এভাবে চিৎকার করতে করতে খুব দ্রুত গাছ থেকে নেমে এলো। এরপর যা দেখলাম তাতে আমাদের পিলে চমকে গেলো। রাকিবের উরুর পাশে এক খাবলা মাংস নেই। ভাই মিথ্যা বলছি না। কেউ যেন গর্ত করে কেটে নিয়েছে এক মুঠো মাংস। এক নাগাড়ে রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে। রাকিব গাছ থেকে নেমে একবার উপরে তাকিয়ে বাড়ির দিকে দৌড় মারল। আমাদের মধ্যে কয়েকজন ভয় পেয়ে নিজেদের বাড়ির দিকে ছুটে গেলো। আমি এবং আরও ২-৩জন রাকিবের পিছন পিছন ওদের বাসায় গেলাম। রাকিব ততখনে দরজা থেকে ঢুকে পড়ছে। তার চিৎকার শুনে আঙ্কেল অ্যান্টি বেড়িয়ে এলো ভিতর থেকে। তার এই অবস্থা দেখে সবাই ভয়ে এবং কষ্টে চিৎকার করে উঠলো। রাকিব ঘরে ঢুকেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো। দ্রুত আঙ্কেল তাকে নিয়ে ছুটলেন আল রাজি হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার পর কিছু করা গেলো না। ২০ মিনিট পর রাকিব মারা যায় হাসপাতালেই।

 

পরিশেষঃ রাকিবের মৃত্যুর পর পুরো এলাকার মানুষ জমে যায় তাদের বাড়িতে। অ্যান্টি একনাগাড়ে বিলাপ করে কান্না করছিলেন। আমি জীবনের প্রথম চোখের সামনে মৃত্যু ঘটা দেখলাম। রাকিবকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হয় বাসায়। লাশটা যখন গোছল করানো হয় তখন সবাই বলছিল তার শরীর নাকি খুব দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছিলো এবং কেমন যেন শক্ত হয়ে যাচ্ছিলো। দ্রুত জানাজা শেষে তাকে আজিমপুরেই কবর দিয়ে দেয়া হয় সব মুরুব্বীদের পরামর্শে। রাকিবের লাশ জানাজার পর আর দেখানো হয় নি। যদিও নিয়ম থাকে যে জানাজার পর মানুষ লাশ দেখতে পায়।

 

আমার ছেলেবেলা এরচেয়ে ভয়ংকর কাটানোর কথা কখনো চিন্তাও করি নি। প্রিয় একটি বন্ধুকে হারালাম। তাও এমনভাবে যা স্বপ্নেও আসে নি। সেই বেল গাছটা কেটে ফেলা হয়। গাছটি কাটার পর নাকি প্রায় রাতেই আঙ্কেলদের টিনের রাতে কেউ একনাগাড়ে কিছু একটা দিয়ে বাড়ি দিতো। ধাতব কিছু একটা। প্রচণ্ড আওয়াজ হলেও কেউ সাহস করে বের হতো না। আর ঘুমের মধ্যে অ্যান্টি প্রায়ই দেখতেন একটা বিদঘুটে মানব দেহ তার দিকে এগিয়ে আসছে। আঙ্কেলরা বেশিদিন থাকেন নি সেই বাড়িতে। বাড়িটা ছেড়ে চলে যান কয়েকমাস পর। আমার বাবাও বদলি হয়ে যান। আমরাও চলে যাই নতুন ঠিকানায়।

 

আমি জানি না রাকিবের মৃত্যুর কারণ কি ছিল। ছোট ছিলাম তাই কারো সাথে এ নিয়ে আলোচনা করতে পারি নি। বড় হয়ে এখনো ভাবি সে কথা। এখনো মনে আছে রাকিবকে।

 

আল্লাহ রাকিবকে সব সময় ভালো রাখুক। অনেক ভালো। তোমাকে ভুলবো না রাকিব।

 

যিনি পাঠিয়েছেনঃ দীপক সরকার

বিরাতের ডাক

0

সোরাব ভাই ? সোরাব ভাই ?
মতির ডাকে ঘুম ভাঙল সোহরাবের । অল্প ঘুমের মানুষ সে । এক ডাকেই জেগে উঠলো । কিন্তু বিছানা ছাড়ল না । শরীরটা আর আগের মত নেই ।
-সোরাব ভাই ? ও সোরাব ভাই ?
পুরোপুরি ঘুম ভেঙে গেছে সোহরাবের । জোয়ান বয়সের মত এখন আর লাফ দিয়ে উঠে বসতে পারে না । সময় লাগে । বয়সকালে ঘোড়ার মত তেজি ছিল সে । কাঠের চৌকিতে মট মট শব্দ করে উঠে বসে সোহরাব ।
-খাড়া মতি , আইতাছি ।
জগ থেকে এক গ্লাস পানি খায় সে । আজকে উত্তরের বিলে যাওয়ার কথা মতির সাথে । জাল বাছতে হবে । মানুষে কারেন্ট জাল পাতে ওদিকে । অনেক মাছ আটকা পরে । নিজেদের জালের মাছ ছাড়াও অন্যদেরও জাল বাছে ওরা । তাই এই ভোর রাতে যাওয়া । বারতি সাবধানতা । ভোরের আলো ফোটার আগে মাছগুলো তাজা তাজা হাটে নিতে হবে । তাজা মাছের দাম ভালো । সকাল বেলা ভালো দাম মেলে ।
কত বেলা হল ? ভাবে সোহরাব । চোখে এখনো ঘুম ঘুম । ফযরের বেলাতেও তার ঘুম পায় ? ভেবে অবাক হয় সে । হায়রে বয়স !
– সোরাব ভাই ? ও সোরাব ভাই ?
– আইতাছি কইলাম না ! খাড়া !
মতি থেমে যায় । নতুন বিয়ে করেছে সে । অল্প বয়স – উত্তেজনা বেশি । এক সময় এ দিন তারও ছিল । দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সোহরাব ।
হাতে একটা বেতের ঝুড়ি আর মাছ মারার আট ফলার ট্যাঁটা নিয়ে কবাট খুলে বেরিয়ে এল সোহরাব । বাইরে অন্ধকার । কিন্তু পথ চলা যায় । এইবার কিছু টাকা পয়সা জমিয়ে একটা টর্চ লাইট কিনতে হবে । না হয় কোনদিন আবার সাপখোপে কামড়িয়ে বসে !
– বউডা ভালো নি তর , মতি ?
আস্তে গলায় জানতে চায় সোহরাব ।
-হ ।
ফিসফিসিয়ে জবাব দিল মতি । পাছে কেউ শুনে ফেলে ! আশেপাশে ঘর বাড়ি আছে । মাঝে মাঝে বাঁশঝাড় । এবড়ো থেবড়ো মাটির রাস্তা । উষ্টা খেল সোহরাব । খিস্তি করল সে । মতি হাঁটছে সাচ্ছন্দে । যেন উড়ে উড়ে যাচ্ছে । হায়রে বয়সকাল ! ভাবে সোহরাব ।
হঠাৎই এক বাড়ির আড়াল থেকে বেরিয়ে এল একটি কালো ছায়া । চারপায়ে হাঁটছে । দাড়িয়ে পড়েছে মতি । সোহরাবের সামনে । দাড়িয়ে পড়েছে সোহরাবও । অন্ধকারে চোখ জ্বলছে সে কালো ছায়ার । ওরা এক চুলও নড়ছে না । নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাড়িয়ে আছে ।
আরও কিছুটা এগিয়ে আসে ছায়াটি । হাফ ছাড়ে সোহরাব । একটা কুকুর ! হাড় জিরজিরে । ওদের থেকে হাত দশেক দূরে দাড়িয়ে পড়লো কুকুরটি । ডাকছে না । শুধু মুখ দিয়ে ঘড়ঘড় শব্দ বের হচ্ছে । গায়ে রোম ওঠা শব্দ । হঠাৎই যেভাবে এসেছিলো , সে ভাবেই পিছিয়ে গেলো । মিলিয়ে গেল বাড়ির ভিটার আড়ালে ।
ওরা হাটতে শুরু করল আবার । এবার আর কথা বলল না সোহরাব । বাড়তি সাবধানতা । কেউ চিনে ফেললে সমস্যা । কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করলে বিপদ ছিল । করল না কেন ? সোহরাব বুঝে উঠছে না ! ভাবল হয় রোগে ধরেছে , না হয় তার মতই বুড়িয়ে যাচ্ছে ।
হাটতে হাটতে গ্রামের শেষ মাথায় চলে এল ওরা । সামনে একটা খাল । তার উপরে ব্রিজ । মান্ধাতা আমলের লোহার ব্রিজ । কাঠের পাটাতন । ক্ষয়ে গেছে জায়গায় জায়গায় । ব্রিজের ওপারে একসারি তালগাছ । একটা পুরান ভিটাও আছে । কেউ থাকে না । তার মাঝ দিয়ে সরু মাটির রাস্তা । দু’ধারে আগাছা ঘাসে ভরা । বৃষ্টি হয়েছিল হয়ত । রাস্তা কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে আছে ।
এই রাস্তা নিয়ে গ্রামে অনেক গল্প আছে । অশুভ সব গল্প । এইখানে নাকি উনারা থাকেন । নাম নিতে হয় না । উনাদের পথে পরলে নাকি খারাপ কিছু হয় । এরকম অনেক হয়েছে । একবার একজনকে পেয়েছিল গ্রামবাসী । মরা । কিন্তু তার মাথা থেকে কোমর অবধি ছিল মাটির নিচে গাথা । শুধু পা দুইটা উপরে । আর একবার পেয়েছিল একজনের গাই গরু । শুধু চার পা মাটির উপরে । গা শিরশির করা গল্প এগুলো । কিন্তু গল্প । হাসে সোহরাব । কত এলো গেলো এই রাস্তায় ! আর সোহরাব এমন কাউকেই দেখে নাই যে নিজের চোখে ঘটনাগুলো দেখেছে । সবই শোনা গল্প ।
অনেকদূর এগিয়ে গেছে মতি । চিন্তা করতে করতে খেয়ালই করে নি সে ।
– ঐ । খাড়া – আস্তে হাট ব্যাটা !
মতি দাড়ায় না । তালগাছ গুলর মাঝ দিয়ে সরসর করে হাটতে থাকে । দৌড়াচ্ছে যেন । সোহরাব ভড়কে যায় । মতির পায়ের দিকে তাকায় সে । গোল বাঁশের মত সে পা । কোন আঙ্গুল নেই ! পায়ের পাতা বলে কিছু নেই ! সোহরাব গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠে – খাড়া কইছি – ট্যাঁটা মারুম কইলাম !

দাড়িয়ে পরল মতি । ধীরে ধীরে ঘুরে দাড়ায় সে । শরীর কেপে উঠলো সোহরাবের । জ্ঞান হারাল না সে । বড় সাহসী মানুষ । ছুড়ে মারল হাতের ট্যাঁটা । এ আর যাই হোক – মতি নয় । বাতাস খান খান করে হেসে উঠলো মতি ।
—————————————————————————
– সোরাব ভাই ? সোরাব ভাই ?
পুবের আকাশে আলো ।
– সোরাব ভাই ? ও সোরাব ভাই ?
– তোমার ভাই না একটু আগেই বাইরে গেলো তোমার লগে !
– কন কি ? আমি তো আইলাম মাত্রই ।
দরজা খুলে বেরিয়ে এল সোহরাবের স্ত্রী । মোমেনা । চোখে মুখে প্রশ্ন নিয়ে তাকিয়ে আছে মতির দিকে ।
—————————————————————

সোহরাব কে পাওয়া গিয়েছিল । পুরাতন লোহার ব্রিজের সেই খানে । তালগাছগুলোর কাছে । খালের পাড়ে । মরা । মাথা থেকে কোমর অবধি খালের পাড়ে কাদায় গাথা । শুধু পা দুইটা বেরিয়ে ছিল ।
——————————————————————
-মতি ভাই ? মতি ভাই ?
মতির টিনের ঘর । শীতের দিন । গলা পর্যন্ত দুইটা মোটা কাথা আর লেপ টেনে শুয়ে আছে । চোখে ঘুম নেই । গত কয়েক রাত ধরেই এমন হচ্ছে । পাশে তার ঘুমান দেড় বছরের ছেলে – আজিজুল , আর তার বউ । রাতে ঘুমাতে পারে না মতি ।
-মতি ভাই ? মতি ভাই ?
মতির মাথার কাছ থেকে আধ হাত দূরে টিনের বেড়া । তার ঠিক ওপাশে দাড়িয়েই যেন ডাকছে তাঁকে । মাঘ মাসের শীতেও ঘেমে গেছে মতি । ঘাড় ঘুরিয়ে বউ – বাচ্চার দিকে তাকাল মতি । না , ওরা কিছু শুনতে পায় নি । পা টেনে লেপের নিচে গুটিয়ে আনে মতি । মুখ পর্যন্ত টেনে দেয় লেপ । আজিজুলকে জড়িয়ে ধরে সে । তার মাথার কাছের টিনের বেড়ায় খচখচ শব্দ । আবার ডেকে উঠে – মতি ভাই ? ও মতি ভাই ?
কয়েক রাত ধরে তিনবার ডেকেই চলে যায় সে । মতি সাড়া দেয় না । গলাটা সোহরাবের ।।