ডাকিণী ৪১তম পর্ব

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
প্রাণপণে কুয়োর কিনারা আকড়ে ধরে ঝুলে রইলাম। ঠিক নিচেই আমার জন্যে মারগারেট অপেক্ষা করছে। কোন ক্রমে যদি হাত ফসকে ভেতরে পড়ে যাই তো নিশ্চিত মৃত্যু। দু হাতের উপর ভর করে দেহকে উপরে টেনে তুলার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎ আকড়ে থাকা হাতের আঙুলের উপর প্রচন্ড চাপ অনুভব করলাম। মনে হলো কে যেনো পা দিয়ে মাড়িয়ে দিচ্ছে। আমি দাঁতে দাঁত চিপে ব্যাথাটা সহ্য করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু চাপের ফলে আঙুলগুলি অসার হয়ে আসতে লাগলো। বুঝলাম মারগারেট আমায় নিচে ফেলে দেবার চেষ্টা করছে। ঠিক টখনই ওর বই থেকে মুখস্থ করা অশুভ আত্মা তাড়ানোর মন্ত্রটা মনে পড়ে গেলো। বার কয়েক আওড়াতেই হাতের উপর জেকে বসা প্রচন্ড চাপটা সরে গেলো। এই সুযোগে আমি হাচড়ে পাচড়ে উঠে এলাম মৃত্যুর কিনারা থেকে। তারপর আর এক মুহুর্তও দাঁড়ালাম না ওখানে। সোজা হেটে প্রধান ফটক ধরে বেরিয়ে গেলাম। আমি এই মনস্তাত্ত্বিক খেলায় বারবার হেরে যাচ্ছি। মারগারেট বরাবর ই আমার ক্রোধের সুযোগ নিয়ে আমাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রচন্ড হতাশাজনক লাগছে ব্যাপারটা। কিন্তু ওই কটেজ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরে মনটা অনেকটাই ভালো হয়ে গেলো। মুক্ত বাতাসে রাস্তা ধরে হাঠতে হাঠতে এক সময় পৌছে গেলাম কাঙ্খিত ফাস্টফুড দোকানে। ভেতরে ঢুকে দেখি আদিন এক কোনের টেবিল বুক করে বসে আছে আমার অপেক্ষায়। হাসি মুখে এগিয়ে যেয়ে বললাম, “দুঃখিত। আমি অনেকি দেরী করে ফেলেছি।”
আদিনকে এতে মোটেও সন্তুষ্ট মনে হলো না। ও কোন ভুমিকা না করেই বলল, “সাঞ্জে, এবার সব কিছু খুলে বলো তো। ঠিক কি হচ্ছে ওখানে।”
আমি ওকে প্রথম থেকে শুরু করে সবকিছু একে একে বললাম। লাইব্রেরীতে আলেসের ডায়ারী খুজে পাওয়া, তার সুত্ধরে প্রিস্টের কাছে পৌঁছানো, তারপর প্রিস্টকে মেরে মেয়েগুলিকে মুক্ত করা, তারপর মারগারেটের প্রাদুর্ভাব। শুধু বললাম না যে আংটি পরে থাকার জন্যে মারগারেট সব সময় আমার সাথেই ঘুরে বেরায়। কেন জানি মনে হলো এটা বললে ও হয়তো আমার সাথে ফ্রি হয়ে কথা বলতে চাইবে না।
ও সব শুনে বলল “প্রিস্টকে মেরে তুমি এক দুঃসাহসিক কাজ করেছো সাঞ্জে। এমন অসাধারণ কাজের জন্যে আমি তোমাকে সাধুবাদ জানাই। তবে ঐ রাতে সেই মেয়েগুলির আত্মার সাথে প্রিস্টের চেয়েও ভয়াবহ এক পিশাচীকে তুমি মুক্ত করে দিয়েছো। এর জন্যে তোমাকে ভয়াবহ মূল্য দিতে হতে পারে। ও বারবার তোমায় হত্যা করার চেষ্টায় লিপ্ত আর তুমি প্রায় প্রতিবারই ভাগ্য ও বুদ্ধির জোরে বেঁচে যাচ্ছ। কি হবে যদি একবার ভাগ্য মুখ তুলে না তাকায়? কি হবে যদি আগামীকাল তুমি রাগে অন্ধ হয়ে তোমার বুদ্ধির মাথে খেয়ে বসো। আমি আশা করি তুমি ব্যাপারটা বুঝিতে পারছো। আমি বলতে চাইছি, যদি এভাবে চলতে থাকে তো একবার না একবার তুমি ওর শিকারে পরিণত হবেই।”
এক নিঃশ্বাসে এতগুলি কথা বলে এবার ও ঢকঢক করে পানি গিলতে লাগলো। ও আমার প্রকৃত অবস্থাটা বুঝতে পেরেছে।যতই উৎরে যাই না কেনো একবার না একবার মারগারেটের কাছে নতি শিকার করতেই হবে। আমি ব্যাগ্র কন্ঠে বললাম, “আদিন। এ থেকে মুক্তি পাওয়ার কি আর কোন উপায় নেই? ”
আদিন হতাশ কণ্ঠে বলল, “আমি ঠিক জানি না। তবে জানার চেষ্টা করবো। সেজন্যে আমাকে আবারো তোমার কটেজে বেরাতে নিয়ে যেতে হবে। ”
আমি চিৎকার করে বললাম, “কক্ষনো না। তুমি এমনিতেই একবার আমার কটেজে গিয়ে প্রাণ হারাতে বসেছিলে। আমি আবার তোমার প্রাণের ঝুকি নিতে চাই না। তাছাড়া তোমার ওসব ফাও লোক দেখানোর ট্রিক্স গুলি আলেসের উপরই কাজ করেনি। মারগারেট তো আলেস থেকেও বেশী ভয়ঙ্কর। ও তো তোমায় পরোয়াই করবে না । স্রেফ এক টিপে মেরে ফেলবে। ”
ও মৃদু হেসে বলল, “আমায় মেরে ফেললে ফেলবে। তাতে তোমার কি? আমার জন্যে কোন কালে তোমার হৃদয়ে কোন দরদ ছিলো না কি? ”
আমি: “দেখ আদিন। আমি ঠাট্টা করছি না । কটেজটা ভয়ানক। আমি কিছুতেই তোমাকে সেখানে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো না। ”
আদিন: ” তবে কি আমি ঠাট্টা করছি? তুমি না নিয়ে গেলে আমি চুরি করে হলেও ঐ কটেজে ঢুকবো। ”
আমি: “আমি তোকে পুলিশে দেবো শয়তান।”
আদিন: “ইউ ফাকিং বীচ, আই ডোন্ট কেয়ার।”
আমি: “ইউ মাদার ফাকার। কাম এন্ড ফাক ইউর মম্মা।”
এই সব বাজে কথা বলতে বলতে আমি প্রচন্ড উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলাম। ক্রোধে কাঁপতে কাঁপতে বুঝিতেও পারলাম না কখন আমার আংটি পরা ডান হাতটা টেবিল থেকে একটা কাঁটা চামচ তুলে নিয়েছে! তারপরই অদৃশ্য কোন একজনের নির্দেশে হাতটা আদিনের গলার দিকে সাঁ করে ছুটে গেলো, কাঁটা চামচটা গেঁথে দিতে।
(চলবে)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.