ডাকিণী ৩৮তম পর্ব

লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।)
আংটির বাধন থেকে মুক্ত হয়ে অন্য মেয়েগুলির আত্মা যখন পরপারে পাড়ি দেয় তখন মারগারেট সবার পেছনে পড়ে থাকে। উদ্দেশ্য একটাই। পুনরায় জীবন্ত জগতে ফিরে আসা। তবে ও প্রিস্টের মতো পুনরুত্থানের জন্য নিজ দেহকে মমি করে রাখে নি। রাখার সুযোগটাও ছিলো। ওর দেহটা তার অজান্তেই কুয়োর নীচে পচে গিয়েছিলো। কুয়োর সেই পঁচা দুর্গন্ধের কথা মনে পড়তেই গা গুলিয়ে উঠলো। নিজের দেহে ফেরার সুযোগটা হারিয়েও ভেঙ্গে পড়েনি। জীবদ্দশায় ও একজন উচ্চমানের ডাইনী ছিলো। মরে গিয়েও ওর সে ক্ষমতা বিন্দুমাত্র কমেনি। ও সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্য কারো দেহে ফিরে আসতে চাইছিলো। আমার দেহে। ওর আংটিটা পড়ে থাকার কারণে ও আমার পিছু পিছু চলতে থাকে, একটা অদৃশ্য ছায়ার মতো।
বইটাতে আংটির সাহায্যে আটকে পড়া আত্মার পুনরুত্থানের জন্য কতগুলি শর্ত দেওয়া আছে। মারগারেট শুরু থেকেই এসব শর্ত মেনে আসছিলো।
প্রথম শর্ত হলো একটা মৃতদেহ যাতে কোন বাহ্যিক বা আভ্যন্তরিণ ক্ষত থাকবে না।
২য় শর্ত, যে আংটি পরিহিত অবস্থায় আত্মাটা মারা গিয়েছিলো সেই আংটিটা মৃতদেহের হাতে পরানো থাকবে।
এতোক্ষণ আমি শুধু মারগারেটের পরিচয় জানতে পেরেছিলাম। কিন্তু ওর উদ্ভট আচরণের কারণ আমার কাছে অজানাই থেকে গিয়েছিলো। কিন্তু এই শর্ত দুটো ওর আচরণের রহস্য আমার কাছে উন্মুক্ত করে দিলো।
ঊভয় শর্তানুযায়ী আমিই হলাম ওর উপযুক্ত টার্গেট। আমার একটা নিরোগ দেহ আছে, একই সাথে আংটিটাও মধ্যমায় পরানো রয়েছে। তাই ও আমাকেই বাছাই করেছিলো। ও আমার দেহে ফিরে আসতে চাইছে।
সেই কবরস্থান থেকেই মারগারেট আমাকে অনুসরণ করছিলো। প্রথম দিকে ও আমায় সাহায্য করেছিলো কেবল প্রথম শর্ত পুরণের জন্যেই। সেদিন গির্জা থেকে ফিরার পথে ওরই ইঙ্গিতে ইগনিশন ছাড়াই গাড়িটা স্টার্ট নিয়েছিলো। গাড়িটা তখন স্টার্ট না নিলে আমি হয়তো সেই ছুরি বাগিয়ে ধরা টিনএজ মোটরসাইকেল আরোহীর হাতে ধরা পড়তাম। এতে আমার ছুরিকাহত হওয়া সহ ভয়ানক আভ্যন্তরীণ আঘাতের সম্ভাবনা ছিলো যা আমার দেহকে মারগারেটের প্রত্যাবর্তণের অনুপযোগী করে তুলতো। তারপর আমি ড্রাইভ করতে করতে ঘুমিয়ে গেলে ও নিজে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমায় কটেজে পৌছে দেয়। এতে আমার দেহটা দুর্ঘটনাজনিত আঘাত থেকে রক্ষা পায় ও তার ব্যবহার উপযোগী থাকে। এজন্যেই আমি ওকে গাড়ির ড্যাশবোর্ড মিররে দেখতে পাচ্ছিলাম।
কিন্তু কটেজে ফিরে ও আমায় মেরে ফেলতে চাইছিলো। এমন পদ্ধতিতে যাতে আমার দেহে আঘাতের পরিমান সর্বনিম্ন হয়। কিন্তু সেদিন সকালে মনিকা এসে তার সেই পরিকল্পনাকে ভেস্তে দেয়। মনিকার আগমনে মারগারেট খানিকের জন্যে তার প্লান স্থগিত রাখে। ও আমাকে কটেজে একা রেখে মারতে চাইছিলো। কিন্তু মনিকা তার প্রধান বাধা হয়ে উঠে। ও আমায় মারতে চেষ্টা করলে মনিকা হয়তো আমার জন্যে সম্ভাব্য সাহায্য নিয়ে আসতে পারে, এ ধারণা থেকেই ও মনিকাকে ভয় দেখানো শুরু করে। যেনো মনিকা কটেজ ছেড়ে চলে যাও। প্রথম দিন ওকে লাইব্রেরীতে আটকে ফেলাটা একটা সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা ছিলো। কিন্তু আমি মনিকাকে লাইব্রেরীর দরজা সম্পর্কে মিথ্যা বলে আশ্বস্ত করায় ও থেকে যায়। এভাবেই মনিকা এই বিপদে জড়িয়ে পড়ে।
তবে একটা ব্যাপার আমার কাছে এখনো পরিষ্কার নয়। এ ঘটনার পর মনিকা সেদিন অফিসে না যেয়ে কটেজে একা থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আমিও ওকে ফেলে কটেজে একা ফেলে রেখে অফিসে চলে যাই। স্বভাবতই মারগারেট ও চলে আসে আমার সাথে। কিন্তু আমি অফিসে থাকতেই মিনকা আমায় ফোন দিয়ে দ্রুত ফিরতে অনুরুধ করেছিলো। কটেজে নাকি খুব সমস্যা হচ্ছে। মারগারেট আমার সাথে সাথেই চলছিলো। আমি অফিসে হলে সে ও অফিসেই থাকার কথা। অন্যদিকে আলেসও আংটি থেকে মুক্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে। তবে আমার ও মারগারেটের অবর্তমানে কে সেদিন কটেজে সমস্যা করছিলো? কে মনিকাকে ভয় দেখিয়েছিলো? তবে কি কটেজে তৃতীয় কোন এক অশরীরীর আবির্ভাব হয়েছিলো? কিন্তু কে এই তৃতীয় জন?
যাহোক। সে হিসাব পরে মিলানো যাবে। তারপর স্টার আমাকে অফিস থেকে গ্রেফতার করে তাদের সেইফ হাউসে নিয়ে যায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন স্টার আমাকে মৃত্যুদণ্ডের ভয় দেখিয়েছিলো। মারগারেট ওটাকে সত্যি ভেবে নেয়। ও ভেবেছিলো ওরা সাক্ষ না দিলে ওরা হয়তো আমায় সত্যি সত্যিই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেবে। এতে আমার ঘাড় ভেঙ্গে যেয়ে দেহটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। তাই ইন্টারোগেশন রুমে আমি ঘুমিয়ে পড়লে সে আমার আংটি পরা হাতে নিজের প্রভাব বিস্তার করে, আমার অজান্তেই সাক্ষ্য লিখে দেয়। বুধবার সন্ধায় গির্জার ছাদে আমি ঘুমিয়ে পড়লেও মারগারেট তো আর ঘুমায় নি। প্রিস্টের কবরের মধ্য থেকে সে গির্জার পাশের বিল্ডিং এ ঢুকা আততায়ীকে দেখতে পেয়েছিলো। ও সেই ঘটনার সরল সাক্ষ্য স্টারদের লিখে দেয়। ফলে স্টাররা সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে ছেড়ে দেয় ও আমি কটেজে ফিরে আসি। মারগারেটও আমার সাথেই ফিরে আসে। ইতিমধ্যেই মনিকা হয়তো কৌতুহল বশত লাইব্রেরীতে ফের ঢুকে পড়ে। সেখানে কাকতালীয়ভাবে সে মারগারেটের বইটা খুজে পায় ও পড়তে শুরু করে। কটেজে ফিরতেই মারগারেট ব্যাপারটা টের পেয়ে যায়। বইটা তার দুরভিসন্ধিকে মনিকার কাছে উন্মোচন করে দিতে পারে ভেবে মারগারেট ওকে বইটা পড়তে দিতে চায় নি। আমি যখন কটেজের বিভিন্ন কক্ষে মনিকার খোজে তল্লাসি চালাচ্ছিলাম ও তখন লাইব্রেরীতে মনিকা কে ভয় দেখায়। ভয় পেয়ে মনিকা অজ্ঞান হয়ে যায় ও তার জ্বর চলে আসে। কিন্তু তারপরেও মনিকা কটেজ ছেড়ে চলে যাচ্ছে না দেখে মারগারেট বাধ্য হয়েই ওর ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নেয়।,,,
(চলবে)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.