ভুতের ভালোবাসা

আমার বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায়। ছোট বেলা থেকেই ভূত পেত্নি, জিন -পরিদের কাহিনী শুনতাম। কিন্তু ভয় পেতাম খুব কম। কারণ ছোটবেলা থেকেই অনেক মৃত্যু দেখেছিলাম। যাই হোক, কেউ যদি এইসব কাহিনী বলত,আমি বিশ্বাস করতাম না।

তখন ক্লাস ৮ এ পড়ি। সবাই মিলে এক খালার বিয়ে খেতে গেলাম নানুবাড়ি। অনেক পুরোনো হওয়ায় ভৌতিক ছিলো সব বাড়িগুলো। পিছনের দিকে প্রায় সবটুকু এলাকা জুড়ে বাশবাগান। গায়ে হলুদ এর দিন, নানী বললো রতন নামের এক কাজের লোককে পাশের বাড়ি থেকে ডেকে আনতে। কি কাজে যেন সেখানে গিয়ে রতন আটকে গেছে। আসতে দেরি করছে। তখন রাত ৯টা বাজে। এক জন সাথে নিতে বললেও আমি একটা টর্চ নিয়ে একাই যাওয়া শুরু করলাম সেই বাশবাগান দিয়ে। ২ মিনিট হাঁটার পর কোত্থেকে একজন বৃদ্ধা আচমকা ডেকে উঠলেন। বললো ‘অনিক নাহি রে?’
বললাম, ‘জি,আপনি কে?’
‘আমি গো রে কি আর চিনবি তোরা, বুইরা মানুষ,বিয়া খাইতে আইসস নাহি?’
না চেনায় একটু লজ্জা পেয়ে বললাম, জি..
রতন মোল্লারে ডাকতে যাস, তাইনে?
আমি বললাম, জি..
আমারেও নিয়ে যা, অইদিহেই যামু।
আমি বললাম,আসেন..
তোর মায়ে চিনে আমারে, ছোট বেলা থেইকাই বড় কুরসি এরে, আমি বানুর মা.. তোর মায়ে আমারে কতো আদর কইর তো ,বিসনাতে পড়েছিলাম তখন কতো কিছু খিলাইছে আমারে..
আমি বললাম, কেন এখন করে না?
বৃদ্ধা বললেন, এখন কই থিকা করবো, আমিই তো নাই।
আমার মনে একটা ধাক্কা দিল, নাই মানে!!
‘শুন, রুমি(আমার খালা)রে কইছ বিয়া না করতে, এর জামাই খুব খারাফ।
আমি একটু হেসে বললাম, আপনি জানলেন কিভাবে? আপনি তো জামাই দেখেনই নাই।
‘আমি জানি রে,আমি জানি।’ উনি বললেন।
তুই যা,আমি ঐদিক যামু।
‘আমি আপনাকে দিয়ে আসি, অন্ধকার তো সামনে। একা যেতে পারবেন?’
আমার দেখতে আলো লাগে না রে ভাইডা। বলেই বৃদ্ধা চলে গেলেন। আমিও চলে আসলাম। ব্যাপারটা পরে ভুলে যাই।
ডিসেম্বর ২০১১ এ আমার খালা আত্মহত্যা করে। এলাকার লোকের কাছে জানা যায় তার জামাই ভাল ছিল না। তাকে প্রতিদিন মারধোর করতো। এর কিছুদিন পর আম্মু কে জিজ্ঞেস করলাম, বানুর মা এর কথা।
মা অবাক হয়ে বললেন , ‘তুই উনার কথা জানলি কিভাবে? খালা (বানুর মা) তো ১৫ বছর আগেই মারা গেছে।
কথাটা শুনেই বুকে ধরাস করে উঠল ভয়ে..
আবার তিব্র একটা কষ্ট মোচড় দিল মনের গভীরে। কারণ আমি জানতাম এমন হবে.. বানুর মা নানু আমাকে বলে গিয়েছিল সবই। নিজেকে কল্পনাতীত অপরাধী মনে হল।

মানুষের জীবনে অনেকরকম ঘটনাই ঘটে যার কোন ব্যাখ্যা দেয়া যায় না। হয়তো আমাদের প্রিয়জনরা বারবার ফিরে এসে আমাদের সতর্ক করে দেয়। হয়তো আমরা বুঝতে পারি না অথবা বিশ্বাস করি না। আল্লাহ আমার খালাকে মাফ করে দিন এই দোয়াই করি এখন।

জানিয়েছেনঃ বাউন্ডুলে অনিক

One thought on “ভুতের ভালোবাসা

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.