ভূতের বাড়ি

ডাকিণী (শেষ পর্ব)

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা আগুনটা দ্রুত সারাটা কটেজে ছড়িয়ে পড়লো। সাঞ্জে, আর মনিকার দেহ অধিকারিণী আলেস তখন সুখ নিদ্রায় ব্যাস্ত। গতরাতটা অসাধারণ কেটেছে তাদের। হয়তো ১২০০ বছর আগে মার্টিনীর সাথে এমনি কোন এক রাতের কথা আলেস তার ডায়ারীতে লিখেছিলো। ক্রমশ ধোয়া ঘনিয়ে আসছে। কাশতে কাশতে হঠাৎ সাঞ্জের ঘুম ভেঙ্গে গেল। ততক্ষণে আগুন বেডরুমের সামনের দরজাকে গ্রাস করে নিয়েছিলো। সে দ্রুত ঘুমকাতুরে আলেসকে জাগালো। জ্বলন্ত মৃত্যুর সামনে হতভম্ব ওরা দুজন স্থির দাড়িয়ে রইলো। বিশাল কটেজটার চারপাশে জনবসতি খুবই কম। তার উপর কটেজটা ২০ ফুট উঁচু দেয়ালে ঘেরা। যতক্ষণে প্রতিবেশীরা দেয়ালের উপর দিয়ে ধোয়ার কুণ্ডলী দেখে দমকলে ফোন দিলো, ততক্ষণেই কটেজটার পুরোটাই জ্বলে শেষ। তাই দমকল বাহিনীকে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে খুব একটা বেগ পেতে হলো না। ওরা যখন বেডরুমে ঢুকলো তখন দরজার সামনেই মনিকার পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া দেহটা পেয়ে গেল। আলেস ততক্ষণে দ্বিতীয় মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে দেহটা ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে। সাঞ্জেকে পাওয়া গেল সেই আবদ্ধ বাথরুমে। ২৫ ভাগ পুড়ে যাওয়া দেহ নিয়ে সে তখনো বেঁচে ছিলো। ওকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। কটেজটার ইন্সুরেন্স করা ছিলো ভিগাতিয়ার কম্পানিতে। সাঞ্জেই করিয়েছিলো। সে কম্পানির দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ রবার্তো ট্রাভেজ পরদিন এলেন কটেজটা পরিদর্শন করতে। তিনি দমকল বাহিনীর বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে জানতে পারলেন আগুনটা লেগেছিলো রান্নাঘরের স্টোভ থেকে। উনি নিজেও পরিক্ষা করে দেখলেন। দেখে মনে হল কেউ একজন স্টোভের গ্যাস ছেড়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তাতেই কটেজটা পুড়ে ছাই। উনি মনে মনে খুশিই হলেন। উনার কম্পানিকে এই দুর্ঘটনার জন্যে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। ট্রাভেজ দ্বিগুন উৎসাহে কটেজের সবগুলি কক্ষে তল্লাসি চালালেন। উনি যখন বেডরুমে ঢুকলেন তখন ছাই হয়ে যাওয়া বিছানার উপর পুড়ে দুমড়ে

  “অসম প্রেম” পর্ব-১ ——–আয়েশা সুলতানা জেবা বিলের পাড়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে তার বান্ধবী প্রীতির জন্য। প্রায় আধঘণ্টার উপরে হয়ে গেসে। জেবার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে, মনে মনে ভাবছে “প্রীতিটার কোন কমনসেন্স নাই” কেউ এত দেরি করে? একা একা কতক্ষণ দাঁড়ানো যায়,, এই ভেবে জেবা বিলের উত্তরদিকে হাটতে শুরু করে, আর ভাবে ওদিকটায় মা কখনো যেতে দেয় না, সবসময় নিষেধ করে, কি আছে ওদিকে? জেবার মা জোবায়দা খুবই সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে আর যথেষ্ট গুনীও বটে.. আর বাবা ও বা কম কিসে? ছোট একটা মাদ্াসায় শিক্ষকতা করলেও বাবা খুবই ব্যক্তিত্ত্বসম্পন্ন মানুষ। জেবার বাবা আশিকুর রহমান পেশায় মাদ্রাসা শিক্ষক হলেও তিনি এলাকায় খুবই সম্মানিত,, এলাকার যেকোন বিপদে আপদে সকলে তার কাছ থেকেই পরামর্শ নেয়,, জেবার বাবার সামান্য আয়ের ছোট সংসারে তার আরো ছোট দুই বোন জুই ও মনি, আর বড়ভাই রাশেদ, ছোট সুখী পরিবার… ভাবতে ভাবতে জেবা অনেক দূর চলে আসে, হঠাৎ কারো ডাক শুনতে পায় জেবা,,, থমকে দাঁড়ায়,, চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখে সন্ধ্যা নেমে এসেছে,, জেবা ভয় পায়…. গাঁ ছমছম করে উঠে,,,,, অন্যরকম শিহরণ বেয়ে যায় জেবার সারা শরীরে…. আর এর মধ্যেই জেবা বুঝতে পারে বাম কাঁধে কারো শীতল স্পর্শ. জেবা শিউরে উঠে……….. মনে মনে নিজেকে প্রচন্ড বিদ্রুপ করে এই ভেবে যে মায়ের নিষেধ শর্তেও কেন এলো এদিকটায়…

জেবা এই জেবা এখানে কেন এসেছিস, বারবার বলি এদিকে আসবি না, এত বড় হয়েছিস বোধবুদ্ধি কবে হবে তোর?? আরেকটু হলেই তো বাঁশের কোনাটা চোখে ঢুকতো, কি হতো তখন?? কড়া সুরের কথা গুলো শুনেই জেবা পিছনে ফিরে মাকে সজোড়ে জড়িয়ে ধরে ফোফাতে থাকে,,,, জোবায়দা বুঝতে পারে যে জেবা খুব ভয় পেয়েছে,

রর গল্প পর্ব১ – করিডোর: মাস কয়েক হবে আমরা সরকারী বাসায় উঠেছি।ছিমছিম পাচঁ তলা বিল্ডিংয়ের তিন তলায় আমাদের ফ্লাট। আমার আবার সব জায়গাই ভাল লাগে। বিয়ের পর দেশে বিদেশে স্বামীর সাথে কতো বিচিত্র রকম জায়গায় বসবাস করেছি। চেষ্টা করেছি আশে পাশের মানুষ আর সব কিছুর সাথে মানিয়ে চলতে। তাই প্রথমে চেষ্টা থাকে বসবাসের জায়গাটাকে ভালোবাসা। সেটা যে রকমই হোক।বর ভদ্র লোক বাসায় কম থাকে। বেশির ভাগ সময় ল্যাবেই কাটিয়ে দেয়। বিয়ের আগে মজা করে বলেছিলেন আমার সাথে বিয়ে হলে আমি কিছু দিতে না পারলেও লেখার জন্য অনেক অভিজ্ঞতা আর উপকরন পাবেন।একজন লেখকের জন্য যা সবচেয়ে বড় সম্পদ। সত্যিই টের পেলাম বিয়ের দিন থেকেই। অনেক বৈচিত্র্যময় উন্থান পতনের ইতিহাস থাকে গবেষকদের জীবনে। শুনেছি এই বাসার আগের লোকের অফিশিয়াল কারনে অন্য কোথাও বদলি হয়েছে। এরপর দশ মাস কেউ ছিল না। বাসাটায় আসার পর থেকে কিছু এলোমেলো বিষয় মস্তিষ্ক কে একবার হলেও নাড়া দিয়ে যায়। প্রায়ই বাসার অনেক জিনিস হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পর ও পাওয়া যায় না। তারপর অনেক দিন পর দেখা যায় ঠিক আগের জায়গায় আছে। সেদিনও হাত ঘড়িটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সতের দিন পর সেই একই জাগায় পেলাম। মনেহয় অদৃশ্য ভাবে কেউ আমার সাথে খেলা করে। লুকোচুরি খেলা। আমাদের সবার মধ্যে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ভীষন ভাবে কিছু সময়ে সচেতন থাকে। আমার ড্রয়িংরুম আর বেড রুম থেকে ভিতরের বেড রুমে যেতে একটা ছোট করিডোর আছে। মাঝে মাঝেই লাইট টা জ্বলে না। আবার নিজ থেকেই জ্বলে।ভাবি বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা। আসলে সমস্যা হয়তো অন্য কোথাও। ভর দুপুর কিংবা মধ্যরাতে নিস্তব্ধ বাসায় বুঝা যায় ভারী পর্দা

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা আমার পীড়াপীড়িতে ও অবশেষে রাজি হলো। প্রথমে ওকে নিয়ে গেলাম, মন্টগোমেরী সিনেমা হলে। বিশাল থ্রিডি স্কিনের সামনে একটা রোমান্টিক মুভি দেখলাম আমরা। তারপর গেলাম শপিংমলে। ওর জন্যে নতুন কাঁপড় চোপর কিনে আনলাম। ও সারাটাক্ষণ আমায় একের পর এক প্রশ্ন করে ব্যাতিব্যাস্ত করে রাখলো। আলেস: “ওই দেখো দেখো, একটা উড়ন্ত দানব, ওটা কি মানুষ খায়? ” আমি: “আরে দুর। ওটা তো পুলিশের টহল হেলিকপ্টার। ওটা মানুষ খেতে যাবে কেন? বরং মানুষই ওটার ভেতরে করে উড়ে বেড়ায়।” আলেস: “ওহ আচ্ছা, কিন্তু এই লোকটা এভাবে বেকায়দায় দাড়িয়ে আছে কেনো? ওকে কি কেউ জাদুবলে আটকে দিয়েছে? ” আমি: “আরে নাহ। ওটা দোকানের ডামি। ওটার পড়নের কাপড়টা তুমি পড়লে কেমন লাগবে তা বুঝাতেই ওটা ওখানে রেখেছে। আলেস: “কে এতো সুন্দর করে পুতুল বানায়? প্লীজ ওকে পেলে বলবে যেনো আমার চেহারার এরকম একটা পুতুল বানিয়ে দেয়।” সেরেছে। একে নিয়ে শপিংমলে বেশীক্ষণ ঘুরাঘুরি করা যাবে না। প্রশ্ন করতে করতেই প্রাণবায়ূ বের করে ফেলবে। আমি: “আচ্ছা আলেস। এখন এই কাপড়ের প্যাকেটগুলি নাও। আজ সম্ভবত পুতুল বানানোর লোকটা আসে নি। কাল ও এলে তোমার চেহারার একটা পুতুল বানিয়ে দিতে বলব। কেমন? এবার চল, এখান থেকে যাওয়া যাক।” ও আর আপত্তি না করেই শপিংমল থেকে আমার সাথে বেরিয়ে এলো। যাক বাবা। উফ। মলের ভেতর মানুষ গিজগিজ করছিলো। এসব প্রশ্ন ওরা শুনলে নিশ্চিত টিটকারি মারতো। মল থেকে বেরুতে বেরুতে প্রায় দুপুর হয়ে এসেছিলো। আমরা ভালো দেখে একটা রেস্তোরাঁয় ঢুকে লাঞ্চ করলাম। লাঞ্চ শেষে আমরা স্থানীয় একটা স্টেডিয়ামে গেলাম রাগবি খেলা দেখতে। খেলা শুরু হতেই আলেসের উচ্ছাসটা আর দেখে কে! ও চিৎকার করে গলা ফাটিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিচ্ছে।

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা আলেসের ক্রুদ্ধ দৃষ্টি আমার অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছিলো! আমি ভেবেছিলাম ও আমায় আক্রমণ করে বসবে। কিন্তু না। তার বদলে ও পোলিশ ভাষায় খেঁকিয়ে উঠলো, “আমায় ফিরিয়ে আনলে কেনো। আমি তো ফিরতে চাই নি। আমি শুধু পরপারে চলে যেতে চেয়েছিলাম। এ দুনিয়ার প্রতি আমার ঘৃনা ধরে গেছে।” আমি: “ওহ গড! দেখ আলেস, তোমার মৃত্যুর পর অনেকটা সময়ই পেরিয়ে গেছে। পৃথিবীটা আগের চেয়েও অনেক বেশী বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। মানুষজন বদলে গেছে, সেই সাথে সমাজও। আমার বিশ্বাস তুমি এই নতুন সময়ের সাথে সঠিকভাবেই মানিয়ে নিতে পারবে। এর জন্যে আমি তোমাকে সর্বউচ্চ সাহায্য করবো।” আলেস: “কিন্তু আমার মার্টিনীর কি হবে? ও যে আমার জন্যে পথ চেয়ে বসে আছে।” আমি: “ওতো হাজার বছর ধরে তোমার জন্যে অপেক্ষা করেছে। তারমানে আরো ৪০-৫০ বছর ও সহজেই অপেক্ষা করতে পারবে। এর মধ্যেই তোমার জীবনকালও শেষ হয়ে যাবে। তুমি স্বাভাবিক নিয়মে মৃত্যুবরণ করে ওর কাছে পৌছে যাবে।” আলেস: “আরো ৪০-৫০ বছর! আমি যে আর একটা মুহুর্তও ওর জন্যে অপেক্ষা করতে পারছি না।” আমি: “আমি সত্যিই দুঃখিত আলেস। এটা ছাড়া আমার কোন উপায় ছিলো না। তুমিই কটেজে থেকে যাওয়া একমাত্র আত্মা ছিলে। তুমি আমার বন্ধুপ্রতিম হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছো। প্লীজ। আমার অবস্থাটা বুঝার চেষ্টা কর। আমাকে ক্ষমা করে দাওওওও,,,,,,,” কথাগুলি বলতে বলতে আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। সত্যিই তো। আমি আলেসকে অনিচ্ছাকৃতভাবে এক ফাঁদে আটকে দিয়েছি যখন ও মুক্ত হতে চাইছিলো। সব দোষ আমার। আমার কান্না দেখে আলেস এগিয়ে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিলো। আমিও ওর ঊষ্ম বাহুডোরে নিজেকে এলিয়ে দিলাম। ও আমার পিঠ চাপড়ে সান্তনা দিলো। ওকে আমার খুব আপন মনে হলো। যেন শত বছরের পরিচিত

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা লাইব্রেরীতে সবকিছুই তৈরি করে বইটা খুলে বসলাম। সমগ্র বইটাই দুর্বোধ্য হিব্রু ভাষায় লেখা। বইয়ের মাঝামাঝিতে একটা পৃষ্টা ভাঙা। সম্ভবত কেউ একজন একে চিহ্নিত করতে চেয়েছিলো। এই পৃষ্টায় হিব্রু লেখার সাথে গালিচায় শোয়ানো একটা লাশের স্কেচ আকাঁ। তারপাশেই হিজিবিজি টানা ইংলিশ হরফে একটা মন্ত্রের উচ্চারণ লেখা রয়েছে। সম্ভবত লেখাটা আদিনের। বুঝলাম এটাই সেই আত্মা ঢুকানোর মন্ত্র। আমি ওটা দেখে দেখে সঠিক উচ্চারণে মুখস্থ করে নিলাম। তারপর পৃষ্টা উল্টাতেই আদিনের হস্তাক্ষরে সহজ ইংরেজিতে লেখা কার্যপ্রণালী পেয়ে গেলাম। আদিনের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মনটা ভরে গেলো। ছেলেটা আমার জন্যে এতো কিছু করেছে। কিন্তু শেষমেষ ও নিজের জন্যে কিছুই করতে পারলো না। কার্যপ্রণালী অনুসারে, প্রথমে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে দেহটা ধুইয়ে নিতে হবে। তারপর দেহের কপালে যে আত্মাটা প্রবেশ করানো হবে তার নাম পবিত্র কাঠ কয়লা দিয়ে লিখতে হবে। তারপর দেহটাকে চিৎ করে শুইয়ে মুখটা হাঁ করিয়ে রাখতে হবে। সবশেষে মন্ত্রটা পাঁচবার ঐ আত্মার নাম ধরে জপতে হবে। বাস। এইটুকুই! মন্ত্রটা গুনগুন করে আওড়াতে আওড়াতে কিচেনে গেলাম জগ ভরে বিশুদ্ধ পানি আনতে। ততারপর স্টোররুম ঘেটে কতগুলি ভাঙা কাঠের টুকরো এনে স্টোভে পুড়িয়ে কাঠ কয়লা বানিয়ে নিলাম। তারপর ওগুলি নিয়ে লাইব্রেরীতে ফিরে আসলাম। লাইব্রেরীতে ফিরে মনিকার দেহটাকে ভালো করে পানি দিয়ে ধুইয়ে পবিত্র করে নিলাম। তারপর ওর কপালে লিখলাম কাঠ কয়লার কালিতে লিখলাম “ALACE” । তারপর আংটিটা ওর আরেকটি অক্ষত আঙুলে পরিয়ে দিয়ে মন্ত্র পড়া শুরু করলাম। প্রতিবার মন্ত্র পড়ার শুরুতে ও শেষে আলেস ভন্টেইজিয়ান নামটা উচ্চারণ করতে ভুললাম না। কেন জানি ভয় হচ্ছিলো আলেসকে ঢুকাতে যেয়ে যদি অন্য কাউকে ঢুকিয়ে বসি তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে। যদি মারগারেট আবার ঢুকে পড়ে ওতে! নাহ।

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা আমি দৌড়ে গেলাম লাইব্রেরীতে। লাইব্রেরীতে যেয়ে দেখি, আলেসের ডায়ারীটা পড়ে আছে টেবিলে, আর এর পৃষ্টাগুলি দমকা বাতাসে একে একে উল্টাচ্ছে! আশ্চর্য! এটা তো আলেসই তাহলে! কিন্তু ও যায় নি কেনো? ডায়ারীর দিকে এক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতেই ব্যাপারটা বুঝে গেলাম। আলেস আংটিটা আনতে বলেছিলো তার নিজের মুক্তির জন্যে নয়। তার ভালবাসার মার্টিনীর মুক্তির জন্যে। ও মার্টিনীকে ছাড়া ওপারে যাবে না। প্রকৃতপক্ষে এদের ভালবাসার বাধন এতটা জোরালো যে ওরা একজন অপরজন কে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারে নি। তাই মার্টিনীর মুক্তিকেই প্রকারান্তরে আলেস তার নিজের মুক্তির মতোই দেখে আসছিলো। কিন্তু আংটিটা উদ্ধারের পর মার্টিনী সহ অন্য মেয়েদের মুক্তি হলেও আলেসের ইহলৌকিক বন্ধনটা এখনো রয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে ওর আটকে থাকার কারণ ওই আংটিটা নয়, নইলে ও অন্য মেদের সাথেই প্রিস্টের কবরে বন্দি থাকতো, এ কটেজে মুক্ত হয়ে ঘুরতো না। যে জিনিসটা আলেসকে এখাবে বেধেঁ রেখেছে সেটা হলো এই ডায়ারী। নিজের জীবনের শেষ অধ্যায়গুলির স্মৃতিযুক্ত এ ডায়ারীটাই ওকে এই বদ্ধ কটেজে হাজার বছর ধরে বন্দি করে রেখেছে। কিন্তু এতোদিন আমি ওর উপস্থিতি টের পাইনি কেন? ওকে আমি এতোদিন খুঁজলাম কিন্তু ও ধরা দিলো না কিন্তু আজ নিজে থেকেই তার উপস্থিতি ঘোষনা দিচ্ছে! ব্যাপারটা কেমন জানি গোলমেলে! মারগারেটের আত্মার প্রভাবেই কি ও নিশ্চুপ হয়ে ছিলো! কিন্তু এতদিন তো জানতাম খারাপ আত্মাগুলি মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে! এখন দেখছি এরা একে ওপরের উপরেও প্রভাব বিস্তার করে! কিন্তু তা কি করে সম্ভব? মনিকা তো ওকে সেই প্রথম থেকেই অনুভব করে আসছে। সেদিন মনিকাকে একা রেখে আমি অফিস গেলে মারগারেট ও চলে আসে আমার সাথে। কারণ আমি নিজের অজান্তেই মারগারেটের বাহন

ডাকিণী ৪৮তম পর্ব

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) বেচারি মারগারেট। এত বছর পর প্রথমবারের মতো জীবন্ত জগতে ফিরে চোখ খুলতেই ও আমাকে ওর গলা চিপে ধরতে দেখেছিলো। যতই যাদুশক্তির অধিকারী হোক না কেন এমন দৃশ্য স্বভাবতই ওর হৃদপিণ্ডটা কাঁপয়ে দিয়েছিলো। ভয়ে দ্বিকজ্ঞিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ও ড্রয়িংরুম থেকে বেরিয়ে ছুটে সোজা কিচেনের ডিপ ফ্রিজে ঢুকে পড়ে। ভাগ্য ভালো যে মারগারেট ফ্রিজের ভেতরে ঠান্ডায় জমে যাওয়ার ব্যাপারটা সম্পর্কে অবগত ছিলো না। মধ্যযুগে ওর জীবদ্দশায় পোল্যান্ডে ফ্রিজ আসবে কোথা থেকে? ও ফ্রিজটাকে নিছক একটা লুকানোর জায়গা ভেবে ঢুকে পড়েছিলো। এখন ও টের পাবে কত ধানে কত চাল, আর ফ্রিজে ঢুকলেই জমে তাল।আমার ভয় ছিলো মারগারেট হয়তো জাদুবলে লকটা খুলে ফেলবে। তাই রান্নাঘরের ভারী ওভেন আর ডিশ ক্লিনারটা বয়ে এনে ফ্রিজের ডালার উপর রাখলাম। এবার আর কিছুতেই ফ্রিজটা খুলবে না। ফ্রিজের দেয়ালে একটা আলতো লাথি বসিয়ে দিয়ে ওকে বুঝিয়ে দিলাম আমি ওর অবস্থান জেনে গেছি। ও ভয়ে সর্বশক্তিতে চেঁচালো আর ফ্রিজের ডালায় ধাক্কাতে শুরু করলো। আমি হো হো করে হেসে উঠলাম। ওর চিৎকার আমার কানে রক মিউজিকের মতোই সুরেলা শুনালো। চেঁচাতে চেঁচাতে এক সময় ও ক্লান্ত হয়ে চুপ মেরে দিলো। তারপর শুরু করলো মিনতি। পোলিশ ভাষায় ও বলল, “সাঞ্জে আমি মনিকাই। কেন তুমি আমায় মারতে চাইছো? আমি তোমার কি ক্ষতি করেছি?তোমায় আমি ভালিবেসেছিলাম। এটাতো কোন অন্যায় নয়। তবে কেন আমায় এ শাস্তি দিচ্ছো? ” হায় রে বোকা মারগারেট। আমাকে ধোকা দেয়া এতো সোজা না। মনিকার ভাব নিয়ে আমার মন গলাতে চাইছে। কিন্তু যত্ত সমস্যা হয়েছে ওই ভাষাতত্বে। মনিকা এতো ভালো পোলিশ জীবনেও বলতে পারবে না। কিন্তু

ডাকিণী ৪৭তম পর্ব

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) আমারই চোখের সামনে পরপর দুদিনে আমার দুজন বন্ধু প্রাণ হারালো মারগারেটের হাতে। এতোক্ষণ ছাড়ানো না গেলেও মনিকা মারা যাবার সাথে সাথে ডান হাতটা সুবোধ বালকের মতো ওর গলা ছেড়ে উঠে এলো। কিন্তু মনিকার নিষ্প্রাণ হাত দুটো তখনো আমার ডান হাতটাক্র আকড়ে ধরেছিলো। মৃত্যুর ঠিক আগ মুহুর্ত পর্যন্ত ও এই হাতটা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যে লড়ে গেছে। বিষ্ময়ের ঘোর কাটতেই আমি মনিকাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। “মনিকা, আমি সত্যি দুঃখিত মনিকা, আমি কখনোই তোকে মারতে চাইনি। তোকে যে আমি আমার মেয়ের মতো ভালবাসিরে।” কিন্তু মনিকা আর ফিরলো না। ও ঠায় শুয়ে রইলো। ওর বিষ্ফোরিত চোখ দুটো অবাক বিষ্ময়ে আমারই দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ওকে জড়িয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম, “মনিকা রে রে রে রে,,,,,,” আবেগআপ্লুত হয়ে আমি ডান হাতটা থেকে নজর সরিয়ে নিয়েছিলাম। আমি জানতাম মারগারেট আমার ক্রোধকেই কেবল ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এখন জানলাম ও আমার যেকোন উচ্চ আবেগকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সেটা রাগ হোক, বা দুঃখ। মনিকাকে হারানোর ব্যাথায় কাতর হয়ে আমি যখন ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলাম তখন আমার ডানহাতটা নিঃশব্দে হাত থেকে আংটিটা খুলে ওর হাতে পড়িয়ে দেয়। আমি ওকে আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধিরেছিলাম। হঠাৎ ওর নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ শুনতে পেলাম! আশ্চর্য! ওকি তবে বেঁচে আছে? ডানহাতটা এনে পরীক্ষা করার জন্যে ওর নাকের কাছে ধরিলাম! আরে হা! ও তো নিঃশ্বাস নিচ্ছে! ওয়াও! কিন্তু পরীক্ষা করার সময় আমার ডান হাতের দিকে নজর যেতেই মনটা আতঙ্কে ছেয়ে গেলো। হাতটা একদমই খালি। কোন আঙ্গুলেই আংটিটা পড়ানো নেই! কোথায় গেলো আংটিটা? হায় হায়! এটা

ডাকিণী ৪৬তম পর্ব

িখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পটিতে কিছু কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে। তাই ছোটরা গল্পটি না পড়লেই ভালো।) ***** আপনাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, আপনার বয়স ১৮+ না হলে এই পর্বটি পড়বেন না। ***** মনিকাকে ফোন দিতে যেয়ে দেখি ও ফোন ধরছে না। অনেক চিন্তা হলো মেয়েটার জন্যে।! কিন্তু আমারও তো মানুষের শরীর। ক্লান্তি যে আমার উপরও ভর করে। বিশেষ করে এমন একটা বিদঘুটে দিনের পর। তাই মনিকাকে খোজা বাদ দিয়ে আমি কাউচের উপর দেহটা এলিয়ে দিলাম। মারগারেটের আবির্ভাবের পর কতদিন আমি ওই ঝাড়বাতিটার নিচ দিয়ে হেটে গেছি। বুঝলাম কেবল এই আংটিটার জন্যেই ঝাড়বাতিটা আমার মাথায় পড়ে নি। আভ্যন্তরিণ ক্ষত না থাকার শর্তটা বারবার আমার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে। স্থির করলাম নিশ্চিত মৃত্যুর ঠিক আগ মুহুর্ত ব্যাতিত কখনই আমি আংটিটা খুলবো না। কিন্তু আজকের এই ঘটনাটা আদিনের পরিবারের উপর কি দুর্বিষহ প্রভাব ফেলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তা খেয়াল নেই। কিন্তু দুঃস্বপ্ন আর আমার পিছু ছাড়লো না। স্বপ্নে দেখলাম আমি কাউচের উপর ঠায় ঘুমিয়ে আছি। পেছন থেকে মনিকা পা টিপেটিপে এসে আমার ছুরিটা ঠিক হৃদপিণ্ড বরাবর আমূলে বসিয়ে দিয়েছে। মাঝরাতে চিৎকার করে জেগে উঠলাম। কি অদ্ভুত। ঘুম থেকে জেগে মনিকার জন্যে খুবই দুশ্চিন্তা হলো। ওদিকে ফের ঘুমিয়ে পড়তেও ভয় করছে। আবার না জানি কোন দুঃস্বপ্ন দেখি।তারপরেই হঠাৎ মনে পড়লো বেসমেন্টের কথা। গতরাতে বেসমেন্টে ঘুমিয়েছিলাম। একটা দুঃস্বপ্নও দেখিনি। আজ আবারো ওখানে যেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেই হলো। আর কোন দুঃস্বপ্ন দেখতে হবে না। কাউচ থেকে একটা কোশন নিয়ে চলে গেলাম বেসমেন্টে। ঘুটঘুটে অন্ধকার ভয়াবহ বেসমেন্টটাই এখন আমার কাছে স্বর্গতুল্য মনে হচ্ছে। আলেসের স্মৃতি স্বরণে ওর সেলে ঢুকে,