ঘড়া পর্ব ৪-মারিয়েন ফয়সাল।

সবাইকে পরিষ্কারের কাজে লাগিয়ে দিয়েছি।অনেকদিন পর এত বড় দু’টা দাওয়াত, চাল থেকে ক্ষুদ বাছার মত করে ঘর পরিষ্কার করতে হবে।
একটু পরেই আমার ছেলের দেখা পেলাম, কিন্তু ওর তো এখন বাসায় থাকার কথা নয়!
-‘তুমি বাসায় কেন?’
-‘আজ আর বের হব না।’
বুঝ্লাম আরও একবার প্রশ্ন উত্তরের মুখোমুখী হতে হবে।
ও শুধু হাতে নাতে প্রমানের অপেক্ষায় রয়ে গিয়েছে, আর ও জানলেই’ বন্দুকধারী’জেনে যাবে । অবশ্য ওদেরকে তো এক সময় না এক সময় জানাতেই হবে!
‘ঝন ঝন’ শব্দে চারিদিক খান খান হয়ে গেল, তার সাথে মতিবিবির খনখনে গলা, ‘গেল গেল, সব খান খান হয়ে গেল!’ লবি থেকে আওয়াজটা এসেছে। সবার আগে ছেলে দৌঁড়ে গিয়েছে আর মতিবিবিও ভাঙ্গা কোমরে দৌঁড়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে। আমি তৃতীয়।দেখলাম দোউখানু একটু হতভম্ব হয়ে একটা কাচের জার হাতে বসে রয়েছে।
‘আসতে না আসতেই সর্বনাশে লেইগে পড়েছো!’
‘কই! কিছু হয়নি তো মতি আম্মা!’
বুড়ো দামড়া, আমি তোর আম্মা হব কেন! ও তুই মিডামোকে ডাক! কিন্তু ভাঙ্গলি কেন!’
-‘কই কিছু ভাঙ্গে নাই তো!’ দোউখানুর নির্লিপ্ত উত্তর । দোউখানুর হাতে আস্ত একটা জার।
মতিবিবি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে।
-‘কিন্তু, ওটা তো ভেইঙ্গে টুকরা হয়ে পড়েছিল মাটিতে!’
আমার ছেলে একদম চুপ।
-‘মতিবিবি, তোমার চোখে মনে হয় ছানি পড়েছে, বয়েস তো কম হল না!’
দোউখানুও সায় দিল।
-‘মিডাম যে কি বুইললেন! এত কম বয়সে ছানি পড়ে নাকি!’
-‘দোউখানু তুমি কাজ কর।’
আমার সাথে সাথে আমার ছেলেও আমার ঘরে চলে এসেছে।
-‘আমি যে দেখলাম,ভাঙ্গা জারটা নিমেশে জোড়া লেগে গেল! ‘ ও আমার দিকে খুব সতর্ক ভাবে তাকিয়ে আছে। আমি নিশ্চুপ!
-‘ওই লোকটা কে আম্মু? মানুষ নয় তাই না?’
-‘ হ্যাঁ ‘
বেশ খুশী হয়েছে মনে হল।
-‘বাবা জানেন? আর হুজুর মামার কি করবে? বাবাকে জানানোর সময় আমাকে ডেকো।’
বুঝ্লাম মজা দেখতে চায়’
-‘আচ্ছা’
রাত দশটায় বন্দুকধারীকে সরাসরি জানালাম যে আমি একজন জ্বীন বাবুর্চি নিয়োগ করেছি যে কিনা আমার পূর্ব পুরুষ বিলকিস বেগমের প্রতি আসক্ত ছিল, এবংশাহজাদী বেগমও তার প্রতি আসক্ত হন।
-‘যার ছবি তোমাদের বাড়ির সিড়িঘরে ঝুলানো আছে?’
বন্দুকধারী যেন কল্পনায় বিলকিস বেগমকে দেখতে চেষ্টা করলেন, এবং তন্ময় হয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে রইলেন।মনে হল উনি জ্যান্ত বিলকিস বেগমকেই দেখছেন।
-‘কিন্তু ও তো তোমার প্রতিও আসক্ত হতে পারে, অবশ্য বিলকিস বেগমকে দেখার পর তোমার প্রতি আসক্তির কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’
গম্ভীর ভাবে জানালাম যে দোউখানু আমাকে মাতৃতুল্য ভাবে।
উত্তর এলো, ‘আসলে শাহজাদী বিলকিস বেগমকে দেখার পর অন্যদেরকে মাতৃতুল্য ভাবাটাই স্বাভাবিক। আহা! কি রূপ!’
আমি বললাম, ‘রূপের কথা এখন থাক!’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.