ভুতের ভালোবাসা

1

আমার বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায়। ছোট বেলা থেকেই ভূত পেত্নি, জিন -পরিদের কাহিনী শুনতাম। কিন্তু ভয় পেতাম খুব কম। কারণ ছোটবেলা থেকেই অনেক মৃত্যু দেখেছিলাম। যাই হোক, কেউ যদি এইসব কাহিনী বলত,আমি বিশ্বাস করতাম না।

তখন ক্লাস ৮ এ পড়ি। সবাই মিলে এক খালার বিয়ে খেতে গেলাম নানুবাড়ি। অনেক পুরোনো হওয়ায় ভৌতিক ছিলো সব বাড়িগুলো। পিছনের দিকে প্রায় সবটুকু এলাকা জুড়ে বাশবাগান। গায়ে হলুদ এর দিন, নানী বললো রতন নামের এক কাজের লোককে পাশের বাড়ি থেকে ডেকে আনতে। কি কাজে যেন সেখানে গিয়ে রতন আটকে গেছে। আসতে দেরি করছে। তখন রাত ৯টা বাজে। এক জন সাথে নিতে বললেও আমি একটা টর্চ নিয়ে একাই যাওয়া শুরু করলাম সেই বাশবাগান দিয়ে। ২ মিনিট হাঁটার পর কোত্থেকে একজন বৃদ্ধা আচমকা ডেকে উঠলেন। বললো ‘অনিক নাহি রে?’
বললাম, ‘জি,আপনি কে?’
‘আমি গো রে কি আর চিনবি তোরা, বুইরা মানুষ,বিয়া খাইতে আইসস নাহি?’
না চেনায় একটু লজ্জা পেয়ে বললাম, জি..
রতন মোল্লারে ডাকতে যাস, তাইনে?
আমি বললাম, জি..
আমারেও নিয়ে যা, অইদিহেই যামু।
আমি বললাম,আসেন..
তোর মায়ে চিনে আমারে, ছোট বেলা থেইকাই বড় কুরসি এরে, আমি বানুর মা.. তোর মায়ে আমারে কতো আদর কইর তো ,বিসনাতে পড়েছিলাম তখন কতো কিছু খিলাইছে আমারে..
আমি বললাম, কেন এখন করে না?
বৃদ্ধা বললেন, এখন কই থিকা করবো, আমিই তো নাই।
আমার মনে একটা ধাক্কা দিল, নাই মানে!!
‘শুন, রুমি(আমার খালা)রে কইছ বিয়া না করতে, এর জামাই খুব খারাফ।
আমি একটু হেসে বললাম, আপনি জানলেন কিভাবে? আপনি তো জামাই দেখেনই নাই।
‘আমি জানি রে,আমি জানি।’ উনি বললেন।
তুই যা,আমি ঐদিক যামু।
‘আমি আপনাকে দিয়ে আসি, অন্ধকার তো সামনে। একা যেতে পারবেন?’
আমার দেখতে আলো লাগে না রে ভাইডা। বলেই বৃদ্ধা চলে গেলেন। আমিও চলে আসলাম। ব্যাপারটা পরে ভুলে যাই।
ডিসেম্বর ২০১১ এ আমার খালা আত্মহত্যা করে। এলাকার লোকের কাছে জানা যায় তার জামাই ভাল ছিল না। তাকে প্রতিদিন মারধোর করতো। এর কিছুদিন পর আম্মু কে জিজ্ঞেস করলাম, বানুর মা এর কথা।
মা অবাক হয়ে বললেন , ‘তুই উনার কথা জানলি কিভাবে? খালা (বানুর মা) তো ১৫ বছর আগেই মারা গেছে।
কথাটা শুনেই বুকে ধরাস করে উঠল ভয়ে..
আবার তিব্র একটা কষ্ট মোচড় দিল মনের গভীরে। কারণ আমি জানতাম এমন হবে.. বানুর মা নানু আমাকে বলে গিয়েছিল সবই। নিজেকে কল্পনাতীত অপরাধী মনে হল।

মানুষের জীবনে অনেকরকম ঘটনাই ঘটে যার কোন ব্যাখ্যা দেয়া যায় না। হয়তো আমাদের প্রিয়জনরা বারবার ফিরে এসে আমাদের সতর্ক করে দেয়। হয়তো আমরা বুঝতে পারি না অথবা বিশ্বাস করি না। আল্লাহ আমার খালাকে মাফ করে দিন এই দোয়াই করি এখন।

জানিয়েছেনঃ বাউন্ডুলে অনিক

ভুতের সাথে হাটা

0

আমার কাজিন এর সাথে ঘটা একটি সত্য ঘটনা আজ শেয়ার করছি। তিনি খুলনা শহরে থাকেন পড়শোনার কাজে। মাঝে মধ্যে গ্রামে আসেন। একবার গ্রামে আসার পর তার সাথে ঘটা এক ভয়াবহ কিন্তু সত্য ঘটনা শুনুন আজ। তার নিজের ভাষাতেই বলছি—

ওইবার বাড়ি আসার দুই দিন পর একদিন বিকাল বেলায় আমি যাই আমার এক বন্ধুর বাসায়। বেশ কিছু কাজ থাকায় বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হয়ে যায়। আনুমানিক রাত ৯.০০ থেকে ৯.৩০ বাজে তখন। শহরে এটা তেমন রাত না হলেও গ্রামে তখন অনেক রাত। আমার বন্ধু আমাকে বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতে চাইলেও আমি ওকে নিষেধ করে বলি যে আমি একাই ফিরতে পারব। তো আল্লাহর নাম নিএ রাওনা হলাম। বাড়ি যাওয়ার পথে রাস্তা দুইটা। একটা বড় আরেকটা শর্টকাট , বড়টা দিএ যেতে হলে অনেক ঘুরতে হয়। তো আমি ওই শর্টকাট পথেই রাওনা হলাম। ওই রাস্তায় বাড়িঘর নেই বললেই চলে। একটা মসজিদ আছে তাও আবার রাস্তার একেবারে মাথায়। আমি আমার মোবাইলের লাইট দিএ পথ চলতে লাগলাম। জ্যোৎস্না ছিলনা তাই চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ওই রাস্তাটার পাশে আবার সারি সারি কবর। ফাকা জায়গা তাই অনেকে ওখানে পারিবারিক কবরস্থান বানিএ ফেলেছে। আমার হালকা হালকা ভয় করতে লাগল যখন কবর গুলোর কাছ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। তখন পর্যন্ত আমার আগে বা পিছে কোনও মানুষের চিহ্ন পর্যন্ত ছিল না। হটাৎ একবার নিচে তাকিয়ে আমি সামনে তাকাতেই দেখি কিছুদু্রে সাদা পাঞ্জাবি পরা এক লোক হাটছে। ওইখানে সারি সারি কবর আর বাগান ছাড়া আর কিছুই ছিলনা, তারপরেও ওই লোক কোথা থেকে আসলো আমি বুঝে উঠতে পারলামনা। যাই হোক আমি ভাবলাম একজন চলার সঙ্গী তো পাওয়া গেল, দুই জনে হাটলে ভয় কম লাগবে এই ভেবে আমি ওই লোককে ধরার জন্য জোরে জোরে হাটতে লাগলাম। কিন্তু আমি অবাক হয়ে গেলাম এই দেখে যে আমি প্রায় ৫.০০ মিনিটের মত দৌড়ানোর গতিতে হাটার পর ও ওই লোককে ধরতে পারছিনা। আমি ভয় পেয়ে আস্তে হাটতে লাগলাম, কিন্তু এরপর যা দেখলাম তাতে বুঝে উঠতে পারলাম না ঠিক কি করব!! দেখলাম ওই লোকটার গায়ে পরা সাদা পাঞ্জাবিটা টিউব লাইটের আলোর মত জ্বলছে। আমি তখনি বুঝে গেলাম ওই লোকটা মানুষ না। ভয়ে আমি চলার গতি আরো কমিয়ে দিলাম। একবার চিন্তা করলাম পিছনে ফিরে দৌড় দিব কিন্তু তখন আমি আমার ঐ বন্ধুর বাড়ি থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। শুনেছি এই সব জিনিস দেখে ভয় পেয়ে পিছনে গেলে ওরা আরো ভয় দেখাতে চায়। আমি দোয়া দুরুদ পড়তে লাগলাম মনে মনে। কিছুক্ষণ হাটার পরে যখন মসজিদের একেবারে কাছে চলে এসেছি তখন আমার ডান পাশে হটাত একটা পাতা নড়ার শব্দ পেলাম। কিন্তু ওই দিকে তাকিয়ে আবার যখন সামনে তাকালাম তখন দেখি আমার সামনে ওই লোকটা নেই। আমি সামনে এগিয়ে মসজিদের জানালা দিয়ে ভিতরে তাকালাম কিন্তু না ভিতরে কেউ ছিলনা। আমি তাড়াতাড়ি বাড়ি পোঁছে প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়ি। সবাইকে পরে এ ব্যাপারে বললে কেউ বিশ্বাস করেছিল কিনা জানিনা কিন্তু ওই রাত্রের ঘটনা মনে পড়লে আমি এখনো শিউরে উঠি।By: S A Muktadir Shuvo

ছদ্মবেশী

0

যে ঘটনাটি বলতে যাচ্ছি তা আমার নানীর মুখে শোনা।ঘটনায় আসি।আমার নানারা ছিলেন ২ ভাই। পুরান ঢাকায় নিজেদের পৈতৃক বাড়িতে তারা তাদের পরিবার নিয়ে যৌথভাবে বাস করতেন।তাদের বৃদ্ধ মা তাদের সাথে থাকতেন।ঘটনাটি ঘটে আমার বড় নানার সাথে।নানারা যে বাড়িতে থাকতেন তার পূর্ব-দহ্মিণ বরাবর টয়লেট ছিল,এর পাশেই ছিল এক বেলগাছ।বাড়িতে একটি মাত্র টয়লেট থাকায় এবং অনেক মানুষ তা ব্যবহার করার কারনে স্বাভাবিকভাবেই তা নোংরা হত।বড় নানা প্রতিদিন ফজরের ওয়াক্তে উঠে টয়লেট পরিষ্কার করতেন।ঘটনাটি যেদিন ঘটে সেদিন ছিল পূর্নিমা।চাঁদের আলোয় চারদিক ভেসে যাচ্ছিল।হঠাত্‍ কোন কারনে নানার ঘুম ভেঙে যায়।তিনি বাইরে তাকিয়ে দেখেন চারদিক ফর্সা হয়ে আছে।তিনি মনে করেছিলেন ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেছে।তো একটি ঝাড়ু,এক বালতি পানি ও একটি হারিকেন নিয়ে টয়লেট পরিষ্কার করতে গেলেন।চোখে ঘুম থাকার কারনে তিনি বুঝতেই পারেননি তখনও ভোর হতে অনেক দেরি।টয়লেটের কাছাকাছি গিয়ে তিনি দেখেন তার মা টয়লেটের সামনে বসে আছে আর গোঙাচ্ছে।তিনি বললেন,মা এত রাতে এখানে কি কর?তার মা বলল,বাবা আমি টয়লেটে এসেছিলাম,ফেরার পথে পরে গেছি।হারিকেনটা রেখে আমার কাছে এসে আমাকে টেনে তোল ।নানা হারিকেন রেখে তার মার দিকে যেতে লাগলেন।হঠাত্‍ পেছনদিক থেকে তার মা তাকে ডাক দিল,ইউসুফ কার সাথে কথা বলছিস?এত রাতে টয়লেট পরিষ্কার করতে এসেছিস কেন?কেবল রাত ২টা বাজে।তিনি পিছনদিকে ঘুরে দেখেন তার মা হারিকেন হাতে দাঁড়িয়ে আছে।টয়লেটের দিকে তত্‍হ্মনাত্‍ ঘুরে দেখেন সেখানে কেউ নেই।সাথে সাথে তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান।তার অনেক জ্বর আসে।৩ দিন পর তার জ্বর কমে যায়।এরপর একজন হুজুর ডেকে আনা হয়।তিনি বাড়িতে ঢুকেই বলেন এখানে খারাপ একটা জিনিস আছে।টয়লেটের পাশের বেলগাছটাই ওটার আস্তানা।সেদিন রাতে নানার মা যদি নানাকে না থামাতেন তাহলে জিনিসটার কাছে গেলেই তা নানাকে মেরে ফেলত।এরপর তিনি বাড়িটা বন্ধক করে দেন এবং বেলগাছটি কেটে ফেলতে বলেন।বেলগাছটি তার কথা অনুযায়ী কেটে ফেলা হয়।এরপর আর কোন সমস্যা দেখা দেয়নি।

বিঃদ্রঃ এটি একটি সত্য ঘটনা। বিশ্বাস করা না করা আপনাদের ব্যাপার ।

সেই ভয়ঙ্কর কালো পোল

0

আমি এখন যে ঘটনাটি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি সেটা আমার মেঝ ফুফুর কাছ থেকে শোনা।ফেনী থেকে পরশুরাম গামী যে রেল লাইটি আছে এক সময় ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিয়মিত এই লাইনে একটি ট্রেন যাতায়াত করত।বৃটিশ আমলে চট্রগ্রাম থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে মালামাল নেয়ার জন্য এই লাইটি তৈরি করা হয়।বর্তমানে অবশ্যই এই লাইনে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে।
ঘটনা:- আজ থেকে ৩০ বছর আগের কথা।আনন্দপুর ইউনিয়নের কালিহাট নামক স্থানে কালা পোল নামের একটি জায়গা আছে।আর এর ঠিক পাশে ছিলো ছোট্ট একটি গ্রাম।এই এলাকায় তখন বিদ্যুত্‍ আসেনি তাই রাত একটু গভীর হলেই গ্রাম জুড়ে নিঃশব্দ বিরাজ করতো।একবার এই গ্রামে এক মেয়ের বিয়ের আসর থেকে যৌতুকের দাবিতে বর চলে যায়।কিন্তু গ্রামের মানুষ এর কোন প্রতিবাদ করেনি।এবাবে বিয়ের আসর থেকে বর চলে যাওয়ার কারনে সেদিন সারা রাত মেয়টি এবং তার মা বিলাপ করতে করতে কান্নাকাটি করে।পরদিন ফজরের আযান দেয়ার একটু আগে মেয়েটি অপমানে ও লজ্জা শরমে ভয়ে ঐ কালা পোলের পাশে গিয়ে রেল গাড়ির নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।আত্মহত্যার পরে মেয়েটির দেহটি পাওয়া গেলেও মাথাটি কোথাও পাওয়া যায়নি।গ্রামবাসি অনেক খুঁজাখুজি করেও মাথাটি না পেয়ে পরে শুধু দেহটি দাফন করে।এর কিছুদিন পরে হঠাত্‍ একদিন গভীর রাতে এক বিকট কান্নার আওয়াজ শুনে গ্রামের সব মানুষের ঘুম ভেঙ্গে গেল।কান্নার আওয়াজটা ছিলো অনেটা বিলাপের সুরে মত।বুঝা যাচ্ছিলো আওয়াজটি কালা পোলের ঐ দিক থেকে আসছে।সবার কাছে কান্নার আওয়াজটি পরিচিত মনে হলেও কেউ সাহস করে ঘর থেকে বের হয়নি।পরদিন সকালে গ্রামবাসি ঐ স্থানে গিয়ে দেখলো রেল লাইনের পাশে কে যেন একটি গর্ত খুড়ে গেছে।এর পর থেকে প্রায় সময় গভীর রাতে বিকট এক আওয়াজ শুনে গ্রামে বাসির ঘুম ভেঙ্গে যেত।তার পর সে চির পরিচিত বিলাপের সুরে কান্না আওয়াজ শোনা যেত।একদিন চাঁদনী প্রসারী এক গভীর রাতে গ্রামের কিছু যুবক যাত্রাপালা দেখে বাড়ি পিরছিলো।গ্রামে ঢুকার পথে হঠাত্‍ করে তাদের চোখ গেলো কালা পোলের ঐ দিকে।তারা লক্ষ্য করলো একটি মেয়ে সাদা পোষাক পড়ে রেল লাইনের উপর দাড়িয়ে আছে।কিন্তু তার দেহের সাথে মাথাটি ছিলোনা।এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে যুবকরা ভয়ে গ্রামের দিকে দৌড় দিল।পরদিন সকালা এই ঘটনা তার মসজিদের ইমাম বলে।ইমাম সাহেব রাত্রি বেলায় ঐ দিকে যে সবাইকে নিষেধ করে।এর কিছুদিন পরে একদিন গভীর রাতে ইমাম সাহেব স্বপ্ন দেখে কেন যেন তাকে বলছে মেয়েটির মাথা খুজে এনে কবরে দাপন করতে।এবং মাথাটি কোথায় আছে সেটা ও বলেছে।পরদিন সকালে ইমাম সাহেবের নেতৃতে কালা পোল থেকে আধা কি:মি দূরে এক ধান ক্ষেত থেকে মাথাটি উদ্ধার করে কবরে দাফন করা হয়।তার পর থেকে সেই বিকট আওয়াজ এবং বিলাপের শব্দ আর গ্রামের মানুষ শোনানি।বিঃদ্রঃ এটি কোন একটা কাল্পনিক ঘটনা নয়। এটি একটি সত্য ঘটনা।By : Comrad Dewan

তৈয়ব পাগলা

1

আমাদের এলাকায় তৈয়ব নামের এক পাগল থাকতো । সে সারাদিন মানুষের কাছ থেকে খাবার চেয়ে খেতো । তবে কেউ তাকে মানা করতো না । কারণ, তাকে খাবার না দিলে নাকি মানুষের ক্ষতি হতো । দুটো ঘটনার বর্ণনা দেইঃ

আমার ছোট খালা একদিন বাসায় তার মেয়েটিকে স্কুলের পড়া পড়াচ্ছেন । এমন সময় হটাত গেটের বাইরে হেঁড়ে গলায় তৈয়ব পাগল ডাক দিয়ে বলল, ঘরে কে আছিস ? খিদা লাগছে খাবার দে । ছোট খালা তাড়াতাড়ি রান্নাঘরে দিয়ে দেখলেন কিছু রান্না করা আছে কিনা । দুর্ভাগ্যজনিত ভাবে সেদিন কিছু ছিল না রান্নাঘরে । খালা এসে পাগলকে গেটের বাইরে থেকে এ কথা বল্ললেন । দরজা খুললেন না । তো পাগলটা বাইরে থেকে খেক খেক করে হেসে বলল, তোর নাগরের জন্য আলমারিতে যেই পিঠা আজকে বিকেলে বানায় রেখেছিস ঐখান থেকে দুটো দে । তুই তো ১৪টা পিঠা রেখেছিস, দুটো দিলে কিছু হবে না । দে, খিদা লাগছে । পিঠা দে । খালা ভয়ে চিৎকার করে উঠলো । কারণ সেইদিন তিনি আসলেই পিঠা বানিয়েছিলেন খালুর জন্য । এবং পরে গুনে দেখা যায় সেখানে আসলে ১৪টা পিঠাই ছিল । আমার খালাতো বোন রিমি নিজে তার মায়ের সাথে ঘটা এই ঘটনার সাক্ষী ।

আরেকদিন আমাদের পাশের বাসার এক আঙ্কেল রাতে একটু দেরি করে বাসায় ফিরছিলেন । পথমধ্যে তৈয়ব হটাত করে কোত্থেকে উদয় হয় । এসে আঙ্কেলের সামনে দাঁড়িয়ে বলে, খুব তৃষ্ণা লাগছে । দোকান থেকে কোন পানি কিনে দিবি ? আমার টাকা নাই । দোকানের সামনে গেলে ব্যাটা লাঠি দিয়ে মারতে আসে ।

আঙ্কেলের সেদিন মনটা খারাপ ছিল । কারণ অফিসে প্রচুর কাজ এবং তার বস তাকে বকা দিয়েছিলেন কিছু ব্যপারে । তাই মামা তৈয়বকে কিনে না দিয়ে উল্টা বকাঝকা করলেন । তৈয়ব পাগল কিছু না বলে আস্তে করে চলে গেলো এবং বলল, তোর মেয়েকে সাবধানে রাখিস । ও পানিতে পড়ে যাবে কয়েকদিনের মধ্যে । তোর পরিবারে কেউ সাঁতার পারে না । এমনকি তুইও না । তোরা কেউ বাঁচাতে পারবি না । কেউ না । এই বলে পাগলা চলে যায় । আঙ্কেল ব্যপারটা মনে রাখেন না । বাসায় ফিরে যান ।

এর কিছুদিন পরে সত্যিই ঐ আঙ্কেলের মেয়েটি পানিতে পড়ে মারা যায় । তাও তেমন কোন গভীর পুকুর না । যেখানে মেয়েটির হয়তো গোলা পর্যন্ত পানি হতো । কিন্তু সে পড়ে যাওয়ার পর আসে পাশে উপস্থিত সবাই দেখে মেয়েটিকে কি যেন নিচের দিকে টানছে । সাথে সাথে কয়েকজন ঝাঁপিয়ে পড়লেও বাঁচাতে পারে নি মেয়েটিকে । পরে ময়নাতদন্তে ধরা পড়ে মেয়েটি পানির কারণে মরে নি । হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছে । এতো ছোট একটা মেয়ে এমন কি কারণে হার্ট অ্যাটাক করবে ? জানা যায় নি কখনো ।

তৈয়ব পাগলার মারা যাওয়ার কাহিনীটাও অনেক রোমহর্ষক । একদিন চলন্ত ট্রেন তার উপর দিয়ে চলে যায় । যারা দেখছেন তারা বলেন সামনে ট্রেন আসছে দেখেও তৈয়ব বসে ছিল লাইনে । সবাই উঠতে বললেও সে না উঠে হাসি মুখে বসে থাকে ট্রেনের দিকে তাকিয়ে । ট্রেন চলে যাওয়ার পর তার কয়েক খণ্ড লাশ পাওয়া যায় । কিন্তু মাথাটা পাওয়া যায় নি আঁতিপাঁতি করে খুজেও । কেউ জানে না কোথাও সেটি । পাগলা মারা যায় রাতের বেলা । দিনের বেলা এলাকার মানুষ এবং পুলিশ সবাই লাশের মাথা খুজলেও, পায় নি কেউ ।

By: Abida Sultana Dola

ভুতের চড়

2

Ghosts Slap
এই ঘটনাটা আমি আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে শুনলাম মাত্র পরশুদিন রাতে ক্যাম্পাসে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় । ঘটনার সত্যমিথ্যা জানি না তবে আমার ঐ বন্ধু শপথ করে বলেছে যে এটা সে নিজ চোখে দেথেছে । এই ঘটনাটা আমি শেয়ার করছি~

আমার বন্ধুর বাসার পাশের বাসায় এক কবিরাজ ছিলেন । তিনি মানুষকে বিপদে তাবিজ দিতেন । তাদের বাসার একটু সামনে জঙ্গলের মত ছিল, যা অতিক্রম করে তাদের বাসায় যেতে হতো । এক রাতে কবিরাজ এর ছেলে বাজার থেকে মাছ নিয়ে ঐ রাস্তা দিয়ে আসছিল । হঠাত্‍ পিছন থেকে একটা কর্কশ ও খোনা নারীকণ্ঠে কে যেন তাকে ডাক দিলো, ”ঐ কই যাস? মাছটা দিয়ে যা ।” কবিরাজের ছেলে খুব সাহসী ছিল । সে বুঝতে পারলো কার পাল্লায় পড়েছে ।সে খুব কঠোর ভাষায় বলল, ” না তোকে মাছ দিবোনা । ভাগ এখান থেকে তুই ।” আবার কথা আসে, “আমায় বিয়ে করবি?” এবার ছেলেটা খুব রাগ করে ও গালাগালি করে । কণ্ঠটা বলল, “তুই আমায় অপমান করলি, আমি এর প্রতিশোধ নিব ।”
এরপর ছেলেটা বাড়ি ঢোকার সময় হঠাত্‍ করে পড়ে যায় । পরে লোকজন তাকে ধরে বাসায় আনে। পরে সে ভাত খেতে গিয়ে বমি করে দেয় । এরপর সে অসুস্থ হয়ে যায়। সে ঘটনাটা শেয়ার করে ও বলে কেউ তাকে চড় মেরেছিল । তাই সে পড়ে গিয়েছিল ।সেই রাতেই সে মারা যায় ।পরদিন পাড়ার অনেকেই তার লাশ দেখতে যায় । সবাই কি দেখল জানেন? সবাই দেখল যে তার গলায় পাঁচটা আঙ্গুলের দাগ কালো হয়ে বসে গিয়েছে । এই ঘটনা আমার বন্ধু নিজে দেখেছে ।জানিয়েছেনঃ Nazif Hasan Evan

মেছোভূত আমার গলা টিপে ধরেছিল ২

0

পর্বঃ ২
অন্ধকারের জন্য তখনও করিমের মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “এতো অন্ধকারে মাছ ধরতে নামাটা কি ঠিক হবে?” সে বলল, “আরে কিছু হবে না। দেরি করলে লোকজন চলে আসতে পারে।”
করিমের গলার আওয়াজ কেমন যেন অন্য রকম মনে হল। মনে হল অন্য কেউ কথা বলছে। আমি অবাক হলাম না। কারণ ঘুম থেকে উঠলে গলার স্বর একটু অন্য রকমই লাগে। করিম এতো তাড়াহুড়ো করতে লাগলো যে আমি আর আপত্তি করার সুযোগ পেলাম না। জামাকাপড় গুটিয়ে নেমে পড়লাম বিলে। করিমও গুটালো জামাকাপড়। তবে নামার আগে কিসের যেন একটা পুটলি লুকিয়ে রাখলো ঝোঁপের মধ্যে। আমি সে দিকে তাকাতেই ধমকে উঠল সে, “যে কাজ করতে এসেছিস, সে কাজ কর। এতো কথা বলিস না।”
এবার করিমের গলাটা শুধু অন্যরকমই না, একেবারে অদ্ভূতশোনা গেল। আমি তার দিকে ভাল করে তাকালাম। সঙ্গে সঙ্গে সে মুখ ঘুরিয়ে নিল। তারপর লম্বা লম্বা পায়ে এগিয়ে যেতে লাগল খাদের দিকে। এমনিতে বিলে তেমন পানি না থাকলেও খাদে তখন অনেক পানি। যে কেউ ডুবে যাবে। কিন্তু করিম এক লাফে নেমে পড়ল খাদে। নেমেই ডাকতে লাগল আমাকে,“ আয় আয়। বেশি পানি নেই, ডুববি না।” আমি জোর গলায় বললাম,“না,আসব না। খাদে অনেক পানি। ডুবে যাব।” করিম রেগেমেগে বলতে লাগল, “কে বলেছে অনেক পানি! দেখতে পাচ্ছিস না আমার মাত্র হাঁটু পানি?” যদিও অন্ধকারেরজন্য তেমন দেখা যাচ্ছে না, তবু আমি ভালভাবে তাকিয়ে দেখলাম সত্যি সত্যি হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে আছে করিম। দেখে আমি তো একেবারে থ। যে খাদে কম পক্ষে পাঁচ হাত পানি হবে, সেখানে কিনা তার হাঁটুপানি হচ্ছে!
হঠাৎ করিম আমার হাত ধরে টানতে লাগল। কিন্তু খাদ থেকে কীভাবে সে এতো তাড়াতাড়ি আমার কাছে এলো, হাত ধরলো- বুঝতে পারছিলাম না। আমি হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য যেই তার হাতের দিকে তাকালাম, দেখি সে দাঁড়িয়ে আছে খাদেই। তার হাত দুটি লম্বা হয়ে এসে আমার হাত ধরেছে। শুধু তাই নয়,তখনও আমাকে টানছে খাদে নামানোর জন্য। আর আমি প্রাণপণে চেষ্টা করছি হাত ছাড়িয়ে নিতে। একসময় টের পেলাম কে যেন আমার গলা চেপে ধরেছে। তারপর আর কিছু বলতে পারব না।
কে যেন আমার চোখেমুখে ঠাণ্ডা পানি ছিটিয়ে দিল। চোখ খুলে দেখি মা-বাবা ভাইয়াসহ গ্রামের শতশত মানুষ ঘিরে রেখেছে আমাকে। এতো মানুষ কেন? জিজ্ঞাসা করতেইজানতে পারলাম, রাতে আমি ভূতের খপ্পরে পড়েছিলাম। ওটা আসলে করিম ছিল না, ওটা আসলে করিম ছিল না, ছিল ভূত। আর তখনও রাত পোহাতে ঘণ্টা তিনেক বাকি ছিল। করিম এসেছিল সময় মতই। বারবার দরজায় নক করার পরও যখন সাড়া শব্দ পাচ্ছিল না, তখন সে ডাক দিয়েছিল আমাকে।এতে ঘুম ভেঙে যায় ভাইয়ার। আমাকে ঘরে না দেখে তারা খুঁজতে থাকে এদিক সেদিক। এক সময় আমাকে তারা উদ্ধার করে বিল থেকে। সবাই নিশ্চিত,আর কিছুক্ষন পরে গেলে আমাকে আর জীবিত পাওয়া যেত না।

মেছোভূত আমার গলা টিপে ধরেছিল ১

0

আমাদের গ্রামটা তখন বেশ ফাঁকা ছিল । পুরো গ্রামে বিশটা বাড়ি ছিল কিনা সন্দেহ। যেহেতুবাড়ি কম, অতএব মানুষও কম। কোন কোলাহল নেই, নিরব নিস্তব্ধ চারদিক। দিনে দুপুরে হাঁটাচলা করতেইকেমন যেন ভয় ভয় করত। বিশেষ করে আমাদের গ্রামে বড় বড় কয়েকটা গাছ ছিল- গাব গাছ আর বট গাছ। আমরা এসব গাছের ধারে-কাছে যেতাম না। কারণ মা বাবা সব সময় আমাদের সতর্ক করে দিতেন, এই সবগাছে নাকি ভুত থাকে। সুযোগ পেলেই ঘাড় মটকাবে।
মা বাবার কথা যে সত্য, সেটা বোঝা যেত গাছগুলোর ডাল পালার দিকে তাকালেই। কী বড় বড় ডাল! এক একটা ডালে রাজ্যের ঝোপ। প্রতি ডালে যদি দশটা করে ভূত বসে থাকে, গল্পগুজব করে তবু কেউ টের পাবে না।
আমাদের পাশের বাড়িতে একটা ছেলে বেড়াতে আসত প্রায়ই। ছেলেটার নাম ছিল করিম। বয়সে আমার চেয়ে দুতিন বছরের বড় ছিল। তবে সে আমার সাথে এমন ভাবে মিশত, আমার মনেই হতোনা আমি তার ছোট। আমরা নানা রকম পরিকল্পনা করতাম একসঙ্গে।কোথায় মাছ ধরতে যাবো, কখন পাখির বাসা খুঁজতে যাবো, কার গাছের ফল পেড়ে খাবো- সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে যেত করিম আসার সঙ্গে সঙ্গেই। তবে এসব পরিকল্পনা আমরাযেখানে সেখানে বসে করতাম না। কারণ মা বাবা শুনে ফেললে পিঠে যে শুধু লাঠি ভাঙবেন তা-ইনা, দুএক বেলা খাবারও বন্ধ রাখতে পারেন। এজন্য আমরা চুপচাপ চলে যেতাম বাড়ির বাইরে। মন খুলে বুদ্ধি পরামর্শ করে দুজন দুদিক দিয়ে ঢুকতাম বাড়িতে। কেউ যদি কিছু টের পেয়ে যায়, সেই ভয়ে।
একবার এক ছুটিতে বেড়াতে এলো করিম। এসেই দৌড়ে চলে এলো আমাদের বাড়িতে।আমি তখন ঘুমাচ্ছিলাম। করিমের ধাক্কায়ঘুম ভেঙে গেলো। সে কিছু না বলে ইশারা দিলো বাইরে যাওয়ার জন্য। আমি কোন কথা বাড়ালাম না। বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা গিয়ে দাঁড়ালাম গোয়াল ঘরের পেছনের চিকন পথটায়। তারপর দুজনে কুশল বিনিময় করতে করতে চলে গেলাম বিলপাড়। এরই মধ্যে করিম জানাল এবার সে পুরো এক সপ্তাহ থাকবে। পরীক্ষাশেষ, তাই স্কুল বন্ধ। শুনে আমি লাফিয়ে উঠলাম আনন্দে। এক সপ্তাহ দুজন এক সাথে থাকার সৌভাগ্য এর আগে কখনও হয়নি। করিম বলল, “সারা সপ্তাহের পরিকল্পনাটা এখনই করে ফেলতে চাই।”
কিন্তু বসবো কোথায়? বিলপাড়ে অনেক মানুষ। সবাই বিল পাহারা দিচ্ছে।প্রায় শুকিয়ে যাওয়া বিল থেকে পাশের পাড়ার ছেলেরা মাছ চুরি করতে আসে তো, তাই। কোন নির্জন জায়গা নেই। আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম একমাত্র বটতলাটাই ফাঁকাআছে। কিন্তু বটতলায় গিয়ে বসার মতো সাহস আমার নেই কে জানে কখন ঘাড়ের ওপর লাফিয়ে পড়ে ভূত। করিম খুব করে বোঝাল। বলল, “এতো ভয় পেলে জীবন চলে না। এছাড়া কেউ তো আমাদের বেঁধে রাখবে না। ভুতের আনাগোনা পেলে ঝেড়ে দৌড় দেব। দৌড় আমরা কম জানি না। বরাবরই ফার্স্টহই। সবচেয়ে বড় কথা হল আর কোথাও নির্জন জায়গা নেই।” অতএব আমরাগিয়ে বসলাম বটতলায়। ভয়ে আমার বুক কাঁপতে শুরু করলেও করিমকে সেটা বুঝতে দিলাম না লজ্জায়।
করিম নানা রকম পরিকল্পনা করতেশুরু করল। আমি তেমন কোন কথা না বলে শুধু হ্যাঁ হ্যাঁ করে যেতে লাগলাম। আর বারবার তাকাতে লাগলাম বটগাছেরডালের ঝোঁপগুলোর দিকে। করিমের অনেকগুলো পরিকল্পনার মধ্যে একটা পরিকল্পনা ছিল- পরের দিন খুব ভোরে আমরা বিলে মাছ ধরতে নামব। চুরি করব না, আমাদের জমি থেকেই ধরব। নিজ হাতে বড় মাছ ধরার মধ্যে একটা আনন্দ আছে। এছাড়া সকাল বেলা সবাইকে মাছ দিয়ে চমকে দেওয়ার ব্যাপারটা তো আছেই। আমি একমত প্রকাশ করলাম করিমের সাথে। সিদ্ধান্ত হলো- ফজরের আজান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে এসে আমাকে ডাক দেবে। আমি তখন বেরিয়ে যাবো আস্তে করে। কথাবার্তা শেষ করে আমরা উঠে দাঁড়ালাম বসা থেকে। বাড়ির দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে আরো বেশ ক’বার তাকালাম ডালের দিকে। করিমকে জিজ্ঞাসা করলাম,“আচ্ছা, আমাদের সব পরামর্শ ভুত শুনে ফেলেনি তো?” করিম হেসে বলল, “তুই কীযে বলিস না! ভূতের খেয়ে দেয়ে আর কাজ নেই,আমাদের কথা শুনতে আসবে। শোন, মাথা থেকে এসব আজগুবি চিন্তা দূর কর।”
বাড়ি আসলাম। রাতে একটু পড়াশোনা করে শুয়ে পড়লাম। কিন্তু কোনভাবেই ঘুম আসছিল না। শুধু মনে হচ্ছিল- কখনআজান দেবে, আর কখন বিলে যাব। এপাশ ওপাশ করছিলাম। শোয়া থেকে উঠে-বসেও ছিলাম তিন চার বার। তারপর হঠাৎ কখন ঘুমিয়ে পড়ি, টের পাইনি। ঠকঠক করে আওয়াজ হলো দরজায়। সঙ্গে সঙ্গে ঘুম ভেঙে গেল আমার। ঘাড় উঁচু করে তাকালাম পাশের খাটে। যদিও অন্ধকারের জন্যদেখা যাচ্ছে না, তবু নাক ডাকানো শুনে বুঝতে পারলাম ভাইয়া গভীর ঘুমে। অতএব নিশ্চিন্তে বেরিয়ে পড়লাম ঘর থেকে। বাইরে এসেই দেখি করিম দাঁড়িয়ে আছে মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে। অন্ধকারে তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু এতো অন্ধকার কেন ঠিক বুঝলাম না। আযানের সময় তো প্রায়ই উঠি। অন্যদিন তো এতো অন্ধকার থাকে না। মনে হয় আজ আকাশে অনেক মেঘ। আমি কয়েকবার বাবার ঘরের দরজার দিকে তাকিয়ে হাঁটতে লাগলাম করিমের পিছুপিছু। দেড় মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেলাম বিলপাড়

ভৌতিক গেম

0

এই গেমটা খেলে আমার কাছে ভালোই লাগলো । তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম । আপনাদের কেমন লাগলো কমেন্টস দিয়ে জানাবেন ।

[ShaktiIFrame http://media.y8.com/system/contents/9597/original/217.swf 700px 900px]