ভূতের কবলে একদিন !

এইতো কিছুদিন আগের কথা । আমি পড়ে ছিলাম ভুতের কবলে । কিন্তু কিভাবে? সেই ঘটনাই বলবো এখন । তার আগে কিছু কথা বলতে হবে ঘটনাটা বোঝার খাতিরে । আমাদের এলাকার এম পি একটি কবরস্থান বানিয়েছেন বেওয়ারিশ লাশের সত্‍কার করার জন্য ।সেটি আমাদের বাড়ী থেকে দঃক্ষিন দিকে আঙরার বিলের উপর অবস্থিত । আমাদের এমপি সাহেব প্রায় পাঁচ ছয় একর জমির উপর এটি নির্মান করেছেন । আমি তার এই মহান কাজকে স্বাধুবাদ ও মোবারকবাদ জানাই । আরে ধুর! আমি কি’না পল্টন ময়দানে ভাষন দিচ্ছি । তো সেই কবরস্থানের পাশেই আমাদের জমি । প্রতিবছর সেই জমিতে বোরোধান লাগাই । আমাদের এদিকে এই বোরো ধানকে ইরি বলে । আমাদের এলাকাটি কাঠালমাটি মানে লালমাটিই বেশী । আর তাই প্রতাদিনই জমিতে পানি সেঁচ দিতে হয় । আর এজন্য শ্যালো মেশিন সেচপাম্প কে পানি সেঁচের অন্যাতম মাধ্যম হিসেবে নেয়া হয় । কারন আমাদের জমির কাছাকাছি বিদ্যুতের লাইন নাই । তাই এ ব্যবস্থাকেই বেছে নেয়া হয়েছে । যাহোক, আমরা খড়ের একটি ছৈ বা তাবু তুলে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করি । অবশ্য কবরস্থানে থাকার ব্যাপারে আমার পরিবার ও এলাকা বাসী অনেক ভয়ভীতি দেখিয়েছিল । আমি একটু বেশি সাহসী কিনা ! তাই কারো ভয়ভীতি নিষেধ উপেক্ষা করে সেখানেই থাকার জন্য মন স্থির করি । আর এক যেখানে ঐ আলগা ঘরটি করা হয়েছে তার ঠিক ১ হাত পূর্ব পাশেই ৩০টির ও বেশী লাইন করা কবর । আমাদের ছৈ এর পাশেই যে কবরটি সেটি একটি ফাঁসিতে মরা এক মহীলার । যাহোক , আর ঐ ছৈ এর মধ্যে আমি শুধু একাই থাকি তা নয় আমার এক পড়শী (আমার বয়সী) মিলে দুজন থাকি । আমি বিবাহিত আর পড়শি অবিবাহিত ।
যাহোক , অনেকক্ষন বকবক করলাম আসল কথা বলাই হয়নি ।
প্রতিদিনের ন্যায় আমরা দুজনে মিলে রাত ৯ টায় শোয়ার জন্য গেলাম । আমার ঐদিন ঘুম আসছিল না । কেন জানি ছটফট লাগছিল । মোবাইলের ঘড়িতে দেখি ১২টা বাজে আর পাশের জন ঘুমে বিভোর । বাড়ীতে বউয়ের কাছে ফোন দিয়ে বললাম আমি আসছি । খারাপ লাগছে খুব । তাই চলে এলাম…… ঠান্ডা বেশী তাই সকালে মেশিন স্টার্ট দিয়ে গোসল করবো বলে লুঙ্গিটা নিয়ে ফিরে এলাম ঐ ছৈ ঘরে । একদম চাঁদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম । তবুও ঘুম আসে না । কি করি মোবাইল থেকে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা শুরু করলাম । রাত ২টা ৩০ মিঃ হঠাত্‍ হুড়মুড় করে ছৈ সহ আমাকে কে যেন ঠেসে ধরলো । যেন একটা আস্ত পাহাড় আমার গায়ের উপর ধ্বসে পড়লো । আমিতো চোখে মুখে লেপ গায়ে দিয়ে উপর হয়ে শুয়ে ছিলাম। উপর থেকে অসাভাবি চাপে দম বন্ধ হয়ে আসছে । আমি মরে যাচ্ছি নিশ্চিত! আমাকে ঠেসে ধরার মাত্রা যেন ক্রমেই আরও বেড়ে গেল । কতঃক্ষন এভাবে কাটলো জানিনা ।আমি অনেক চেষ্টা করছি নিঃশ্বাসটা ফ্রি করতে । কিন্তু যত চেষ্টা ততো বিফল । অবশেষে মনে হলো মরেই তো যাচ্ছি একটু দোয়া কালাম পড়ে নিই । আয়াতুল কুরছী পড়তে চাচ্ছি কিন্তু মনে করতে পারছি না । কি সাংঘাতিক বিপদ অবশেষে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা…….
পড়ার সাথেই নিশ্বাসটা পাতলা হলো, ছৈ উপরে উঠে গেল, আমিও মনে হয় বেঁচে গেলাম ।লক্ষ্য করলাম ছৈ যেমন ছিল তেমনি আছে । কোনরকম পাশের জনকে ডেকে তুললাম, সে কিছু টের পেয়েছে কিনা? তার ভাবগতি দেখে বুঝলাম সে কিছুই টের পায়নি । তাই রাতে ওকে আর কিছু বললাম না । শুধু বললাম, পেসাব করবো বাইরে চলো . . .

2 thoughts on “ভূতের কবলে একদিন !

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.